📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 লাশকে কবরে চিৎ করে শোয়ানো

📄 লাশকে কবরে চিৎ করে শোয়ানো


লাশকে কবরে রাখার সুন্নত তরীকা হলো, সম্ভব হলে লাশকে কিবলার দিকে থেকে কবরে নামাবে। এবং নামানোর সময় বিসমিল্লাহি ওয়ালা মিল্লাতি রসূলিল্লাহ এই দু'আ পড়বে।
অতপর লাশকে সম্পূর্ণ কিবলামুখী করে এমন ভাবে শোয়াবে, যেন চেহারা ও সীনা উভয়টাই কিবলার দিকে থাকে। কিন্তু আফসোসের কথা হচ্ছে, মুখে তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরীকায় শোয়ানোর কথা স্বীকার করা হয়; অথচ কাজ করা হয় তার সম্পূর্ণ উল্টো। অর্থাৎ মুর্দাকে চিৎ করে কবরে এমনভাবে শোয়ানো হয়, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে শিক্ষা দেননি। এজন্য কবর এমনভাবে বানানো উচিৎ যাতে মাইয়্যেতকে খুব সহজেই কিবলা মুখী করে শোয়ানো যায়। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত ৩টি পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে।
(এক) কবর কিবলার দিকে বেশী ঢালু করে দিবে। প্রয়োজনে মাথার স্থান বাদ দিয়ে পশ্চিম দিকের অবশিষ্টাংশ ড্রেনের মত করে দিবে।
(দুই) মাইয়্যেতের পিঠের দিকে মাটির আইলের মত করে মাথার নিচেও কিছু মাটি দিয়ে দিবে।
(তিন) মাইয়্যেতকে পূর্ব দিকের দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে দিবে।
উপরোক্ত পদ্ধতির কোন একটি অবলম্বন করলে কিবলামুখী করে শোয়ানো সহজ হবে। মাইয়্যেতকে কবরে চিৎকরে রেখে শুধু মুখ কিবলামুখী করে রাখলে সুন্নত আদায় হবেনা; বরং এটা সুন্নাহ পরিপন্থী হবে।

সূত্র: আবু দাউদ হাদীস নং ২৮৭৫, ই'লাউস সুনান ৮/৩০৫, ফাতাওয়ায়ে শামী ২/২৩৪, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১/১৬০, তাতারখানিয়া ৩/৬৫, ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৫৬২, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ১৫/২৫১

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 দাফনের পর কবরে দাঁড়িয়ে আযান দেয়া

📄 দাফনের পর কবরে দাঁড়িয়ে আযান দেয়া


আমাদের দেশের কোন কোন স্থানে দেখা যায়, মুর্দাকে দাফন করার পর কবরের পার্শ্বে দাঁড়িয়ে আযান দেওয়া হয়। এভাবে আযান দেয়ার শরীয়তে কোন ভিত্তি নেই। সুতরাং এরূপ আযান দেয়া নিষেধ।

সূত্র: শামী ১/৩৯৩, আহসানুল ফাতাওয়া ১/৩৩৭, মাহমুদিয়া ১/২৯৬, ইমদাদুল ফাতাওয়া ৫/৩০১

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 মাইয়্যেতকে দাফনের পর কবরের চার কোণে খুঁটি গাড়া

📄 মাইয়্যেতকে দাফনের পর কবরের চার কোণে খুঁটি গাড়া


কবরে লাশ দাফনের পর তার চার কোণায় খেজুর বা অন্য কোন গাছের ডাল গাড়া এবং তার চার কোণে ধরে চার কুল পড়ার যে প্রথা আমাদের দেশে প্রচলিত আছে, শরীয়তের দৃষ্টিতে তা বিদ'আত ও বর্জনীয় কাজ। অনেকেই এটাকে জায়েয প্রমাণ করার জন্য মুসলিম শরীফে বর্ণিত একটি হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করে থাকেন। হাদীসটি হলো, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা দুটি কবরের উপর খেজুরের ডাল দু টুকরা করে গেড়ে বলেছিলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এ ডাল দুটি সজীব থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত কবরে অবস্থিত মাইয়্যেতদ্বয়ের আযাব হালকা করা হবে। সূত্র: সহীহ মুসলিম ১/১৪১
প্রকৃতপক্ষে, তাদের এ দলীল পেশ করা সঠিক নয়। কারণ, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুপারিশের কারণেই তাদের আযাব হালকা করা হয়েছিল। আর ডাল দুটি শুধুমাত্র আযাব কতক্ষণ হালকা থাকবে তার পরিমাণ নির্ধারণের জন্য গেড়ে দেয়া হয়েছিল। অর্থাৎ যতক্ষণ ডাল সজীব থাকবে এবং শুকাবেনা ততক্ষণ পর্যন্ত হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দু'আর বরকতে তাদের কবরের আযাব হালকা থাকবে। যদি এমনটি না হতো; বরং তা সকলের জন্য হতো অথবা এটা কোন নেক কাজ হতো, তাহলে হযরত সাহাবায়ে কেরাম অবশ্যই এ আমল করতেন। কেননা, তারা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণের ব্যাপারে আমাদের অপেক্ষা বেশী আগ্রহী ছিলেন। এতদসত্বেও কোন সাহাবী কখনো এমনটি করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়না। তাছাড়া, কবরের চার কোণায় চার কুল পড়ার প্রমাণও কোন সহীহ হাদীসে পাওয়া যায়না। তবে হাদীসে এতটুকু প্রমাণিত আছে যে, মায়্যিতকে দাফনের পর মাইয়িতের মাথার দিকে সূরা বাকারার শুরু থেকে মুফলিহূন পর্যন্ত আর পায়ের দিকে সূরা বাকার শেষ আয়াত তথা আ-মানার রসূল থেকে শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করবে। এটাই সুন্নত।

সূত্র: সহীহ মুসলিম ১/৩১২

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 টাইলস বা নাম ফলকে মৃত ব্যক্তির নাম, পিতার নাম, মৃত্যু তারিখ, সন, ইত্যাদি লিখে কবরের পার্শ্বে স্থাপন করে রাখা

📄 টাইলস বা নাম ফলকে মৃত ব্যক্তির নাম, পিতার নাম, মৃত্যু তারিখ, সন, ইত্যাদি লিখে কবরের পার্শ্বে স্থাপন করে রাখা


কবরস্থানে বা ব্যক্তিগত কবরে অনেক সময় দেখা যায়, বিভিন্ন কবরের পার্শ্বে টাইলস বা নাম ফলকে মৃত ব্যক্তির নাম, পিতা/মাতার নাম, মৃত্যু তারিখ, সন, কুরআনের আয়াত, দু'আ, কবিতা, প্রশংসা ইত্যিাদি লিখে কবরের পার্শ্বে স্থাপন করে রাখা হয়।
অথচ প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি হাদীসে কবরের উপর কোন কিছু লিখে রাখতে নিষেধ করেছেন। সূত্র: তিরমিযী শরীফ হাদীস নং ১০৫২
এ কারণে অনেক ফকীহ কবরে উল্লেখিত বিষয় সমূহ লিখে রাখা শরীয়তের মানশা পরিপন্থী বলে তা করতে অনুৎসাহিত করেছেন। কারণ, এতে কবরের স্থান রিজার্ভ হয়ে যায় এবং এটা ব্যাপক ভাবে চলতে থাকলে এক সময় কবরের স্থান সংকট দেখা দিতে পারে।
তবে যেহেতু অপর একটি হাদীসে বর্ণিত আছে, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত উসমান ইবনে মাজউন রা. এর কবর শনাক্ত করার জন্য তার কবরের পার্শ্বে একটি পাথর রেখে দিয়েছিলেন। সূত্র: সুনানে আবী দাউদ হা: নং ৩২০৬
তাই কবর পরিচয়ের স্বার্থে বিশেষ প্রয়োজনে সীমিত পর্যায়ে কবরের পার্শ্বে মৃত ব্যক্তির শুধু নাম ও সংক্ষিপ্ত পরিচয় লিখা জয়েয হবে। এছাড়া অন্য কিছু যেমন: কুরআনের আয়াত, দু'আ, কবিতা, প্রশংসা ইত্যাদি লিখে রাখা জায়েয হবেনা।

সূত্র: সুনানে তিরমিযী হাদীস নং ১০৫২, আল মুস্তাদরাক ১/৫২৫, মিরক্বাতুল মাফাতীহ ৪/১৬৬, শামী ২/২১৩৮, আল বাহরুর রায়েক ২/৩৪০, বাদায়ে ২/৬৫, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/২৩১ কিফায়াতুল মুফতী ৪/৪৬ কিতাবুন নাওয়াযেল ৬/২৩৫, তুহফাতুল আলমাঈ ৩/৪৬৩-৪৬৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00