📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা 📄 ত্রিশ হাজার যাহেরী ও ষাট হাজার বাতেনী কালাম আছে বলে বিশ্বাস করা

📄 ত্রিশ হাজার যাহেরী ও ষাট হাজার বাতেনী কালাম আছে বলে বিশ্বাস করা


ভণ্ড সূফী, দরবেশ, ও মারেফতী পীরদের মাঝে একটি কথা প্রচলিত আছে। তা হলো, কালাম সর্বমোট ৯০ হাজার। এর মধ্যে ত্রিশ হাজার জাহেরী আর ৬০ হাজার বাতেনী । তো তাদের সেই নব্বই হাজার কালামের কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। কুরআন হাদীসে এর কোন প্রমাণ নেই। বস্তুত: ইসলামের নামে একটি ভ্রান্ত-বাতিল ফেরকা আছে, তাদেরকে বলা হয় শী'আ। তারা এ ধরণের বহু আজগুবি কথা হযরত আলী রা. এর নামে প্রচার করে থাকে। তাদের দাবী হলো, এ বাতেনী কালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী রা. কে শিক্ষা দিয়েছিলেন। অথচ এগুলো একেবারেই মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কারণ, হযরত আলী রা. নিজেই পরিষ্কারভাবে এ কথার উত্তর দিয়ে গিয়েছিলেন যে, যেই কুরআন সকলের নিকট আছে সেই কুরআনের বাইরে তাঁর কাছে আর কোন কালাম নেই। সূত্র: বুখারী ১/২১
তাছাড়া, আমাদের দেশে তাসাওউফের ব্যবসায়ী একদল ভণ্ড পীর-ফকির আছে, যারা এরূপ কথা বলে যে, আমাদের এসব কথা আলেমরা বুঝবে না। কারণ, তারা বাতেনী কালাম সম্পর্কে কিছুই জানে না। তাই আলেমগণ আমাদের বিরোধিতা করেন। মোদ্দাকথা, তাদের বর্ণিত ঐ কথার কোন দলীল শরীয়তে নেই। বাতিল ও ভণ্ড লোকেরা তাদের মনগড়া মতবাদকে জাহেলেদের মধ্যে চালু করার জন্য এ ধরণের অনেক উদ্ভট কথা জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: খাইরুল ফাতাওয়া ১/২৯৩

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা 📄 মুসলমানের মাথায় সিঁদুর লাগানো এবং মূর্তির সামনে মাথা নত করা

📄 মুসলমানের মাথায় সিঁদুর লাগানো এবং মূর্তির সামনে মাথা নত করা


মুসলমানের জন্য অমুসলিমদের জাতীয় কোন শি'আর অবলম্বন করা কবীরা গুনাহ। আর শরঈ কোন প্রয়োজন ছাড়া তা এখতিয়ার করা কুফরী।
এটা একটা স্বীকৃত সত্য যে, মাথায় সিঁদুর দেয়া এবং গির্জা বা মন্ডপে গিয়ে মাথা নত করা হিন্দুদের অন্যতম ধর্মীয় শি'আর। সুতরাং এ কাজ যদি কেউ সেচ্ছায় জেনে বুঝে করে তাহলে তা কুফরী হবে।
এ অপরাধ থেকে মুক্তি পেতে হলে তাকে খালেস দিলে তওবা করে নতুন করে ঈমান আনয়ন করতে হবে। বিবাহিত হলে বিবাহ দোহরিয়ে নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর কখনো এমন কাজ করবেনা বলে প্রতিজ্ঞা করতে হবে।

সূত্র: সূরা মায়িদা আয়াত- ৮২ মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৪০৩০, নসবুর রায়া ৫/১০২, নিবরাস পৃ: ৩৪৮ ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ২৯/৩৪০

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা 📄 বাচ্চাকে বদ নজর থেকে বাঁচাতে কপালে কালো টিপ দেওয়া

📄 বাচ্চাকে বদ নজর থেকে বাঁচাতে কপালে কালো টিপ দেওয়া


আমাদের দেশে একটি প্রথা প্রচলিত আছে। তা হলো, ছোট বাচ্চাদেরকে বদ নজর থেকে রক্ষা করার জন্য অভিভাবকগণ তার কপালে কালো টিপ লাগিয়ে থাকেন। অথচ এটি একটি কুসংস্কার; শরীয়তে এর কোন ভিত্তি নেই।
সুতরাং যদি কেউ জরুরী বা সওয়াবের কাজ কিংবা প্রকৃতক্রিয়াশীল মনে না করে এমনটি করে তাহলে তা নাজায়েয হবে না। অন্যথায় নাজায়েয হবে।

সূত্র: সুনানে আবী দাউদ হাঃ নং ৪৬০৮, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ৫/২১৯ আপকে মাসায়েল ৮/১০২

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা 📄 ১০০% গ্যারান্টি সহকারে রোগের চিকিৎসা করা

📄 ১০০% গ্যারান্টি সহকারে রোগের চিকিৎসা করা


অধুনা কিছু লিফলেট ও বিজ্ঞাপন দেখা যায় যেগুলোতে ১০০% গ্যারান্টি সহ নানা জটিল ও কঠিন রোগ নিরাময়ের নিশ্চয়তা দেয়া হয়। শরীয়তের দৃষ্টিতে এভাবে গ্যারান্টি সহকারে চিকিৎসা করা জায়েয নেই। কারণ, ডাক্তার তো কেবলমাত্র সঠিক রোগ নিরূপণ করে সঠিক ঔষধ প্রয়োগ করতে পারেন; এর চেয়ে বেশী কিছু করা তার সাধ্যে নেই। অর্থাৎ সঠিক ঔষধ প্রয়োগ করা হলেই রোগ নিরাময় হবে, এমন কোন নিশ্চয়তা দেয়া যায়না। কেননা, ঔষধ প্রয়োগের পর প্রতিক্রিয়া হওয়া না হওয়া আল্লাহ তা'আলার ফয়সালার উপর নির্ভরশীল।
অবশ্য, কোন ডাক্তার এভাবে গ্যারান্টি দিয়ে চিকিৎসা করার পর রোগ ভাল না হলে শর্ত অনুযায়ী রুগী তার টাকা ফেরৎ পাবে।

সূত্র: সুরা মায়িদা আয়াত- ১, কাওয়ায়েদুল ফিকহ পৃ:১২৬

ফন্ট সাইজ
15px
17px