📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 ঈসালে ছাওয়াবের উদ্দেশ্যে চল্লিশার খাবারের আয়োজন করা

📄 ঈসালে ছাওয়াবের উদ্দেশ্যে চল্লিশার খাবারের আয়োজন করা


মৃত ব্যক্তির ঈসালে ছাওয়াবের উদ্দেশ্যে চল্লিশা সহ অন্য কোন দিন নির্ধারণ করে যেমন: তিন দিনা, সাত দিনা, ত্রিশা ইত্যাদি কোন অনুষ্ঠান করা বা খাবারের আয়োজন করা শরীয়তের দৃষ্টিতে বিদ'আত, নাজায়েয ও গর্হিত কাজ। কারণ, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবা, তাবেঈন ও তাবে তাবেঈনের যুগে তথা খাইরুল কুরুনে এ ধরণের দিবস পালনের কোন নজীর পাওয়া যায়না; বরং এগুলো পরবর্তী যুগে আবিষ্কৃত হয়েছে।
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয় সাহাবী হযরত জারির ইবনে আব্দুল্লাহ রা. বলেন, আমরা মৃত ব্যক্তির পরিজনের নিকট জমায়েত হওয়া এবং এতদউদ্দেশ্যে খাবারের আয়োজন করাকে হাদীসে নিষিদ্ধ নওহা তথা বিলাপের মধ্যে গণ্য করতাম। সূত্র: সুনানে আবী দাউদ হা:৪০৩১, ৪৬০৭
তাছাড়া, এগুলোর মধ্যে কতক প্রথা হিন্দু খৃষ্টানদের সাথে আবার কতক জাহেলেী যুগের প্রথার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর ইসলামে এ সবই পরিত্যক্ত এবং কুরআন সুন্নাহয় এগুলোর সপক্ষে কোন প্রমাণ নাই।
অথচ বর্তমানে আমাদের দেশে ঈসালে ছাওয়াবের নামে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঐসব নাজায়েয পদ্ধতিতেই খানা পিনা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।
অবশ্য, সুনির্দিষ্ট দিন তারিখের প্রতি লক্ষ্য না করে একমাত্র আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি লাভ ও মৃত ব্যক্তির আমল নামায় ছাওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে সময় সুযোগ মত গরীব মিসকীনদেরকে খাবার খাওয়ানো জায়েয; বরং মুস্তাহাব। তবে এর জন্য শর্ত হলো, ব্যক্তি গত মাল দ্বারা তার ব্যবস্থা করা। আর মৃত ব্যক্তির পরিত্যজ্য মাল দ্বারা হলে সকল ওয়ারিশের স্বত:স্ফূর্ত সম্মতি থাকা এবং ওয়ারিশগণের মাঝে কোন অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান না থাকা। তবে মনে রাখতে হবে, ঈসালে ছাওয়াবের খাবারের হক একমাত্র গরীব মিসকীনদের। ধনীদের এ খাবার খাওয়া মাকরূহ। কাজেই, তাদের জন্য এ খাবার খাওয়া উচিৎ নয়।

সূত্র: বুখারী শরীফ ১/৩৮৭, ফতহুল কাদীর ২/৬৩৫, বায্যাযিয়্যা ৪/১৪৮, রদ্দুল মুহতার ৩/১৪৮, কেফায়াতুল মুফতী ৪/১২২

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরআন খতমের বিনিময় টাকা আদান-প্রদান করা

📄 ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরআন খতমের বিনিময় টাকা আদান-প্রদান করা


শরীয়তে মৃত ব্যক্তি র জন্য ঈসালে সওয়াব করা বৈধ। তা যে কোন নফল ইবাদতের মাধ্যমে হতে পারে। যেমন: দান সদকা করা, কুরআন তিলাওয়াত করা, যিকির আযকার করা ইত্যাদি। তবে তা হতে হবে পূর্ণ এখলাস ও একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোন প্রকার বিনিময় ছাড়া। কারণ, মৃত ব্যক্তি র উদ্দেশ্যে কুরআন ইত্যাদি খতম পড়ে কোন ধরণের হাদিয়া বা বিনিময় আদান-প্রদান করা সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েয। এধরণের খতমের কোন সওয়াব মৃত ব্যক্তি র আমল নামায় পৌঁছায়না এবং তিলাওয়াতকারী ও এর কোন ছাওয়াব পায়না।

সূত্র: মুসনাদে আহমদ হা. নং ১৫৫৯, আল মুহীতু ল বুরহানী ১১/৩৪০, আল বাহরুর রায়িক ৮/৩৩, রদ্দুল মুহতার ৬/৫৬

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 মাইকে শবীনা পড়ে ছাওয়াব রেসানী করা

📄 মাইকে শবীনা পড়ে ছাওয়াব রেসানী করা


আমাদের দেশে ছাওয়াব রেসানী করার একটি বদ রসম হলো, মাইকে শবীনা পড়ানো। নিকট অতীতে শহরে বা গ্রামে গঞ্জে এটার ব্যাপক প্রচলন দেখা যেতো। এভাবে মাইকে শবীনা পড়ানো ছাওয়াবের কাজ মনে হলেও প্রকৃত অর্থে এর মধ্যে অনেকগুলো হারাম কাজের সমন্বয় ঘটে। যেমন: রিয়া করা, লোক দেখানো, কুরআন তিলাওয়াতের বেহুরমতী ইত্যাদি। সূত্র: ফাতাওয়া শামী: ২/২৪১
মাইকে শবীনা বা খতম পড়ানোর কী প্রয়োজন? আল্লাহর উদ্দেশ্যেই যদি এটা পড়ানো হয়ে থাকে তাহলে আল্লাহ তো আর বধির নন যে, তাকে শোনানোর জন্য মাইকের প্রয়োজন হবে। এলাকার লোকেরাও তো মাইকে কুরআন শুনানোর জন্য তার নিকট দরখাস্ত করেনি। তাহলে সুনাম সুখ্যাতি কুড়ানো ছাড়া এর পিছনে আর কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে?
এছাড়াও, এর মাধ্যমে সারারাত মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটিয়ে তাদেরকে মহা সমস্যায় ফেলানো হয়। আশ পাশের লোকজন পেরেশান হয়ে যায়। অসুস্থ ব্যক্তিরা ঘুম না হওয়ায় আরো বেশী অসুস্থ হয়ে পড়ে। অথচ শরীয়ত এভাবে কাউকে সমস্যায় ফেলার অনুমতি দেয় না।
বিশেষত: যারা রাতে তাহাজ্জুদ পড়েন, যিকির আযকার করেন তাদের এ কারণে ভীষণ অসুবিধা হয়। আর কুরআনের বেহুরমতী তো আছেই। কেননা, যেখানে সকলে মনযোগের সাথে কুরআন শ্রবণ করে শুধুমাত্র সেখানেই উচ্চ স্বরে কুরআন তিলাওয়াতের অনুমতি আছে। কিন্তু যেখানে সকলেই স্ব স্ব কাজে ব্যস্ত, কুরআন শোনার ফুরসত নেই, সেখানে আওয়াজ করে কুরআন তিলাওয়াত করা ঠিক নয়।
মোটকথা, অনেক গুলো হারাম কাজের সমষ্টির নাম হলো, প্রচলিত শবীনা। তদুপরি, এটা যদি হয় পয়সার বিনিময়ে তাহলে তো গুনাহের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। উপরন্ত, এসব হারাম ও গুনাহের সমষ্টিকে ছাওয়াব মনে করা আরেকটি হারাম এবং ঈমানের জন্য মারাত্মক হুমকী স্বরূপ। সুতরাং এসব বদ রসম বন্ধ করা একান্ত জরুরী।
উল্লেখিত, কোথাও যদি এমন হয় যে, জায়েয পন্থায় কুরআন শরীফ বিশুদ্ধ ভাবে তিলাওয়াত করা হবে বা কুরআন শরীফ খতম করা হবে এবং অনেক লোক আদবের সাথে সেই তিলাওয়াত শুনতে আগ্রহী, কিন্তু তিলাওয়াত কারীর আওয়াজ মাইক ছাড়া সকলের নিকট পৌঁছানো সম্ভব নয়, এ কারণে সেখানে এমন সাউন্ড বক্স ব্যবহার করা হয় যার আওয়াজ উক্ত মজলিসে সীমাবদ্ধ থাকে এবং এতে অন্য লোকদের অসুবিধা হয় না। তাহলে এভাবে মাইকের মাধ্যমে তিলাওয়াত করা জায়েয আছে।

সূত্র: মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১/১৯১, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ১/১৮৮, আযীযুল ফাতাওয়া পৃঃ ৯৮, আহসানুল ফাতাওয়া, ১/৩৪৭

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 ইয়াতীমের মাল খাওয়া

📄 ইয়াতীমের মাল খাওয়া


নিয়ম হলো, কাফন দাফন শেষে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কোন হক্কানী আলেম বা মুফতীর মাধ্যমে ওয়ারিসদের মাঝে মীরাছ বন্টন করে প্রত্যেককে তার নির্ধারিত অংশের মালিকানা বুঝিয়ে দেয়া। নাবালেগ ছেলে বা মেয়ের অংশ সংশ্লিষ্ট অভিভাবক বা মুরব্বী যিনি ঐ ইয়াতীম ও তার সম্পদ দেখা শুনা করবেন তার হাতে বুঝিয়ে দেয়া। কারণ, জরুরী ভিত্তিতে এটা করা না হলে ওয়ারিসদের মধ্যে যে নাবালেগ ও ইয়াতীম তার মাল খাওয়া হয়ে যায়।
কিন্তু বর্তমানে সম্পদ বন্টনের এ কাজটি জরুরী ভিত্তিতে না করার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ইয়াতীমের মাল খেয়ে অন্যান্য ওয়ারিসরা নিজের অজান্তেই জাহান্নামের আগুন পেটে ভরে এবং ইয়াতীমের মুরব্বী যেমন: তার বড় ভাই প্রমুখ ঐ ইয়াতীমের মাল খেতে থাকে।
এছাড়াও, ঐ যৌথ সম্পদ থেকেই আবার সমজিদ মাদরাসায় দান করে। ঘটা করে আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী, আলেম উলামাদেরকে দাওয়াত করে খাওয়ায়। অনেক বছর পর ঐ ইয়াতীম যখন বড় হয় তখন তাকে শুধু জমাজমি ও বাড়ীর অংশ বুঝিয়ে দেয়া হয়। বিগত বছর গুলোতে ঐ সম্পত্তি থেকে যে ফসল উৎপন্ন হয়েছে বা ভাড়া পাওয়া গেছে এবং তা থেকে তার পিছনে আয়ের সবটুকু যে ব্যয় করা হয়নি তা তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় না; বরং ব্যয়ের বর্ধিত অংশ নিজেরা খরচ করে ফেলে। অথচ এসবই ইয়াতীমের মাল খাওয়ার দরুন হারাম ও জাহান্নাম খরীদ করার শামিল।
মনে রাখা দরকার, নাবালেগ সন্তানও বড়দের সমান অংশ পায়। কোন ক্ষেত্রে কড়া ক্রান্তিও কম পায় না।
অভিভাবকদের কর্তব্য হলো, উক্ত মাল থেকে তার ভরণ পোষণ, চিকিৎসা ও লেখা পড়ার জন্য খরচ করতে থাকা এবং অবশিষ্ট অংশ তার নামে হিফাজত করতে থাকা। অতপর সন্তান যখন প্রাপ্ত বয়স্ক ও বুদ্ধিমান হবে তখন তার সমুদয় সম্পত্তি এবং তা থেকে বর্ধিত আয় তাকে বুঝিয়ে দেওয়া। বিষয়টি বড়ই স্পর্শ কাতর। কারণ, কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে, যারা অবৈধ ভাবে ইয়াতীমের মাল খায় তারা তাদের পেটে জাহান্নামের আগুন ভরে।

সূত্র: সুরা নিসা আয়াত: -১০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00