📄 জানাযা নামাযের পর সম্মিলিত ভাবে হাত তুলে মুনাজাত করা
অনেক স্থানে জানাযা নামাযের পর লাশ দাফন করার পূর্বে সম্মিলিত ভাবে হাত তুলে দু'আ ও মুনাজাত করা হয়। এটা জায়েয নেই। কারণ, এর কোন ভিত্তি নেই। যেহেতু শরীয়তের দৃষ্টিতে জানাযার নামাযই হচ্ছে, মাইয়্যেতের জন্য দু'আ। সুতরাং উক্ত দু'আর পর আরেকটি দু'আ করার অর্থ হচ্ছে, পূর্বের দু'আটি যথার্থ ছিল না। অথচ এমনটি মনে করা যে কত বড় অপরাধ তা সহজেই অনুমেয়। সুতরাং এটা বন্ধ করা অপরিহার্য।
অবশ্য, দাফন শেষ হওয়ার পর কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে দু'আ কালাম পড়ে সম্মিলিত ভাবে মুনাজাত করা যেতে পারে।
সূত্র: ফাতাওয়া শামী ২/২৩৭
📄 মৃতদেহ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা
শরীয়তের ফায়সালা হলো, যে ব্যক্তি যে স্থানে মারা যাবে তাকে তৎপার্শ্ববর্তী মুসলমানদের কোন কবরস্থানে দাফন করতে হবে। লাশ দূরবর্তী কোন স্থানে স্থানান্তর করা যাবে না। কারণ, এতে দাফন বিলম্বিত হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ অমান্য করা হয়। এছাড়াও, এটা করতে যেয়ে টাকা পয়সার অপচয় তো আছেই। সুতরাং এটা কঠোর ভাবে পরিত্যাজ্য।
অথচ আমাদের দেশে অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ নিজের আত্মীয় স্বজনের লাশ দেশের বাড়িতে বা দূরে অন্য কোথাও নিয়ে যায় দাফনের জন্য। এমনিভাবে, এক দেশ থেকে আরেক দেশে বা বিদেশ থেকে দেশে লাশ নিয়ে আসে। অনেকে আবার এ মর্মে অসিয়্যত করে যায় যে, তার মৃত্যুর পর যেন তার লাশ দেশের বাড়িতে বাবা-মায়ের সাথে দাফন করা হয়। অথচ দাফনে বিলম্ব ঘটার কারণে এসব কাজ শরীয়তে নিষিদ্ধ।
কাজেই, প্রত্যেকেই উচিৎ জীবদ্দশায় নিজের সন্তান-সন্ততি পরিবার পরিজন ও আত্মীয় স্বজনকে মাসআলাটি বুঝিয়ে তার উপর আমল করার জন্য জোর তাকীদ করে যাওয়া। যাতে তার ইন্তিকালের পর আত্মীয়রা এরূপ গর্হিত কাজ না করে।
সূত্র: বুখারী শরীফ, হাদীস নং ১৩১৫, ফাতাওয়া শামী ৬/৬৬৬, আল বাহরুর রায়িক ২/০৩৫, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/২০৯, ২১০
📄 লাশ কবরস্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় উচ্চ স্বরে কালিমা পড়া
আমাদের দেশে আরেকটি কুপ্রথা প্রচলিত আছে। তা হলো, মুর্দাকে কাঁধে করে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় লোকেরা উচ্চ স্বরে কালিমায়ে তায়্যিবা ও কালিমায়ে শাহাদাত পড়তে থাকে। এটা ঠিক নয়।
নিয়ম হলো, এ ক্ষেত্রে নিরবে স্বাভাবিক গতিতে দু'আ কালাম পাঠ করা এবং মায়্যেতের জন্য মনে মনে ইস্তেগফার পড়া। কোন রকম হাসি ঠাট্টা বা রং তামাশা না করা। চিল্লা চিল্লি বা হৈ হুল্লোড় না করা; বরং মনে মনে একথা চিন্তা করা যে, আজ আমি যেভাবে মুর্দাকে কবরের দিকে নিয়ে যাচ্ছি আগামীতে যে কোন সময় ঠিক একই ভাবে আমাকেও লোকেরা কাঁধে করে কবরস্থানে নিয়ে দাফন করবে। কাজেই, এজন্য আমার কী প্রস্তুতি আছে বা আমি প্রস্তুতি নিতে বিলম্ব করছি কেন?
সূত্র: বুখারী, হাদীস নং-২৬৯৭, আহসানুল ফাতাওয়া/৩১৫
📄 লাশকে কবরে চিৎ করে শোয়ানো
লাশকে কবরে রাখার সুন্নত তরীকা হলো, সম্ভব হলে লাশকে কিবলার দিকে থেকে কবরে নামাবে। এবং নামানোর সময় বিসমিল্লাহি ওয়ালা মিল্লাতি রসূলিল্লাহ এই দু'আ পড়বে।
অতপর লাশকে সম্পূর্ণ কিবলামুখী করে এমন ভাবে শোয়াবে, যেন চেহারা ও সীনা উভয়টাই কিবলার দিকে থাকে। কিন্তু আফসোসের কথা হচ্ছে, মুখে তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরীকায় শোয়ানোর কথা স্বীকার করা হয়; অথচ কাজ করা হয় তার সম্পূর্ণ উল্টো। অর্থাৎ মুর্দাকে চিৎ করে কবরে এমনভাবে শোয়ানো হয়, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে শিক্ষা দেননি। এজন্য কবর এমনভাবে বানানো উচিৎ যাতে মাইয়্যেতকে খুব সহজেই কিবলা মুখী করে শোয়ানো যায়। এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত ৩টি পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে।
(এক) কবর কিবলার দিকে বেশী ঢালু করে দিবে। প্রয়োজনে মাথার স্থান বাদ দিয়ে পশ্চিম দিকের অবশিষ্টাংশ ড্রেনের মত করে দিবে।
(দুই) মাইয়্যেতের পিঠের দিকে মাটির আইলের মত করে মাথার নিচেও কিছু মাটি দিয়ে দিবে।
(তিন) মাইয়্যেতকে পূর্ব দিকের দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে দিবে।
উপরোক্ত পদ্ধতির কোন একটি অবলম্বন করলে কিবলামুখী করে শোয়ানো সহজ হবে। মাইয়্যেতকে কবরে চিৎকরে রেখে শুধু মুখ কিবলামুখী করে রাখলে সুন্নত আদায় হবেনা; বরং এটা সুন্নাহ পরিপন্থী হবে।
সূত্র: আবু দাউদ হাদীস নং ২৮৭৫, ই'লাউস সুনান ৮/৩০৫, ফাতাওয়ায়ে শামী ২/২৩৪, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১/১৬০, তাতারখানিয়া ৩/৬৫, ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৫৬২, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ১৫/২৫১