📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর শিঙ্গা লাগানো
বَابُ مَا جَاءَ فِي حِجَامَةِ رَسُولِ اللهِ ﷺ
অধ্যায়- ৫০ : রাসূলুল্লাহ এর শিঙ্গা লাগানো
রাসূলুল্লাহ শিঙ্গা লাগাতেন এবং এর পারিশ্রমিকও দিতেন:
عَنْ حُمَيْدٍ قَالَ : سُئِلَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ عَنْ كَسْبِ الْحَجَّامِ ، فَقَالَ : احْتَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حَجَمَةَ أَبُو طَيِّبَةً ، فَأَمَرَ لَهُ بِصَاعَيْنِ مِنْ طَعَامٍ ، وَكَلَّمَ أَهْلَهُ فَوَضَعُوْا عَنْهُ مِنْ خَرَاجِهِ وَقَالَ : إِنَّ أَفْضَلَ مَا تَدَاوَيْتُمُ بِهِ الْحِجَامَةُ ، أَوْ إِنَّ مِنْ أَمْثَلِ دَوَائِكُمُ الْحِجَامَةَ
২৭৬. হুমায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)-কে শিঙ্গা লাগানোর পারিশ্রমিক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আবু তায়বা রাসূলুল্লাহ কে শিঙ্গা লাগিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ
১৩৫ তাঁকে ২ সা' খাদ্যশস্য দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তার মালিকের সঙ্গে আলাপ করে তার নিকট হতে আদায়যোগ্য অর্থ খারাজও কমিয়ে দিয়েছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন, তোমরা যে ঔষধ ব্যবহার কর, এর মধ্যে শিঙ্গা উত্তম। অথবা বলেছেন, শিঙ্গা উত্তম প্রতিষেধকের অন্তর্ভুক্ত।
ব্যাখ্যা: তদানীন্তন আরবে মুনিব ক্রীতদাসকে দৈনিক প্রদেয় নির্দিষ্ট মাশুলের বিনিময়ে অর্থ উপার্জনের সুযোগ দিত। আবু তাইবাকেও মুনিব এভাবে অনুমতি দেন। তিনি দৈনিক তিন সা' মাশুলে কাজ করার সুযোগ পান। রাসূলুল্লাহ তার মুনিবকে সুপারিশ করে এক সা' হ্রাস করান।
عَنْ عَلِيٍّ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ احْتَجَمَ وَأَمَرَنِي فَأَعْطَيْتُ الْحَجَّامَ أَجْرَةً
২৭৭. আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ নিজে শিঙ্গা লাগালেন এবং আমাকে এর পারিশ্রমিক দেয়ার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর আমি তাকে পারিশ্রমিক দিয়ে দিলাম।
ব্যাখ্যা: এসব হাদীস থেকে জানা গেল যে, চিকিৎসা করা তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয় এবং শিঙ্গা লাগানো, শিঙ্গা লাগিয়ে ভাতা দেয়া-নেয়া উভয়ই জায়েয আছে।
রাসূলুল্লাহ গর্দানের দু'পার্শ্বে ও কাঁধের দু'পার্শ্বে শিঙ্গা লাগাতেন:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : إِنَّ النَّبِيَّ ﷺ احْتَجَمَ فِي الْأَخْدَعَيْنِ وَبَيْنَ الْكَتِفَيْنِ ، وَأَعْطَى الْحَجَّامَ أَجْرَةً وَلَوْ كَانَ حَرَامًا لَمْ يُعْطِهِ
২৭৮. ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী তাঁর গর্দানের দু'পার্শ্বে এবং কাঁধের দু'পার্শ্বে শিঙ্গা লাগালেন এবং শিঙ্গা লাগানেওয়ালাকে এর পারিশ্রমিক দিলেন। শিঙ্গা লাগানো যদি হারাম হতো, তবে তিনি এর পারিশ্রমিক দিতেন না।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ هُ ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ دَعَا حَجَامًا فَحَجَمَةً وَسَالَةَ : كَمْ خَرَاجُكَ ؟ فَقَالَ : ثَلَاثَةُ أَصْعِ ، فَوَضَعَ عَنْهُ صَاعًا وَأَعْطَاهُ أَجْرَةً
টিকাঃ
²⁷⁹ সহীহ মুসলিম, হা/৪১২১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৯০৬; মুসনাদে আবু ই'আলা, হা/৩৭৫৮; মুস্তাখরাজে ইবনে আবি 'আওয়ানা, হা/৪২৯৮।
²⁸⁰ ইবনে মাজাহ, হা/২১৬৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/১১৩০; বায়হাকী, হা/১৯৩০৪; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/১৪৮।
²⁸¹ সহীহ বুখারী, হা/২১০৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৯০৬; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হা/২২০৫; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১২৪২০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইba, হা/২১৩৮২।
১৩৬ সহীহ শামায়েলে তিরমিযী
২৭৯. ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী এক শিঙ্গা লাগানেওয়ালাকে ডাকলেন। সে তাঁকে শিঙ্গা লাগাল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাকে দৈনিক কত দিতে হয়? সে বলল, প্রতিদিন তিন সা'। রাসূলুল্লাহ তাঁর আদায়যোগ্য অর্থ এক সা' কমিয়ে দিলেন এবং তার পারিশ্রমিক দিয়ে দিলেন।
রাসূলুল্লাহ ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে শিঙ্গা লাগাতেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَحْتَجِمُ فِي الْأَخْدَعَيْنِ وَالْكَاهِلِ ، وَكَانَ يَحْتَجِمُ لِسَبْعَ عَشْرَةَ وَتِسْعَ عَشْرَةَ وَاحْدَى وَعِشْرِينَ
২৮০. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ কাঁধের দু'পার্শ্বে এবং কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে শিঙ্গা লাগাতেন এবং তিনি ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে শিঙ্গা লাগাতেন।
রাসূলুল্লাহ ইহরাম বাঁধা অবস্থাতেও শিঙ্গা লাগাতেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ احْتَجَمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ بِمَلَلٍ عَلَى ظَهْرِ الْقَدَمِ
২৮১. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ইহরাম বাঁধা অবস্থায় পায়ের পাতার উপরিভাগে মালাল নামক স্থানে শিঙ্গা লাগালেন।
টিকাঃ
²⁸² মুসনাদে আহমাদ, হা/১১৩৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৫৩৬; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/১৮২৯; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হা/২১৩৮৪।
²⁸³ শারহুস সুন্নাহ, হা/৩২৩৪; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩৪৬৪; মিশকাত, হা/৪৫৪৬।
²⁸⁴ আবু দাউদ, হা/১৮৩৯; সুনানে নাসাঈ, হা/২৮৪৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৭০৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৯৫২; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৯৮৬।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর নাম
বَابُ : مَا جَاءَ فِي أَسْمَاءِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ
অধ্যায়- ৫১৯ 'রাসূলুল্লাহ এর নাম
عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ هِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : إِنَّ لِي أَسْمَاءً أَنَا مُحَمَّدٌ ، وَأَنَا أَحْمَدُ ، وَأَنَا الْمَاحِي الَّذِي يَمْحُو اللَّهُ بِي الْكُفْرَ ، وَأَنَا الْحَاشِرُ الَّذِي يُحْشَرُ النَّاسُ عَلَى قَدَمِي ، وَأَنَا الْعَاقِبُ وَالْعَاقِبُ الَّذِي لَيْسَ بَعْدَهُ نَبِيٌّ
২৮২. যুবায়ের ইবনে মুতয়িম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, আমার একাধিক নাম রয়েছে। আমার নাম মুহাম্মদ, আহমাদ,
১৩৭ মাহী (ধ্বংসকারী); আল্লাহ তা'আলা আমার দ্বারা কুফরী ধ্বংস করবেন। আমার নাম হা-শির (একত্রকারী); লোকদেরকে একত্রিত করার আগে আল্লাহ তা'আলা আমাকে উঠাবেন। আমার নাম আ-কিব (সর্বশেষ আগমনকারী নবী); অর্থাৎ তাঁর পরে আর কোন নবীর আগমন হবে না।
ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসে শেষ ৩টির শাব্দিক বিশ্লেষণ উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু প্রথম ২টি নামের বিশ্লেষণ উল্লেখ করা হয়নি। সম্ভবত প্রথম দুটি রাসূলুল্লাহ এর সত্ত্বাগত নাম আর শেষোক্ত তিনটি গুণবাচক নাম।
عَنْ حُذَيْفَةَ ، قَالَ : لَقِيتُ النَّبِيَّ ﷺ فِي بَعْضِ طُرُقِ الْمَدِينَةِ فَقَالَ : أَنَا مُحَمَّدٌ ، وَأَنَا أَحْمَدُ . وَأَنَا نَبِيُّ الرَّحْمَةِ ، وَنَبِيُّ التَّوْبَةِ ، وَأَنَا الْمُقَقِّى ، وَأَنَا الْحَاشِرُ ، وَنَبِيُّ الْمَلَاحِمِ
২৮৩. হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার মদিনার কোন এক রাস্তায় নবী এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। তিনি বললেন, আমি মুহাম্মদ, আমি আহমাদ, আমি নবীউর রহমত (রহমতের নবী) আমি নবীউত তাওবা (তাওবার নবী), আমি মুকাফফী (পরে আগমনকারী), আমি হাশির (একত্রকারী), আমি মালাহিমের নবী (জিহাদকারী)।
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ এর একটি গুণবাচক নাম হচ্ছে, দয়ার নবী। তিনি ছিলেন সকলের জন্য রহমত। রাসূলুল্লাহ এর আরো একটি গুণবাচক নাম 'আল মুকাফী' পূর্ণতা দানকারী। যার পরে আর কোন নবীর আগমন হবে না, তাঁর আগমনের মাধ্যমে নবুওয়াত পূর্ণতা লাভ করেছেন। রাসূলুল্লাহ এর আরো একটি গুণবাচক নাম হলো 'নবিউল মালাহিম' অর্থাৎ- জিহাদের নবী। রাসূলুল্লাহ সত্য দ্বীনকে বিজয়ী করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদ করেছেন এবং তিনি বলেছেন, আমার আগমন থেকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত জিহাদ অব্যাহত থাকবে। তাই তাঁর আরেকটি গুণবাচক নাম হচ্ছে 'নবিউল মালাহিম'।
টিকাঃ
²⁸⁵ সহীহ বুখারী, হা/৪৮৯৬; সহীহ মুসলিম, হা/৬২৫২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৫৮০; মুসনাদে বাযযার, হা/৩৪১৩; মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৫০৪; ইবনে হিব্বান, হা/৬৩১৩।
²⁸⁶ মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৪৯২; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬৩১; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৪১৮৫; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হা/৩২৩৫১; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/৪৯৪।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর জীবিকা
রাসূলুল্লাহ এর কাছে কখনো পেটভরে খাওয়ার মতো খেজুর থাকত না:
عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ قَالَ : سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ يَقُولُ : أَلَسْتُمْ فِي طَعَامٍ وَشَرَابٍ مَا شِئْتُمْ ؟ لَقَدْ رَأَيْتُ نَبِيَّكُمْ ﷺ وَمَا يَجِدُ مِنَ الدَّقَلِ مَا يَمْلَأُ بَطْنَهُ
২৮৪. সিমাক ইবনে হাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নু'মান ইবনে বশীর (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা কি তোমাদের চাহিদামতো খাওয়া-দাওয়ায় তৃপ্ত নও? অথচ নবী ﷺ কে দেখেছি যে, পেটভরে খাওয়ার মতো খারাপ খেজুরও তাঁর ঘরে থাকত না। ২৮৭
কখনো কখনো তাঁর পরিবারের চুলায় ১ মাসের অধিক সময় পর্যন্তও আগুন জ্বালানো হতো না:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : إِنْ كُنَّا أَلَ مُحَمَّدٍ نَمْكُثُ شَهْرًا مَا نَسْتَوْقِدُ بِنَارٍ ، إِنْ هُوَ إِلَّا التَّمْرُ وَالْمَاءُ
২৮৫. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আমাদের নবীর পরিবারে কখনো এমন হতো যে, এক মাসের অধিক সময় পর্যন্ত আগুন জ্বালানো হতো না; শুধু পানি ও খেজুর খেয়ে কাটাতাম। ২৮৮
রাসূলুল্লাহ ﷺ ও কয়েকজন সাহাবীর ক্ষুধাকালীন এক সময়ের ঘটনা:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : خَرَجَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فِي سَاعَةٍ لَا يَخْرُجُ فِيهَا وَلَا يَلْقَاهُ فِيهَا أَحَدٌ . فَأَتَاهُ أَبُو بَكْرٍ ، فَقَالَ : مَا جَاءَ بِكَ يَا أَبَا بَكْرٍ ؟ قَالَ : خَرَجْتُ الْقَى رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَأَنْظُرُ فِي وَجْهِهِ ، وَالتَّسْلِيمَ عَلَيْهِ ، فَلَمْ يَلْبَثُ أَنْ جَاءَ عُمَرُ فَقَالَ : مَا جَاءَ بِكَ يَا عُمَرُ ؟ قَالَ : الْجُوْعُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ : وَأَنَا قَدْ وَجَدْتُ بَعْضَ ذَلِكَ فَانْطَلَقُوا إِلَى مَنْزِلِ أَبِي الْهَيْثَمِ بْنِ التَّيْهَانِ الْأَنْصَارِي وَكَانَ رَجُلًا كَثِيرَ النَّخْلِ وَالشَّاءِ ، وَلَمْ يَكُنْ لَهُ خَدَمٌ ، فَلَمْ يَجِدُوهُ ، فَقَالُوا لامْرَأَتِهِ : أَيْنَ صَاحِبُكِ ؟ فَقَالَتِ : انْطَلَقَ يَسْتَعْذِبُ لَنَا الْمَاءَ ، فَلَمْ يَلْبَثُوا أَنْ جَاءَ أَبُو الْهَيْثَمِ بِقِرْبَةٍ يَزْعَبُهَا ، فَوَضَعَهَا ثُمَّ جَاءَ يَلْتَزِمُ النَّبِيَّ ﷺ وَيُفَدِّيهِ بِأَبِيْهِ وَأُمِّهِ ، ثُمَّ انْطَلَقَ
بِهِمْ إِلَى حَدِيقَتِهِ فَبَسَطَ لَهُمْ بِسَاطًا ، ثُمَّ انْطَلَقَ إِلى نَخْلَةٍ فَجَاءَ بِقِنُو فَوَضَعَهُ ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : أَفَلَا تَنَقَّيْتَ لَنَا مِنْ رُطَبِهِ ؟ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنِّي أَرَدْتُ أَنْ تَخْتَارُوا ، أَوْ تَخَيَّرُوا مِنْ رُطَبِهِ وَبُسْرِهِ ، فَأَكَلُوا وَشَرِبُوا مِنْ ذَلِكَ الْمَاءِ . فَقَالَ ﷺ : هَذَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مِنَ النَّعِيمِ الَّذِي تُسْأَلُونَ عَنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ظِلَّ بَارِدٌ ، وَرُطَبْ طَيِّبٌ ، وَمَاءً بَارِدٌ . فَانْطَلَقَ أَبُو الْهَيْثَمِ لِيَصْنَعَ لَهُمْ طَعَامًا فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : لَا تَذْبَحَنَّ ذَاتَ دَرٍ ، فَذَبَحَ لَهُمْ عَنَاقًا أَوْ جَدْيًا . فَأَتَاهُمْ بِهَا فَأَكَلُوا ، فَقَالَ ﷺ : هَلْ لَكَ خَادِمٌ ؟ قَالَ : لَا . قَالَ : فَإِذَا آتَانَا سَبْيٌّ فَأْتِنَا . فَأُتِيَ النَّبِيُّ ﷺ بِرَأْسَيْنِ لَيْسَ مَعَهُمَا ثَالِثٌ ، فَأَتَاهُ أَبُو الْهَيْثَمِ ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : اخْتَرْ مِنْهُمَا فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ ، اخْتَرْ لِي . فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : إِنَّ الْمُسْتَشَارَ مُؤْتَمَنْ . خُذْ هُذَا فَإِنِّي رَأَيْتُهُ يُصَلِّي ، وَاسْتَوْصِ بِهِ مَعْرُوفًا . فَانْطَلَقَ أَبُو الْهَيْثَمِ إِلَى امْرَأَتِهِ ، فَأَخْبَرَهَا بِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ، فَقَالَتِ امْرَأَتُهُ : مَا أَنْتَ بِبَالِغ حَقَّ مَا قَالَ فِيْهِ النَّبِيُّ ﷺ إِلَّا بِأَنْ تَعْتِقَهُ قَالَ : فَهُوَ عَتِيقٌ ، فَقَالَ ﷺ : إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَبْعَثُ نَبِيًّا وَلَا خَلِيفَةً إِلَّا وَلَهُ بِطَانَتَانِ : بِطَانَةٌ تَأْمُرُهُ بِالْمَعْرُوْفِ وَتَنْهَاهُ عَنِ الْمُنْكَرِ ، وَبِطَانَةٌ لَا تَأْلُوْهُ خَبَالًا ، وَمَنْ يُوْقَ بِطَانَةَ السُّوْءِ فَقَدْ رُقِيَ
২৮৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী এমন সময় ঘর থেকে বের হলেন, যখন সচরাচর তিনি বের হন না। কেউ সাক্ষাৎ করতেও আসে না। এমন সময় আবু বকর (রাঃ) তাঁর কাছে আসলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, কি জন্য এসেছ হে আবু বকর! বললেন, আল্লাহর রাসূলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে, তাঁর চেহারা দেখতে ও সালাম জানাতে এসেছি। কিছুক্ষণ পর উমর (রাঃ) আসলেন। জিজ্ঞেস করলেন, কি জন্য এসেছ উমর? বললেন, ক্ষুধার তাড়নায় হে আল্লাহর রাসূল! রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, আমিও তা-ই অনুভব করছি.।
অতঃপর তারা তিনজনই আবুল হায়সাম ইবনে তায়্যিহান আল আনসারীর বাড়ি গেলেন। তাঁর অনেক খেজুর বাগান, ফল বাগান ও ছাগলের পাল। কিন্তু কোন খাদেম ছিল না। তাঁরা তার দেখা পেলেন না। ফলে তাঁরা তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার স্বামী কোথায় গিয়েছেন? বলল, আমাদের জন্য মিঠা পানি আনতে গিয়েছেন। কিছুক্ষণ পরই আবুল হায়ছাম পানির পাত্র নিয়ে ফিরে আসলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ কে দেখে আনন্দে জড়িয়ে ধরেন এবং তাঁর পিতামাতাকে উৎসর্গ করতে থাকেন।
তারপর তাদেরকে নিয়ে বাগানে গেলেন এবং তাঁদের জন্য বিছানা বিছিয়ে দিলেন। খেজুর বাগান হতে এক ছড়া খেজুর এনে দেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, আমাদের জন্য তাজা খেজুর বেছে আনলে না কেন? (পূর্ণ একটি ছড়া আনার কি প্রয়োজন ছিল)। আবুল হায়ছাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি চাই আপনি তা হতে কাঁচা ও পাকা খেজুর বেছে নিন। অতঃপর তারা সকলেই খেজুর খেলেন এবং পানি পান করলেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, এসবও সেসব নিয়ামতের মধ্যে গণ্য, কিয়ামতের দিন যেগুলোর হিসাব নেয়া হবে। তা হলো, শীতল ছায়া, তরতাজা খেজুর ও ঠাণ্ডা পানি।
অতঃপর আবুল হায়সাম তাঁদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য চলে গেলেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, আমাদের জন্য যেন দুগ্ধবতী ছাগী যবেহ করা না হয়। অতঃপর তাঁদের জন্য একটি বাচ্চা ছাগল যবেহ করা হলো এবং যথাশ্রীঘ্র খাবার হাযির করা হলো এবং তাঁরা আহার করলেন।
রাসূলুল্লাহ তাকে বললেন, তোমার কোন খাদেম আছে কি? তিনি বললেন, না। রাসূলুল্লাহ বললেন, আমাদের যখন কোন গোলাম আসবে, তখন আমাকে মনে করিয়ে দিও। অতঃপর রাসূলুল্লাহ এর কাছে ২ জন গোলাম আসল। তাদের সঙ্গে তৃতীয় কেউ ছিল না। এমন সময় আবুল হায়সাম সেখানে উপস্থিত হলেন। রাসূলুল্লাহ তাকে বললেন, এ ২ জনের মধ্য হতে একজনকে বেছে নাও। বললেন, হে আল্লাহর নবী! আপনিই বেছে দিন। নবী বললেন, পরামর্শদাতা বিশ্বস্ত হয়। অতএব তুমি একে নাও। কারণ, আমি তাকে সালাত আদায় করতে দেখেছি। আর আমি তোমাকে তার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার জন্য অসিয়ত করছি।
অতঃপর আবুল হায়সাম স্ত্রীর কাছে ফিরে গেলেন এবং তাকে রাসূলুল্লাহ এর অসিয়তের কথা শুনালেন। তাঁর স্ত্রী বললেন, আপনার জন্য রাসূলুল্লাহ এর কথা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা সম্ভব নাও হতে পারে। অতএব আপনি গোলামকে আযাদ করে দিন। তাতে আবুল হায়ছাম গোলামটিকে আযাদ করে দেন। রাসূলুল্লাহ বলেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রত্যেক নবী ও খলীফার জন্য ২ জন গোপন পরামর্শদাতা সৃষ্টি করে দেন। একজন সৎপরামর্শ দেয় এবং অসৎ কাজ হতে বিরত রাখে। অপরজন ধ্বংসের পথে নিয়ে যেতে ইতস্তত করে না। যে ব্যক্তিকে তার মন্দ স্বভাব থেকে নিরাপদ রাখা হয়েছে, তাকে সকল অন্যায় হতে নিরাপদ রাখা হয়েছে।
শিয়াবে তালিবের সময় রাসূলুল্লাহকে গাছের চামড়া ও পাতা খেয়ে জীবনপাত করতে হয়েছিল:
عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصٍ لَهُ يَقُولُ : إِنِّي لَأَوَّلُ رَجُلٍ أَهْرَاقَ دَمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ، وَإِنِّي لَأَوَّلُ رَجُلٍ رَمَى بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ، لَقَدْ رَأَيْتُنِي أَغْزُو فِي الْعِصَابَةِ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامِ مَا تَأْكُلُ إِلَّا وَرَقَ الشَّجَرِ وَالْحُبْلَةِ حَتَّى تَقَرَّحَتْ أَشْدَاقْنَا ، وَإِنَّ أَحَدَنَا لَيَضَعُ كَمَا تَضَعُ الشَّاةُ وَالْبَعِيرُ ، وَأَصْبَحَتْ بَنُو أَسَدٍ يَعْزُرُونِي فِي الدِّينِ . لَقَدْ خِبْتُ وَخَسِرْتُ إِذًا وَضَلَّ عَمَلِي
২৮৭. সা'দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইসলামের প্রথম ব্যক্তি, যে কাফিরদের রক্ত প্রবাহিত করেছে। আমি প্রথম ব্যক্তি, যে আল্লাহর রাস্তায় তীর নিক্ষেপ করেছে। আমরা মুহাম্মদ এর সাহাবীরা এমন অবস্থায় যুদ্ধ করেছি যে, গাছের বাকল ও পাতা ছাড়া কিছুই খেতে পেতাম না। এসব খাওয়ার ফলে আমাদের মুখে ঘা হয়ে যেত। এমনকি উট ও বকরীর মলের ন্যায় চর্বিযুক্ত মল পড়ত। তা সত্ত্বেও বনূ আসাদের লোকেরা দীন সম্পর্কে আমাকে অভিযুক্ত করেছে। দীন সম্পর্কে যদি আমি অজ্ঞই হই, তবে তো আমার সকল আমলই বরবাদ হয়ে গেল। ২০১০
ব্যাখ্যা: ইমাম তিরমিযী (রহঃ) এর এ হাদীস বর্ণনার উদ্দেশ্য হলো, ইসলামের প্রথম যুগের মুসলমানদের চেষ্টা এবং কষ্ট-ক্লেশের কথা বর্ণনা করা। তাই তিনি হাদীসটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।
রাসূলুল্লাহ ৩০ রাত পর্যন্তও সামান্য আহারেই কাটিয়ে ছিলেন:
عَنْ أَنَسٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : لَقَدْ أُخِفْتُ فِي اللَّهِ وَمَا يَخَافُ أَحَدٌ ، وَلَقَدْ أُوذِيْتُ فِي اللَّهِ وَمَا يُؤْذَى أَحَدٌ ، وَلَقَدْ أَتَتْ عَلَيَّ ثَلَاثُونَ مِنْ بَيْنِ لَيْلَةٍ وَيَوْمٍ وَمَا لِي وَلِبِلَالٍ طَعَامُ يَأْكُلُهُ ذُو كَبِدِ إِلَّا شَيْءٌ يُوَارِيهِ إِبِطُ بِلَالٍ
২৮৮. আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, আমাকে আল্লাহর পথে এমন ভয় প্রদর্শন করা হয়েছে, যখন আর কাউকে ভয় প্রদর্শন করা হয়নি। আমাকে আল্লাহর পথে এমনভাবে কষ্ট দেয়া হয়েছে, যা অন্য কাউকে দেয়া হয়নি। আমাদের ৩০টি রাত এমনভাবে অতিবাহিত হয়েছে, যখন বিলালের বগলের নিচে লুকিয়ে রাখা সামান্য খাদ্য ছাড়া আমার ও বিলালের আহারের মতো কিছুই ছিল না। ২০১১
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে কখনো রুটি ও গোশত একত্রিত হতো না :
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ له : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ لَمْ يَجْتَمِعُ عِنْدَهُ غَدَاءً وَلَا عَشَاءُ مِنْ خُبْرٍ وَلَحْمٍ إِلَّا عَلَى ضَفَفٍ. قَالَ عَبْدُ اللَّهِ : قَالَ بَعْضُهُمْ : هُوَ كَثْرَةُ الْأَيْدِي.
২৮৯. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। দিনের খাবারই হোক কিংবা রাতের খাবার, কোন সময়ই রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে রুটি-গোশত একত্রিত হতো না। তবে মেহমানদারীর জন্য দস্তরখানায় তা থাকত। ২৯২
আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, কোন কোন বর্ণনাকারী বলেছেন, ضَفَفٍ-এর অর্থ হলো অনেক হাত একত্রিত হওয়া।
টিকাঃ
২৮৭ সহীহ মুসলিম, হা/৭৬৫০; শারহুস সুন্নাহ, হা/৪০৭১; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৩৪০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হা/৩৫৪৬৩; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩২৭৫; মিশকাত, হা/৪১৯৫।
২৮৮ সহীহ বুখারী, হা/৬৪৫৮; সহীহ মুসলিম, হা/৭৬৩৯; ইবনে মাজাহ, হা/৪১৪৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪২৭৮; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৩৬১।
২৮৯ সহীহ মুসলিম, হা/৫৪৩৪; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৭১৭৮; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩২৯৬; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৬৫৮৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬১২; শু'আবুল ঈমান, হা/৪২৮২।
২৯০ সহীহ বুখারী, হা/৩৭২৮; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৯২৩।
২৯১ ইবনে মাজাহ, হা/১৫১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪০৮৭; শারহুস সুন্নাহ, হা/৪০৮০; মুসনাদুল বাযযার, হা/৩২০৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৫৬০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হা/৩৭৭২১।
২৯২ মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩৮৮৬; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হা/৩১০৮; ইবনে হিব্বান, হা/৬৩৫৯; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৩৮৯।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর বয়স সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : مَكَثَ النَّبِيُّ ﷺ بِمَكَّةَ ثَلَاثَ عَشْرَةَ سَنَةً يُؤْحَى إِلَيْهِ ، وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرًا ، وَتُوُفِّيَ وَهُوَ ابْنُ ثَلَاثٍ وَسِتِّينَ
২৯০. ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ মক্কায় ১৩ বছর অবস্থান করেন। এ সময় তাঁর উপর ওহী অবতীর্ণ হতে থাকে। আর মদিনায় ১০ বছর অবস্থান করেন এবং ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ২৯৩
عَنْ جَرِيرٍ أَنَّهُ سَمِعَ مُعَاوِيَةً يَخْطُبُ فَقَالَ مَاتَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ ابْنُ ثَلَاثٍ وَسِتِّينَ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَأَنَا ابْنُ ثَلَاثٍ وَسِتِّينَ
২৯১. জারীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি মুআবিয়া (রাঃ)-কে একবার ভাষণ দিতে শুনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন।
আবু বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ) ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। এখন আমার বয়স ৬৩ বছর। ২৯৪
ব্যাখ্যা: এ হাদীসটি বর্ণনা করার সময় মু'আবিয়া (রাঃ) এর বয়স ৬৩ বছর ছিল। রাসূলুল্লাহ এর বয়সের সাথে তাঁর বয়সের মিল হয়ে যায় এজন্য তিনিও এ বয়সে মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করেন। কিন্তু তাঁর এ আশা পূরণ হয়নি।
২৯২. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন। ২৯৫
عَنْ عَائِشَةَ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ مَاتَ وَهُوَ ابْنُ ثَلَاثٍ وَسِتِّينَ سَنَةً عَنِ ابْنَ عَبَّاسٍ ﷺ يَقُولُ : تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ ابْنُ خَمْسٍ وَسِتِّينَ
২৯৩. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ৬৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছিলেন। ২৯৬
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ يَقُوْلُ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَيْسَ بِالطَّوِيلِ الْبَائِنِ ، وَلَا بِالْقَصِيرِ ، وَلَا بِالْأَبْيَضِ الْأَمْهَقِ ، وَلَا بِالْأَدَمِ ، وَلَا بِالْجَعْدِ الْقَطَطِ ، وَلَا بِالسَّبْطِ ، بَعَثَهُ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى رَأْسِ أَرْبَعِينَ سَنَةً ، فَأَقَامَ بِمَكَّةَ عَشْرَ سِنِينَ ، وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ ، وَتَوَفَّاهُ اللَّهُ عَلَى رَأْسِ سِتِّينَ سَنَةً وَلَيْسَ فِي رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ عِشْرُونَ شَعْرَةً بَيْضَاءَ
২৯৪. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ না দীর্ঘ অবয়ব বিশিষ্ট ছিলেন, না খর্বাকৃতির ছিলেন। না সাদা বর্ণের ছিলেন, না ছিলেন ধূসর বর্ণের। তাঁর চুল না খুব বক্র ছিল, না ছিল সোজা; বরং ঈষৎ কোঁকড়ানো ছিল। ৪০ বছরের মাথায় তাকে নবুওয়াত দান করা হয়। এরপর তিনি মক্কায় ১০ বছর, মদিনায় ১০ বছর কাটান এবং ৬০ বছরের মাথায় ইন্তেকাল করেন। তখন তাঁর দাড়ি বা মাথার ২০টি চুলও সাদা হয়নি। ২৯৭
উল্লেখ্য যে, নবী এর বয়স সম্পর্কে উপরের হাদীসগুলোতে বিভিন্ন রকম বর্ণনা থাকলেও বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। ৪০ বছর বয়সে তিনি নবুওয়াত লাভ করেন। এরপর মক্কায় ১৩ বছর এবং মদিনায় ১০ বছর অতিবাহিত করেন।
টিকাঃ
২৯৩ সহীহ বুখারী, হা/৩৯০৩; সহীহ মুসলিম, হা/৬২৪৩: মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৪২৯; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১২৭৭০; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/২৭৫১।
২৯৪ সহীহ মুসলিম, হা/৬২৪৫; মুসnaদে আহমাদ, হা/১৪৯৬৯; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হা/৩৪৫৫০; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৬০৩৭; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৮৪১।
২৯৫ সহীহ বুখারী, হা/৩৫৩৬; সহীহ মুসলিম, হা/৬২৩৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৬৬২।
২৮৬ সহীহ মুসলিম, হা/৬২৪৮; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হা/২৪৫২; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৩৪; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হা/৩৭৭০২।
২৯৭ মুয়াত্তা মালেক, হা/১৬৩৯; সহীহ বুখারী, হা/৫৯০০; সহীহ মুসলিম, হা/৬২৩৫; ইবনে মাজাহ, হা/১৩৫৪৩; মুসনাদুল বাযযার, হা/৬১৮৯; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৭৩৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৩৮৭।