📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর রাত্রে গল্প বলা
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : جَلَسَتْ إِحْدَى عَشْرَةَ امْرَأَةٌ فَتَعَاهَدْنَ وَتَعَاقَدْنَ أَنْ لَا يَكْتُمْنَ مِنْ أَخْبَارِ أَزْوَاجِهِنَّ شَيْئًا : فَقَالَتِ الْأُولَى : زَوْجِي لَحْمُ جَمَلٍ غَةٍ عَلَى رَأْسِ جَبَلٍ وَعْرٍ ، لَا سَهْلٌ فَيُرْتَقُى ، وَلَا سَمِينٌ فَيُنْتَقَلُ . قَالَتِ الثَّانِيَةُ : زَوْجِي لَا أَبُثُ خَبَرَهُ ، إِنِّي أَخَافُ أَنْ لَا آذَرَهُ ، إِنْ أَذْكُرْهُ اذْكُرْ عُجَرَةً وَبُجَرَةً . قَالَتِ الثَّالِثَةُ : زَوْجِي العَشَنَقُ ، إِنْ اَنْطِقُ أَطَلَّقْ . وَإِنْ أَسْكُتُ أُعَلَّق . قَالَتِ الرَّابِعَةُ : زَوْجِي كَلَيْلِ تِهَامَةَ ، لَا حَلٌّ وَلَا قُرٌّ ، وَلَا مَخَافَةَ وَلَا سَامَةَ ، قَالَتِ الْخَامِسَةُ : زَوْجِيْ إِنْ دَخَلَ فَهِدَ ، وَإِنْ خَرَجَ أَسِدَ ، وَلَا يَسْأَلُ عَمَّا عَهِدَ . قَالَتِ السَّادِسَةُ : زَوْجِيْ إِنْ أَكَلَ لَفَ ، وَإِنْ شَرِبَ اشْتَفَّ ، وَإِنِ اضْطَجَعَ التَّفَ ، وَلَا يُولِجُ الْكَفَّ لِيَعْلَمَ الْبَثَ . قَالَتِ السَّابِعَةُ : زَوْجِي عَيَايَاءُ أَوْ غَيَايَاءُ طَبَاقَاءُ كُلُّ دَاءٍ لَهُ دَاءٌ ، شَجَكِ أَوْ فَلَكِ أَوْ جَمَعَ كُلَّا لَكِ . قَالَتِ الثَّامِنَةُ : زَوْجِيِّ الْمَسُّ مَسُّ أَرْنَبِ وَالرِّيحُ رِيحُ زَرْنَبٍ . قَالَتِ التَّاسِعَةُ : زَوْجِي رَفِيعُ الْعِمَادِ طَوِيلُ النِّجَادِ عَظِيمُ الرَّمَادِ قَرِيبُ الْبَيْتِ مِنَ النَّادِ . قَالَتِ الْعَاشِرَةُ : زَوْجِي مَالِكٌ وَمَا مَالِكَ مَالِكٌ خَيْرٌ مِنْ ذَلِكِ ، لَهُ إِبِلَّ كَثِيرَاتُ الْمَبَارِكِ ، قَلِيْلَاتُ الْمَسَارِحِ . إِذَا سَمِعْنَ صَوْتَ الْمِزْهَرِ أَيْقَنَّ أَنَّهُنَّ هَوَالِكَ . قَالَتِ الْحَادِيَةَ عَشْرَةَ : زَوْجِيْ أَبُو زَرْعٍ وَمَا أَبُو زَرْعٍ ؟ أَنَاسَ مِنْ حُلِي أُذُنَ . وَمَلَا مِنْ شَحْمٍ عَضُدَيَّ ، وَبَجَّحَنِي فَبَجَحَتْ إِلَيَّ نَفْسِي ، وَجَدَنِيزُ فِي أَهْلِ غُنَيْمَةٍ بِشِقٍ فَجَعَلَنِي فِي أَهْلِ صَهِيْلٍ وَأَطِيطٍ وَدَائِسٍ وَمُنَةٍ ، فَعِنْدَهُ أَقُولُ فَلَا أُقَبَّحُ ، وَأَرْقُدُ فَأَتَصَبَحُ وَأَشْرَبُ فَأَتَقَبَّحُ . أُم أَبِي زَرْعٍ فَمَا أُم أَبِي زَرْعٍ ، عُلُوْمُهَا رَدَاحٌ ، وَبَيْتُهَا فَسَاحٌ . ابْنُ أَبِي زَرْعٍ ، فَمَا ابْنُ أَبِي زَرْعٍ . مَضْجَعُهُ كَمَسَلِ شَطْبَةٍ ، وَتُشْبِعُهُ ذِرَاعُ الْجَفْرَةِ ، بِنْتُ أَبِي زَرْعٍ ، فَمَا بِئْتُ أَبِي زَرْعٍ ، طَوْعُ أَبِيْهَا وَطَوْعُ أُمِّهَا ، مِلْءُ كِسَائِهَا ، وَغَيْظُ جَارَتِهَا ، جَارِيَةُ أَبِي زَرْعٍ ، فَمَا جَارِيَةً أَبِي زَرْعٍ ، لَا تَبْثُ حَدِيثَنَا تَبْثِيْنَا ، وَلَا تُنَقِّتُ مِيْرَتَنَا تَنْقِيْنَا ، وَلَا تَمْلَأُ بَيْتَنَا تَعْشِيشًا ، قَالَتْ : خَرَجَ أَبُو زَرْعٍ وَالْأَوْطَابُ تُمْخَضُ ، فَلَقِيَ امْرَأَةٌ مَعَهَا وَلَدَانِ لَهَا كَالْفَهْدَيْنِ ، يَلْعَبَانِ مِنْ تَحْتِ خَصْرِهَا بِرُمَّانَتَيْنِ . فَطَلَّقَنِي وَنَكَحَهَا ، فَنَكَحْتُ بَعْدَهُ رَجُلًا سَرِيًّا ، رَكِبَ شَرِيًّا ، وَأَخَذَ خَطِيًّا ، وَأَرَاحَ عَلَيَّ نَعَمَّا ثَرِيًّا .
وَأَعْطَانِي مِنْ كُلِّ رَائِحَةٍ زَوْجًا ، وَقَالَ : كُلِي أُمَّ زَيْعٍ ، وَمِيْرِي أَهْلَكِ ، فَلَوْ جَمَعْتُ كُلَّ شَيْءٍ أَعْطَانِيهِ . مَا بَلَغَ أَصْغَرَ انِيَةِ أَبِي زَرْعٍ ، قَالَتْ عَائِشَةُ : فَقَالَ لِي رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ : كُنْتُ لَكِ كَابِي زَرْعٍ لِأُمِّ زَرْعٍ
১৮৮. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার ১১ জন মহিলা এ মর্মে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলো যে, তারা তাদের নিজ নিজ স্বামী সম্পর্কে সব খুলে বলবে এবং কোন কিছুই গোপন করবে না।
প্রথম মহিলা বলল, আমার স্বামী অলস, অকর্মণ্য, দুর্বল উটের গোশততুল্য, তা আবার পর্বত চূড়ায় সংরক্ষিত; যা ধরাছোঁয়া দুঃসাধ্য। তার আচরণ রুক্ষ। ফলে তার কাছে যাওয়া যায় না। সে স্বাস্থ্যবানও নয়, আর তাকে ত্যাগও করতে পারছি না।
দ্বিতীয় মহিলা বলল, আমার স্বামী এমন যে, আমি আশংকা করছি, তার দোষত্রুটি বর্ণনা করে শেষ করতে পারব না। আর আমি যদি বর্ণনা করে দেই, তাহলে কেবল দোষত্রুটিই বর্ণনা করব।
তৃতীয় মহিলা বলল, আমার স্বামী দীর্ঘদেহ বিশিষ্ট, দেখতে কদাকার। আমি কথা বললে (উত্তরে আসে) তালাক। আর নীরব থাকলে সে তো ঝুলন্ত রশি (অর্থাৎ কিছু চাইলে বদ মেজাজের সম্মুখীন হতে হয় এবং নীরব থাকলে হতে হয় বঞ্চিত)।
চতুর্থ মহিলা বলল, আমার স্বামী তিহামার রাত্রির ন্যায়- না (প্রচণ্ড) গরম, আর না (প্রচণ্ড) ঠাণ্ডা। তার থেকে কোন ভয়-ভীতি কিংবা অস্বস্তির কারণ নেই।
পঞ্চম মহিলা বলল, আমার স্বামী ঘরে এলে মনে হয় চিতাবাঘ আর বাইরে বের হলে সে হয় সাহসী সিংহ। বাড়িতে কি ঘটল সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে না।
ষষ্ঠ মহিলা বলল, আমার স্বামী যখন খায়, তৃপ্তি ভরে খায়। আর পান করলে সব সাবাড় করে দেয় এবং কোন কিছু অবশিষ্ট রাখে না। আর যখন ঘুমাতে চায়, চাদর দেহে জড়িয়ে দেয়। আমার কোন বিপদাপদ আছে কি না তা হাত বাড়িয়েও দেখে না।
সপ্তম মহিলা বলল, আমার স্বামী অক্ষম, কথা বলতে পারে না, সব ধরনের রোগে আক্রান্ত। সে আমার মস্তক চূর্ণ করতে পারে অথবা মারধোর করে হাড়গোড় সব ভেঙ্গে দিতে পারে বা উভয়টিও করতে পারে।
অষ্টম মহিলা বলল, আমার স্বামীর পরশ খরগোশের ন্যায় কোমল। (তার ব্যবহৃত সুগন্ধি) জাফরানের সুগন্ধির ন্যায়।
নবম মহিলা বলল, আমার স্বামী উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ, দীর্ঘ দেহবিশিষ্ট, তার বৈঠকখানা ঘরের নিকটবর্তী।
দশম মহিলা বলল, আমার স্বামী হলো আমার মালিক। মালিকের প্রশংসা কী আর করব (উপরে বর্ণিত সকলের প্রশংসা একত্র করলেও তার গুণ গেয়ে
শেষ করা যাবে না)। তার রয়েছে অসংখ্য উট, অধিকাংশ সময় সেগুলো বাধাই থাকে। খুব কমই মাঠে চরানো হয়। এসব উট যখন বাদ্যের ঝংকার শোনে, তখন তারা নিশ্চিত হয়ে যায় যে, তাদেরকে যবেহ করা হবে।
একাদশ মাহিলা উম্মে যার'আ বলল, আমার স্বামী আবু যার'আ। আবু যার'আর কী আর প্রশংসা করব, সে তো অলংকার দিয়ে আমার দু'কান ভর্তি করে দিয়েছে, উপাদেয় খাবার খাইয়ে দু'বাহু চর্বিযুক্ত করে দিয়েছে। আমাকে খুবই স্বাচ্ছন্দ্যে রেখেছে। ফলে আমি আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছি। আমি ছিলাম বকরী রাখালের কন্যা, খুব দুঃখ-কষ্টের মধ্যে দিন অতিবাহিত করতে হতো। আমি এখন অসংখ্য ঘোড়া, উট ও বকরী পালের মধ্যে তথা পর্যাপ্ত ধন-সম্পদের মধ্যে আছি। আমি তাকে কিছু বললেও আমাকে মন্দ বলত না। সারাক্ষণ নিদ্রায় কাটালেও কিছুই বলত না। পর্যাপ্ত খাওয়ার পরও খাবার অবশিষ্ট থাকত।
উম্মে আবু যার'আর (একাদশ মহিলার শাশুড়ির) প্রশংসাই বা কি করব! তার বড় বড় পাত্রগুলো সর্বদা খানায় পরিপূর্ণ থাকতো। আর তার বাড়ির সীমানা সুবিশাল। ইবনে আবু যার'আ তরবারির ন্যায় সূক্ষ্ম, বকরীর একটি উরুর গোশত তার জন্য যথেষ্ট। আবু যার'আর কন্যা সম্পর্কেই কী বলব! পিতামাতার অনুগত, সুস্বাস্থ্যের অধিকারিণী, স্বাস্থ্যবান সতীনদের অন্তর্জালার কারণ। আবু যার'আর পরিচারিকার কথাই বা কি বলব! সে ঘরের গোপন তথ্য ফাঁস করে না। আমাদের খাবার বিনা অনুমতিতে হাত দেয় না। বাড়িতে কখনো আবর্জনা জমা করে রাখে না। সে (একাদশ মহিলা) বলল, আমি এমনই সুখ শান্তি, আদর সোহাগ সমৃদ্ধির মধ্যে দিনকাল কাটাচ্ছিলাম। এমন সময় একবার আবু যার'আ বাইরে যান এবং দেখতে পান যে, স্বাস্থ্যবান দুটি শিশু তাদের মায়ের স্তন নিয়ে খেলা করছে। এরপর আবু যার'আ আমাকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করে ফেলেন।
এরপর আমি একজন বিত্তশালী উষ্ট্রারোহী ব্যক্তিকে বিয়ে করি। সেও আমাকে পর্যাপ্ত সামগ্রী জোড়ায় জোড়ায় দিয়েছিল। সে স্বামী বলল, উম্মে যার'আ! তৃপ্তি সহকারে খাও এবং ইচ্ছেমতো তোমার বাপের বাড়িতে পাঠাও। সে মহিলা বলল, তার দান-দক্ষিণার যাবতীয় বস্তু একত্র করলে আবু যার'আর সামান্যও হবে না। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বললেন, আবু যার'আ যেমন উম্মে যার'আর জন্য, আমিও ঠিক তদ্রুপ তোমার জন্য। (কিন্তু কখনো আবু যার'আর মতো তোমাকে তালাক দেব না।) ১৮৯
ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে বুঝা যায়- এশার পর প্রয়োজনীয় জাগতিক কথা বলা জায়েয। বিশেষত পরিবারের মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে তাদের সাথে বিশ্বাসগত সমস্যা মুক্ত গল্প ও কিচ্ছা কাহিনী বলা জায়েয। এটা পরিবারের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপনের অংশ।
হাদীসের শিক্ষা এ হাদীস থেকে অনেক শিক্ষা লাভ হয়। ১. স্ত্রী-পরিবারের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন করা। ২. আয়েশা (রাঃ) এর বিশেষ ফযীলত ও মর্যাদা স্পষ্ট হয়ে উঠে। ৩. রাতে এশার পর প্রয়োজনীয় আলোচনা করা ও পরিবারের মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে ত্রুটিমুক্ত গল্প করা বৈধ। ৪. অতীত জাতীসমূহের ত্রুটিমুক্ত কিচ্ছাকাহিনী বর্ণনা করা জায়েয। ৫. কোন অনির্দিষ্ট ব্যক্তি; শ্রোতা যাকে চিনে না, তার দোষ বলা গীবতের অন্তর্ভুক্ত নয়।
টিকাঃ
১৮৯ সহীহ বুখারী, হা/৫১৮৯; সহীহ মুসলিম, হা/৬৪৫৮; ইবনে হিব্বান, হা/৭১০৪; জামেউস সগীর, হা/১৪১।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর নিদ্রা
রাসূলুল্লাহ ডান হাত গালের নিচে রেখে শয্যা যেতেন এবং এ দু'আ পাঠ করতেন:
عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ له . أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ وَضَعَ كَفَّهُ الْيُمْنَى تَحْتَ خَدِهِ الْأَيْمَنِ ، وَقَالَ : رَبِّ قِنِي عَذَا بَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
১৮৯. বারা ইবনে আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ যখন শয্যা গ্রহণ করতেন তখন ডান হাত ডান গালের নিচে রাখতেন এবং বলতেন: رَبِّ قِنِي عَذَا بَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ "রাব্বি ক্বিনী 'আযাবাকা ইয়াওমা তাব্'আসু 'ইবা-দাক" অর্থাৎ হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে বাঁচিয়ে দিন সে দিনের আযাব থেকে যেদিন আপনার বান্দাদের পুনরুত্থিত করা হবে।১৯০
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ আল্লাহ কর্তৃক নিষ্পাপ হওয়া অবগত সত্ত্বেও আল্লাহ তা'আলার দাসত্ব ও বিনয় প্রকাশ এবং উম্মতকে শিক্ষা দান করার নিমিত্তে এসব দু'আ করতেন।
নিদ্রায় যাওয়া এবং নিদ্রা থেকে উঠার সময় এ দু'আ পাঠ করতেন:
عَنْ حُذَيْفَةَ ، قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أَوَى إِلى فِرَاشِهِ قَالَ : اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوْتُ وَأَحْيَا ، وَإِذَا اسْتَيْقَظَ قَالَ : الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَمَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ
১৯০. হুযায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী যখন শোয়ার জন্য বিছানায় আসতেন তখন বলতেন: اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوْتُ وَأَحْيَا "আল্ল-হুম্মা বিস্মিকা আমৃতু ওয়া আহ্ইয়া" অর্থাৎ হে আল্লাহ! তোমার নামেই মৃত্যুলাভ (নিদ্রা) করছি এবং তোমার নামেই জীবিত (জাগ্রত) হব।) অতঃপর আবার যখন নিদ্রা ভঙ্গ করতেন তখন বলতেন, الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ "আলহাম্দু লিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়ানা- বা'দা মা- আমা-তানা- ওয়া ইলায়হিন্ নুশূর” অর্থাৎ সকল প্রশংসা আল্লাহর! যিনি মৃত্যুর পর জীবন দিয়েছেন আর তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। ১৯১
নিদ্রা যাওয়ার পূর্বে সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস পাঠ করতেন:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا أَوَى إِلى فِرَاشِهِ كُلَّ لَيْلَةٍ جَمَعَ كَفَّيْهِ فَنَفَثَ فِيهِمَا . وَقَرَا فِيهِمَا قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ وَقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ وَقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ثُمَّ مَسَحَ بِهِمَا مَا اسْتَطَاعَ مِنْ جَسَدِهِ . يَبْدَأُ بِهِمَا رَأْسَهُ وَوَجْهَهُ وَمَا أَقْبَلَ مِنْ جَسَدِهِ يَصْنَعُ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ
১৯১. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী যখন শোয়ার জন্য বিছানায় যেতেন তখন দু'হাত মিলিয়ে সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস পাঠ করতেন। তারপর ফুঁ দিয়ে যথাসম্ভব মাথা থেকে পা পর্যন্ত সারা শরীরে তিনবার হাত বুলিয়ে দিতেন। তারপর মুখমণ্ডল ও শরীরের সামনের অংশেও অনুরূপ বুলাতেন।১৯২
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ نَامَ حَتَّى نَفَخَ ، وَكَانَ إِذَا نَامَ نَفَخَ فَأَتَاهُ بِلَالٌ فَأْذَنَهُ بِالصَّلَاةِ ، فَقَامَ وَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأُ وَفِي الْحَدِيثِ قِضَةٌ
১৯২. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার রাসূলুল্লাহ নিদ্রায় গেলেন এমনকি তাঁর নাক ডাকতে আরম্ভ করে। আর যখন তিনি নিদ্রা যেতেন তখন নাক ডাকতেন। অতঃপর বিলাল (রাঃ) এসে তাঁকে সালাতের প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ জানান। তারপর তিনি দাঁড়ালেন এবং সালাত আদায় করলেন; কিন্তু ওযু করলেন না। হাদীসে আরো ঘটনা রয়েছে।১৯৩
ব্যাখ্যা: এতে বুঝা গেল যে, যখন রাসূলুল্লাহ গভীর ঘুমে যেতেন তখন গলা থেকে আওয়াজ বের হতো। আর নবীগণের বৈশিষ্ট্য হলো, ঘুমের কারণেও তাঁদের ওযু নষ্ট হয় না। তাই রাসূলুল্লাহ ঘুম থেকে উঠে ওযু না করেই নামায আদায় করেছেন। এর কারণ হিসেবে রাসূলুল্লাহ বলেছেন, নবীদের চোখ ঘুমায়, অন্তর ঘুমায় না।১৯৪
রাসূলুল্লাহ শয্যা গ্রহণকালে এ দু'আটিও পাঠ করতেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ قَالَ : الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَأَوَانَا ، فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مُؤْوِي
১৯৩. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ যখন শয্যা গ্রহণ করতেন তখন (নিম্নোক্ত দু'আ) পাঠ করতেন:
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَأَوَانَا ، فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مُؤْوِي "আলহাম্দু লিল্লা-হিল্লাযী আত্ম'আমানা- ওয়াসাক্বা-না- ওয়াকাফা-না- ওয়া আ-ওয়া-না- ফাকাম্ মিম্মান্ লা- কা-ফিয়া লাহু ওয়ালা- মু'বী" অর্থাৎ সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের আহার করান ও পান করান। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনিই নিদ্রা যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এমন অনেক লোক রয়েছে যাদের কোন যথেষ্টকারী নেই এবং কোন আশ্রয়দাতাও নেই। ১৯৫
তিনি ডান কাতে বিশ্রাম নিতেন:
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ إِذَا عَرَّسَ بِلَيْلٍ اضْطَجَعَ عَلَى شِقِّهِ الْأَيْمَنِ . وَإِذَا عَرَّسَ قُبَيْلَ الصُّبْحِ نَصَبَ ذِرَاعَةً ، وَوَضَعَ رَأْسَهُ عَلَى كَقِهِ
২৯৪. আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সফরে) যখন রাতে বিশ্রাম নিতেন তখন ডান কাতে বিশ্রাম নিতেন। আর যদি ভোর হওয়ার উপক্রম হতো তাহলে ডান হাত দাঁড় করে হাতের তালুর উপর মাথা রাখতেন। ১৯৬
ব্যাখ্যা: রাত্রিকালীন সফরে কোথাও যাত্রা বিরতি করলে, সময় বেশি থাকলে শুয়ে ঘুমাতেন। আর রাসূলুল্লাহ এর অভ্যাস ছিল, তিনি ডান কাতে শুতেন। সময় কম থাকলে কনুই খাড়া করে হাতের তালুতে মাথা রেখে অল্প কিছুক্ষণ আরাম করে নিতেন।
টিকাঃ
১৯০ আবু দাউদ, হা/৫০৪৭; ইবনে মাজাহ, হা/৩৮৭৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৬৫৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৩১০; শু'আবুল ঈমান, হা/৪৩৮৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৫২২; সিলসিলা সহীহah, হা/২৭৫৪।
১৯১ সহীহ বুখারী, হা/৬৩১২; আবু দাউদ, হা/৫০৫১; আদাবুল মুফরাদ, হা/১২০৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৩১৯; শু'আবুল ঈমান, হা/৪৩৮৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৫৩৯।
১৯২ সহীহ বুখারী, হা/৫০১৭; আবু দাউদ, হা/৫০৫৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৮৯৭।
১৯৩ সহীহ মুসলিম, হা/১৮২৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩১৯৪; আদাবুল মুফরাদ, হা/৬৯৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৬৩৬; বায়হাকী, হা/১৩১৬৩।
১৯৪ মুয়াত্তা মালেক, হা/২৬৩; সহীহ বুখারী, হা/১১৪৭; সহীহ মুসলিম, হা/১৭৫৭।
১৯৫ সহীহ মুসলিম, হা/৭০৬৯; আবু দাউদ, হা/৫০৫৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৫৭৪; আদাবুল মুফরাদ, হা/১২০৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৫৪০।
১৯৬ সহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৬৮৫; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৬৩১; বায়হাকী, হা/১০১২৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৩৫৯; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/২৫৫৮।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর ইবাদাত
ইবাদাতের শাব্দিক অর্থ দাসত্ব বা গোলামী প্রকাশ করা। আর শরীয়তের পরিভাষায় ইবাদাত হলো প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে এমন কথা ও কাজের নাম, যা দ্বারা আল্লাহ তা'আলা খুশি হন এবং সন্তুষ্ট থাকেন।
সালাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানোর কারণে রাসূলুল্লাহ এর পা ফুলে যেত:
عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ ، قَالَ : صَلَّى رَسُولُ اللهِ ﷺ حَتَّى انْتَفَخَتْ قَدَمَاهُ فَقِيلَ لَهُ : أَتَتَكَلَّفُ هُذَا وَقَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّرَ ؟ قَالَ : أَفَلَا أَكُوْنُ عَبْدًا شَكُورًا
১৯৫. মুগীরা ইবনে শু'বা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন যে, তাঁর পা ফুলে যেত। তাঁকে বলা হলো, আপনি এত কষ্ট করছেন অথচ আল্লাহ তা'আলা আপনার পূর্বাপর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি বললেন, আমি কি শোকরিয়া আদায়কারী বান্দা হব না?১৯৭
রাসূলুল্লাহ ﷺ রাতের প্রথমাংশে ঘুমাতেন এবং সাহরীর পূর্ব পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন:
عَنِ الْأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ : سَأَلْتُ عَائِشَةَ ، عَنْ صَلَاةِ رَسُولِ اللهِ ﷺ بِاللَّيْلِ ؟ فَقَالَتْ : كَانَ يَنَامُ أَوَّلَ اللَّيْلِ ثُمَّ يَقُومُ ، فَإِذَا كَانَ مِنَ السَّحَرِ أَوْتَرَ ، ثُمَّ أَتَى فِرَاشَهُ ، فَإِذَا كَانَ لَهُ حَاجَةٌ أَلَم بِأَهْلِهِ ، فَإِذَا سَمِعَ الْآذَانَ وَثَبَ ، فَإِنْ كَانَ جُنُبًا أَفَاضَ عَلَيْهِ مِنَ الْمَاءِ ، وَإِلَّا تَوَضَّأَ وَخَرَجَ إِلَى الصَّلَاةِ
১৯৬. আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ) এর কাছে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর তাহাজ্জুদ সালাত (রাতের সালাত) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তিনি রাতের প্রথমাংশে ঘুমাতেন। তারপর সালাতে দাঁড়াতেন এবং সাহরীর পূর্বক্ষণে বিতর আদায় করতেন। এরপর প্রয়োজন মনে করলে বিছানায় আসতেন। তারপর আযানের শব্দ শুনে জেগে উঠতেন এবং অপবিত্র হলে সর্বাগ্রে পানি বইয়ে গোসল করে নিতেন নতুবা ওযু করতেন। তারপর সালাত আদায় করতেন। ১৯৮
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ ﷺ এশার নামাযের পর রাতের প্রথমভাগে ঘুমাতেন। এরপর ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদ ও বিতর আদায় করতেন। এটাই তাহাজ্জুদ এবং বিতরের উত্তম সময়। এরপর আগ্রহ হলে স্ত্রী গমন করতেন।
তিনি রাতের শেষ অর্ধাংশেও সালাত আদায় করতেন:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ هُ ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ بَاتَ عِنْدَ مَيْمُونَةً وَهِيَ خَالَتُهُ قَالَ : فَاضْطَجَعْتُ فِي عَرْضِ الْوِسَادَةِ ، وَاضْطَجَعَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فِي طُولِهَا ، فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حَتَّى إِذَا انْتَصَفَ اللَّيْلُ أَوْ قَبْلَهُ بِقَلِيلٍ أَوْ بَعْدَهُ بِقَلِيلٍ ، فَاسْتَيْقَظَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَجَعَلَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ ، ثُمَّ قَرَا الْعَشْرَ الْآيَاتِ الْخَوَاتِيمَ مِنْ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ ، ثُمَّ قَامَ إِلَى شَيْ مُعَلَّقٍ فَتَوَضَّأَ مِنْهَا ، فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبَّاسٍ : فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَوَضَعَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رَأْسِي ثُمَّ أَخَذَ بِأُذُنِي الْيُمْنَى فَفَتَلَهَا فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ قَالَ مَعْنَ : سِتَ مَرَّاتٍ ثُمَّ أَوْتَرَ ، ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى جَاءَهُ الْمُؤَذِّنُ فَقَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ ، ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ
১৯৭. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার তিনি তাঁর খালা মায়মূনা (রাঃ)-এর গৃহে রাত্রিযাপন করেন। তিনি বলেন, তিনি মায়মূনা (রাঃ) এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বালিশের লম্বা দিকে ঘুমান আর আমি প্রস্থের দিকে ঘুমাই। রাসূলুল্লাহ ﷺ অর্ধ রাত কিংবা তার কিছুক্ষণ পূর্ব পর্যন্ত ঘুমালেন। তারপর তিনি জাগ্রত হন এবং মুখমণ্ডল মুছে ঘুমের জড়তা দূর করেন। তারপর তিনি সূরা আলে ইমরানের শেষ ১০ আয়াত তিলাওয়াত করেন। এরপর তিনি ঝুলন্ত পানির মশকের কাছে যান এবং উত্তমরূপে ওযূ করেন। এরপর সালাতে দাঁড়ান। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি তাঁর পার্শ্বে দাঁড়ালাম। তিনি আমার মাথার উপর ডান হাত রাখলেন, এরপর তিনি আমার ডান কান ধরে একটু মললেন (এতে আমি তাঁর ডান পাশে এসে দাঁড়ালাম)। অতঃপর ২ রাক'আত সালাত আদায় করলেন, তারপর ২ রাক'আত সালাত আদায় করলেন, তারপর ২ রাক'আত সালাত আদায় করলেন, তারপর ২ রাক'আত সালাত আদায় করলেন। মা'নের বর্ণনা মতে তিনি ২ রাক'আত করে ৬ বার (১২ রাক'আত) সালাত আদায় করেন। এরপর বিতর সালাত আদায় করেন। এরপর আরাম করেন। এরপর তাঁর কাছে মুয়াযযিন এল। তখন তিনি সংক্ষেপে ২ রাক'আত সালাত আদায় করেন। এরপর মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হন এবং ফজরের সালাত আদায় করেন।
ব্যাখ্যা: আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) ওযু করে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বাম পার্শ্বে দাঁড়ালেন। অথচ নিয়ম হলো মুক্তাদী একা হলে ইমামের ডানে দাঁড়াবে। এজন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ কান ধরে তাকে ডান দিকে দাঁড় করিয়ে দিলেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংখ্যায় তাহাজ্জুদের নামায আদায় করেছেন। সময় হিসেবে কখনো বেশি পড়েছেন। আবার কখনো কম পড়েছেন। তবে ১৩ রাক'আতের বেশি হয়নি, যা বিভিন্ন হাদীস থেকে জানা যায়।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ ثَلَاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً
১৯৮. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ (তাহাজ্জুদ ও বিতরসহ কখনো কখনো) রাত্রে ১৩ রাক'আত সালাত আদায় করতেন।
রাত্রে তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করতে না পারলে দিনে তা আদায় করে নিতেন:
عَنْ عَائِشَةَ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ إِذَا لَمْ يُصَلِّ بِاللَّيْلِ مَنَعَهُ مِنْ ذَلِكَ النَّوْمُ ، أَوْ غَلَبَتْهُ عَيْنَاهُ صَلَّى مِنَ النَّهَارِ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً
১৯৯. আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। যদি কখনো নবী নিদ্রা বা প্রবল ঘুমের চাপের কারণে তাহাজ্জুদ আদায় করতে না পারতেন, তাহলে তিনি দিনে (চাশতের সময়) ১২ রাক'আত সালাত আদায় করে নিতেন। ২০১
ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয় যে, কারণবসত রাতের নফল ইবাদাত আদায় করতে সমর্থ না হলে তৎপরিমাণ ইবাদাত দিনের বেলায় করে নেয়া যায়।
রাসূলুল্লাহ রাতের সালাত দু'রাক'আত করে আদায় করতেন:
عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِي له . أَنَّهُ قَالَ : لَأَرْمُقَنَّ صَلَاةَ النَّبِيِّ ﷺ فَتَوَسَّدْتُ عَتَبَتَهُ ، أَوْ فُسْطَاطَهُ فَصَلَّى رَسُولُ اللهِ ﷺ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ طَوِيلَتَيْنِ ، طَوِيلَتَيْنِ . طَوِيلَتَيْنِ ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُمَا دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُمَا دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُمَا دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُمَا دُونَ اللَّتَيْنِ قَبْلَهُمَا ، ثُمَّ أَوْتَرَ فَذَلِكَ ثَلَاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً
২০০. যায়েদ ইবনে খালিদ আল জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার রাসূলুল্লাহ এর সালাত গভীর মনোযোগ সহকারে লক্ষ্য করার ইচ্ছা করলাম। তাই আমি তাঁর বাড়ি অথবা তাঁবুর চৌকাঠের উপর মাথা ঠেস দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। রাসূলুল্লাহ প্রথমে সংক্ষেপে ২ রাক'আত সালাত আদায় করলেন। এরপর দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে ২ রাক'আত সালাত আদায় করলেন। এরপর তদপেক্ষা সংক্ষেপে ২ রাক'আত, এরপর তার চেয়ে সংক্ষেপে আরো ২ রাক'আত এবং তার চেয়ে সংক্ষেপে আরো ২ রাক'আত সালাত আদায় করলেন। এরপর সংক্ষেপে আরো ২ রাক'আত সালাত আদায় করলেন। তারপর বিতর আদায় করেন। এভাবে ১৩ রাক'আত সালাত আদায় করেন। ২০২
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে 'ঘর অথবা তাঁবুর চৌকাঠের উপর মাথা রেখে শুয়ে থাকার কথা' বলা হয়েছে। বর্ণনাকারীর সন্দেহ হয়ে গেছে সাহাবী যায়েদ (রাঃ) ঘর শব্দ বলেছেন না তাঁবু শব্দ বলেছেন। এটা হচ্ছে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের অধিক সতর্কতার পরিচয়। তাঁরা সামান্য একটু সন্দেহ হলেও
তা প্রকাশ করেছেন। তবে এখানে ঘর শব্দ না হয়ে তাঁবু শব্দটিই হবে। কারণ মুহাদ্দিসগণের মতে এটা কোন এক সফরের ঘটনা ছিল। তখন তাঁর সাথে স্ত্রীদের কেউ ছিলেন না। এজন্য যায়েদ ইবনে খালেদ রাসূলুল্লাহ এর রাতের আমল পর্যবেক্ষণ করেছেন।
রাসূলুল্লাহ রমাযান মাসে ১১ রাক'আত তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতেন:
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ . كَيْفَ كَانَتْ صَلَاةُ رَسُوْلِ اللَّهِ ﷺ فِي رَمَضَانَ ؟ فَقَالَتْ : مَا كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لِيَزِيدَ فِي رَمَضَانَ وَلَا فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً ، يُصَلِّي أَرْبَعًا لَا تَسْأَلُ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا لَا تَسْأَلُ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ، ثُمَّ يُصَلِّي ثَلَاثًا ، قَالَتْ عَائِشَةُ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ ، أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوْتِرَ ؟ فَقَالَ : يَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَيَّ تَنَامَانِ وَلَا يَنَامُ قَلْبِي
২০১. আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আয়েশা (রাঃ) এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন, রাসূলুল্লাহ রমযান মাসে কত রাক'আত তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ রমাযান অথবা অন্য সময় ১১ রাক'আতের বেশি আদায় করতেন না। প্রথমে ৪ রাক'আত আদায় করতেন। কী রকম একাগ্রতা নিয়ে ও দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতেন সে বিষয়ে তুমি জিজ্ঞেস করো না। তারপর আবার ৪ রাক'আত আদায় করেন। তবে এর একাগ্রতা ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। এরপর ৩ রাক'আত আদায় করতেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বিতর আদায়ের পূর্বে কি নিদ্রা যান? তিনি বললেন, আমার চোখ নিদ্রা যায় কিন্তু অন্তর নিদ্রা যায় না।২০০
তিনি ১ রাক'আত বিতর আদায় করতেন:
عَنْ عَائِشَةَ : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يُؤْتِرُ مِنْهَا بِوَاحِدَةٍ . فَإِذَا فَرَغَ مِنْهَا اضْطَجَعَ عَلَى شِقِّهِ الْأَيْمَنِ
২০২. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ রাত্রে ১১ রাক'আত সালাত আদায় করতেন, যার মধ্যে ১ রাক'আত হতো বিতর। যখন সালাত শেষে করতেন তখন তিনি ডান কাতে আরাম করতেন। ২০৪
কখনো কখনো তিনি রাতে ৯ রাক'আত সালাত আদায় করতেন:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ تِسْعَ رَكَعَاتٍ
২০৩. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ রাত্রে ৯ রাক'আত সালাত আদায় করতেন। ২০৫
রাসূলুল্লাহ এর এক রাতের সালাতের বিবরণ:
عَنْ حُذَيْفَةَ بْنِ الْيَمَانِ ، أَنَّهُ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ ﷺ مِنَ اللَّيْلِ قَالَ : فَلَمَّا دَخَلَ فِي الصَّلَاةِ قَالَ : اللهُ أَكْبَرُ ذُو الْمَلَكُوْتِ وَالْجَبَرُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ قَالَ : ثُمَّ قَرَأَ الْبَقَرَةَ ، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعَهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ وَكَانَ يَقُولُ : سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ ، سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَكَانَ قِيَامُهُ نَحْوًا مِنْ رُكُوعِهِ ، وَكَانَ يَقُولُ : لِرَبِّيَ الْحَمْدُ لِرَبِّيَ الْحَمْدُ ثُمَّ سَجَدَ فَكَانَ سُجُودُهُ نَحْوا مِنْ قِيَامِهِ ، وَكَانَ يَقُولُ : سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى ، سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ ، فَكَانَ مَا بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ نَحْوًا مِنَ السُّجُودِ ، وَكَانَ يَقُولُ : رَبِّ اغْفِرْ لِي ، رَبِّ اغْفِرْ لِي حَتَّى قَرَأَ الْبَقَرَةَ وَأَلَ عِمْرَانَ وَالنِّسَاءَ وَالْمَائِدَةَ أَوِ الْأَنْعَامَ شُعْبَةُ الَّذِي شَكَ فِي الْمَائِدَةِ وَالْأَنْعَامِ
২০৪. হুযায়ফা ইবনে ইয়ামান (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি রাসূলুল্লাহ এর সঙ্গে রাত্রে সালাত আদায় করেন। তিনি বলেন, যখন তিনি সালাত আরম্ভ করলেন, তখন বললেন,
اللَّهُ أَكْبَرُ ذُو الْمَلَكُوْتِ وَالْجَبَرُوتِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْعَظَمَةِ "আল্ল-হু আকবার যুল মালাকৃতি ওয়াল জাবারূতি ওয়াল কিবরিয়া-য়ি ওয়াল 'আযামাহ্" অর্থাৎ আল্লাহ মহান, রাজাধিরাজ, অসীম শক্তির অধিকারী, বড়ত্ব ও মাহাত্ম্য তাঁরই জন্য।
তারপর তিনি (সূরা ফাতিহার পর) সূরা বাকারা তিলাওয়াত করেন। এরপর কিয়ামের ন্যায় দীর্ঘ রুকূ করেন। তিনি তাতে বলেন, سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ ، سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ "সুবহা-না রব্বিয়াল 'আযীম", "সুবহা-না রব্বিয়াল 'আযীম" অর্থাৎ আমার প্রভু পূত-পবিত্র ও মহান; আমার প্রভু পুত-পবিত্র ও মহান। তারপর মাথা উঠালেন এবং তাঁর কিয়াম রুকূ'র ন্যায় দীর্ঘ হলো। এরপর বললেন,
لِرَبِّيَ الْحَمْدُ ، لِرَبِّيَ الْحَمْدُ “লিরব্বিয়াল হাম্দ, লিরব্বিয়াল হাম্দ” অর্থাৎ সকল প্রশংসা আমার প্রভুর জন্য; সকল প্রশংসা আমার প্রভুর জন্য। তারপর তিনি সিজদা করলেন, আর তার সিজদা কিয়ামের মতো দীর্ঘ হলো। তিনি বললেন,
سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى ، سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى “সুবহা-না রব্বিয়াল আ'লা, সুবহা-না রব্বিয়াল আ'লা” অর্থাৎ আমার প্রভু পবিত্র ও মহান, আমার প্রভু পবিত্র ও মহান। তারপর মাথা উঠালেন (অর্থাৎ সিজদা হতে উঠে বসেন)। আর ২ সিজদার মধ্যকার সময় ছিল সিজদায় থাকা সময়ের ব্যবধানের মতো। এ সময় তিনি বলতেন,
رَبِّ اغْفِرْ لِي ، رَبِّ اغْفِرْ لِي "রব্বিগ্ ফিরলী", "রব্বিগ্ ফিরলী" অর্থাৎ হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করো; হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করো। এমনকি তিনি সূরা বাক্বারা, আলে ইমরান, নিসা, মায়েদা অথবা আনআম তিলাওয়াত করেন। বর্ণনাকারী সূরা মায়েদা না আনআম পর্যন্ত তিলাওয়াত করেছেন সে সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেন। ২০৬
রাসূলুল্লাহ ﷺ সালাতের মধ্যে একটি আয়াত বারবার তিলাওয়াত করতেন:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : قَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِأَيَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ لَيْلَةً
২০৫. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাতে রাসূলুল্লাহ ﷺ একটি আয়াত (পুনরাবৃত্তি করে) তিলাওয়াত করতে থাকেন।২০৭
ব্যাখ্যা: আয়াতটি ছিল:
﴿إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ﴾ (হে আল্লাহ!) তুমি যদি শাস্তি দিতে ইচ্ছা করো, তবে তারা তোমারই বান্দা। আর যদি তাদের ক্ষমা করে দাও, তাহলে তুমি তো মহা পরাক্রমশালী ও সর্বজ্ঞ। (সূরা আল মায়েদা- ১১৮)
উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা'আলার দুটি গুণ ইনসাফ ও মাগফিরাতের বর্ণনা করা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ এ দুটি গুণের প্রতি লক্ষ্য করেই বারবার আয়াতটি পাঠ করেন। কিয়ামত দিবসের পুরো অবস্থা এ দুটো গুণেরই বহিঃপ্রকাশ মাত্র।
রাসূলুল্লাহ দীর্ঘ সময় যাবৎ কিয়াম করতেন:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ له قَالَ : صَلَّيْتُ لَيْلَةً مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَلَمْ يَزَلْ قَائِمًا حَتَّى هَمَمْتُ بِأَمْرِ سُوْءٍ قِيلَ لَهُ : وَمَا هَمَمْتَ بِهِ ؟ قَالَ : هَمَمْتُ أَنْ أَقْعُدَ وَادَعَ النَّبِيَّ ﷺ
২০৬. আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ এর সাথে সালাত আদায় করি। তিনি এত দীর্ঘ (সময়) কিয়াম করেন যে, আমি একটি খারাপ কাজ করার সংকল্প করে বসি। তাকে বলা হলো আপনি কি করতে চেয়েছিলেন? তিনি বলেন, আমি নবী কে ছেড়ে বসে পড়ার ইচ্ছা করেছিলাম। ২০৮
বসে সালাত আদায় করলে তিলাওয়াতও বসে করতেন:
عَنْ عَائِشَةَ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يُصَلِّي جَالِسًا فَيَقْرَأُ وَهُوَ جَالِسٌ ، فَإِذَا بَقِيَ مِنْ قِرَاءَتِهِ قَدْرُ مَا يَكُونُ ثَلَاثِينَ أَوْ أَرْبَعِينَ آيَةً ، قَامَ فَقَرَا وَهُوَ قَائِمٌ ، ثُمَّ رَكَعَ وَسَجَدَ ، ثُمَّ صَنَعَ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ مِثْلَ ذَلِكَ
২০৭. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী বসে সালাত আদায় করলে তিলাওয়াতও বসে করতেন। যখন মাত্র ৩০ অথবা ৪০ আয়াত বাকী থাকত তখন দাঁড়িয়ে তিলাওয়াত করতেন তারপর রুকু ও সিজদা করতেন। এরপর তিনি দ্বিতীয় রাক'আতও অনুরূপভাবে আদায় করতেন। ২০৯
দাঁড়িয়ে কিরাআত পাঠ করলে রুকু-সিজদাও দাঁড়ানো অবস্থাতেই করতেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ قَالَ : سَأَلْتُ عَائِشَةَ ، عَنْ صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ عَنْ تَطَوُّعِهِ ، فَقَالَتْ : كَانَ يُصَلِّي لَيْلًا طَوِيلًا قَائِمًا ، وَلَيْلًا طَوِيلًا قَاعِدًا ، فَإِذَا قَرَا وَهُوَ قَائِمٌ رَكَعَ وَسَجَدَ وَهُوَ قَائِمٌ . وَإِذَا قَرَا وَهُوَ جَالِسٌ رَكَعَ وَسَجَدَ وَهُوَ جَالِسٌ
২০৮. আবদুল্লাহ ইবনে শাকীক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আয়েশা (রাঃ) এর কাছে রাসূলুল্লাহ এর নফল সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তিনি দীর্ঘ রাত্রি দাঁড়িয়ে কিংবা দীর্ঘ রাত্রি বসে সালাত আদায় করতেন। তিনি দাঁড়িয়ে কিরাআত পড়লে রুকু-সিজদাও
দাঁড়ানো অবস্থাতেই করতেন। আবার যখন কিরাআত বসে পড়তেন, তখন বসা অবস্থাতেই রুকু-সিজদা করতেন। ২১০
ব্যাখ্যা: সাধারণত রাসূলুল্লাহ ﷺ নফল নামায দাঁড়িয়ে আদায় করতেন। আবার কখনো কখনো বসেও আদায় করতেন। অধিকাংশ আলেমের মতে নফল নামায দাঁড়িয়ে, বসে, কিছু দাঁড়িয়ে কিছু বসে, সব অবস্থায় আদায় করা জায়েয। এমনকি বসে নামায শুরু করার পর দাঁড়িয়ে রুকু-সিজদা করা। এমনিভাবে দাঁড়িয়ে নামায শুরু করে বসে রুকু-সিজদা করাও বৈধ। তবে ফরয নামাযে দাঁড়ানোর শক্তি থাকলে বসে আদায় করা জায়েয নয়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ তারতীল সহকারে কিরাআত পাঠ করতেন:
عَنْ حَفْصَةَ ، زَوْجِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُصَلِّي فِي سُبْحَتِهِ قَاعِدًا وَيَقْرَأُ بِالسُّورَةِ وَيُرَتِّلُهَا حَتَّى تَكُونَ أَطْوَلَ مِنْ أَطْوَلَ مِنْهَا
২০৯. নবী এর স্ত্রী হাফসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ নফল সালাত বসে আদায় করতেন। তাতে তারতীল (তাজবীদ) সহকারে কিরাআত পাঠ করতেন। ফলে তা দীর্ঘ সূরার চেয়ে দীর্ঘতর মনে হতো। ২১১
নবীর মৃত্যুর পূর্বে অধিকাংশ নফল সালাত বসে আদায় করতেন:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ لَمْ يَمُتْ حَتَّى كَانَ أَكْثَرُ صَلَاتِهِ وَهُوَ جَالِسٌ
২১০. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী মৃত্যুর পূর্বে অধিকাংশ নফল সালাত বসে আদায় করেছেন। ২১২
রাসূলুল্লাহ এর ৮ রাক'আত সুন্নতের বর্ণনা:
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظُّهْرِ ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ فِي بَيْتِهِ ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ فِي بَيْتِهِ
২১১. ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে যোহরের পূর্বে ২ রাক'আত ও পরে ২ রাক'আত, মাগরিবের পর ঘরে ২ রাক'আত এবং এশার পরে তাঁর ঘরে ২ রাক'আত সালাত আদায় করেছি। ২১৩
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে যোহরের ফরযের পূর্বে ২ রাক'আত সুন্নতের কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু অন্যান্য হাদীস থেকে ৪ রাক'আত সুন্নতের প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন- জামে তিরমিযীতে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ বলেন, রাসূলুল্লাহ যোহরের পূর্বে ৪ রাক'আত এবং যোহরের পরে চার রাক'আত সুন্নত পড়তেন। এজন্য ৪ রাক'আত বা ২ রাক'আত উভয়ই আদায় করা জায়েয আছে। তাছাড়া এ হাদীসে ফজরের সুন্নতের কথা উল্লেখ করা হয় নাই, যা রাবীর অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
রাসূলুল্লাহর আযানের পর ২ রাক'আত সালাত আদায় করে নিতেন:
عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ : حَدَّثَتْنِي حَفْصَةُ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ حِينَ يَطْلُعُ الْفَجْرُ وَيُنَادِي الْمُنَادِي قَالَ أَيُّوبُ : وَأُرَاهُ قَالَ : خَفِيفَتَيْنِ
২১২. ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাফসা (রাঃ) আমাকে (এ মর্মে) হাদীস শোনান যে, সুবহে সাদিকের সময় যখন মুয়াযযিন আযান দিত, তখন রাসূলুল্লাহ ২ রাক'আত সালাত আদায় করে নিতেন। আইয়ূব বলেন, আমি মনে করি তিনি (خَفِيفَتَيْنِ) সংক্ষিপ্ত ২ রাক'আত) বলেছেন। ২১৪
রাসূলুল্লাহ এর ১০ রাক'আত সুন্নতের বিবরণ:
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : حَفِظْتُ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ ثَمَانِي رَكَعَاتٍ : رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظُّهْرِ ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ ، وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعِشَاءِ قَالَ ابْنُ عُمَرَ : وَحَدَّثَتْنِي حَفْصَةٌ بِرَكْعَتَيِ الْغَدَاةِ ، وَلَمْ أَكُنْ أَرَاهُمَا مِنَ النَّبِيِّ ﷺ
২১৩. ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ হতে ৮ রাক'আত স্মরণ রেখেছি- যোহরের পূর্বে ২ রাক'আত ও পরে ২ রাক'আত, ২ রাক'আত মাগরিবের পরে এবং ২ রাক'আত এশার পরে। ইবনে উমর (রাঃ) বলেন, হাফসা (রাঃ) আমার কাছে ফজরের ২ রাক'আতের খবর দিয়েছেন। অথচ আমি নবী কে তা আদায় করতে দেখিনি। ২১৫
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ قَالَ : سَأَلْتُ عَائِشَةَ ، عَنْ صَلَاةِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَتْ : كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ الظُّهْرِ رَكْعَتَيْنِ وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ ، وَبَعْدَ الْمَغْرِبِ رَكْعَتَيْنِ ، وَبَعْدَ الْعِشَاءِ رَكْعَتَيْنِ ، وَقَبْلَ الْفَجْرِ ثِنْتَيْنِ
২১৪. আবদুল্লাহ ইবনে শাকীক (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ) এর কাছে নবী ﷺ এর (নফল) সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তিনি যোহরের পূর্বে ২ রাক'আত এবং পরে ২ রাক'আত, মাগরিবের পরে ২ রাক'আত, এশার পরে ২ রাক'আত এবং ফজরের পূর্বে ২ রাক'আত সালাত আদায় করতেন। ২১৬
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর দিনের ১৬ রাক'আত নফল সালাতের বিবরণ:
عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ يَقُوْلُ : سَأَلْنَا عَلِيًّا ، عَنْ صَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مِنَ النَّهَارِ ، فَقَالَ : إِنَّكُمْ لَا تُطِيقُوْنَ ذَلِكَ قَالَ : فَقُلْنَا : مَنْ أَطَاقَ ذَلِكَ مِنَّا صَلَّى ، فَقَالَ : كَانَ إِذَا كَانَتِ الشَّمْسُ مِنْ هَاهُنَا كَهَيْئَتِهَا مِنْ هَاهُنَا عِنْدَ الْعَصْرِ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ، وَإِذَا كَانَتِ الشَّمْسُ مِنْ هَهُنَا كَهَيْئَتِهَا مِنْ هَاهُنَا عِنْدَ الظُّهْرِ صَلَّى أَرْبَعًا ، وَيُصَلِّي قَبْلَ الظُّهْرِ أَرْبَعًا ، وَبَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ ، وَقَبْلَ الْعَصْرِ أَرْبَعًا ، يَفْصِلُ بَيْنَ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ بِالتَّسْلِيمِ عَلَى الْمَلَائِكَةِ الْمُقَرَّبِينَ وَالنَّبِيِّينَ ، وَمَنْ تَبِعَهُمْ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ
২১৫. আসিম ইবনে যামরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আলী (রাঃ) এর কাছে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর দিনের (নফল) সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তোমরা সেভাবে আদায় করার ক্ষমতা রাখ না। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম, আমাদের মধ্যে যে সামর্থ্য রাখে সে আদায় করবে। এরপর তিনি বললেন, আসরের সময় সূর্য যতটা উপরে থাকে তেমন হলে তিনি ২ রাক'আত (ইশরাক সালাত) আদায় করতেন। আবার যোহরের সময় সূর্য যতটা উপরে থাকে (পূর্ব দিকে সূর্য ততটা উপর হলে) তিনি ৪ রাক'আত (চাশতের সালাত) আদায় করতেন। যোহরের পূর্বে ৪ রাক'আত ও পরে ২ রাক'আত এবং আসরের পূর্বে ৪ রাক'আত আদায় করতেন। প্রতি ২ রাক'আতে নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা, নবীগণ এবং যেসকল মুমিন-মুসলিম তাদের অনুসরণ করেছেন তাদের প্রতি সালাম প্রেরণের মাধ্যমে ব্যবধান করতেন। ২১৭
ব্যাখ্যা: নবী, ফেরেশতা এবং মুমিনদের প্রতি সালাম পাঠ করার অর্থ হলো, আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করা। কেননা, এতে তাদের প্রতি সালাম পাঠ করা হয়। অথবা সালামের অর্থ ২ রাক'আত পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করা। তখন উদ্দেশ্য হবে, রাসূলুল্লাহ আসরের পূর্বে ২ রাক'আত করে ৪ রাক'আত সালাত আদায় করতেন।
টিকাঃ
১৯৭ সহীহ মুসলিম, হা/৭৩০২; সুনানে নাসাঈ, হা/১৬৪৪; ইবনে মাজাহ, হা/১৪১৯; ইবনে খুযাইমা, হা/১১৮২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮২২৩; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/১১৮৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩১১; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৬১৯।
১৯৮ সুনানে নাসাঈ, হা/১৬৮০; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৪৭৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৫৯৩।
১৯৯ মুয়াত্তা মালেক, হা/২৬৫; সহীহ বুখারী, হা/১৮৩; সহীহ মুসলিম, হা/১৮২৫; আবু দাউদ, হা/১৩৬৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১৬৪; ইবনে খুযাইমা, হা/১৬৭৫।
২০০ সহীহ বুখারী, হা/১1৩৮; সহীহ মুসলিম, হা/১৮৩৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০১৯।
২০১ শারহুস সুন্নাহ, হা/৯৮৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৬৪৫।
২০২ মুয়াত্তা মালেক, হা/২৬৬; আবু দাউদ, হা/১৩৬৮; ইবনে মাজাহ, হা/১৩৬২।
২০৩ মুয়াত্তা মালেক, হা/২৬৩; সহীহ বুখারী, হা/১১৪৭; সহীহ মুসলিম, হা/১৭৫৭; আবু দাউদ, হা/১৩৪৩।
২০৪ মুয়াত্তা মালেক, হা/২৬২; সহীহ মুসলিম, হা/১৭৫১; আবু দাউদ, হা/১৩৩৭; সুনানে নাসাঈ, হা/১৬৯৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪১১৬; বায়হাকী, হা/৪৫৫১।
২০৫ সহীহ মুসলিম, হা/১৭৩৩; আবু দাউদ, হা/১২৫৩; সুনানে নাসাঈ, হা/১৭২৫; ইবনে মাজাহ, হা/১৩৬০; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪০৬৫; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/১১৬৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৬১৫।
২০৬ আবু দাউদ, হা/৮৭৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৪২৩।
২০৭ শারহুস সুন্নাহ, হা/৯১৪।
২০৮ সহীহ বুখারী, হা/১1৩৫; সহীহ মুসলিম, হা/১৮৫১; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৯৩৭; বায়হাকী, হা/৪৪৬০।
২০৯ মুয়াত্তা মালেক, হা/৩১১; সহীহ বুখারী, হা/১1১৯; সহীহ মুসলিম, হা/১৭৩৯; আবু দাউদ, হা/৯৫৫।
২১০ সহীহ মুসলিম, হা/১৭৩৬; আবু দাউদ, হা/৯৫৬; ইবনে মাজাহ, হা/১২২৮; ইবনে খুযাইমা, হা/১২৪৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬০৮১; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৬৩১।
২১১ মুয়াত্তা মালেক, হা/৩০৯; সহীহ মুসলিম, হা/১৭৪৬; সুনানে নাসাঈ, হা/১৬৫৮; ইবনে খুযাইমা, হা/১২৪২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৪৮৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৫০৮; দারেমী, হা/১৩৮৫।
২১২ সহীহ মুসলিম, হা/১৭৪৫; সুনানে নাসাঈ, হা/১৬৫২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৭৭৩; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/১২৩৯; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১১৮৪।
২১৩ মুসনাদে আহমাদ, হা/৪৫০৬; সহীহ ইবনে খুযাইma, হা/১১৯৭; মুসনাদুল বাযযার, হা/৫৮২৩।
২১৪ মুসনাদে আহমাদ, হা/৪৫০৬; শারহুস সুন্নাহ, হা/৮৬৭; মুসনাদে মুস্তাখরাজ 'আলাস সহীহাইন, হা/১৬৩৬।
২১৫ সহীহ বুখারী, হা/১১৮০; মুসনাদে ইসহাক ইবনে রাহওয়াই, হা/১৯৯৭; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা/৪৮২৪।
২১৬ শারহুস সুন্নাহ, হা/৮৭০।
২১৭ সুনানে নাসাঈ, হা/৮৭৪; ইবনে মাজাহ, হা/১১৬১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩৭৫; মুসনাদুল বাযযার, হা/৬৭৭; বায়হাকী, হা/৪৬৯৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/৮৯২; সিলসিলা সহীহাহ, হা/২৩৭।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর দোহার সালাত
(الضُّحى (দ্বোহা) অর্থ সকালবেলা বা দিনের প্রথম প্রহর। হাদীসে ইশরাক ও চাশত উভয় নামাযকে বুঝাতে 'সালাতুয দ্বোহা' শব্দ এসেছে। সূর্য উদয়ের সময় নিষিদ্ধ ওয়াক্তের পর হতে সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়কে দ্বোহা বলা হয়।
রাসূলুল্লাহ ৪ রাক'আত চাশতের সালাত আদায় করতেন:
عَنْ مُعَاذَةَ ، قَالَتْ : قُلْتُ لِعَائِشَةَ : أَكَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُصَلِّي الضُّحى ؟ قَالَتْ : نَعَمُ ، أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ يَزِيدُ مَا شَاءَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ
২১৬. মু'আযা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবী কি চাশতের সালাত আদায় করতেন? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ- ৪ রাক'আত সালাত আদায় করতেন। আল্লাহ চাইলে কখনো কখনো বেশিও পড়তেন। ২১৮
রাসূলুল্লাহ ৬ রাক'আতও চাশতের সালাত আদায় করতেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ الله : أَنَّ النَّبِيِّ ﷺ كَانَ يُصَلِّي الضُّحَى سِتَّ رَكَعَاتٍ
২১৭. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ৬ রাক'আত চাশতের সালাত আদায় করতেন। ২১৯
রাসূলুল্লাহ মক্কা বিজয়ের দিন ৮ রাক'আত চাশতের সালাত আদায় করেছিলেন:
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلى قَالَ : مَا أَخْبَرَنِي أَحَدٌ ، أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ ﷺ يُصَلِّي الضُّحَى إِلَّا أُمُّ هَانِي ، فَإِنَّهَا حَدَّثَتْ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ دَخَلَ بَيْتَهَا يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ فَاغْتَسَلَ فَسَبَّحَ ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ مَا رَأَيْتُهُ صَلَّى صَلَاةً قَط أَخَفَّ مِنْهَا . غَيْرَ أَنَّهُ كَانَ يُتِمُّ الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ
২১৮. আবদুর রহমান ইবনে আবু লায়লা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একমাত্র উম্মে হানী (রাঃ) ছাড়া কেউই রাসূলুল্লাহ কে চাশতের সালাত আদায় করতে দেখেছেন বলে আমাকে বলেননি। উম্মে হানী (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ মক্কা বিজয়ের দিন আমার ঘরে আসেন এবং গোসল করে ৮ রাক'আত সালাত আদায় করেন। এর চেয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে সালাত আদায় করতে আমি আর কখনো দেখিনি। অবশ্য তা সত্ত্বেও তিনি যথারীতি রুকু-সিজদা আদায় করেছেন। ২২০
ব্যাখ্যা: আবদুর রহমান ইবনে আবু লায়লার উক্তি আমাকে উম্মু হানী (রাঃ) ছাড়া আর কেউ রাসূলুল্লাহকে চাশতের সালাত আদায় করতে দেখেছেন বলে অবহিত করেননি- এর দ্বারা একথা প্রমাণিত হয় না যে, উম্মু হানী (রাঃ) ছাড়া অন্য কোন সাহাবী চাশতের সালাত সম্পর্কে জানতেন না। ইবনে জারীর (রহ.) বলেছেন, চাশতের সালাত সম্পর্কিত হাদীসসমূহ মুতাওয়াতির পর্যায়ভুক্ত। এটা হতে পারে যাদেরকে আবদুর রহমান ইবনে আবী লায়লা জিজ্ঞেস করেছেন, তাঁদের মাঝে উম্মু হানী (রাঃ) ছাড়া আর কেউ দেখেননি।
রাসূলুল্লাহ সফর থেকে ফিরে আসলে আগে সালাত আদায় করতেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ قَالَ : قُلْتُ لِعَائِشَةَ : أَكَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُصَلِّي الضُّحى ؟ قَالَتْ : لَا إِلَّا أَنْ يَجِيءَ مِنْ مَغِيبِهِ
২১৯. আবদুল্লাহ ইবনে শাকীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ কি চান্তের সালাত আদায় করতেন? তিনি বললেন, কোন সফর হতে ফিরে আসলে সালাত আদায় করতেন। ২২১
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ এর এটা অভ্যাস ছিল যে, সফর থেকে প্রত্যাবর্তন করলে সকাল বেলা মদিনায় প্রবেশ করতেন এবং সর্বপ্রথম মসজিদে গিয়ে নফল সালাত আদায় করতেন।
রাসূলুল্লাহ সূর্য ঢলে পড়ার পর ৪ রাক'আত সালাত আদায় করতেন:
عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِي ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يُؤْمِنُ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ عِنْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنَّكَ تُدْمِنُ هُذِهِ الْأَرْبَعَ رَكَعَاتٍ عِنْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ فَقَالَ : إِنَّ أَبْوَابَ السَّمَاءِ تُفْتَحُ عِنْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ فَلَا تُرْتَجُ حَتَّى تُصَلَّى الظُّهْرُ . فَأُحِبُّ أَنْ يَصْعَدَ لِي فِي تِلْكَ السَّاعَةِ خَيْرٌ قُلْتُ : أَبِي كُلِّهِنَّ قِرَاءَةً؟ قَالَ : نَعَمْ ، قُلْتُ : هَلْ فِيهِنَّ تَسْلِيمٌ فَاصِلٌ ؟ قَالَ : لَا
২২০. আবু আইয়ূব আল আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সূর্য হেলে গেলে ৪ রাক'আত সালাত আদায় করতেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সূর্য হেলে গেলে (গুরুত্বের সঙ্গে) ৪ রাক'আত সালাত আদায় করেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, সূর্য হেলার পর আকাশের দরজা খুলে দেয়া হয় এবং যোহরের সময় পর্যন্ত তা খোলা থাকে। আমি চাই এ সময় আমার কোন ভালো কাজ আকাশে পৌঁছুক। আমি বললাম, এর প্রতি রাক'আতেই কি কিরাআত পড়তে হয়? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, ২ রাক'আতের পর সালাম ফিরাতে হয় কি? তিনি বললেন, না। ২২২
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَانَ يُصَلِّي أَرْبَعًا بَعْدَ أَنْ تَزُولَ الشَّمْسُ قَبْلَ الظُّهْرِ وَقَالَ : إِنَّهَا سَاعَةٌ تُفْتَحُ فِيهَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ ، فَأُحِبُّ أَنْ يَصْعَدَ لِي فِيْهَا عَمَلٌ صَالِحٌ
২২১. আবদুল্লাহ ইবনে সায়িব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সূর্য হেলার পর হতে যোহরের পূর্ব পর্যন্ত ৪ রাক'আত সালাত আদায় করতেন এবং বলতেন, এ সময় আকাশের দরজা খুলে দেয়া হয়। আমার একান্ত ইচ্ছা, এ সময় আমার কোন সৎকাজ আল্লাহর দরবারে পৌছুক। ২২৩
عَنْ عَلِي ، أَنَّهُ كَانَ يُصَلِّي قَبْلَ الظُّهْرِ أَرْبَعًا ، وَذَكَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَانَ يُصَلِّيْهَا عِنْدَ الزَّوَالِ وَيَمُدُّ فِيهَا
২২২. আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি যোহরের পূর্বে ৪ রাক'আত আদায় করতেন এবং বলতেন যে, সূর্য হেলার সময় নবী এ সালাত আদায় করতেন এবং তাতে দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করতেন। ২২৪
ব্যাখ্যা: মুহাদ্দিসগণের মতে এখানে যোহরের ফরযের পূর্বের ৪ রাক'আত সুন্নাতের কথা বলা হয়েছে। কারণ সূর্য ঢলার পর রাসূলুল্লাহ যোহরের সুন্নত ছাড়া আর কোন নফল নামায নিয়মিত পড়তেন না। যদিও কেউ কেউ এটা "সালাতুয যাওয়াল" বলে উল্লেখ করেছেন, তবে এর কোন ভিত্তি নেই।
টিকাঃ
২১৮ সহীহ মুসলিম, হা/১৬৯৬; ইবনে মাজাহ, হা/১৩৮১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৬৮২; বায়হাকী, হা/৪৬৭৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৫২৯; শারহুস সুন্নাহ, হা/১০০৫।
২১৯ মু'জামুল আওসাত, হা/১২৭৬; জামেউস সগীর, হা/৯০৯১।
২২০ সহীহ বুখারী, হা/১১০৩; সহীহ মুসলিম, হা/১৭০০; ইবনে খুযাইমা, হা/১২৩৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৯৪৫; শারহুস সুন্নাহ, হা/১০০০; দারেমী, হা/১৪৫২; বায়হাকী, হা/৪৬৮১।
২২১ সহীহ মুসলিম, হা/১৬৯৪; আবু দাউদ, হা/১২৯৪; সুনানে নাসাঈ, হা/২১৮৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৪২৪; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/২১৩২; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৫২৭; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৭৮৭০।
২২২ মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৫৭৯; ইবনে মাজাহ, হা/১১৫৭; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৩৯৩০; বায়হাকী, হা/৪৩৫৫; জামেউস সগীর, হা/২৪১২; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা/৪৮১৪।
২২৩ শারহুস সুন্নাহ, হা/৭৯০।
২২৪ সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৩৩৩।