📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 বিবাহে যৌতুক চাওয়া

📄 বিবাহে যৌতুক চাওয়া


শরীয়তে বিবাহের লেনদেন সম্পর্কে এতটুকু বলা হয়েছে যে, পাত্র নিজের সামর্থ অনুযায়ী পাত্রীকে মহরানা দিবে এবং স্ত্রীর সাথে সাক্ষাত হয়ে যাওয়ার পর সামর্থ অনুযায়ী আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবকে ওলীমা খাওয়াবে। বিবাহের খরচ এদুটিই। আর এ দুটিই স্বামীর দায়িত্ব। এছাড়া, স্ত্রীর ভরণ পোষণের ব্যাপার তো আছেই।
কিন্তু বর্তমানে ছেলে পক্ষ মেয়ে পক্ষের উপর অন্যায় ভাবে কিছু আর্থিক দায় দ্বায়িত্ব চাপিয়ে দেয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো, যৌতুক প্রথা। দেখা যায় যে, ছেলে পক্ষ যৌতুক, উপহার, হাদিয়া বা অন্য কোন নামে মেয়ে পক্ষের উপর অন্যায় দাবী করে বসে। যেমন: ছেলেকে মোবাইল সেট, ঘড়ি, ফার্নিচার, মোটর সাইকেল, টেলিভিশন, ফ্লাট বাড়ী, গাড়ী ইত্যাদি দিতে হবে বা চাকুরী দিতে হবে বা বিদেশে পাঠিয়ে দিতে হবে। এছাড়াও, যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে এজাতীয় যৌতুকের আইটেমও বিভিন্ন রকম হচ্ছে। অথচ যৌতুক চাওয়া বা যৌতুকের জন্য পাত্রী পক্ষকে কোন প্রকার চাপ প্রয়োগ করা চরম শাস্তি মূলক অপরাধ এবং শরীয়তে নাযায়েয ও হারাম এবং মেয়ের অভিভাবকের উপর চরম জুলুমের শামিল। হাদীস শরীফে এসেছে, “কোন মুসলমানের সম্পদ তার আন্তরিক সন্তুষ্টি ব্যতিরেকে নেয়া হালাল নয়।” সূত্র: মিশকাত শরীফ পৃ: ২৫৫
সুতরাং এ বিষয়ে পাত্র পক্ষের সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরী। তবে মেয়ের অভিভাবক যদি বিবাহের সময় ছাড়া অন্য কোন সময় স্বেচ্ছায় পূর্ণ সন্তুষ্টচিত্তে মেয়েকে কোন কিছু দিয়ে দিতে চান তবে দিতে পারবেন। এতে শরীয়তে কোন বাঁধা নেই।

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 বরের সাথে দল বেঁধে বরযাত্রী সেজে কনের বাড়ীতে

📄 বরের সাথে দল বেঁধে বরযাত্রী সেজে কনের বাড়ীতে


আমাদের দেশে ব্যাপক ভাবে বিবাহ গুলোতে দেখা যায় যে, পাত্র পক্ষ পাত্রী পক্ষকে বলে দেয় বরযাত্রী হিসাবে ১০০/২০০ জন মেহমান আসবে। কাজেই, ইচ্ছায় অনিচ্ছায় কনে পক্ষকে এসব বরযাত্রীর মেহমান দারী ও খানা পিনার ব্যবস্থা করতে হয়। শরীয়তের দৃষ্টিতে এ ধরণের বরযাত্রা নাযায়েয।
এছাড়াও, অনেক সময় দেখা যায়, কনে পক্ষ স্বেচ্ছায় নির্ধারিত সংখ্যক লোকের মেহমান দারীর দায়িত্ব নিলে ছেলে পক্ষ তার চেয়ে বেশী লোকজন সাথে নিয়ে উপস্থিত হয়। অথচ অতিরিক্ত লোকজনের সেখানে যাওয়ার অর্থ হলো, বিনা দাওয়াতে কারো ঘরে প্রবেশ করা। শরীয়তে এটাও নাযায়েয। কেননা, হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, “যে ব্যক্তি বিনা দাওয়াতে কারো ঘরে উপস্থিত হলো, সে চোর হয়ে প্রবেশ করল আর লুটেরা হয়ে বেরিয়ে আসল।” অর্থাৎ এমন ব্যক্তি চোর এবং তার লুট পাটকারীর মত গুনাহ হবে। সূত্র: আবূ দাউদ ২/৫২৫
এখানে চিন্তা করা দরকার যে, একজন পিতা নিজের সব সংগতি দিয়ে নিজের আদরের দুলালীকে লালন পালন করে বড় করে বিয়ে দিয়ে অপরিচিত একটা ছেলের হাতে তুলে দিয়ে দূরে পাঠিয়ে দিচ্ছে, এটা তার জন্য কতবড় মর্মযাতনা! এর উপর যদি তাকে জমি বিক্রি করে বা বন্ধক রেখে বা মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে বর যাত্রীদের আপ্যায়নের টাকা জোগাড় করতে বাধ্য হতে হয় তাহলে এর চেয়ে জুলুমের কথা আর কী হতে পারে? এটাতো ডাকাতি খানার শামিল। সুতরাং আমাদের জন্য এর থেকে বেচেঁ থাকা অত্যাবশ্যক।

সূত্র: মুসনাদে আহমদ ৫/৭২, শুয়াবুল ঈমান ২/৭৬৯, মিশকাত পৃ: ২৫৫

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 যৌতুক বাবদ প্রদেয় জিনিসপত্র প্রদর্শন করা

📄 যৌতুক বাবদ প্রদেয় জিনিসপত্র প্রদর্শন করা


কোন কোন স্থানে বিবাহ পড়ানোর আগে বা পরে যৌতুকের জিনিস প্রকাশ্য উন্মুক্ত করে দিয়ে মানুষের বাহবা কুড়ানো হয়। এটাও অন্যায় এবং নির্লজ্জতার কাজ। কারণ, একে তো যৌতুক আদান প্রদান করার নাজায়েয কাজ। অতপর সেই নাজায়েয কাজের প্রদর্শনী। মুসলমানদের এহেন কুপ্রথা থেকে বেঁচে থাকা কর্তব্য।

সূত্র: ইসলামী বিবাহ- পৃ: ৩৭

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 বিবাহের অনুষ্ঠানে মহিলাদের সমাগম হওয়া

📄 বিবাহের অনুষ্ঠানে মহিলাদের সমাগম হওয়া


বর্তমানে বিবাহের অনুষ্ঠান গুলোতে মহিলারা যেভাবে সাজ সজ্জা করে, অলংকারাদী পরে নিজেকে বিকশিত করে বেপর্দেগীর সাথে উপস্থিত হয়, তাতে একথা বুঝতে কারো অসুবিধা হয়না যে, দাওয়াত রক্ষার তুলনায় নিজের প্রদর্শনীই এখানে মুখ্য উদ্দেশ্য। এ ধরণের বেপর্দেগী আর বেহায়াপনার কারণে উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারী পুরুষ সকলেই গুনাহগার হয়।
কয়েকজন মহিলা দ্বীনি মজলিস ছাড়া অন্য কোথাও একত্রিত হলে সেখানে গুনাহের কাজ যে হবেই তাতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।
কাজেই, মহিলারা শুধুমাত্র শরঈ প্রয়োজনেই পরষ্পর একত্রিত হতে পারে; অন্য কোন কারণে নয়। তবে এ ক্ষেত্রেও লক্ষ্য রাখতে হবে, তারা যেন সাজ সজ্জা না করে, স্বাভাবিক কাজ কর্মের পোষাক পরে তাতে উপস্থিত হয়। আর স্বামী বা অন্য কোন মাহরাম যেন তাদের সাথে থাকে। দ্বীনী কোন মজলিসেও মহিলাদেরকে একাকী পাঠানো উচিৎ নয়।

সূত্র: ইসলামী বিবাহ: পৃ: ৩৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00