📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা 📄 কোন ক্ষতির সম্মুখীন হলে “কার মুখ দেখে বের হয়েছিলাম” একথা বলা

📄 কোন ক্ষতির সম্মুখীন হলে “কার মুখ দেখে বের হয়েছিলাম” একথা বলা


কোন কোন মানুষকে বিপদ আপদের সম্মুখীন হলে একথা বলতে শুনা যায় যে, কার মুখ দেখে যে বের হয়েছিলাম !
বস্তুত এটি একটি গর্হিত কথা। শরীয়তে এর কোন ভিত্তি নেই। সুতরাং একটি গর্হিত কথার উপর নির্ভর করে প্রথম দেখা মানুষটির ব্যাপারে খারাপ ধারণা পোষণ করা মারাত্মক অন্যায়। কারণ; আল্লাহ তা'আলা বিভিন্ন হিকমতে বান্দাকে কোন বালা মসীবতে আপতিত করে থাকেন। এর সাথে প্রথম দেখা মানুষটির কোন সম্পর্ক নেই।

সূত্র: সূরা হুজুরাত আয়াত: ১২, বুখারী শরীফ, হাদীস নং ৫৭০৭

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা 📄 প্রচলিত গণতন্ত্র একটি কুফরী মতবাদ

📄 প্রচলিত গণতন্ত্র একটি কুফরী মতবাদ


গনতন্ত্রের দু'টি দিক রয়েছে (এক) গণতান্ত্রিক চিন্তা ধারা (দুই) গণতান্ত্রিক কর্মসূচী।
গণতান্ত্রিক চিন্তাধারা গণতান্ত্রিক চিন্তাধারায় জনগণকে সর্বময় ক্ষমতার মূল উৎস মনে করা হয়। সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে জনতার যে কোন সিদ্ধান্ত এ তন্ত্র মতে চূড়ান্ত ও অপরিহার্য। এক কথায়, সংখ্যাগরিষ্ঠের মতকে (নাঊযুবিল্লাহ) খোদায়ী ফয়সালার উপর স্থান দেয়া হয়, যার কোন সিদ্ধান্তই অগ্রাহ্য করা যাবে না।
শরীয়তের দৃষ্টিতে এসব চিন্তাধারা সবই হলো কুফরী চিন্তাধারা। যে ব্যক্তি বুঝে শুনে এসবের প্রতি আস্থাশীল হবে তার ঈমান চলে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। অবশ্য, কেউ যদি গণতন্ত্রের এসব মূল মন্ত্র না জেনে অপরের দেখাদেখি গণতন্ত্রকে সমর্থন করে তাহলে সে কাফের না হলেও কুফরী তন্ত্রের সমর্থনকারী হিসাবে সে মারত্মক গুনাহগার হবে।
পাশ্চাত্য গণতন্ত্রের মূল মন্ত্রগুলো কুফরী হওয়ার প্রমাণ হলো, এগুলো কুরআন-হাদীসের স্পষ্ট বর্ণনার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। নিম্নে এধরণের কয়েকটি আয়াত উল্লেখ করা হলো:
আল্লাহ পাক কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেন, “নিশ্চয়ই সকল ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তাআলারই।"সূত্র: সূরা বাকারা আয়াত - ১৬৫
অন্যত্র ইরশাদ ফরমান, আল্লাহ তা'আলাই বিধানদাতা। সূত্র: সূরা ইউসূফ আয়াত- ৪০
অপর আয়াতে ইরশাদ করেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলার নিকট ধর্ম একমাত্র ইসলাম। সূত্র: সূরা আলে-ইমরান আয়াত-৮৩
আরো ইরশাদ হচ্ছে, “যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্ম তালাশ করে (গ্রহণ করে) কস্মিনকালেও তা মেনে নেয়া হবে না এবং আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত।” সূত্র: আলে-ইমরান আয়াত - ৮৫
অন্য আয়াতে ঘোষিত হচ্ছে, "আল্লাহ ও তদীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন বিষয় নির্ধারণ করলে, কোন ঈমানদার নর-নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করার অধিকার নেই। আর যে আল্লাহ ও তার রাসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়। সূত্র: সূরা আহযাব আয়াত ৩৬
গণতান্ত্রিক কর্মসূচী
(ক) গণতান্ত্রিক রাজনীতির কর্মসূচীর মধ্যে অন্যতম হলো, সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে ভোটের মাধ্যমে দেশের উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বশীল নির্ধারণ করা।
শরীয়তের দৃষ্টিতে গণভোটের এ পদ্ধতি সম্পূর্ণ অসার ও অযৌক্তিক। সুতরাং তা নাজায়েয। কুরআন পাকের বহু আয়াতে এ পদ্ধতির অসারতা প্রমাণ করত: বিরোধিতা করা হয়েছে। তন্মধ্য হতে নিম্নে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো:
(১) আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “আপনি যদি পৃথিবীর অধিকাংশের কথা মেনে নেন, তাহলে তারা আপনাকে আল্লাহর রাস্তা থেকে বিভ্রান্ত করে ফেলবে।” সূত্র: সূরা আলে-ইমরান আয়াত- ১১৬
(২) অন্য আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, "তাদের অধিকাংশই শুধু অনুমানের উপর চলে। অথচ অনুমান সত্যের মোকাবেলায় কোন কাজেই আসে না।” সূত্র: সূরা ইউনুস আয়াত-৩৬
(৩) অপর আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, "আপনি বলে দিন, অপবিত্র ও পবিত্র এক সমান নয়। যদিও অপবিত্রের আধিক্য তোমাকে বিস্মিত করে।” “সূত্র: সূরা আলে-ইমরান আয়াত- ১০০
উক্ত আয়াতসমূহের দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, জনগণের অধিকাংশ হবে মূর্খ, বোকা ও দায়িত্বহীন। আর প্রচলিত গণতন্ত্রে এদের অধিকাংশের রায়ের উপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সুতরাং তা নিশ্চিতভাবে ভুলই হবে। তাই, কোনরূপ বাছ-বিচার ছাড়া সংখ্যাধিক্যকে মাপকাঠি বানালে তা সুনিশ্চিতভাবে ভ্রষ্ট হবে। বর্তমানে গণতন্ত্রের নামে তাই হচ্ছে।
তবে যেহেতু প্রতিনিধি নির্বাচনের উক্ত নাজায়েয পদ্ধতি এদেশ থেকে ইংরেজ বিতাড়নের সময় ইসলামের দুশমনদের পক্ষ থেকে কৌশলে আমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুসলিম রাজনৈতিক নেতাদের প্রচেষ্টা ছাড়া ব্যক্তি বিশেষের জন্য এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া মুশকিল ব্যাপার। সে জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরীক না হয়ে শুধু ভোটের সময় সকল প্রার্থীদের মাঝে তুলনামূলক ইসলাম, দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলজনক বা এমন লোকের অবর্তমানে কমপক্ষে অন্যের তুলনায় কম ক্ষতিকর প্রার্থীকে ভোট প্রদান করা জায়েয আছে। এক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় হলো, সকল সৎ মানুষ ভোট প্রদান করা থেকে বিরত থাকলে অসৎ লোকেরা অসৎ প্রার্থীকেই নির্বাচিত করে নিবে। তখন সকলেরই অসৎ লোকের ফেতনায় পড়তে হবে। ফলে, ইসলামের আরো বেশী ক্ষতি সাধিত হয়ে যাবে।
তাছাড়া, এ পদ্ধতি ভুল হলেও ভোট প্রদান মূলত: সাক্ষ্য প্রদান করা, আর ন্যায়ের ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদান করা জরুরী, তাই, উযর ছাড়া যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দান হতে বিরত থাকলে গুনাহ হবে।
যারা গণতান্ত্রিক ভোেট পদ্ধতিকে ইসলাম সম্মত নয় জেনেও প্রয়োজনের খাতিরে তুলনামূলক কোন সৎ প্রার্থীকে ভোট দেবে তাদেরকে কাফের বা ফাসেক কিছুই বলা যাবে না; বরং নিজেদেরও এসব ক্ষেত্রে ভোট দান থেকে বিরত না হওয়া জরুরী।
(খ) গণতান্ত্রিক অন্যান্য কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে মিছিল, মিটিং, সভা-সেমিনার, প্রচার-বিজ্ঞাপন, বিবৃতি, হরতাল, বয়কট, অনশন, ধর্মঘট, অবরোধ ইত্যাদি। এ সবের মধ্য হতে প্রচলিত হরতাল ও মিথ্যা বিবৃতি ও আমরণ অনশন শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয নেই। এছাড়া, অন্য সব কর্মসূচী মূলত: বৈধ। তবে যদি নিছক দলীয় ও নেতৃত্বের লোভে এগুলো পালন করা হয় তাহলে তা জায়েয হবে না।
তেমনিভাবে, জনসাধারণকে অহেতুক কষ্ট দিয়ে কোন কর্মসূচী পালন করা হলে তাও জায়েয হবে না; বরং তাতে গুনাহ হবে। অবশ্য, শুধু এসব নাজায়েয কর্মসূচী পালন করলে তারা কাফেরও হবে না।
আর যদি বৈধ কর্মসূচী গুলো জাতীয় ও দ্বীনী স্বার্থে পালন করা হয় এবং জনসাধারণকে অহেতুক কষ্ট না দেওয়া হয় কিংবা তাদের আর্থিক কোন ক্ষয়-ক্ষতি না করা হয়; বরং স্বতঃস্ফূর্তভাবে মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ এগুলোতে শরীক হয় তাহলে সে ছাওয়াবের ভাগী হবে। এক্ষেত্রে প্রত্যেকের নিজ নিজ সাধ্য অনুযায়ী সহায়তা ও সমর্থন করা কর্তব্য।
উল্লেখ্য, গণতন্ত্র সহ ঈমান বিধ্বংসী অন্যান্য বাতিল মত ও বিশ্বাস সম্পর্কে জানার জন্য মুফতী মাওঃ মনসুরুল হক সাহেব দা.বা. প্রণীত কিতাবুল ঈমান পড়ুন। ইনশাআল্লাহ ঈমান-আমল হিফাজতে বড় সহায়ক হবে。

সূত্র: আহসানুল ফাতাওয়া ৬/২৪, জাওয়াহিরুল ফিকহ ১/৩৬, ফিকহী মাকালাত ২/২৮৬

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা 📄 ধর্ম নিরপেক্ষতা মূলত: ধর্মহীনতা এবং একটি কুফরী মতবাদ

📄 ধর্ম নিরপেক্ষতা মূলত: ধর্মহীনতা এবং একটি কুফরী মতবাদ


"ধর্মনিরপেক্ষতা” শব্দটি মূলত: ল্যাটিন শব্দ “সেকিউলারিজম” শব্দের অনুবাদ। এর অর্থ হলো, ধর্মের ব্যাপারে ব্যক্তি স্বাতন্ত্র, ধর্মের ব্যাপারে ব্যক্তি স্বাধীনতা বা ধর্মের পক্ষপাত শূণ্যতা। এখানে ধর্মের ব্যাপারে ব্যক্তি স্বাধীনতা বলতে উদ্দেশ্য যদি হয়, কাউকে কোন ধর্ম গ্রহণ করার জন্য বাধ্য না করা, তাহলে ইসলামের সাথে এর কোন সংঘাত নেই। কারণ, ইসলাম জোর পূর্বক কাউকে ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করেনা। এক্ষেত্রে প্রত্যেকেরই স্বাধীনতা ও ব্যক্তি স্বাতন্ত্রকে অক্ষুন্ন রেখেছে এবং ইসলামে কোন পক্ষপাতিত্বও নেই। ইসলামী রাষ্ট্রে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীরই তার নিজস্ব ধর্ম- কর্ম পালন করার অধিকার রয়েছে। ইসলামী রাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার প্রত্যেকের সমান। এ অর্থে ইসলামে পক্ষপাতশূণ্যতা বিদ্যমান।
পরিভাষায় ধর্মনিরপেক্ষতা বলা হয় রাজ্য, নীতি, শিক্ষা ইত্যাদিকে ধর্মমুক্ত রাখা। যারা এই ধর্মনিরপেক্ষতার প্রবক্তা, ব্যক্তিগত জীবনে ধর্ম-কর্ম করার বিরুদ্ধে তাদের কোন আপত্তি নেই। তারা সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পরিপন্থী। ধর্মকে তারা নিতান্তই ব্যক্তিগত ও ঘরোয়া ব্যাপার- স্যাপারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চান। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে ধর্মকে নির্বাসিত করাই তাদের লক্ষ্য। এক শ্রেণীর প্রগতিশীলরা এটাকে আধুনিক মতাদর্শের মর্যাদা দিয়ে থাকেন।
ঐতিহাসিক ভাবে "সেকিউলারিজম” সব সময় নাস্তিকতাবাদের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতার পারিভাষিক অর্থ ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের আচরিত অর্থে এটি একটি কুফুরী মতবাদ। কারণ, ধর্মের ব্যাপকতায় রাজনীতি, সমাজনীতি, শিক্ষানীতি ইত্যাদি সব কিছু আওতাভুক্ত। ইসলামী জীবন সকল ক্ষেত্র ও সবকিছুর জন্য আদর্শ। এমনকিছু নেই যার আদর্শ ইসলামে অনুপস্থিত।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারীমে ইরশাদ ফরমান, আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি এই কিতাব যা সব কিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা ও হেদায়েত। সূত্র: সূরা নাহল আয়াত- ৬৯
অন্যত্র ইরশাদ ফরমান, আমি এই কিতাবে কোন কিছু বর্ণনা করতে ছেড়ে দেয়নি। সূত্র: সূরা আনআম আয়াত-৩৮
অথচ ধর্মনিরপেক্ষতা মতবাদে ইসলামের এই ব্যাপকতাকে অস্বীকার বা অপছন্দ করাহয়। আর ইসলামের কোন অংশকে অস্বীকার বা অপছন্দ করা কুফরী। ইসলামী আকীদা-বিশ্বাসকে কেউ যদি কুসংস্কারমূলক ধারণা বিশ্বাস বলে আখ্যায়িত করে তাহলে তার ঈমান থাকবেনা।
খৃষ্টান ধর্মযাজকদের মতবাদে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মত কোন সুষ্ঠু আদর্শ বর্তমান ছিলনা। ফলে, তাদের সমাজে ধর্মনিরপেক্ষতার আন্দোলন হয়তবা যুক্তিযুক্ত ছিল। কিন্তু ইসলাম মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের জন্য শাশ্বত আদর্শ রেখেছে এবং তা স্বয়ং সর্বজান্তা সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ হতে প্রেরিত আদর্শ। তাই ইসলামে ধর্মনিরপেক্ষতার কোন যৌক্তিকতা বা কোন অবকাশ নেই।
এছাড়া, ভাষাগত ও আভিধানিক দিক দিয়ে ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মহীনতার মাঝে পার্থক্য মনে হলেও বাস্তবে এতদুভয়ের মাঝে তেমন কোন পার্থক্য নেই। ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্বজাধারীদের মূল চরিত্র এবং তাদের ক্রমাগত ইসলাম বিরোধিতা থেকে সচেতন ব্যক্তি মাত্রই এটা অনুধাবন করতে সক্ষম।
তথাকথিত ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদী ও ইসলাম বিদ্বেষীরদেরকে দেখা যায়, তারা মুসলমানের ঘরে জন্ম গ্রহণ করা এবং নিজেদেরকে মুসলমান বলে দাবী করা সত্তেও দাড়ি, টুপিওয়ালা সাচ্চা মুসলমান ও আলেম উলামাদেরকে মৌলবাদী বলে গালি দেয়। অথচ নিজেরা মঙ্গল প্রদীপ জ্বালানোর ন্যায় হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি সহ ইসলাম বিরোধী সব ধরণের অপসংস্কৃতি পালনে তৎপর হয়। এতে কি প্রমাণিত হয় না যে, ধর্মনিরপেক্ষতার মূলরূপ হচ্ছে ধর্মহীনতা।
এছাড়াও, তাদেরকে দেখা যায়, ইসলাম বিরোধী ও ইসলাম বিধ্বংসী সকল কার্য-কলাপে সমর্থন দিতে। এমনকি যারা ইসলামের পক্ষে, কুরআনের পক্ষে কথা বলে, যারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ত রক্ষার্থে এন, জি, ওদের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য তুলে ধরে এবং তাদের ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দেয়, তাদেরকে স্বাধীনতা বিরোধী, দেশের শত্রু, ফতোয়াবাজ, মৌলবাদী, উন্নয়ন কর্মকান্ডে বাঁধাদানকারী, প্রগতির পথে অন্তরায় ইত্যাদি বিশেষণে আখ্যায়িত করে এবং তাদেরকে জঘণ্য ভাষায় গালিগালাজ করে সমাজে তাদের সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়াতে থাকে।
তাই বাস্তব সত্য হলো, তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতা প্রকৃতপক্ষে ধর্মহীনতারই বাহ্যিক লেবেল মাত্র। সুতরাং ইসলাম বিদ্ধেষীদের ধর্মনিরপেক্ষতা আর ধর্মহীনতার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। প্রবাদই আছে, "বৃক্ষ তোমার নাম কী? ফলে পরিচয়।”

সূত্র: মা'আরিফুল কুরআন ২/৩৭, ফাতাওয়া রাহমানিয়া ১/১১৯-১২০

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা 📄 শী‘আ, কাদিয়ানী, হাদীস অস্বীকারকারীদের সাথে সম্পর্ক রাখা

📄 শী‘আ, কাদিয়ানী, হাদীস অস্বীকারকারীদের সাথে সম্পর্ক রাখা


শরীয়তের দৃষ্টিতে কাদিয়ানী, হাদীস অস্বীকারী ইত্যাদি সব ফিরকা যিন্দিক। এসব ইসলাম বিদ্বেষীদের সাথে সম্পর্ক রাখার হুকুম ক্ষেত্রে বিশেষে অন্যান্য কাফের, ধর্ম ত্যাগী মুরতাদদের অপেক্ষা অধিক মারাত্মক। এদের সাথে বিবাহ-শাদী, বেচা-কেনা সহ অন্যান্য সকল প্রকার লেনদেন করা নাজায়েয। এছাড়া, তাদের সাথে বন্ধুত্ব রাখা ইসলামী আত্মসম্মান বোধের পরিপন্থী। তাদের সাথে সর্ব প্রকার উঠাবসা, সম্পর্ক রাখা থেকে যথা সম্ভব বেঁচে থাকা জরুরী।
কেউ যদি তাদের সাথে কোন প্রকার লেনদেন করে ফেলে। যমন: বেচা-কেনা করা, ভাড়া দেওয়া, নেওয়া ইত্যাদি। তবে তা শরীয়তের দৃষ্টিতে কার্যকর হবে না।
অবশ্য, ইমাম আবূ ইউসুফ রহ. ও ইমাম মুহাম্মদ রহ.এর মতে এ লেন-দেন বৈধ না হওয়া স্বত্বেও কার্যকর হয়ে যাবে। আর একান্ত প্রয়োজনের সময় কিংবা এ ধরণের লেনদেন ব্যাপক আকার ধারণ করার ক্ষেত্রে সাহেবাইনের মতামত অনুযায়ী আমল করার অবকাশ আছে।

সূত্র: আহসানুল ফাতাওয়া ৮/২৫০

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية