📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর চরিত্র (মাধুর্য)
রাসূলুল্লাহ সকলের সাথেই পূর্ণ মনোযোগের দিয়ে কথা বলতেন।
عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُقْبِلُ بِوَجْهِهِ وَحَدِيثِهِ عَلَى أَشَرِ الْقَوْمِ يَتَأَلَّقُهُمْ بِذلِكَ فَكَانَ يُقْبِلُ بِوَجْهِهِ وَحَدِيثِهِ عَلَيَّ . حَتَّى ظَنَنْتُ أَنِّي خَيْرُ الْقَوْمِ ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، أَنَا خَيْرٌ أَوْ أَبُو بَكْرٍ ؟ قَالَ : أَبُو بَكْرٍ فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، أَنَا خَيْرٌ أَوْ عُمَرُ ؟ فَقَالَ : عُمَرُ ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ ، أَنَا خَيْرٌ أَوْ عُثْمَانُ ؟ قَالَ : عُثْمَانُ ، فَلَمَّا سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ فَصَدَ قَنِي فَلَوَدِدْتُ أَنِّي لَمْ أَكُنْ سَأَلْتُهُ
২৬৪. আমর ইবনে আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তির সাথেও পূর্ণ মনোযোগ ফিরিয়ে মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে কথা বলতেন। এমনকি আমার সঙ্গেও তিনি কথা বলতেন অনুরূপভাবে। তাতে আমার মনে হলো, আমি সমাজের উত্তম মানুষ। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ভালো, না আবু বকর ভালো? তিনি বললেন, আবু বকর! আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ভালো, না উমর ভালো? তিনি বললেন, উমর! আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, আমি ভালো না উসমান? তিনি বললেন, উসমান! আমি যখন বিস্তারিতভাবে রাসূলুল্লাহ কে জিজ্ঞেস করলাম, তখন আমাকে সঠিক কথা বলে দিলেন। পরে আমি মনে মনে কামনা করলাম, যদি আমি তাঁকে এরূপ প্রশ্ন না করতাম।
রাসূলুল্লাহ এর চরিত্রর সম্পর্কে আনাস (রাঃ) এর বর্ণনা:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : خَدَمْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ عَشْرَ سِنِينَ فَمَا قَالَ لِي أُنٍ قَتُ ، وَمَا قَالَ لِشَيْءٍ صَنَعْتُهُ لِمَ صَنَعْتَهُ وَلَا لِشَيْءٍ تَرَكْتُهُ لِمَ تَرَكْتَهُ ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ خُلُقًا ، وَلَا مَسَسْتُ خَقًّا وَلَا حَرِيرًا وَلَا شَيْئًا كَانَ الْيَنَ مِنْ كَفِّ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ، وَلَا شَمَمْتُ مِسْكًا قَطُّ وَلَا عِطْرًا كَانَ أَطْيَبَ مِنْ عَرَقِ النَّبِيِّ ﷺ
২৬৪. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ১০ বছর রাসূলুল্লাহ এর খেদমত করেছি; কিন্তু এ সময়ের মধ্যে তিনি কখনো আমার কোন কাজে 'উহ' শব্দটি পর্যন্ত করেননি। আমি করেছি এমন কোন কাজের ব্যাপারে তিনি কখনো জিজ্ঞেস করেননি যে, কেন করেছি? আর না
করার ব্যাপারেও তিনি কখনো জিজ্ঞেস করেননি যে, কেন করনি? চরিত্র মাধুর্যে তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। কোন রেশমী কাপড় বা কোন বিশুদ্ধ রেশম বা অন্য কোন এমন নরম জিনিস স্পর্শ করিনি, যা রাসূলুল্লাহ এর হাতের তালুর চেয়ে নরম। আমি এমন কোন মিশক বা আতরের সুবাস পাইনি, যা রাসূলুল্লাহ এর ঘামের ঘ্রাণ হতে অধিক সুগন্ধিময়। ২৬৭
রাসূলুল্লাহ কখনো অশোভনীয় আচরণ করতেন না:
عَنْ عَائِشَةَ ، أَنَّهَا قَالَتْ : لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللهِ ﷺ فَاحِشًا وَلَا مُتَفَحْشًا وَلَا صَخَابًا فِي الْأَسْوَاقِ . وَلَا يَجْزِئُ بِالسَّيِّئَةِ السَّيِّئَةَ ، وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَصْفَحُ
২৬৫. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ কখনো ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় কোন প্রকার অশোভনীয় কথা বলতেন না। বাজারেও তিনি উচ্চৈঃস্বরে কথা বলতেন না। মন্দের প্রতিকার মন্দ দ্বারা করতেন না; বরং ক্ষমা করে দিতেন। অতঃপর কখনো তা আলোচনাও করতেন না। ২৬৮
রাসূলুল্লাহ কখনো কাউকে প্রহার করতেন না:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : مَا ضَرَبَ رَسُولُ اللهِ ﷺ بِيَدِهِ شَيْئًا قَطُّ إِلَّا أَنْ يُجَاهِدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ . وَلَا ضَرَبَ خَادِمًا أَوِ امْرَأَةً
২৬৬. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একমাত্র আল্লাহর পথে জিহাদ ছাড়া কখনো রাসূলুল্লাহ স্বীয় হাত দ্বারা (ইচ্ছাকৃতভাবে) কাউকে প্রহার করেননি এবং কোন দাস-দাসী বা স্ত্রীলোককেও প্রহার করেননি। ২৬৯
ব্যাখ্যা: 'হুদুদ' হলো শরীয়তের নির্ধারিত শাস্তি এবং তা'যীর হলো শাসন করা। প্রহার করা দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে রাগান্বিত হয়ে মারা উদ্দেশ্য। অনিচ্ছাকৃতভাবে আঘাত লেগে যাওয়াকে প্রহার বলে না। বিশেষভাবে খাদিম ও নারীর কথা এজন্য উল্লেখ করেছেন যে, সাধারণত মানুষ এদেরকে অল্পতে মেরে থাকে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ কখনো এদেরকেও মারধর করেননি। যদিও শাসনের উদ্দেশ্যে হালকা মারধর বৈধ আছে।
রাসূলুল্লাহ কখনো নিজের জন্য প্রতিশোধ নিতেন না :
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ مُنْتَصِرًا مِنْ مَظْلَمَةٍ ظُلِمَهَا قَطُّ مَا لَمْ يُنْتَهَكُ مِنْ مَحَارِمِ اللهِ تَعَالَى شَيْءٌ ، فَإِذَا انْتُهِكَ مِنْ مَحَارِمِ اللهِ شَيْءٍ كَانَ مِنْ أَشَدِّهِمْ فِي ذَلِكَ غَضَبًا . وَمَا خُيْرَ بَيْنَ أَمْرَيْنِ إِلَّا اخْتَارَ أَيْسَرَهُمَا مَا لَمْ يَكُنْ مَأْثَمًا
২৬৭. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ-কে কখনো নিজের জন্য প্রতিশোধ নিতে দেখিনি, যতক্ষণ না কেউ আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করত। অবশ্য যখন কেউ আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করত, তখন তাঁর ন্যায় অধিক ক্রোধান্বিত আর কেউ হতো না। তাঁকে যদি দুটি কাজের মধ্যে যেকোন একটির অনুমতি দেয়া হতো, তবে তিনি সহজ কাজটি বেছে নিতেন, যতক্ষণ না এটাতে কোন গুনাহ হতো। ২৭০
ব্যাখ্যা : রাসূলুল্লাহ-কে যখন আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে, দুটি বৈধ বিষয়ের যে কোন একটি গ্রহণের সুযোগ দেয়া হতো, তখন তিনি যে বিষয়টি উম্মতের জন্য সহজতর তা গ্রহণ করতেন।
রাসূলুল্লাহ খারাপ লোকের সাথেও উত্তম আচরণ করতেন :
عَائِشَةَ ، قَالَتِ : اسْتَأْذَنَ رَجُلٌ عَلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ وَأَنَا عِنْدَهُ ، فَقَالَ : بِئْسَ ابْنُ الْعَشِيْرَةِ أَوْ أَخُو الْعَشِيرَةِ ، ثُمَّ أَذِنَ لَهُ ، فَأَلَانَ لَهُ الْقَوْلَ ، فَلَمَّا خَرَجَ قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ ، قُلْتَ مَا قُلْتَ ثُمَّ لَنْتَ لَهُ الْقَوْلَ ؟ فَقَالَ : يَا عَائِشَةُ ، إِنَّ مِنْ شَرِّ النَّاسِ مَنْ تَرَكَهُ النَّاسُ أَوْ وَدَعَهُ النَّاسُ اتَّقَاءَ فُحْشِهِ
২৬৮. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ এর কাছে আসার অনুমতি চাইল। আমি সে সময় তাঁর কাছে বসা ছিলাম। তিনি বললেন, এ ব্যক্তি গোত্রের কতই না খারাপ লোক! অতঃপর তাকে আসার অনুমতি দেয়া হলো এবং তিনি তার সঙ্গে অতিশয় নরমভাবে কথা বললেন। অতঃপর লোকটি বের হয়ে গেলে আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! ব্যক্তিটি সম্পর্কে এরূপ কথা বললেন, আবার তার সাথে বিনম্র ব্যবহার করলেন! রাসূলুল্লাহ বললেন, হে আয়েশা! যে লোকের খারাপ ব্যবহারের জন্য লোকজন তাকে পরিহার করে এবং তার থেকে দূরে থাকে, সে সবচেয়ে খারাপ লোক। ২৭১
ব্যাখ্যা: এ লোকটির নাম ছিল উয়াইনা। সে মুনাফিক ছিল। রাসূলুল্লাহ এর ইন্তেকালের পর সে মুরতাদ হয়ে যায় এবং প্রকাশ্য কাফির হয়ে যায়। আবু বকর (রাঃ) এর দরবারে তাকে গ্রেফতার করে আনা হয়। ফলে মদিনার অলি-গলিতে বালকরা তিরস্কার করে বলল, এও মুরতাদ হয়ে গেল! তখন সে বলল, আমি কখন মুসলমান ছিলাম? আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহে পরে সে খাঁটি মনে ইসলাম গ্রহণ করে এবং উমর (রাঃ) এর খিলাফতকালে বিভিন্ন জিহাদে অংশ গ্রহণ করে।
আলী (রাঃ) এর ভাষায় রাসূলুল্লাহ এর চরিত্রের বর্ণনা:
عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيّ اللهِ قَالَ : قَالَ الْحُسَيْنُ : سَأَلْتُ أَبِي عَنْ سِيْرَةِ النَّبِيِّ ﷺ فِي جُلَسَائِهِ . فَقَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ دَائِمَ الْبِشْرِ ، سَهْلَ الْخُلُقِ ، لَيْنَ الْجَانِبِ ، لَيْسَ بِفَةٌ وَلَا غَلِيْظٍ . وَلَا صَخَابِ وَلَا فَحَاشٍ ، وَلَا عَيَّابٍ وَلَا مُشَاحٍ ، يَتَغَافَلُ عَمَّا لَا يَشْتَهِي ، وَلَا يُؤْيِسُ مِنْهُ رَاجِيْهِ وَلَا يُخَيَّبُ فِيهِ ، قَدْ تَرَكَ نَفْسَهُ مِنْ ثَلَاثٍ : الْمِرَاءِ وَالْإِكْثَارِ وَمَا لَا يَعْنِيْهِ ، وَتَرَكَ النَّاسَ مِنْ ثَلَاثٍ : كَانَ لَا يَذُمُّ أَحَدًا وَلَا يَعِيبُهُ ، وَلَا يَطْلُبُ عَوْرَتَهُ ، وَلَا يَتَكَلَّمُ إِلَّا فِيمَا رَجَا ثَوَابَهُ ، وَإِذَا تَكَلَّمَ أَطْرَقَ جُلَسَاؤُهُ كَأَنَّمَا عَلَى رُءُوسِهِمُ الطَّيْرُ . فَإِذَا سَكَتَ تَكَلَّمُوا لَا يَتَنَازَعُونَ عِنْدَهُ الْحَدِيثَ ، وَمَنْ تَكَلَّمَ عِنْدَةً اَنْصَتُوا لَهُ حَتَّى يَفْرُغَ . حَدِيثُهُمْ عِنْدَةً حَدِيثُ أَوْلِهِمْ ، يَضْحَكُ مِمَّا يَضْحَكُونَ مِنْهُ ، وَيَتَعَجَّبُ مِمَّا يَتَعَجَّبُونَ مِنْهُ ، وَيَصْبِرُ لِلْغَرِيبِ عَلَى الْجَفْوَةِ فِي مَنْطِقِهِ وَمَسْأَلَتِهِ حَتَّى إِنْ كَانَ أَصْحَابُهُ لَيَسْتَجْلِبُونَهُمْ وَيَقُولُ : إِذَا رَأَيْتُمْ طَالِبَ حَاجَةٍ يَطْلُبُهَا فَأَرْفِدُوهُ ، وَلَا يَقْبَلُ الثَّنَاءَ إِلَّا مِنْ مُكَافِي وَلَا يَقْطَعُ عَلَى أَحَدٍ حَدِيثَهُ حَتَّى يَجُوزَ فَيَقْطَعُهُ بِنَهْي أَوْ قِيَامٍ
২৬৯. হাসান ইবনে আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ) বলেছেন, আমি আমার পিতাকে রাসূলুল্লাহ এর সাথিদের ব্যাপারে তাঁর আচরণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। উত্তরে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছিলেন সদা হাস্যোজ্জোল ও বিনম্র স্বভবের অধিকারী। তিনি রূঢ়ভাষী বা কঠিন হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন না। তিনি উচ্চৈঃস্বরে কথা বলতেন না, অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করতেন না, অপরের দোষ খোঁজে বেড়াতেন না এবং কৃপণ ছিলেন না। তিনি অপছন্দনীয় কথা হতে বিরত থাকতেন। তিনি কাউকে নিরাশ করতেন না, আবার মিথ্যা প্রতিশ্রুতিও দিতেন না। তিনটি বিষয় থেকে তিনি দূরে থাকতেন- ঝগড়া-বিবাদ ও অহংকার করা এবং অযথা কথাবর্তা বলা। তিনটি কাজ হতে লোকদেরকে বিরত রাখতেন-
কারো নিন্দা করতেন না, কাউকে অপবাদ দিতেন না এবং কারো দোষ-ক্রোটি তালাশ করতেন না। যে কথায় সওয়াব হয়, শুধু তাই বলতেন। তিনি যখন কথা বলতেন তখন উপস্থিত শ্রোতাদের মনোযোগ এমনভাবে আকর্ষণ করতেন, যেন তাদের মাথার উপর পাখি বসে আছে। তিনি কথা বলা শেষ করলে অন্যরা তাঁকে প্রয়োজনীয় কথাবার্তা জিজ্ঞেস করতে পারত। তাঁর কথায় কেউ বাদানুবাদ করতেন না। কেউ কোন কথা বলা শুরু করলে তার কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি চুপ থাকতেন। কেউ কোন কথায় হাসলে বা বিস্ময় প্রকাশ করলে তিনিও হাসতেন কিংবা বিস্ময় প্রকাশ করতেন। অপরিচিত ব্যক্তির দৃঢ় আচরণ কিংবা কঠোর উক্তি ধৈর্য্যের সঙ্গে সহ্য করতেন। কখনো কখনো সাহাবীগণ অপরিচিত লোক নিয়ে আসতেন। রাসূলুল্লাহ বলতেন, কারো কোন প্রয়োজন দেখলে তা সামাধা করতে তোমরা সাহায্য করবে। কেউ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে তিনি চুপ করে থাকতেন। কেউ কথা বলতে থাকলে তাকে থামিয়ে দিয়ে নিজে কথা আরম্ভ করতেন না। অবশ্য কেউ অযথা কথা বলতে থাকলে তাকে নিষেধ করে দিতেন, অথবা মজলিস হতে উঠে যেতেন, যাতে বক্তার কথা বন্ধ হয়ে যায়। ২৭২
রাসূলুল্লাহ এর নিকট কোন কিছু চাইলে তিনি কখনো না বলতেন না:
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ : مَا سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ شَيْئًا قَطُ فَقَالَ : لَا
২ ৭০. জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর নিকট কোন কিছু চাইলে তিনি কখনো না বলতেন না। ২৭৩
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ এর কাছে কেউ কিছু প্রার্থনা করলে তিনি কারো প্রার্থনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করতেন না। উপস্থিত থাকলে সাথে সাথে দিয়ে দিতেন, নতুবা পরবর্তী সময়ের জন্য ওয়াদা করতেন বা তার জন্য দু'আ করতেন, যেন আল্লাহ তা'আলা অন্যভাবে তার প্রয়োজন পূরণ করেন।
রাসূলুল্লাহ ছিলেন সর্বশ্রেষ্ট দানশীল:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَجْوَدَ النَّاسِ بِالْخَيْرِ وَكَانَ أَجْوَدَ مَا يَكُونُ فِي شَهْرٍ رَمَضَانَ ، حَتَّى يَنْسَلِخَ فَيَأْتِيهِ جِبْرِيلُ فَيَعْرِضُ عَلَيْهِ الْقُرْآنَ ، فَإِذَا لَقِيَهُ جِبْرِيلُ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَجْوَدَ بِالْخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ
২৭১. ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছিলেন লোকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দানশীল। বিশেষ করে রমাযান মাসে তিনি
উদারভাবে দান করতেন। এ মাসে জিবরাঈল (আঃ) তাঁর কাছে আগমন করতেন এবং তাঁকে পবিত্র কুরআন শুনাতেন। যখন তাঁর কাছে জিবরাঈল (আঃ) আগমন করতেন, তখন রাসূলুল্লাহ এত বেশি দান খয়রাত করতেন, যেন প্রচণ্ড বায়ু প্রবাহ কিংবা মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষিত হতো। ২৭৪
তিনি আগামীকালের জন্য কোন কিছু জমা করে রাখতেন না :
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ للهِ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ لَا يَدَّخِرُ شَيْئًا لِغَدٍ
২৭২. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর অভ্যাস ছিল, তিনি আগামীকালের জন্য কিছু জমা রেখে দিতেন না। ২৭৫
ব্যাখ্যা: ব্যক্তিগত প্রয়োজনে রাসূলুল্লাহ কোন কিছু আগামী দিনের জন্য জমা করে রাখতেন না। সবই দান করে দিতেন। এটাই ছিল আল্লাহ তা'আলার উপর তাঁর পরিপূর্ণ তাওয়াক্কুলের নিদর্শন। তাঁর ওপর যাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব ছিল, (যেমন বিবিগণ) তাঁদের এক বছরের খরচ তিনি একত্রে দিয়ে দিতেন। তাঁরা প্রয়োজনে খরচ করতেন এবং আল্লাহর রাস্তায় দান করতেন। ফলে কখনো এমন হতো যে, ঘরে রান্না করার মতো কিছুই থাকত না।
রাসূলুল্লাহ হাদিয়া গ্রহণ করতেন এবং প্রতিদান দিতেন :
عَنِ الرُّبَيْعِ بِنْتِ مُعَوِّذِ بْنِ عَفْرَاءَ ، قَالَتْ : أَتَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ بِقِنَاعٍ مِنْ رُطَبٍ وَأَجْرٍ زُغْبٍ فَأَعْطَانِي مِلْءَ كَفِهِ حُلِيًّا وَذَهَبًا
২৭৩. রুবাইয়্যি বিনতে মু'আওভভিয ইবনে আফরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আমি এক পাত্র খেজুর এবং কিছু হালকা পাতলা শসা নিয়ে রাসূলুল্লাহ এর খেদমতে উপস্থিত হলাম। রাসূলুল্লাহ আমাকে এক মুষ্ঠ অলংকার ও স্বর্ণ দান করলেন। ২৭৬
عَنْ عَائِشَةَ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَقْبَلُ الْهَدِيَّةَ وَيُثِيبُ عَلَيْهَا
২৭৪. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ দান গ্রহণ করতেন এবং প্রতিদানও দিতেন। ২৭৭
ব্যাখ্যা: এ হাদীসের শিক্ষা হলো, হাদিয়া গ্রহণ করা এবং হাদিয়ার প্রতিদান প্রদান করা নবী এর সুন্নত।
টিকাঃ
২৬৭ শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬৬৪; দারেমী, হা/৬২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩০৫৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৮৯৪।
২৬৮ মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৪৫৬; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/১৩৮৬২; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/১৬২৩; শু'আবুল ঈমান, হা/৭৯৪৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৪৪৩।
২৬৯ সহীহ মুসলিম, হা/৬১৯৫; আবু দাউদ, হা/৪৭৮৮; ইবনে মাজাহ, হা/১৯৮৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৯৬৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৪৮৮; বায়হাকী, হা/২০৫৭৭; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬৬৭; শু'আবুল ঈমান, হা/১৩৫৮।
২৭০ মুসনাদে হুমাইদী, হা/২৭৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫০২৯; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৪২২৩; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৫০৭; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৯১১৮।
২৭১ আবু দাউদ, হা/৪৭৯৩; আদাবুল মুফরাদ, হা/৩৩৮; শু'আবুল ঈমান, হা/৭৭৪৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৬৯৬; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১০৪৯; মুসনাদে আবু ই'আলা, হা/৪৮২৩।
২৭২ শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৭০৫।
২৭৩ সহীহ মুসলিম, হা/৬১৫৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪৩৩৩; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হা/২০০১; মুসনাদুত ভায়ালুসী, ২/১৮২৬, মু'জামুল আওসাত, হা/১৩৩৯; মুসনাদে হুমাইদী, হা/১২৮২; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬৮৫।
২৭৪ সহীহ বুখারী, হা/১৯০২; সহীহ মুসলিম, হা/৬১৪৯; সুনানে নাসাঈ, হা/২০৯৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৪২৫; ইবনে খুযাইমা, হা/১৮৮৯; ইবনে হিব্বান, হা/৩৪৪০; আদাবুল মুফরাদ, হা/২৯২; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬৮৭।
২৭৫ শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬৯০; তাহযীবুল আছার, হা/২৪৯০; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৩৫৬; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৯৩০; জামেউস সগীর, হা/৮৯৭৭; শু'আবুল ঈমান, হা/১৩৯১।
২৭৬ মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/২০১৫৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৭০৬৮।
২৭৭ সহীহ বুখারী, হা/২৫৮৫; আবু দাউদ, হা/৩৫৩৮; মুজামুল আওসাত, হা/৮০৩১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৬৩৫; বায়হাকী, হা/১১৮০০; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৬১০; জামেউস সগীর, হা/৯১৩৯।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর শিঙ্গা লাগানো
বَابُ مَا جَاءَ فِي حِجَامَةِ رَسُولِ اللهِ ﷺ
অধ্যায়- ৫০ : রাসূলুল্লাহ এর শিঙ্গা লাগানো
রাসূলুল্লাহ শিঙ্গা লাগাতেন এবং এর পারিশ্রমিকও দিতেন:
عَنْ حُمَيْدٍ قَالَ : سُئِلَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ عَنْ كَسْبِ الْحَجَّامِ ، فَقَالَ : احْتَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حَجَمَةَ أَبُو طَيِّبَةً ، فَأَمَرَ لَهُ بِصَاعَيْنِ مِنْ طَعَامٍ ، وَكَلَّمَ أَهْلَهُ فَوَضَعُوْا عَنْهُ مِنْ خَرَاجِهِ وَقَالَ : إِنَّ أَفْضَلَ مَا تَدَاوَيْتُمُ بِهِ الْحِجَامَةُ ، أَوْ إِنَّ مِنْ أَمْثَلِ دَوَائِكُمُ الْحِجَامَةَ
২৭৬. হুমায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)-কে শিঙ্গা লাগানোর পারিশ্রমিক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আবু তায়বা রাসূলুল্লাহ কে শিঙ্গা লাগিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ
১৩৫ তাঁকে ২ সা' খাদ্যশস্য দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তার মালিকের সঙ্গে আলাপ করে তার নিকট হতে আদায়যোগ্য অর্থ খারাজও কমিয়ে দিয়েছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন, তোমরা যে ঔষধ ব্যবহার কর, এর মধ্যে শিঙ্গা উত্তম। অথবা বলেছেন, শিঙ্গা উত্তম প্রতিষেধকের অন্তর্ভুক্ত।
ব্যাখ্যা: তদানীন্তন আরবে মুনিব ক্রীতদাসকে দৈনিক প্রদেয় নির্দিষ্ট মাশুলের বিনিময়ে অর্থ উপার্জনের সুযোগ দিত। আবু তাইবাকেও মুনিব এভাবে অনুমতি দেন। তিনি দৈনিক তিন সা' মাশুলে কাজ করার সুযোগ পান। রাসূলুল্লাহ তার মুনিবকে সুপারিশ করে এক সা' হ্রাস করান।
عَنْ عَلِيٍّ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ احْتَجَمَ وَأَمَرَنِي فَأَعْطَيْتُ الْحَجَّامَ أَجْرَةً
২৭৭. আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ নিজে শিঙ্গা লাগালেন এবং আমাকে এর পারিশ্রমিক দেয়ার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর আমি তাকে পারিশ্রমিক দিয়ে দিলাম।
ব্যাখ্যা: এসব হাদীস থেকে জানা গেল যে, চিকিৎসা করা তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয় এবং শিঙ্গা লাগানো, শিঙ্গা লাগিয়ে ভাতা দেয়া-নেয়া উভয়ই জায়েয আছে।
রাসূলুল্লাহ গর্দানের দু'পার্শ্বে ও কাঁধের দু'পার্শ্বে শিঙ্গা লাগাতেন:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : إِنَّ النَّبِيَّ ﷺ احْتَجَمَ فِي الْأَخْدَعَيْنِ وَبَيْنَ الْكَتِفَيْنِ ، وَأَعْطَى الْحَجَّامَ أَجْرَةً وَلَوْ كَانَ حَرَامًا لَمْ يُعْطِهِ
২৭৮. ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী তাঁর গর্দানের দু'পার্শ্বে এবং কাঁধের দু'পার্শ্বে শিঙ্গা লাগালেন এবং শিঙ্গা লাগানেওয়ালাকে এর পারিশ্রমিক দিলেন। শিঙ্গা লাগানো যদি হারাম হতো, তবে তিনি এর পারিশ্রমিক দিতেন না।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ هُ ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ دَعَا حَجَامًا فَحَجَمَةً وَسَالَةَ : كَمْ خَرَاجُكَ ؟ فَقَالَ : ثَلَاثَةُ أَصْعِ ، فَوَضَعَ عَنْهُ صَاعًا وَأَعْطَاهُ أَجْرَةً
টিকাঃ
²⁷⁹ সহীহ মুসলিম, হা/৪১২১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৯০৬; মুসনাদে আবু ই'আলা, হা/৩৭৫৮; মুস্তাখরাজে ইবনে আবি 'আওয়ানা, হা/৪২৯৮।
²⁸⁰ ইবনে মাজাহ, হা/২১৬৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/১১৩০; বায়হাকী, হা/১৯৩০৪; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/১৪৮।
²⁸¹ সহীহ বুখারী, হা/২১০৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৯০৬; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হা/২২০৫; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১২৪২০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইba, হা/২১৩৮২।
১৩৬ সহীহ শামায়েলে তিরমিযী
২৭৯. ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী এক শিঙ্গা লাগানেওয়ালাকে ডাকলেন। সে তাঁকে শিঙ্গা লাগাল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাকে দৈনিক কত দিতে হয়? সে বলল, প্রতিদিন তিন সা'। রাসূলুল্লাহ তাঁর আদায়যোগ্য অর্থ এক সা' কমিয়ে দিলেন এবং তার পারিশ্রমিক দিয়ে দিলেন।
রাসূলুল্লাহ ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে শিঙ্গা লাগাতেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَحْتَجِمُ فِي الْأَخْدَعَيْنِ وَالْكَاهِلِ ، وَكَانَ يَحْتَجِمُ لِسَبْعَ عَشْرَةَ وَتِسْعَ عَشْرَةَ وَاحْدَى وَعِشْرِينَ
২৮০. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ কাঁধের দু'পার্শ্বে এবং কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে শিঙ্গা লাগাতেন এবং তিনি ১৭, ১৯ ও ২১ তারিখে শিঙ্গা লাগাতেন।
রাসূলুল্লাহ ইহরাম বাঁধা অবস্থাতেও শিঙ্গা লাগাতেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ احْتَجَمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ بِمَلَلٍ عَلَى ظَهْرِ الْقَدَمِ
২৮১. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ইহরাম বাঁধা অবস্থায় পায়ের পাতার উপরিভাগে মালাল নামক স্থানে শিঙ্গা লাগালেন।
টিকাঃ
²⁸² মুসনাদে আহমাদ, হা/১১৩৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৫৩৬; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/১৮২৯; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হা/২১৩৮৪।
²⁸³ শারহুস সুন্নাহ, হা/৩২৩৪; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩৪৬৪; মিশকাত, হা/৪৫৪৬।
²⁸⁴ আবু দাউদ, হা/১৮৩৯; সুনানে নাসাঈ, হা/২৮৪৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৭০৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৯৫২; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৯৮৬।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর নাম
বَابُ : مَا جَاءَ فِي أَسْمَاءِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ
অধ্যায়- ৫১৯ 'রাসূলুল্লাহ এর নাম
عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ هِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : إِنَّ لِي أَسْمَاءً أَنَا مُحَمَّدٌ ، وَأَنَا أَحْمَدُ ، وَأَنَا الْمَاحِي الَّذِي يَمْحُو اللَّهُ بِي الْكُفْرَ ، وَأَنَا الْحَاشِرُ الَّذِي يُحْشَرُ النَّاسُ عَلَى قَدَمِي ، وَأَنَا الْعَاقِبُ وَالْعَاقِبُ الَّذِي لَيْسَ بَعْدَهُ نَبِيٌّ
২৮২. যুবায়ের ইবনে মুতয়িম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, আমার একাধিক নাম রয়েছে। আমার নাম মুহাম্মদ, আহমাদ,
১৩৭ মাহী (ধ্বংসকারী); আল্লাহ তা'আলা আমার দ্বারা কুফরী ধ্বংস করবেন। আমার নাম হা-শির (একত্রকারী); লোকদেরকে একত্রিত করার আগে আল্লাহ তা'আলা আমাকে উঠাবেন। আমার নাম আ-কিব (সর্বশেষ আগমনকারী নবী); অর্থাৎ তাঁর পরে আর কোন নবীর আগমন হবে না।
ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসে শেষ ৩টির শাব্দিক বিশ্লেষণ উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু প্রথম ২টি নামের বিশ্লেষণ উল্লেখ করা হয়নি। সম্ভবত প্রথম দুটি রাসূলুল্লাহ এর সত্ত্বাগত নাম আর শেষোক্ত তিনটি গুণবাচক নাম।
عَنْ حُذَيْفَةَ ، قَالَ : لَقِيتُ النَّبِيَّ ﷺ فِي بَعْضِ طُرُقِ الْمَدِينَةِ فَقَالَ : أَنَا مُحَمَّدٌ ، وَأَنَا أَحْمَدُ . وَأَنَا نَبِيُّ الرَّحْمَةِ ، وَنَبِيُّ التَّوْبَةِ ، وَأَنَا الْمُقَقِّى ، وَأَنَا الْحَاشِرُ ، وَنَبِيُّ الْمَلَاحِمِ
২৮৩. হুযায়ফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার মদিনার কোন এক রাস্তায় নবী এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। তিনি বললেন, আমি মুহাম্মদ, আমি আহমাদ, আমি নবীউর রহমত (রহমতের নবী) আমি নবীউত তাওবা (তাওবার নবী), আমি মুকাফফী (পরে আগমনকারী), আমি হাশির (একত্রকারী), আমি মালাহিমের নবী (জিহাদকারী)।
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ এর একটি গুণবাচক নাম হচ্ছে, দয়ার নবী। তিনি ছিলেন সকলের জন্য রহমত। রাসূলুল্লাহ এর আরো একটি গুণবাচক নাম 'আল মুকাফী' পূর্ণতা দানকারী। যার পরে আর কোন নবীর আগমন হবে না, তাঁর আগমনের মাধ্যমে নবুওয়াত পূর্ণতা লাভ করেছেন। রাসূলুল্লাহ এর আরো একটি গুণবাচক নাম হলো 'নবিউল মালাহিম' অর্থাৎ- জিহাদের নবী। রাসূলুল্লাহ সত্য দ্বীনকে বিজয়ী করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদ করেছেন এবং তিনি বলেছেন, আমার আগমন থেকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত জিহাদ অব্যাহত থাকবে। তাই তাঁর আরেকটি গুণবাচক নাম হচ্ছে 'নবিউল মালাহিম'।
টিকাঃ
²⁸⁵ সহীহ বুখারী, হা/৪৮৯৬; সহীহ মুসলিম, হা/৬২৫২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৫৮০; মুসনাদে বাযযার, হা/৩৪১৩; মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৫০৪; ইবনে হিব্বান, হা/৬৩১৩।
²⁸⁶ মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৪৯২; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬৩১; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৪১৮৫; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হা/৩২৩৫১; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/৪৯৪।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর জীবিকা
রাসূলুল্লাহ এর কাছে কখনো পেটভরে খাওয়ার মতো খেজুর থাকত না:
عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ قَالَ : سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ يَقُولُ : أَلَسْتُمْ فِي طَعَامٍ وَشَرَابٍ مَا شِئْتُمْ ؟ لَقَدْ رَأَيْتُ نَبِيَّكُمْ ﷺ وَمَا يَجِدُ مِنَ الدَّقَلِ مَا يَمْلَأُ بَطْنَهُ
২৮৪. সিমাক ইবনে হাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নু'মান ইবনে বশীর (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা কি তোমাদের চাহিদামতো খাওয়া-দাওয়ায় তৃপ্ত নও? অথচ নবী ﷺ কে দেখেছি যে, পেটভরে খাওয়ার মতো খারাপ খেজুরও তাঁর ঘরে থাকত না। ২৮৭
কখনো কখনো তাঁর পরিবারের চুলায় ১ মাসের অধিক সময় পর্যন্তও আগুন জ্বালানো হতো না:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : إِنْ كُنَّا أَلَ مُحَمَّدٍ نَمْكُثُ شَهْرًا مَا نَسْتَوْقِدُ بِنَارٍ ، إِنْ هُوَ إِلَّا التَّمْرُ وَالْمَاءُ
২৮৫. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আমাদের নবীর পরিবারে কখনো এমন হতো যে, এক মাসের অধিক সময় পর্যন্ত আগুন জ্বালানো হতো না; শুধু পানি ও খেজুর খেয়ে কাটাতাম। ২৮৮
রাসূলুল্লাহ ﷺ ও কয়েকজন সাহাবীর ক্ষুধাকালীন এক সময়ের ঘটনা:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : خَرَجَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فِي سَاعَةٍ لَا يَخْرُجُ فِيهَا وَلَا يَلْقَاهُ فِيهَا أَحَدٌ . فَأَتَاهُ أَبُو بَكْرٍ ، فَقَالَ : مَا جَاءَ بِكَ يَا أَبَا بَكْرٍ ؟ قَالَ : خَرَجْتُ الْقَى رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَأَنْظُرُ فِي وَجْهِهِ ، وَالتَّسْلِيمَ عَلَيْهِ ، فَلَمْ يَلْبَثُ أَنْ جَاءَ عُمَرُ فَقَالَ : مَا جَاءَ بِكَ يَا عُمَرُ ؟ قَالَ : الْجُوْعُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ : وَأَنَا قَدْ وَجَدْتُ بَعْضَ ذَلِكَ فَانْطَلَقُوا إِلَى مَنْزِلِ أَبِي الْهَيْثَمِ بْنِ التَّيْهَانِ الْأَنْصَارِي وَكَانَ رَجُلًا كَثِيرَ النَّخْلِ وَالشَّاءِ ، وَلَمْ يَكُنْ لَهُ خَدَمٌ ، فَلَمْ يَجِدُوهُ ، فَقَالُوا لامْرَأَتِهِ : أَيْنَ صَاحِبُكِ ؟ فَقَالَتِ : انْطَلَقَ يَسْتَعْذِبُ لَنَا الْمَاءَ ، فَلَمْ يَلْبَثُوا أَنْ جَاءَ أَبُو الْهَيْثَمِ بِقِرْبَةٍ يَزْعَبُهَا ، فَوَضَعَهَا ثُمَّ جَاءَ يَلْتَزِمُ النَّبِيَّ ﷺ وَيُفَدِّيهِ بِأَبِيْهِ وَأُمِّهِ ، ثُمَّ انْطَلَقَ
بِهِمْ إِلَى حَدِيقَتِهِ فَبَسَطَ لَهُمْ بِسَاطًا ، ثُمَّ انْطَلَقَ إِلى نَخْلَةٍ فَجَاءَ بِقِنُو فَوَضَعَهُ ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : أَفَلَا تَنَقَّيْتَ لَنَا مِنْ رُطَبِهِ ؟ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنِّي أَرَدْتُ أَنْ تَخْتَارُوا ، أَوْ تَخَيَّرُوا مِنْ رُطَبِهِ وَبُسْرِهِ ، فَأَكَلُوا وَشَرِبُوا مِنْ ذَلِكَ الْمَاءِ . فَقَالَ ﷺ : هَذَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مِنَ النَّعِيمِ الَّذِي تُسْأَلُونَ عَنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ظِلَّ بَارِدٌ ، وَرُطَبْ طَيِّبٌ ، وَمَاءً بَارِدٌ . فَانْطَلَقَ أَبُو الْهَيْثَمِ لِيَصْنَعَ لَهُمْ طَعَامًا فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : لَا تَذْبَحَنَّ ذَاتَ دَرٍ ، فَذَبَحَ لَهُمْ عَنَاقًا أَوْ جَدْيًا . فَأَتَاهُمْ بِهَا فَأَكَلُوا ، فَقَالَ ﷺ : هَلْ لَكَ خَادِمٌ ؟ قَالَ : لَا . قَالَ : فَإِذَا آتَانَا سَبْيٌّ فَأْتِنَا . فَأُتِيَ النَّبِيُّ ﷺ بِرَأْسَيْنِ لَيْسَ مَعَهُمَا ثَالِثٌ ، فَأَتَاهُ أَبُو الْهَيْثَمِ ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : اخْتَرْ مِنْهُمَا فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ ، اخْتَرْ لِي . فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : إِنَّ الْمُسْتَشَارَ مُؤْتَمَنْ . خُذْ هُذَا فَإِنِّي رَأَيْتُهُ يُصَلِّي ، وَاسْتَوْصِ بِهِ مَعْرُوفًا . فَانْطَلَقَ أَبُو الْهَيْثَمِ إِلَى امْرَأَتِهِ ، فَأَخْبَرَهَا بِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ، فَقَالَتِ امْرَأَتُهُ : مَا أَنْتَ بِبَالِغ حَقَّ مَا قَالَ فِيْهِ النَّبِيُّ ﷺ إِلَّا بِأَنْ تَعْتِقَهُ قَالَ : فَهُوَ عَتِيقٌ ، فَقَالَ ﷺ : إِنَّ اللَّهَ لَمْ يَبْعَثُ نَبِيًّا وَلَا خَلِيفَةً إِلَّا وَلَهُ بِطَانَتَانِ : بِطَانَةٌ تَأْمُرُهُ بِالْمَعْرُوْفِ وَتَنْهَاهُ عَنِ الْمُنْكَرِ ، وَبِطَانَةٌ لَا تَأْلُوْهُ خَبَالًا ، وَمَنْ يُوْقَ بِطَانَةَ السُّوْءِ فَقَدْ رُقِيَ
২৮৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন নবী এমন সময় ঘর থেকে বের হলেন, যখন সচরাচর তিনি বের হন না। কেউ সাক্ষাৎ করতেও আসে না। এমন সময় আবু বকর (রাঃ) তাঁর কাছে আসলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, কি জন্য এসেছ হে আবু বকর! বললেন, আল্লাহর রাসূলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে, তাঁর চেহারা দেখতে ও সালাম জানাতে এসেছি। কিছুক্ষণ পর উমর (রাঃ) আসলেন। জিজ্ঞেস করলেন, কি জন্য এসেছ উমর? বললেন, ক্ষুধার তাড়নায় হে আল্লাহর রাসূল! রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, আমিও তা-ই অনুভব করছি.।
অতঃপর তারা তিনজনই আবুল হায়সাম ইবনে তায়্যিহান আল আনসারীর বাড়ি গেলেন। তাঁর অনেক খেজুর বাগান, ফল বাগান ও ছাগলের পাল। কিন্তু কোন খাদেম ছিল না। তাঁরা তার দেখা পেলেন না। ফলে তাঁরা তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার স্বামী কোথায় গিয়েছেন? বলল, আমাদের জন্য মিঠা পানি আনতে গিয়েছেন। কিছুক্ষণ পরই আবুল হায়ছাম পানির পাত্র নিয়ে ফিরে আসলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ কে দেখে আনন্দে জড়িয়ে ধরেন এবং তাঁর পিতামাতাকে উৎসর্গ করতে থাকেন।
তারপর তাদেরকে নিয়ে বাগানে গেলেন এবং তাঁদের জন্য বিছানা বিছিয়ে দিলেন। খেজুর বাগান হতে এক ছড়া খেজুর এনে দেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, আমাদের জন্য তাজা খেজুর বেছে আনলে না কেন? (পূর্ণ একটি ছড়া আনার কি প্রয়োজন ছিল)। আবুল হায়ছাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি চাই আপনি তা হতে কাঁচা ও পাকা খেজুর বেছে নিন। অতঃপর তারা সকলেই খেজুর খেলেন এবং পানি পান করলেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, এসবও সেসব নিয়ামতের মধ্যে গণ্য, কিয়ামতের দিন যেগুলোর হিসাব নেয়া হবে। তা হলো, শীতল ছায়া, তরতাজা খেজুর ও ঠাণ্ডা পানি।
অতঃপর আবুল হায়সাম তাঁদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য চলে গেলেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, আমাদের জন্য যেন দুগ্ধবতী ছাগী যবেহ করা না হয়। অতঃপর তাঁদের জন্য একটি বাচ্চা ছাগল যবেহ করা হলো এবং যথাশ্রীঘ্র খাবার হাযির করা হলো এবং তাঁরা আহার করলেন।
রাসূলুল্লাহ তাকে বললেন, তোমার কোন খাদেম আছে কি? তিনি বললেন, না। রাসূলুল্লাহ বললেন, আমাদের যখন কোন গোলাম আসবে, তখন আমাকে মনে করিয়ে দিও। অতঃপর রাসূলুল্লাহ এর কাছে ২ জন গোলাম আসল। তাদের সঙ্গে তৃতীয় কেউ ছিল না। এমন সময় আবুল হায়সাম সেখানে উপস্থিত হলেন। রাসূলুল্লাহ তাকে বললেন, এ ২ জনের মধ্য হতে একজনকে বেছে নাও। বললেন, হে আল্লাহর নবী! আপনিই বেছে দিন। নবী বললেন, পরামর্শদাতা বিশ্বস্ত হয়। অতএব তুমি একে নাও। কারণ, আমি তাকে সালাত আদায় করতে দেখেছি। আর আমি তোমাকে তার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার জন্য অসিয়ত করছি।
অতঃপর আবুল হায়সাম স্ত্রীর কাছে ফিরে গেলেন এবং তাকে রাসূলুল্লাহ এর অসিয়তের কথা শুনালেন। তাঁর স্ত্রী বললেন, আপনার জন্য রাসূলুল্লাহ এর কথা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা সম্ভব নাও হতে পারে। অতএব আপনি গোলামকে আযাদ করে দিন। তাতে আবুল হায়ছাম গোলামটিকে আযাদ করে দেন। রাসূলুল্লাহ বলেন, আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রত্যেক নবী ও খলীফার জন্য ২ জন গোপন পরামর্শদাতা সৃষ্টি করে দেন। একজন সৎপরামর্শ দেয় এবং অসৎ কাজ হতে বিরত রাখে। অপরজন ধ্বংসের পথে নিয়ে যেতে ইতস্তত করে না। যে ব্যক্তিকে তার মন্দ স্বভাব থেকে নিরাপদ রাখা হয়েছে, তাকে সকল অন্যায় হতে নিরাপদ রাখা হয়েছে।
শিয়াবে তালিবের সময় রাসূলুল্লাহকে গাছের চামড়া ও পাতা খেয়ে জীবনপাত করতে হয়েছিল:
عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصٍ لَهُ يَقُولُ : إِنِّي لَأَوَّلُ رَجُلٍ أَهْرَاقَ دَمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ، وَإِنِّي لَأَوَّلُ رَجُلٍ رَمَى بِسَهْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ، لَقَدْ رَأَيْتُنِي أَغْزُو فِي الْعِصَابَةِ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامِ مَا تَأْكُلُ إِلَّا وَرَقَ الشَّجَرِ وَالْحُبْلَةِ حَتَّى تَقَرَّحَتْ أَشْدَاقْنَا ، وَإِنَّ أَحَدَنَا لَيَضَعُ كَمَا تَضَعُ الشَّاةُ وَالْبَعِيرُ ، وَأَصْبَحَتْ بَنُو أَسَدٍ يَعْزُرُونِي فِي الدِّينِ . لَقَدْ خِبْتُ وَخَسِرْتُ إِذًا وَضَلَّ عَمَلِي
২৮৭. সা'দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইসলামের প্রথম ব্যক্তি, যে কাফিরদের রক্ত প্রবাহিত করেছে। আমি প্রথম ব্যক্তি, যে আল্লাহর রাস্তায় তীর নিক্ষেপ করেছে। আমরা মুহাম্মদ এর সাহাবীরা এমন অবস্থায় যুদ্ধ করেছি যে, গাছের বাকল ও পাতা ছাড়া কিছুই খেতে পেতাম না। এসব খাওয়ার ফলে আমাদের মুখে ঘা হয়ে যেত। এমনকি উট ও বকরীর মলের ন্যায় চর্বিযুক্ত মল পড়ত। তা সত্ত্বেও বনূ আসাদের লোকেরা দীন সম্পর্কে আমাকে অভিযুক্ত করেছে। দীন সম্পর্কে যদি আমি অজ্ঞই হই, তবে তো আমার সকল আমলই বরবাদ হয়ে গেল। ২০১০
ব্যাখ্যা: ইমাম তিরমিযী (রহঃ) এর এ হাদীস বর্ণনার উদ্দেশ্য হলো, ইসলামের প্রথম যুগের মুসলমানদের চেষ্টা এবং কষ্ট-ক্লেশের কথা বর্ণনা করা। তাই তিনি হাদীসটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।
রাসূলুল্লাহ ৩০ রাত পর্যন্তও সামান্য আহারেই কাটিয়ে ছিলেন:
عَنْ أَنَسٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : لَقَدْ أُخِفْتُ فِي اللَّهِ وَمَا يَخَافُ أَحَدٌ ، وَلَقَدْ أُوذِيْتُ فِي اللَّهِ وَمَا يُؤْذَى أَحَدٌ ، وَلَقَدْ أَتَتْ عَلَيَّ ثَلَاثُونَ مِنْ بَيْنِ لَيْلَةٍ وَيَوْمٍ وَمَا لِي وَلِبِلَالٍ طَعَامُ يَأْكُلُهُ ذُو كَبِدِ إِلَّا شَيْءٌ يُوَارِيهِ إِبِطُ بِلَالٍ
২৮৮. আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, আমাকে আল্লাহর পথে এমন ভয় প্রদর্শন করা হয়েছে, যখন আর কাউকে ভয় প্রদর্শন করা হয়নি। আমাকে আল্লাহর পথে এমনভাবে কষ্ট দেয়া হয়েছে, যা অন্য কাউকে দেয়া হয়নি। আমাদের ৩০টি রাত এমনভাবে অতিবাহিত হয়েছে, যখন বিলালের বগলের নিচে লুকিয়ে রাখা সামান্য খাদ্য ছাড়া আমার ও বিলালের আহারের মতো কিছুই ছিল না। ২০১১
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে কখনো রুটি ও গোশত একত্রিত হতো না :
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ له : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ لَمْ يَجْتَمِعُ عِنْدَهُ غَدَاءً وَلَا عَشَاءُ مِنْ خُبْرٍ وَلَحْمٍ إِلَّا عَلَى ضَفَفٍ. قَالَ عَبْدُ اللَّهِ : قَالَ بَعْضُهُمْ : هُوَ كَثْرَةُ الْأَيْدِي.
২৮৯. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। দিনের খাবারই হোক কিংবা রাতের খাবার, কোন সময়ই রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে রুটি-গোশত একত্রিত হতো না। তবে মেহমানদারীর জন্য দস্তরখানায় তা থাকত। ২৯২
আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, কোন কোন বর্ণনাকারী বলেছেন, ضَفَفٍ-এর অর্থ হলো অনেক হাত একত্রিত হওয়া।
টিকাঃ
২৮৭ সহীহ মুসলিম, হা/৭৬৫০; শারহুস সুন্নাহ, হা/৪০৭১; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৩৪০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হা/৩৫৪৬৩; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩২৭৫; মিশকাত, হা/৪১৯৫।
২৮৮ সহীহ বুখারী, হা/৬৪৫৮; সহীহ মুসলিম, হা/৭৬৩৯; ইবনে মাজাহ, হা/৪১৪৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪২৭৮; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৩৬১।
২৮৯ সহীহ মুসলিম, হা/৫৪৩৪; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৭১৭৮; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩২৯৬; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৬৫৮৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬১২; শু'আবুল ঈমান, হা/৪২৮২।
২৯০ সহীহ বুখারী, হা/৩৭২৮; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৯২৩।
২৯১ ইবনে মাজাহ, হা/১৫১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৪০৮৭; শারহুস সুন্নাহ, হা/৪০৮০; মুসনাদুল বাযযার, হা/৩২০৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৫৬০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হা/৩৭৭২১।
২৯২ মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩৮৮৬; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হা/৩১০৮; ইবনে হিব্বান, হা/৬৩৫৯; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৩৮৯।