📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 পীর-ওলীগণ সন্তান দিতে পারে বলে বিশ্বাস করা

📄 পীর-ওলীগণ সন্তান দিতে পারে বলে বিশ্বাস করা


সন্তান দেয়া, ধনী বানানো এবং বিপদ থেকে উদ্ধার করা ইত্যাদি আল্লাহর কাজ। অর্থাৎ এগুলো শুধু আল্লাহ তা'আলার সাথেই সীমাবদ্ধ। কোন নবী-রাসূলের হাতে পর্যন্ত এ ধরণের ক্ষমতা দেয়া হয়নি। সুতরাং কোন পীর-ওলী সন্তান দিতে পারে কি-না এ প্রশ্নই উঠতে পারে না। এরূপ বিশ্বাস রাখা সম্পূর্ণ শিরকী। যদি কেউ এরূপ দাবী করে যে, সে সন্তান দিতে পারে, তাহলে সে দাজ্জাল বলে প্রামাণিত হবে।
কারণ, হাদীসে এসেছে, কিয়ামতের পূর্বে আসল দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের পূর্বে তার ফিল্ড প্রস্তুত করার জন্য অনেক দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। তারা যত বড় আশ্চর্য জিনিষ দেখাক না কেন, তাদের ভক্ত হওয়া যাবে না এবং তাদের দরবারেও যাওয়া যাবে না।
তবে কোন বুযুর্গ কারো সন্তান হওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে দু'আ করতে পারেন। তেমনিভাবে, কোন পারদর্শী ডাক্তার চিকিৎসা করতে পারেন। তাতে আল্লাহ চাইলে কোন ব্যক্তির সন্তান লাভ হতে পারে। সন্তান লাভ হলে বুঝতে হবে সেটা আল্লাহই দিয়েছেন। ঐ বুযুর্গ বা ডাক্তারের সন্তান দেয়ার কোন ক্ষমতা নেই।

সূত্র: সূরা শুরা, আয়াত:-৪৯

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 পীরের নামে পশু যবেহ করা

📄 পীরের নামে পশু যবেহ করা


কোন মাযারে বা কোন পীরের নামে বা তাদের মৃত্যু দিবসে কোন নির্দিষ্ট দিনে প্রতি বছর ওরশ করা, ঈসালে ছাওয়াব ও শিরনী করা নাজায়েয ও বিদ'আত। তদুপরি, কোন পীরের নামে, খাজা বাবার নামে অথবা আল্লাহ ব্যতীত অন্য যে কোন মানুষ বা প্রাণীর নামে জানোয়ার যবেহ করলে তা খাওয়া সম্পূর্ণ হারাম। কারণ, গাইরুল্লাহর নামে জানোয়ার যবেহ করলে তা মুর্দা সমতুল্য। আর মুর্দা খাওয়া হারাম। সুতরাং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে উৎসর্গকৃত প্রাণীর গোশত খাওয়া হারাম হবে। এমনকি যবেহ করার সময় আল্লাহর নামের সাথে মিলিত করে অন্য কিছুর নাম উল্লেখ করলে সেটা খাওয়াও হারাম। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন, মুর্দা, প্রবাহিত রক্ত, শুকরের গোশত ও যে প্রাণী আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে যবেহ করা হয়েছে, তা ভক্ষণ করা তোমাদের জন্য সম্পূর্ণ হারাম করা হলো। সূত্র: সূরা মায়িদা, আয়াত-৩
অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, "যে সমস্ত প্রাণী আল্লাহর নামে যবেহ করা না হয়, অর্থাৎ যবেহ করার সময় আল্লাহর নাম উল্লেখ করা হয়নি, সেগুলোর গোশত তোমরা ভক্ষণ করো না।” সূত্র: সুরা আনয়াম, আয়াত-১১৯
আয়াতদ্বয় দ্বারা বুঝা গেল, কোন প্রাণী গাইরুল্লাহর নামে যবেহ করলে, তার গোশত খাওয়া মুসলমানদের জন্য সম্পূর্ণ হারাম। সুতরাং বিভিন্ন মাযারে বা পীরের নামে জানোয়ার যবেহ করে শিরনী বিতরণ করা সম্পূর্ণ নাজায়েয। এতে কোন মুসলমানের অংশ গ্রহণ করা বৈধ নয়。

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 পীর/ফকীরকে সিজদা করা

📄 পীর/ফকীরকে সিজদা করা


আমাদের দেশে বর্তমানে পীর-মুরীদীর ব্যবসা বেশ জমজমাট। তাইতো দেখা যায়, পীরের নামে কতিপয় অসাধু, ভন্ড, প্রতারক দেশের বিভিন্ন স্থানে পীরালী ব্যবসা খুলে বসেছে। তারা কতিপয় দালাল নিয়োগ করে রেখেছে, যারা পীরের গুণ কীত্তন করে মুরীদ সংগ্রহের কাজ করে। এছাড়া, তারা মুরীদদেরকে দরবারে প্রবেশের আদব শিখায় যে, মাথা ঝুঁকিয়ে পীর বাবার দরবারে প্রবেশকরতে হবে এবং বাবার নৈকট্য পেতে হলে তাকে সিজদাও করতে হবে।
অথচ আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করা হারাম। যে উদ্দেশ্যেই তা করা হোকনা কেন সেটা হারাম হিসাবেই গণ্য হবে। কারণ, কাউকে সিজদা করার দুটি উদ্দেশ্য হতে পারে। (১) সিজদায়ে তাজিমী তথা সম্মান সূচক সিজদা করা। (২) সিজদায়ে ইবাদত তথা ইবাদতের উদ্দেশে সিজদা করা।
আর কোন মাখলুককে করা উভয় প্রকার সিজদাই হারাম। উপরন্তু, দ্বিতীয় প্রকার সিজদা কুফরও বটে।
আর যদি কাউকে মাধ্যম বানিয়ে আল্লাকে সিজদা করা জায়েয হতো, তাহলে এর সবচেয়ে বেশী হকদার ছিলেন রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অথচ কুরআন হাদীসের কোথাও এতদসংক্রান্ত কোন বর্ণনা নেই। শুধু তাই নয়; বরং এ ব্যাপারে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠোর ভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে গেছেন। সুতরাং গাইরুল্লাকে সিজদা করার ব্যাপারে যত যুক্তিই দেয়া হোকনা কেন সবগুলো শয়তানী যুক্তি। এর দ্বারা হারাম ও কুফরী কাজ কখনো হালাল হবেনা।

সূত্র: সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৫৩২, মুসনাদে আহমদ হাদীস নং ৭৩৫৮, রাহে সুন্নত পৃ: ২৮১

📘 সমকালীন কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা > 📄 কাদিয়ানীদের ব্যাপারে শরীয়তের ফয়সালা

📄 কাদিয়ানীদের ব্যাপারে শরীয়তের ফয়সালা


বিশ্বের সমস্ত হক্কানী উলামায়ে কিরাম ও মুফতীগণের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হলো, গোলম আহমদ কাদিয়ানী ও তার অনুসারী গোষ্ঠী খতমে নবুওয়াত তথা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শেষ নবী হওয়াকে অস্বীকার করার দরুন কাফের এবং একটি অমুসলিম বাতিল ফিরকাহ। সূত্র: ফাতাওয়ায়ে দারুল উলূম ১২/৩৩৪
কোন মুসলমান তাদের এ ভ্রান্ত বিশ্বাসের সাথে ঐক্যমত পোষণ করলে সাথে সাথে তার ঈমান চলে যাবে। বর্তমানে বাংলাদেশে এদের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধভাবে এসব কাফের ও ঈমান ধ্বংসকারীদের প্রতিহত করা জরুরী ও ঈমানী দায়িত্ব। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য কাদিয়ানীদের সম্পর্কে হক পন্থী উলামায়ে কিরামের লিখা বই পুস্তক পড়া জরুরী।
এছাড়াও, এর জন্য প্রয়োজন খতমে নবুওয়াত, ইসমতে আম্বিয়া ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শেষ নবী হওয়াসহ অন্যান্য সকল সহীহ আকায়েদের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার। বাস্তবক্ষেত্রে এটা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ আন্দোলনের চেয়ে বেশী কার্যকর। এজন্য প্রত্যেক মসজিদে 'আকীদাতুত ত্বহাবী' নামক কিতাব অথবা হযরত থানবীর রহ. 'বেহেস্তী যেওর' বা 'তালীমুদ্দীনের আকায়েদ' অধ্যায়ের তা'লীমের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। হক্কানী উলামায়ে কিরাম তাঁদের ওয়ায মাহফিল সমূহে আকায়েদ বিষয়ক বয়ান বেশী বেশী করবেন।
এভাবে মুসলমানদের মাঝে সহীহ আকায়েদের প্রচার ব্যাপক করার দ্বারা বাতিল আকীদা ও আন্দোলন সমূহ নিজে নিজেই দূরীভূত হতে বাধ্য। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, রাতের অন্ধকারে যদি ইঁদুর, ব্যাঙ, সাপ ইত্যাদি বিড়ম্বনার শিকার হয়ে গৃহস্বামী একটি একটি করে মারতে থাকে, তাহলে সারা রাত জেগেও সেগুলো মেরে শেষ করতে পারবে না। কিন্তু যদি ঘরে বাতি জালানো হয়, তাহলে এক নিমিষেই সবগুলো লেজ গুটিয়ে এদিক সেদিক পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে। তেমনিভাবে, দিকে দিকে হকের মশাল প্রজ্জ্বলিত করা হলে সমস্ত বাতিল মতবাদ ও বাতিল প্রচারকারী সংস্থা বা সংগঠনগুলোও জনসমর্থন না পেয়ে আপন আপন লেজ গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবে। চাই তা যত বড় শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হোক না কেন।
যেমন: সহীহ আকায়েদের তা'লীম চালু করা হলে, তাতে সর্ব প্রথমেই কুফরী কথা ও কাজ, শিরকী কথা ও কাজ এবং বিদ'আত সহ সর্বপ্রকার কুসংস্কারমূলক কাজ, ধ্যান ধারণা ও ভ্রান্ত বিশ্বাস সমূহ এক এক করে সবিস্তারে আলোচনা করা হবে। তাতে সর্ব প্রকার ভন্ডামী, ভন্ডপীরদের অবৈধ ব্যবসা, মাযার পূজা, দরগাহ পূজা ও মসজিদ পূজা ইত্যাদি বন্ধ হবে। তারপর খতমে নবুওয়াত তথা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ই সর্বশেষ নবী তাঁর পরে আর কোন নবী আসবে না। এ আলোচনাও আসবে। এভাবে জনমনে এ বিশ্বাস বদ্ধমূল করে দিতে পারলে অমুসলিম কাদিয়ানী আন্দোলন মাটিতে মিশে যাবে।
খতমে নবুওয়াতের একটি দলীল হলো, স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা (যার হাতে নবুওয়াতের উৎস এবং যিনি সমস্ত নবীর প্রেরক) তাঁর কালামে পাকে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের কোন পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লহর রাসূল ও সর্ব শেষ নবী। সূত্র: সূরাহ আহযাব ৪০, মুফতী শফী রহ. তার লিখিত 'খতমে নবুওয়ত' নামক কিতাবে খতমে নবুওয়াত সম্পর্কে শতাধিক আয়াত ও দুই শতাধিক সহীহ হাদীস একত্রিত করেছেন। হাদীসে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন আমি সর্বশেষ নবী, আমার পর আর কোন নবী আসবেনা। সূত্র: তিরমিযী হাদীস নং ২৩৬৬ সাথে সাথে তিনি এ বলেও সতর্ক করে গেছেন যে, আমার পরে একাধিক মিথ্যা নবুওয়তের দাবীদারের আবির্ভাব ঘটবে। তোমরা তাদের থেকে সতর্ক থেকো।

সূত্র: বুখারী, হাদীস- ৩৫৩৫, আবূ দাউদ, হাদীস নং ৪২৫৪, তাফসীরে তবারী: ২৮৭৬২, মুসলিম হাদীস ১১৯৫, দুররে মানসূর ১২/৬৩, রুহুল মা'আনী-১৪/২২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00