📄 বিবাহের অনুষ্ঠানে মহিলাদের সমাগম হওয়া
বর্তমানে বিবাহের অনুষ্ঠান গুলোতে মহিলারা যেভাবে সাজ সজ্জা করে, অলংকারাদী পরে নিজেকে বিকশিত করে বেপর্দেগীর সাথে উপস্থিত হয়, তাতে একথা বুঝতে কারো অসুবিধা হয়না যে, দাওয়াত রক্ষার তুলনায় নিজের প্রদর্শনীই এখানে মুখ্য উদ্দেশ্য। এ ধরণের বেপর্দেগী আর বেহায়াপনার কারণে উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারী পুরুষ সকলেই গুনাহগার হয়।
কয়েকজন মহিলা দ্বীনি মজলিস ছাড়া অন্য কোথাও একত্রিত হলে সেখানে গুনাহের কাজ যে হবেই তাতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।
কাজেই, মহিলারা শুধুমাত্র শরঈ প্রয়োজনেই পরষ্পর একত্রিত হতে পারে; অন্য কোন কারণে নয়। তবে এ ক্ষেত্রেও লক্ষ্য রাখতে হবে, তারা যেন সাজ সজ্জা না করে, স্বাভাবিক কাজ কর্মের পোষাক পরে তাতে উপস্থিত হয়। আর স্বামী বা অন্য কোন মাহরাম যেন তাদের সাথে থাকে। দ্বীনী কোন মজলিসেও মহিলাদেরকে একাকী পাঠানো উচিৎ নয়।
সূত্র: ইসলামী বিবাহ: পৃ: ৩৮
📄 গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান করা
গায়ে হলুদের নামে ছেলে মেয়েদের অবাধে মেলামেশা করা, বিবাহ অনুষ্ঠান উপলক্ষে নাচ-গানের আসর করা, আলোকসজ্জা করা, আতশবাজী ফোটানো, পুরুষের হাতে মেহেদী লাগানো ইত্যাদি সবই নাজায়েয। বিশেষত: পুরুষের জন্য বিয়ে বা অন্য কোন সময় হাতে বা পায়ে সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে মেহেদী লাগানো জায়েয নেই; বরং তা মাকরুহ। তবে যদি কোন রোগের কারণে যেমন: হাতে বা পায়ে ঘায়ের কারণে ঔষধ হিসাবে পুরুষ মেহেদী ব্যবহার করে তবে মাকরুহ হবেনা।
সূত্র: ফাতাওয়া আলমগীরী ৫/৩৫৯ ফাতাওয়া রশীদিয়া পৃঃ ৪৭১
📄 সামর্থের অধিক মহরানা ধার্য করা
শরীয়তে মোহরের কোন পরিমাণ নির্ধারিত নেই। প্রত্যেকে নিজের সামর্থ অনুযায়ী মোহর ধার্য করবে। তবে মোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত আছে। আর তা হচ্ছে, আড়াই ভরি রোপা। আর আড়াই ভরি রোপার মূল্য কত? তা বাজার থেকে জেনে নেয়া যেতে পারে। এর চেয়ে কম মোহর ধার্য করা যাবে না।
কিন্তু বর্তমানে আমাদের সমাজে যে প্রথা চালু হয়ে গেছে যে, ছেলের সামর্থ থাক বা না থাক এবং মোহরানার টাকা আদায় করার ইচ্ছা থাক বা না থাক, লোক দেখানো, লোক লজ্জা কিংবা অন্য কোন চাপের কারণে দুই লাখ, পাঁচ লাখ, সাত লাখ, দশ লাখ বা এ ধরণের বড় অংকের মোহরানা ধার্য করা হয়, এটা শরীয়ত সম্মত নয়।
একটি হাদীসে বর্ণিত আছে, “মোহর আদায়ের ইচ্ছা না থাকা স্বত্বেও যে ব্যক্তি মোহর ধার্য করবে সে কাল কিয়ামতের দিন ব্যাভিচারীদের কাতারে উঠবে। এবং ঐ অবস্থায় তাকে আল্লাহর সামনে উপস্থিত করা হবে।”
সূত্র: কানযুল উম্মাল ১৬/৫৪২, ইসলামী বিবাহ-১৪
📄 গাইরে মাহরাম সাক্ষীর কনের নিকট উপস্থিত হওয়া
আমাদের দেশে একটা প্রথা প্রচলিত আছে। তা হলো, পাত্র পক্ষের দুজন সাক্ষী ও মেয়ে পক্ষের দুজন সাক্ষী একত্রে কনের নিকট বিবাহের ইজন বা অনুমতি নিয়ে আসে। অনেক সময় কোন কোন আনাড়ী কাজীও এই সব স্বাক্ষীদের সাথে কনের সামনে উপস্থিত হয়ে তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেয় এবং সই স্বাক্ষর গ্রহণ করে।
মনে রাখতে হবে, এগুলো শরীয়তে মোটেও জায়েয নেই এবং এর কোন প্রয়োজন ও নেই; বরং এটা একটা পর্দাহীন কাজ।
বিবাহের জন্য কনের ইজন বা সম্মতি গ্রহণ করা আবশ্যক। আর এজন্য কনের পিতা, চাচা, মামা, কিংবা তার কোন একজন মাহরাম আত্মীয়ই যথেষ্ট। শরীয়তে এর জন্য কোন স্বাক্ষীর প্রয়োজন নেই। কারণ, মেয়ে যদি কুমারী হয় তাহলে বিবাহের প্রস্তাব শুনে সে যদি চুপ থাকে, কিংবা কেঁদে ফেলে, কিংবা হেসে দেয় কিংবা মৌখিক ভাবে সম্মতি প্রদান করে তবে এসবই তার সম্মতি হিসাবে শরীয়তে ধর্তব্য হবে। পক্ষান্তরে, মেয়ে যদি বিধবা কিংবা তালাক প্রাপ্তা হয় তাহলে তার সুস্পষ্ট অনুমতি জরুরী।
সুতরাং যেখানে কনের উল্লেখিত সব অবস্থাই তার পক্ষ থেকে অনুমতি বলে গণ্য হয় সেখানে স্বাক্ষীদের প্রয়োজন হবে কেন? স্বাক্ষীদের প্রয়োজন হলো, বিবাহের মজলিসে উপস্থিত থাকা। যাতে প্রয়োজনে বিবাহ হয়েছিল বলে স্বাক্ষ্য প্রদান করতে পারে।
সূত্র: বুখারী শরীফ ২/৭৭১, ইবনে মাজাহ হাদীস নং ১৮৭২, মুসনাদে আহমদ ৪/১৭২, ফাতওয়ায়ে শামী ৪/৭৯-৮৭, আল বাহরুর রায়েক্ব ৩/১৪৬