📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর ইবাদাত

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর ইবাদাত


ইবাদাতের শাব্দিক অর্থ দাসত্ব বা গোলামী প্রকাশ করা। আর শরীয়তের পরিভাষায় ইবাদাত হলো প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে এমন কথা ও কাজের নাম, যা দ্বারা আল্লাহ তা'আলা খুশি হন এবং সন্তুষ্ট থাকেন।
সালাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানোর কারণে রাসূলুল্লাহ এর পা ফুলে যেত:
عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ ، قَالَ : صَلَّى رَسُولُ اللهِ ﷺ حَتَّى انْتَفَخَتْ قَدَمَاهُ فَقِيلَ لَهُ : أَتَتَكَلَّفُ هُذَا وَقَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ ؟ قَالَ : أَفَلَا أَكُوْنُ عَبْدًا شَكُورًا
১৯৫. মুগীরা ইবনে শু'বা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন যে, তাঁর পা ফুলে যেত। তাঁকে বলা হলো, আপনি এত কষ্ট করছেন অথচ আল্লাহ তা'আলা আপনার পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি বললেন, আমি কি শোকরিয়া আদায়কারী বান্দা হব না?১৯৭
রাসূলুল্লাহ ﷺ রাতের প্রথমাংশে ঘুমাতেন এবং সাহরীর পূর্ব পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন:
عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ : سَأَلْتُ عَائِشَةَ ، عَنْ صَلَاةِ رَسُولِ اللهِ ﷺ بِاللَّيْلِ ؟ فَقَالَتْ : كَانَ يَنَامُ أَوَّلَ اللَّيْلِ ثُمَّ يَقُومُ ، فَإِذَا كَانَ مِنَ السَّحَرِ أَوْتَرَ ، ثُمَّ أَتَى فِرَاشَهُ ، فَإِذَا كَانَ لَهُ حَاجَةٌ أَلَم بِأَهْلِهِ ، فَإِذَا سَمِعَ الْآذَانَ وَثَبَ ، فَإِنْ كَانَ جُنُبًا أَفَاضَ عَلَيْهِ مِنَ الْمَاءِ ، وَإِلَّا تَوَضَّأَ وَخَرَجَ إِلَى الصَّلَاةِ
১৯৬. আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ) এর কাছে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর তাহাজ্জুদ সালাত (রাতের সালাত) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তিনি রাতের প্রথমাংশে ঘুমাতেন। তারপর সালাতে দাঁড়াতেন এবং সাহরীর পূর্বক্ষণে বিতর আদায় করতেন। এরপর প্রয়োজন মনে করলে বিছানায় আসতেন। তারপর আযানের শব্দ শুনে জেগে উঠতেন এবং অপবিত্র হলে সর্বাগ্রে পানি বইয়ে গোসল করে নিতেন নতুবা ওযু করতেন। তারপর সালাত আদায় করতেন। ১৯৮
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ ﷺ এশার নামাযের পর রাতের প্রথমভাগে ঘুমাতেন। এরপর ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদ ও বিতর আদায় করতেন। এটাই তাহাজ্জুদ এবং বিতরের উত্তম সময়। এরপর আগ্রহ হলে স্ত্রী গমন করতেন।
তিনি রাতের শেষ অর্ধাংশেও সালাত আদায় করতেন:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ هُ ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ بَاتَ عِنْدَ مَيْمُونَةً وَهِيَ خَالَتُهُ قَالَ : فَاضْطَجَعْتُ فِي عَرْضِ الْوِسَادَةِ ، وَاضْطَجَعَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فِي طُولِهَا ، فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حَتَّى إِذَا انْتَصَفَ اللَّيْلُ أَوْ قَبْلَهُ بِقَلِيلٍ أَوْ بَعْدَهُ بِقَلِيلٍ ، فَاسْتَيْقَظَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَجَعَلَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ ، ثُمَّ قَرَا الْعَشْرَ الْآيَاتِ الْخَوَاتِيمَ مِنْ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ ، ثُمَّ قَامَ إِلَى شَيْ مُعَلَّقٍ فَتَوَضَّأَ مِنْهَا ، فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبَّاسٍ : فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَوَضَعَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رَأْسِي ثُمَّ أَخَذَ بِأُذُنِي الْيُمْنَى فَفَتَلَهَا فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ قَالَ مَعْنَ : سِتَ مَرَّاتٍ ثُمَّ أَوْتَرَ ، ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى جَاءَهُ الْمُؤَذِّنُ فَقَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ ، ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ
১৯৭. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার তিনি তাঁর খালা মায়মূনা (রাঃ)-এর গৃহে রাত্রিযাপন করেন। তিনি বলেন, তিনি মায়মূনা (রাঃ) এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বালিশের লম্বা দিকে ঘুমান আর আমি প্রস্থের দিকে ঘুমাই। রাসূলুল্লাহ ﷺ অর্ধ রাত কিংবা তার কিছুক্ষণ পূর্ব পর্যন্ত ঘুমালেন। তারপর তিনি জাগ্রত হন এবং মুখমণ্ডল মুছে ঘুমের জড়তা দূর করেন। তারপর তিনি সূরা আলে ইমরানের শেষ ১০ আয়াত তিলাওয়াত করেন। এরপর তিনি ঝুলন্ত পানির মশকের কাছে যান এবং উত্তমরূপে ওযূ করেন। এরপর সালাতে দাঁড়ান। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি তাঁর পার্শ্বে দাঁড়ালাম। তিনি আমার মাথার উপর ডান হাত রাখলেন, এরপর তিনি আমার ডান কান ধরে একটু মললেন (এতে আমি তাঁর ডান পাশে এসে দাঁড়ালাম)। অতঃপর ২ রাক'আত সালাত আদায় করলেন, তারপর ২ রাক'আত সালাত আদায় করলেন, তারপর ২ রাক'আত সালাত আদায় করলেন, তারপর ২ রাক'আত সালাত আদায় করলেন। মা'নের বর্ণনা মতে তিনি ২ রাক'আত করে ৬ বার (১২ রাক'আত) সালাত আদায় করেন। এরপর বিতর সালাত আদায় করেন। এরপর আরাম করেন। এরপর তাঁর কাছে মুয়াযযিন এল। তখন তিনি সংক্ষেপে ২ রাক'আত সালাত আদায় করেন। এরপর মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হন এবং ফজরের সালাত আদায় করেন।
ব্যাখ্যা: আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) ওযু করে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বাম পার্শ্বে দাঁড়ালেন। অথচ নিয়ম হলো মুক্তাদী একা হলে ইমামের ডানে দাঁড়াবে। এজন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ কান ধরে তাকে ডান দিকে দাঁড় করিয়ে দিলেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংখ্যায় তাহাজ্জুদের নামায আদায় করেছেন। সময় হিসেবে কখনো বেশি পড়েছেন। আবার কখনো কম পড়েছেন। তবে ১৩ রাক'আতের বেশি হয়নি, যা বিভিন্ন হাদীস থেকে জানা যায়।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ ثَلَاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً
১৯৮. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ (তাহাজ্জুদ ও বিতরসহ কখনো কখনো) রাত্রে ১৩ রাক'আত সালাত আদায় করতেন।
রাত্রে তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করতে না পারলে দিনে তা আদায় করে নিতেন:
عَنْ عَائِشَةَ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ إِذَا لَمْ يُصَلِّ بِاللَّيْلِ مَنَعَهُ مِنْ ذَلِكَ النَّوْمُ ، أَوْ غَلَبَتْهُ عَيْنَاهُ صَلَّى مِنَ النَّهَارِ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً
১৯৯. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। যদি কখনো নবী নিদ্রা বা প্রবল ঘুমের চাপের কারণে তাহাজ্জুদ আদায় করতে না পারতেন, তাহলে তিনি দিনে (চাশতের সময়) ১২ রাক'আত সালাত আদায় করে নিতেন। ২০১
ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, কারণবসত রাতের নফল ইবাদাত আদায় করতে সমর্থ না হলে তৎপরিমাণ ইবাদাত দিনের বেলায় করে নেয়া যায়।
রাসূলুল্লাহ রাতের সালাত দু'রাক'আত করে আদায় করতেন:
عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِي له . أَنَّهُ قَالَ : لَأَرْمُقَنَّ صَلَاةَ النَّبِيِّ ﷺ فَتَوَسَّدْتُ عَتَبَتَهُ ، أَوْ فُسْطَاطَهُ فَصَلَّى رَسُولُ اللهِ ﷺ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ طَوِيلَتَيْنِ ، طَوِيلَتَيْنِ . طَوِيلَتَيْنِ ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُمَا دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُمَا دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُمَا دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُمَا دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا ، ثُمَّ أَوْتَرَ فَذَلِكَ ثَلَاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً
২০০. যায়েদ ইবনে খালিদ আল জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার রাসূলুল্লাহ এর সালাত গভীর মনোযোগ সহকারে লক্ষ্য করার ইচ্ছা করলাম। তাই আমি তাঁর বাড়ি অথবা তাঁবুর চৌকাঠের উপর মাথা ঠেস দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। রাসূলুল্লাহ প্রথমে সংক্ষেপে ২ রাক'আত সালাত আদায় করলেন। এরপর দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ২ রাক'আত সালাত আদায় করলেন। এরপর তদপেক্ষা সংক্ষেপে ২ রাক'আত, এরপর তার চেয়ে সংক্ষেপে আরো ২ রাক'আত এবং তার চেয়ে সংক্ষেপে আরো ২ রাক'আত সালাত আদায় করলেন। এরপর সংক্ষেপে আরো ২ রাক'আত সালাত আদায় করলেন। তারপর বিতর আদায় করেন। এভাবে ১৩ রাক'আত সালাত আদায় করেন। ২০২
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে 'ঘর অথবা তাঁবুর চৌকাঠের উপর মাথা রেখে শুয়ে থাকার কথা' বলা হয়েছে। বর্ণনাকারীর সন্দেহ হয়ে গেছে সাহাবী যায়েদ (রাঃ) ঘর শব্দ বলেছেন না তাঁবু শব্দ বলেছেন। এটা হচ্ছে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের অধিক সতর্কতার পরিচয়। তাঁরা সামান্য একটু সন্দেহ হলেও
তা প্রকাশ করেছেন। তবে এখানে ঘর শব্দ না হয়ে তাঁবু শব্দটিই হবে। কারণ মুহাদ্দিসগণের মতে এটা কোন এক সফরের ঘটনা ছিল। তখন তাঁর সাথে স্ত্রীদের কেউ ছিলেন না। এজন্য যায়েদ ইবনে খালেদ রাসূলুল্লাহ এর রাতের আমল পর্যবেক্ষণ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ রমাযান মাসে ১১ রাক'আত তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতেন:
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ . كَيْفَ كَانَتْ صَلَاةُ رَسُوْلِ اللَّهِ ﷺ فِي رَمَضَانَ ؟ فَقَالَتْ : مَا كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لِيَزِيدَ فِي رَمَضَانَ وَلَا فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً ، يُصَلِّي أَرْبَعًا لَا تَسْأَلُ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا لَا تَسْأَلُ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ، ثُمَّ يُصَلِّي ثَلَاثًا ، قَالَتْ عَائِشَةُ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ ، أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوْتِرَ ؟ فَقَالَ : يَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَيَّ تَنَامَانِ وَلَا يَنَامُ قَلْبِي
২০১. আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আয়েশা (রাঃ) এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন, রাসূলুল্লাহ রমযান মাসে কত রাক'আত তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ রমাযান অথবা অন্য সময় ১১ রাক'আতের বেশি আদায় করতেন না। প্রথমে ৪ রাক'আত আদায় করতেন। কী রকম একাগ্রতা নিয়ে ও দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন সে বিষয়ে তুমি জিজ্ঞেস করো না। তারপর আবার ৪ রাক'আত আদায় করেন। তবে এর একাগ্রতা ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। এরপর ৩ রাক'আত আদায় করতেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বিতর আদায়ের পূর্বে কি নিদ্রা যান? তিনি বললেন, আমার চোখ নিদ্রা যায় কিন্তু অন্তর নিদ্রা যায় না।২০০
তিনি ১ রাক'আত বিতর আদায় করতেন:
عَنْ عَائِشَةَ : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُؤْتِرُ مِنْهَا بِوَاحِدَةٍ . فَإِذَا فَرَغَ مِنْهَا اضْطَجَعَ عَلَى شِقِّهِ الْأَيْمَنِ
২০২. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ রাত্রে ১১ রাক'আত সালাত আদায় করতেন, যার মধ্যে ১ রাক'আত হতো বিতর। যখন সালাত শেষে করতেন তখন তিনি ডান কাতে আরাম করতেন। ২০৪
কখনো কখনো তিনি রাতে ৯ রাক'আত সালাত আদায় করতেন:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ تِسْعَ رَكَعَاتٍ
২০৩. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ রাত্রে ৯ রাক'আত সালাত আদায় করতেন। ২০৫
রাসূলুল্লাহ এর এক রাতের সালাতের বিবরণ:
عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ ، أَنَّهُ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ ﷺ مِنَ اللَّيْلِ قَالَ : فَلَمَّا دَخَلَ فِي الصَّلَاةِ قَالَ : اللهُ أَكْبَرُ ذُو الْمَلَكُوْتِ وَالْجَبَرُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ قَالَ : ثُمَّ قَرَأَ الْبَقَرَةَ ، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعَهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ وَكَانَ يَقُولُ : سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ ، سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَكَانَ قِيَامُهُ نَحْوًا مِنْ رُكُوعِهِ ، وَكَانَ يَقُولُ : لِرَبِّيَ الْحَمْدُ لِرَبِّيَ الْحَمْدُ ثُمَّ سَجَدَ فَكَانَ سُجُودُهُ نَحْوا مِنْ قِيَامِهِ ، وَكَانَ يَقُولُ : سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى ، سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ ، فَكَانَ مَا بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ نَحْوًا مِنَ السُّجُودِ ، وَكَانَ يَقُولُ : رَبِّ اغْفِرْ لِي ، رَبِّ اغْفِرْ لِي حَتَّى قَرَأَ الْبَقَرَةَ وَأَلَ عِمْرَانَ وَالنِّسَاءَ وَالْمَائِدَةَ أَوِ الْأَنْعَامَ شُعْبَةُ الَّذِي شَكَ فِي الْمَائِدَةِ وَالْأَنْعَامِ
২০৪. হুযায়ফা ইবনে ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূলুল্লাহ এর সঙ্গে রাত্রে সালাত আদায় করেন। তিনি বলেন, যখন তিনি সালাত আরম্ভ করলেন, তখন বললেন,
اللَّهُ أَكْبَرُ ذُو الْمَلَكُوْتِ وَالْجَبَرُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ "আল্ল-হু আকবার যুল মালাকৃতি ওয়াল জাবারূতি ওয়াল কিবরিয়া-য়ি ওয়াল 'আযামাহ্" অর্থাৎ আল্লাহ মহান, রাজাধিরাজ, অসীম শক্তির অধিকারী, বড়ত্ব ও মাহাত্ম্য তাঁরই জন্য।
তারপর তিনি (সূরা ফাতিহার পর) সূরা বাকারা তিলাওয়াত করেন। এরপর কিয়ামের ন্যায় দীর্ঘ রুকূ করেন। তিনি তাতে বলেন, سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ ، سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ "সুবহা-না রব্বিয়াল 'আযীম", "সুবহা-না রব্বিয়াল 'আযীম" অর্থাৎ আমার প্রভু পূত-পবিত্র ও মহান; আমার প্রভু পুত-পবিত্র ও মহান। তারপর মাথা উঠালেন এবং তাঁর কিয়াম রুকূ'র ন্যায় দীর্ঘ হলো। এরপর বললেন,
لِرَبِّيَ الْحَمْدُ ، لِرَبِّيَ الْحَمْدُ “লিরব্বিয়াল হাম্দ, লিরব্বিয়াল হাম্দ” অর্থাৎ সকল প্রশংসা আমার প্রভুর জন্য; সকল প্রশংসা আমার প্রভুর জন্য। তারপর তিনি সিজদা করলেন, আর তার সিজদা কিয়ামের মতো দীর্ঘ হলো। তিনি বললেন,
سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى ، سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى “সুবহা-না রব্বিয়াল আ'লা, সুবহা-না রব্বিয়াল আ'লা” অর্থাৎ আমার প্রভু পবিত্র ও মহান, আমার প্রভু পবিত্র ও মহান। তারপর মাথা উঠালেন (অর্থাৎ সিজদা হতে উঠে বসেন)। আর ২ সিজদার মধ্যকার সময় ছিল সিজদায় থাকা সময়ের ব্যবধানের মতো। এ সময় তিনি বলতেন,
رَبِّ اغْفِرْ لِي ، رَبِّ اغْفِرْ لِي "রব্বিগ্‌ ফিরলী", "রব্বিগ্ ফিরলী" অর্থাৎ হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করো; হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করো। এমনকি তিনি সূরা বাক্বারা, আলে ইমরান, নিসা, মায়েদা অথবা আনআম তিলাওয়াত করেন। বর্ণনাকারী সূরা মায়েদা না আনআম পর্যন্ত তিলাওয়াত করেছেন সে সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেন। ২০৬
রাসূলুল্লাহ ﷺ সালাতের মধ্যে একটি আয়াত বারবার তিলাওয়াত করতেন:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : قَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِأَيَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ لَيْلَةً
২০৫. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাতে রাসূলুল্লাহ ﷺ একটি আয়াত (পুনরাবৃত্তি করে) তিলাওয়াত করতে থাকেন।২০৭
ব্যাখ্যা: আয়াতটি ছিল:
﴿إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ﴾ (হে আল্লাহ!) তুমি যদি শাস্তি দিতে ইচ্ছা করো, তবে তারা তোমারই বান্দা। আর যদি তাদের ক্ষমা করে দাও, তাহলে তুমি তো মহা পরাক্রমশালী ও সর্বজ্ঞ। (সূরা আল মায়েদা- ১১৮)
উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা'আলার দুটি গুণ ইনসাফ ও মাগফিরাতের বর্ণনা করা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ এ দুটি গুণের প্রতি লক্ষ্য করেই বারবার আয়াতটি পাঠ করেন। কিয়ামত দিবসের পুরো অবস্থা এ দুটো গুণেরই বহিঃপ্রকাশ মাত্র।
রাসূলুল্লাহ দীর্ঘ সময় যাবৎ কিয়াম করতেন:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ له قَالَ : صَلَّيْتُ لَيْلَةً مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَلَمْ يَزَلْ قَائِمًا حَتَّى هَمَمْتُ بِأَمْرِ سُوْءٍ قِيلَ لَهُ : وَمَا هَمَمْتَ بِهِ ؟ قَالَ : هَمَمْتُ أَنْ أَقْعُدَ وَادَعَ النَّبِيَّ ﷺ
২০৬. আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ এর সাথে সালাত আদায় করি। তিনি এত দীর্ঘ (সময়) কিয়াম করেন যে, আমি একটি খারাপ কাজ করার সংকল্প করে বসি। তাকে বলা হলো আপনি কি করতে চেয়েছিলেন? তিনি বলেন, আমি নবী কে ছেড়ে বসে পড়ার ইচ্ছা করেছিলাম। ২০৮
বসে সালাত আদায় করলে তিলাওয়াতও বসে করতেন:
عَنْ عَائِشَةَ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يُصَلِّي جَالِسًا فَيَقْرَأُ وَهُوَ جَالِسٌ ، فَإِذَا بَقِيَ مِنْ قِرَاءَتِهِ قَدْرُ مَا يَكُونُ ثَلَاثِينَ أَوْ أَرْبَعِينَ آيَةً ، قَامَ فَقَرَا وَهُوَ قَائِمٌ ، ثُمَّ رَكَعَ وَسَجَدَ ، ثُمَّ صَنَعَ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ مِثْلَ ذَلِكَ
২০৭. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী বসে সালাত আদায় করলে তিলাওয়াতও বসে করতেন। যখন মাত্র ৩০ অথবা ৪০ আয়াত বাকী থাকত তখন দাঁড়িয়ে তিলাওয়াত করতেন তারপর রুকু ও সিজদা করতেন। এরপর তিনি দ্বিতীয় রাক'আতও অনুরূপভাবে আদায় করতেন। ২০৯
দাঁড়িয়ে কিরাআত পাঠ করলে রুকু-সিজদাও দাঁড়ানো অবস্থাতেই করতেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ قَالَ : سَأَلْتُ عَائِشَةَ ، عَنْ صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ عَنْ تَطَوُّعِهِ ، فَقَالَتْ : كَانَ يُصَلِّي لَيْلًا طَوِيلًا قَائِمًا ، وَلَيْلًا طَوِيلًا قَاعِدًا ، فَإِذَا قَرَا وَهُوَ قَائِمٌ رَكَعَ وَسَجَدَ وَهُوَ قَائِمٌ . وَإِذَا قَرَا وَهُوَ جَالِسٌ رَكَعَ وَسَجَدَ وَهُوَ جَالِسٌ
২০৮. আবদুল্লাহ ইবনে শাকীক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আয়েশা (রাঃ) এর কাছে রাসূলুল্লাহ এর নফল সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তিনি দীর্ঘ রাত্রি দাঁড়িয়ে কিংবা দীর্ঘ রাত্রি বসে সালাত আদায় করতেন। তিনি দাঁড়িয়ে কিরাআত পড়লে রুকু-সিজদাও
দাঁড়ানো অবস্থাতেই করতেন। আবার যখন কিরাআত বসে পড়তেন, তখন বসা অবস্থাতেই রুকু-সিজদা করতেন। ২১০
ব্যাখ্যা: সাধারণত রাসূলুল্লাহ ﷺ নফল নামায দাঁড়িয়ে আদায় করতেন। আবার কখনো কখনো বসেও আদায় করতেন। অধিকাংশ আলেমের মতে নফল নামায দাঁড়িয়ে, বসে, কিছু দাঁড়িয়ে কিছু বসে, সব অবস্থায় আদায় করা জায়েয। এমনকি বসে নামায শুরু করার পর দাঁড়িয়ে রুকু-সিজদা করা। এমনিভাবে দাঁড়িয়ে নামায শুরু করে বসে রুকু-সিজদা করাও বৈধ। তবে ফরয নামাযে দাঁড়ানোর শক্তি থাকলে বসে আদায় করা জায়েয নয়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ তারতীল সহকারে কিরাআত পাঠ করতেন:
عَنْ حَفْصَةَ ، زَوْجِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُصَلِّي فِي سُبْحَتِهِ قَاعِدًا وَيَقْرَأُ بِالسُّورَةِ وَيُرَتِّلُهَا حَتَّى تَكُونَ أَطْوَلَ مِنْ أَطْوَلَ مِنْهَا
২০৯. নবী এর স্ত্রী হাফসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ নফল সালাত বসে আদায় করতেন। তাতে তারতীল (তাজবীদ) সহকারে কিরাআত পাঠ করতেন। ফলে তা দীর্ঘ সূরার চেয়ে দীর্ঘতর মনে হতো। ২১১
নবীর মৃত্যুর পূর্বে অধিকাংশ নফল সালাত বসে আদায় করতেন:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ لَمْ يَمُتْ حَتَّى كَانَ أَكْثَرُ صَلَاتِهِ وَهُوَ جَالِسٌ
২১০. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী মৃত্যুর পূর্বে অধিকাংশ নফল সালাত বসে আদায় করেছেন। ২১২
রাসূলুল্লাহ এর ৮ রাক'আত সুন্নতের বর্ণনা:
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظُّهْرِ ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ فِي بَيْتِهِ ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ فِي بَيْتِهِ
২১১. ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে যোহরের পূর্বে ২ রাক'আত ও পরে ২ রাক'আত, মাগরিবের পর ঘরে ২ রাক'আত এবং এশার পরে তাঁর ঘরে ২ রাক'আত সালাত আদায় করেছি। ২১৩
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে যোহরের ফরযের পূর্বে ২ রাক'আত সুন্নতের কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু অন্যান্য হাদীস থেকে ৪ রাক'আত সুন্নতের প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন- জামে তিরমিযীতে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ বলেন, রাসূলুল্লাহ যোহরের পূর্বে ৪ রাক'আত এবং যোহরের পরে চার রাক'আত সুন্নত পড়তেন। এজন্য ৪ রাক'আত বা ২ রাক'আত উভয়ই আদায় করা জায়েয আছে। তাছাড়া এ হাদীসে ফজরের সুন্নতের কথা উল্লেখ করা হয় নাই, যা রাবীর অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
রাসূলুল্লাহর আযানের পর ২ রাক'আত সালাত আদায় করে নিতেন:
عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ : حَدَّثَتْنِي حَفْصَةُ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ حِينَ يَطْلُعُ الْفَجْرُ وَيُنَادِي الْمُنَادِي قَالَ أَيُّوبُ : وَأُرَاهُ قَالَ : خَفِيفَتَيْنِ
২১২. ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাফসা (রাঃ) আমাকে (এ মর্মে) হাদীস শোনান যে, সুবহে সাদিকের সময় যখন মুয়াযযিন আযান দিত, তখন রাসূলুল্লাহ ২ রাক'আত সালাত আদায় করে নিতেন। আইয়ূব বলেন, আমি মনে করি তিনি (خَفِيفَتَيْنِ) সংক্ষিপ্ত ২ রাক'আত) বলেছেন। ২১৪
রাসূলুল্লাহ এর ১০ রাক'আত সুন্নতের বিবরণ:
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : حَفِظْتُ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ ثَمَانِي رَكَعَاتٍ : رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظُّهْرِ ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ قَالَ ابْنُ عُمَرَ : وَحَدَّثَتْنِي حَفْصَةٌ بِرَكْعَتَيِ الْغَدَاةِ ، وَلَمْ أَكُنْ أَرَاهُمَا مِنَ النَّبِيِّ ﷺ
২১৩. ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ হতে ৮ রাক'আত স্মরণ রেখেছি- যোহরের পূর্বে ২ রাক'আত ও পরে ২ রাক'আত, ২ রাক'আত মাগরিবের পরে এবং ২ রাক'আত এশার পরে। ইবনে উমর (রাঃ) বলেন, হাফসা (রাঃ) আমার কাছে ফজরের ২ রাক'আতের খবর দিয়েছেন। অথচ আমি নবী কে তা আদায় করতে দেখিনি। ২১৫
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ قَالَ : سَأَلْتُ عَائِشَةَ ، عَنْ صَلَاةِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَتْ : كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ الظُّهْرِ رَكْعَتَيْنِ وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ ، وَبَعْدَ الْمَغْرِبِ رَكْعَتَيْنِ ، وَبَعْدَ الْعِشَاءِ رَكْعَتَيْنِ ، وَقَبْلَ الْفَجْرِ ثِنْتَيْنِ
২১৪. আবদুল্লাহ ইবনে শাকীক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ) এর কাছে নবী ﷺ এর (নফল) সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তিনি যোহরের পূর্বে ২ রাক'আত এবং পরে ২ রাক'আত, মাগরিবের পরে ২ রাক'আত, এশার পরে ২ রাক'আত এবং ফজরের পূর্বে ২ রাক'আত সালাত আদায় করতেন। ২১৬
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর দিনের ১৬ রাক'আত নফল সালাতের বিবরণ:
عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ يَقُوْلُ : سَأَلْنَا عَلِيًّا ، عَنْ صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مِنَ النَّهَارِ ، فَقَالَ : إِنَّكُمْ لَا تُطِيقُوْنَ ذَلِكَ قَالَ : فَقُلْنَا : مَنْ أَطَاقَ ذَلِكَ مِنَّا صَلَّى ، فَقَالَ : كَانَ إِذَا كَانَتِ الشَّمْسُ مِنْ هَاهُنَا كَهَيْئَتِهَا مِنْ هَاهُنَا عِنْدَ الْعَصْرِ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ، وَإِذَا كَانَتِ الشَّمْسُ مِنْ هَهُنَا كَهَيْئَتِهَا مِنْ هَاهُنَا عِنْدَ الظُّهْرِ صَلَّى أَرْبَعًا ، وَيُصَلِّي قَبْلَ الظُّهْرِ أَرْبَعًا ، وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ ، وَقَبْلَ الْعَصْرِ أَرْبَعًا ، يَفْصِلُ بَيْنَ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ بِالتَّسْلِيمِ عَلَى الْمَلَائِكَةِ الْمُقَرَّبِينَ وَالنَّبِيِّينَ ، وَمَنْ تَبِعَهُمْ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ
২১৫. আসিম ইবনে যামরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আলী (রাঃ) এর কাছে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর দিনের (নফল) সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তোমরা সেভাবে আদায় করার ক্ষমতা রাখ না। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম, আমাদের মধ্যে যে সামর্থ্য রাখে সে আদায় করবে। এরপর তিনি বললেন, আসরের সময় সূর্য যতটা উপরে থাকে তেমন হলে তিনি ২ রাক'আত (ইশরাক সালাত) আদায় করতেন। আবার যোহরের সময় সূর্য যতটা উপরে থাকে (পূর্ব দিকে সূর্য ততটা উপর হলে) তিনি ৪ রাক'আত (চাশতের সালাত) আদায় করতেন। যোহরের পূর্বে ৪ রাক'আত ও পরে ২ রাক'আত এবং আসরের পূর্বে ৪ রাক'আত আদায় করতেন। প্রতি ২ রাক'আতে নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা, নবীগণ এবং যেসকল মুমিন-মুসলিম তাদের অনুসরণ করেছেন তাদের প্রতি সালাম প্রেরণের মাধ্যমে ব্যবধান করতেন। ২১৭
ব্যাখ্যা: নবী, ফেরেশতা এবং মুমিনদের প্রতি সালাম পাঠ করার অর্থ হলো, আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করা। কেননা, এতে তাদের প্রতি সালাম পাঠ করা হয়। অথবা সালামের অর্থ ২ রাক'আত পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করা। তখন উদ্দেশ্য হবে, রাসূলুল্লাহ আসরের পূর্বে ২ রাক'আত করে ৪ রাক'আত সালাত আদায় করতেন।

টিকাঃ
১৯৭ সহীহ মুসলিম, হা/৭৩০২; সুনানে নাসাঈ, হা/১৬৪৪; ইবনে মাজাহ, হা/১৪১৯; ইবনে খুযাইমা, হা/১১৮২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮২২৩; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/১১৮৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩১১; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৬১৯।
১৯৮ সুনানে নাসাঈ, হা/১৬৮০; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৪৭৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৫৯৩।
১৯৯ মুয়াত্তা মালেক, হা/২৬৫; সহীহ বুখারী, হা/১৮৩; সহীহ মুসলিম, হা/১৮২৫; আবু দাউদ, হা/১৩৬৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১৬৪; ইবনে খুযাইমা, হা/১৬৭৫।
২০০ সহীহ বুখারী, হা/১1৩৮; সহীহ মুসলিম, হা/১৮৩৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০১৯।
২০১ শারহুস সুন্নাহ, হা/৯৮৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৬৪৫।
২০২ মুয়াত্তা মালেক, হা/২৬৬; আবু দাউদ, হা/১৩৬৮; ইবনে মাজাহ, হা/১৩৬২।
২০৩ মুয়াত্তা মালেক, হা/২৬৩; সহীহ বুখারী, হা/১১৪৭; সহীহ মুসলিম, হা/১৭৫৭; আবু দাউদ, হা/১৩৪৩।
২০৪ মুয়াত্তা মালেক, হা/২৬২; সহীহ মুসলিম, হা/১৭৫১; আবু দাউদ, হা/১৩৩৭; সুনানে নাসাঈ, হা/১৬৯৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪১১৬; বায়হাকী, হা/৪৫৫১।
২০৫ সহীহ মুসলিম, হা/১৭৩৩; আবু দাউদ, হা/১২৫৩; সুনানে নাসাঈ, হা/১৭২৫; ইবনে মাজাহ, হা/১৩৬০; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪০৬৫; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/১১৬৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৬১৫।
২০৬ আবু দাউদ, হা/৮৭৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৪২৩।
২০৭ শারহুস সুন্নাহ, হা/৯১৪।
২০৮ সহীহ বুখারী, হা/১1৩৫; সহীহ মুসলিম, হা/১৮৫১; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৯৩৭; বায়হাকী, হা/৪৪৬০।
২০৯ মুয়াত্তা মালেক, হা/৩১১; সহীহ বুখারী, হা/১1১৯; সহীহ মুসলিম, হা/১৭৩৯; আবু দাউদ, হা/৯৫৫।
২১০ সহীহ মুসলিম, হা/১৭৩৬; আবু দাউদ, হা/৯৫৬; ইবনে মাজাহ, হা/১২২৮; ইবনে খুযাইমা, হা/১২৪৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬০৮১; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৬৩১।
২১১ মুয়াত্তা মালেক, হা/৩০৯; সহীহ মুসলিম, হা/১৭৪৬; সুনানে নাসাঈ, হা/১৬৫৮; ইবনে খুযাইমা, হা/১২৪২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৪৮৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৫০৮; দারেমী, হা/১৩৮৫।
২১২ সহীহ মুসলিম, হা/১৭৪৫; সুনানে নাসাঈ, হা/১৬৫২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৭৭৩; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/১২৩৯; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১১৮৪।
২১৩ মুসনাদে আহমাদ, হা/৪৫০৬; সহীহ ইবনে খুযাইma, হা/১১৯৭; মুসনাদুল বাযযার, হা/৫৮২৩।
২১৪ মুসনাদে আহমাদ, হা/৪৫০৬; শারহুস সুন্নাহ, হা/৮৬৭; মুসনাদে মুস্তাখরাজ 'আলাস সহীহাইন, হা/১৬৩৬।
২১৫ সহীহ বুখারী, হা/১১৮০; মুসনাদে ইসহাক ইবনে রাহওয়াই, হা/১৯৯৭; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা/৪৮২৪।
২১৬ শারহুস সুন্নাহ, হা/৮৭০।
২১৭ সুনানে নাসাঈ, হা/৮৭৪; ইবনে মাজাহ, হা/১১৬১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩৭৫; মুসনাদুল বাযযার, হা/৬৭৭; বায়হাকী, হা/৪৬৯৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/৮৯২; সিলসিলা সহীহাহ, হা/২৩৭।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর দোহার সালাত

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর দোহার সালাত


(الضُّحى (দ্বোহা) অর্থ সকালবেলা বা দিনের প্রথম প্রহর। হাদীসে ইশরাক ও চাশত উভয় নামাযকে বুঝাতে 'সালাতুয দ্বোহা' শব্দ এসেছে। সূর্য উদয়ের সময় নিষিদ্ধ ওয়াক্তের পর হতে সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়কে দ্বোহা বলা হয়।
রাসূলুল্লাহ ৪ রাক'আত চাশতের সালাত আদায় করতেন:
عَنْ مُعَاذَةَ ، قَالَتْ : قُلْتُ لِعَائِشَةَ : أَكَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُصَلِّي الضُّحى ؟ قَالَتْ : نَعَمُ ، أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ يَزِيدُ مَا شَاءَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ
২১৬. মু'আযা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবী কি চাশতের সালাত আদায় করতেন? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ- ৪ রাক'আত সালাত আদায় করতেন। আল্লাহ চাইলে কখনো কখনো বেশিও পড়তেন। ২১৮
রাসূলুল্লাহ ৬ রাক'আতও চাশতের সালাত আদায় করতেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ الله : أَنَّ النَّبِيِّ ﷺ كَانَ يُصَلِّي الضُّحَى سِتَّ رَكَعَاتٍ
২১৭. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ৬ রাক'আত চাশতের সালাত আদায় করতেন। ২১৯
রাসূলুল্লাহ মক্কা বিজয়ের দিন ৮ রাক'আত চাশতের সালাত আদায় করেছিলেন:
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلى قَالَ : مَا أَخْبَرَنِي أَحَدٌ ، أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ ﷺ يُصَلِّي الضُّحَى إِلَّا أُمُّ هَانِي ، فَإِنَّهَا حَدَّثَتْ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ دَخَلَ بَيْتَهَا يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ فَاغْتَسَلَ فَسَبَّحَ ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ مَا رَأَيْتُهُ صَلَّى صَلَاةً قَط أَخَفَّ مِنْهَا . غَيْرَ أَنَّهُ كَانَ يُتِمُّ الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ
২১৮. আবদুর রহমান ইবনে আবু লায়লা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একমাত্র উম্মে হানী (রাঃ) ছাড়া কেউই রাসূলুল্লাহ কে চাশতের সালাত আদায় করতে দেখেছেন বলে আমাকে বলেননি। উম্মে হানী (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ মক্কা বিজয়ের দিন আমার ঘরে আসেন এবং গোসল করে ৮ রাক'আত সালাত আদায় করেন। এর চেয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে সালাত আদায় করতে আমি আর কখনো দেখিনি। অবশ্য তা সত্ত্বেও তিনি যথারীতি রুকু-সিজদা আদায় করেছেন। ২২০
ব্যাখ্যা: আবদুর রহমান ইবনে আবু লায়লার উক্তি আমাকে উম্মু হানী (রাঃ) ছাড়া আর কেউ রাসূলুল্লাহকে চাশতের সালাত আদায় করতে দেখেছেন বলে অবহিত করেননি- এর দ্বারা একথা প্রমাণিত হয় না যে, উম্মু হানী (রাঃ) ছাড়া অন্য কোন সাহাবী চাশতের সালাত সম্পর্কে জানতেন না। ইবনে জারীর (রহ.) বলেছেন, চাশতের সালাত সম্পর্কিত হাদীসসমূহ মুতাওয়াতির পর্যায়ভুক্ত। এটা হতে পারে যাদেরকে আবদুর রহমান ইবনে আবী লায়লা জিজ্ঞেস করেছেন, তাঁদের মাঝে উম্মু হানী (রাঃ) ছাড়া আর কেউ দেখেননি।
রাসূলুল্লাহ সফর থেকে ফিরে আসলে আগে সালাত আদায় করতেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ قَالَ : قُلْتُ لِعَائِشَةَ : أَكَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُصَلِّي الضُّحى ؟ قَالَتْ : لَا إِلَّا أَنْ يَجِيءَ مِنْ مَغِيبِهِ
২১৯. আবদুল্লাহ ইবনে শাকীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ কি চান্তের সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, কোন সফর হতে ফিরে আসলে সালাত আদায় করতেন। ২২১
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ এর এটা অভ্যাস ছিল যে, সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করলে সকাল বেলা মদিনায় প্রবেশ করতেন এবং সর্বপ্রথম মসজিদে গিয়ে নফল সালাত আদায় করতেন।
রাসূলুল্লাহ সূর্য ঢলে পড়ার পর ৪ রাক'আত সালাত আদায় করতেন:
عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِي ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يُؤْمِنُ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ عِنْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنَّكَ تُدْمِنُ هُذِهِ الْأَرْبَعَ رَكَعَاتٍ عِنْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ فَقَالَ : إِنَّ أَبْوَابَ السَّمَاءِ تُفْتَحُ عِنْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ فَلَا تُرْتَجُ حَتَّى تُصَلَّى الظُّهْرُ . فَأُحِبُّ أَنْ يَصْعَدَ لِي فِي تِلْكَ السَّاعَةِ خَيْرٌ قُلْتُ : أَبِي كُلِّهِنَّ قِرَاءَةً؟ قَالَ : نَعَمْ ، قُلْتُ : هَلْ فِيهِنَّ تَسْلِيمٌ فَاصِلٌ ؟ قَالَ : لَا
২২০. আবু আইয়ূব আল আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সূর্য হেলে গেলে ৪ রাক'আত সালাত আদায় করতেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সূর্য হেলে গেলে (গুরুত্বের সঙ্গে) ৪ রাক'আত সালাত আদায় করেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, সূর্য হেলার পর আকাশের দরজা খুলে দেয়া হয় এবং যোহরের সময় পর্যন্ত তা খোলা থাকে। আমি চাই এ সময় আমার কোন ভালো কাজ আকাশে পৌঁছুক। আমি বললাম, এর প্রতি রাক'আতেই কি কিরাআত পড়তে হয়? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, ২ রাক'আতের পর সালাম ফিরাতে হয় কি? তিনি বললেন, না। ২২২
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَانَ يُصَلِّي أَرْبَعًا بَعْدَ أَنْ تَزُولَ الشَّمْسُ قَبْلَ الظُّهْرِ وَقَالَ : إِنَّهَا سَاعَةٌ تُفْتَحُ فِيهَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ ، فَأُحِبُّ أَنْ يَصْعَدَ لِي فِيْهَا عَمَلٌ صَالِحٌ
২২১. আবদুল্লাহ ইবনে সায়িব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সূর্য হেলার পর হতে যোহরের পূর্ব পর্যন্ত ৪ রাক'আত সালাত আদায় করতেন এবং বলতেন, এ সময় আকাশের দরজা খুলে দেয়া হয়। আমার একান্ত ইচ্ছা, এ সময় আমার কোন সৎকাজ আল্লাহর দরবারে পৌছুক। ২২৩
عَنْ عَلِي ، أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ الظُّهْرِ أَرْبَعًا ، وَذَكَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَانَ يُصَلِّيْهَا عِنْدَ الزَّوَالِ وَيَمُدُّ فِيهَا
২২২. আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি যোহরের পূর্বে ৪ রাক'আত আদায় করতেন এবং বলতেন যে, সূর্য হেলার সময় নবী এ সালাত আদায় করতেন এবং তাতে দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করতেন। ২২৪
ব্যাখ্যা: মুহাদ্দিসগণের মতে এখানে যোহরের ফরযের পূর্বের ৪ রাক'আত সুন্নাতের কথা বলা হয়েছে। কারণ সূর্য ঢলার পর রাসূলুল্লাহ যোহরের সুন্নত ছাড়া আর কোন নফল নামায নিয়মিত পড়তেন না। যদিও কেউ কেউ এটা "সালাতুয যাওয়াল" বলে উল্লেখ করেছেন, তবে এর কোন ভিত্তি নেই।

টিকাঃ
২১৮ সহীহ মুসলিম, হা/১৬৯৬; ইবনে মাজাহ, হা/১৩৮১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৬৮২; বায়হাকী, হা/৪৬৭৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৫২৯; শারহুস সুন্নাহ, হা/১০০৫।
২১৯ মু'জামুল আওসাত, হা/১২৭৬; জামেউস সগীর, হা/৯০৯১।
২২০ সহীহ বুখারী, হা/১১০৩; সহীহ মুসলিম, হা/১৭০০; ইবনে খুযাইমা, হা/১২৩৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৯৪৫; শারহুস সুন্নাহ, হা/১০০০; দারেমী, হা/১৪৫২; বায়হাকী, হা/৪৬৮১।
২২১ সহীহ মুসলিম, হা/১৬৯৪; আবু দাউদ, হা/১২৯৪; সুনানে নাসাঈ, হা/২১৮৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৪২৪; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/২১৩২; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৫২৭; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৭৮৭০।
২২২ মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৫৭৯; ইবনে মাজাহ, হা/১১৫৭; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৩৯৩০; বায়হাকী, হা/৪৩৫৫; জামেউস সগীর, হা/২৪১২; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা/৪৮১৪।
২২৩ শারহুস সুন্নাহ, হা/৭৯০।
২২৪ সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৩৩৩।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 ঘরে নফল সালাত

📄 ঘরে নফল সালাত


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدٍ له قَالَ : سَأَلْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ عَنِ الصَّلَاةِ فِي بَيْتِي وَالصَّلَاةِ فِي الْمَسْجِدِ قَالَ : قَدْ تَرَى مَا أَقْرَبَ بَيْتِي مِنَ الْمَسْجِدِ ، فَلَأَنْ أَصَلِّيَ فِي بَيْتِي أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أُصَلِّي فِي الْمَسْجِدِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ صَلَاةٌ مَكْتُوبَةٌ
২২৩. আবদুল্লাহ ইবনে সা'দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ কে জিজ্ঞেস করলাম, নফল সালাত আমার ঘরে পড়া ভালো, না মসজিদে পড়া ভালো? তিনি বললেন, তুমি দেখছ না আমার ঘর কত নিকটে, তা সত্ত্বেও ফরয সালাত মসজিদে পড়া ছাড়া অন্যান্য সালাত আমি ঘরে পড়াই উত্তম মনে করি। ২২৫
ব্যাখ্যা: নফল সালাত ঘরে আদায় করাই উত্তম। রাসূলুল্লাহ এর বিভিন্ন বাণী ও কর্ম থেকে বিষয়টি প্রমাণিত। রাসূলুল্লাহ বলেন, তোমরা তোমাদের ঘরকে কবর বানিয়ে নিও না। অর্থাৎ যেমনিভাবে কবরে সালাত আদায় করা হয় না তেমনিভাবে ঘরে সালাত আদায় করা থেকে বিরত থেকো না। ফরয সালাত মসজিদে জামা'আতের সাথে আদায় করবে এবং নফল সালাত ঘরে আদায় করে নেবে।

টিকাঃ
২২৫ ইবনে খুযাইমা, হা/১২০২; মু'জামুস সাহাবা, হা/১৫৫৮; আল আহাদ ওয়াল মাছানী, হা/৮৬৫; শারহুল মা'আনী, হা/১৯৯৪।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর রোযা

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর রোযা


عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ قَالَ : سَأَلْتُ عَائِشَةَ ، عَنْ صِيَامِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ، قَالَتْ : كَانَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ صَامَ ، وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَفْطَرَ . قَالَتْ : وَمَا صَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ شَهْرًا كَامِلًا مُنْذُ قَدِمَ الْمَدِينَةَ إِلَّا رَمَضَانَ
২২৪. আবদুল্লাহ ইবনে শাকীক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ এর রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তাতে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ক্রমাগত) রোযা রাখতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি বুঝি অনবরত রোযা রেখেই যাবেন। আর যখন
ইফতার করতেন, তখন আমরা বলতাম, তিনি হয়তো আর রোযা রাখবেন না। আয়েশা (রাঃ) বলেন, মদিনায় হিজরতের পর রমাযান মাস ছাড়া আর কোন সময় তিনি পূর্ণ মাস রোযা রাখতেন না। ২২৬
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ বিভিন্ন নিয়মে রোযা রেখেছেন। তিনি কখনো কখনো একটানা অনেক দিন রোযা রাখতেন আবার বিরতিও দিতেন। তবে কোন মাস নফল রোযা থেকে খালি যেত না। তিনি মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতেন।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ﷺ ، أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ صَوْمِ النَّبِيِّ ﷺ ، فَقَالَ : كَانَ يَصُوْمُ مِنَ الشَّهْرِ حَتَّى نَرَى أَنْ لَا يُرِيدَ أَنْ يُفْطِرَ مِنْهُ ، وَيُفْطِرُ مِنْهُ حَتَّى نَرَى أَنْ لَا يُرِيدَ أَنْ يَصُوْمَ مِنْهُ شَيْئًا . وَكُنْتَ لَا تَشَاءُ أَنْ تَرَاهُ مِنَ اللَّيْلِ مُصَلِّيًّا إِلَّا رَأَيْتَهُ مُصَلِّيًا ، وَلَا نَائِمًا إِلَّا رَأَيْتَهُ نَائِمًا
২২৫. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আনাস (রাঃ)-কে নবী এর রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, নবী কোন মাসে এমনভাবে রোযা রাখতেন যে, আমরা মনে করতাম- তিনি হয়তো এ মাসে আর রোযা ছাড়বেন না। আবার অনেক সময় এমনভাবে রোযা ছেড়ে দিতেন যে, আমরা মনে করতাম- তিনি আর রোযা রাখবেন না। অবস্থা এমন ছিল যে, তুমি যদি তাঁকে সালাতরত অবস্থায় দেখতে চাইতে, তবে তাঁকে সালাতরত অবস্থায়-ই দেখতে পেতে। আর যদি নিদ্রিত অবস্থায় দেখতে চাইতে, তবে তাঁকে নিদ্রিত অবস্থায়-ই দেখতে পেতে। ২২৭
ব্যাখ্যা: আনাস (রাঃ) এ বাক্য দ্বারা বুঝাতে চান যে, রাসূলুল্লাহ সারা রাত ঘুমিয়ে কাটাতেন না, আবার সারা রাত ইবাদাতও করতেন না; বরং মধ্যমপন্থা অবলম্বন করতেন। একাংশে ঘুমাতেন আরেকাংশে নামায পড়তেন।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ﷺ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ مَا يُرِيدُ أَنْ يُفْطِرَ مِنْهُ ، وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُوْلَ مَا يُرِيدُ أَنْ يَصُوْمَ مِنْهُ ، وَمَا صَامَ شَهْرًا كَامِلًا مُنْذُ قَدِمَ الْمَدِينَةَ إِلَّا رَمَضَانَ
২২৬. ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ কখনো এমনভাবে রোযা রাখতেন যে, আমরা বলতাম, এ মাসে হয়তো তিনি আর রোযা ভাঙ্গবেন না। যখন রোযা ছেড়ে দিতেন, তখন (তাঁর অবস্থা দেখে) আমরা বলতাম, তিনি বুঝি আর রোযা রাখবেন না। মদিনায় হিজরতের পর রমযান মাস ছাড়া তিনি আর কখনো পূর্ণ মাস রোযা রাখেননি। ২২৮
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ ، قَالَتْ : مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَصُوْمُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ إِلَّا شَعْبَانَ وَرَمَضَانَ
২২৭. উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ-কে রমযান ও শাবান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসে একাধিক্রমে রোযা রাখতে দেখিনি। ২২৯
ব্যাখ্যা: এ কথা দ্বারা আয়েশা (রাঃ) স্পষ্টভাবে বুঝাচ্ছেন যে, সম্পূর্ণ শাবান মাস বলতে শাবানের অধিকাংশ দিন বুঝানো হয়েছে।
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : لَمْ أَرَ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَصُوْمُ فِي شَهْرٍ أَكْثَرَ مِنْ صِيَامِهِ لِلَّهِ فِي شَعْبَانَ ، كَانَ يَصُوْمُ شَعْبَانَ إِلَّا قَلِيلًا بَلْ كَانَ يَصُوْمُهُ كُلَّهُ
২২৮. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ-কে শাবান মাস ছাড়া আর কোন মাসে এত অধিক রোযা রাখতে দেখিনি। তিনি শাবান মাসের অধিকাংশ দিনই রোযা রাখতেন। বরং প্রায় সারা মাসই তাঁর রোযা অবস্থায় কাটত। ২০০
রাসূলুল্লাহ প্রতি মাসে ৩টি করে রোযা রাখতেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ﷺ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَصُومُ مِنْ غُرَّةٍ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَقَلَّمَا كَانَ يُفْطِرُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ
২২৯. আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ প্রতি মাসের প্রথমদিকে তিনটি করে রোযা রাখতেন। জুমু'আর দিন খুব কমই ইফতার করতেন। ২০৩
ব্যাখ্যা: বিভিন্ন হাদীসে প্রতি মাসে ৩ দিন রোযা রাখার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। যেমন- প্রত্যেক সৎ কাজের সওয়াব দশগুণ বৃদ্ধি করা হয়, এ হিসেবে ৩টি পূর্ণ রোযার সওয়াব ১ মাসের রোযার সমপরিমান হয়। এভাবে যে ব্যক্তি প্রতি মাসে ৩ দিন রোযা রাখল সে যেন সারা বছরই রোযা রাখল। রাসূলুল্লাহ প্রতি মাসে ৩ দিন রোযা রাখতেন। কখনো মাসের শুরুতে ৩ দিন রোযা রাখতেন, কখনো চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোযা রাখতেন।
রাসূলুল্লাহ সোম ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতেন:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَتَحَزَّى صَوْمَ الْإِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ
২৩০. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সোম ও বৃহস্পতিবারের রোযার প্রতি খুবই খেয়াল রাখতেন। ২৩২
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ اللهِ ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ : تُعْرَضُ الْأَعْمَالُ يَوْمَ الْإِثْنَيْنِ وَالْخَمِيْسِ فَأُحِبُّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ
২৩১. আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী বলেছেন, সোম বা বৃহস্পতিবার দিন মানুষের আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। আর রোযা অবস্থায় আমার আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হোক- এটা আমি পছন্দ করি। ২০০
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَصُومُ مِنَ الشَّهْرِ السَّبْتَ وَالْأَحَدَ وَالْاثْنَيْنَ ، وَمِنَ الشَّهْرِ الْآخَرِ الثَّلَاثَاءَ وَالْأَرْبَعَاءَ وَالْخَمِيسَ
২৩২. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কোন মাসে শনি, রবি ও সোম এবং কোন মাসে মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার দিন রোযা রাখতেন। ২৩৪
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : مَا كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَصُومُ فِي شَهْرٍ أَكْثَرَ مِنْ صِيَامِهِ فِي شَعْبَانَ
২৩৩. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ শাবান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসে এর চেয়ে বেশি রোযা রাখতেন না।
عَنْ يَزِيدَ الرِّشْكِ قَالَ : سَمِعْتُ مُعَاذَةَ ، قَالَتْ : قُلْتُ لِعَائِشَةَ : أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَصُومُ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ؟ قَالَتْ : نَعَمْ . قُلْتُ : مِنْ أَيِّهِ كَانَ يَصُوْمُ ؟ قَالَتْ : كَانَ لَا يُبَالِي مِنْ أَيِّهِ صَامَ
২৩৪. ইয়াযীদ আর রিশক (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মু'আয (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ কি প্রতি মাসে তিনটি করে রোযা রাখতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, কোন কোন তারিখে রোযা রাখতেন? তিনি বললেন, কোন নির্দিষ্ট তারিখ ছিল না। সুযোগ পেলেই তিনি রোযা রাখতেন। ২৩৫
রাসূলুল্লাহ আশুরার রোযা রাখতেন:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كَانَ عَاشُورَاءُ يَوْمًا تَصُوْمُهُ قُرَيْشٍ فِي الْجَاهِلِيَّةِ ، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَصُوْمُهُ ، فَلَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ صَامَةً وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ ، فَلَمَّا افْتُرِضَ رَمَضَانُ كَانَ رَمَضَانُ هُوَ الْفَرِيضَةُ وَتُرِكَ عَاشُورَاءُ ، فَمَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ
২৩৫. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহেলী যুগে কুরাইশরা আশুরার দিন রোযা রাখত। রাসূলুল্লাহ-ও হিজরতের পূর্বে আশুরার রোযা রাখতেন। মদিনায় হিজরতের পরও তিনি আশুরার রোযা রাখতেন এবং এ রোযা রাখার নির্দেশ দিতেন। অতঃপর রমাযানের রোযা ফরয করা হলে তা ফরযে পরিণত হয় এবং আশুরা ছেড়ে দেয়া হয়। সুতরাং যার ইচ্ছা সে তা রাখতে পারে, আবার যার ইচ্ছা ছেড়ে দিতে পারে। ২৩৬
ব্যাখ্যা: রমাযানের রোযার আগে আশুরার রোযা ফরয ছিল। রমাযানের রোযা ফরয হওয়ার পর আশুরার রোযার অপরিহার্যতা রহিত হয়ে যায়। আশুরার রোযা রাখা মুস্তাহাব। এ দিনে রাসূলুল্লাহ নিজে রোযা রেখেছেন এবং উম্মতকে রোযা রাখতে উৎসাহ দিয়েছেন এবং ১০ তারিখের সাথে সাথে আগের দিন তথা ৯ তারিখেও রোযা রাখতে উৎসাহ দিয়েছেন। তাই মুহাররম মাসের ৯ ও ১০ তারিখে মোট দুটি রোযা রাখা উত্তম। তবে কেবল ১০ তারিখের একটি রোযা রাখাও জায়েয আছে।
মুহাররম মাসের কোন দিনে বা রাতে এবং আশুরার দিনে বা রাতে কোন বিশেষ নামায আদায়ের কোন প্রকার নির্দেশনা বা উৎসাহ কোন হাদীসে বর্ণিত হয়নি। এ বিষয়ক সকল কথাই বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। মিথ্যাবাদীরা এসব হাদীস নিজেরা তৈরি করে রাসূলুল্লাহ এর নামে চালিয়ে দিয়েছে।
রাসূলুল্লাহ এর আমল ছিল নিয়মিত:
عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ : سَأَلْتُ عَائِشَةَ ، أَكَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَخُصُّ مِنَ الْأَيَّامِ شَيْئًا ؟ قَالَتْ : كَانَ عَمَلُهُ دِيمَةً ، وَأَيُّكُمْ يُطِيقُ مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُطِيقُ
২৩৬. আলক্বামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ কি ইবাদাতের জন্য কোন দিনক্ষণ নির্দিষ্ট করতেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ এর আমল ছিল সর্বকালীন। রাসূলুল্লাহ যেমন সামর্থ্যবান ছিলেন, তোমাদের মধ্যে এমন সামর্থ্যবান কেউ আছে কি? ২৩৭
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَعِنْدِي امْرَأَةٌ فَقَالَ : مَنْ هَذِهِ ؟ قُلْتُ : فُلَانَةٌ لَا تَنَامُ اللَّيْلَ ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : عَلَيْكُمْ مِنَ الْأَعْمَالِ مَا تُطِيقُونَ ، فَوَاللَّهِ لَا يَمَلُّ اللَّهُ حَتَّى تَمَلُّوا ، وَكَانَ أَحَبَّ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ الَّذِي يَدُوْمُ عَلَيْهِ صَاحِبُهُ
২৩৭. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ আমার কাছে আসলেন। সে সময় জনৈক মহিলা আমার কাছে বসা ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ মহিলাটি কে? আমি বললাম, সে অমুক। সে সারা রাত বিনিদ্র অবস্থায় কাটায়। রাসূলুল্লাহ বললেন, তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আমল করা উচিত। আল্লাহর কসম! তিনি নেকী দান করতে কখনো কুণ্ঠিত হন না, যতক্ষণ না তোমরা আমলে কুণ্ঠিত হও। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ এমন কাজ করতেই পছন্দ করেন, যা লোকেরা সর্বদা করতে সামর্থ্য রাখে। ২৩৮
عَنْ أَبِي صَالِحٍ قَالَ : سَأَلْتُ عَائِشَةَ ، وَأُمَّ سَلَمَةَ ، أَيُّ الْعَمَلِ كَانَ أَحَبَّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ؟ قَالَتَا : مَا دِيمَ عَلَيْهِ وَإِنْ قَلَّ
২৩৮. আবু সালিহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ) ও উম্মে সালামার কাছে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ এর কাছে প্রিয় কাজ কোনটি ছিল? তাঁরা উভয়েই বললেন, যে আমল সব সময় করা হয়, তা যত কমই হোক না কেন। ২৩৯
রাসূলুল্লাহ এর রাতের আমল:
عَنْ عَاصِمَ بْنَ حُمَيْدٍ قَالَ : سَمِعْتُ عَوْفَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ : كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ لَيْلَةً فَاسْتَاكَ ثُمَّ تَوَضَّأَ ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي ، فَقُمْتُ مَعَهُ فَبَدَا فَاسْتَفْتَحَ الْبَقَرَةَ فَلَا يَمُرُّ بِأَيَةِ رَحْمَةٍ إِلَّا وَقَفَ فَسَأَلَ ، وَلَا يَمُرُّ بِأَيَةِ عَذَابٍ إِلَّا وَقَفَ فَتَعَوَّذَ ، ثُمَّ رَكَعَ فَمَكَثَ رَاكِعًا بِقَدْرِ قِيَامِهِ .
وَيَقُولُ فِي رُكُوعِهِ : سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوْتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ . ثُمَّ سَجَدَ بِقَدْرِ رُكُوعِهِ ، وَيَقُولُ فِي سُجُودِهِ : سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ ثُمَّ قَرَا أَلَ عِمْرَانَ ثُمَّ سُوْرَةً سُوْرَةً يَفْعَلُ مِثْلَ ذَلِكَ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ
২৩৯. আসিম ইবনে হুমায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আওফ ইবনে মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি এক রাতে রাসূলুল্লাহ এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি মিসওয়াক করলেন। পরে ওযু করলেন এবং সালাতে দাঁড়ালেন। আমিও তাঁর সঙ্গে দাঁড়ালাম। তিনি সূরা বাকারা আরম্ভ করলেন। এরপর রহমতের আয়াত পাঠ করে চুপ থাকলেন এবং রহমত প্রার্থনা করলেন। এরপর আযাবের আয়াত পাঠ করে চুপ থাকলেন এবং মুক্তি কামনা করেন। তারপর রুকূ করলেন এবং এ দু'আ পাঠ করলেন, سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ وَالْمَلَكُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ "সুবহা-না যিল জাবারূতি ওয়াল মালাকৃতি ওয়াল কিবরিয়া-ই ওয়াল 'আয়ামাতি।” অর্থাৎ আমি পবিত্রতা ঘোষণা করছি ঐ সত্তার, যিনি মাহাত্ম্য, রাজত্ব, বড়ত্ব ও সম্মানের অধিকারী।
অতঃপর রুকূর সমপরিমাণ সময় সিজদা করেন এবং উপরোক্ত দু'আটি আবারও পাঠ করেন। অতঃপর দ্বিতীয় রাক'আতে সূরা আলে ইমরান পাঠ করেন। তারপর একেক রাক'আতে একেক সূরা পাঠ করেন। ২৪০

টিকাঃ
২২৬ সহীহ মুসলিম, হা/২৭৭৫; সুনানে নাসাঈ, হা/২৩৪৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫২৭৬; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৮০৯; মুসনাদে আবু 'আওয়ানা, হা/২৯৩৮।
২২৭ ইবনে খুযাইমা, হা/২১৩৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩৪৯৮; মুসনাদুল বাযযার, হা/৬৫৯২; বায়হাকী, হা/৪৫১১; শারহুস সুন্নাহ, হা/৯৩২; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৬১৮; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৯৮৪০।
২২৮ মুসনাদে আহমাদ, হা/১৯৯৮; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/২৭৪৮।
২২৯ সুনানে নাসাঈ, হা/২১৭৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৬০৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৭২০; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১০২৫।
২০০ সুনানে নাসাঈ, হা/২১৭৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৩৫৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৫১৬; বায়হাকী, হা/৮২১২; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১০২৪।
২০১ মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৮৬০; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৬৪৫; মুসনাদুল বাযযার, হা/১৮১৮: শারহুস সুন্নাহ, হা/১৮০৩: জামেউস সগীর, হা/৯১০৩।
২৩২ সুনানে নাসাঈ, হা/২৩৬১; ইবনে মাজাহ, হা/১৭৩৯; বায়হাকী, হা/৮২৩০; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৭৯২; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১০৪৪।
২০০ শারহুস সুন্নাহ, হা/১৭৯৯।
২৩৪ তাহযীবুল আছার, হা/৯৮৪; মুসনাদে উমর ইবনে খাত্তাব, হা/১২২০।
২০৫ শারহুস সুন্নাহ, হা/১৮০২; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/১৬৭৭; মুস্তাখরাকে ইবনে 'আওয়ানা, হা/২৩৭৩; মুসনাদে ইসহাক ইবনে রাহওয়াই, হা/১৩৯৩।
২৩৬ মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/৬৬২; সহীহ বুখারী, হা/২০০২; সহীহ মুসলিম, হা/২৬৯৮; আবু দাউদ, হা/২৪৪৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৬২১; মুসনাদে আহমাদ, হা/৬২৯২; বায়হাকী, হা/৮১৯৫; মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইba, হা/৯৪৪৭; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৩৫৩১।
২৩৭ সহীহ বুখারী, হা/১৯৮৭; সহীহ মুসলিম, হা/১৮৬৫; আবু দাউদ, হা/১৩৭২; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/১২৮১; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৬৪৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৬০৩; বায়হাকী, হা/৮২৫৫।
২৩৮ ইবনে মাজাহ, হা/৪২৩৮; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/১২৮২; মুসনাদে আবু ই'আলা, হা/৪৬৫১; বায়হাকী, হা/৪৫১৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/৯৩৩।
২০৯ মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/৪১৯; সহীহ বুখারী, হা/৬৪৬৫; সহীহ মুসলিম, হা/১৮৬৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩২৩; মুসnaদে আহমাদ, হা/২৪০৮৯; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/১২৮৩; বায়হাকী, হা/৪৩৪২।
২৪০ আবু দাউদ, হা/৮৭৩; সুনানে নাসাঈ, হা/১১৩২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪০২৬; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৪৫৪০; বায়হাকী, হা/৩৫০৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/৯১২;।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00