📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 ধর্ম নিরপেক্ষতা মূলত: ধর্মহীনতা এবং একটি কুফরী মতবাদ

📄 ধর্ম নিরপেক্ষতা মূলত: ধর্মহীনতা এবং একটি কুফরী মতবাদ


"ধর্মনিরপেক্ষতা” শব্দটি মূলত: ল্যাটিন শব্দ “সেকিউলারিজম” শব্দের অনুবাদ। এর অর্থ হলো, ধর্মের ব্যাপারে ব্যক্তি স্বাতন্ত্র, ধর্মের ব্যাপারে ব্যক্তি স্বাধীনতা বা ধর্মের পক্ষপাত শূণ্যতা। এখানে ধর্মের ব্যাপারে ব্যক্তি স্বাধীনতা বলতে উদ্দেশ্য যদি হয়, কাউকে কোন ধর্ম গ্রহণ করার জন্য বাধ্য না করা, তাহলে ইসলামের সাথে এর কোন সংঘাত নেই। কারণ, ইসলাম জোর পূর্বক কাউকে ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করেনা। এক্ষেত্রে প্রত্যেকেরই স্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাতন্ত্রকে অক্ষুন্ন রেখেছে এবং ইসলামে কোন পক্ষপাতিত্বও নেই। ইসলামী রাষ্ট্রে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীরই তার নিজস্ব ধর্ম- কর্ম পালন করার অধিকার রয়েছে। ইসলামী রাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার প্রত্যেকের সমান। এ অর্থে ইসলামে পক্ষপাতশূণ্যতা বিদ্যমান।
পরিভাষায় ধর্মনিরপেক্ষতা বলা হয় রাজ্য, নীতি, শিক্ষা ইত্যাদিকে ধর্মমুক্ত রাখা। যারা এই ধর্মনিরপেক্ষতার প্রবক্তা, ব্যক্তিগত জীবনে ধর্ম-কর্ম করার বিরুদ্ধে তাদের কোন আপত্তি নেই। তারা সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পরিপন্থী। ধর্মকে তারা নিতান্তই ব্যক্তিগত ও ঘরোয়া ব্যাপার- স্যাপারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চান। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে ধর্মকে নির্বাসিত করাই তাদের লক্ষ্য। এক শ্রেণীর প্রগতিশীলরা এটাকে আধুনিক মতাদর্শের মর্যাদা দিয়ে থাকেন।
ঐতিহাসিক ভাবে "সেকিউলারিজম” সব সময় নাস্তিকতাবাদের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতার পারিভাষিক অর্থ ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের আচরিত অর্থে এটি একটি কুফুরী মতবাদ। কারণ, ধর্মের ব্যাপকতায় রাজনীতি, সমাজনীতি, শিক্ষানীতি ইত্যাদি সব কিছু আওতাভুক্ত। ইসলামী জীবন সকল ক্ষেত্র ও সবকিছুর জন্য আদর্শ। এমনকিছু নেই যার আদর্শ ইসলামে অনুপস্থিত।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ ফরমান, আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি এই কিতাব যা সব কিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা ও হেদায়েত। সূত্র: সূরা নাহল আয়াত- ৬৯
অন্যত্র ইরশাদ ফরমান, আমি এই কিতাবে কোন কিছু বর্ণনা করতে ছেড়ে দেয়নি। সূত্র: সূরা আনআম আয়াত-৩৮
অথচ ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদে ইসলামের এই ব্যাপকতাকে অস্বীকার বা অপছন্দ করাহয়। আর ইসলামের কোন অংশকে অস্বীকার বা অপছন্দ করা কুফরী। ইসলামী আকীদা-বিশ্বাসকে কেউ যদি কুসংস্কারমূলক ধারণা বিশ্বাস বলে আখ্যায়িত করে তাহলে তার ঈমান থাকবেনা।
খৃষ্টান ধর্মযাজকদের মতবাদে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মত কোন সুষ্ঠু আদর্শ বর্তমান ছিলনা। ফলে, তাদের সমাজে ধর্মনিরপেক্ষতার আন্দোলন হয়তবা যুক্তিযুক্ত ছিল। কিন্তু ইসলাম মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য শাশ্বত আদর্শ রেখেছে এবং তা স্বয়ং সর্বজান্তা সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ হতে প্রেরিত আদর্শ। তাই ইসলামে ধর্মনিরপেক্ষতার কোন যৌক্তিকতা বা কোন অবকাশ নেই।
এছাড়া, ভাষাগত ও আভিধানিক দিক দিয়ে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মহীনতার মাঝে পার্থক্য মনে হলেও বাস্তবে এতদুভয়ের মাঝে তেমন কোন পার্থক্য নেই। ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্বজাধারীদের মূল চরিত্র এবং তাদের ক্রমাগত ইসলাম বিরোধিতা থেকে সচেতন ব্যক্তি মাত্রই এটা অনুধাবন করতে সক্ষম।
তথাকথিত ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদী ও ইসলাম বিদ্বেষীরদেরকে দেখা যায়, তারা মুসলমানের ঘরে জন্ম গ্রহণ করা এবং নিজেদেরকে মুসলমান বলে দাবী করা সত্তেও দাড়ি, টুপিওয়ালা সাচ্চা মুসলমান ও আলেম উলামাদেরকে মৌলবাদী বলে গালি দেয়। অথচ নিজেরা মঙ্গল প্রদীপ জ্বালানোর ন্যায় হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি সহ ইসলাম বিরোধী সব ধরণের অপসংস্কৃতি পালনে তৎপর হয়। এতে কি প্রমাণিত হয় না যে, ধর্মনিরপেক্ষতার মূলরূপ হচ্ছে ধর্মহীনতা।
এছাড়াও, তাদেরকে দেখা যায়, ইসলাম বিরোধী ও ইসলাম বিধ্বংসী সকল কার্য-কলাপে সমর্থন দিতে। এমনকি যারা ইসলামের পক্ষে, কুরআনের পক্ষে কথা বলে, যারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ত রক্ষার্থে এন, জি, ওদের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য তুলে ধরে এবং তাদের ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দেয়, তাদেরকে স্বাধীনতা বিরোধী, দেশের শত্রু, ফতোয়াবাজ, মৌলবাদী, উন্নয়ন কর্মকান্ডে বাঁধাদানকারী, প্রগতির পথে অন্তরায় ইত্যাদি বিশেষণে আখ্যায়িত করে এবং তাদেরকে জঘণ্য ভাষায় গালিগালাজ করে সমাজে তাদের সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়াতে থাকে।
তাই বাস্তব সত্য হলো, তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতা প্রকৃতপক্ষে ধর্মহীনতারই বাহ্যিক লেবেল মাত্র। সুতরাং ইসলাম বিদ্ধেষীদের ধর্মনিরপেক্ষতা আর ধর্মহীনতার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। প্রবাদই আছে, "বৃক্ষ তোমার নাম কী? ফলে পরিচয়।”

সূত্র: মা'আরিফুল কুরআন ২/৩৭, ফাতাওয়া রাহমানিয়া ১/১১৯-১২০

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 শী‘আ, কাদিয়ানী, হাদীস অস্বীকারকারীদের সাথে সম্পর্ক রাখা

📄 শী‘আ, কাদিয়ানী, হাদীস অস্বীকারকারীদের সাথে সম্পর্ক রাখা


শরীয়তের দৃষ্টিতে কাদিয়ানী, হাদীস অস্বীকারী ইত্যাদি সব ফিরকা যিন্দিক। এসব ইসলাম বিদ্বেষীদের সাথে সম্পর্ক রাখার হুকুম ক্ষেত্রে বিশেষে অন্যান্য কাফের, ধর্ম ত্যাগী মুরতাদদের অপেক্ষা অধিক মারাত্মক। এদের সাথে বিবাহ-শাদী, বেচা-কেনা সহ অন্যান্য সকল প্রকার লেনদেন করা নাজায়েয। এছাড়া, তাদের সাথে বন্ধুত্ব রাখা ইসলামী আত্মসম্মান বোধের পরিপন্থী। তাদের সাথে সর্ব প্রকার উঠাবসা, সম্পর্ক রাখা থেকে যথা সম্ভব বেঁচে থাকা জরুরী।
কেউ যদি তাদের সাথে কোন প্রকার লেনদেন করে ফেলে। যমন: বেচা-কেনা করা, ভাড়া দেওয়া, নেওয়া ইত্যাদি। তবে তা শরীয়তের দৃষ্টিতে কার্যকর হবে না।
অবশ্য, ইমাম আবূ ইউসুফ রহ. ও ইমাম মুহাম্মদ রহ.এর মতে এ লেন-দেন বৈধ না হওয়া স্বত্বেও কার্যকর হয়ে যাবে। আর একান্ত প্রয়োজনের সময় কিংবা এ ধরণের লেনদেন ব্যাপক আকার ধারণ করার ক্ষেত্রে সাহেবাইনের মতামত অনুযায়ী আমল করার অবকাশ আছে।

সূত্র: আহসানুল ফাতাওয়া ৮/২৫০

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 শিখা চিরন্তনকে সম্মান প্রদর্শন করা

📄 শিখা চিরন্তনকে সম্মান প্রদর্শন করা


শিখা চিরন্তন অগ্নি পূজকদের একটি প্রতীক। অগ্নি পূজকরা আগুন প্রজ্জ্বলিত করে তার পূজা করে, তার সামনে মাথা নত করে সম্মান প্রদর্শন করে এবং তা থেকে প্রেরণা লাভ করে থাকে। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর জন্মের পূর্বে পারস্যবাসীরা অগ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত করে তার পূজা করে আসছিল। সেই অগ্নিশিখা হাজার হাজার বছর ধরে জ্বলছিল। কিন্তু হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্মের সময় সেই অগ্নিশিখা আল্লাহর কুদরতে নিভে যায়। আল্লাহ ছাড়া কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে মাথা নত করে সিজদা করা বা বিধর্মী কায়দায় সম্মান প্রদর্শন করা এবং প্রেরণার উৎস মনে করে তাকে স্যালুট দেয়া, তাতে পুষ্পস্তবক দিয়ে প্রেরণা লাভ করা শিরক ও কুফরী। কারণ, বিধর্মী বা বিজাতীয় সম্প্রদায়ের প্রতীকী অগ্নিশিখা মুসলমানদের আনন্দ উৎসব বা কোন বিশেষ দিনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা, তাকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য স্যালুট, পুষ্পস্তবক ইত্যাদি প্রদান করা অগ্নি পূজারই নামন্তর। কেননা, হাদীসে উল্লেখ হয়েছে” যে ব্যক্তি বিশেষ কাজ বা বিশেষ আচরণের দিক দিয়ে কোন সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্যতা রাখবে সে তাদের দলভুক্ত হবে। সুতরাং বিজাতীয় সম্প্রদায়ের যে কোন প্রতীককে যে কোনভাবেই হোক, সম্মান প্রদর্শন করা মুসলমানের জন্য হারাম ও নাজায়েয। দ্বিতীয়ত: শিখা চিরন্তন নামের মধ্যেই কুফরী বিদ্যমান রয়েছে। কেননা, একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই চিরন্তন ও চিরঞ্জীব। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি বা বস্তু চিরন্তন বা চিরঞ্জীব হতে পারে না। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে- “আল্লাহ মহান সত্তা- তিনি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই। তিনি চিরন্তন ও চিরঞ্জীব”।
সুতরাং আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি বা বস্তুকে চিরন্তন ও চিরঞ্জীব মনে করা বা এ ধরণের আকীদা ও বিশ্বাস রাখা শিরক ও কুফরী। আর যে কোন কুফরী কাজ মুসলমানের জন্য করা হারাম ও নাজায়েয। এর দ্বারা ঈমান চলে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। কোন মুসলিম রাষ্ট্রে যদি কেউ শিরক বা কুফরী কাজ অথবা শরীয়ত বিরোধী কোন কাজ প্রকাশ্যে এবং ব্যাপকভাবে চালু করতে চায়, তাহলে ঐ রাষ্ট্রের মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব হয়ে পড়ে যে, তারা ঐক্যবদ্ধভাবে এর প্রতিবাদ জানাবে এবং তা বন্ধ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাবে এবং উক্ত ব্যক্তিকে তা বন্ধ করতে বাধ্য করবে। এর জন্য অবস্থার প্রেক্ষিতে হরতাল, লংমার্চ ও অবরোধ ইত্যাদির প্রয়োজন হলে করবে এবং তা জিহাদের অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ, যে যামানায় যেভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তা বন্ধ হবে, ঐ যামানায় ঐ ভাবেই প্রতিবাদ করতে হবে। আর তা এক প্রকার জেহাদ হবে। কারণ, কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াইর নামই শুধু জিহাদ নয়; বরং এর বিভিন্ন রূপ হতে পারে। তাছাড়া, এগুলো দ্বীনের দুশমনদের প্রতিহত করার জন্য এক প্রকার হাতিয়ার বিশেষ। আর দুশমনদের তৈরী হাতিয়ার দ্বারা দুশমনদের মুকাবিলা করা নাজায়েয নয়। অনেক মূর্খ লোক এ তথ্য না বুঝার কারণে আপত্তি করে থাকে।

সূত্র: সূরা হজ্ব আয়াত- ৪০, জাওয়াহিরুল ফাতাওয়া ১/৬০৫

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 লাশ বা কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া

📄 লাশ বা কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া


মৃত ব্যক্তিকে ফুলের মালা বা ফুলের তোড়া দিয়ে যে শ্রদ্ধা জানানো হয়, শরীয়তে তার কোন ভিত্তি নেই। কোন নবী-রাসূল, সাহাবায়ে কিরাম, তাবিঈন বা কোন বুযুর্গের লাশকে এভাবে শ্রদ্ধা জানানোর কোন নজীর নেই। এভাবে শ্রদ্ধা জানালে যদি মৃত ব্যক্তির কোন উপকার হতো, তাহলে অবশ্যই নবী-রাসূলগণ ও বুজুর্গানে দ্বীন এর নির্দেশ দিতেন। যেহেতু শরীয়তে এর কোন অস্তিত্ব নেই, তাই তা পরিত্যায্য।
মৃত ব্যক্তির জন্য ইস্তিগফার, তিলাওয়াত ও দু'আয়ে মাগফিরাত করা এবং তার কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে হাজির হওয়াই তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের উত্তম ও একমাত্র পদ্ধতি।

সূত্র: ফাতাওয়া রহিমীয়া, ৫/৯৮# ফয়জুল বারী ১/৩১১]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00