📄 একাধিক বার জানাযা নামায পড়া
অনেক সময় দেখা যায়, একাধিক বার জানাযা নামায পড়া হয়। এটা শরীয়ত সম্মত নয়। কাজেই, জানাযা নামায একবার হওয়াই বাঞ্চনীয়। হ্যাঁ যদি মৃত ব্যক্তির ওলী জানাযায় শরীক না হয়ে থাকে এবং তার থেকে পূর্বে আদায়কৃত জানাযা নামাযের অনুমতি না নেয়া হয়ে থাকে তাহলে সেই ওলী ও পূর্বের নামাযে যারা অনুপস্থিত ছিল কেবল তাদেরকে নিয়ে দ্বিতীয়বার জানাযা নামায পড়বে। কিন্তু প্রথম জানাযায় যদি কোন একজন ওলী উপস্থিত হয়ে থাকে বা প্রথম জানাযা তার অনুমতি ক্রমে হয়ে থাকে তাহলে আর দ্বিতীয়বার জানাযা নামায পড়া জায়েয নেই।
সূত্র: ফাতাওয়া শামী ২/২২২-২২৩, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/২১৩
📄 গায়েবানা জানাযা নামায পড়া
গায়েবানা জানাযা নামায পড়ার যে প্রথা আমাদের সমাজে চালু আছে, বিশেষ করে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হানাফী মাজহাব অনুযায়ী তা সহীহ নয়। কারণ, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বহু সাহাবী দূর দেশে জিহাদ করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। গায়েবানা জানাযা জায়েয হলে তিনি অবশ্যই মদীনা থেকে তাদের গায়েবানা জানাযা পড়তেন। অথচ তিনি এমনটি করেননি। উল্লেখ্য, কেউ কেউ দুটি ঘটনা উল্লেখ করতঃ গায়েবানা জানাযার বৈধতা প্রমাণ করতে চান।
মূলত: সেগুলো গায়েবানা জানাযা ছিল না; বরং প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা'আলার কুদরতে দূরে থাকা লাশ স্বচক্ষে দেখে দেখে জানাযা নামায পড়িয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এটা করিয়েছিলেন বলে হাদীসে উল্লেখ রয়েছে। সুতরাং ঐ দুটি ঘটনার মাধ্যমে গায়েবানা জানাযার পক্ষে দলীল পেশ করা সহীহ হবে না।
সূত্র: ফতহুল বারী ২/৮১, মাহমুদিয়া ৭/২২৭
📄 বিনা অপারগতায় মসজিদে জানাযা নামায পড়া
আমাদের দেশে বিনা অপরাগতায় মসজিদে জানাযার নামায পড়া হয়ে থাকে। অথচ শরীয়তের দৃষ্টিতে মসজিদে নামাযে জানাযা পড়া মাকরূহ। তাই মাইয়্যেত ও মুসল্লী উভয়ে মসজিদের ভিতরে থাকুক অথবা লাশ মসজিদের বাইরে আর মুসল্লী মসজিদের ভিতরে থাকুক, সর্বাবস্থাতেই মসজিদে জানাযার নামায পড়া মাকরূহ। এভাবে জানাযা নামায পড়লে যদিও ফরজে কেফায়া আদায় হয়ে থাকে, কিন্তু জানাযার নামায পড়ার বিরাট ছাওয়াব থেকে সকলেই বঞ্চিত হয়ে যাবে। সুতরাং বিনা অপরাগতায় কখনো মসজিদে জানাযা নামায পড়া উচিৎ নয়।
উল্লেখ্য, নিয়ম হলো, জানাযা নামায কোন মাঠে বা ময়দানে পড়া। অবশ্য, যেখানে জানাযা নামায পড়ার মত কোন স্থান নেই বা স্থান আছে, কিন্তু বৃষ্টি বাদলের কারণে সেখানে নামায পড়া সম্ভব হচ্ছে না। এরূপ অপরাগতার ক্ষেত্রে মসজিদে জানাযা নামায পড়ার অবকাশ আছে। আর এ ক্ষেত্রেও চেষ্টা করা দরকার, যাতে মুর্দাকে মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করাতে না হয়। এর জন্য মসজিদে ইমাম বরাবর বাইরে কোন স্থান রাখা যেখানে মাইয়্যেতকে রেখে জানাযা নামায পড়া হবে।
সূত্র: বুখারী ১/১৭৭, মুসলিম ১/৩১২, হিদায়া ১/১৮১, রদ্দুল মুহতার ২/২২৫-২২৬
📄 জানাযা নামাযের পর সম্মিলিত ভাবে হাত তুলে মুনাজাত করা
অনেক স্থানে জানাযা নামাযের পর লাশ দাফন করার পূর্বে সম্মিলিত ভাবে হাত তুলে দু'আ ও মুনাজাত করা হয়। এটা জায়েয নেই। কারণ, এর কোন ভিত্তি নেই। যেহেতু শরীয়তের দৃষ্টিতে জানাযার নামাযই হচ্ছে, মাইয়্যেতের জন্য দু'আ। সুতরাং উক্ত দু'আর পর আরেকটি দু'আ করার অর্থ হচ্ছে, পূর্বের দু'আটি যথার্থ ছিল না। অথচ এমনটি মনে করা যে কত বড় অপরাধ তা সহজেই অনুমেয়। সুতরাং এটা বন্ধ করা অপরিহার্য।
অবশ্য, দাফন শেষ হওয়ার পর কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে দু'আ কালাম পড়ে সম্মিলিত ভাবে মুনাজাত করা যেতে পারে।
সূত্র: ফাতাওয়া শামী ২/২৩৭