📄 রোগীর অযু, নামায, সতর ইত্যাদির প্রতি লক্ষ্য না রাখা
রুগীর নিকটবর্তীদের কর্তব্য হলো, রুগীর অজু, নামায, সতর ইত্যাদির ক্ষেত্রে কোন ব্যাঘাত না ঘটে এর প্রতি খেয়াল রাখা। কেননা, মুমূর্ষ অবস্থায়ও এগুলোর প্রতি খেয়াল রাখা তার জন্য জরুরী। কাজেই, চেতনা থাকলে রোগী নিজেই আর চেতনা না থাকলে তার আশে পাশে যারা থাকবে তাদের এর প্রতি লক্ষ্য রাখা জরুরী।
সূত্র: আহকামে মাইয়্যেত পৃ: ২২১-২২৯
📄 রোগী নিরাশ হয়ে যায় এমন কথা বলা
অনেকে রুগীকে দেখতে গিয়ে সুন্নত মুতাবিক দু'আতো পড়েইনা; উপরন্তু, রোগীর সামনে এমন কথা বলে যা দ্বারা সে জীবন থেকে নিরাশ হয়ে যায়। এমনটি করা ঠিক নয়; বরং তাকে আশা ব্যঞ্জক কথা শুনানো উচিৎ।
সূত্র: মুসলিম শরীফ হাদীস নং ৯১৯, আবূ দাউদ শরীফ, হাদীস নং ৩১১৫
📄 এক তৃতীয়াংশের অতিরিক্ত সম্পদে বা ওয়ারিশের জন্য অসিয়্যত করা
অনেক সময়, মুমূর্ষাবস্থায় মৃত্যুরোগী এক তৃতীয়াংশের বেশী সম্পদে কারো জন্য অসিয়্যত করে থাকে, অথচ মৃত্যু রোগে পতিত হওয়ার পর এক তৃতীয়াংশের অধিক সম্পদ থেকে তার মালিকানা খতম হয়ে যায়। সুতরাং এরূপ অসিয়্যত করবে না। সূত্র: আহকামে মাইয়্যেত পৃ: ২২৬
অনেক সময় এমনও দেখা যায় যে, মুমূর্ষু ব্যক্তি তারই কোন ওয়ারিশের জন্য বিশেষ কোন মালের বা বস্তুর ওসিয়্যত করছে। অথচ প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশনা অনুযায়ী মুমূর্ষ ব্যক্তি তার কোন ওয়ারিশের জন্য অসিয়্যত করতে পারে না।
সুতরাং কোন ব্যক্তি তার কোন ওয়ারিশের জন্য অসিয়্যত করতে পারবে না, করলে তা শরীয়তে গ্রহণযোগ্য হবে না।
সূত্র: মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং ১৭৬৮০, ইবানে মাজাহ হাদীস নং ২৭১৩
📄 মুমূর্ষাবস্থায় সম্পদের হিসাব নিকাশ জানতে চাওয়া
অনেক সময় দেখা যায়, মুমূর্ষাবস্থায় রুগীর নিকট বিভিন্ন সম্পদ, দলীল পত্র, ব্যাংক ব্যালেন্স ইত্যাদি কোথায় কীভাবে কতটুকু আছে? তা জানতে চাওয়া হয়। এগুলো জানতে চাওয়া কখনই উচিৎ নয়। কেননা, এ কারণে ঐ মুমূর্ষ ব্যক্তির অন্তর দুনিয়ামুখী হয়ে যায়। আর জীবনের শেষ মুহুর্তে দুনিয়ামূখী হওয়া যে অনুচিৎ তা মুসলমান মাত্রই বুঝতে সক্ষম।