📄 অমুসলিমদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে দু‘আ করা
অমুসলিমদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে শরীক হয়ে তাদের জন্য কুরআনখানী করা, দু'আয়ে মাগফিরাত করা, ঈসালে ছাওয়াব করা, এ সবই শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েয। কুরআন ও হাদীসের বিভিন্ন স্থানে এটাকে নিষেধ করা হয়েছে। হযরত ইবরাহীম আ. প্রথমে স্বীয় পিতাকে মাগফিরাতের দু'আ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অতঃপর তার নিকট যখন এটা সুস্পষ্ট হয় যে, ঈমানের দরজা তার জন্য বন্ধ। সে হকের বিরোধিতায় পরিপূর্ণ ভাবে লিপ্ত রয়েছে। তখন তিনি ইস্তিগফার করে সেই অভিপ্রায় ত্যাগ করেন।
এছাড়া, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুনাফিক সরদার আব্দুল্লাহ বিন উবাইর জন্য মাগফিরাতের দু'আ করতে চান তখন তাকে এটা থেকে নিষেধ করা হয়।
অনুরূপ ভাবে, মুনাফিকদের জানাযার নামায পড়তে এবং তাদের কারো কবরের নিকট দন্ডায়মান হতেও আল্লাহ তা'আলা তার প্রিয় হাবীবকে নিষেধ করেছেন।
এ সমস্ত আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হয়, অমুসলিমদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা, তাদের সমাধিস্থলে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো বা তাদের জন্য মাগফিরাতের দু'আ করা নাজায়েয।
সূত্র: সূরা তওবা, আয়াত- ১১৩-১১৪, সূরা তওবা, আয়াত- ১১৪, সূরা তওবা, আয়াত-৮৪, জাদিদ ফিকহী মাসাঈল পৃ: ২৯৪
📄 পিতা কর্তৃক পুত্রকে ত্যাজ্যপুত্র বলে ঘোষণা করা
আমাদের দেশে দেখা যায়, কখনো কখনো পিতা সন্তানের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে ত্যাজ্য পুত্র বলে ঘোষণা করে।
প্রশ্নহলো, শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা কতটুকু গ্রহণযোগ্য? এর উত্তর হলো, পিতা মাতা যদি দ্বীনী কোন কারণে অথবা তাদের প্রতি দুর্ব্যবহার বা অবাধ্যতার কারণে নিজ সন্তানের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তার সাথে সম্পর্কছিন্ন করে এবং তাকে ত্যাজ্য করে দেয় তাহলে শরীয়তের দৃষ্টিতে তা বৈধ আছে। তবে একারণে পিতা মাতার মৃত্যুর পর উক্ত সন্তান তাদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেনা; বরং সে যথারীতি তাদের সম্পত্তির ওয়ারিস হবে। কেননা, মীরাসের বিষয়টি আল্লাহর পক্ষ থেকে বাধ্যতামূলক। তাই তাতে বান্দার হস্তক্ষেপের কোন সুযোগ নেই।
অবশ্য, পিতা-মাতা যদি উপরোল্লেখিত কারণে সন্তানকে তাদের সম্পদ থেকে বঞ্চিত করতে চায়, তাহলে তারা তাদের জীবদ্দশায় সুস্থ অবস্থায় সমুদয় সম্পত্তি নেক কাজে দান করে বা অন্যান্য ওয়ারিশগণের মাঝে বন্টন করে তাদেরকে বুঝিয়ে দিয়ে নিজেদের মালিকানা থেকে বের করে দিবে। তাহলে তাদের মৃত্যুর পর সন্তান ঐ সম্পদের মীরাছ পাবেনা।
সূত্র: ইমদাদুল আহকাম ৪/৫৪, আহসানুল ফাতাওয়া ৭/২৫৬