📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 জানাযা নামাযের পূর্বে মুসল্লীদেরকে “লোকটি কেমন ছিল?” জিজ্ঞাসা করা

📄 জানাযা নামাযের পূর্বে মুসল্লীদেরকে “লোকটি কেমন ছিল?” জিজ্ঞাসা করা


অনেক জায়গায় দেখা যায়, নামাযের পূর্বে লাশ সামনে নিয়ে সমবেত মুসল্লীদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়, “লোকটি কেমন ছিল?" সকলে উত্তর দেন, ভাল ছিল। এভাবে তিন বার করা হয় এবং এর ফজীলত বর্ণনা করা হয় যে, যদি তিনজন লোক কারো ব্যাপারে ভাল সাক্ষ্য দেয়, তাহলে আল্লাহ তাকে মাফ করে দেন এবং জান্নাত দান করেন।
আসলে এ হাদীস সঠিক। কিন্তু এর অর্থ এভাবে জবরদস্তি মূলক সাক্ষ্য উসূল করা নয়; বরং এর অর্থ হলো, মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে মৃত ব্যক্তির প্রশংসা করবে যে, আহ! অমুক ব্যক্তি বড় ভাল মানুষ ছিলেন। তিনি দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। এ ধরণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রশংসা যদি মুমিন থেকে প্রকাশ পায়, তাহলে এটা সত্যিই সৌভাগ্যের বিষয়। কিন্তু জবরদস্তি সাক্ষ্য উসূল করার দ্বারা এ ফজীলত হাসিল হয় না; বরং অনেকে বাধ্য হয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় এবং এমন কথা মুখে বলে যা তার অন্তর স্বীকার করে না। এভাবে অনেককে গুনাহগার বানানো হয়। কাজেই, এরূপ করা কখনই উচিৎ নয়।

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 একাধিক বার জানাযা নামায পড়া

📄 একাধিক বার জানাযা নামায পড়া


অনেক সময় দেখা যায়, একাধিক বার জানাযা নামায পড়া হয়। এটা শরীয়ত সম্মত নয়। কাজেই, জানাযা নামায একবার হওয়াই বাঞ্চনীয়। হ্যাঁ যদি মৃত ব্যক্তির ওলী জানাযায় শরীক না হয়ে থাকে এবং তার থেকে পূর্বে আদায়কৃত জানাযা নামাযের অনুমতি না নেয়া হয়ে থাকে তাহলে সেই ওলী ও পূর্বের নামাযে যারা অনুপস্থিত ছিল কেবল তাদেরকে নিয়ে দ্বিতীয়বার জানাযা নামায পড়বে। কিন্তু প্রথম জানাযায় যদি কোন একজন ওলী উপস্থিত হয়ে থাকে বা প্রথম জানাযা তার অনুমতি ক্রমে হয়ে থাকে তাহলে আর দ্বিতীয়বার জানাযা নামায পড়া জায়েয নেই।

সূত্র: ফাতাওয়া শামী ২/২২২-২২৩, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/২১৩

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 গায়েবানা জানাযা নামায পড়া

📄 গায়েবানা জানাযা নামায পড়া


গায়েবানা জানাযা নামায পড়ার যে প্রথা আমাদের সমাজে চালু আছে, বিশেষ করে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হানাফী মাজহাব অনুযায়ী তা সহীহ নয়। কারণ, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বহু সাহাবী দূর দেশে জিহাদ করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। গায়েবানা জানাযা জায়েয হলে তিনি অবশ্যই মদীনা থেকে তাদের গায়েবানা জানাযা পড়তেন। অথচ তিনি এমনটি করেননি। উল্লেখ্য, কেউ কেউ দুটি ঘটনা উল্লেখ করতঃ গায়েবানা জানাযার বৈধতা প্রমাণ করতে চান।
মূলত: সেগুলো গায়েবানা জানাযা ছিল না; বরং প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা'আলার কুদরতে দূরে থাকা লাশ স্বচক্ষে দেখে দেখে জানাযা নামায পড়িয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এটা করিয়েছিলেন বলে হাদীসে উল্লেখ রয়েছে। সুতরাং ঐ দুটি ঘটনার মাধ্যমে গায়েবানা জানাযার পক্ষে দলীল পেশ করা সহীহ হবে না।

সূত্র: ফতহুল বারী ২/৮১, মাহমুদিয়া ৭/২২৭

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 বিনা অপারগতায় মসজিদে জানাযা নামায পড়া

📄 বিনা অপারগতায় মসজিদে জানাযা নামায পড়া


আমাদের দেশে বিনা অপরাগতায় মসজিদে জানাযার নামায পড়া হয়ে থাকে। অথচ শরীয়তের দৃষ্টিতে মসজিদে নামাযে জানাযা পড়া মাকরূহ। তাই মাইয়্যেত ও মুসল্লী উভয়ে মসজিদের ভিতরে থাকুক অথবা লাশ মসজিদের বাইরে আর মুসল্লী মসজিদের ভিতরে থাকুক, সর্বাবস্থাতেই মসজিদে জানাযার নামায পড়া মাকরূহ। এভাবে জানাযা নামায পড়লে যদিও ফরজে কেফায়া আদায় হয়ে থাকে, কিন্তু জানাযার নামায পড়ার বিরাট ছাওয়াব থেকে সকলেই বঞ্চিত হয়ে যাবে। সুতরাং বিনা অপরাগতায় কখনো মসজিদে জানাযা নামায পড়া উচিৎ নয়।
উল্লেখ্য, নিয়ম হলো, জানাযা নামায কোন মাঠে বা ময়দানে পড়া। অবশ্য, যেখানে জানাযা নামায পড়ার মত কোন স্থান নেই বা স্থান আছে, কিন্তু বৃষ্টি বাদলের কারণে সেখানে নামায পড়া সম্ভব হচ্ছে না। এরূপ অপরাগতার ক্ষেত্রে মসজিদে জানাযা নামায পড়ার অবকাশ আছে। আর এ ক্ষেত্রেও চেষ্টা করা দরকার, যাতে মুর্দাকে মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করাতে না হয়। এর জন্য মসজিদে ইমাম বরাবর বাইরে কোন স্থান রাখা যেখানে মাইয়্যেতকে রেখে জানাযা নামায পড়া হবে।

সূত্র: বুখারী ১/১৭৭, মুসলিম ১/৩১২, হিদায়া ১/১৮১, রদ্দুল মুহতার ২/২২৫-২২৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00