📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 ইয়াতীমের মাল খাওয়া

📄 ইয়াতীমের মাল খাওয়া


নিয়ম হলো, কাফন দাফন শেষে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কোন হক্কানী আলেম বা মুফতীর মাধ্যমে ওয়ারিসদের মাঝে মীরাছ বন্টন করে প্রত্যেককে তার নির্ধারিত অংশের মালিকানা বুঝিয়ে দেয়া। নাবালেগ ছেলে বা মেয়ের অংশ সংশ্লিষ্ট অভিভাবক বা মুরব্বী যিনি ঐ ইয়াতীম ও তার সম্পদ দেখা শুনা করবেন তার হাতে বুঝিয়ে দেয়া। কারণ, জরুরী ভিত্তিতে এটা করা না হলে ওয়ারিসদের মধ্যে যে নাবালেগ ও ইয়াতীম তার মাল খাওয়া হয়ে যায়।
কিন্তু বর্তমানে সম্পদ বন্টনের এ কাজটি জরুরী ভিত্তিতে না করার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ইয়াতীমের মাল খেয়ে অন্যান্য ওয়ারিসরা নিজের অজান্তেই জাহান্নামের আগুন পেটে ভরে এবং ইয়াতীমের মুরব্বী যেমন: তার বড় ভাই প্রমুখ ঐ ইয়াতীমের মাল খেতে থাকে।
এছাড়াও, ঐ যৌথ সম্পদ থেকেই আবার সমজিদ মাদরাসায় দান করে। ঘটা করে আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী, আলেম উলামাদেরকে দাওয়াত করে খাওয়ায়। অনেক বছর পর ঐ ইয়াতীম যখন বড় হয় তখন তাকে শুধু জমাজমি ও বাড়ীর অংশ বুঝিয়ে দেয়া হয়। বিগত বছর গুলোতে ঐ সম্পত্তি থেকে যে ফসল উৎপন্ন হয়েছে বা ভাড়া পাওয়া গেছে এবং তা থেকে তার পিছনে আয়ের সবটুকু যে ব্যয় করা হয়নি তা তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় না; বরং ব্যয়ের বর্ধিত অংশ নিজেরা খরচ করে ফেলে। অথচ এসবই ইয়াতীমের মাল খাওয়ার দরুন হারাম ও জাহান্নাম খরীদ করার শামিল।
মনে রাখা দরকার, নাবালেগ সন্তানও বড়দের সমান অংশ পায়। কোন ক্ষেত্রে কড়া ক্রান্তিও কম পায় না।
অভিভাবকদের কর্তব্য হলো, উক্ত মাল থেকে তার ভরণ পোষণ, চিকিৎসা ও লেখা পড়ার জন্য খরচ করতে থাকা এবং অবশিষ্ট অংশ তার নামে হিফাজত করতে থাকা। অতপর সন্তান যখন প্রাপ্ত বয়স্ক ও বুদ্ধিমান হবে তখন তার সমুদয় সম্পত্তি এবং তা থেকে বর্ধিত আয় তাকে বুঝিয়ে দেওয়া। বিষয়টি বড়ই স্পর্শ কাতর। কারণ, কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে, যারা অবৈধ ভাবে ইয়াতীমের মাল খায় তারা তাদের পেটে জাহান্নামের আগুন ভরে।

সূত্র: সুরা নিসা আয়াত: -১০

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 বোনদের পাওনা তাদেরকে বুঝিয়ে না দিয়ে আত্মসাৎ করা

📄 বোনদের পাওনা তাদেরকে বুঝিয়ে না দিয়ে আত্মসাৎ করা


আমাদের সমাজে অত্যন্ত ব্যপক ভাবে একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায়। তা হলো, মীরাছের সম্পদ থেকে ভাইয়েরা বোনদের অংশ দেয়না বা দিলেও সামান্য কিছু দিয়ে বিদায় করে দেয়। আবার অনেক সময় দেখা যায় যে, বোনেরা লৌকিকতা বশত: ভাইদেরকে বলে যে, আমি আমার অংশ নিবনা বা ভাইকে দিয়ে দিলাম। বোনদের এ কথায় ভাইয়েরা মহা খুশী হয়ে যায়। তাদের খুব আদর আপ্যায়ন শুর করে দেয়। অথচ তারা একটি বারও একথা চিন্তা করেনা যে, বোনদের কি সন্তান সন্ততি নেই? সবই তো আছে! তাহলে তারা নিজেদের অংশ ছেড়ে দিচ্ছে কেন?
আসল কথা হলো, বোনেরা অধিকাংশ সময় মনে করে যে, আমি যদি বাবার সম্পদ থেকে অংশ নিয়ে নেই, তাহলে বাপের বাড়ীতে আসার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। ভাইয়েরা আদর আপ্যায়ন খাতির তোষামোদ করবে না। কাজেই, বাপের বাড়ীতে আসার রাস্তা খোলা রাখার জন্য লৌকিকতা বশত: তাদের অংশের দাবী ছেড়ে দেয়।
অথচ এভাবে দাবী ছাড়লে উক্ত সম্পত্তি ভাইদের জন্য কখনো হালাল হয়ে যায়না। কেননা, অন্তরের পরিপূর্ণ সন্তুষ্টি ব্যতিরেকে একজনের মাল অপর জনের জন্য হালাল হয় না। সূত্র: বাইহাকী শরীফ, হাদীস নং-১১৪৪৫
সুতরাং বোনদের ঠকানো কিংবা লৌকিতার ভিত্তিতে তাদের থেকে প্রাপ্ত মাল ভাইদের জন্য হারাম ও অবৈধ। এতে বান্দার হক নষ্ট হয়, যা মহাপাপ এবং আল্লাহ তা'আলা তা ক্ষমা করবেন না। তাছাড়া, এভাবে নিজেরও হারাম খাওয়া হয় এবং স্ত্রী-সন্তানদেরকেও হারাম খাওয়ানো হয়। আর এ হারাম খাবার খেয়ে সন্তানও নাফরমান হয়ে যায়। হাদীস শরীফে এসেছে, “যেই দেহকে হারাম দ্বারা খোরাক দেয়া হয়েছে তা জান্নাতে প্রবেশকরবে না"। সূত্র: মুসনাদে আহমদ ৩/৩২১
সুতরাং কখনো এ ধরণের লোভ করা উচিৎ নয়; বরং পিতা মাতার মৃত্যুর পর ভাইয়েরা বোনদের ন্যায্য অংশ তাদের হাতে বুঝিয়ে দিবে এবং তাদের লৌকিকতার দান গ্রহণ করবে না; বরং বুঝিয়ে বলবে যে, তোমাদেরও মালের প্রয়োজন আছে। তোমাদের সন্তানাদীরও মালের প্রয়োজন পড়বে। কাজেই, তোমাদের অংশ তোমরা অবশ্যই নিয়ে যাও। আমরা আজীবন আমাদের নিজস্ব মাল দ্বারা সাধ্যানুযায়ী তোমাদের খেদমত ও দেখাশুনা করে যাব ইনশাআল্লাহ। কারণ, আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন, কেউ যদি নিজের হায়াত ও মালের মধ্যে বরকত চায় তাহলে সে যেন সিলাহে রেহমী করে অর্থাৎ আত্মীয়-স্বজন বিশেষ করে বোন, ফুফু ও খালাদের খিদমত করে এবং তাদের খোঁজ খবর রাখে।
উল্লেখিত, এভাবে বুঝিয়ে বলে তাদেরকে তাদের অংশ হস্তান্তর করার পর যদি কোন বোন নিজের মালের একাংশ কিংবা পূর্ণ অংশ স্বীয় ভাইকে হাদিয়া দিয়ে দেয় তাহলে সেটা গ্রহণ করতে শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন বাঁধা নেই; বরং ভাইদের জন্য সেটা হালাল হবে।

সূত্র: বুখারী শরীফ হাদীস নং-৫৮৬, মুসলিম শরীফ হাদীস নং ২৫৫৭

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 অমুসলিমদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে দু‘আ করা

📄 অমুসলিমদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে দু‘আ করা


অমুসলিমদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে শরীক হয়ে তাদের জন্য কুরআনখানী করা, দু'আয়ে মাগফিরাত করা, ঈসালে ছাওয়াব করা, এ সবই শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েয। কুরআন ও হাদীসের বিভিন্ন স্থানে এটাকে নিষেধ করা হয়েছে। হযরত ইবরাহীম আ. প্রথমে স্বীয় পিতাকে মাগফিরাতের দু'আ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অতঃপর তার নিকট যখন এটা সুস্পষ্ট হয় যে, ঈমানের দরজা তার জন্য বন্ধ। সে হকের বিরোধিতায় পরিপূর্ণ ভাবে লিপ্ত রয়েছে। তখন তিনি ইস্তিগফার করে সেই অভিপ্রায় ত্যাগ করেন।
এছাড়া, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুনাফিক সরদার আব্দুল্লাহ বিন উবাইর জন্য মাগফিরাতের দু'আ করতে চান তখন তাকে এটা থেকে নিষেধ করা হয়।
অনুরূপ ভাবে, মুনাফিকদের জানাযার নামায পড়তে এবং তাদের কারো কবরের নিকট দন্ডায়মান হতেও আল্লাহ তা'আলা তার প্রিয় হাবীবকে নিষেধ করেছেন।
এ সমস্ত আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হয়, অমুসলিমদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা, তাদের সমাধিস্থলে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো বা তাদের জন্য মাগফিরাতের দু'আ করা নাজায়েয।

সূত্র: সূরা তওবা, আয়াত- ১১৩-১১৪, সূরা তওবা, আয়াত- ১১৪, সূরা তওবা, আয়াত-৮৪, জাদিদ ফিকহী মাসাঈল পৃ: ২৯৪

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 পিতা কর্তৃক পুত্রকে ত্যাজ্যপুত্র বলে ঘোষণা করা

📄 পিতা কর্তৃক পুত্রকে ত্যাজ্যপুত্র বলে ঘোষণা করা


আমাদের দেশে দেখা যায়, কখনো কখনো পিতা সন্তানের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তাকে ত্যাজ্য পুত্র বলে ঘোষণা করে।
প্রশ্নহলো, শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা কতটুকু গ্রহণযোগ্য? এর উত্তর হলো, পিতা মাতা যদি দ্বীনী কোন কারণে অথবা তাদের প্রতি দুর্ব্যবহার বা অবাধ্যতার কারণে নিজ সন্তানের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তার সাথে সম্পর্কছিন্ন করে এবং তাকে ত্যাজ্য করে দেয় তাহলে শরীয়তের দৃষ্টিতে তা বৈধ আছে। তবে একারণে পিতা মাতার মৃত্যুর পর উক্ত সন্তান তাদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেনা; বরং সে যথারীতি তাদের সম্পত্তির ওয়ারিস হবে। কেননা, মীরাসের বিষয়টি আল্লাহর পক্ষ থেকে বাধ্যতামূলক। তাই তাতে বান্দার হস্তক্ষেপের কোন সুযোগ নেই।
অবশ্য, পিতা-মাতা যদি উপরোল্লেখিত কারণে সন্তানকে তাদের সম্পদ থেকে বঞ্চিত করতে চায়, তাহলে তারা তাদের জীবদ্দশায় সুস্থ অবস্থায় সমুদয় সম্পত্তি নেক কাজে দান করে বা অন্যান্য ওয়ারিশগণের মাঝে বন্টন করে তাদেরকে বুঝিয়ে দিয়ে নিজেদের মালিকানা থেকে বের করে দিবে। তাহলে তাদের মৃত্যুর পর সন্তান ঐ সম্পদের মীরাছ পাবেনা।

সূত্র: ইমদাদুল আহকাম ৪/৫৪, আহসানুল ফাতাওয়া ৭/২৫৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00