📄 প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কটূক্তি করা
প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে যদি কেউ কটূক্তি করে কিংবা অবমাননাকর কোন কথা বলে তাহলে তার ঈমান চলে যাবে এবং বিবাহিত হলে তার বিবাহ বন্ধন ছিন্ন হয়ে যাবে। কাজেই, তখন তার নতুন করে কালিমা পড়ে তাওবা করতে হবে এবং বিবাহিত হলে বিবাহ দোহরিয়ে নিতে হবে। এছাড়া, স্থানীয় ভাবে চেয়ারম্যান, মেম্বার, মাতব্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মিলে জন সম্মুখে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পারবে।
সূত্র: আদ্দুররুল মুখতার ৪/২৩১, ফাতাওয়া দারুল উলূম ১২/৩৬২, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ১৪/৫৩
📄 সাহাবায়ে কেরামের রা. সমালোচনা করা
সাহাবাগণের রা. প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা, তাদের দোষ চর্চা করা বড় ধরণের গুনাহ এবং ইসলামী আকীদা পরিপন্থী। এর দ্বারা ঈমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা সকল সাহাবাগণের রা. বেহেশতী হওয়ার সুসংবাদ দিয়েছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সমালোচনা করতে কঠোর ভাষায় নিষেধ করেছেন। এমনকি তিনি বলেছেন, যাদের অন্তরে আমার প্রতি বিদ্বেষ আছে, তারাই কেবল আমার সাহাবাদের দোষচর্চা করতে পারে।
বলা বাহুল্য, সাহাবাগণ মাসুম বা এমন নিষ্পাপ নন যে, তাদের দ্বারা কোন গুনাহই সংঘঠিত হতে পারবেনা; বরং তাদের দ্বারা কখনো কোন ত্রুটি বা গুনাহ হতে পারে। অবশ্য, তদের থেকে কখনো কোন গুনাহ হয়ে গেলে তারা কাল বিলম্ব না করে তৎক্ষণাত তাওবা করে নিজেদেরকে গুনাহ থেকে পাক সাফ করে নিয়েছেন।
দ্বীনের জন্য তাঁরা এত বড় বড় ও যবরদস্ত কুরবানী পেশ করেছেন যা অন্য কারো দ্বারা সম্ভব হয় নাই। কিয়ামত পর্যন্ত সম্ভব হবেও না। এ কারণে তাদের ভুল-ত্রুটি নিয়ে সমালোচনা করা উম্মতের জন্য হারাম। পক্ষান্তরে, তাদের ব্যাপারে ভাল আলোচনা করা ঈমানের অঙ্গ। সাহাবাগণ মাসুম নন সত্য, তবে তারা মাগফুর তথা ক্ষমাপ্রাপ্ত ও হকের মাপকাঠি। “আকীকাদাতু তাহাবী” নামক কিতাবে বর্ণিত আছে, সাহাবাগণের প্রতি মহাব্বত রাখা দ্বীন-ঈমান ও ইহসান। তাদের প্রতি বিদ্বেষ রাখা কুফরী, মুনাফিকী ও সীমালঙ্ঘণের শামিল।
উল্লেখিত আলোচনা দ্বারা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হলো যে, সাহাবাগণের রা. দোষচর্চা ও সমালোচনা করা শরীয়তে নিষিদ্ধ।
সূত্র: সূরা তওবা আয়াত-১০০, সূরা মুহাম্মদ আয়াত-২৬ মুসলিম শরীফ হাদীস নং ৪৬২, আকীদাতুত তহাবী পৃ: ১৪০
📄 আলেম উলামাকে গালি দেওয়া বা অবজ্ঞা করা
কোন সাধারণ মুসলমানকেও গালি দেয়া, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও অপমান করা নাজায়েয ও কবীরা গুনাহ। আর আলেমকে গালি দেয়া আরও ভয়াবহ অন্যায় ও কবীরা গুনাহ।
সুতরাং কোন আলেমদেরকে আলেম হওয়ার কারণে এবং দ্বীনী ইলম তথা কুরআন সুন্নাহ ও শরীয়তের ধারক বাহক হওয়ার কারণে তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করলে অথবা তাদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার উদ্দেশ্যে গালিগালাজ করলে বা অপমান অপদস্ত করলে সে কাফের হয়ে যাবে।
ফলে, কালেমা পড়ে নতুন করে মুসলমান হতে হবে। আর বিবাহিত হলে বিবাহ দোহরিয়ে নিতে হবে।
যদি সে মুসলমান হতে অস্বীকার করে তাহলে তাকে দেশান্তরের শাস্তি দেয়া যাবে।
আর যোক্তিক কোন কারণ ব্যতীত দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে যেমন: ব্যক্তিগত শত্রুতা ইত্যাদির কারণে কোন আলেমকে গালিগালাজ, তুচ্ছতাচ্ছিল্য বা অপমান করলে সে ফাসেক হয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে তার ব্যাপারে কুফরীর আশংকাও রয়েছে।
এক্ষেত্রেও তার কর্তব্য হলো, ইস্তেগফার করা এবং অন্তর থেকে আলেম বিদ্বেষ দূর করে তাদেরকে ওয়ারিশে নবী হিসাবে সম্মান ও ইহতেরাম করা।
সূত্র: বোখারী শরীফ ১/১২, মুসলিম শরীফ ১/৫৮, রদ্দুল মোহতার ৬/৩৫৮, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/২৭, ইমদাদুল ফাতাওয়া ৫৩৯৯, ফাতাওয়া উসমানী ১/৮৪, আহসানুল ফাতাওয়া ১/৩৮, কিফায়েতুল মুফতী ১/৫৪
📄 পীর-ওলীগণ সন্তান দিতে পারে বলে বিশ্বাস করা
সন্তান দেয়া, ধনী বানানো এবং বিপদ থেকে উদ্ধার করা ইত্যাদি আল্লাহর কাজ। অর্থাৎ এগুলো শুধু আল্লাহ তা'আলার সাথেই সীমাবদ্ধ। কোন নবী-রাসূলের হাতে পর্যন্ত এ ধরণের ক্ষমতা দেয়া হয়নি। সুতরাং কোন পীর-ওলী সন্তান দিতে পারে কি-না এ প্রশ্নই উঠতে পারে না। এরূপ বিশ্বাস রাখা সম্পূর্ণ শিরকী। যদি কেউ এরূপ দাবী করে যে, সে সন্তান দিতে পারে, তাহলে সে দাজ্জাল বলে প্রামাণিত হবে।
কারণ, হাদীসে এসেছে, কিয়ামতের পূর্বে আসল দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের পূর্বে তার ফিল্ড প্রস্তুত করার জন্য অনেক দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। তারা যত বড় আশ্চর্য জিনিষ দেখাক না কেন, তাদের ভক্ত হওয়া যাবে না এবং তাদের দরবারেও যাওয়া যাবে না।
তবে কোন বুযুর্গ কারো সন্তান হওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে দু'আ করতে পারেন। তেমনিভাবে, কোন পারদর্শী ডাক্তার চিকিৎসা করতে পারেন। তাতে আল্লাহ চাইলে কোন ব্যক্তির সন্তান লাভ হতে পারে। সন্তান লাভ হলে বুঝতে হবে সেটা আল্লাহই দিয়েছেন। ঐ বুযুর্গ বা ডাক্তারের সন্তান দেয়ার কোন ক্ষমতা নেই।
সূত্র: সূরা শুরা, আয়াত:-৪৯