📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 আত্মহত্যা করা বা আত্মহত্যাকারীর জন্য ছাওয়াব রেসানী করা

📄 আত্মহত্যা করা বা আত্মহত্যাকারীর জন্য ছাওয়াব রেসানী করা


আত্মহত্যা করা হারাম, নাজায়েয ও মারাত্মক কবীরাহ গুনাহ। হাদীস শরীফে এ ব্যাপারে কঠোর ধমকি এসেছে। একটি হাদীসে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমান, “যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ে আত্মহত্যা করবে সে জাহান্নামে যাবে এবং জাহান্নামে অনবরত নিক্ষিপ্ত হতে থাকবে এবং সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করবে সেই বিষ তার হাতে থাকবে। সে জাহান্নামে ঐ বিষ পান করতে থাকবে এবং ঐ জাহান্নামে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি কোন ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করবে সেই অস্ত্র তার হাতে থাকবে। যার দ্বারা সে জাহান্নামে স্বীয় পেটে যখম করতে থাকবে এবং সে জাহান্নামে চিরকাল অবস্থান করবে। সূত্র: মিশকাত শরীফ, পৃঃ ২৯৯
উল্লেখিত বর্ণিত হাদীসে আত্মহত্যাকারীর শাস্তি চিরস্থায়ী জাহান্নাম বলা হয়েছে এ অর্থে যে, যদি সে আত্মহত্যাকে জায়েয মনে করে আত্মহত্যা করে থাকে। কারণ, এ সূরতে সে ঈমান হারা হয়ে যায়। অন্যথায় হাদীসের অর্থ হলো, সে দীর্ঘকাল জাহান্নামে অবস্থান করবে। কারণ, এ সূরতে বেঈমান হয় না। তাই আল্লাহ তা'আলা চাইলে তার এ গুনাহ মাফও করে দিতে পারেন। সুতরাং আত্মহত্যাকারীর জন্য শরীয়ত সম্মত পন্থায় ঈসালে ছাওয়াব করা জায়েয আছে। এতে কোন অসুবিধা নেই।

সূত্র: মাহমুদিয়া ৬/৮৫, আহসানুল ফাতাওয়া ১/৩৬১, ইমদাদুল আহকাম ১/১১২, আযীযুল ফাতাওয়া পৃঃ ৩৪৪

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 সত্তর হাজার বার কালিমা তয়্যিবা দ্বারা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া

📄 সত্তর হাজার বার কালিমা তয়্যিবা দ্বারা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া


কেউ কেউ নিজের জন্য মৃত্যুর পূর্বে অথবা অন্য কোন ব্যক্তির জন্য সত্তর হাজার বার খতমে তাহলীল বা লা ইলাহ ইল্লাল্লাহর খতম পড়ায়, এ ধারণায় যে, এর মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ হবে।
একথা স্বতসিদ্ধ যে, কালিমা তয়্যিবা পড়া অনেক ছাওয়াবের কাজ এবং হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী এটি উত্তম যিকিরও বটে। এটা পড়া নিজের জন্যও উপকারী এবং অন্য মৃতের জন্যও উপকারী। কিন্তু উপরোল্লেখিত নির্দিষ্ট সংখায় তা পাঠ করলে বা মৃতের নামে পাঠালে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ হয় এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কোন সহীহ বা জঈফ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। কাজেই, এটা পড়লে মৃত ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে নিশ্চিত ভাবে এমন বিশ্বাস রাখা যাবেনা এবং এটাকে হাদীস বা হাদীসের ভঙ্গীতে বর্ণনা করাও বৈধ হবেনা। তবে কোন কোন মাশায়েখ থেকে এমন বক্তব্য বর্ণিত আছে। সুতরাং কালেমা তয়্যিবা চাই সত্তর হাজার হোক চাই এর চেয়ে কম হোক, চাই বেশী হোক তা পাঠ করে মায়্যেতের নামে পাঠানো হলে তার ছাওয়াব পৌঁছবে এতে কোন সন্দেহ নেই।

সূত্র: মাজমাউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যা ২৪/১৮০, ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যা ১৩/৩৮৩

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 ঈসালে ছাওয়াবের উদ্দেশ্যে চল্লিশার খাবারের আয়োজন করা

📄 ঈসালে ছাওয়াবের উদ্দেশ্যে চল্লিশার খাবারের আয়োজন করা


মৃত ব্যক্তির ঈসালে ছাওয়াবের উদ্দেশ্যে চল্লিশা সহ অন্য কোন দিন নির্ধারণ করে যেমন: তিন দিনা, সাত দিনা, ত্রিশা ইত্যাদি কোন অনুষ্ঠান করা বা খাবারের আয়োজন করা শরীয়তের দৃষ্টিতে বিদ'আত, নাজায়েয ও গর্হিত কাজ। কারণ, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবা, তাবেঈন ও তাবে তাবেঈনের যুগে তথা খাইরুল কুরুনে এ ধরণের দিবস পালনের কোন নজীর পাওয়া যায়না; বরং এগুলো পরবর্তী যুগে আবিষ্কৃত হয়েছে।
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয় সাহাবী হযরত জারির ইবনে আব্দুল্লাহ রা. বলেন, আমরা মৃত ব্যক্তির পরিজনের নিকট জমায়েত হওয়া এবং এতদউদ্দেশ্যে খাবারের আয়োজন করাকে হাদীসে নিষিদ্ধ নওহা তথা বিলাপের মধ্যে গণ্য করতাম। সূত্র: সুনানে আবী দাউদ হা:৪০৩১, ৪৬০৭
তাছাড়া, এগুলোর মধ্যে কতক প্রথা হিন্দু খৃষ্টানদের সাথে আবার কতক জাহেলেী যুগের প্রথার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর ইসলামে এ সবই পরিত্যক্ত এবং কুরআন সুন্নাহয় এগুলোর সপক্ষে কোন প্রমাণ নাই।
অথচ বর্তমানে আমাদের দেশে ঈসালে ছাওয়াবের নামে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঐসব নাজায়েয পদ্ধতিতেই খানা পিনা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।
অবশ্য, সুনির্দিষ্ট দিন তারিখের প্রতি লক্ষ্য না করে একমাত্র আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি লাভ ও মৃত ব্যক্তির আমল নামায় ছাওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে সময় সুযোগ মত গরীব মিসকীনদেরকে খাবার খাওয়ানো জায়েয; বরং মুস্তাহাব। তবে এর জন্য শর্ত হলো, ব্যক্তি গত মাল দ্বারা তার ব্যবস্থা করা। আর মৃত ব্যক্তির পরিত্যজ্য মাল দ্বারা হলে সকল ওয়ারিশের স্বত:স্ফূর্ত সম্মতি থাকা এবং ওয়ারিশগণের মাঝে কোন অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান না থাকা। তবে মনে রাখতে হবে, ঈসালে ছাওয়াবের খাবারের হক একমাত্র গরীব মিসকীনদের। ধনীদের এ খাবার খাওয়া মাকরূহ। কাজেই, তাদের জন্য এ খাবার খাওয়া উচিৎ নয়।

সূত্র: বুখারী শরীফ ১/৩৮৭, ফতহুল কাদীর ২/৬৩৫, বায্যাযিয়্যা ৪/১৪৮, রদ্দুল মুহতার ৩/১৪৮, কেফায়াতুল মুফতী ৪/১২২

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরআন খতমের বিনিময় টাকা আদান-প্রদান করা

📄 ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরআন খতমের বিনিময় টাকা আদান-প্রদান করা


শরীয়তে মৃত ব্যক্তি র জন্য ঈসালে সওয়াব করা বৈধ। তা যে কোন নফল ইবাদতের মাধ্যমে হতে পারে। যেমন: দান সদকা করা, কুরআন তিলাওয়াত করা, যিকির আযকার করা ইত্যাদি। তবে তা হতে হবে পূর্ণ এখলাস ও একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোন প্রকার বিনিময় ছাড়া। কারণ, মৃত ব্যক্তি র উদ্দেশ্যে কুরআন ইত্যাদি খতম পড়ে কোন ধরণের হাদিয়া বা বিনিময় আদান-প্রদান করা সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েয। এধরণের খতমের কোন সওয়াব মৃত ব্যক্তি র আমল নামায় পৌঁছায়না এবং তিলাওয়াতকারী ও এর কোন ছাওয়াব পায়না।

সূত্র: মুসনাদে আহমদ হা. নং ১৫৫৯, আল মুহীতু ল বুরহানী ১১/৩৪০, আল বাহরুর রায়িক ৮/৩৩, রদ্দুল মুহতার ৬/৫৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00