📄 এক তৃতীয়াংশের অতিরিক্ত সম্পদে বা ওয়ারিশের জন্য অসিয়্যত করা
অনেক সময়, মুমূর্ষাবস্থায় মৃত্যুরোগী এক তৃতীয়াংশের বেশী সম্পদে কারো জন্য অসিয়্যত করে থাকে, অথচ মৃত্যু রোগে পতিত হওয়ার পর এক তৃতীয়াংশের অধিক সম্পদ থেকে তার মালিকানা খতম হয়ে যায়। সুতরাং এরূপ অসিয়্যত করবে না। সূত্র: আহকামে মাইয়্যেত পৃ: ২২৬
অনেক সময় এমনও দেখা যায় যে, মুমূর্ষু ব্যক্তি তারই কোন ওয়ারিশের জন্য বিশেষ কোন মালের বা বস্তুর ওসিয়্যত করছে। অথচ প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশনা অনুযায়ী মুমূর্ষ ব্যক্তি তার কোন ওয়ারিশের জন্য অসিয়্যত করতে পারে না।
সুতরাং কোন ব্যক্তি তার কোন ওয়ারিশের জন্য অসিয়্যত করতে পারবে না, করলে তা শরীয়তে গ্রহণযোগ্য হবে না।
সূত্র: মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ১৭৬৮০, ইবানে মাজাহ হাদীস নং ২৭১৩
📄 মুমূর্ষাবস্থায় সম্পদের হিসাব নিকাশ জানতে চাওয়া
অনেক সময় দেখা যায়, মুমূর্ষাবস্থায় রুগীর নিকট বিভিন্ন সম্পদ, দলীল পত্র, ব্যাংক ব্যালেন্স ইত্যাদি কোথায় কীভাবে কতটুকু আছে? তা জানতে চাওয়া হয়। এগুলো জানতে চাওয়া কখনই উচিৎ নয়। কেননা, এ কারণে ঐ মুমূর্ষ ব্যক্তির অন্তর দুনিয়ামুখী হয়ে যায়। আর জীবনের শেষ মুহুর্তে দুনিয়ামূখী হওয়া যে অনুচিৎ তা মুসলমান মাত্রই বুঝতে সক্ষম।
📄 মরণোত্তর চক্ষু, কিডনি বা অন্য কোন অঙ্গ দান করা
পূর্ববর্তী ফুকাহায়ে কেরাম নিজের জীবদ্দশায় রক্ত ব্যতীত দেহের অন্য কোন অঙ্গ প্রতঙ্গ যেমন, চক্ষু, কিডনি, ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয় করা, অন্য কাউকে দান করা বা মরণোত্তর দান করার ওসিয়্যত করাকে নাজায়েয বা হারাম বলে ফাতাওয়া প্রদান করেছেন।
কিন্তু পরবর্তী অনেক ফকীহ প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য করে কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে চক্ষু, কিডনি ইত্যাদি জোড়া অঙ্গের কোন একটি যদিও দান করা জায়েয বলে ফাতাওয়া প্রদান করেছেন কিন্তু এগুলো বিক্রি করা কিংবা মরণোত্তর দান করে দেওয়ার ওসিয়্যত করাকে কোন অবস্তাতেই জায়েয বলে ফতওয়া দেননি। কারণ, আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে ইরশাদ ফরমান, “আমি সমগ্র সৃষ্ট জীবের মধ্যে মানব জাতীকে সর্বাধিক সম্মানিত করেছি।” সূত্র: সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত- ৭০
অপর এক আয়াতে আল্লাহ পাক ইরশাদ ফরমান, “ভূপৃষ্টে যা কিছু আছে সব তিনি তোমাদের (মানব মন্ডলীর) উপকারের জন্যই সৃষ্টি করেছেন।” সূত্র: সূরা বাকারা, আয়াত ২৯
আল্লাহ তা'আলা মানুষের উপকারার্থে তাদের অঙ্গ-প্রতঙ্গ সমূহকে তাদের নিকট আমানত রেখেছেন এবং নির্ধারিত ক্ষেত্র সমূহে ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করেছেন।- তাদেরকে এগুলোর মালিক বানিয়ে দেননি। এ কারণেই আত্মহত্যা করা হারাম বলে ঘোষণা করা হয়েছে এবং অঙ্গ-প্রতঙ্গ বেচাকেনা বা দান করার কোন অধিকার বান্দাকে দেওয়া হয়নি। কারণ, কোন কিছু বেচাকেনা করা বা দান করার জন্য ঐ বস্তুর মালিকানা থাকা জরুরী।
আবূ দাউদ শরীফে বর্ণিত একটি হাদীসে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ফরমান, “মৃত ব্যক্তির হাড় ভেঙ্গে দেওয়া জীবিত ব্যক্তির হাড় ভেঙ্গে দেওয়ার মতই অপরাধ।” অর্থাৎ মৃত ব্যক্তি এতে জীবিত ব্যক্তির ন্যায়ই কষ্ট অনুভব করে। যদিও প্রকাশ করতে পারেনা। আর এর দ্বারা জীবিত ব্যক্তির ন্যায় মৃত ব্যক্তিরও অসম্মান করা হয়। সূত্র: আবূদাঊদ হাদীস নং ৩২০৭
ফাতাওয়ার কিতাব সমুহে সুস্পষ্ট ভাবে বর্ণিত আছে যে, মানুষের চুল বিক্রি করা নাজায়েয এবং এর দ্বারা অন্যের উপকৃত হওয়াও নাজায়েয। কারণ, মানুষ সম্মানিত।
এক্ষেত্রে জেনে রাখা প্রয়োজন যে, শরীয়তের বিধি-নিষেধ মানতে গিয়ে সংকটে পড়তে হয় এমন ধারণা করাও অবান্তর। কেননা, চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ যদি মানব অঙ্গের বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে জড় পদার্থ উদ্ভিদ ও অন্যান্য প্রাণী নিয়ে গবেষণা করেন তাহলে তা থেকে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন করা মোটেও অসম্ভব নয়। এভাবে তা সম্পূর্ণ শরীয়ত সম্মত পদ্ধতিতে মানব কল্যাণে ব্যবহৃত হতে পারে।
মনে রাখতে হবে, শরীয়তের এ গুরুত্বপূর্ণ বিধানের প্রতি অবহেলো প্রদর্শন পূর্বক যদি আল্লাহ তা'আলার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হয় তাহলে এর পরিণাম হবে ভয়াবহ। যেমনটি বর্তমানে অহরহ শোনা যাচ্ছে যে, দুর্বৃত্তরা সুস্থ-সবল মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে তাদের শরীরের দামী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তুলে নিয়ে অবশিষ্টাংশ ফেলে দিচ্ছে। এভাবে লুণ্ঠণ আর হাইজ্যাকের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে।
এছাড়াও, অসচ্ছল গরীবগণ স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে তাদের শরীরের এক এক অঙ্গ ধনীদের নিকট বিক্রি করে দারিদ্রতা দূর করছে, এমন খবরও শোনা যায়। সুতরাং শরীয়তের হুকুম পালন করার মধ্যেই কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
সূত্র: সহীহ বুখারী ২/৮৭৮, ফাতাওয়ায়ে শামী ৫/৮৫, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ৩/১১৫, বাদায়েউস সানায়ে ৪/৩৩৩, ফাতাওয়ায়ে রহীমিয়্যাহ ১০/২৫০
📄 মুমূর্ষু ব্যক্তিকে কালিমা পড়ার তাকীদ দেওয়া
মুমূর্ষু ব্যক্তিকে কালিমার তালকীন করা মুস্তাহাব। তবে, এ ক্ষেত্রে তাকে কালিমা পড়ার আদেশ দেওয়া অনুচিৎ। কারণ, সে মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতর হয়ে কালিমা পড়তে অস্বীকার করে বসতে পারে। ফলে, জীবনের শেষ মুহুর্তে ঈমান হারা হয়ে মৃত্যু বরণ করতে পারে। কাজেই, এটা কত মারাত্মক স্পর্শকাতর বিষয়! আমরা কি কখনো চিন্তা করে দেখেছি?
নিয়ম হলো, মুমূর্ষু ব্যক্তি শুনতে পায় এতটুকু আওয়াজে তার পার্শ্বে বসে কালিমা পড়তে থাকা। যাতে সে তা শুনে নিজেও পড়ে নেয়। এভাবে একবার কালিমা পড়ে নিলে দ্বিতীয়বার পড়ার জন্য আর তালকীন না করা। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত কালিমার তালকীন করতেই থাকতে হবে এমন মনে করা ভুল।
সূত্র: ফাতাওয়া শামী ২/১৯