📄 মৃত ব্যক্তির নখ, গোঁফ বা অবাঞ্চিত লোম পরিষ্কার করা
মৃত ব্যক্তির নখ, গোঁফ ও শরীরের অন্যান্য অবাঞ্চিত লোম পরিস্কার করা উচিৎ নয়। অনুরূপ ভাবে, তার চুল দাড়ি আচড়ানোও নিষেধ। অথচ সমাজের কোন কোন মুর্খ লোক মৃত ব্যক্তির নাভীর নীচের পশম কাটাকেও পর্যন্ত সুন্নত মনে করে। তাদের এ ধারণা ঠিক নয়।
সূত্র: ফতাওয়া শামী ২/১৯৮ নী ৩/৬৬, তাতারখানিয়া ৩/২৯, আদ্দুররুল মুখতার ২/১৯৮
📄 মায়েতকে ঘর থেকে বিদায় জানানোর পূর্বে মহিলাদের সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করা
কোন কোন এলাকায় দেখা যায়, মায়্যিতকে গোসল দেয়া ও কাফন পড়ানোর পর বিদায়ের আগে মহিলারা সকলে মিলে হাত উঠিয়ে মুনাজাত করে এবং মুর্দাকে আসসালামু 'আলাইকুম বলে শেষ সালাম জানায়। অতঃপর লাশের উপর জমজমের পানি ছিটিয়ে দেয়।
অথচ শরীয়তের দৃষ্টিতে জানাযার নামাযই হচ্ছে দু'আ। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত ব্যক্তির জন্য সম্মিলিত দু'আ করার জন্য শুধু জানাযার নামাযকেই নির্ধারণ করেছেন। এছাড়া, ব্যক্তিগত ভাবে যে কেউ যখন ইচ্ছা দু'আ করতে পারে। সুতরাং জানাযা নামাযের পূর্বে মহিলাগণ সম্মিলিত ভাবে মায়্যিতের জন্য দু'আ করতঃ তাকে যে বিদায়ী সালাম দিয়ে থাকে তা কুরআন সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত না থাকায় বিদ'আত ও নাজায়েয। অবশ্য, লাশের উপর যমযমের পানি ছিটানো জায়েয আছে।
সূত্র: মিরকাত ৪/১৪১, ফাতাওয়ায়ে শামী ৩/১০৬
📄 জানাযা নামাযের পর মাইয়্যেতের চেহারা দেখানোর অজুহাতে দাফনে বিলম্ব করা
অনেক সময় দেখা যায় যে, জানাযা নামায শেষ হয়ে যাওয়ার পর এমনকি লাশ কবরে রাখার পরও মাইয়্যেতের চেহারা দেখানোহয়। ফলে, লাশ দাফনে বিলম্ব ঘটে।
এমনটি করা ঠিক নয়। কারণ, এতে বিভিন্ন প্রকার ক্ষতি রয়েছে। মোট কথা, মাইয়্যেতের চেহারা দেখানোর জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ করা ঠিক নয়; বরং স্বাভাবিক কাজ কর্মের মধ্যেই এটা সেরে নেয়া কর্তব্য। কিংবা একান্ত জরুরত হলে কাফন পরানোর পর জানাযা নামাযের পূর্বে অল্প সময়ের মধ্যে দেখিয়ে নেয়া যেতে পারে। তবে নামাযের পর আর না দেখানো উচিৎ।
সূত্র: আহসানুল ফতাওয়া ৪/২১৯
📄 জানাযায় লোক বৃদ্ধির অজুহাতে দাফন বিলম্ব করা
অনেকে জানাযার নামাযে লোক সংখ্যা বৃদ্ধির অজুহাতে দাফনে বিলম্ব করে। যেমন: তারা বলে থাকে, সকাল ১০ টায় জানাযার নামায পড়লে লোক সংখ্যা বেশী হবে না। তাই জোহর বা জুমআর নামাযের পর জানাযা নামায পড়া হবে।
তাদের এ ধরণের কথা শরীয়ত সম্মত নয়। মৃত্যুর ঘোষণার পর যদি কারো জানাযায় অধিক লোক উপস্থিত হয় তাহলে এটা তার জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। কিন্তু তাই বলে জানাযার নামাযে এত বিলম্ব করার অনুমতি নেই। এটা গুনাহের কাজ। আর গুনাহের কাজ করে জানাযায় বেশী লোক হাজির করার দ্বারা মাইয়্যেতের কোন উপকার হবে না; বরং কবরে মুমিনের জন্য প্রস্তুত জান্নাতের বিছানা, জান্নাতের আরাম আয়েশ থেকে কিছু সময়ের জন্য তাকে বঞ্চিত রাখা হবে, যা কোন ক্রমেই উচিৎ নয়।
সুত্র; আহসানুল ফাতাওয়া ৪/২৪২