📄 সম্মিলিত ভাবে সালাতুত তাসবীহ নামায আদায় করা
বিভিন্ন ফজীলতপূর্ণ রজনী যেমন: শবে বরাত, শবে কদর ইত্যাদিতে দেখা যায়, মসজিদগুলোতে নানা শ্রেণীর মুসল্লী একত্রিত হয় এবং রাতভর ইবাদত বন্দেগী করে। অনেক সময় তারা সম্মিলিতভাবেও কিছু কিছু ইবাদত করে। বিশেষত: সলাতুত্তাসবীহ নামায তারা জামাতের সাথে আদায় করে থাকে। আবার অনেক গ্রামে-গঞ্জে দেখা যায়, মহিলারা গ্রামের কোন এক বাড়ীতে একত্রিত হয়ে জামাতের সাথে সলাতুত্তাসবীহ নামায আদায় করে। অর্থাৎ একজন মহিলা নামাযের বাইরে থেকে পদ্ধতি বলে দেয়, আর অন্যান্য মহিলাগণ তা অনুসরণ করে নামায আদায় করতে থাকে। অথচ এভাবে নামায আদায় করলে কারো নামায সহীহ হবেনা; বরং সকলের নামায ফাসেদ হয়ে যাবে। কারণ, এটা নামাযের বাইরে থেকে লোকমা গ্রহণের নামান্তর। আর নামাযের বাইরে থেকে লোকমা গ্রহণ করার দ্বারা নামায ফাসেদ হয়ে যায়।
সূত্র: রদ্দুল মুহতার ২/৩৮১, আল হিদায়াহ ১/১৩৬, আলমগীরী ১/৯৯ ফাতাওয়ে কাজীখান ১/১২৬
📄 নামাযের পর সম্মিলিত ভাবে সূরা হাশর পাঠ করা ও অন্যান্য জিকির করা
আমাদের দেশের কোন কোন মসজিদে দেখা যায় যে, নামাযের পর বিশেষত: ফজর নামাযের পর মুসল্লীগণ সম্মিলিত ভাবে পাবন্দীর সাথে জোরে জোরে সূরা হাশর পাঠ করে এবং অন্যান্য যিকির করে। কোথাও আবার এগুলোর পর মীলাদ পড়ে মুনাজাতের সাথে মজলিস সমাপ্ত করা হয়। আর যারা তাদের সাথে উল্লেখিত কাজগুলো না করে তাদেরকে খারাপ মনে করা হয় এবং তাদের অন্তরে রাসূলের মুহাব্বত নেই বা কম বলে উল্লেখ করা হয়। প্রশ্নহলো, এগুলোর শরঈ ভিত্তি আছে কিনা?
উত্তর হলো, সকাল সন্ধ্যা সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত তিলাওয়াত করার অনেক ফজীলত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে, প্রত্যেক নামাযের পর বিভিন্ন যিকির ও দু'আর বর্ণনাও হাদীছে এসেছে। তবে এগুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈনদের থেকে ব্যক্তিগত আমল ও অযীফা হিসাবেই প্রমাণিত। সকলে একসাথে সমস্বরে পড়ার বিষয়টি প্রমাণিত নয়।
তাই এভাবে পাবন্দির সাথে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সমস্বরে পড়া এবং যারা তাদের সাথে শরিক হয়না তাদেরকে খারাপ মনে করা নিতান্তই গর্হিত কাজ এবং শরীয়তে বাড়াবাড়ির শামিল। কাজেই, তাদের এগুলো থেকে বেঁচে থাকা জরুরী। উল্লেখ্য, যেসকল মুসল্লী একাকী সূরায়ে হাশর পড়তে পারেনা তাদেরকে তা'লীম দেয়ার উদ্দেশ্যে এক সাথে পড়া যেতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে, যেন অন্যান্য মুসল্লীগণের নামায, তিলাওয়াত, ইত্যাদি ইবাদত বিঘ্নিত না হয়।
আর প্রচলিত মীলাদ যে বিদ'আত এবং তা পড়া যে নাজায়েয সে বিষয়ে ভিন্ন শিরোনামে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে দ্রষ্টব্য।
সুতরাং যারা এ বিদ'আতী মীলাদ পড়া থেকে বিরত থাকে তাদেরকে খারাপ মনে করা এবং তাদের মধ্যে রাসূলের মুহাব্বত কম এমন মন্তব্য করা নিতান্তই গর্হিত ও অজ্ঞতার শামিল।
সূত্র: সূরা আরাফ আয়াত- ২০৫, সহীহ বুখারী হাদীস নং ৭১০৭, ফাতাওয়া বায্যাযিয়্যা ৬/৩৭৮, তাতারখানিয়া ১৮/৫৭, রদ্দুল মুহতার ৯/৫৭০, আহসানুল ফাতাওয়া ১/৩৩৮, ফাতাওয়া উসমানী ১/১১০
📄 জুমাতুল বিদা পালন করা
সাধারণ মানুষের মধ্যে রমজানের শেষ জুমার অনেক গুরুত্ব রয়েছে। এটাকে তারা জুমাতুল বিদা নামে আখ্যায়িত করে থাকে। অথচ বাস্তব কথা হলো, হাদীস সমূহের মধ্যে এ শেষ জুমার কোন ফজীলত বা বৈশিষ্ঠ পাওয়া যায়না।
সূত্র: আপকে মাসায়েল আওর উনকা হলো ৪/১৪৭
📄 মসজিদে দুনিয়াবী কথা বলা
মসজিদ হলো তিলাওয়াত, যিকির, তসবীহ ইত্যাদি ইবাদতের স্থান। কাজেই, দুনিয়াবী কোন কাজ বা কথা বলার উদ্দেশ্যে মসজিদে গিয়ে তা করা জায়েয নেই। মসজিদে আওয়াজ উঁচু করাকে হাদীসে কিয়ামতের আলামত হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
অথচ বর্তমানে ব্যাপক ভাবে দেখা যায় যে, মসজিদে গিয়ে দুনিয়াবী গল্প গুজবের আসর জমানো হয়। বিশেষত: দ্বীনী হালকা সমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট মসজিদ যেমন: মাদরাসা মসজিদ, তাবলীগী মারকাজ মসজিদ সমূহে এর প্রবণতা তুলনামূলক বেশী। এছাড়া, যে সকল মাদরাসার ছাত্ররা নিয়মিত মসজিদে অবস্থান করে তারা তো এটা যে মসজিদ সে কথা বেমালুম ভুলেই যায়। ফলে, তারা সেখানে এতেকাফের নিয়্যত ব্যতীতই দুনিয়াবী সকল কথাবার্তা ও কাজ কর্ম আঞ্জাম দেয়। নিসঃন্দেহে এটা গর্হিত এবং সংশোধন যোগ্য। আল্লাহ আমাদের হিফাজত করুন।
অবশ্য, যদি হাবাদতের উদ্দেশ্যে মসজিদে প্রবেশ করা হয় অতপর দুনিয়াবী কথা বলার বিশেষ কোন প্রয়োজন দেখা দেয় তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী মুবাহ কথা বলার অবকাশ আছে। কিন্তু মসজিদে প্রয়োজনাতিরিক্ত কথা কিংবা শরীয়ত নিষিদ্ধ কথাবার্তা বলা সর্বাবস্থাতেই নিষিদ্ধ।
আর প্রয়োজনীয় কথা বলতে যা না বললেই নয় এমন কথা উদ্দেশ্য।
সূত্র; সহীহ মুসলিম ১/২১০, রদ্দুল মুহতার ১/৬২২, হিন্দিয়্যা ৫/৩২১