📄 শী‘আ, কাদিয়ানী, হাদীস অস্বীকারকারীদের সাথে সম্পর্ক রাখা
শরীয়তের দৃষ্টিতে কাদিয়ানী, হাদীস অস্বীকারী ইত্যাদি সব ফিরকা যিন্দিক। এসব ইসলাম বিদ্বেষীদের সাথে সম্পর্ক রাখার হুকুম ক্ষেত্রে বিশেষে অন্যান্য কাফের, ধর্ম ত্যাগী মুরতাদদের অপেক্ষা অধিক মারাত্মক। এদের সাথে বিবাহ-শাদী, বেচা-কেনা সহ অন্যান্য সকল প্রকার লেনদেন করা নাজায়েয। এছাড়া, তাদের সাথে বন্ধুত্ব রাখা ইসলামী আত্মসম্মান বোধের পরিপন্থী। তাদের সাথে সর্ব প্রকার উঠাবসা, সম্পর্ক রাখা থেকে যথা সম্ভব বেঁচে থাকা জরুরী।
কেউ যদি তাদের সাথে কোন প্রকার লেনদেন করে ফেলে। যমন: বেচা-কেনা করা, ভাড়া দেওয়া, নেওয়া ইত্যাদি। তবে তা শরীয়তের দৃষ্টিতে কার্যকর হবে না।
অবশ্য, ইমাম আবূ ইউসুফ রহ. ও ইমাম মুহাম্মদ রহ.এর মতে এ লেন-দেন বৈধ না হওয়া স্বত্বেও কার্যকর হয়ে যাবে। আর একান্ত প্রয়োজনের সময় কিংবা এ ধরণের লেনদেন ব্যাপক আকার ধারণ করার ক্ষেত্রে সাহেবাইনের মতামত অনুযায়ী আমল করার অবকাশ আছে।
সূত্র: আহসানুল ফাতাওয়া ৮/২৫০
📄 শিখা চিরন্তনকে সম্মান প্রদর্শন করা
শিখা চিরন্তন অগ্নি পূজকদের একটি প্রতীক। অগ্নি পূজকরা আগুন প্রজ্জ্বলিত করে তার পূজা করে, তার সামনে মাথা নত করে সম্মান প্রদর্শন করে এবং তা থেকে প্রেরণা লাভ করে থাকে। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর জন্মের পূর্বে পারস্যবাসীরা অগ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত করে তার পূজা করে আসছিল। সেই অগ্নিশিখা হাজার হাজার বছর ধরে জ্বলছিল। কিন্তু হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্মের সময় সেই অগ্নিশিখা আল্লাহর কুদরতে নিভে যায়। আল্লাহ ছাড়া কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে মাথা নত করে সিজদা করা বা বিধর্মী কায়দায় সম্মান প্রদর্শন করা এবং প্রেরণার উৎস মনে করে তাকে স্যালুট দেয়া, তাতে পুষ্পস্তবক দিয়ে প্রেরণা লাভ করা শিরক ও কুফরী। কারণ, বিধর্মী বা বিজাতীয় সম্প্রদায়ের প্রতীকী অগ্নিশিখা মুসলমানদের আনন্দ উৎসব বা কোন বিশেষ দিনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা, তাকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য স্যালুট, পুষ্পস্তবক ইত্যাদি প্রদান করা অগ্নি পূজারই নামন্তর। কেননা, হাদীসে উল্লেখ হয়েছে” যে ব্যক্তি বিশেষ কাজ বা বিশেষ আচরণের দিক দিয়ে কোন সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্যতা রাখবে সে তাদের দলভুক্ত হবে। সুতরাং বিজাতীয় সম্প্রদায়ের যে কোন প্রতীককে যে কোনভাবেই হোক, সম্মান প্রদর্শন করা মুসলমানের জন্য হারাম ও নাজায়েয। দ্বিতীয়ত: শিখা চিরন্তন নামের মধ্যেই কুফরী বিদ্যমান রয়েছে। কেননা, একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই চিরন্তন ও চিরঞ্জীব। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি বা বস্তু চিরন্তন বা চিরঞ্জীব হতে পারে না। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে- “আল্লাহ মহান সত্তা- তিনি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই। তিনি চিরন্তন ও চিরঞ্জীব”।
সুতরাং আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে চিরন্তন ও চিরঞ্জীব মনে করা বা এ ধরণের আকীদা ও বিশ্বাস রাখা শিরক ও কুফরী। আর যে কোন কুফরী কাজ মুসলমানের জন্য করা হারাম ও নাজায়েয। এর দ্বারা ঈমান চলে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। কোন মুসলিম রাষ্ট্রে যদি কেউ শিরক বা কুফরী কাজ অথবা শরীয়ত বিরোধী কোন কাজ প্রকাশ্যে এবং ব্যাপকভাবে চালু করতে চায়, তাহলে ঐ রাষ্ট্রের মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব হয়ে পড়ে যে, তারা ঐক্যবদ্ধভাবে এর প্রতিবাদ জানাবে এবং তা বন্ধ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাবে এবং উক্ত ব্যক্তিকে তা বন্ধ করতে বাধ্য করবে। এর জন্য অবস্থার প্রেক্ষিতে হরতাল, লংমার্চ ও অবরোধ ইত্যাদির প্রয়োজন হলে করবে এবং তা জিহাদের অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ, যে যামানায় যেভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তা বন্ধ হবে, ঐ যামানায় ঐ ভাবেই প্রতিবাদ করতে হবে। আর তা এক প্রকার জেহাদ হবে। কারণ, কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াইর নামই শুধু জিহাদ নয়; বরং এর বিভিন্ন রূপ হতে পারে। তাছাড়া, এগুলো দ্বীনের দুশমনদের প্রতিহত করার জন্য এক প্রকার হাতিয়ার বিশেষ। আর দুশমনদের তৈরী হাতিয়ার দ্বারা দুশমনদের মুকাবিলা করা নাজায়েয নয়। অনেক মূর্খ লোক এ তথ্য না বুঝার কারণে আপত্তি করে থাকে।
সূত্র: সূরা হজ্ব আয়াত- ৪০, জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া ১/৬০৫
📄 লাশ বা কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া
মৃত ব্যক্তিকে ফুলের মালা বা ফুলের তোড়া দিয়ে যে শ্রদ্ধা জানানো হয়, শরীয়তে তার কোন ভিত্তি নেই। কোন নবী-রাসূল, সাহাবায়ে কিরাম, তাবিঈন বা কোন বুযুর্গের লাশকে এভাবে শ্রদ্ধা জানানোর কোন নজীর নেই। এভাবে শ্রদ্ধা জানালে যদি মৃত ব্যক্তির কোন উপকার হতো, তাহলে অবশ্যই নবী-রাসূলগণ ও বুজুর্গানে দ্বীন এর নির্দেশ দিতেন। যেহেতু শরীয়তে এর কোন অস্তিত্ব নেই, তাই তা পরিত্যায্য।
মৃত ব্যক্তির জন্য ইস্তিগফার, তিলাওয়াত ও দু'আয়ে মাগফিরাত করা এবং তার কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে হাজির হওয়াই তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের উত্তম ও একমাত্র পদ্ধতি।
সূত্র: ফাতাওয়া রহিমীয়া, ৫/৯৮# ফয়জুল বারী ১/৩১১]
📄 ত্রিশ হাজার যাহেরী ও ষাট হাজার বাতেনী কালাম আছে বলে বিশ্বাস করা
ভণ্ড সূফী, দরবেশ, ও মারেফতী পীরদের মাঝে একটি কথা প্রচলিত আছে। তা হলো, কালাম সর্বমোট ৯০ হাজার। এর মধ্যে ত্রিশ হাজার জাহেরী আর ৬০ হাজার বাতেনী । তো তাদের সেই নব্বই হাজার কালামের কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। কুরআন হাদীসে এর কোন প্রমাণ নেই। বস্তুত: ইসলামের নামে একটি ভ্রান্ত-বাতিল ফেরকা আছে, তাদেরকে বলা হয় শী'আ। তারা এ ধরণের বহু আজগুবি কথা হযরত আলী রা. এর নামে প্রচার করে থাকে। তাদের দাবী হলো, এ বাতেনী কালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী রা. কে শিক্ষা দিয়েছিলেন। অথচ এগুলো একেবারেই মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। কারণ, হযরত আলী রা. নিজেই পরিষ্কারভাবে এ কথার উত্তর দিয়ে গিয়েছিলেন যে, যেই কুরআন সকলের নিকট আছে সেই কুরআনের বাইরে তাঁর কাছে আর কোন কালাম নেই। সূত্র: বুখারী ১/২১
তাছাড়া, আমাদের দেশে তাসাওউফের ব্যবসায়ী একদল ভণ্ড পীর-ফকির আছে, যারা এরূপ কথা বলে যে, আমাদের এসব কথা আলেমরা বুঝবে না। কারণ, তারা বাতেনী কালাম সম্পর্কে কিছুই জানে না। তাই আলেমগণ আমাদের বিরোধিতা করেন। মোদ্দাকথা, তাদের বর্ণিত ঐ কথার কোন দলীল শরীয়তে নেই। বাতিল ও ভণ্ড লোকেরা তাদের মনগড়া মতবাদকে জাহেলেদের মধ্যে চালু করার জন্য এ ধরণের অনেক উদ্ভট কথা জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: খাইরুল ফাতাওয়া ১/২৯৩