📘 সলাত পরিত্যাগকারির বিধান > 📄 বেনামাযীদের সংখ্যাধিক্যতা ও তার কারণসমূহ

📄 বেনামাযীদের সংখ্যাধিক্যতা ও তার কারণসমূহ


আমাদের দেশে তথা সমগ্র ভারতবর্ষে নামাযীর চেয়ে বেনামাযীর সংখ্যাই বেশী। রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রী থেকে শুরু করে ভিক্ষুক পর্যন্ত সর্বস্তরে বেনামাযী ভরা। দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের জনৈক ডক্টর প্রফেসর ইসলামী ফাউন্ডেশনের একটি পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন বাংলাদেশে পাঁচ ওয়াক্ত পুরো পড়া নামাযীর সংখ্যা শতকরা (২%) দু'জন আর শুধু জুমু'আহ্ ছলাত পড়া ৮০ জন।
আমাদের দেশে বেনামাযীর এ সংখ্যাধিক্যতার নানাবিধ কারণ রয়েছে। যার কিছু কারণ নিম্নে উদ্ধৃত হল:
(১) সলাতের প্রকৃত গুরুত্ব, মর্যাদা ও অবস্থান উপযুক্তভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয় না।
(২) সলাত আদায় করার লাভ ও উপকারিতা যেভাবে উল্লেখ করা হয় এর বিপরীতে সলাত পরিত্যাগকারীর মারাত্মক ক্ষতি ও ধ্বংসাত্মক পরিণতির কথা তেমনভাবে উল্লেখ করা হয় না। অথচ উপকার অর্জনের চেয়ে অপকার ও ক্ষতি দমনে মানুষ বেশি তৎপর হয়ে থাকে।
(৩) সলাত পরিত্যাগকারীর কিছু পরকালীন ক্ষতি ও পরিণতি উল্লেখ করা হয় কিন্তু ইহকালীন তথা ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কি ক্ষতি ও পরিণতির শিকার তা উল্লেখ করা হয় না। যা এ বই-এ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
(৪) আবার কেউ হাদীসের পরিপন্থী কিছু নিয়ম-কানুন যোগ হওয়ায় এগুলো তাদের জন্য সলাত আদায়ে অন্তরায় হয়েছে। যেমন বিভিন্ন নামাযের জন্য গদবাধা নিয়ত পড়ার নিয়ম যেমন 'নাওয়ায়তু আন ...... ইত্যাদি। অনেকে গদবাধা নিয়তগুলো মুখস্থ নেই, এই অজুহাতে ছলাত পড়ে না। ওযূতে বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ধোয়ার সময় নির্দিষ্ট দু'আ পড়া। অথচ কুরআন ও ছহীহ হাদীছে শুরু শেষে ছাড়া আর কোন দু'আই নেই।
(৫) অনেকের সলাত আদায়ের ইচ্ছা থাকলেও নিয়ম-কানুন ও সূরা কিরাআত না জানার কারণে সলাত আদায় করে না।
ছহীহ শুদ্ধ নিয়ম কানুন অনুযায়ী ছলাত আদায় করতে চাইলে আমাদের অনূদিত ও সম্পাদনাকৃত আল্লামাহ নাছিরুদ্দীন ও আবদুল আযীয নূরস্তানী প্রণীত 'ছলাত সম্পাদন ও আদায়ের পদ্ধতি (সাথে রয়েছে মুনাজাত সমাধান) বই দু'খানা পড়ুন।
(৬) এদেশের মানুষ প্রায় শতকা ৯০ ভাগই শ্রমজীবি, সবাই ব্যস্ততার জীবন যাপন করে। অথচ আমাদের দেশের শতকরা ৯৯ জনেরই বেশী আলিম ফরয সুন্নাতের শব্দগত পার্থক্য করে থাকে কিন্তু আমলের ক্ষেত্রে উভয় প্রকার ইবাদাত সমান করে দেখেন এবং এভাবেই জনগণের সামনে তুলে ধরেন। তার মানে যত ব্যস্ত লোকই হোক না এবং যত চাপের মুখে থাকুক না কেন যোহরের সলাতের জন্য মসজিদে প্রবেশ করলে ফরয পূর্ব ৪ রাকআত ফরয ৪ রাকআত ফরয বাদ ২ রাকআত = এই মোট ১০ রাকআত সলাত না পড়ে মসজিদ থেকে বের হতে পারবে না। অথচ সলাত পরিত্যাগের পরিপ্রেক্ষিতে যে শাস্তি ও পরিণতির কথা এসেছে তা কেবল ফরয সলাত ও রাকআতগুলোর ব্যাপারেই। কিন্তু আমলের ক্ষেত্রে উভয় প্রকার সলাতকে একাকার করে রাখার কারণে ১০ রাকআতের সময় না থাকায় বা এতগুলো রাকআতের ঝামেলায় নামাযই পড়ে না। অথচ শুধু ৪ রাকআত পড়ে বের হয়ে গেলেই সে সলাত পরিত্যাগের যাবতীয় শাস্তি, কুপরিণতি ও ক্ষতি থেকে মুক্ত হয়ে যেত।
(৭) অনেকে নামাযের এমনভাবে উপকারিতার বেষ্টনী দেয় যে, এ বেষ্টনীর কারণে অনেকেই ছলাত পড়ে না। এ বেষ্টনী দেয়া হয় সূরা আনকাবূতের ৪৫ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা ও একটি অত্যন্ত দুর্বল হাদীছ দ্বারা। সূরা আনকাবূতের উক্ত আয়াতের অর্থ "..... আর ছলাত কায়েম কর, নিশ্চয় ছলাত গর্হিত ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে"।
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়, যে ব্যক্তি ছলাত পড়েও অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকে না তার ছলাত হয় না। তাই যারা বিভিন্ন গুনাহর কাজে জড়িত তারা ছলাত আদায় করে না। এ সম্পর্কে যঈফ হাদীছটি:
من لم تنهه صلاته عن الفحشاء والمنكر فلا صلاة له، رواه ابن
ابي حاتم في تفسيره، قال الالباني : منكر، سلسة الأحاديث
الضعيفة والموضوعة رقم : ۹۸۵ ، وفي رواية الطبراني : «لم
يزدد من إلا بعدا » ضعيف الجامع الصغير رقم : ٥٨٣٤
উক্ত হাদীছের অর্থ, যে ব্যক্তির ছলাত তাকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে না তার ছলাত হয় না। অন্য বর্ণনা মতে সে ব্যক্তির আল্লাহ থেকে দূরত্ব বাড়ে। শাইখ আলবানী হাদীছটি যাঁচাই করে “মুনকার” (প্রত্যাখ্যানযোগ্য) বলেছেন। (সিলসিলা যঈফা, হাঃ নং ৯৮৫, যঈফুল জামি ৫৮৩৪)
অথচ বিভিন্ন ছহীহ হাদীছ থেকে জানা যায় যে, নামাযী ব্যক্তির দ্বারা অনেক ধরনের গুনাহ হতে পারে। যার কিছু গুনাহ (ছগীরাহগুলো) নামাযের মাধ্যমেই মাফ হয়ে যায়।
(৮) উম্মী কাযা: অনেকের বালিগ হওয়ার পর বহু বছর ছলাত না পড়ার পর ছলাতের পাবন্দ হতে চাই কিন্তু এক শ্রেণীর বেদলীল আলিমের ফতওয়ার যন্ত্রণায় ৫ ওয়াক্ত ছলাতের পাবন্দ হওয়া থেকে পিছু হটে যায়। তথাকথিত আলিমরা সারা জীবন উমরী কাযার ঘানী টানার ফতওয়া দেন।
অথচ কাযা হল নামাযী ব্যক্তির জন্য। নামায পড়তে পড়তে কোন গ্রহণযোগ্য কারণবশতঃ হঠাৎ দু'এক ওয়াক্ত ছুটে গেলে সেটা তৎক্ষণাৎ কাযা পড়ে ফেলবে। কিন্তু যে কোন দিন নামাযই পড়েনি অথবা কোন ওয়াক্ত পড়েছে ও কোন ওয়াক্ত বাদ দিয়েছে তার জন্য কোন কাযা নেই এবং সংখ্যা স্থির করে কাযা করাও সম্ভব নয়। তাই সে শুধু শর্তসাপেক্ষে তাওবাহ করে নিয়মিতভাবে সে দিন থেকে ছলাত পড়বে।
(৯) নামাযী ও বেনামাযীর সংজ্ঞার ব্যাপারে অস্পষ্টতা। আর এ অস্পষ্টতা জনসাধারণ তো দূরের কথা অনেক আলিমগণের নিকটেই বিদ্যমান।
জনসাধারণের কেউ কেউ মনে করে কোন নামায না পড়ে শুধু বছরে দুই ঈদের নামায পড়লেও নামাযীদের অন্তর্ভুক্ত থাকা যায়। কেউ কেউ মনে করে প্রত্যেক সপ্তাহের শেষে শুধু জুমু'আহ্ সলাত আদায় করলেই নামাযী বলে গণ্য হবে। কেউ কেউ মনে করে যে, শুধু রমাযান মাসে নামায পড়লে নামাযী বলে গণ্য হবে। কেউ কেউ মনে করে পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের মধ্যে দু'এক ওয়াক্ত সলাত আদায় করলেই নামাযী বলে গণ্য হওয়া যাবে।
জনসাধারণের এ দৃষ্টিভঙ্গির সাথে দেশীয় আলিম শ্রেণীর অনেকেই একমত। মূলতঃ উপরোক্ত চার প্রকার নামাযীই পাক্কা বেনামাযী। শুধু শ্রমেই এক শ্রেণী থেকে আরেক শ্রেণীর পার্থক্য। কেউ কম শ্রম দিয়ে বেনামাযী আর কেউ বেশী শ্রম দিয়েও বেনামাযী।
এছাড়া নিয়মিতভাবে যে কোন তিন বা তদোধিক ওয়াক্ত অথবা ইশা ও ফজর সলাত বিনা গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া একত্রিত করে পড়া ব্যক্তি বেনামাযীর অন্তর্ভুক্ত। হ্যাঁ তবে অবস্থা ও কারণ বিশেষে যোহর ও আছর এবং মাগরিব ও ইশার ছলাত একত্রে পড়া যায়। উল্লেখিত দু' শ্রেণীর লোক পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়েও বেনামাযী এতে কোন সন্দেহ নেই।
এমনিভাবে যে ব্যক্তি রুকূতে স্থির হয় না, রুকু থেকে সোজাভাবে দাঁড়ায় না, সাজদাহয় স্থির হয় না ও দু' সাজদাহ্ মাঝে স্থিরভাবে বসে না অথবা ছলাতের যে কোন রুকন ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দিয়ে সলাত পড়ে তারাও এক প্রকার বেনামাযী।
একটি শারঈ ব্যাকরণ বা মৌলনীতি: যে কোন ইবাদাত ও আমল নির্দিষ্ট ও স্থির কোন সংখ্যা বিজড়িত হলে সেই সংখ্যা পূর্ণ না করা হলে ঐ আমলটি বিন্দুমাত্রও গণ্য হবে না। আবার ঐ সংখ্যার বেশী করা হলেও বিন্দুমাত্র গণ্য হবে না। উদাহরণ সমূহঃ
১। যোহরের ফরয সলাতের ৪ রাকআতের ১ রাকআত ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দিয়ে সালাম ফিরালে ৩ রাকআতও বিফলে যাবে। যোহরের কিছু অংশ বা অধিকাংশ আদায় হয়েছে বলা যাবে না।
২। ২টি সাজদাহ্র ১টি ইচ্ছাকৃত বাদ দেয়া হলে ৪ রাকআত বিশিষ্ট পুরো সলাতই ব্যর্থ হয়ে যাবে।
৩। রমাযানের ২৯/৩০টি রোযার ১টি ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দিলে ও পরবর্তীতে তাওবাহ সহ ক্বাযা না করলে একটি রোযাও গণ্য হবে না।
৪। কা'বা শরীফের ৭ ত্বওয়াফের ১টি ইচ্ছাকৃত বাদ দিলে ১ ত্বওয়াফও গণ্য হবে না।
৫। সফা মারওয়ার ৭ চক্করের ১ চক্কর ইচ্ছাকৃত বাদ দিলে ১ চক্করও গণ্য হবে না। ইত্যাদি।
৬। সলাতের পরে ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার ও ১ বার 'লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু .......' পড়ার নিয়ম রয়েছে। কেউ যদি ৩৩ বারের পরিবর্তে ৩২ বা ৩৪ বার (শেষেরটি ছাড়া) পড়ে তবে এ আমলে বিন্দুমাত্র সওয়াব পাওয়া যাবে না বরং গুনাহ হবে।
৭। অনুরূপভাবে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সলাতের ভিতর কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ১ ওয়াক্তও ছেড়ে দেয় পরবর্তীতে তাওবাহ সহ ক্বাযা না করে তাহলে ঐ দিনের ১ ওয়াক্ত সলাতও গণ্য হবে না। অর্থাৎ ৪ ওয়াক্তই বরবাদ হয়ে যাবে।
এ ব্যাকরণটি শুধু ইবাদাত বা ধর্মীয় ক্ষেত্রেই নয়, বরং দুনিয়াবী কার্যক্রমেরও কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হচ্ছে। যেমন মেট্রিক পাশ করতে হলে ১০টি সাবজেক্টের পরীক্ষায় পাশ মার্ক পেতে হবে। ৯ সাবজেক্টে লেটার মার্ক পেল কিন্তু এক সাবজেক্টে ইচ্ছাকৃতভাবে অংশগ্রহণই করেনি অথবা অংশগ্রহণ করে ফেল করলে এবং পরবর্তীতে সেই সাবজেক্টের পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা না থাকলেও পাশ না করলে ৯ সাবজেক্টের কিছু মাত্রও গণ্য হবে না। ১ সাবজেক্ট বাদ দেয়ায় ৯ সাবজেক্টও বাদ হয়ে যায়।
পাঁচ ওয়াক্ত সলাতের এক ওয়াক্ত ইচ্ছাকৃত বাদ দিলে এ অবস্থা হয় তার দলীল নিম্নরূপঃ
روى عبد الله بن عباس رضي الله عنه عن عمر في قصة
طعنه في المسجد ........ ثم أفاق فقال : هل صلى الناس ؟
قال : فقلنا : نعم ، فقال : «لا إسلام لمن ترك الصلاة " وفي
سياق أخر : "لا" حظ في الإسلام لمن ترك الصلاة » رواه الإمام
مالك في الموطأ ، والبيهقي من طريق مالك ، اسناده صحيح، من
كتاب الصلاة وحكم تاركها لإبن قيم الجوزية ص ٢١ ، ٥٠
আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি উমার (রাযিঃ)-এর মাসজিদে ছুরি কাঘাতের ঘটনার বর্ণনা দিতে যেয়ে বলেন, তিনি ছুরিকাঘাত খেয়ে অচেতন হয়ে যাওয়ার পর জ্ঞান ফিরে পেয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন লোকেরা কি ছলাত পড়ে নিয়েছে? আমরা বললাম, হাঁ। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি ছলাত আদায় করে না তার ইসলাম নাই। অন্য বর্ণনা ভঙ্গিতে রয়েছে, "ইসলামে ঐ ব্যক্তির কোন অংশ নেই যে ব্যক্তি ছলাত ত্যাগ করে।” ইমাম মালিক তার মুয়াত্তা ও বায়হাক্বী ইমাম মালিকের সূত্রে বর্ণনা করেছে। তার সনদ ছহীহ। দেখুন ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ)-এর কিতাব 'ছলাত ও ছলাত পরিত্যাগকারীর বিধান' গ্রন্থে ২১/২২।
ছলাত পরিত্যাগ যে কুফরী ও ঈমান বিধ্বংসী পাপ এর জন্য ছহীহ আত্তারগীব ওয়াত তারহীবে কয়েকটি ছহীহ হাদীছ দেখুন। হাদীন নং ৫৬৩-৫৭৫।
(১০) বিভিন্ন পদস্থ ব্যক্তি, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও অনেক ধনবান ব্যক্তি সলাত আদায়কে মানহানিকর একটি কাজ মনে করে এবং সলাত আদায় না করাকে শ্রেষ্ঠত্বের একটি দিক মনে করে। পক্ষান্তরে যারা সলাত আদায় করে (সমপর্যায়ের বা তাদের চেয়ে উচ্চপদস্থ না হলে) তাদেরকে হেয়ের পাত্র ও খাটো মনে করে। এরা মহা পরাক্রমশালী ও বিশাল সৃষ্টিজগতের স্রষ্টার উদ্দেশ্যে সলাত আদায়কে ও সাজদাবনত হওয়াকে মানহানি মনে করে অথচ দেখা যাবে যে তারা ক্ষুদ্র একটি সৃষ্টি গ্রাম্য মাতব্বরের অথবা মিম্বারের অথবা চেয়ারম্যানের অথবা দলীয় কোন নেতার, এমপির, মন্ত্রীর, প্রধানমন্ত্রীর পাঁ চাটে ও তার গোলামী করে। তার এ গোলামীই হল তার সম্মানের মূল উৎস।
ধিক! শত ধিক! এই সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্বকে। আল্লাহ এ নির্বোধদেরকে জ্ঞান ও হিদায়াত দান করুন।
সংক্ষিপ্তাকারে সলাতের গুরুত্ব ও ইসলামে তার অবস্থান সম্পর্কে কিছু বিষয় উদ্ধৃত হলঃ
(১) সমস্ত ইবাদাত ফরয হয়েছে যমীনে সলাত ফরয হয়েছে মি'রাজের রাত্রে সাত আসমানের উপর আরশে।
(২) অবুঝ ও নাবালেগ শিশু, অমুসলিম অবস্থা ও জ্ঞানশূন্যতা এ সব অবস্থা ছাড়া মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সর্বাবস্থায় বাধ্যতামূলক দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত সলাত পড়তে হবে।
যে সব কঠিন পরিস্থিতি ও হুমকির অবস্থায় সলাত পড়তে হবে; ক্ষমা নেই, তার কিছু তালিকা তুলে ধরা হল:
১। মুমূর্ষু রোগী মৃত্যুর দারপ্রান্তে উপনীত এমতাবস্থায় ছলাত পড়তে হবে। দাঁড়িয়ে না পারলে বসে, বসে না পারলে শুয়ে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নাড়িয়ে সম্ভব না হলে চক্ষুর ইশারায় পড়তে হবে।
২। রণক্ষেত্রে শত্রুর মুকাবিলায়রত অবস্থায় জীবনের হুমকি থাকলেও সলাত আদায় করতে হবে- এ অবস্থায় সলাত আদায়কে সলাতুল খাউফ বলে (ভীতি অবস্থায় সলাত) সলাতুল খাউফের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। এর জন্য বিভিন্ন হাদীস গ্রন্থ দ্রষ্টব্য। (ফিকুহুস সুন্নাহ ১/২১০-২১২)
৩। যুদ্ধকালীন অবস্থায় যুদ্ধ কঠিন পর্যায়ে পৌঁছে গেলে এবং উভয় দল সংমিশ্রিত হয়ে গেলেও এক রাকআত সলাত রুকু, সাজদাহ, কিয়াম, জালসা তথা যে সব রুকন সে অবস্থায় আদায় করা অসম্ভব সেগুলো বাদ দিয়ে সওয়ারী অবস্থায় পদাতিক অবস্থায় আদায় করতে হবে। ক্ষমা নেই।
৪। পলায়নরত অবস্থায় জীবনের ভয়ে শত্রু কর্তৃক ধাওয়া খেয়ে পালাচ্ছে এমতাবস্থায় সলাতের ওয়াক্ত পার হওয়ার উপক্রম হলে ওযু-তায়াম্মুমের সুযোগ থাকলে অবশ্যই তা করবে অন্যথায় বিনা ওযু-তায়াম্মুমেই দ্রুত গতিতে দৌড়াতে দৌড়াতে ক্বিবলা, কিয়াম, রুকূ ও সাজদাহ ছাড়াই সলাত আদায় করতে হবে। একে বলা সলাতু মাতলুব। (ফিকুহুস সুন্নাহ দ্রষ্টব্য পৃঃ ২৬৫)
৫। শত্রুকে ধাওয়ারত অবস্থায় শত্রুকে ধরার জন্য দ্রুত গতিতে দৌড়ানোর সময় কোন সলাতের ওয়াক্ত পার হওয়ার উপক্রম হলে এবং নিয়ম মাফিক সলাত আদায় করতে গেলে শত্রু নাগাল ছাড়া হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ক্বিবলা, কিয়াম, জালসা, রুকু-সাজদাহ ছাড়াই দ্রুত গতিতে দৌড়রত অবস্থায় সলাত আদায় করতে হবে। (ফিকুহুস সুন্নাহ দ্রষ্টব্য পৃঃ ২৬৫)
(৩) বেনামাযীর শাস্তি হল মৃত্যুদণ্ড: আমাদের দেশে বক্তব্য শুনা যায় ও বই-পুস্তকে লেখা পাওয়া যায় ৭ বৎসর বয়সে ছেলে মেয়েদেরকে সলাতের আদেশ দিতে হবে। ১০ বৎসর বয়সে সলাত আদায় না করতে চাইলে প্রহার করে সলাত পড়াতে হবে। কিন্তু বালিগ তথা ১৫ বৎসর বয়স অতিক্রম করার পর সলাত আদায় না করলে তার বিরুদ্ধে কি করতে হবে এটা শুনা যায় না বা বই-পুস্তকে আলোচনা দেখা যায় না। এজন্যও কিন্তু আমাদের দেশে বেনামাযীর সংখ্যা বেড়েছে। ছলাত পরিত্যাগকারীর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, তার দলীল অত্র পুস্তিকার ....... পৃষ্ঠা
সহীহ হাদীসের দৃষ্টিতে ও মহামতি ৪ জন ইমামের ৩ জনেরই মতে বালিগ হওয়ার পর সলাত না আদায় করলে তার শাস্তি হল মৃত্যুদণ্ড।
(৪) সলাত পরিত্যাগকারীর অন্যান্য সৎ আমল অগ্রাহ্য হবে আর যত আমলই থাকুক সমস্ত বিনষ্ট হবে।
নাবী সাল্লাল্লা বলেছেন:
أول ما يحاسب به العبد يوم القيامة الصلاة فإن صلحت صلح له
سائر عمله وإن فسدت فسد سائر عمله - رواه الطبراني في الأوسط،
صحيح الجامع ٢٥٧٣
ক্বিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম (আমলসমূহের) মধ্যে ছলাতের হিসাব-নিকাশ হবে, যদি তা ঠিক থাকে তার সমস্ত আমল ঠিক বলে বিবেচিত হবে। কিন্তু যদি তার ছলাত বিনষ্ট হয়ে থাকে তবে তার সমস্ত আমলই বিনষ্ট বলে বিবেচিত হবে। (হাদীছটি ত্ববরানী তার আউসাত্ত্ব গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ছহীহুল জামি' হাঃ নং ২৫৭৩)
(৫) ছলাত পরিত্যাগকারী হাশর পুনরুত্থান হবে কাফির নেতাদের সাথে
নবী আলাইহি বলেছেনঃ
من حافظ عليها كانت له نورا وبرهانا ونجاة يوم القيامة ومن لم
يحافظ عليها لم تكن له نورا ولا برهانا ولا نجاة وكان يوم القيامة
مع قارون وفرعون وهامان وأبي بن خلف (رواه أحمد باسناد صحيح)
যে ছলাতের হেফাযত করবে তার জন্য তা কিয়ামতের দিন জ্যোতি, প্রমাণ ও মুক্তি স্বরূপ হবে। আর যে তা হেফাযত করবে না তার জন্য তা জ্যোতি, প্রমাণ ও মুক্তি হবে না। বরং কিয়ামতের দিন সে কারূন, ফেরআউন, হামান এবং উবাই ইবনু খালাফের সাথে হবে।" (ছিফাতুছ ছলাত, নূরস্তানী পৃঃ ১২-১৩)
একটি জরুরী জ্ঞাতব্য: অত্র বইয়ের বক্তব্য ও আমার সংযোজিত এ ভূমিকা থেকে অপরাধমূলক একটি ভুয়া, মিথ্যা, বাত্বিল ও মূর্খতাপূর্ণ একটি ফাতওয়ার মূলোৎপাটিত হয়। আর তা হল মরণোত্তর বেনামাযী ব্যক্তির পরিত্যক্ত ছলাতের উপর কাফফারা আদায়। যদি কাফফারা আদায় করে বেনামাযী ব্যক্তি ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে যায় তবে বেনামাযীর অপরাধ ও শাস্তির ব্যাপারে কুরআন হাদীছের সমস্ত দলীল অনর্থক ও বাত্বিল হয়ে যায়নাকি? অথচ কাফফারা আদায়ের ব্যাপারে কুরআন হাদীছের কোন দলীল নেই। নির্ভরযোগ্য কোন আলিম ও ইমামের উক্তি ও সমর্থন নাই।
আল্লাহ এই বইখানাকে কবুল করে এতে বরকত দিন ও একে বেনামাযীদের হিদায়াতের অসীলাহ বানিয়ে দিন "আমীন”। আর এর দ্বারা মূল লিখক, অনুবাদক, সম্পাদক এবং বইখানা প্রকাশ ও প্রচারের জন্য যারা আর্থিক সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলের আমলের পাল্লা ভারি করে একে পরকালে নাজাতের অসীলাহ হিসাবে কবুল করুন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00