📄 ঘরে নফল সালাত
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ له قَالَ : سَأَلْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ عَنِ الصَّلَاةِ فِي بَيْتِي وَالصَّلَاةِ فِي الْمَسْجِدِ قَالَ : قَدْ تَرَى مَا أَقْرَبَ بَيْتِي مِنَ الْمَسْجِدِ ، فَلَأَنْ أَصَلِّيَ فِي بَيْتِي أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أُصَلِّي فِي الْمَسْجِدِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ صَلَاةٌ مَكْتُوبَةٌ
২২৩. আবদুল্লাহ ইবনে সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ কে জিজ্ঞেস করলাম, নফল সালাত আমার ঘরে পড়া ভালো, না মসজিদে পড়া ভালো? তিনি বললেন, তুমি দেখছ না আমার ঘর কত নিকটে, তা সত্ত্বেও ফরয সালাত মসজিদে পড়া ছাড়া অন্যান্য সালাত আমি ঘরে পড়াই উত্তম মনে করি। ২২৫
ব্যাখ্যা: নফল সালাত ঘরে আদায় করাই উত্তম। রাসূলুল্লাহ এর বিভিন্ন বাণী ও কর্ম থেকে বিষয়টি প্রমাণিত। রাসূলুল্লাহ বলেন, তোমরা তোমাদের ঘরকে কবর বানিয়ে নিও না। অর্থাৎ যেমনিভাবে কবরে সালাত আদায় করা হয় না তেমনিভাবে ঘরে সালাত আদায় করা থেকে বিরত থেকো না। ফরয সালাত মসজিদে জামা'আতের সাথে আদায় করবে এবং নফল সালাত ঘরে আদায় করে নেবে।
টিকাঃ
২২৫ ইবনে খুযাইমা, হা/১২০২; মু'জামুস সাহাবা, হা/১৫৫৮; আল আহাদ ওয়াল মাছানী, হা/৮৬৫; শারহুল মা'আনী, হা/১৯৯৪।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর রোযা
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ قَالَ : سَأَلْتُ عَائِشَةَ ، عَنْ صِيَامِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ، قَالَتْ : كَانَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ صَامَ ، وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَفْطَرَ . قَالَتْ : وَمَا صَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ شَهْرًا كَامِلًا مُنْذُ قَدِمَ الْمَدِينَةَ إِلَّا رَمَضَانَ
২২৪. আবদুল্লাহ ইবনে শাকীক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ এর রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তাতে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ক্রমাগত) রোযা রাখতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি বুঝি অনবরত রোযা রেখেই যাবেন। আর যখন
ইফতার করতেন, তখন আমরা বলতাম, তিনি হয়তো আর রোযা রাখবেন না। আয়েশা (রাঃ) বলেন, মদিনায় হিজরতের পর রমাযান মাস ছাড়া আর কোন সময় তিনি পূর্ণ মাস রোযা রাখতেন না। ২২৬
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ বিভিন্ন নিয়মে রোযা রেখেছেন। তিনি কখনো কখনো একটানা অনেক দিন রোযা রাখতেন আবার বিরতিও দিতেন। তবে কোন মাস নফল রোযা থেকে খালি যেত না। তিনি মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতেন।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ﷺ ، أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ صَوْمِ النَّبِيِّ ﷺ ، فَقَالَ : كَانَ يَصُوْمُ مِنَ الشَّهْرِ حَتَّى نَرَى أَنْ لَا يُرِيدَ أَنْ يُفْطِرَ مِنْهُ ، وَيُفْطِرُ مِنْهُ حَتَّى نَرَى أَنْ لَا يُرِيدَ أَنْ يَصُوْمَ مِنْهُ شَيْئًا . وَكُنْتَ لَا تَشَاءُ أَنْ تَرَاهُ مِنَ اللَّيْلِ مُصَلِّيًّا إِلَّا رَأَيْتَهُ مُصَلِّيًا ، وَلَا نَائِمًا إِلَّا رَأَيْتَهُ نَائِمًا
২২৫. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আনাস (রাঃ)-কে নবী এর রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, নবী কোন মাসে এমনভাবে রোযা রাখতেন যে, আমরা মনে করতাম- তিনি হয়তো এ মাসে আর রোযা ছাড়বেন না। আবার অনেক সময় এমনভাবে রোযা ছেড়ে দিতেন যে, আমরা মনে করতাম- তিনি আর রোযা রাখবেন না। অবস্থা এমন ছিল যে, তুমি যদি তাঁকে সালাতরত অবস্থায় দেখতে চাইতে, তবে তাঁকে সালাতরত অবস্থায়-ই দেখতে পেতে। আর যদি নিদ্রিত অবস্থায় দেখতে চাইতে, তবে তাঁকে নিদ্রিত অবস্থায়-ই দেখতে পেতে। ২২৭
ব্যাখ্যা: আনাস (রাঃ) এ বাক্য দ্বারা বুঝাতে চান যে, রাসূলুল্লাহ সারা রাত ঘুমিয়ে কাটাতেন না, আবার সারা রাত ইবাদাতও করতেন না; বরং মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতেন। একাংশে ঘুমাতেন আরেকাংশে নামায পড়তেন।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ﷺ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ مَا يُرِيدُ أَنْ يُفْطِرَ مِنْهُ ، وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُوْلَ مَا يُرِيدُ أَنْ يَصُوْمَ مِنْهُ ، وَمَا صَامَ شَهْرًا كَامِلًا مُنْذُ قَدِمَ الْمَدِينَةَ إِلَّا رَمَضَانَ
২২৬. ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ কখনো এমনভাবে রোযা রাখতেন যে, আমরা বলতাম, এ মাসে হয়তো তিনি আর রোযা ভাঙ্গবেন না। যখন রোযা ছেড়ে দিতেন, তখন (তাঁর অবস্থা দেখে) আমরা বলতাম, তিনি বুঝি আর রোযা রাখবেন না। মদিনায় হিজরতের পর রমযান মাস ছাড়া তিনি আর কখনো পূর্ণ মাস রোযা রাখেননি। ২২৮
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ ، قَالَتْ : مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَصُوْمُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ إِلَّا شَعْبَانَ وَرَمَضَانَ
২২৭. উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ-কে রমযান ও শাবান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসে একাধিক্রমে রোযা রাখতে দেখিনি। ২২৯
ব্যাখ্যা: এ কথা দ্বারা আয়েশা (রাঃ) স্পষ্টভাবে বুঝাচ্ছেন যে, সম্পূর্ণ শাবান মাস বলতে শাবানের অধিকাংশ দিন বুঝানো হয়েছে।
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : لَمْ أَرَ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَصُوْمُ فِي شَهْرٍ أَكْثَرَ مِنْ صِيَامِهِ لِلَّهِ فِي شَعْبَانَ ، كَانَ يَصُوْمُ شَعْبَانَ إِلَّا قَلِيلًا بَلْ كَانَ يَصُوْمُهُ كُلَّهُ
২২৮. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ-কে শাবান মাস ছাড়া আর কোন মাসে এত অধিক রোযা রাখতে দেখিনি। তিনি শাবান মাসের অধিকাংশ দিনই রোযা রাখতেন। বরং প্রায় সারা মাসই তাঁর রোযা অবস্থায় কাটত। ২০০
রাসূলুল্লাহ প্রতি মাসে ৩টি করে রোযা রাখতেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ﷺ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَصُومُ مِنْ غُرَّةٍ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَقَلَّمَا كَانَ يُفْطِرُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ
২২৯. আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ প্রতি মাসের প্রথমদিকে তিনটি করে রোযা রাখতেন। জুমু'আর দিন খুব কমই ইফতার করতেন। ২০৩
ব্যাখ্যা: বিভিন্ন হাদীসে প্রতি মাসে ৩ দিন রোযা রাখার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। যেমন- প্রত্যেক সৎ কাজের সওয়াব দশগুণ বৃদ্ধি করা হয়, এ হিসেবে ৩টি পূর্ণ রোযার সওয়াব ১ মাসের রোযার সমপরিমান হয়। এভাবে যে ব্যক্তি প্রতি মাসে ৩ দিন রোযা রাখল সে যেন সারা বছরই রোযা রাখল। রাসূলুল্লাহ প্রতি মাসে ৩ দিন রোযা রাখতেন। কখনো মাসের শুরুতে ৩ দিন রোযা রাখতেন, কখনো চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোযা রাখতেন।
রাসূলুল্লাহ সোম ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতেন:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَتَحَزَّى صَوْمَ الْإِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ
২৩০. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সোম ও বৃহস্পতিবারের রোযার প্রতি খুবই খেয়াল রাখতেন। ২৩২
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ : تُعْرَضُ الْأَعْمَالُ يَوْمَ الْإِثْنَيْنِ وَالْخَمِيْسِ فَأُحِبُّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ
২৩১. আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী বলেছেন, সোম বা বৃহস্পতিবার দিন মানুষের আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। আর রোযা অবস্থায় আমার আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হোক- এটা আমি পছন্দ করি। ২০০
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَصُومُ مِنَ الشَّهْرِ السَّبْتَ وَالْأَحَدَ وَالْاثْنَيْنَ ، وَمِنَ الشَّهْرِ الْآخَرِ الثَّلَاثَاءَ وَالْأَرْبَعَاءَ وَالْخَمِيسَ
২৩২. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কোন মাসে শনি, রবি ও সোম এবং কোন মাসে মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার দিন রোযা রাখতেন। ২৩৪
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : مَا كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَصُومُ فِي شَهْرٍ أَكْثَرَ مِنْ صِيَامِهِ فِي شَعْبَانَ
২৩৩. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ শাবান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসে এর চেয়ে বেশি রোযা রাখতেন না।
عَنْ يَزِيدَ الرِّشْكِ قَالَ : سَمِعْتُ مُعَاذَةَ ، قَالَتْ : قُلْتُ لِعَائِشَةَ : أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَصُومُ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ؟ قَالَتْ : نَعَمْ . قُلْتُ : مِنْ أَيِّهِ كَانَ يَصُوْمُ ؟ قَالَتْ : كَانَ لَا يُبَالِي مِنْ أَيِّهِ صَامَ
২৩৪. ইয়াযীদ আর রিশক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মু'আয (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ কি প্রতি মাসে তিনটি করে রোযা রাখতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, কোন কোন তারিখে রোযা রাখতেন? তিনি বললেন, কোন নির্দিষ্ট তারিখ ছিল না। সুযোগ পেলেই তিনি রোযা রাখতেন। ২৩৫
রাসূলুল্লাহ আশুরার রোযা রাখতেন:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كَانَ عَاشُورَاءُ يَوْمًا تَصُوْمُهُ قُرَيْشٍ فِي الْجَاهِلِيَّةِ ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَصُوْمُهُ ، فَلَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ صَامَةً وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ ، فَلَمَّا افْتُرِضَ رَمَضَانُ كَانَ رَمَضَانُ هُوَ الْفَرِيضَةُ وَتُرِكَ عَاشُورَاءُ ، فَمَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ
২৩৫. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহেলী যুগে কুরাইশরা আশুরার দিন রোযা রাখত। রাসূলুল্লাহ-ও হিজরতের পূর্বে আশুরার রোযা রাখতেন। মদিনায় হিজরতের পরও তিনি আশুরার রোযা রাখতেন এবং এ রোযা রাখার নির্দেশ দিতেন। অতঃপর রমাযানের রোযা ফরয করা হলে তা ফরযে পরিণত হয় এবং আশুরা ছেড়ে দেয়া হয়। সুতরাং যার ইচ্ছা সে তা রাখতে পারে, আবার যার ইচ্ছা ছেড়ে দিতে পারে। ২৩৬
ব্যাখ্যা: রমাযানের রোযার আগে আশুরার রোযা ফরয ছিল। রমাযানের রোযা ফরয হওয়ার পর আশুরার রোযার অপরিহার্যতা রহিত হয়ে যায়। আশুরার রোযা রাখা মুস্তাহাব। এ দিনে রাসূলুল্লাহ নিজে রোযা রেখেছেন এবং উম্মতকে রোযা রাখতে উৎসাহ দিয়েছেন এবং ১০ তারিখের সাথে সাথে আগের দিন তথা ৯ তারিখেও রোযা রাখতে উৎসাহ দিয়েছেন। তাই মুহাররম মাসের ৯ ও ১০ তারিখে মোট দুটি রোযা রাখা উত্তম। তবে কেবল ১০ তারিখের একটি রোযা রাখাও জায়েয আছে।
মুহাররম মাসের কোন দিনে বা রাতে এবং আশুরার দিনে বা রাতে কোন বিশেষ নামায আদায়ের কোন প্রকার নির্দেশনা বা উৎসাহ কোন হাদীসে বর্ণিত হয়নি। এ বিষয়ক সকল কথাই বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। মিথ্যাবাদীরা এসব হাদীস নিজেরা তৈরি করে রাসূলুল্লাহ এর নামে চালিয়ে দিয়েছে।
রাসূলুল্লাহ এর আমল ছিল নিয়মিত:
عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ : سَأَلْتُ عَائِشَةَ ، أَكَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَخُصُّ مِنَ الْأَيَّامِ شَيْئًا ؟ قَالَتْ : كَانَ عَمَلُهُ دِيمَةً ، وَأَيُّكُمْ يُطِيقُ مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُطِيقُ
২৩৬. আলক্বামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ কি ইবাদাতের জন্য কোন দিনক্ষণ নির্দিষ্ট করতেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ এর আমল ছিল সর্বকালীন। রাসূলুল্লাহ যেমন সামর্থ্যবান ছিলেন, তোমাদের মধ্যে এমন সামর্থ্যবান কেউ আছে কি? ২৩৭
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَعِنْدِي امْرَأَةٌ فَقَالَ : مَنْ هَذِهِ ؟ قُلْتُ : فُلَانَةٌ لَا تَنَامُ اللَّيْلَ ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : عَلَيْكُمْ مِنَ الْأَعْمَالِ مَا تُطِيقُونَ ، فَوَاللَّهِ لَا يَمَلُّ اللَّهُ حَتَّى تَمَلُّوا ، وَكَانَ أَحَبَّ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ الَّذِي يَدُوْمُ عَلَيْهِ صَاحِبُهُ
২৩৭. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ আমার কাছে আসলেন। সে সময় জনৈক মহিলা আমার কাছে বসা ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ মহিলাটি কে? আমি বললাম, সে অমুক। সে সারা রাত বিনিদ্র অবস্থায় কাটায়। রাসূলুল্লাহ বললেন, তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আমল করা উচিত। আল্লাহর কসম! তিনি নেকী দান করতে কখনো কুণ্ঠিত হন না, যতক্ষণ না তোমরা আমলে কুণ্ঠিত হও। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ এমন কাজ করতেই পছন্দ করেন, যা লোকেরা সর্বদা করতে সামর্থ্য রাখে। ২৩৮
عَنْ أَبِي صَالِحٍ قَالَ : سَأَلْتُ عَائِشَةَ ، وَأُمَّ سَلَمَةَ ، أَيُّ الْعَمَلِ كَانَ أَحَبَّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ؟ قَالَتَا : مَا دِيمَ عَلَيْهِ وَإِنْ قَلَّ
২৩৮. আবু সালিহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ) ও উম্মে সালামার কাছে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ এর কাছে প্রিয় কাজ কোনটি ছিল? তাঁরা উভয়েই বললেন, যে আমল সব সময় করা হয়, তা যত কমই হোক না কেন। ২৩৯
রাসূলুল্লাহ এর রাতের আমল:
عَنْ عَاصِمَ بْنَ حُمَيْدٍ قَالَ : سَمِعْتُ عَوْفَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ : كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ لَيْلَةً فَاسْتَاكَ ثُمَّ تَوَضَّأَ ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي ، فَقُمْتُ مَعَهُ فَبَدَا فَاسْتَفْتَحَ الْبَقَرَةَ فَلَا يَمُرُّ بِأَيَةِ رَحْمَةٍ إِلَّا وَقَفَ فَسَأَلَ ، وَلَا يَمُرُّ بِأَيَةِ عَذَابٍ إِلَّا وَقَفَ فَتَعَوَّذَ ، ثُمَّ رَكَعَ فَمَكَثَ رَاكِعًا بِقَدْرِ قِيَامِهِ .
وَيَقُولُ فِي رُكُوعِهِ : سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوْتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ . ثُمَّ سَجَدَ بِقَدْرِ رُكُوعِهِ ، وَيَقُولُ فِي سُجُودِهِ : سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ ثُمَّ قَرَا أَلَ عِمْرَانَ ثُمَّ سُوْرَةً سُوْرَةً يَفْعَلُ مِثْلَ ذَلِكَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ
২৩৯. আসিম ইবনে হুমায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আওফ ইবনে মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি এক রাতে রাসূলুল্লাহ এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি মিসওয়াক করলেন। পরে ওযু করলেন এবং সালাতে দাঁড়ালেন। আমিও তাঁর সঙ্গে দাঁড়ালাম। তিনি সূরা বাকারা আরম্ভ করলেন। এরপর রহমতের আয়াত পাঠ করে চুপ থাকলেন এবং রহমত প্রার্থনা করলেন। এরপর আযাবের আয়াত পাঠ করে চুপ থাকলেন এবং মুক্তি কামনা করেন। তারপর রুকূ করলেন এবং এ দু'আ পাঠ করলেন, سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ "সুবহা-না যিল জাবারূতি ওয়াল মালাকৃতি ওয়াল কিবরিয়া-ই ওয়াল 'আয়ামাতি।” অর্থাৎ আমি পবিত্রতা ঘোষণা করছি ঐ সত্তার, যিনি মাহাত্ম্য, রাজত্ব, বড়ত্ব ও সম্মানের অধিকারী।
অতঃপর রুকূর সমপরিমাণ সময় সিজদা করেন এবং উপরোক্ত দু'আটি আবারও পাঠ করেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাক'আতে সূরা আলে ইমরান পাঠ করেন। তারপর একেক রাক'আতে একেক সূরা পাঠ করেন। ২৪০
টিকাঃ
২২৬ সহীহ মুসলিম, হা/২৭৭৫; সুনানে নাসাঈ, হা/২৩৪৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫২৭৬; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৮০৯; মুসনাদে আবু 'আওয়ানা, হা/২৯৩৮।
২২৭ ইবনে খুযাইমা, হা/২১৩৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩৪৯৮; মুসনাদুল বাযযার, হা/৬৫৯২; বায়হাকী, হা/৪৫১১; শারহুস সুন্নাহ, হা/৯৩২; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৬১৮; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৯৮৪০।
২২৮ মুসনাদে আহমাদ, হা/১৯৯৮; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/২৭৪৮।
২২৯ সুনানে নাসাঈ, হা/২১৭৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৬০৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৭২০; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১০২৫।
২০০ সুনানে নাসাঈ, হা/২১৭৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৩৫৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৫১৬; বায়হাকী, হা/৮২১২; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১০২৪।
২০১ মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৮৬০; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৬৪৫; মুসনাদুল বাযযার, হা/১৮১৮: শারহুস সুন্নাহ, হা/১৮০৩: জামেউস সগীর, হা/৯১০৩।
২৩২ সুনানে নাসাঈ, হা/২৩৬১; ইবনে মাজাহ, হা/১৭৩৯; বায়হাকী, হা/৮২৩০; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৭৯২; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১০৪৪।
২০০ শারহুস সুন্নাহ, হা/১৭৯৯।
২৩৪ তাহযীবুল আছার, হা/৯৮৪; মুসনাদে উমর ইবনে খাত্তাব, হা/১২২০।
২০৫ শারহুস সুন্নাহ, হা/১৮০২; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/১৬৭৭; মুস্তাখরাকে ইবনে 'আওয়ানা, হা/২৩৭৩; মুসনাদে ইসহাক ইবনে রাহওয়াই, হা/১৩৯৩।
২৩৬ মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/৬৬২; সহীহ বুখারী, হা/২০০২; সহীহ মুসলিম, হা/২৬৯৮; আবু দাউদ, হা/২৪৪৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৬২১; মুসনাদে আহমাদ, হা/৬২৯২; বায়হাকী, হা/৮১৯৫; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইba, হা/৯৪৪৭; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৩৫৩১।
২৩৭ সহীহ বুখারী, হা/১৯৮৭; সহীহ মুসলিম, হা/১৮৬৫; আবু দাউদ, হা/১৩৭২; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/১২৮১; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৬৪৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৬০৩; বায়হাকী, হা/৮২৫৫।
২৩৮ ইবনে মাজাহ, হা/৪২৩৮; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/১২৮২; মুসনাদে আবু ই'আলা, হা/৪৬৫১; বায়হাকী, হা/৪৫১৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/৯৩৩।
২০৯ মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/৪১৯; সহীহ বুখারী, হা/৬৪৬৫; সহীহ মুসলিম, হা/১৮৬৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩২৩; মুসnaদে আহমাদ, হা/২৪০৮৯; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/১২৮৩; বায়হাকী, হা/৪৩৪২।
২৪০ আবু দাউদ, হা/৮৭৩; সুনানে নাসাঈ, হা/১১৩২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪০২৬; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৪৫৪০; বায়হাকী, হা/৩৫০৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/৯১২;।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর কিরাআত
রাসূলুল্লাহর টেনে টেনে কিরাআত পাঠ করতেন:
عَنْ قَتَادَةَ ، قَالَ : قُلْتُ لِأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ هَ : كَيْفَ كَانَتْ قِرَاءَةُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ؟ فَقَالَ : مَدًّا
২৪০. কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ এর কিরাআত কিরূপ ছিল? তিনি বললেন, টেনে পড়তেন। ২৪১
রাসূলুল্লাহ প্রতিটি আয়াত আলাদা আলাদা করে পাঠ করতেন:
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ ، قَالَتْ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقْطَعُ قِرَاءَتَهُ يَقُوْلُ : ﴿ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ﴾ ثُمَّ يَقِفُ ، ثُمَّ يَقُولُ : ﴿ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ﴾ ثُمَّ يَقِفُ ، وَكَانَ يَقْرَأُ ﴿ مَلِكِ يَوْمِ الدِّيْنِ ﴾
২৪১. উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উম্মে সালামা বলেন, রাসূলুল্লাহ প্রতিটি আয়াত আলাদা আলাদা করে পড়তেন। যেমন, "আলহাম্দু লিল্লা-হি রব্বিল 'আ-লামীন" পাঠ করে একটু থামতেন। তারপর "আর রহমা-নির রহীম" পাঠ করে একটু থামতেন। তারপর "মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন" পাঠ করতেন। ২৪২
রাসূলুল্লাহ কখনো আস্তে এবং কখনো উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পাঠ করতেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَيْسٍ قَالَ : سَأَلْتُ عَائِشَةَ ، عَنْ قِرَاءَةِ النَّبِيِّ ﷺ أَكَانَ يُسِرُّ بِالْقِرَاءَةِ أَمْ يَجْهَرُ ؟ قَالَتْ : كُلُّ ذَلِكَ قَدْ كَانَ يَفْعَلُ قَدْ كَانَ رُبَّمَا أَسَرَّ وَرُبَّمَا جَهَرَ . فَقُلْتُ : الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ فِي الْأَمْرِ سَعَةً
২৪২. আবদুল্লাহ ইবনে আবু কায়স (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ কি আস্তে কিরাআত পড়তেন, না উচ্চৈঃস্বরে? তিনি বললেন, উভয়টিই করতেন। কখনো আস্তে পড়তেন, আবার কখনো উচ্চৈঃস্বরে পড়তেন। আমি বললাম, আল্লাহর প্রশংসা যে, তিনি এ ব্যাপারে দু'ধরনেরই সুযোগ রেখেছেন।
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ কোন রাতে আস্তে আর কোন রাতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পাঠ করতেন। এ উভয় নিয়মই জায়েয। তবে অবস্থার ভিন্নতায় কখনো উচ্চৈঃস্বরে কখনো আস্তে কিরাআত পড়া উত্তম। নিজের মাঝে প্রাণবন্ততা নিয়ে আসা বা অন্যকে উৎসাহিত করার জন্য উচ্চৈঃস্বরে পড়া উত্তম। অপরপক্ষে যদি কারো কষ্ট বা রিয়ার সম্ভবনা তৈরি হয়, তাহলে আস্তে পড়া উত্তম।
রাসূলুল্লাহর এর তিলাওয়াত প্রতিবেশীর ঘরের ছাদ থেকেও শুনা যেত:
عَنْ أُمِّ هَانِي ، قَالَتْ : كُنْتُ أَسْمَعُ قِرَاءَةَ النَّبِيِّ ﷺ بِاللَّيْلِ وَأَنَا عَلَى عَرِيشِي
২৪৩. উম্মু হানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার গৃহের ছাদে অবস্থান করে রাত্রিবেলায় নবী এর কিরাআত শুনতে পেতাম। ২৪৩
রাসূলুল্লাহ উষ্ট্রের উপর বসেও তিলাওয়াত করতেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ يَقُولُ : رَأَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ عَلَى نَاقَتِهِ يَوْمَ الْفَتْحِ وَهُوَ يَقْرَأُ : ﴿إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا - لِيَغْفِرَ لَكَ اللهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَرَ قَالَ : فَقَرَا وَرَجَعَ. قَالَ : وَقَالَ مُعَاوِيَةُ بْنُ قُرَّةَ : لَوْلَا أَنْ يَجْتَمِعُ النَّاسُ عَلَيَّ لَأَخَذْتُ لَكُمْ فِي ذَلِكَ الصَّوْتِ أَوْ قَالَ : اللَّحْنِ
২৪৪. আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন আমি রাসূলুল্লাহ কে উষ্ট্রের উপর বসা অবস্থায় পড়তে শুনেছি: إِنَّا فَتَحْنَا لَكَ فَتْحًا مُبِينًا - لِيَغْفِرَ لَكَ اللهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَرَ). অর্থাৎ নিশ্চয় আমি আপনার জন্য এমন একটা ফায়সালা করে দিয়েছি, যা সুস্পষ্ট। যাতে আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যৎ ত্রুটিসমূহ মার্জনা করে দেন এবং আপনার প্রতি তাঁর নিয়ামত পূর্ণ করেন। ২৪৪ রাসূলুল্লাহ তা তারজী করে পড়ছিলেন। মু'আবিয়া ইবনে কুররা বলেন, আমি যদি আমার কাছে লোক জড়ো হওয়ার আশংকা না করতাম, তাহলে আমি সেরূপ স্বরে তোমাদেরকে শুনাতাম। বর্ণনাকারী الصَّوْتِ কিংবা اللَّحْنِ শব্দ ব্যবহার করেছেন। ২৪৫
রাসূলুল্লাহ গানের সূরে তিলাওয়াত করতেন না:
عَنْ قَتَادَةَ قَالَ : مَا بَعَثَ اللَّهُ نَبِيًّا إِلَّا حَسَنَ الصَّوْتِ ، وَكَانَ نَبِيُّكُمْ ﷺ حَسَنَ الْوَجْهِ ، حَسَنَ الصَّوْتِ ، وَكَانَ لَا يُرَجِّعُ
২৪৫. কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক নবীকেই সুন্দর চেহারা ও সুন্দর কণ্ঠস্বর দিয়ে প্রেরণ করেছেন। তোমাদের নবী মুহাম্মদ -ও সুন্দর চেহারা ও সুন্দর স্বরের অধিকারী ছিলেন। তবে তিনি গানের সুরে তিলাওয়াত করতেন না।
রাসূলুল্লাহ এর তিলাওয়াত বারান্দা থেকে শুনা যেত:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : كَانَتْ قِرَاءَةُ النَّبِيِّ ﷺ رُبَّمَا يَسْمَعُهَا مَنْ فِي الْحُجْرَةِ وَهُوَ فِي الْبَيْتِ
২৪৬. ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর কিরাআত এমন হতো যে, তিনি যখন তাঁর ঘরে বসে পড়তেন, তখন বারান্দা থেকে তা শুনা যেত। ২৪৬
টিকাঃ
২৪১ সহীহ বুখারী, হা/৫০৪৬; সুনানে নাসাঈ, হা/১০১৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩০২৫; দার কুতনী, হা/১১৭৭; বায়হাকী, হা/২২২২; শারহুস সুন্নাহ, হা/১২১৪; মু'জামুল আওসাত, হা/৪৮৬৮।
২৪২ আবু দাউদ, হা/৪০০৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৬২৫; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/২৯১০; দার কুতনী, হা/১১৯১; জামেউস সগীর, হা/৯১৩১; শু'আবুল ঈমান, হা/৩২২৫।
২৪৩ সুনানে নাসাঈ, হা/১০১৩; ইবনে মাজাহ, হা/১৩৪৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৯৬৫০; শু'আবুল ঈমান, হা/১৯৪৫; শারহুল মা'আনী, হা/২০২৫; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৩৬৯২।
২৪৪ সূরা ফাতহ- ১, ২।
২৪৫ সহীহ বুখারী, হা/৪২৮১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৫৭৭; মুস্তাখরাজে ইবনে আবি 'আওয়ানা, হা/৩১৩৭; মুসনাদে ইবনে জা'দ, হা/১১১১; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/৮৮৭।
২৪৬ আবু দাউদ, হা/১৩২৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৪৬; বায়হাকী, হা/৪৪৭৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/৯১৭; শু'আবুল ঈমান, হা/২৩৬৯; শারহুল মা'আনী, হা/২০২৩।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর ক্রন্দন
রাসূলুল্লাহ সালাত আদায়কালে ক্রন্দন করতেন :
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ : أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَهُوَ يُصَلِّي وَلِجَوْفِهِ أَزِيزُ كَازِيزِ الْمِرْجَلِ مِنَ الْبُكَاءِ
২৪৭. আবদুল্লাহ ইবনে শিখখীর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ এর কাছে উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলাম যে, তিনি সালাত আদায় করছেন। এমতাবস্থায় তাঁর বক্ষদেশ হতে কান্নার এমন শব্দ বের হচ্ছে, যেমন চুলার উপর রাখা পাত্র হতে টগবগ শব্দ শোনা যায়। ২৪৭
রাসূলুল্লাহ কুরআন শ্রবণ করেও ক্রন্দন করতেন :
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ ِللَّهِ قَالَ : قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : اقْرَأْ عَلَيَّ فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، أَقَرَأُ عَلَيْكَ وَعَلَيْكَ أُنْزِلَ قَالَ : إِنِّي أُحِبُّ أَنْ أَسْمَعَهُ مِنْ غَيْرِي ، فَقَرَأْتُ سُوْرَةَ النِّسَاءِ ، حَتَّى بَلَغْتُ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هُؤُلَاءِ شَهِيدًا قَالَ : فَرَأَيْتُ عَيْنَيْ رَسُولِ اللَّهِ تَهْمِلَانِ
২৪৮. আবদুল্লাহ ইবনে মাস'উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ আমাকে বললেন, আমাকে কুরআন পাঠ করে শুনাও। আমি বললাম, আমি আপনাকে পাঠ করে শুনাব, যা আপনার উপর নাযিল হয়েছে! তিনি বললেন, আমি তা অপরের কাছ থেকে শুনতে পছন্দ করি। ফলে আমি সূরা নিসা পাঠ করতে শুরু করলাম। অতঃপর যখন আমি এ আয়াত পর্যন্ত পৌঁছলাম-
وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هُؤُلَاءِ شَهِيدًا অর্থাৎ আপনাকে ডাকব তাদের উপর সাক্ষীরূপে। ২৪৮ তখন আমি দেখতে পেলাম যে, রাসূলুল্লাহ এর চক্ষুদ্বয় হতে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছে। ২৪৯
রাসূলুল্লাহ সিজদাতে গেলেও ক্রন্দন করতেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ : انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ يَوْمًا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَامَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يُصَلِّي حَتَّى لَمْ يَكَدْ يَرْكَعُ ثُمَّ رَكَعَ ، فَلَمْ يَكَدْ يَرْفَعُ رَأْسَهُ ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ ، فَلَمْ يَكَدُ أَنْ يَسْجُدَ ، ثُمَّ سَجَدَ فَلَمْ يَكَدُ أَنْ يَرْفَعَ رَأْسَهُ ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ ، فَلَمْ يَكَدْ أَنْ يَسْجُدَ ، ثُمَّ سَجَدَ فَلَمْ يَكَدْ أَنْ يَرْفَعَ رَأْسَهُ . فَجَعَلَ يَنْفُخُ وَيَبْكِي ، وَيَقُولُ : رَبِّ أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لَا تُعَذِّبَهُمْ وَأَنَا فِيهِمْ ؟ رَبِّ أَلَمْ تَعِدْنِي أَنْ لَا تُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُوْنَ ؟ وَنَحْنُ نَسْتَغْفِرُكَ ، فَلَمَّا صَلَّى رَكْعَتَيْنِ انْجَلَتِ الشَّمْسُ ، فَقَامَ فَحَمِدَ اللهَ تَعَالَى وَاثْنى عَلَيْهِ ، ثُمَّ قَالَ : إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَا يَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لَا يَنْكَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ ، فَإِذَا انْكَسَفَا فَافْزَعُوا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ تَعَالَى
২৪৯. আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর যুগে একবার সূর্য গ্রহণ হয়। রাসূলুল্লাহ তখন সালাতে দণ্ডায়মান হন। এতে তিনি এত বিলম্ব করলেন যে, মনে হচ্ছিল তিনি যেন আর রুকূতে যাবেন না। যখন রুকূতে গেলেন, তখন মনে হচ্ছিল, তিনি যেন আর মাথা তুলবেন না। তারপর যখন মাথা উঠালেন, তখন মনে হচ্ছিল তিনি যেন আর সিজদায় যাবেন না। তারপর তিনি যখন সিজদায় গেলেন, তখন মনে হচ্ছিল তিনি যেন আর মাথা উঠাবেন না। তারপর যখন মাথা উঠালেন, তখন মনে হচ্ছিল তিনি যেন আর সিজদায় যাবেন না। তারপর যখন সিজদায় গেলেন, তখন মনে হচ্ছিল তিনি যেন আর মাথা উঠবেন না। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলছিলেন আর ক্রন্দন করছিলেন এবং দু'আ পাঠ করছিলেন যে, হে আমার রব! তুমি কি এ মর্মে প্রতিশ্রুতি দাওনি যে, আমার উপস্থিতিতে আমার উম্মতকে শাস্তি দেবে না? আমরা তোমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। রাসূলুল্লাহ যখন ২ রাক'আত সালাত শেষ করলেন, তখন সূর্যও বের হয়ে আসল। অতঃপর তিনি কিছু বলার জন্য দাঁড়ালেন এবং আল্লাহর হামদ ও ছানার পর বললেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দুটি নিদর্শন। কারো জন্ম বা মৃত্যুর সঙ্গে চন্দ্র ও সূর্য গ্রহণের কোন সম্পর্ক নেই। যখন চন্দ্র বা সূর্য গ্রহণ হয়, তখন তোমরা আল্লাহর যিকর-এ লিপ্ত হও। ২৫০
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ সূর্য গ্রহণের ঘটনায় জীবনে একবার সালাত আদায় করেছিলেন, তা ছিল দশম হিজরী সনে। আবার কেউ কেউ এটি নবম হিজরী সনে সংঘটিত হয়েছিল বলে মত প্রকাশ করেছেন। আর চন্দ্রগ্রহণের সালাত আদায় করেছিলেন পঞ্চম হিজরী সনে।
জাহেলী যুগে লোকেরা বিশ্বাস করত যে, কোন বড় ব্যক্তির জন্ম বা মৃত্যুর কারণে সূর্য গ্রহণ ও চন্দ্র গ্রহণ হয়। তাই রাসূলুল্লাহ এর প্রকৃত রহস্য বর্ণনা করে বলেছেন, চন্দ্র-সূর্য আল্লাহ তা'আলার নিদর্শন। কারো জীবন বা মৃত্যুর সাথে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণের কোন সম্পর্ক নেই।
রাসূলুল্লাহর কন্যার মৃত্যুশোকে অশ্রুসিক্ত হয়েছিলেন:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : أَخَذَ رَسُولُ اللهِ ﷺ اِبْنَةً لَّهُ تَقْضِي فَاحْتَضَنَهَا فَوَضَعَهَا بَيْنَ يَدَيْهِ فَمَاتَتْ وَهِيَ بَيْنَ يَدَيْهِ وَصَاحَتْ أُمُّ أَيْمَنَ فَقَالَ يَعْنِي رَسُولَ اللَّهِ ﷺ : أَتَبْكِيْنَ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ ؟ فَقَالَتْ : أَلَسْتُ أَرَاكَ تَبْكِي ؟ قَالَ : إِنِّي لَسْتُ أَبْكِي إِنَّمَا هِيَ رَحْمَةٌ ، إِنَّ الْمُؤْمِنَ بِكُلِّ خَيْرٍ عَلَى كُلِّ حَالٍ إِنَّ نَفْسَهُ تُنْزَعُ مِنْ بَيْنِ جَنْبَيْهِ ، وَهُوَ يَحْمَدُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ
২৫০. ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর এক কন্যা মূমুর্ষ অবস্থায় ছিলেন। তিনি তাকে কোলে তুলে, সামনে রাখলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ এর সামনেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। তখন উম্মে আয়মান (রাঃ) চিৎকার করে কাঁদতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ তাঁকে বললেন, আল্লাহর রাসূলের সামনেই তুমি ক্রন্দন করছ? উম্মে আয়মান বললেন, আমি আপনাকেও কি অশ্রুসিক্ত দেখতে পাচ্ছি না? রাসূলুল্লাহ বললেন, আমি যে কান্না করছি তা নিষেধ নয়, তা আল্লাহর রহমত। অতঃপর তিনি বললেন, একজন মুমিন সর্বাবস্থায় মঙ্গলজনক অবস্থায় থাকে। এমনকি তার জীবন নিয়ে যাওয়ার সময়ও আল্লাহর প্রশংসা করে। ২৫১
ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে বুঝা গেল, বিলাপ করে কাঁদা নিষিদ্ধ। তবে চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হওয়া নিষেধ নয়। এটা আল্লাহর রহমত এবং মন নরম হওয়ার লক্ষণ। সন্তানের প্রতি দয়া-মায়া নবী এর সুন্নত।
উসমান ইবনে মাযউন (রাঃ) এর মৃত্যুতেও রাসূলুল্লাহ কেঁদেছিলেন:
عَنْ عَائِشَةَ : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَبَّلَ عُثْمَانَ بْنَ مَظْعُونٍ وَهُوَ مَيْتٌ وَهُوَ يَبْكِي أَوْ قَالَ : عَيْنَاهُ تَهْرَا قَانِ
২৫১. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। উসমান ইবনে মাযউন (রাঃ) মারা গেলে রাসূলুল্লাহ তার কপালে চুম্বন দিলেন। তিনি কাঁদছিলেন অথবা (রাবী) বলেন, তখন তাঁর চোখ হতে অশ্রু পড়ছিল। ২৫২
ব্যাখ্যা: উসমান ইবনে মাযউন (রাঃ) ছিলেন কুরাইশ বংশের লোক। আবার তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ এর দুধ ভাই। ইসলামের প্রথম যুগে ১৩ জনের পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। আবিসিনিয়ায় হিজরতের পর মদিনায় হিজরত করেন। হিজরী দ্বিতীয় সনের শাবান মাসে ইন্তেকাল করেন এবং জান্নাতুল বাকীতে সমাহিত হন। তিনি ছিলেন মুহাজিরদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইন্তেকালকারী সাহাবী।
রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর কন্যাকে কবরের শোয়োনোর সময়ও কেঁদেছিলেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : شَهِدْنَا ابْنَةً لِرَسُولِ اللهِ ﷺ وَرَسُولُ اللَّهِ جَالِسٌ عَلَى الْقَبْرِ فَرَأَيْتُ عَيْنَيْهِ تَدْمَعَانِ . فَقَالَ : أَفِيْكُمْ رَجُلٌ لَمْ يُقَارِفِ اللَّيْلَةَ ؟ قَالَ أَبُو طَلْحَةَ : أَنَا قَالَ : انْزِلُ فَنَزَلَ فِي قَبْرِهَا
২৫২. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর কন্যার কবরের পার্শ্বে উপস্থিত হন। তিনি সেখানে বসেন। আমি দেখতে পেলাম, তাঁর চোখ হতে অশ্রু বেরোচ্ছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছে, যে গত রাতে স্ত্রীর নিকটবর্তী হওনি? আবু তালহা (রাঃ) বললেন, আমি। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে বললেন, তুমি কবরে অবতরণ করো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নির্দেশে আবু তালহা (রাঃ) কবরে অবতরণ করলেন। ২৫৩
টিকাঃ
২৪৭ সুনানে নাসাঈ, হা/১২১৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৩৫৫; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/৯০০; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৯৭১; শু'আবুল ঈমান, হা/১৮৮৯; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩৩২৯।
২৪৮ সূরা নিসা-৪১।
২৪৯ সহীহ বুখারী, হা/৪৬৮২; সহীহ মুসলিম, হা/১৯০৩; আবু দাউদ, হা/৩৬৭০; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৬০৬; বায়হাকী, হা/২০৪৮৬; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হা/৩৫৫৬০; শু'আবুল ঈমান, হা/১৮৯০।
২৫০ সহীহ মুসলিম, হা/২১৪০; আবু দাউদ, হা/১১৯৬; সুনানে নাসাঈ, হা/১৪৮২; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/১৩৯২; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১২২৯; বায়হাকী, হা/১৩৭৯।
২৫১ মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৭৫; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৬৩২।
২৫২ মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৩৩৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৪৭০।
২৫৩ সহীহ বুখারী, হা/১২৮৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২২৯৭; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৬৮৫৩; বায়হাকী, হা/৬৮৩৮; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৫১৩; মুসনাদুল বাযযার, হা/৬২২৫।