📄 আযানের আগে, পরে দরূদ শরীফ, গজল ইত্যাদি পাঠ করা
আমাদের দেশের কোন কোন মসজিদে লক্ষ্য করা যায়, প্রায় প্রত্যেক ওয়াক্তে আযানের আগে, পরে নিয়মিত দরূদ সালাম, ইসলামী গান, গজল মাইক দিয়ে পাঠ করা হয়ে থাকে। শরীয়তের দৃষ্টিতে নিয়মিত এমনটি করা বিদ'আত। কারণ, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈন, তথা ইসলামের সোনালী যুগে এগুলোর কোন অস্তিত্ব ছিলনা। কাজেই, এগুলো বিদ'আত ও নব উদ্ভাবিত একটি বিষয়। কাজেই, এহেন নব উদ্ভাবিত বিদ'আতী কর্মকান্ড থেকে বেঁচে থাকা কর্তব্য।
অবশ্য, আযানের পর নিম্ন স্বরে দরূদ শরীফ পাঠ করে হাদীসে বর্ণিত বিশেষ দু'আ পাঠ করার বিষয়টি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আছে এবং ইহা অনেক ছাওয়াবের কাজ। তাই আযানের পরে দরূদ পাঠ করে ঐ দু'আটি পাঠ করা মুস্তাহাব।
সূত্র: সহীহ বুখারী ২/ ১০৯২, মিরকাতুল মাফাতীহ ২/১৬১, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ৯/১১৮, ফাতাওয়া উসমানী ১/১১১
📄 রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাম মোবারক শুনে আঙ্গুল চুমু দিয়ে চোখে লাগানো
আযানের সময় প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নাম শুনে আঙ্গুল চুম্বন করে তা চোখে লাগানো বিদ'আত। এটাকে সুন্নত মনে করা ভুল। কারণ, এটা কোন বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়।
অবশ্য, অতীতের কোন কোন আলেম চোখের চিকিৎসার জন্য এবং চোখের জ্যোতি বৃদ্ধির জন্য কখনো চিকিৎসা স্বরূপ এমনটি করেছেন। তবে তারাও এটা সব সময় করার কথা বলেননি।
সুতরাং এখনো যদি কেউ কখনো সুন্নত বা মুস্তাহাব মনে না করে চোখের উপকারের জন্য এরূপ করতে চায় তাহলে করতে পারে। কিন্তু শর্ত হলো, কেউ যদি এরূপ না করে তাহলে তাকে খারাপ মনে করতে পারবে না বা ওহাবী ইত্যাদি বলতে পারবে না।
আর যদি কেউ এরূপ মনে করে বা বলে তাহলে তা সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েয হয়ে যাবে। কারণ, এটাতো মুস্তাহাব নয়; বরং এক ধরণের চিকিৎসা মাত্র। সুতরাং এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করা চরম মূর্খতা।
সূত্র: ফাতাওয়া রহীমিয়া-১/৫৮, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ১/১৮৬, আহসানুল ফাতাওয়া- ১/৩৭৮, ইমদাদুল আহকাম, ১/১৮৮, কিফায়াতুল মুফতী১/১০৪
📄 আযানের পর হাত উঠিয়ে দু‘আ করা
আযানের পর দু'আ পড়ার আসল তরীকা হলো, শুধু মুখে দু'আ পড়বে। মুনাজাতের মত হাত উঠাবেনা; এটাই উত্তম। তবে কেউ যদি সঠিক মাসাআলা না জানার কারণে আযানের দু'আ পড়ার সময় হাত তুলে তাহলে তাকে নরম কথায় বুঝাতে পারলে বুঝাবে। তা নাহলে তাকে নিজ অবস্থার উপর ছেড়ে দিবে। কঠোরতা করবেনা।
সূত্র: মাজমূআতুল ফাতাওয়া ২/২৪৪, ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪/১৬১
📄 নামাযে আরবীতে নিয়্যত করা
নামাযের জন্য নিয়্যত করা ফরজ। নিয়্যত ছাড়া নামায আদায় হবে না। আর অন্তরে সংকল্পের নামই নিয়্যত। তাই অন্তরে নামাযের নিয়্যত করলেই যথেষ্ঠ হবে। মুখে উচ্চারণ করার কোন প্রয়োজন নেই। তবে মুখে উচ্চারণ করে নিয়্যত করার প্রয়োজনীয়তা না থাকার দরুন কারো কারো ক্ষেত্রে বেখেয়ালিতে নিয়্যত ছাড়াই নামায শুরু করে দেয়ার আশংকা থাকে, তাই পরবর্তী ফকীহগণ মুখে উচ্চারণ করে নিয়্যত করাকে মুস্তাহাব বলেছেন। এক্ষেত্রে জরুরী মনে না করে আরবী ভাষাতেও নিয়্যত করার অবকাশ রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, শরীয়তে আরবীতে নিয়্যত করার কোন গুরুত্ব বা ফযীলত নেই। কারণ, কোন সহীহ বা জয়ীফ সূত্রে এ কথা প্রমাণিত নেই যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো এভাবে নিয়্যত করেছেন যে, আমি অমুক নামায আদায়ের নিয়্যত করছি। সুতরাং আরবীতে মুখে উচ্চারণ করে নিয়্যত করার বিষয়টি ভিত্তিহীন। উপরন্তু, মুখে আরবীতে নিয়্যত করতে গিয়ে কারো কারো অন্তরে এ কথার ইচ্ছা থাকে না যে, সে কোন নামায আদায় করছে? এদিকে আরবী না বুঝার কারণে এটাও জানেনা যে, সে মুখে কী বলছে? এভাবে তার পক্ষ থেকে নামাযের নিয়্যত পাওয়া গেল কি না তা সন্দেহযুক্ত হয়ে গেল, অথচ পূর্বেই বলা হয়েছে যে, নামাযের জন্য নিয়্যত তথা অন্তরের ইচ্ছা থাকা জরুরী।
এছাড়া, গদবাঁধা লম্বা আরবী নিয়্যত করতে গিয়ে অনেকের তাকবীরে উলা ছুটে যায়। অথচ হাদীসে তাকবীরে উলার অনেক ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। কারো কারো আবার একারণে নামাযের রাকাত এমনকি জামাতও ছুটে যায়। কেউ কেউ তো আরবী নিয়্যত মুখস্ত করতে পারে না বলে নামাযই পড়ে না। তাদের বক্তব্য হলো, নিয়্যতই মুখস্ত করতে পারি না তাহলে নামায পড়ব কীভাবে?
এসকল সমস্যার কারণে আরবীতে নিয়্যত না করা চাই। উপরন্তু, কেউ আরবীতে নিয়্যত করা জরুরী মনে করলে তা বিদ'আত হবে।
সূত্র: আদ্দুররুল মুখতার ১/৯০, ফাতাওয়ায়ে শামী ১/৯২, ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১/২৫, বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৩০, তাতারখানিয়া ২/৩৪, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ৯/২১২