📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 পর নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান করা

📄 পর নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান করা


বর্তমানে পাশ্চাত্যে অশ্লীলতা, উলঙ্গপনা, বেহায়াপনার যে সয়লাভ চলছে তার লু হাওয়া আমাদের বাংলাদেশের মত মুসলিম অধ্যুসিত দেশে পর্যন্ত লেগেছ। পাশ্চাত্য সমাজে নারী-পুরুষের অবাধ উষ্ণ আলিঙ্গন কোন ব্যাপারই নয়। ব্যভিচারের দরজা জানালা সেখানে উন্মুক্ত।
কিন্তু আমাদের মত একটি মুসলিম প্রধান দেশে ছেলে-মেয়েদের অবাধ বিচরণ সত্যিই উদ্বেগের। অবশ্য, এর পিছনে মূল কারণ হলো, আমাদের জন্য বৃটিশদের রেখে যাওয়া সহশিক্ষার বিষাক্ত পরিবেশ। রাষ্টীয় ভাবে যেখানে সহশিক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সেখানে বলার আর কী থাকে?
অথচ ইসলামের শিক্ষা হলো, কোন বেগানা পুরুষ যেন অন্য কোন বেগানা নারীর সাথে এমন ভাবে নিভৃতে একত্রিত না হয় যে, সেখানে কোন মাহরাম নেই। সূত্র: বুখারী হা ৫২৩৩
এর কারণ হলো, কোন বেগানা নারী পুরুষ নির্জনে মিলিত হলে শয়াতানী ওয়াসওয়াসায় পড়ে দুজনই চরিত্রহানীকর কাজে লিপ্ত হতে পারে। ঠেলে দিতে পারে উভয়কে ব্যভিচারের দিকে। মোমের সুতায় আগুন লাগালে আগুনের তাপে মোমের গলতে থাকাই স্বাভাবিক।
বস্তুত বৈবাহিক সম্পর্ক ছাড়া অন্য কোনভাবেই নারী পুরুষের সম্পর্ক ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম ঘোষিত হয়েছে। একারণে যেসব কাজ এ পথ উন্মুক্ত করে দেয়, ইসলামের দৃষ্টিতে সে সবই হারাম। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ ফরমান, তোমরা যিনা ব্যভিচারের নিকটেও যাবেনা। কেননা, তা অত্যন্ত নির্লজ্জতার কাজ এবং খুবই কদর্য পথ।

সূত্র: সূরা বনী ইসরাঈল আয়াত-৩২

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 প্রেম করে/ভালোবেসে বিয়ে করা

📄 প্রেম করে/ভালোবেসে বিয়ে করা


বিবাহের পূর্বে বেগানা নারী-পুরুষের পারস্পরিক প্রেম ও ভালোবাসা সম্পূর্ণ অবৈধ ও হারাম এবং এর সূত্র ধরে তাদের দেখা-সাক্ষাৎ, প্রেমালাপ, প্রেম নিবেদন, প্রেমপত্র বিনিময় ইত্যাদি সবই নাজায়েয ও হারাম। কেউ যদি দেখা-সাক্ষাৎ নাও করে কথাবার্তা নাও বলে, তবুও অন্তত পক্ষে প্রেমিক-প্রেমিকার পরষ্পরে একে অপরকে মনে মনে কল্পনা করে আনন্দ ও তৃপ্তি অনুভব করা হারাম ও নাজায়েয।
তাছাড়া, সদা-সর্বদা পরষ্পর পরস্পরের ধ্যানে মগ্ন থাকার দরুন শরীয়তের বিধান লঙ্ঘনের পাশাপাশি স্বাস্থ ও মস্তিষ্ক দুর্বল হয়ে পরে। ফলশ্রুতিতে ভবিষ্যত দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর হক আদায় করতে ব্যর্থ ও লজ্জিত হতে হয়। হাদীস শরীফে আছে, “মানুষের অন্তরও যিনা করে। তা এভাবে যে, সে মনে মনে প্রেমাষ্পদকে চায় ও তার কল্পনায় মত্ত থাকে।"
অতএব, প্রচলিত প্রেম, ভালোবাসা সম্পূর্ণ রূপে নাজায়েয ও হারাম। এটা জায়েয হওয়ার কোন পন্থা নেই।

সূত্র: সূরা বাকারা, আয়াত- ১৬৫, সূরা মায়িদা, আয়াত-৫৪, বাওয়াদিরুন নাওয়াদের ২/৬৯৮, মিশকাত শরীফ পৃ: ২৬৯, আপকে মাসায়েল আওর উনকা হলো ৮/৪৮

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘটা করে পাত্রী দেখা

📄 বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘটা করে পাত্রী দেখা


পাত্রী দেখা শরীয়তের দৃষ্টিতে মুস্তাহাব। পারস্পারিক খোঁজ খবর নেওয়ার পর মহরের পরিমাণ সহ সবকিছু পাকাপাকি হয়ে গেলে অতি গোপনীয় ভাবে শুধুমাত্র পাত্র পাত্রীর চেহারা দেখতে পারবে। এর চেয়ে অধিক দেখতে চাইলে নির্ভরযোগ্য দ্বীনদার মহিলাদেরকে পাঠিয়ে দেখতে হবে। এমনকি পাত্রের পিতাও বিবাহের পূর্বে পাত্রীকে দেখতে পারবে না। কারণ, তখন পিতা ঐ মেয়ের জন্য গাইরে মাহরাম।
কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা যায়, বর্তমানে ছেলে তার বন্ধু- বান্ধবদের সাথে নিয়ে ঘটা করে পাত্রীর মাথা থেকে পা পর্যন্ত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে। এটা শরীয়তে সম্পূর্ণ নিষেধ। কেননা, ঘটনাক্রমে যদি এ ছেলের সাথে ও মেয়ের বিবাহ না হয় তাহলে সেটা মেয়ের জন্য চরম মানসিক আঘাতের কারণ হয়।
তাছাড়া, একথা জানা জানি হয়ে গেলে অন্য পাত্র আসতে আগ্রহ প্রকাশ করে না। ফলে, এ মেয়ের বিবাহ দেয়া কঠিন হয়ে যায়। পাত্রী তো আর খোলা বাজারের মাছ বা গোশত নয় যে, যেই ইচ্ছা করবে যতটুকু দেখতে চাইবে যখনই চাইবে তাকে দেখানো হবে। মন চাইলে কিনবে না চাইলে না কিনবে; বরং পাত্রী তো আশরাফুল মাখলুকাত মাতৃজাতি। তার ইজ্জত সম্মান সংরক্ষণ করা সকলের কর্তব্য।

সূত্র: ইসলামী বিবাহ পৃ:১৩

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 বিবাহের পূর্বে বিয়ের প্রস্তাবিত ছেলে-মেয়ের পরস্প

📄 বিবাহের পূর্বে বিয়ের প্রস্তাবিত ছেলে-মেয়ের পরস্প


এ কথা সকলেই জানে যে, বিবাহের প্রস্তাব দেয়ার দ্বারাই বিবাহ সংঘঠিত হয়ে যায়না; বরং এর জন্য শর্ত হলো, দুজন সাক্ষীর সম্মুখে ছেলে মেয়ে বা তাদের উকিল কর্তৃক ইজাব, কবূল সংঘঠিত হওয়া। এর পূর্বে তারা একে অপরের জন্য আজনবী ও গাইরে মাহরাম থাকে। এমনকি মৌখিক ইজাব কবূল ছাড়া শুধু লিখিত ভাবে ইজাব কবুল করা বা এনগেজমেন্ট করার দ্বারাও বিবাহ সম্পন্ন হয়না।
সুতরাং এমতাবস্থায় শরঈ প্রয়োজন ছাড়া তাদের একে অপরের সাথে দেখা, সাক্ষাৎ করা, কথাবার্তা বলা নাজায়েয ও হারাম। অথচ আমাদের সমাজে দেখা যায়, বিয়ের শুধু লিখিত কাবিন হয়ে যাওয়ার পর বা বিয়ের এনগেজমেন্ট বা আংটি পরিয়ে কথাবার্তা পাকাপাকি হয়ে যাওয়ার পর ছেলে-মেয়ে পরষ্পরে অবাধে দেখা-সাক্ষাৎ করতে থাকে এবং ফোনে বিভিন্ন রস আলাপ করতে থাকে। এগুলো সবই নাজায়েয ও হারাম। কাজেই, শরঈ বিয়ে সংঘঠিত হওয়ার পূর্বে পরষ্পরে পূর্ণ পর্দা রক্ষা করা জরুরী।

সূত্র: সূরা আহযাব আয়াত- ৩২. আদ্দুররুল মুখতার ৩/৯, আল মওসূআহ ৩৫/১২২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00