📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 নামাযে আরবীতে নিয়্যত করা

📄 নামাযে আরবীতে নিয়্যত করা


নামাযের জন্য নিয়্যত করা ফরজ। নিয়্যত ছাড়া নামায আদায় হবে না। আর অন্তরে সংকল্পের নামই নিয়্যত। তাই অন্তরে নামাযের নিয়্যত করলেই যথেষ্ঠ হবে। মুখে উচ্চারণ করার কোন প্রয়োজন নেই। তবে মুখে উচ্চারণ করে নিয়্যত করার প্রয়োজনীয়তা না থাকার দরুন কারো কারো ক্ষেত্রে বেখেয়ালিতে নিয়্যত ছাড়াই নামায শুরু করে দেয়ার আশংকা থাকে, তাই পরবর্তী ফকীহগণ মুখে উচ্চারণ করে নিয়্যত করাকে মুস্তাহাব বলেছেন। এক্ষেত্রে জরুরী মনে না করে আরবী ভাষাতেও নিয়্যত করার অবকাশ রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, শরীয়তে আরবীতে নিয়্যত করার কোন গুরুত্ব বা ফযীলত নেই। কারণ, কোন সহীহ বা জয়ীফ সূত্রে এ কথা প্রমাণিত নেই যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো এভাবে নিয়্যত করেছেন যে, আমি অমুক নামায আদায়ের নিয়্যত করছি। সুতরাং আরবীতে মুখে উচ্চারণ করে নিয়্যত করার বিষয়টি ভিত্তিহীন। উপরন্তু, মুখে আরবীতে নিয়্যত করতে গিয়ে কারো কারো অন্তরে এ কথার ইচ্ছা থাকে না যে, সে কোন নামায আদায় করছে? এদিকে আরবী না বুঝার কারণে এটাও জানেনা যে, সে মুখে কী বলছে? এভাবে তার পক্ষ থেকে নামাযের নিয়্যত পাওয়া গেল কি না তা সন্দেহযুক্ত হয়ে গেল, অথচ পূর্বেই বলা হয়েছে যে, নামাযের জন্য নিয়্যত তথা অন্তরের ইচ্ছা থাকা জরুরী।
এছাড়া, গদবাঁধা লম্বা আরবী নিয়্যত করতে গিয়ে অনেকের তাকবীরে উলা ছুটে যায়। অথচ হাদীসে তাকবীরে উলার অনেক ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। কারো কারো আবার একারণে নামাযের রাকাত এমনকি জামাতও ছুটে যায়। কেউ কেউ তো আরবী নিয়্যত মুখস্ত করতে পারে না বলে নামাযই পড়ে না। তাদের বক্তব্য হলো, নিয়্যতই মুখস্ত করতে পারি না তাহলে নামায পড়ব কীভাবে?
এসকল সমস্যার কারণে আরবীতে নিয়্যত না করা চাই। উপরন্তু, কেউ আরবীতে নিয়্যত করা জরুরী মনে করলে তা বিদ'আত হবে।

সূত্র: আদ্দুররুল মুখতার ১/৯০, ফাতাওয়ায়ে শামী ১/৯২, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১/২৫, বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৩০, তাতারখানিয়া ২/৩৪, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ৯/২১২

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 সম্মিলিত ভাবে সালাতুত তাসবীহ নামায আদায় করা

📄 সম্মিলিত ভাবে সালাতুত তাসবীহ নামায আদায় করা


বিভিন্ন ফজীলতপূর্ণ রজনী যেমন: শবে বরাত, শবে কদর ইত্যাদিতে দেখা যায়, মসজিদগুলোতে নানা শ্রেণীর মুসল্লী একত্রিত হয় এবং রাতভর ইবাদত বন্দেগী করে। অনেক সময় তারা সম্মিলিতভাবেও কিছু কিছু ইবাদত করে। বিশেষত: সলাতুত্তাসবীহ নামায তারা জামাতের সাথে আদায় করে থাকে। আবার অনেক গ্রামে-গঞ্জে দেখা যায়, মহিলারা গ্রামের কোন এক বাড়ীতে একত্রিত হয়ে জামাতের সাথে সলাতুত্তাসবীহ নামায আদায় করে। অর্থাৎ একজন মহিলা নামাযের বাইরে থেকে পদ্ধতি বলে দেয়, আর অন্যান্য মহিলাগণ তা অনুসরণ করে নামায আদায় করতে থাকে। অথচ এভাবে নামায আদায় করলে কারো নামায সহীহ হবেনা; বরং সকলের নামায ফাসেদ হয়ে যাবে। কারণ, এটা নামাযের বাইরে থেকে লোকমা গ্রহণের নামান্তর। আর নামাযের বাইরে থেকে লোকমা গ্রহণ করার দ্বারা নামায ফাসেদ হয়ে যায়।

সূত্র: রদ্দুল মুহতার ২/৩৮১, আল হিদায়াহ ১/১৩৬, আলমগীরী ১/৯৯ ফাতাওয়ে কাজীখান ১/১২৬

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 নামাযের পর সম্মিলিত ভাবে সূরা হাশর পাঠ করা ও অন্যান্য জিকির করা

📄 নামাযের পর সম্মিলিত ভাবে সূরা হাশর পাঠ করা ও অন্যান্য জিকির করা


আমাদের দেশের কোন কোন মসজিদে দেখা যায় যে, নামাযের পর বিশেষত: ফজর নামাযের পর মুসল্লীগণ সম্মিলিত ভাবে পাবন্দীর সাথে জোরে জোরে সূরা হাশর পাঠ করে এবং অন্যান্য যিকির করে। কোথাও আবার এগুলোর পর মীলাদ পড়ে মুনাজাতের সাথে মজলিস সমাপ্ত করা হয়। আর যারা তাদের সাথে উল্লেখিত কাজগুলো না করে তাদেরকে খারাপ মনে করা হয় এবং তাদের অন্তরে রাসূলের মুহাব্বত নেই বা কম বলে উল্লেখ করা হয়। প্রশ্নহলো, এগুলোর শরঈ ভিত্তি আছে কিনা?
উত্তর হলো, সকাল সন্ধ্যা সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত তিলাওয়াত করার অনেক ফজীলত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে, প্রত্যেক নামাযের পর বিভিন্ন যিকির ও দু'আর বর্ণনাও হাদীছে এসেছে। তবে এগুলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈনদের থেকে ব্যক্তিগত আমল ও অযীফা হিসাবেই প্রমাণিত। সকলে একসাথে সমস্বরে পড়ার বিষয়টি প্রমাণিত নয়।
তাই এভাবে পাবন্দির সাথে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সমস্বরে পড়া এবং যারা তাদের সাথে শরিক হয়না তাদেরকে খারাপ মনে করা নিতান্তই গর্হিত কাজ এবং শরীয়তে বাড়াবাড়ির শামিল। কাজেই, তাদের এগুলো থেকে বেঁচে থাকা জরুরী। উল্লেখ্য, যেসকল মুসল্লী একাকী সূরায়ে হাশর পড়তে পারেনা তাদেরকে তা'লীম দেয়ার উদ্দেশ্যে এক সাথে পড়া যেতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে, যেন অন্যান্য মুসল্লীগণের নামায, তিলাওয়াত, ইত্যাদি ইবাদত বিঘ্নিত না হয়।
আর প্রচলিত মীলাদ যে বিদ'আত এবং তা পড়া যে নাজায়েয সে বিষয়ে ভিন্ন শিরোনামে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সেখানে দ্রষ্টব্য।
সুতরাং যারা এ বিদ'আতী মীলাদ পড়া থেকে বিরত থাকে তাদেরকে খারাপ মনে করা এবং তাদের মধ্যে রাসূলের মুহাব্বত কম এমন মন্তব্য করা নিতান্তই গর্হিত ও অজ্ঞতার শামিল।

সূত্র: সূরা আরাফ আয়াত- ২০৫, সহীহ বুখারী হাদীস নং ৭১০৭, ফাতাওয়া বায্যাযিয়্যা ৬/৩৭৮, তাতারখানিয়া ১৮/৫৭, রদ্দুল মুহতার ৯/৫৭০, আহসানুল ফাতাওয়া ১/৩৩৮, ফাতাওয়া উসমানী ১/১১০

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 জুমাতুল বিদা পালন করা

📄 জুমাতুল বিদা পালন করা


সাধারণ মানুষের মধ্যে রমজানের শেষ জুমার অনেক গুরুত্ব রয়েছে। এটাকে তারা জুমাতুল বিদা নামে আখ্যায়িত করে থাকে। অথচ বাস্তব কথা হলো, হাদীস সমূহের মধ্যে এ শেষ জুমার কোন ফজীলত বা বৈশিষ্ঠ পাওয়া যায়না।

সূত্র: আপকে মাসায়েল আওর উনকা হলো ৪/১৪৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00