📄 ঈমান যাচাই না করে ইংরেজী শিক্ষিত ছেলের নিকট ইয়াহুদী খৃষ্টান মেয়েকে বিবাহ করা
ইংরেজী শিক্ষিত ছেলের নিকট কোন মেয়ে বিয়ে দেয়ার পূর্বে অবশ্যই ছেলের ঈমান যাচাই করে নেয়া উচিৎ। কারণ, বর্তমানে স্কুল কলেজের পরিবেশকে বদদ্বীনির সয়লাব ব্যাপক ভাবে গ্রাস করে ফেলেছে। ঐসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমনও শিক্ষক আছেন যারা জন্মগত ভাবে বা নামে মাত্র মুসলমান, কিন্তু বাস্তবে তারা নাস্তিক, খোদাদ্রোহী ও ধর্ম বিরোধী। তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরতের কোনটিই তারা বিশ্বাস করেনা এবং গর্বের সাথে তারা তাদের নাস্তিক্যবাদ প্রচার করে।
থাকে। আর তাদের নিকট যারা শিক্ষা অর্জন করে তাদের অনেকেরই পিতা-মাতা দীনদ্বার নয়। আবার নিজেরাও দ্বীনী কোন পরিবেশের সাথে সম্পর্ক রাখেনা। এমতাবস্থায় নাস্তিক শিক্ষকদের প্রচার-প্রোপাগান্ডা ও বদদ্বীনী পরিবেশ তাদেরকে বিভ্রান্ত করে ফেলে। এমনকি এক পর্যায়ে তারাও নাস্তিক হয়ে যায়। যদিও নামে তারা মুসলমানই থাকে। বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলে একথার সত্যতা বেরিয়ে আসবে।
সুতরাং মেয়েকে বিয়ে দিতে হলে কোন ঈমানদার ছেলের সঙ্গে দেয়া জরুরী। কোন নাস্তিক মুরতাদ ছেলের সাথে মুসলিম মেয়ের বিবাহ দেয়া জায়েয নেই। আর বিবাহ পড়িয়ে দিলেও তা শুদ্ধ হয়না। ফলে, তাদের উভয়ের দেখা, সাক্ষাত সবই অবৈধ আর দৈহিক মিলন যিনা ও ব্যভিচার বলে গণ্য হয়। তাদের থেকে কোন সন্তান হলে তা জারজ সন্তান হয়। কাজেই, কোন ইংরেজী শিক্ষিত ছেলের সাথে মেয়ে বিয়ে দিতে চাইলে প্রথমেই তার ঈমান সহীহ আছে কিনা তা অবশ্যই যাচাই করে নেয়া উচিৎ।
সূত্র: ইসলাহে ইনকিলাবে উম্মত ২/৩৯, আগলাতুল আওয়াম পৃঃ ১৫৭, আল ইফাজাত ৫/৩৮৫
ইয়াহুদী খৃষ্টান মেয়েকে বিবাহ করা
অধুনা কিছু আপটুডেট মুসলিম যুবকদের ব্যাপারে শুনা যায় যে, তারা বিদেশে ইয়াহুদী বা খৃষ্টান মেয়েকে বিবাহ করছে। একথা ঠিক যে, শরীয়তে ইসলামীতে মুসলমান পুরুষের জন্য আহলে কিতাব তথা ইয়াহুদী-খৃষ্টান নারীকে বিবাহ করা বৈধ রাখা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, যে কোন ইয়াহুদী-খৃষ্টান নারী আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত এবং তাকে বিবাহ করা বৈধ। কেননা, বর্তমানে এমন বহু ইয়াহুদী-খৃষ্টান মহিলা আছে, যারা কেবল মাত্র আদম শুমারীতে ও নামকা ওয়াস্তে ইয়াহুদী বা খৃষ্টান; কিন্তু প্রকৃতঅর্থে তারা আহলে কিতাব নয়, যেহেতু তারা হযরত মূসা আ. ও হযরত ঈসা আ. কে নবী বলে মানেনা এবং তাদের ধর্মের কোন তোয়াক্কা করেনা।
এ ধরণের মহিলাকে কোন মুসলমানের জন্য বিবাহ করা জায়েয নেই। শরীয়তে যে আহলে কিতাব মহিলাকে বিবাহ করা জায়েয বলা হয়েছে তার উদ্দেশ্য হলো, বাস্তবিকই মহিলাটি হযরত মূসা আ. বা হযরত ঈসা আ. কে নবী বলে মনে প্রাণে স্বীকার করতঃ তাদের দ্বীনকে সহীহ মনে করে এবং তা মানতে ও পালন করতে সর্বদা চেষ্টা করে।
এ ধরণের মহিলা যেহেতু একটি আসমানী দ্বীনের উপর আছে, যা কোন এক সময় সহীহ ছিল এবং ইসলাম ধর্মের সাথে এ দুটোর অনেক মিলও আছে তাই এরূপ মহিলা যদি কোন মুসলমানের সংস্পর্শে আসে এবং কাছে থেকে ইসলামকে দেখার সুযোগ লাভ করে তাহলে আশা করা যায় যে, অদূর ভবিষ্যতে সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিবে এবং তার দ্বারা ঐ মুসলমান স্বামীর দ্বীন-ধর্মেও কোন ক্ষতি সাধিত হবেনা।
কিন্তু বর্তমানে এধরণের আহলে কিতাব ইয়াহুদী-খৃষ্টান নারী পাওয়া খুবই দুষ্কর; বরং বর্তমানে অধিকাংশ নারীই নামকা ওয়াস্তে ইয়াহুদী-খৃষ্টান। সুতরাং এ ধরণের ইয়াহুদী খৃষ্টান মহিলাকে বিবাহ করা কোন মুসলিম পুরুষের জন্য জায়েয হবেনা। আর বিবাহ করলে তা সহীহ হবেনা। উপরন্তু, এমন মহিলার সংস্পর্ষে ঐ মুসলিম পুরুষের দ্বীন-ঈমান বরবাদ হয়ে তার মুরতাদ হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। কাজেই, এ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরী।
সূত্র: মা'আরিফুল কুরআন ১/৫৩৮, ফাতাওয়া রহীমিয়া ৬/১৭৬, ফাতাওয়া দারুল উলূম ৭/২৭৭, জাওয়াহিরুল ফিকহ ২/৩৭৮, ফাতাওয়া শামী ৩/৪৫
📄 পর নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান করা
বর্তমানে পাশ্চাত্যে অশ্লীলতা, উলঙ্গপনা, বেহায়াপনার যে সয়লাভ চলছে তার লু হাওয়া আমাদের বাংলাদেশের মত মুসলিম অধ্যুসিত দেশে পর্যন্ত লেগেছ। পাশ্চাত্য সমাজে নারী-পুরুষের অবাধ উষ্ণ আলিঙ্গন কোন ব্যাপারই নয়। ব্যভিচারের দরজা জানালা সেখানে উন্মুক্ত।
কিন্তু আমাদের মত একটি মুসলিম প্রধান দেশে ছেলে-মেয়েদের অবাধ বিচরণ সত্যিই উদ্বেগের। অবশ্য, এর পিছনে মূল কারণ হলো, আমাদের জন্য বৃটিশদের রেখে যাওয়া সহশিক্ষার বিষাক্ত পরিবেশ। রাষ্টীয় ভাবে যেখানে সহশিক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সেখানে বলার আর কী থাকে?
অথচ ইসলামের শিক্ষা হলো, কোন বেগানা পুরুষ যেন অন্য কোন বেগানা নারীর সাথে এমন ভাবে নিভৃতে একত্রিত না হয় যে, সেখানে কোন মাহরাম নেই। সূত্র: বুখারী হা ৫২৩৩
এর কারণ হলো, কোন বেগানা নারী পুরুষ নির্জনে মিলিত হলে শয়াতানী ওয়াসওয়াসায় পড়ে দুজনই চরিত্রহানীকর কাজে লিপ্ত হতে পারে। ঠেলে দিতে পারে উভয়কে ব্যভিচারের দিকে। মোমের সুতায় আগুন লাগালে আগুনের তাপে মোমের গলতে থাকাই স্বাভাবিক।
বস্তুত বৈবাহিক সম্পর্ক ছাড়া অন্য কোনভাবেই নারী পুরুষের সম্পর্ক ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম ঘোষিত হয়েছে। একারণে যেসব কাজ এ পথ উন্মুক্ত করে দেয়, ইসলামের দৃষ্টিতে সে সবই হারাম। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ ফরমান, তোমরা যিনা ব্যভিচারের নিকটেও যাবেনা। কেননা, তা অত্যন্ত নির্লজ্জতার কাজ এবং খুবই কদর্য পথ।
সূত্র: সূরা বনী ইসরাঈল আয়াত-৩২
📄 প্রেম করে/ভালোবেসে বিয়ে করা
বিবাহের পূর্বে বেগানা নারী-পুরুষের পারস্পরিক প্রেম ও ভালোবাসা সম্পূর্ণ অবৈধ ও হারাম এবং এর সূত্র ধরে তাদের দেখা-সাক্ষাৎ, প্রেমালাপ, প্রেম নিবেদন, প্রেমপত্র বিনিময় ইত্যাদি সবই নাজায়েয ও হারাম। কেউ যদি দেখা-সাক্ষাৎ নাও করে কথাবার্তা নাও বলে, তবুও অন্তত পক্ষে প্রেমিক-প্রেমিকার পরষ্পরে একে অপরকে মনে মনে কল্পনা করে আনন্দ ও তৃপ্তি অনুভব করা হারাম ও নাজায়েয।
তাছাড়া, সদা-সর্বদা পরষ্পর পরস্পরের ধ্যানে মগ্ন থাকার দরুন শরীয়তের বিধান লঙ্ঘনের পাশাপাশি স্বাস্থ ও মস্তিষ্ক দুর্বল হয়ে পরে। ফলশ্রুতিতে ভবিষ্যত দাম্পত্য জীবনে স্বামী-স্ত্রীর হক আদায় করতে ব্যর্থ ও লজ্জিত হতে হয়। হাদীস শরীফে আছে, “মানুষের অন্তরও যিনা করে। তা এভাবে যে, সে মনে মনে প্রেমাষ্পদকে চায় ও তার কল্পনায় মত্ত থাকে।"
অতএব, প্রচলিত প্রেম, ভালোবাসা সম্পূর্ণ রূপে নাজায়েয ও হারাম। এটা জায়েয হওয়ার কোন পন্থা নেই।
সূত্র: সূরা বাকারা, আয়াত- ১৬৫, সূরা মায়িদা, আয়াত-৫৪, বাওয়াদিরুন নাওয়াদের ২/৬৯৮, মিশকাত শরীফ পৃ: ২৬৯, আপকে মাসায়েল আওর উনকা হলো ৮/৪৮
📄 বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ঘটা করে পাত্রী দেখা
পাত্রী দেখা শরীয়তের দৃষ্টিতে মুস্তাহাব। পারস্পারিক খোঁজ খবর নেওয়ার পর মহরের পরিমাণ সহ সবকিছু পাকাপাকি হয়ে গেলে অতি গোপনীয় ভাবে শুধুমাত্র পাত্র পাত্রীর চেহারা দেখতে পারবে। এর চেয়ে অধিক দেখতে চাইলে নির্ভরযোগ্য দ্বীনদার মহিলাদেরকে পাঠিয়ে দেখতে হবে। এমনকি পাত্রের পিতাও বিবাহের পূর্বে পাত্রীকে দেখতে পারবে না। কারণ, তখন পিতা ঐ মেয়ের জন্য গাইরে মাহরাম।
কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা যায়, বর্তমানে ছেলে তার বন্ধু- বান্ধবদের সাথে নিয়ে ঘটা করে পাত্রীর মাথা থেকে পা পর্যন্ত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে। এটা শরীয়তে সম্পূর্ণ নিষেধ। কেননা, ঘটনাক্রমে যদি এ ছেলের সাথে ও মেয়ের বিবাহ না হয় তাহলে সেটা মেয়ের জন্য চরম মানসিক আঘাতের কারণ হয়।
তাছাড়া, একথা জানা জানি হয়ে গেলে অন্য পাত্র আসতে আগ্রহ প্রকাশ করে না। ফলে, এ মেয়ের বিবাহ দেয়া কঠিন হয়ে যায়। পাত্রী তো আর খোলা বাজারের মাছ বা গোশত নয় যে, যেই ইচ্ছা করবে যতটুকু দেখতে চাইবে যখনই চাইবে তাকে দেখানো হবে। মন চাইলে কিনবে না চাইলে না কিনবে; বরং পাত্রী তো আশরাফুল মাখলুকাত মাতৃজাতি। তার ইজ্জত সম্মান সংরক্ষণ করা সকলের কর্তব্য।
সূত্র: ইসলামী বিবাহ পৃ:১৩