📄 আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে হাযির-নাযির বা আলিমুল গায়েব মনে করা
সর্বত্র হাযির-নাযির হওয়া যেমন আল্লাহ তা'আলার বৈশিষ্ট তদ্রুপ আলেমুল গায়েব হওয়াও আল্লাহ তা'লার বৈশিষ্ট। সুতরাং আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্য কাউকে নিজ ক্ষমতা বলে আলেমুল গায়েব বা হাযির-নাযির বিশ্বাস করা শিরকী। কেউ এরূপ আকীদা রাখলে সে ইসলামের গন্ডি থেকে বের হয়ে যাবে। তার পিছনে নামায পড়া জায়েয হবেনা। তার বিবাহ বন্ধনও ঠিক থাকবে না। নতুনভাবে কালিমা পড়ে ঈমান এনে তওবা করে বিবাহ দুহরিয়ে নিতে হবে।
আর যদি আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা বলে কেউ কাউকে হাযির-নাযির কিংবা আলেমুল গায়েব মনে করে তাহলে সেটা তার মনগড়া মত এবং আল্লাহ ও তদীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি মিথ্যা অপবাদ হবে। কেননা, আল্লাহ পাক কোথাও এ কথা বলেননি যে, তিনি স্বীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে হাযির-নাযির কিংবা আলেমুল গায়েব বানিয়েছেন। তেমনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও কখনো দাবী করেননি যে, তিনি হাযির-নাযির বা আলেমুল গায়েব ছিলেন।
উপরন্তু, খোদ নবী জীবনে এমন বহু ঘটনা রয়েছে যেগুলো দ্বারা এ কথা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত হয় যে, তিনি নির্দিষ্ট ওহীর বাইরে কোন গায়েব জানতেন না এবং তিনি হাযির-নাযিরও ছিলেন না। যেমন: হযরত আয়েশা রা. এর প্রতি মুনাফিকদের মিথ্যা অপবাদ, বীরে মাউনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয় সাহাবীদের শাহাদতের ঘটনা, ইয়াহুদীদের পক্ষ থেকে বিষ মিশ্রিত খানা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খাওয়া সহ অসংখ্য ঘটনা এর জলন্ত প্রমাণ।
এতদসত্ত্বেও কোন কোন জাহেল কুরআন মাজীদের দু' একটি শব্দের মনগড়া ব্যাখ্যা করে এ গুমরাহ মতবাদ প্রমাণ করতে চায়। অথচ তাদের এ মতবাদ স্বয়ং কুরআন মজীদের অসংখ্য আয়াতের সুস্পষ্ট ভাষ্যের পরিপন্থী। সুতরাং আল্লাহ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলেমুল গায়েব বা হাযির-নাযির। এ মতটি নিছক একটি গুমরাহী এবং আকীদাগত মারাত্মক ধরণের বিদ'আত। এ মত পোষণকারী কাফের না হলেও নিশ্চিত ফাসেক ও গুমরাহ।
সূত্র: শরীয়ত ইয়া জাহালাত পৃ:৩৮০, মিশকাত শরীফ: ১/৮৬২, সুনানে দারেমী পৃ: ৪১৬, জাওয়াহেরুল ফিকহ ১/২১৭, আহসানুল ফাতাওয়া ১/৩৪৭
📄 রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নূরের তৈরী বলে মনে করা
কেউ কেউ বলে থাকে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নূরের তৈরী ছিলেন। অথচ এ ব্যাপারে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের আকীদা-বিশ্বাস হলো, তিনি মাটির তৈরী ছিলেন; নূরের তৈরী নয়। তবে তার মাটির দেহের মধ্যে যথেষ্ট নূরের সংমিশ্রণ ছিল। আর এটা তার মাটির তৈরী মানুষ জাতের হওয়ার পরিপন্থী নয়। কারণ, মানব জাতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, তারা পিতার ঔরসে মাতৃগর্ভে জন্মলাভ করে। মাতৃদুগ্ধ পান করে। ধীরে ধীরে ছোট থেকে বড় হতে থাকে। পানাহার, নিদ্রা, পেশাব-পায়খানা ইত্যাদির মত স্বাভাবিক ক্রিয়া কর্মের পাশাপাশি তারা জৈবিক চাহিদার কারণে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং এ বন্ধন থেকে তাদের সন্তান-সন্তুতি জন্ম হয়ে থাকে। তারা সুখে যেমন হাসে, দুঃখে তেমন কাঁদে। রোগ, শোক ও দুঃখ যেমন তাদের কাতর করে, তেমনি যাদু ও বিষক্রিয়া তাদের কষ্ট দেয়। এমনকি মৃত্যুর দুয়ারে পর্যন্ত ঠেলে দেয়। আর এ সমস্ত মানবীয় বৈশিষ্ট্য কেবল মাটির তৈরী মানুষের বেলায়ই প্রযোজ্য।
এখন এমন কেউ কি আছেন, যিনি প্রমাণ করতে পারবেন যে, মানবীয় এ সমস্ত বৈশিষ্ট্যের কোন একটি থেকেও হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুক্ত ছিলেন? কেউ পারবেন না। কারণ, তিনি তো মাটির তৈরী মানুষ ছিলেন। শুধু সাধারণ একজন মানুষই নন; বরং তিনি ছিলেন, সমস্ত নবীগণের সরদার, সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব।
নিম্নে এ বিষয়ে কতিপয় প্রমাণ পেশ করা হচ্ছে: পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, “হে নবী! আপনি বলে দিন, আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। তবে আমার নিকট ওহী আসে।” (এ ক্ষেত্রে আমি তোমাদের থেকে ব্যতিক্রম) সূত্র: সূরা কাহাফ, আয়াত-১১০
অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে, "আর আমি মানুষকে মাটির সারাংশ (খাদ্যসার) হতে সৃষ্টি করেছি।” সূত্র: সূরা মু'মিনূন, আয়াত-১২
প্রিয় পাঠক! প্রথম আয়াতের আলোকে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মানুষ বলা জরুরী। তা না হলে সেই আয়াতকে অস্বীকার করা হবে, যা নিঃসন্দেহে কুফরী। আর যখন মানুষ বলা হলো, তখন দ্বিতীয় আয়াতের ভাষ্য অনুযায়ী তাঁর মাটির তৈরী হওয়ার বিষয়টিকে জরুরীভাবে বিশ্বাস করতে হবে। অন্যথায় দ্বিতীয় আয়াত অস্বীকার করা হবে। আর এটাও কুফরী।
তাছাড়া, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নূরের তৈরী বললে মানুষ যে আশরাফুল মাখলুকাত তা থেকে তাঁর বের হয়ে যাওয়া আবশ্যক হয়, যা কখনও তাঁর জন্য বাঞ্চনীয় নয়। কাজেই, তাঁকে যদি শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসাবে স্বীকার করা হয় তাহলে অবশ্যই তাঁকে মাটির তৈরী মানুষ হিসাবে স্বীকার করতে হবে।
উল্লেখিত আয়াতদ্বয়ের আলোকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাটির তৈরী হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলো।
এছাড়াও, হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, "রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন মানুষ ছিলেন।” সূত্রঃ মিশকাত ২/২৫০
অন্য হাদীসে প্রিয়নবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই আমি একজন মানুষ।” সূত্র: বুখারী শরীফ ১/৩৩২
উপরুক্ত হাদীসদ্বয় দ্বারা প্রমাণিত হলো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম মানুষ ছিলেন। আর মানুষতো মাটিরই হয়, নূরের তৈরী নয়। সুতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাটির তৈরী মানুষ ছিলেন।
পক্ষান্তরে, তাঁর শরীর মুবারক নূরের তৈরী ছিল, এ ব্যাপারে কোন আয়াত বা সহীহ হাদীস পাওয়া যায় না।
তাই একথা অস্বীকার করা যায় না যে, তিনি মাটির তৈরী ছিলেন এবং মানুষ জাতের ছিলেন; এর বাইরে অন্য কোন জাতের ছিলেন না।
তবে রুহানিয়্যাতের ন্যায় শারীরিক বিভিন্ন দিক দিয়েও তিনি সাধারণ মানুষ থেকে ব্যতিক্রম ছিলেন। যেমন হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শরীরে জান্নাতী ৪০ জন পুরুষের সমপরিমাণ শক্তি ছিল। (সুবহানাল্লাহ) সূত্র: নাসাঈ, হাদীস নং ১৪৭ আর রাসূল হিসেবে তাঁর মর্যাদা তো সকল নবী ও রাসূলের ঊর্ধ্বে ছিল।
উল্লেখিত, বিভিন্ন আয়াতে বা হাদীসে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে “নূর” বলা হয়েছে, তার উদ্দেশ্য হলো, তিনি হিদায়াতের নূর ও পথ প্রদর্শনের জ্যোতি ছিলেন।
মোটকথা, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নূরকে যারা আল্লাহর সত্তার নূরের অংশ বলে আকীদা পোষণ করে, তাদের এ আকীদা শিরকের পর্যায়ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি "রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নূরের তৈরী” এ আকীদা পোষণ করবে সে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আত থেকে বের হয়ে যাবে।
সূত্র: সূরা আ'রাফ, আয়াত-৬৯, সূরা হুদ, আয়াত-২৭, সূরা মুমিনূন, আয়াত- ৩৩, খাইরুল ফাতাওয়া ১/১৩৭
📄 শরীয়তের বিধি-বিধান নিয়ে কটূক্তি করা, বিদ্রুপ করা
ইসলাম আল্লাহ পাকের একমাত্র মনোনীত ধর্ম এবং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এর প্রতিটি বিধি-বিধান সর্বযুগে ও সর্বদেশে সর্বস্তরের মানুষের জন্য সমান ভাবে প্রযোজ্য। আর যেহেতু এ ধর্ম মহান রাব্বুল 'আলামীন কর্তৃক মনোনীত, তাই এর বিধি-বিধান চির শাশ্বত ও অলংঘনীয়। ইসলামের সূচনা কালে যে সকল আইন-কানুন ইসলামে বিধিবদ্ধ ছিল, আজ দেড় হাজার বছর পরও সে সকল কানূনই বহাল আছে এবং ভবিষ্যতেও বলবৎ থাকবে। এর মধ্যে কোন রকমের পরিবর্তন বা পরিবর্ধনের চেষ্টা করা, অথবা পরিবর্তনের দাবী তোলা ধর্মদ্রোহীতার শামিল।
সুতরাং ইসলামের ছোট বড় মৌলিক আক্বায়েদ ও আহকাম প্রত্যেক মুসলমানের জন্য মেনে নেয়া ফরয। এর কোন একটাকে অস্বীকার করলে বা তুচ্ছ জ্ঞান করলে অথবা কোন বিষয় নিয়ে বিদ্রুপ-উপহাস করলে ইসলামের গন্ডি থেকে বের হয়ে যাবে। সূত্র: ফাতাওয়া শামী ৪/২২২, ফাতাওয়া দারুল উলূম ১২/৩৫৫
মনে রাখতে হবে, কোন মুসলমান যদি ধর্মীয় হুকুম-আহকাম ও আচার-অনুষ্ঠান পালন না করে, কিন্তু সে কোন ধর্মীয় বিধি-বিধানকে অস্বীকার বা কটাক্ষও করে না, তাহলে সে ফাসেক (অপরাধী ও গুণাহগার) বলে গণ্য হবে। ফলে, এ অবস্থায় যদি সে মারা যায়, তাহলে নিয়ম মাফিক তার জানাযা পড়তে হবে। তবে বিশিষ্ট আলেম-উলামা ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের তাতে অংশ গ্রহণ না করা উচিৎ। যাতে করে এ ধরণের মানুষের কিছুটা বোধদায় হয় এবং এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে স্বীয় অবস্থা থেকে ফিরে আসে। সূত্র: ইমদাদুল আহকাম ১/১৩১, ফাতাওয়া দারুল উলূম ৫/৩৪৯
পক্ষান্তরে, ইসলামে ধর্মদ্রোহীর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সে বিষয়ে জানার পূর্বে ধর্মদ্রোহী বা মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) এর পরিচয় বিস্তারিত জানা প্রয়োজন।
মুরতাদের সজ্ঞা: যদি মুসলমান নামধারী কেউ ইসলামের মৌলিক আক্বীদা-বিশ্বাস যথা: কবর, হাশর, মীযান, পুলসিরাত, বেহেশত, দোযখ, পুনরুত্থান, নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত প্রভৃতির কোন একটি অস্বীকার বা অবিশ্বাস করে, তাহলে সে মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) বলে গণ্য হবে। সূত্র: ফাতাওয়া তাতারখানিয়াহ ৫/৫০০
উল্লেখ্য, মু'মিন হওয়ার জন্য সকল আক্বীদায় বিশ্বাসী হওয়া জরুরী। কিন্তু কাফের বা মুরতাদ হওয়ার জন্য সবগুলি অস্বীকার করা জরুরী নয়; বরং জরুরী আক্বীদা-বিশ্বাস সমূহের কোন একটিকে অবিশ্বাস করলেই মুরতাদ হয়ে যাবে।
নিম্নে এর কয়েকটি উদাহরণ পেশ করা হচ্ছে: কেউ আল্লাহ তা'আলা সম্বন্ধে কটূক্তি করলে কিংবা তাঁর কোন বিধি-বিধান নিয়ে সমালোচনা কলে সে মুরতাদ। সূত্র: ফাতাওয়ায়ে তাতারখানিয়াহ ১০/১০৭
কেউ ইসলাম ধর্ম সম্বন্ধে কটূক্তি করলে, কিংবা গালি গালাজ করলে বা অশালীন কোন মন্তব্য করলে সে মুরতাদ। সূত্র: ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ১০/১০৭
কুরআন পাকের সাথে কেউ বেয়াদবী করলে, বা তার সম্বন্ধে আপত্তি জনক কোন কথা বললে সে মুরতাদ। সূত্র: ফাতাওয়া দারুল উলূম ১২/৩৬৩
নারী জাতির পর্দা ব্যবস্থাকে কেউ কটাক্ষ করলে এবং এ সম্বন্ধে বর্ণিত কুরআন-হাদীসের আহকাম অস্বীকার করলে সেও মুরতাদ। সূত্র: ফাতাওয়া দারুল উলূম ১২/৩৩৯
অতএব, ধর্মদ্রোহীর ব্যাপারে শরীয়তের ফয়সালা হলো, (১) রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে বন্দী করা হবে এবং প্রকাশ্য তওবার জন্য বাধ্য করা হবে। আর তাওবা করতে অস্বীকার করলে তাকে ফাঁসীতে ঝুলানো হবে।
(২) তওবার পূর্ব পর্যন্ত পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও অন্যান্য মুসলমানের জন্য তার সাথে সম্পর্ক রাখা, উঠা-বসা করা, কথা-বার্তা বলা, লেনদেন করা জায়েয হবে না; বরং হারাম হবে। এছাড়াও, সে মহিলা হলে স্বামী থেকে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাবে। বিধায়, তখন তাদের উভয়ের দেখা সাক্ষাত, মেলা-মেশা সবই হারাম হবে। সহবাস করলে তা অবৈধ বা যিনা হবে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে সে হারামযাদা বা জারজ সন্তান বলে গণ্য হবে। সূত্র: আদ দুররুল মুখতার ৩/১৯৩
(৩) সে মৃত্যু বরণ করলে তার জানাযা পড়া হারাম হবে। সূত্র: ফাতাওয়া দারুল উলূম ৫/২৯
(৪) আত্মীয় স্বজন কর্তৃক তার জানাযার ব্যবস্থা করাও হারাম হবে। সূত্র: ফাতাওয়া দারুল উলূম ৫/২৯০
(৫) মুসলমানদের কবরস্থানে তাকে মাটি দেয়া যাবেনা; বরং কোন গর্তের মধ্যে ফেলে তাকে মাটি চাপা দিতে হবে। সূত্র: আদ্দুররুল মুখতার ২/২৩০, ফাতাওয়া দারুল উলূম ৫/২৯১
এগুলো হলো, তার দুনিয়াবী বিধি-বিধান। আর পরকালীন ভয়াবহ শাস্তি যে কত কঠিন হবে তা বলারই অপেক্ষা রাখে না।
📄 প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কটূক্তি করা
প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে যদি কেউ কটূক্তি করে কিংবা অবমাননাকর কোন কথা বলে তাহলে তার ঈমান চলে যাবে এবং বিবাহিত হলে তার বিবাহ বন্ধন ছিন্ন হয়ে যাবে। কাজেই, তখন তার নতুন করে কালিমা পড়ে তাওবা করতে হবে এবং বিবাহিত হলে বিবাহ দোহরিয়ে নিতে হবে। এছাড়া, স্থানীয় ভাবে চেয়ারম্যান, মেম্বার, মাতব্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মিলে জন সম্মুখে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পারবে।
সূত্র: আদ্দুররুল মুখতার ৪/২৩১, ফাতাওয়া দারুল উলূম ১২/৩৬২, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ১৪/৫৩