📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 জানাযা নামাযের পর মাইয়্যেতের চেহারা দেখানোর অজুহাতে দাফনে বিলম্ব করা

📄 জানাযা নামাযের পর মাইয়্যেতের চেহারা দেখানোর অজুহাতে দাফনে বিলম্ব করা


অনেক সময় দেখা যায় যে, জানাযা নামায শেষ হয়ে যাওয়ার পর এমনকি লাশ কবরে রাখার পরও মাইয়্যেতের চেহারা দেখানোহয়। ফলে, লাশ দাফনে বিলম্ব ঘটে।
এমনটি করা ঠিক নয়। কারণ, এতে বিভিন্ন প্রকার ক্ষতি রয়েছে। মোট কথা, মাইয়্যেতের চেহারা দেখানোর জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ করা ঠিক নয়; বরং স্বাভাবিক কাজ কর্মের মধ্যেই এটা সেরে নেয়া কর্তব্য। কিংবা একান্ত জরুরত হলে কাফন পরানোর পর জানাযা নামাযের পূর্বে অল্প সময়ের মধ্যে দেখিয়ে নেয়া যেতে পারে। তবে নামাযের পর আর না দেখানো উচিৎ।

সূত্র: আহসানুল ফতাওয়া ৪/২১৯

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 জানাযায় লোক বৃদ্ধির অজুহাতে দাফন বিলম্ব করা

📄 জানাযায় লোক বৃদ্ধির অজুহাতে দাফন বিলম্ব করা


অনেকে জানাযার নামাযে লোক সংখ্যা বৃদ্ধির অজুহাতে দাফনে বিলম্ব করে। যেমন: তারা বলে থাকে, সকাল ১০ টায় জানাযার নামায পড়লে লোক সংখ্যা বেশী হবে না। তাই জোহর বা জুমআর নামাযের পর জানাযা নামায পড়া হবে।
তাদের এ ধরণের কথা শরীয়ত সম্মত নয়। মৃত্যুর ঘোষণার পর যদি কারো জানাযায় অধিক লোক উপস্থিত হয় তাহলে এটা তার জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। কিন্তু তাই বলে জানাযার নামাযে এত বিলম্ব করার অনুমতি নেই। এটা গুনাহের কাজ। আর গুনাহের কাজ করে জানাযায় বেশী লোক হাজির করার দ্বারা মাইয়্যেতের কোন উপকার হবে না; বরং কবরে মুমিনের জন্য প্রস্তুত জান্নাতের বিছানা, জান্নাতের আরাম আয়েশ থেকে কিছু সময়ের জন্য তাকে বঞ্চিত রাখা হবে, যা কোন ক্রমেই উচিৎ নয়।

সুত্র; আহসানুল ফাতাওয়া ৪/২৪২

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 মাইয়্যেতকে দাফন করতে বিলম্ব করা

📄 মাইয়্যেতকে দাফন করতে বিলম্ব করা


মৃত্যুর পর বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের দেশে মাইয়্যেতকে দাফন করতে বিলম্ব করা হয়। এটা শরীয়ত বিরোধী কাজ। কারণ, শরীয়তে মুর্দাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দাফন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে একাধিক স্পষ্ট হাদীস বিদ্যমান রয়েছে। তাই আমাদের দেশে ছেলে মেয়ে কিংবা অন্য কোন আত্মীয় দূর থেকে উপস্থিত হবে এই অপেক্ষায় দাফনে বিলম্ব করার যে প্রথা প্রচলিত আছে তা ঠিক নয়; বরং তারা অনুপস্থিত থাকলেও উপস্থিত আত্মীয় স্বজন তাৎক্ষণিক ভাবে দাফন কার্য শেষ করে ফেলবে। পরে তারা এসে কবর যিয়ারত করবে এবং দু'আ করবে।

সূত্র: তিরমিযী শরীফ হাদীস নং ১/২০৬

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 জানাযা নামাযের পূর্বে মুসল্লীদেরকে “লোকটি কেমন ছিল?” জিজ্ঞাসা করা

📄 জানাযা নামাযের পূর্বে মুসল্লীদেরকে “লোকটি কেমন ছিল?” জিজ্ঞাসা করা


অনেক জায়গায় দেখা যায়, নামাযের পূর্বে লাশ সামনে নিয়ে সমবেত মুসল্লীদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়, “লোকটি কেমন ছিল?" সকলে উত্তর দেন, ভাল ছিল। এভাবে তিন বার করা হয় এবং এর ফজীলত বর্ণনা করা হয় যে, যদি তিনজন লোক কারো ব্যাপারে ভাল সাক্ষ্য দেয়, তাহলে আল্লাহ তাকে মাফ করে দেন এবং জান্নাত দান করেন।
আসলে এ হাদীস সঠিক। কিন্তু এর অর্থ এভাবে জবরদস্তি মূলক সাক্ষ্য উসূল করা নয়; বরং এর অর্থ হলো, মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে মৃত ব্যক্তির প্রশংসা করবে যে, আহ! অমুক ব্যক্তি বড় ভাল মানুষ ছিলেন। তিনি দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। এ ধরণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রশংসা যদি মুমিন থেকে প্রকাশ পায়, তাহলে এটা সত্যিই সৌভাগ্যের বিষয়। কিন্তু জবরদস্তি সাক্ষ্য উসূল করার দ্বারা এ ফজীলত হাসিল হয় না; বরং অনেকে বাধ্য হয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় এবং এমন কথা মুখে বলে যা তার অন্তর স্বীকার করে না। এভাবে অনেককে গুনাহগার বানানো হয়। কাজেই, এরূপ করা কখনই উচিৎ নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00