📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 লাশ বা কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া

📄 লাশ বা কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া


মৃত ব্যক্তিকে ফুলের মালা বা ফুলের তোড়া দিয়ে যে শ্রদ্ধা জানানো হয়, শরীয়তে তার কোন ভিত্তি নেই। কোন নবী-রাসূল, সাহাবায়ে কিরাম, তাবিঈন বা কোন বুযুর্গের লাশকে এভাবে শ্রদ্ধা জানানোর কোন নজীর নেই। এভাবে শ্রদ্ধা জানালে যদি মৃত ব্যক্তির কোন উপকার হতো, তাহলে অবশ্যই নবী-রাসূলগণ ও বুজুর্গানে দ্বীন এর নির্দেশ দিতেন। যেহেতু শরীয়তে এর কোন অস্তিত্ব নেই, তাই তা পরিত্যায্য।
মৃত ব্যক্তির জন্য ইস্তিগফার, তিলাওয়াত ও দু'আয়ে মাগফিরাত করা এবং তার কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে হাজির হওয়াই তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের উত্তম ও একমাত্র পদ্ধতি।

সূত্র: ফাতাওয়া রহিমীয়া, ৫/৯৮# ফয়জুল বারী ১/৩১১]

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 ত্রিশ হাজার যাহেরী ও ষাট হাজার বাতেনী কালাম আছে বলে বিশ্বাস করা

📄 ত্রিশ হাজার যাহেরী ও ষাট হাজার বাতেনী কালাম আছে বলে বিশ্বাস করা


ভণ্ড সূফী, দরবেশ, ও মারেফতী পীরদের মাঝে একটি কথা প্রচলিত আছে। তা হলো, কালাম সর্বমোট ৯০ হাজার। এর মধ্যে ত্রিশ হাজার জাহেরী আর ৬০ হাজার বাতেনী । তো তাদের সেই নব্বই হাজার কালামের কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। কুরআন হাদীসে এর কোন প্রমাণ নেই। বস্তুত: ইসলামের নামে একটি ভ্রান্ত-বাতিল ফেরকা আছে, তাদেরকে বলা হয় শী'আ। তারা এ ধরণের বহু আজগুবি কথা হযরত আলী রা. এর নামে প্রচার করে থাকে। তাদের দাবী হলো, এ বাতেনী কালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী রা. কে শিক্ষা দিয়েছিলেন। অথচ এগুলো একেবারেই মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কারণ, হযরত আলী রা. নিজেই পরিষ্কারভাবে এ কথার উত্তর দিয়ে গিয়েছিলেন যে, যেই কুরআন সকলের নিকট আছে সেই কুরআনের বাইরে তাঁর কাছে আর কোন কালাম নেই। সূত্র: বুখারী ১/২১
তাছাড়া, আমাদের দেশে তাসাওউফের ব্যবসায়ী একদল ভণ্ড পীর-ফকির আছে, যারা এরূপ কথা বলে যে, আমাদের এসব কথা আলেমরা বুঝবে না। কারণ, তারা বাতেনী কালাম সম্পর্কে কিছুই জানে না। তাই আলেমগণ আমাদের বিরোধিতা করেন। মোদ্দাকথা, তাদের বর্ণিত ঐ কথার কোন দলীল শরীয়তে নেই। বাতিল ও ভণ্ড লোকেরা তাদের মনগড়া মতবাদকে জাহেলেদের মধ্যে চালু করার জন্য এ ধরণের অনেক উদ্ভট কথা জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: খাইরুল ফাতাওয়া ১/২৯৩

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 মুসলমানের মাথায় সিঁদুর লাগানো এবং মূর্তির সামনে মাথা নত করা

📄 মুসলমানের মাথায় সিঁদুর লাগানো এবং মূর্তির সামনে মাথা নত করা


মুসলমানের জন্য অমুসলিমদের জাতীয় কোন শি'আর অবলম্বন করা কবীরা গুনাহ। আর শরঈ কোন প্রয়োজন ছাড়া তা এখতিয়ার করা কুফরী।
এটা একটা স্বীকৃত সত্য যে, মাথায় সিঁদুর দেয়া এবং গির্জা বা মন্ডপে গিয়ে মাথা নত করা হিন্দুদের অন্যতম ধর্মীয় শি'আর। সুতরাং এ কাজ যদি কেউ সেচ্ছায় জেনে বুঝে করে তাহলে তা কুফরী হবে।
এ অপরাধ থেকে মুক্তি পেতে হলে তাকে খালেস দিলে তওবা করে নতুন করে ঈমান আনয়ন করতে হবে। বিবাহিত হলে বিবাহ দোহরিয়ে নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর কখনো এমন কাজ করবেনা বলে প্রতিজ্ঞা করতে হবে।

সূত্র: সূরা মায়িদা আয়াত- ৮২ মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৪০৩০, নসবুর রায়া ৫/১০২, নিবরাস পৃ: ৩৪৮ ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ২৯/৩৪০

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 বাচ্চাকে বদ নজর থেকে বাঁচাতে কপালে কালো টিপ দেওয়া

📄 বাচ্চাকে বদ নজর থেকে বাঁচাতে কপালে কালো টিপ দেওয়া


আমাদের দেশে একটি প্রথা প্রচলিত আছে। তা হলো, ছোট বাচ্চাদেরকে বদ নজর থেকে রক্ষা করার জন্য অভিভাবকগণ তার কপালে কালো টিপ লাগিয়ে থাকেন। অথচ এটি একটি কুসংস্কার; শরীয়তে এর কোন ভিত্তি নেই।
সুতরাং যদি কেউ জরুরী বা সওয়াবের কাজ কিংবা প্রকৃতক্রিয়াশীল মনে না করে এমনটি করে তাহলে তা নাজায়েয হবে না। অন্যথায় নাজায়েয হবে।

সূত্র: সুনানে আবী দাউদ হাঃ নং ৪৬০৮, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ৫/২১৯ আপকে মাসায়েল ৮/১০২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00