📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 বিনা অপারগতায় মসজিদে জানাযা নামায পড়া

📄 বিনা অপারগতায় মসজিদে জানাযা নামায পড়া


আমাদের দেশে বিনা অপরাগতায় মসজিদে জানাযার নামায পড়া হয়ে থাকে। অথচ শরীয়তের দৃষ্টিতে মসজিদে নামাযে জানাযা পড়া মাকরূহ। তাই মাইয়্যেত ও মুসল্লী উভয়ে মসজিদের ভিতরে থাকুক অথবা লাশ মসজিদের বাইরে আর মুসল্লী মসজিদের ভিতরে থাকুক, সর্বাবস্থাতেই মসজিদে জানাযার নামায পড়া মাকরূহ। এভাবে জানাযা নামায পড়লে যদিও ফরজে কেফায়া আদায় হয়ে থাকে, কিন্তু জানাযার নামায পড়ার বিরাট ছাওয়াব থেকে সকলেই বঞ্চিত হয়ে যাবে। সুতরাং বিনা অপরাগতায় কখনো মসজিদে জানাযা নামায পড়া উচিৎ নয়।
উল্লেখ্য, নিয়ম হলো, জানাযা নামায কোন মাঠে বা ময়দানে পড়া। অবশ্য, যেখানে জানাযা নামায পড়ার মত কোন স্থান নেই বা স্থান আছে, কিন্তু বৃষ্টি বাদলের কারণে সেখানে নামায পড়া সম্ভব হচ্ছে না। এরূপ অপরাগতার ক্ষেত্রে মসজিদে জানাযা নামায পড়ার অবকাশ আছে। আর এ ক্ষেত্রেও চেষ্টা করা দরকার, যাতে মুর্দাকে মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করাতে না হয়। এর জন্য মসজিদে ইমাম বরাবর বাইরে কোন স্থান রাখা যেখানে মাইয়্যেতকে রেখে জানাযা নামায পড়া হবে।

সূত্র: বুখারী ১/১৭৭, মুসলিম ১/৩১২, হিদায়া ১/১৮১, রদ্দুল মুহতার ২/২২৫-২২৬

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 জানাযা নামাযের পর সম্মিলিত ভাবে হাত তুলে মুনাজাত করা

📄 জানাযা নামাযের পর সম্মিলিত ভাবে হাত তুলে মুনাজাত করা


অনেক স্থানে জানাযা নামাযের পর লাশ দাফন করার পূর্বে সম্মিলিত ভাবে হাত তুলে দু'আ ও মুনাজাত করা হয়। এটা জায়েয নেই। কারণ, এর কোন ভিত্তি নেই। যেহেতু শরীয়তের দৃষ্টিতে জানাযার নামাযই হচ্ছে, মাইয়্যেতের জন্য দু'আ। সুতরাং উক্ত দু'আর পর আরেকটি দু'আ করার অর্থ হচ্ছে, পূর্বের দু'আটি যথার্থ ছিল না। অথচ এমনটি মনে করা যে কত বড় অপরাধ তা সহজেই অনুমেয়। সুতরাং এটা বন্ধ করা অপরিহার্য।
অবশ্য, দাফন শেষ হওয়ার পর কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে দু'আ কালাম পড়ে সম্মিলিত ভাবে মুনাজাত করা যেতে পারে।

সূত্র: ফাতাওয়া শামী ২/২৩৭

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 মৃতদেহ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা

📄 মৃতদেহ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা


শরীয়তের ফায়সালা হলো, যে ব্যক্তি যে স্থানে মারা যাবে তাকে তৎপার্শ্ববর্তী মুসলমানদের কোন কবরস্থানে দাফন করতে হবে। লাশ দূরবর্তী কোন স্থানে স্থানান্তর করা যাবে না। কারণ, এতে দাফন বিলম্বিত হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ অমান্য করা হয়। এছাড়াও, এটা করতে যেয়ে টাকা পয়সার অপচয় তো আছেই। সুতরাং এটা কঠোর ভাবে পরিত্যাজ্য।
অথচ আমাদের দেশে অনেক সময় দেখা যায়, মানুষ নিজের আত্মীয় স্বজনের লাশ দেশের বাড়িতে বা দূরে অন্য কোথাও নিয়ে যায় দাফনের জন্য। এমনিভাবে, এক দেশ থেকে আরেক দেশে বা বিদেশ থেকে দেশে লাশ নিয়ে আসে। অনেকে আবার এ মর্মে অসিয়্যত করে যায় যে, তার মৃত্যুর পর যেন তার লাশ দেশের বাড়িতে বাবা-মায়ের সাথে দাফন করা হয়। অথচ দাফনে বিলম্ব ঘটার কারণে এসব কাজ শরীয়তে নিষিদ্ধ।
কাজেই, প্রত্যেকেই উচিৎ জীবদ্দশায় নিজের সন্তান-সন্ততি পরিবার পরিজন ও আত্মীয় স্বজনকে মাসআলাটি বুঝিয়ে তার উপর আমল করার জন্য জোর তাকীদ করে যাওয়া। যাতে তার ইন্তিকালের পর আত্মীয়রা এরূপ গর্হিত কাজ না করে।

সূত্র: বুখারী শরীফ, হাদীস নং ১৩১৫, ফাতাওয়া শামী ৬/৬৬৬, আল বাহরুর রায়িক ২/০৩৫, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/২০৯, ২১০

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 লাশ কবরস্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় উচ্চ স্বরে কালিমা পড়া

📄 লাশ কবরস্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় উচ্চ স্বরে কালিমা পড়া


আমাদের দেশে আরেকটি কুপ্রথা প্রচলিত আছে। তা হলো, মুর্দাকে কাঁধে করে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় লোকেরা উচ্চ স্বরে কালিমায়ে তায়্যিবা ও কালিমায়ে শাহাদাত পড়তে থাকে। এটা ঠিক নয়।
নিয়ম হলো, এ ক্ষেত্রে নিরবে স্বাভাবিক গতিতে দু'আ কালাম পাঠ করা এবং মায়্যেতের জন্য মনে মনে ইস্তেগফার পড়া। কোন রকম হাসি ঠাট্টা বা রং তামাশা না করা। চিল্লা চিল্লি বা হৈ হুল্লোড় না করা; বরং মনে মনে একথা চিন্তা করা যে, আজ আমি যেভাবে মুর্দাকে কবরের দিকে নিয়ে যাচ্ছি আগামীতে যে কোন সময় ঠিক একই ভাবে আমাকেও লোকেরা কাঁধে করে কবরস্থানে নিয়ে দাফন করবে। কাজেই, এজন্য আমার কী প্রস্তুতি আছে বা আমি প্রস্তুতি নিতে বিলম্ব করছি কেন?

সূত্র: বুখারী, হাদীস নং-২৬৯৭, আহসানুল ফাতাওয়া/৩১৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00