📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর কিরাআত

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর কিরাআত


রাসূলুল্লাহর টেনে টেনে কিরাআত পাঠ করতেন:
عَنْ قَتَادَةَ ، قَالَ : قُلْتُ لِأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ هَ : كَيْفَ كَانَتْ قِرَاءَةُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ؟ فَقَالَ : مَدًّا
২৪০. কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ এর কিরাআত কিরূপ ছিল? তিনি বললেন, টেনে পড়তেন। ২৪১
রাসূলুল্লাহ প্রতিটি আয়াত আলাদা আলাদা করে পাঠ করতেন:
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ ، قَالَتْ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقْطَعُ قِرَاءَتَهُ يَقُوْلُ : ﴿ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴾ ثُمَّ يَقِفُ ، ثُمَّ يَقُولُ : ﴿ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ﴾ ثُمَّ يَقِفُ ، وَكَانَ يَقْرَأُ ﴿ مَلِكِ يَوْمِ الدِّيْنِ ﴾
২৪১. উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উম্মে সালামা বলেন, রাসূলুল্লাহ প্রতিটি আয়াত আলাদা আলাদা করে পড়তেন। যেমন, "আলহাম্দু লিল্লা-হি রব্বিল 'আ-লামীন" পাঠ করে একটু থামতেন। তারপর "আর রহমা-নির রহীম" পাঠ করে একটু থামতেন। তারপর "মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন" পাঠ করতেন। ২৪২
রাসূলুল্লাহ কখনো আস্তে এবং কখনো উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পাঠ করতেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَيْسٍ قَالَ : سَأَلْتُ عَائِشَةَ ، عَنْ قِرَاءَةِ النَّبِيِّ ﷺ أَكَانَ يُسِرُّ بِالْقِرَاءَةِ أَمْ يَجْهَرُ ؟ قَالَتْ : كُلُّ ذَلِكَ قَدْ كَانَ يَفْعَلُ قَدْ كَانَ رُبَّمَا أَسَرَّ وَرُبَّمَا جَهَرَ . فَقُلْتُ : الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ فِي الْأَمْرِ سَعَةً
২৪২. আবদুল্লাহ ইবনে আবু কায়স (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ কি আস্তে কিরাআত পড়তেন, না উচ্চৈঃস্বরে? তিনি বললেন, উভয়টিই করতেন। কখনো আস্তে পড়তেন, আবার কখনো উচ্চৈঃস্বরে পড়তেন। আমি বললাম, আল্লাহর প্রশংসা যে, তিনি এ ব্যাপারে দু'ধরনেরই সুযোগ রেখেছেন।
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ কোন রাতে আস্তে আর কোন রাতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পাঠ করতেন। এ উভয় নিয়মই জায়েয। তবে অবস্থার ভিন্নতায় কখনো উচ্চৈঃস্বরে কখনো আস্তে কিরাআত পড়া উত্তম। নিজের মাঝে প্রাণবন্ততা নিয়ে আসা বা অন্যকে উৎসাহিত করার জন্য উচ্চৈঃস্বরে পড়া উত্তম। অপরপক্ষে যদি কারো কষ্ট বা রিয়ার সম্ভবনা তৈরি হয়, তাহলে আস্তে পড়া উত্তম।
রাসূলুল্লাহর এর তিলাওয়াত প্রতিবেশীর ঘরের ছাদ থেকেও শুনা যেত:
عَنْ أُمِّ هَانِي ، قَالَتْ : كُنْتُ أَسْمَعُ قِرَاءَةَ النَّبِيِّ ﷺ بِاللَّيْلِ وَأَنَا عَلَى عَرِيشِي
২৪৩. উম্মু হানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার গৃহের ছাদে অবস্থান করে রাত্রিবেলায় নবী এর কিরাআত শুনতে পেতাম। ২৪৩
রাসূলুল্লাহ উষ্ট্রের উপর বসেও তিলাওয়াত করতেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ يَقُولُ : رَأَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ عَلَى نَاقَتِهِ يَوْمَ الْفَتْحِ وَهُوَ يَقْرَأُ : ﴿إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا - لِيَغْفِرَ لَكَ اللهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَرَ قَالَ : فَقَرَا وَرَجَعَ. قَالَ : وَقَالَ مُعَاوِيَةُ بْنُ قُرَّةَ : لَوْلَا أَنْ يَجْتَمِعُ النَّاسُ عَلَيَّ لَأَخَذْتُ لَكُمْ فِي ذَلِكَ الصَّوْتِ أَوْ قَالَ : اللَّحْنِ
২৪৪. আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন আমি রাসূলুল্লাহ কে উষ্ট্রের উপর বসা অবস্থায় পড়তে শুনেছি: إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا - لِيَغْفِرَ لَكَ اللهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَرَ). অর্থাৎ নিশ্চয় আমি আপনার জন্য এমন একটা ফায়সালা করে দিয়েছি, যা সুস্পষ্ট। যাতে আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যৎ ত্রুটিসমূহ মার্জনা করে দেন এবং আপনার প্রতি তাঁর নিয়ামত পূর্ণ করেন। ২৪৪ রাসূলুল্লাহ তা তারজী করে পড়ছিলেন। মু'আবিয়া ইবনে কুররা বলেন, আমি যদি আমার কাছে লোক জড়ো হওয়ার আশংকা না করতাম, তাহলে আমি সেরূপ স্বরে তোমাদেরকে শুনাতাম। বর্ণনাকারী الصَّوْتِ কিংবা اللَّحْنِ শব্দ ব্যবহার করেছেন। ২৪৫
রাসূলুল্লাহ গানের সূরে তিলাওয়াত করতেন না:
عَنْ قَتَادَةَ قَالَ : مَا بَعَثَ اللَّهُ نَبِيًّا إِلَّا حَسَنَ الصَّوْتِ ، وَكَانَ نَبِيُّكُمْ ﷺ حَسَنَ الْوَجْهِ ، حَسَنَ الصَّوْتِ ، وَكَانَ لَا يُرَجِّعُ
২৪৫. কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক নবীকেই সুন্দর চেহারা ও সুন্দর কণ্ঠস্বর দিয়ে প্রেরণ করেছেন। তোমাদের নবী মুহাম্মদ -ও সুন্দর চেহারা ও সুন্দর স্বরের অধিকারী ছিলেন। তবে তিনি গানের সুরে তিলাওয়াত করতেন না।
রাসূলুল্লাহ এর তিলাওয়াত বারান্দা থেকে শুনা যেত:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : كَانَتْ قِرَاءَةُ النَّبِيِّ ﷺ رُبَّمَا يَسْمَعُهَا مَنْ فِي الْحُجْرَةِ وَهُوَ فِي الْبَيْتِ
২৪৬. ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর কিরাআত এমন হতো যে, তিনি যখন তাঁর ঘরে বসে পড়তেন, তখন বারান্দা থেকে তা শুনা যেত। ২৪৬

টিকাঃ
২৪১ সহীহ বুখারী, হা/৫০৪৬; সুনানে নাসাঈ, হা/১০১৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩০২৫; দার কুতনী, হা/১১৭৭; বায়হাকী, হা/২২২২; শারহুস সুন্নাহ, হা/১২১৪; মু'জামুল আওসাত, হা/৪৮৬৮।
২৪২ আবু দাউদ, হা/৪০০৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৬২৫; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/২৯১০; দার কুতনী, হা/১১৯১; জামেউস সগীর, হা/৯১৩১; শু'আবুল ঈমান, হা/৩২২৫।
২৪৩ সুনানে নাসাঈ, হা/১০১৩; ইবনে মাজাহ, হা/১৩৪৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৯৬৫০; শু'আবুল ঈমান, হা/১৯৪৫; শারহুল মা'আনী, হা/২০২৫; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৩৬৯২।
২৪৪ সূরা ফাতহ- ১, ২।
২৪৫ সহীহ বুখারী, হা/৪২৮১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৫৭৭; মুস্তাখরাজে ইবনে আবি 'আওয়ানা, হা/৩১৩৭; মুসনাদে ইবনে জা'দ, হা/১১১১; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/৮৮৭।
২৪৬ আবু দাউদ, হা/১৩২৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৪৬; বায়হাকী, হা/৪৪৭৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/৯১৭; শু'আবুল ঈমান, হা/২৩৬৯; শারহুল মা'আনী, হা/২০২৩।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর ক্রন্দন

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর ক্রন্দন


রাসূলুল্লাহ সালাত আদায়কালে ক্রন্দন করতেন :
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ : أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ يُصَلِّي وَلِجَوْفِهِ أَزِيزُ كَازِيزِ الْمِرْجَلِ مِنَ الْبُكَاءِ
২৪৭. আবদুল্লাহ ইবনে শিখখীর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ এর কাছে উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলাম যে, তিনি সালাত আদায় করছেন। এমতাবস্থায় তাঁর বক্ষদেশ হতে কান্নার এমন শব্দ বের হচ্ছে, যেমন চুলার উপর রাখা পাত্র হতে টগবগ শব্দ শোনা যায়। ২৪৭
রাসূলুল্লাহ কুরআন শ্রবণ করেও ক্রন্দন করতেন :
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ ِللَّهِ قَالَ : قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : اقْرَأْ عَلَيَّ فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، أَقَرَأُ عَلَيْكَ وَعَلَيْكَ أُنْزِلَ قَالَ : إِنِّي أُحِبُّ أَنْ أَسْمَعَهُ مِنْ غَيْرِي ، فَقَرَأْتُ سُوْرَةَ النِّسَاءِ ، حَتَّى بَلَغْتُ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هُؤُلَاءِ شَهِيدًا قَالَ : فَرَأَيْتُ عَيْنَيْ رَسُولِ اللَّهِ تَهْمِلَانِ
২৪৮. আবদুল্লাহ ইবনে মাস'উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ আমাকে বললেন, আমাকে কুরআন পাঠ করে শুনাও। আমি বললাম, আমি আপনাকে পাঠ করে শুনাব, যা আপনার উপর নাযিল হয়েছে! তিনি বললেন, আমি তা অপরের কাছ থেকে শুনতে পছন্দ করি। ফলে আমি সূরা নিসা পাঠ করতে শুরু করলাম। অতঃপর যখন আমি এ আয়াত পর্যন্ত পৌঁছলাম-
وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هُؤُلَاءِ شَهِيدًا অর্থাৎ আপনাকে ডাকব তাদের উপর সাক্ষীরূপে। ২৪৮ তখন আমি দেখতে পেলাম যে, রাসূলুল্লাহ এর চক্ষুদ্বয় হতে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে। ২৪৯
রাসূলুল্লাহ সিজদাতে গেলেও ক্রন্দন করতেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ : انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ يَوْمًا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَامَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يُصَلِّي حَتَّى لَمْ يَكَدْ يَرْكَعُ ثُمَّ رَكَعَ ، فَلَمْ يَكَدْ يَرْفَعُ رَأْسَهُ ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ ، فَلَمْ يَكَدُ أَنْ يَسْجُدَ ، ثُمَّ سَجَدَ فَلَمْ يَكَدُ أَنْ يَرْفَعَ رَأْسَهُ ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ ، فَلَمْ يَكَدْ أَنْ يَسْجُدَ ، ثُمَّ سَجَدَ فَلَمْ يَكَدْ أَنْ يَرْفَعَ رَأْسَهُ . فَجَعَلَ يَنْفُخُ وَيَبْكِي ، وَيَقُولُ : رَبِّ أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لَا تُعَذِّبَهُمْ وَأَنَا فِيهِمْ ؟ رَبِّ أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لَا تُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُوْنَ ؟ وَنَحْنُ نَسْتَغْفِرُكَ ، فَلَمَّا صَلَّى رَكْعَتَيْنِ انْجَلَتِ الشَّمْسُ ، فَقَامَ فَحَمِدَ اللهَ تَعَالَى وَاثْنى عَلَيْهِ ، ثُمَّ قَالَ : إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَا يَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لَا يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ ، فَإِذَا انْكَسَفَا فَافْزَعُوا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ تَعَالَى
২৪৯. আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর যুগে একবার সূর্য গ্রহণ হয়। রাসূলুল্লাহ তখন সালাতে দণ্ডায়মান হন। এতে তিনি এত বিলম্ব করলেন যে, মনে হচ্ছিল তিনি যেন আর রুকূতে যাবেন না। যখন রুকূতে গেলেন, তখন মনে হচ্ছিল, তিনি যেন আর মাথা তুলবেন না। তারপর যখন মাথা উঠালেন, তখন মনে হচ্ছিল তিনি যেন আর সিজদায় যাবেন না। তারপর তিনি যখন সিজদায় গেলেন, তখন মনে হচ্ছিল তিনি যেন আর মাথা উঠাবেন না। তারপর যখন মাথা উঠালেন, তখন মনে হচ্ছিল তিনি যেন আর সিজদায় যাবেন না। তারপর যখন সিজদায় গেলেন, তখন মনে হচ্ছিল তিনি যেন আর মাথা উঠবেন না। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলছিলেন আর ক্রন্দন করছিলেন এবং দু'আ পাঠ করছিলেন যে, হে আমার রব! তুমি কি এ মর্মে প্রতিশ্রুতি দাওনি যে, আমার উপস্থিতিতে আমার উম্মতকে শাস্তি দেবে না? আমরা তোমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। রাসূলুল্লাহ যখন ২ রাক'আত সালাত শেষ করলেন, তখন সূর্যও বের হয়ে আসল। অতঃপর তিনি কিছু বলার জন্য দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর হামদ ও ছানার পর বললেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দুটি নিদর্শন। কারো জন্ম বা মৃত্যুর সঙ্গে চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের কোন সম্পর্ক নেই। যখন চন্দ্র বা সূর্য গ্রহণ হয়, তখন তোমরা আল্লাহর যিকর-এ লিপ্ত হও। ২৫০
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ সূর্য গ্রহণের ঘটনায় জীবনে একবার সালাত আদায় করেছিলেন, তা ছিল দশম হিজরী সনে। আবার কেউ কেউ এটি নবম হিজরী সনে সংঘটিত হয়েছিল বলে মত প্রকাশ করেছেন। আর চন্দ্রগ্রহণের সালাত আদায় করেছিলেন পঞ্চম হিজরী সনে।
জাহেলী যুগে লোকেরা বিশ্বাস করত যে, কোন বড় ব্যক্তির জন্ম বা মৃত্যুর কারণে সূর্য গ্রহণ ও চন্দ্র গ্রহণ হয়। তাই রাসূলুল্লাহ এর প্রকৃত রহস্য বর্ণনা করে বলেছেন, চন্দ্র-সূর্য আল্লাহ তা'আলার নিদর্শন। কারো জীবন বা মৃত্যুর সাথে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণের কোন সম্পর্ক নেই।
রাসূলুল্লাহর কন্যার মৃত্যুশোকে অশ্রুসিক্ত হয়েছিলেন:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : أَخَذَ رَسُولُ اللهِ ﷺ اِبْنَةً لَّهُ تَقْضِي فَاحْتَضَنَهَا فَوَضَعَهَا بَيْنَ يَدَيْهِ فَمَاتَتْ وَهِيَ بَيْنَ يَدَيْهِ وَصَاحَتْ أُمُّ أَيْمَنَ فَقَالَ يَعْنِي رَسُولَ اللَّهِ ﷺ : أَتَبْكِيْنَ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ ؟ فَقَالَتْ : أَلَسْتُ أَرَاكَ تَبْكِي ؟ قَالَ : إِنِّي لَسْتُ أَبْكِي إِنَّمَا هِيَ رَحْمَةٌ ، إِنَّ الْمُؤْمِنَ بِكُلِّ خَيْرٍ عَلَى كُلِّ حَالٍ إِنَّ نَفْسَهُ تُنْزَعُ مِنْ بَيْنِ جَنْبَيْهِ ، وَهُوَ يَحْمَدُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ
২৫০. ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর এক কন্যা মূমুর্ষ অবস্থায় ছিলেন। তিনি তাকে কোলে তুলে, সামনে রাখলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ এর সামনেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। তখন উম্মে আয়মান (রাঃ) চিৎকার করে কাঁদতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ তাঁকে বললেন, আল্লাহর রাসূলের সামনেই তুমি ক্রন্দন করছ? উম্মে আয়মান বললেন, আমি আপনাকেও কি অশ্রুসিক্ত দেখতে পাচ্ছি না? রাসূলুল্লাহ বললেন, আমি যে কান্না করছি তা নিষেধ নয়, তা আল্লাহর রহমত। অতঃপর তিনি বললেন, একজন মুমিন সর্বাবস্থায় মঙ্গলজনক অবস্থায় থাকে। এমনকি তার জীবন নিয়ে যাওয়ার সময়ও আল্লাহর প্রশংসা করে। ২৫১
ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে বুঝা গেল, বিলাপ করে কাঁদা নিষিদ্ধ। তবে চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হওয়া নিষেধ নয়। এটা আল্লাহর রহমত এবং মন নরম হওয়ার লক্ষণ। সন্তানের প্রতি দয়া-মায়া নবী এর সুন্নত।
উসমান ইবনে মাযউন (রাঃ) এর মৃত্যুতেও রাসূলুল্লাহ কেঁদেছিলেন:
عَنْ عَائِشَةَ : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَبَّلَ عُثْمَانَ بْنَ مَظْعُونٍ وَهُوَ مَيْتٌ وَهُوَ يَبْكِي أَوْ قَالَ : عَيْنَاهُ تَهْرَا قَانِ
২৫১. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উসমান ইবনে মাযউন (রাঃ) মারা গেলে রাসূলুল্লাহ তার কপালে চুম্বন দিলেন। তিনি কাঁদছিলেন অথবা (রাবী) বলেন, তখন তাঁর চোখ হতে অশ্রু পড়ছিল। ২৫২
ব্যাখ্যা: উসমান ইবনে মাযউন (রাঃ) ছিলেন কুরাইশ বংশের লোক। আবার তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ এর দুধ ভাই। ইসলামের প্রথম যুগে ১৩ জনের পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। আবিসিনিয়ায় হিজরতের পর মদিনায় হিজরত করেন। হিজরী দ্বিতীয় সনের শাবান মাসে ইন্তেকাল করেন এবং জান্নাতুল বাকীতে সমাহিত হন। তিনি ছিলেন মুহাজিরদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইন্তেকালকারী সাহাবী।
রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর কন্যাকে কবরের শোয়োনোর সময়ও কেঁদেছিলেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : شَهِدْنَا ابْنَةً لِرَسُولِ اللهِ ﷺ وَرَسُولُ اللَّهِ جَالِسٌ عَلَى الْقَبْرِ فَرَأَيْتُ عَيْنَيْهِ تَدْمَعَانِ . فَقَالَ : أَفِيْكُمْ رَجُلٌ لَمْ يُقَارِفِ اللَّيْلَةَ ؟ قَالَ أَبُو طَلْحَةَ : أَنَا قَالَ : انْزِلُ فَنَزَلَ فِي قَبْرِهَا
২৫২. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর কন্যার কবরের পার্শ্বে উপস্থিত হন। তিনি সেখানে বসেন। আমি দেখতে পেলাম, তাঁর চোখ হতে অশ্রু বেরোচ্ছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছে, যে গত রাতে স্ত্রীর নিকটবর্তী হওনি? আবু তালহা (রাঃ) বললেন, আমি। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে বললেন, তুমি কবরে অবতরণ করো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নির্দেশে আবু তালহা (রাঃ) কবরে অবতরণ করলেন। ২৫৩

টিকাঃ
২৪৭ সুনানে নাসাঈ, হা/১২১৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৩৫৫; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/৯০০; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৯৭১; শু'আবুল ঈমান, হা/১৮৮৯; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩৩২৯।
২৪৮ সূরা নিসা-৪১।
২৪৯ সহীহ বুখারী, হা/৪৬৮২; সহীহ মুসলিম, হা/১৯০৩; আবু দাউদ, হা/৩৬৭০; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৬০৬; বায়হাকী, হা/২০৪৮৬; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হা/৩৫৫৬০; শু'আবুল ঈমান, হা/১৮৯০।
২৫০ সহীহ মুসলিম, হা/২১৪০; আবু দাউদ, হা/১১৯৬; সুনানে নাসাঈ, হা/১৪৮২; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/১৩৯২; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১২২৯; বায়হাকী, হা/১৩৭৯।
২৫১ মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৭৫; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৬৩২।
২৫২ মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৩৩৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৪৭০।
২৫৩ সহীহ বুখারী, হা/১২৮৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২২৯৭; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৬৮৫৩; বায়হাকী, হা/৬৮৩৮; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৫১৩; মুসনাদুল বাযযার, হা/৬২২৫।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর বিছানা

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর বিছানা


রাসূলুল্লাহ ﷺ আঁশভর্তি চামড়ার বিছানায় নিদ্রা যেতেন:
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : إِنَّمَا كَانَ فِرَاشُ رَسُولِ اللهِ ﷺ الَّذِي يَنَامُ عَلَيْهِ مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهُ لِيُفْ
২৫৩. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ যে বিছানায় নিদ্রা যেতেন, তা ছিল চামড়ার। এর ভেতরে খেজুর গাছের আঁশ ভরা থাকত। ২৫৪
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ সাধারণত চামড়া বা চটের তৈরি বিছানা বা মাদুর ব্যবহার করতেন। আরামদায়ক বিছানার প্রতি তাঁর কোন আগ্রহই ছিল না। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ এর নিকট উপস্থিত হয়ে দেখলাম চটের বিছানায় শুয়ে থাকার কারণে তাঁর শরীরে দাগ লেগে যায়। এ দৃশ্য দেখে আমি কাঁদতে লাগলাম। রাসূলুল্লাহ বললেন তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! রোম ও পারস্য সম্রাটগণ কত আরামে জীবন-যাপন করছে। রাসূলুল্লাহ বলেন, দুঃখের কোন কারণ নেই এদের ভাগ্যে দুনিয়া আর আমাদের ভাগ্যে আখিরাত। ২৫৫

টিকাঃ
২৫৪ সহীহ বুখারী, হা/৬৪৫৬; সহীহ মুসলিম, হা/৫৫৬৮; ইবনে মাজাহ, হা/৪১৫১; বায়হাকী, হা/১৩০৯৫; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১২২; শু'আবুল ঈমান, হা/৫৮৭৮; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩২৮৬।
২৫৫ মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১০১৭৪।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর বিনয়

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর বিনয়


রাসূলুল্লাহ তাঁকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন:
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَابِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : لَا تُطْرُونِي كَمَا أَطْرَتِ النَّصَارَى ابْنَ مَرْيَمَ إِنَّمَا أَنَا عَبْدٌ فَقُوْلُوا : عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ
২৫৪. উমর ইবনে খাত্ত্বাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ বলেন, তোমরা আমার সম্পর্কে বাড়াবাড়ি করো না। যেমন খ্রিষ্টানরা ঈসা ইবনে মারইয়াম সম্পর্কে বাড়াবাড়ি করে থাকে। আমি আল্লাহর বান্দা। তাই আমাকে আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূলই বলো। ২৫৬
ব্যাখ্যা: ইসলাম সর্বদা আক্বীদাসহ সকল ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেছে। বাড়াবাড়ি ও শিথিলতা উভয়টিই বর্জনের নির্দেশ দিয়েছে। ইয়াহুদিরা নবীদের ব্যাপারে শৈথিল্য প্রদর্শন করেছে। তাঁদেরকে যথাযথ মর্যাদা দেয়নি। এমনকি তাঁদেরকে হত্যাও করেছে। অন্যদিকে নাসারারা ঈসা (আঃ)-কে আল্লাহর স্থানে বসিয়েছে। এভাবে উভয় জাতি চরম গোমরাহীর শিকার হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ এদিকে ইঙ্গিত করে তাঁর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি না করার জন্য উম্মাতকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন এবং বলেছেন, আমার পরিচয় হলো, আমি আল্লাহর প্রকৃত বান্দা, তাঁর মনোনীত সর্বশেষ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল। আমি আল্লাহ নই। আল্লাহর অংশীদারও নই। আমার ব্যাপারে এমন কোন উক্তি করবে না, যা দাসত্ব ও রিসালাতের পরিপন্থী হয়।
রাসূলুল্লাহ সামান্য খাবারে দাওয়াত দিলেও অংশগ্রহণ করতেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ﷺ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُدْعَى إِلى خُبْزِ الشَّعِيْرِ وَالْإِهَالَةِ السَّنِخَةِ فَيُجِيبُ ، وَلَقَدْ كَانَ لَهُ دِرْعٌ عِنْدَ يَهُودِي فَمَا وَجَدَ مَا يَفْتُهَا حَتَّى مَاتَ
২৫৫. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী -কে যবের রুটি এবং কয়েক দিনের পুরনো চর্বির তরকারী খাওয়ার দাওয়াত করলেও তা গ্রহণ করতেন। রাসূলুল্লাহ এর একটি বর্ম এক ইয়াহুদির নিকট বন্ধক ছিল। শেষ জীবন পর্যন্ত তা ছাড়ানোর মতো পয়সা তাঁর হাতে ছিল না। ২৫৭
ব্যাখ্যা: দাওয়াত ও হাদিয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য থাকে ভালোবাসা প্রকাশ করা। তাই রাসূলুল্লাহ হাদিয়ার বস্তুর দিকে বিবেচনা না করে দাতার ভালোবাসা বিবেচনা করতেন। এজন্য ক্ষুদ্র জিনিষও আগ্রহের সাথে গ্রহণ করতেন, ফেরত দিতেন না।
রাসূলুল্লাহ একটি পুরনো আসনে বসে হজ্জ পালন করেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ﷺ قَالَ : حَجَّ رَسُولُ اللهِ ﷺ عَلَى رَحْلٍ رَبِّ وَعَلَيْهِ قَطِيفَةٌ لَا تُسَاوِي أَرْبَعَةً دَرَاهِمَ فَقَالَ : اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ حَجَّا لَا رِيَاءَ فِيْهِ وَلَا سُمْعَةَ
২৫৬. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ একটি পুরনো আসনে বসে হজ্জ পালন করেন। তাঁর আসনের উপর একটি কাপড় ছিল, যার মূল্য চার দিরহামও ছিল না। অতঃপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ! তুমি এ হজ্জকে লৌকিকতা ও প্রচার বিলাস হতে মুক্ত করো। ২৫৮
রাসূলুল্লাহ তার জন্য কারো দাঁড়ানোকে পছন্দ করতেন না :
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : لَمْ يَكُنْ شَخْصٌ اَحَبَّ إِلَيْهِمْ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ : وَكَانُوا إِذَا رَأَوْهُ لَمْ يَقُوْمُوا لِمَا يَعْلَمُونَ مِنْ كَرَاهَتِهِ لِذلِكَ
২৫৭. আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবীগণের কাছে রাসূলুল্লাহ এর চেয়ে প্রিয় কোন ব্যক্তিত্ব এ পৃথিবীতে ছিল না। তা সত্ত্বেও তারা রাসূলুল্লাহ -কে দেখে দাঁড়াতেন না। কারণ, তারা জানতেন যে, তাঁকে দেখে দাঁড়ানোটা তিনি পছন্দ করতেন না। ২৫৯
ব্যাখ্যা: কারো সম্মানার্থে দাঁড়িয়ে থাকা নবী পছন্দ করতেন না। এজন্য সাহাবায়ে কেরাম নবী -কে দেখে দাঁড়াতেন না। তাই এটাই সুন্নত যে, কারো আগমনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই। তবে যদি কাউকে এগিয়ে আনা বা কাউকে সহযোগিতা করার প্রয়োজন দেখা দেয় তবে তার জন্য দাঁড়ানো জায়েয আছে। যেমন সাহাবায়ে কেরাম সা'দ ইবনে মুয়ায (রাঃ) কে এগিয়ে আনার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন।
রাসূলুল্লাহ এর জীবনধারার আরো কিছু বিবরণ:
عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِي قَالَ : سَأَلْتُ خَالِي هِنْدَ بْنُ أَبِي هَالَةَ ، وَكَانَ وَصَّافًا عَنْ حِلْيَةِ رَسُوْلِ اللهِ ، وَأَنَا أَشْتَهِي أَنْ يَصِفَ لِي مِنْهَا شَيْئًا ، فَقَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَخْمًا مُفَخَمًا ، يَتَلَالَأُ وَجْهُهُ تَلَالُو الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ قَالَ الْحَسَنُ : فَكَتَمْتُهَا الْحُسَيْنَ زَمَانًا . ثُمَّ حَدَّثْتُهُ فَوَجَدْتُهُ قَدْ سَبَقَنِي إِلَيْهِ : فَسَأَلَهُ عَمَّا سَأَلْتُهُ عَنْهُ وَوَجَدْتُهُ قَدْ سَأَلَ آبَاهَا عَنْ مَنْ خَلِهِ وَمَخْرَجِهِ وَشَكْلِهِ فَلَمْ يَدَعُ مِنْهُ شَيْئًا قَالَ الْحُسَيْنُ : فَسَأَلْتُ أَبِي عَنْ دُخُولِ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَقَالَ : كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى مَنْزِلِهِ جَزَا دُخُولَهُ ثَلَاثَةَ أَجْزَاء ، جُزْءًا لِلَّهِ ، وَجُزْءًا لِأَهْلِهِ ، وَجُزْءًا لِنَفْسِهِ ، ثُمَّ جَزَا جُزَاهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّاسِ ، فَيَرُدُّ ذَلِكَ بِالْخَاصَّةِ عَلَى الْعَامَّةِ . وَلَا يَدَّخِرُ عَنْهُمْ شَيْئًا ، وَكَانَ مِنْ سِيرَتِهِ فِي جُزْء الْأُمَّةِ إِيثَارُ أَهْلِ الْفَضْلِ بِإِذْنِهِ وَقَسْمِهِ عَلَى قَدْرِ فَضْلِهِمْ فِي الدِّينِ ، فَمِنْهُمْ ذُو الْحَاجَةِ . وَمِنْهُمْ ذُو الْحَاجَتَيْنِ ، وَمِنْهُمْ ذُو الْحَوَائِجِ ، فَيَتَشَاغَلُ بِهِمْ وَيَشْغَلُهُمْ فِيْمَا يُصْلِحُهُمْ
وَالْأُمَّةَ مِنْ مُسَاءَ لَتِهِمْ عَنْهُ وَاخْبَارِهِمْ بِالَّذِي يَنْبَغِي لَهُمْ وَيَقُوْلُ : لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ مِنْكُمُ الْغَائِبَ ، وَابْلِغُونِي حَاجَةً مَنْ لَا يَسْتَطِيعُ إِبْلَاغَهَا ، فَإِنَّهُ مَنْ أَبْلَغَ سُلْطَانًا حَاجَةً مَنْ لَا يَسْتَطِيعُ إِبْلَا غَهَا ثَبَّتَ اللهُ قَدِمَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ . لَا يُذْكَرُ عِنْدَهُ إِلَّا ذَلِكَ ، وَلَا يُقْبَلُ مِنْ أَحَدٍ غَيْرِهِ . يَدْخُلُونَ رُوَادًا وَلَا يَفْتَرِقُوْنَ إِلَّا عَنْ ذَوَاقٍ، وَيُخْرِجُونَ أَدِلَّةً يَعْنِي عَلَى الْخَيْرِ
قَالَ : فَسَأَلْتُهُ عَنْ مَخْرَجِهِ كَيْفَ يَصْنَعُ فِيْهِ ؟ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَخْرِنُ لِسَانُهُ إِلَّا فِيمَا يَعْنِيْهِ ، وَيُؤَلِّفُهُمْ وَلَا يُنَفِّرُهُمْ ، وَيُكْرِمُ كَرِيمَ كُلِّ قَوْمٍ وَيُوَلِيْهِ عَلَيْهِمْ ، وَيُحَذِّرُ النَّاسَ وَيَحْتَرِسُ مِنْهُمْ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَطْوِيَ عَنْ أَحَدٍ مِنْهُمْ بِشْرَةً وَخُلُقَهُ ، وَيَتَفَقَّدُ أَصْحَابَهُ ، وَيَسْأَلُ النَّاسَ عَمَّا فِي النَّاسِ ، وَيُحَسِنُ الْحَسَنَ وَيُقَوِيهِ ، وَيُقَبِّحُ الْقَبِيحَ وَيُوَقِيْهِ ، مُعْتَدِلُ الْأَمْرِ غَيْرُ مُخْتَلِفٍ . لَا يَغْفُلُ مَخَافَةَ أَنْ يَغْفُلُوا أَوْ يَمِيلُوا . لِكُلِّ حَالٍ عِنْدَهُ عَتَادٌ ، لَا يُقَصِّرُ عَنِ الْحَقِّ وَلَا يُجَاوِزُهُ . الَّذِينَ يَلُوْنَهُ مِنَ النَّاسِ خِيَارُهُمْ ، أَفْضَلُهُمْ عِنْدَهُ أَعَتُهُمْ نَصِيحَةً : وَأَعْظَمُهُمْ عِنْدَهُ مَنْزِلَةً أَحْسَنُهُمْ مُوَاسَاةٌ وَمُؤَازَرَةً.
قَالَ : فَسَأَلْتُهُ عَنْ مَجْلِسِهِ ، فَقَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَا يَقُوْمُ وَلَا يَجْلِسُ إِلَّا عَلَى ذِكْرٍ ، وَإِذَا انْتَهَى إِلَى قَوْمٍ جَلَسَ حَيْثُ يَنْتَهِي بِهِ الْمَجْلِسُ وَيَأْمُرُ بِذلِكَ . يُعْطِي كُلَّ جُلَسَائِهِ بِنَصِيْبِهِ . لَا يَحْسَبُ جَلِيسُهُ أَنَّ أَحَدًا أَكْرَمُ عَلَيْهِ مِنْهُ . مَنْ جَالَسَهُ أَوْ فَأَوَضَهُ فِي حَاجَةٍ صَابَرَهُ حَتَّى يَكُونَ هُوَ الْمُنْصَرِفُ عَنْهُ ، وَمَنْ سَأَلَهُ حَاجَةً لَمْ يَرُدَّهُ إِلَّا بِهَا أَوْ بِمَيْسُورٍ مِنَ الْقَوْلِ ، قَدْ وَسِعَ النَّاسَ بَسْطُةَ وَخُلُقُهُ ، فَصَارَ لَهُمْ أَبًا وَصَارُوا عِنْدَهُ فِي الْحَقِّ سَوَاءً . مَجْلِسُهُ مَجْلِسُ عِلْمٍ وَحِلْمٍ وَحَيَاءٍ وَأَمَانَةٍ وَصَبْرٍ ، لَا تُرْفَعُ فِيهِ الْأَصْوَاتُ وَلَا تُؤْبَنُ فِيْهِ الْحُرَمُ ، وَلَا تُشَتَّى فَلَتَاتُهُ مُتَعَادِلِينَ . بَلْ كَانُوا يَتَفَاضَلُوْنَ فِيْهِ بِالتَّقْوى ، مُتَوَاضِعِيْنَ يُوَقِّرُونَ فِيهِ الْكَبِيرَ وَيَرْحَمُونَ فِيْهِ الصَّغِيرَ ، وَيُؤْثِرُونَ ذَا الْحَاجَةِ وَيَحْفَظُونَ الْغَرِيبَ
২৫৮. হাসান ইবনে আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার মামা হিন্দ ইবনে আবু হালা (রাঃ) কে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অবস্থা জানার জন্য জিজ্ঞেস করলাম, যিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অবস্থা অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে বর্ণনা করতেন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর দেহাকৃতি ছিল উচ্চ ও মর্যাদাসম্পন্ন। তাঁর চেহেরা ছিল পূর্ণিমা রাতের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল। অতঃপর পূর্ণ বিবরণ পেশ করেন। হাসান (রাঃ) বলেন, এ হাদীস হুসাইন (রাঃ) এর কাছে
বেশ কিছু কাল বর্ণনা করিনি। পরে বলা হলে জানা গেল যে, তিনি আমার আগেই এ হাদীসটি শুনেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি এ হাদীসটি কেবল মামার কাছ থেকে শুনেননি; উপরন্তু পিতা আলী (রাঃ) এর কাছ হতেও রাসূলুল্লাহ এর ঘরে প্রবেশ করা, বাইরে যাওয়া ও অন্যান্য রীতিনীতি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এ সম্পর্কে কোন কিছুই তিনি ছাড়েননি।
হুসাইন (রাঃ) বলেন, আমি আমার পিতা আলী (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ এর গৃহে প্রবেশ করার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ যখন গৃহে প্রবেশ করতেন, তখন তাঁর গৃহের অবস্থানকে তিনটি ভাগে ভাগ করতেন। এক ভাগ আল্লাহর ইবাদাতের জন্য, এক ভাগ পরিবার-পরিজনের জন্য এবং এক ভাগ নিজের কাজকর্মের জন্য। এ কাজকর্মের সময়কেও তিনি ২ ভাগে বিভক্ত করেন। এক ভাগে নেহায়তই নিজের জন্য এবং এক ভাগ অন্যান্য লোকের জন্য। এ সময়ে বিশেষ বিশেষ সাহাবীগণ তার নিকট আসতেন। তাদের কাছে কোন কিছুর অব্যক্ত থাকত না। এ সকল লোকের মধ্যে আলেমগণ প্রথমে আসার অনুমতি পেতেন। তাদের ধর্মীয় মর্যাদার বিচারে তাদেরকে সময় দিতেন। কেউ এক, কেউ দুই, আবার কেউ ততোধিক প্রয়োজন নিয়ে রাসূলুল্লাহ এর কাছে আসতেন। রাসূলুল্লাহ সকলের প্রয়োজন মিটিয়ে দিতেন এবং তাদেরকে এমন কাজের নির্দেশ দিতেন, যা তাদের নিজেদের এবং পুরো উম্মতের উপকারে আসে।
এ সময় তিনি সমবেতদের লক্ষ্য করে বলতেন, তোমরা যারা এখানে উপস্থিত আছ, তারা আমার বাণী অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দেবে। যারা কোন কারণে আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারনি, তোমরা তাদের জিজ্ঞাসা আমার কাছ থেকে জেনে নিয়ে তাদেরকে জানিয়ে দেবে। কারণ, যে ব্যক্তি এমন কোন নিবেদন বাদশাহের কাছে পৌঁছায় যে বাদশা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার কদমকে অটল রাখবেন। তোমরা এ ব্যাপারে সতর্ক হও। রাসূলুল্লাহ এর মজলিসে কেবল এসব আলোচনাই চলত। রাসূলুল্লাহ সাহাবীগণের থেকে এসব আলাপ-আলোচনাই শুনতেন। সেখানে কোন প্রকার বাহুল্য কথাবার্তা হতো না। সাহাবীরা ধর্মীয় জ্ঞান আহরণের আগ্রহ নিয়ে আসতেন এবং দ্বীনের স্বাদ গ্রহণ করতেন এবং তারা কল্যাণের দিশারী হয়ে ফিরে যেতেন।
হুসাইন (রাঃ) বলেন, আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ বাইরে যাওয়ার সময় কীরূপ করতেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ অহেতুক কথাবার্তা হতে স্বীয় জবানকে সংযত রাখতেন। মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহার করতেন। তাদেরকে কোনভাবেই নিরুৎসাহিত করতেন না। সকল গোত্রের সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্মান করতেন এবং তাদের মধ্য হতে তাদের নেতা মনোনীত করতেন। লোকদেরকে আল্লাহর শাস্তির ভয় দেখাতেন। স্বীয় সঙ্গীদের খোঁজ-খবর রাখতেন এবং লোকদের পারস্পরিক সম্পর্ক অনুসন্ধান করে (কোন প্রকার জটিলতা থাকলে) তা সংশোধন করে দিতেন। ভালোকে সমর্থন করে তাকে শক্তিশালী করতেন এবং খারাপকে খারাপ বলে প্রতিহত করতেন। কোন প্রকার মতবিরোধ সৃষ্টি না করে সবকিছুতেই মধ্যমপন্থা অনুসরণ করতেন। লোকদের সংশোধন করতে কোন প্রকার অলসতা করতেন না। নসীহত ও উপদেশ দানের সময় লোকেরা যেন উদাসীন ও বিরক্ত হয়ে না পড়ে, তিনি সে দিকেও খেয়াল রাখতেন। প্রত্যেক কাজের জন্য তাঁর কাছে বিশেষ ব্যবস্থা থাকত। সত্যের ব্যাপারে কোন প্রকার সংকীর্ণতা ছিল না, সীমা অতিক্রম হতো না। যেসব লোক তাঁর কাছে আসত, তারা উৎকৃষ্ট লোকে পরিণত হতো। যেই ব্যক্তি অপরের মঙ্গল কামনা করত, সে-ই তাঁর নিকট উত্তম ব্যক্তিরূপে সম্মানিত হতো। আর সে ব্যক্তিই তাঁর কাছে মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিরূপে মনে হতো, যে অন্যদের প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগিতায় অতি উৎসাহী ছিল।
হুসাইন (রাঃ) বলেন, আমি আমার মামার কাছে রাসূলুল্লাহ এর মজলিস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ উঠা-বসায় সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকতেন। যখন কোথাও যেতেন, যেখানেই তাঁকে বসতে দিত, তিনি সেখানেই বসতেন। অন্যদেরকেও অনুরূপ করার নির্দেশ দিতেন। তিনি লোকের মাথা ডিঙ্গিয়ে যেতে নিষেধ করেন। এ কথা সত্য যে, তিনি যে আসনেই বসতেন, তাই মধ্যমনির আসনে পরিণত হতো। তিনি উপস্থিত সকলেরই কথা শুনতেন। উপস্থিত সকলেই মনে করত যে, রাসূলুল্লাহ আমাকে অধিক মর্যাদা দিচ্ছেন। তাঁর কাছে কেউ আসলে সে নিজে উঠে না যাওয়া পর্যন্ত তিনি উঠেতেন না। কেউ তার কাছে কিছু চাইলে তা না দিয়ে তিনি তাকে ফিরিয়ে দিতেন না। না থাকলে নম্রভাবে বুঝিয়ে বলতেন। তাঁর দান সবার জন্যই অবধারিত ছিল। মায়া-মমতায় তিনি সকলের পিতা স্বরূপ ছিলেন। ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর নিকট
সবাই সমান ছিল। তাঁর মজলিস ছিল জ্ঞান, লজ্জা, ধৈর্য ও আমানতের। সেখানে কোন প্রকার হট্টগোল হতো না এবং কারো মান-সম্মানেরও ক্ষতি হতো না। সকলেই সমান মর্যাদা পেতেন। তবে তাকওয়ার বিচারে একে অন্যের উপর মর্যাদাসম্পন্ন হতেন। একে অন্যের সঙ্গে বিনম্র ব্যবহার করতেন। বড়কে শ্রদ্ধা ও ছোটকে স্নেহ করতেন। প্রয়োজনধারীকে অগ্রাধিকার দেয়া হতো এবং ভিনদেশীকে হেফাযত করা হতো। ২৬০
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ له قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : لَوْ أُهْدِيَ إِلَيَّ كُرَاعٌ لَقَبِلْتُ ، وَلَوْ دُعِيْتُ عَلَيْهِ لَا جَبْتُ
২৫৯. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, আমাকে যদি ছাগলের একটি পা-ও দান করা হয়, তাহলে আমি অবশ্যই তা গ্রহণ করব। এ জন্য যদি আমাকে এতে দাওয়াত করা হয়, তবে আমি দাওয়াত গ্রহণ করব। ২৬১
عَنْ جَابِرٍ قَالَ : جَاءَنِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَيْسَ بِرَا كِبِ بَغْلٍ وَلَا بِرُ ذُوْنٍ
২৬০. জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ আমার কাছে আসলেন; কিন্তু তখন তিনি খচ্চর বা তুর্কি ঘোড়ার উপর আরোহী ছিলেন না। ২৬২
তিনি নবজাতক বাচ্চাকেও কোলে তুলে নিতেন:
عَنْ يُوسُفَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ قَالَ : سَمَّانِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُوسُفَ وَأَقْعَدَنِي فِي حِجْرِهِ وَمَسَحَ عَلَى رَأْسِي
২৬১. ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ আমার নাম রাখেন ইউসুফ। অতঃপর তিনি আমাকে কোলে তুলে নেন এবং মাথার উপর হাত রাখেন। ২৬৩
রাসূলুল্লাহ মাত্র ৪ দিরহাম মূল্যের হওদার উপর বসে হজ্জ পালন করেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ له ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ حَجَّ عَلَى رَجُلٍ رَبِّ وَقَطِيفَةٍ كُنَّا نَرَى ثَمَنَهَا أَرْبَعَةً دَرَاهِمَ ، فَلَمَّا اسْتَوَتْ بِهِ رَاحِلَتُهُ قَالَ : لَبَّيْكَ بِحَجَّةٍ لَا سُمْعَةً فِيهَا وَلَا رِيَاءَ
২৬১. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ উটের পুরনো একটি হাওদায় বসে হজ্জ পালন করেন। এর উপর এক টুকরো কাপড় ছিল। আমাদের মতে এর মূল্য ৪ দিরহাম হবে। হাওদায় উপবিষ্ট অবস্থায় তিনি এ দু'আ করছিলেন যে, হে প্রভু! আমি হজ্জে তোমার দরবারে হাজির হয়েছি। তুমি একে লৌকিকতা ও প্রচারণার হতে মুক্ত রাখ। ২৬৪
রাসূলুল্লাহ লাউ খুবই পছন্দ করতেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، أَنَّ رَجُلًا خَيَّامًا دَعَا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَقَرَّبَ مِنْهُ ثَرِيدًا عَلَيْهِ دُبَّاءُ قَالَ : فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَأْخُذُ الدُّبَّاءَ وَكَانَ يُحِبُّ الدُّبَّاءَ. قَالَ ثَابِتٌ : فَسَمِعْتُ أَنَسًا يَقُولُ : فَمَا صُنِعَ لِي طَعَامٌ أَقْدَرُ عَلَى أَنْ يُصْنَعَ فِيهِ دُبَّاءُ إِلَّا صُنِعَ .
২৬২. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক দর্জি রাসূলুল্লাহ কে দাওয়াত করে। তাঁর খাবারের জন্য লাউ মিশ্রিত সারীদ উপস্থিত করা হয়। লাউ রাসূলুল্লাহ এর খুব প্রিয় খাদ্য ছিল। এজন্য তিনি লাউ খেতে শুরু করেন। সাবিত বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, এরপর হতে আমার জন্য যে তরকারী রান্না করা হতো, তাতে লাউ দেয়া হতো, যদি তা সম্ভব হতো। ২৬৫
রাসূলুল্লাহ নিজের কাজ নিজেই সম্পন্ন করতেন:
عَنْ عَمْرَةَ ، قَالَتْ : قِيْلَ لِعَائِشَةَ : مَاذَا كَانَ يَعْمَلُ رَسُولُ اللهِ ﷺ فِي بَيْتِهِ ؟ قَالَتْ : كَانَ بَشَرًا مِنَ الْبَشَرِ ، يَفْلِي ثَوْبَهُ ، وَيَحْلُبُ شَاتَهُ ، وَيَخْدُمُ نَفْسَهُ.
২৬৩. আমরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, রাসূলুল্লাহ ঘরে অবস্থানকালে কি করতেন? জবাবে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ ছিলেন একজন মানুষ। পোশাকের মধ্যে তিনি উকুন তালাশ করতেন, ছাগল দোহন করতেন এবং নিজের কাজ নিজেই সম্পন্ন করতেন। ২৬৬

টিকাঃ
২৫৬ সহীহ বুখারী, হা/৩৪৪৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৪; দারেমী, হা/২৭৮৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬৮১; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬২৩৯; জামেউস সগীর, হা/১৩৩১৯; মুসনাদে হুমাইদী, হা/৩০।
২৫৭ মুসনাদে আবু ইয়ালা, হা/৪০১৫; সিলসিলা সহীহাহ, হা/২১২৯; জামেউস সগীর, হা/৯০৭০; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১১৬৩২।
২৫৮ ইবনে মাজাহ, হা/২৮৯০; সিলসিলা সহীহah, হা/২৬১৭; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১১২২; মুসনাদুল বাযযার, হা/৭৩৪৩।
২৫৯ আদাবুল মুফরাদ, হা/৯৪৬; তাহযীবুল আছার, হা/২৭৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৩২৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৩৬৭; মুসন্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হা/২৬০৯৬; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৩৫৮।
২৬০ মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৭৮৬৮; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৭০৫; জামেউস সগীর, হা/৯৯৪৭; শু'আবুল ঈমান, হা/১৩৬২।
২৬১ মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩২০০; ইবনে হিব্বান, হা/৫২৯১; মুসনাদুল বাযযার, হা/৭৫২৯; সুনানুল কাবীর লিল বায়হাকী, হা/১২২৯১; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হা/২২৪১৯; জামেউস সগীর, হা/৯৩৮৮।
২৬২ সহীহ বুখারী, হা/৫৬৬৪; আবু দাউদ, হা/৩০৯৮; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১২৬৩; মুসনাদে আবু ই'আলা, হা/২১৪০।
২৬৩ আদাবুল মুফরাদ, হা/৩৬৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৪৫১; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৮১৮৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৩৬৮; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হা/৬৯০; মুসনাদে হুমাইদী, হা/৯০৯।
২৬৪ ইবনে মাজাহ, হা/২৮৯০; সিলসিলা সহীহাহ, হা/২৬১৭; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১১২২; মুসনাদুল বাযযার, হা/৭৩৪৩।
২৬৫ শু'আবুল ঈমান, হা/৫৫৪৬; মুস্তাখরাজে আবু 'আওয়ানা, হা/৬৭২০; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা/১৯৬৬৭।
২৬৬ মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬২৩৭; মুসনাদে আবু ই'আলা, হা/৪৮৭৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬৭৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৬৭৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00