📄 মসজিদে দুনিয়াবী কথা বলা
মসজিদ হলো তিলাওয়াত, যিকির, তসবীহ ইত্যাদি ইবাদতের স্থান। কাজেই, দুনিয়াবী কোন কাজ বা কথা বলার উদ্দেশ্যে মসজিদে গিয়ে তা করা জায়েয নেই। মসজিদে আওয়াজ উঁচু করাকে হাদীসে কিয়ামতের আলামত হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
অথচ বর্তমানে ব্যাপক ভাবে দেখা যায় যে, মসজিদে গিয়ে দুনিয়াবী গল্প গুজবের আসর জমানো হয়। বিশেষত: দ্বীনী হালকা সমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট মসজিদ যেমন: মাদরাসা মসজিদ, তাবলীগী মারকাজ মসজিদ সমূহে এর প্রবণতা তুলনামূলক বেশী। এছাড়া, যে সকল মাদরাসার ছাত্ররা নিয়মিত মসজিদে অবস্থান করে তারা তো এটা যে মসজিদ সে কথা বেমালুম ভুলেই যায়। ফলে, তারা সেখানে এতেকাফের নিয়্যত ব্যতীতই দুনিয়াবী সকল কথাবার্তা ও কাজ কর্ম আঞ্জাম দেয়। নিসঃন্দেহে এটা গর্হিত এবং সংশোধন যোগ্য। আল্লাহ আমাদের হিফাজত করুন।
অবশ্য, যদি হাবাদতের উদ্দেশ্যে মসজিদে প্রবেশ করা হয় অতপর দুনিয়াবী কথা বলার বিশেষ কোন প্রয়োজন দেখা দেয় তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী মুবাহ কথা বলার অবকাশ আছে। কিন্তু মসজিদে প্রয়োজনাতিরিক্ত কথা কিংবা শরীয়ত নিষিদ্ধ কথাবার্তা বলা সর্বাবস্থাতেই নিষিদ্ধ।
আর প্রয়োজনীয় কথা বলতে যা না বললেই নয় এমন কথা উদ্দেশ্য।
সূত্র; সহীহ মুসলিম ১/২১০, রদ্দুল মুহতার ১/৬২২, হিন্দিয়্যা ৫/৩২১
📄 মসজিদের পশ্চিম দেয়ালে বা মেহরাবে লাইটিং সিস্টেমে নামাযের ডিজিটাল সময়সূচী বা এলান লাগানো
আমাদের দেশে কোন কোন মসজিদে দেখা যায়, মসজিদের পশ্চিম দেয়াল বা মেহরাবকে রঙবেরঙের টাইলস দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়। কিংবা বিভিন্ন কারুকার্য ও নকশা করে দেয়াল সুসজ্জিত করা হয়। এছাড়াও, নামাযের দৈনিক বা চিরস্থায়ী ডিজিটাল সময় সূচী লাগানো হয়। কখনো আবার অন্যান্য এলানও একই পদ্ধতিতে লাগানো হয়।
এ ক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান হলো, ওয়াকফের মাল দ্বারা মসজিদের ভিতর বা বাইরে দেয়াল বা অন্য কোন স্থান সুসজ্জিত করা জায়েয নেই। আর ব্যক্তিগত হালাল মাল দ্বারা কারুকার্য বা সুসজ্জিত করা জায়েয আছে। তবে মেহরাবে বা পশ্চিমের দেয়ালে কারুকার্য করা লাইটিং করা বা ডিজিটাল ঘড়িসহ নামাযের সময় সূচী ও অন্যান্য এলান এমন ভাবে টানানো মাকরূহ, যাতে মুসল্লীগণের নামাযের ধ্যান-খেয়াল ও একাগ্রতা বিনষ্ট হয়।
তবে যদি সেগুলো উপরে এমন ভাবে লাগানো হয় যে এর করণে মুসল্লীগণের নামাযে ধ্যান-খেয়াল ও একাগ্রতায় বিঘ্ন সৃষ্টি না হয় তাহলে মাকরূহ হবেনা।
সূত্র: সূরা নূর, আয়াত- ৩৬, আবূ দাউদ পৃঃ ৬৪, আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৩০, হিন্দিয়া ৫/৩১৯, আল মওসূ'আহ ৩৭/২০৩, আল ফিকহুল ইসলামী ১/৪৭৬, আহসানুল ফাতাওয়া ৬/৪৫৯, মাহমুদিয়া ২১/৩৮৮
📄 মসজিদের মেহরাবে বা পশ্চিম দিকের দেয়ালে কাবা শরীফ বা অন্য কোন নকশাযুক্ত টাইলস লাগানো
বর্তমানে আমাদের দেশে অনেক মসজিদের মেহরাব বা সামনের দিকের দেয়ালে কাবা শরীফ বা অন্য কোন নকশাযুক্ত টাইলস লাগাতে বা ছবি ঝুলাতে দেখা যায়।
অথচ শরীয়তের বিধান হলো, মসজিদের সামনের দেয়ালে বা মেহরাবে এমন নকশা করা বা নকশাযুক্ত টাইলস বা ঘড়ি লাগানো মাকরূহ যাতে নামাযী ব্যক্তির দৃষ্টি পতিত হয়ে তার নামাযের খুশু খুজু নষ্ট হয়ে যায়।
সুতরাং মসজিদের সামনের দেয়ালে এমন কিছু লাগানো থেকে বিরত থাকা কর্তব্য যেগুলোর কারণে নামাযীর মনযোগ বিঘ্নিত হতে পারে।
সূত্র: সহীহ বুখারী ১/৫৪, রদ্দুল মুহতার ১/৬৫৮, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ৫/৩১৯, আল বাহরুর রায়েক ২/৬৫
📄 কুরআনের আয়াত ফ্রেমে বাঁধাই করে ঝুলিয়ে রাখা
যদি কুরআন মাজীদের অমর্যাদা হওয়ার আশংকা না থাকে, তাহলে কুরআনের আয়াত ফ্রেমে বাঁধাই করে ঝুলিয়ে রাখা জায়েয আছে।
যদি ঐ বাসা বাড়ী বা দোকানে টেলিভিশন বা প্রাণীর ছবি থাকে তাহলে সেখানে তা ঝুলানো কুরআন মাজীদের অমর্যাদা ও অসম্মানী হওয়ার কারণে নাজায়েয হবে।
উল্লেখিত, কুরআনের আয়াত ফ্রেমবন্দী করে দেয়ালে ঝুলানোর পর খেয়াল রাখতে হবে, এতে যেন কোন ধুলা-ময়লা না লাগে। ধুলা- ময়লা লাগলে পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।
এছাড়া, ঐ ফ্রেম পুরাতন হয়ে কুরআনের আয়াত যেন খসে এদিক সেদিক ছিটকে পড়ে কুরআনের আয়াতের অবমাননা না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।
সূত্র: ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩২৩, রদ্দুল মুহতার ১/১৭৯, আহসানুল ফাতাওয়া ৮/২৩, আপকে মাসায়েল আওর উনকা হলো ৮/৬৮১