📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 মাইয়্যেতের আত্মীয় স্বজন কর্তৃক সবরের পরিপন্থী কাজ করা

📄 মাইয়্যেতের আত্মীয় স্বজন কর্তৃক সবরের পরিপন্থী কাজ করা


মাইয়্যেতের মৃত্যুর পর প্রায়শ:ই দেখা যায়, তার আত্মীয় স্বজন সবরের পরিপন্থী অনেক কাজে লিপ্ত হয়ে থাকে। যেমন: উঁচু আওয়াজে ক্রন্দন করা, পরিধেয় বস্ত্র ছিঁড়ে ফেলা, মাথা, বুক চাপড়ানো, মুখে শিরকী শব্দ উচ্চারণ করা ইত্যাদি। এগুলো থেকে অবশ্যই বিরত থাকা উচিৎ। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে এর দরুন মৃত ব্যক্তিকে আজাব ভোগ করতে হয়।

সূত্র: বুখারী, হাদীস নং ৬২৯৪, তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং ৯৮৪

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 কালিমা বা কুরআনের আয়াত খঁচিত চাদর দিয়ে মুর্দার খাটিয়া ঢাকা

📄 কালিমা বা কুরআনের আয়াত খঁচিত চাদর দিয়ে মুর্দার খাটিয়া ঢাকা


অনেক স্থানে দেখা যায়, কালিমা, আয়াতুল কুরসী বা কুরআনের অন্য কোন আয়াত খঁচিত চাদর দ্বারা মাইয়্যেতের খাটিয়া ঢেকে রাখা হয়। আবার অনেকে কাফনের কাপড়ে আয়াতুল কুরসী বা অন্য কোন আয়াত লিখে দেয় বা মাইয়্যেতের কপালে বা বুকের উপর আল্লাহ বা অন্য কোন শব্দ সুরমা দিয়ে বা অন্য কোন কিছু দিয়ে লিখে দেয়। অনেকে আবার এগুলো করার জন্য অসিয়্যত করে যায়।
এসবই নাজায়েয। কারণ, এর দ্বারা কুরআনের বেহুরমতী হয়। কখনো কখনো কুরআনের আয়াতে নাপাক লেগে গিয়ে তা গুনাহের কারণ হয়ে যায়। সুতরাং এসব প্রথা পরিহার করা উচিৎ এবং মাইয়্যেতকে ঢাকতে চাইলে সাধারণ চাদর দিয়ে ঢাকা উচিৎ।

সূত্র: বুখারী শরীফ, হাদীস নং ২৬৯৭, আহসানুল ফাঃ ১/৩১৫

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়ার পূর্বে তার পার্শ্বে বসে কুরআন তেলাওয়াত করা

📄 মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়ার পূর্বে তার পার্শ্বে বসে কুরআন তেলাওয়াত করা


গোসল দেওয়ার পূর্বে মৃত ব্যক্তির জন্য কুরআন তেলাওয়াত করে ছাওয়াব রেসানী করতে চাইলে নিয়ম হলো, যেখানে লাশ রাখা আছে সেখানে নয়; বরং অন্য কোথাও বিনা পারিশ্রমিকে কুরআনখানি করা বা করানো। অথচ কখনো কখনো দেখা যায় যে, গোসল দেওয়ার পূর্বেই মাইয়্যেতের পার্শ্বে বসে কুরআন তিলাওয়াত করা হয়। এটা ঠিক নয়।

সূত্র: ফাতাওয়ায়ে শামী ৮/৮৩, ফাতাওয়ায়ে রহীমিয়া ৮/১৯৭

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 ইন্তিকালের পর পর্দার বিধান লঙ্ঘন করা

📄 ইন্তিকালের পর পর্দার বিধান লঙ্ঘন করা


ইন্তিকালের পরও পর্দার বিধান বহাল থাকে। তাই জীবদ্দশায় যাদের সাথে দেখা সাক্ষাত করা নাজায়েয ছিল মৃত্যুর পরও তা অব্যাহত থাকে। সুতরাং যেমনি ভাবে, কোন বেগানা মহিলার লাশ অন্য বেগানা পুরুষের জন্য দেখা নিষেধ, ঠিক তেমনি ভাবে, বেগানা পুরুষের লাশ অন্য বেগানা মহিলার জন্য দেখা নিষেধ। আমাদের সমাজে সাধারণত এ বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয় না।

সূত্র: শামী ২/১৯৫, ১৯৮, আহসানুল ফাতাওয়া, ৪/২১৯, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ২/৩৯৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00