📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর কৌতুক
রাসূলুল্লাহ আনাস (রাঃ) এর সাথে কৌতুক করতেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ لَهُ : يَا ذَا الْأُذُنَيْنِ. قَالَ مَحْمُودٌ : قَالَ أَبُو أُسَامَةً : يَعْنِي يُمَازِحُهُ
১৭৪. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার নবী তাকে সম্বোধন করে (কৌতুকচ্ছলে) বলেছিলেন, 'হে দু'কানবিশিষ্ট!'। মাহমূদ (রহঃ) বলেন, আবু উসামা (রহঃ) এর অর্থ করেছেন- "তিনি তার সাথে কৌতুক করেছেন"।১৭৩
আনাস (রাঃ) এর ছোট ভাইয়ের সাথে কৌতুক করতেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : إِنْ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَيُخَالِطُنَا حَتَّى يَقُوْلَ لِأَخِي صَغِيرٍ : يَا أَبَا عُمَيْرٍ ، مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ ؟ قَالَ أَبُو عِيسَى : وَفِقْهُ هُذَا الْحَدِيْثِ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يُمَانِحُ وَفِيهِ أَنَّهُ كَنَّى غُلَامًا صَغِيرًا فَقَالَ لَهُ: يَا أَبَا عُمَيْرٍ ، وَفِيْهِ أَنَّهُ لَا بَأْسَ أَنْ يُعْطَى الصَّبِيُّ الطَّيْرَ لِيَلْعَبَ بِهِ، وَإِنَّمَا قَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ : يَا أَبَا عُمَيْرٍ ، مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ ؟ لِأَنَّهُ كَانَ لَهُ نُغَيْرٌ يَلْعَبُ بِهِ فَمَاتَ ، فَحَزِنَ الْغُلَامُ عَلَيْهِ فَمَازَحَهُ النَّبِيُّ ﷺ : يَا أَبَا عُمَيْرٍ ، مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ ؟
১৭৫. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী আমাদের সাথে কৌতুক করতেন। এমনকি একবার তিনি আমার ছোট ভাইকে (কৌতুক করে) বললেন, হে আবু উমায়ের! কী হলো নুগায়ের? ১৭৪ ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এ হাদীসে অনুধাবনযোগ্য বিষয় হলো, আনাস (রাঃ) এর ছোট ভাইয়ের নুগায়ের নামে একটি পাখি ছিল, যা নিয়ে সে খেলা করত। পাখিটি মরে গেল। এতে সে দুঃখিত হলো। তখন নবী তার সাথে কৌতুক করলেন এবং বললেন, ওহে আবু উমায়ের! কী হলো তোমার নুগায়ের? এতে বুঝা গেল যে, ছোট বাচ্চাদের পাখি নিয়ে খেলতে বাধা নেই।
রাসূলুল্লাহ বাস্তবসম্মত কৌতুক করতেন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ تُدَاعِبُنَا قَالَ : إِنِّي لَا أَقُولُ إِلَّا حَقًّا
১৭৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁরা (সাহাবায়ে কেরাম) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের সাথে কৌতুক করছেন? তিনি বললেন, আমি কৌতুকচ্ছলে কখনো সত্য ছাড়া কিছু বলি না। ১৭৫
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، أَنَّ رَجُلًا اسْتَحْمَلَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَقَالَ : إِنِّي حَامِلُكَ عَلَى وَلَدِ نَاقَةٍ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ ، مَا أَصْنَعُ بِوَلَدِ النَّاقَةِ؟ فَقَالَ : وَهَلْ تَلِدُ الْإِبِلَ إِلَّا النُّوقُ
১৭৭. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ এর নিকট একটি বাহন চেয়েছিল, তিনি বললেন, আমি তোমাকে একটি উটনীর বাচ্চা দিচ্ছি। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি উটনীর বাচ্চা দিয়ে কী করব? রাসূলুল্লাহ বললেন, উটমাত্রই তো কোন না কোন উটনীর বাচ্চা। ১৭৬
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ كَانَ اسْمُهُ زَاهِرًا وَكَانَ يُهْدِي إِلَى النَّبِيِّ ﷺ هَدِيَّةً مِنَ الْبَادِيَةِ ، فَيُجَهِزُهُ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : إِنَّ زَاهِرًا بَادِيَتُنَا وَنَحْنُ حَاضِرُوهُ وَكَانَ يُحِبُّهُ وَكَانَ رَجُلًا دَمِيمًا فَأَتَاهُ النَّبِيُّ ﷺ يَوْمًا وَهُوَ يَبِيعُ مَتَاعَةَ فَاحْتَضَنَهُ مِنْ خَلْفِهِ وَهُوَ لَا يُبْصِرُهُ ، فَقَالَ : مَنْ هُذَا ؟ أَرْسِلْنِي ، فَالْتَفَتَ فَعَرَفَ النَّبِيُّ ﷺ فَجَعَلَ لَا يَأْلُوْ مَا الْصَقَ ظَهْرَهُ
بِصَدْرِ النَّبِيِّ ﷺ حِينَ عَرَفَهُ ، فَجَعَلَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ : مَنْ يَشْتَرِي هَذَا الْعَبْدَ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِذًا وَاللَّهِ تَجِدُ نِي كَاسِدًا ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : لَكِنْ عِنْدَ اللهِ لَسْتَ بِكَاسِدٍ أَوْ قَالَ : أَنتَ عِنْدَ اللَّهِ غَالٍ
১৭৮. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। যাহির (ইবনে হিযাম আশজায়ী বদরী) নামে এক বেদুঈন প্রায়ই নবী কে হাদিয়া দিত। যখন সে চলে যেতে উদ্যত হতো তখন নবী বলতেন, যাহির আমাদের পল্লিবন্ধু, আমরা তার শহুরে বন্ধু। সে কদাকার হলেও নবী তাকে ভালোবাসতেন। একবার সে বেচাকেনা করছিল আর নবী তার অলক্ষ্যে পেছন দিক থেকে ধরে ফেললেন। তারপর সে বলল, কে? আমাকে ছেড়ে দাও! দৃষ্টিপাত করতেই সে নবীকে দেখে তার পিঠ আরো নবী এর বুকের সাথে মিলালো। এরপর নবী বললেন, এ গোলামটিকে কে ক্রয় করবে? যাহির বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে বিক্রি করে কেবল অচল মুদ্রাই পাবেন। এরপর তিনি বললেন, কিন্তু তুমি আল্লাহর নিকট অচল নও। অথবা তিনি বলেছেন, আল্লাহর নিকট তোমার উচ্চমর্যাদা রয়েছে। ১৭৭
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ পেছন থেকে এসে যাহের (রাঃ) কে জড়িয়ে ধরা ছিল রসিকতা। যাহের (রাঃ) কে গোলাম আখ্যায়িত করাও ছিল এক ধরনের কৌতুক। কারণ তিনি গোলাম ছিলেন না। রাসূলুল্লাহ মজা করার জন্য গোলাম বলেছেন।
عَنِ الْحَسَنِ قَالَ : أَتَتْ عَجُوْزُ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ ، فَقَالَتْ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، ادْعُ اللَّهَ أَنْ يُدْخِلَنِي الْجَنَّةَ ، فَقَالَ : يَا أُمَّ فُلَانٍ ، إِنَّ الْجَنَّةَ لَا تَدْخُلُهَا عَجُوْرٌ قَالَ : فَوَلَّتْ تَبْكِي فَقَالَ : أَخْبِرُوهَا أَنَّهَا لَا تَدْخُلُهَا وَهِيَ عَجُوزُ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُوْلُ : ﴿إِنَّا أَنْشَأْنَاهُنَّ إِنْشَاءُ فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا عُرُبًا أَتْرَابًا
১৭৯. হাসান (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার এক বৃদ্ধা মহিলা নবী এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে দু'আ করুন যেন আমি. জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। তিনি বললেন, ওহে! কোন বৃদ্ধা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। বর্ণনাকারী বলেন, (তা শুনে) সে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল। নবী বললেন, তাকে এ মর্মে খবর দাও যে, তুমি বৃদ্ধাবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে না। কারণ, আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, "আমি তাদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি। আর তাদেরকে করেছি কুমারী- (সূরা ওয়াক্বিয়া- ৩৬)। ১৭৮
টিকাঃ
১৭৩ আবু দাউদ, হা/৫০০৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২১৮৫; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৬৬১; জমেউস সগীর, হা/১৩৮৬৮; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬০৬।
১৭৪ সহীহ বুখারী, হা/৬১২৯; সহীহ মুসলিম, হা/৫৭৪৭; আবু দাউদ, হা/৪৯৭১; ইবনে মাজাহ, হা/৩৭২০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২১৫৮; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/১০৯; আদাবুল মুফরাদ, হা/৮৪৭; জামেউস সগীর, হা/১৩৭৮৮।
১৭৫ মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৭০৮; মুসানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/২১৭০৫; আদাবুল মুফরাদ, হা/২৬৫; শারহুস সুন্নah, হা/৩৬০২; মু'জামুল আওসাত, হা/৮৭০৬; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৭২৬।
১৭৬ আবু দাউদ, হা/৫০০০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩৮৪৪; আদাবুল মুফরাদ, হা/২৬৮; বায়হাকী, হা/২০৯৫৭; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬০৫।
১৭৭ মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৬৬৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৭৯০; বায়হাকী, হা/২০৯৬১; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬০৪; মুসনাদুল বাযযার, হা/৬৯২২।
১৭৮ সিলসিলা সহীহাহ, হা/২৯৮৭; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬০৬।
📄 কাব্যিক ছন্দে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর কথা
বিভিন্ন হাদীসের আলোকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ কোন কোন কবির কবিতার অংশ বিশেষ আবৃত্তি করেছেন। কিন্তু তিনি কখনো নিজে কোন কবিতা রচনা করেননি। তবে মাঝে মধ্যে তাঁর কোন কোন কথা ছন্দযুক্ত হয়েছে। বিষয়বস্তুর আলোকে কখনো কবিদের নিন্দা করা হয়েছে আবার কখনো প্রশংসা করা হয়েছে। এটা নির্ভর করে সৃজনতার উপর। যে মন্দভাবে রচনা করবে সেটা অবশ্যই নিন্দাযোগ্য। তবে লক্ষণীয় হলো অধিকাংশ কবি আল্লাহর যিক্র থেকে গাফিল থাকে।
নবী ইবনে রাওয়াহার কবিতা আবৃত্তি করতেন:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : قِيلَ لَهَا : هَلْ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَتَمَثَلُ بِشَيْءٍ مِنَ الشَّعْرِ ؟ قَالَتْ : كَانَ يَتَمَثَلُ بِشِعْرِ ابْنِ رَوَاحَةَ ، وَيَتَمَثَلُ بِقَوْلِهِ : وَيَأْتِيكَ بِالْأَخْبَارِ مَنْ لَمْ تُزَوَّدِ
১৮০. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কাব্যের ছন্দে কথাবার্তা বলেন কিনা সে ব্যাপারে তাঁকে একবার জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন, নবী ইবনে রাওয়াহার কবিতা আবৃত্তি করতেন। আবার কখনো বলতেন-
وَيَأْتِيكَ بِالْأَخْبَارِ مَنْ لَمْ تُزَوَّدِ অর্থাৎ তোমার কাছে এমন ব্যক্তি সুসংবাদ নিয়ে আসেন, যাকে তুমি মজুরী দাও না। ১৭৯
একবার আঙ্গুল রক্তাক্ত হয়ে গেলে এ কবিতা পাঠ করেছিলেন:
عَنْ جُنْدُبِ بْنِ سُفْيَانَ الْبَجَلِي ، قَالَ : أَصَابَ حَجَرٌ أُصْبُعَ رَسُوْلِ اللَّهِ ﷺ فَدَمِيَتْ ، فَقَالَ : هَلْ أَنْتِ إِلَّا أُصْبُعْ دَمِيْتِ ، وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ مَا لَقِيْتِ .
১৮১. জুনদুব ইবনে সুফিয়ান আল বাজালী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) প্রস্তারাঘাতে রাসূলুল্লাহ এর একটি আঙ্গুল রক্তাক্ত হয়ে যায়। তখন তিনি বলেন,
هَلْ أَنْتِ إِلَّا أُصْبُعْ دَمِيْتِ ، وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ مَا لَقِيْتِ অর্থাৎ তুমি একটি আঙ্গুল যার রক্ত প্রবাহিত হয়েছে, তাও আল্লাহর রাস্তায়, যার প্রতিদান পাবে। ১৮০
রাসূলুল্লাহর হাওয়াযিন গোত্রের সাথে যুদ্ধের সময় কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন :
عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ : قَالَ لَهُ رَجُلٌ : أَفَرَرْتُمْ عَنْ رَسُوْلِ اللَّهِ ﷺ يَا أَبَا عُمَارَةَ ؟ فَقَالَ : لَا وَاللَّهِ مَا وَلَّى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ . وَلَكِنْ وَلَّى سَرَعَانُ النَّاسِ تَلَقَّتُهُمْ هَوَازِنُ بِالنَّبْلِ وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَى بَغْلَتِهِ ، وَأَبُو سُفْيَانَ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ آخِذُ بِلِجَامِهَا وَرَسُولُ اللَّهِ يَقُوْلُ : أَنَا النَّبِيُّ لَا كَذِبْ أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبُ
১৮২. বারা ইবনে আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করল, আপনারা কি নবী কে রণক্ষেত্রে রেখে পালিয়ে গিয়েছিলেন? উত্তরে তিনি বললেন, না- নবী কখনো পালিয়ে যাননি। বরং দলের কিছুসংখ্যক তাড়াহুড়াপ্রবণ লোক হাওয়াযিনের তীরের আঘাতে টিকতে না পেরে পিছু হটে এসেছিল। (বেশিরভাগ ছিল বনু সুলায়ম-এর লোক এবং মক্কার নও মুসলিম) তখন নবী স্বীয় খচ্চরের উপর আরোহী ছিলেন। আর লাগাম ছিল আবু সুফইয়ানের হাতে। তখন নবী আবৃত্তি করছিলেন- انَا النَّبِيُّ لَا كَذِبُ ، أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبُ অর্থাৎ আমি মিথ্যা নবী নই, আমি আব্দুল মুত্ত্বালিবের (বীর) সন্তান।১৮১
ইবনে রাওয়াহা (রাঃ) নবী এর সামনে কবিতা আবৃত্তি করতেন:
عَنْ أَنَسٍ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ دَخَلَ مَكَةً فِي عُمْرَةِ الْقَضَاءِ ، وَابْنُ رَوَاحَةً يَمْشِي بَيْنَ يَدَيْهِ ، وَهُوَ يَقُولُ : خَلُّوا بَنِي الْكُفَّارِ عَنْ سَبِيلِهِ الْيَوْمَ نَضْرِبُكُمْ عَلَى تَنْزِيلِهِ ضَرْبًا يُزِيلُ الْهَامَ عَنْ مَقِيلِهِ وَيُذْهِلُ الْخَلِيلَ عَنْ خَلِيلِهِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ : يَا ابْنَ رَوَاحَةَ ، بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَفِي حَرَمِ اللَّهِ تَقُوْلُ الشَّعْرَ ، فَقَالَ : خَلِّ عَنْهُ يَا عُمَرُ . فَلَهِيَ أَسْرَعُ فِيهِمْ مِنْ نَضْحِ النَّبْلِ
১৮৩. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী যখন উমরাতুল কাযা পালনের উদ্দেশে মক্কায় প্রবেশ করেন তখন ইবনে রাওয়াহা (রাঃ) তাঁর সামনে চলছেন এবং বলছেন: خَلُّوا بَنِي الْكُفَّارِ عَنْ سَبِيلِهِ الْيَوْمَ نَضْرِبُكُمْ عَلَى تَنْزِيلِهِ ضَرْبًا يُزِيلُ الْهَامَ عَنْ مَقِيلِهِ وَيُذْهِلُ الْخَلِيلَ عَنْ خَلِيلِهِ অর্থাৎ হে কাফির সন্তানরা! তাঁর চলার পথ ছেড়ে দাও। আজ তাঁকে বাধা দিলে তোমাদেরকে এমন শায়েস্তা করব যে, কাঁধ থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং বন্ধুর কথা ভুলে যাবে।
উমর (রাঃ) তাকে বললেন, ইবনে রওয়াহা! আল্লাহর হারামে এবং রাসূলুল্লাহ এর সম্মুখে কবিতা আবৃত্তি করছ? নবী বললেন, উমর! তাকে বলতে দাও। কারণ, তার কবিতা ওদের জন্য তীরের আঘাতের চেয়েও অধিক কার্যকর। ১৮২
সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ এর সামনে কবিতা আবৃত্তি করতেন :
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ ، قَالَ : جَالَسْتُ النَّبِيَّ ﷺ اَكْثَرَ مِنْ مِائَةِ مَرَّةٍ وَكَانَ أَصْحَابُهُ يَتَنَاشَدُونَ الشَّعْرَ وَيَتَذَا كَرُونَ أَشْيَاءَ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ وَهُوَ سَاكِتْ وَرُبَّمَا تَبَسَّمَ مَعَهُمْ
১৮৪. জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ এর মজলিসে শতাধিক বার বসেছি। আর তাতে তাঁর সাহাবীগণ কবিতা আবৃত্তি করতেন এবং জাহেলি যুগের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করতেন। আর তিনি কখনো চুপ থাকতেন। আবার কখনো তাদের সাথে মুচকি হাসতেন।১৮০
রাসূলুল্লাহর এর কাছে শ্রেষ্ঠতম উদ্ধৃতি :
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ لهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ : أَشْعَرُ كَلِمَةٍ تَكَلَّمَتْ بِهَا الْعَرَبُ كَلِمَةُ لَبِيْدٍ : أَلَا كُلُّ شَيْءٍ مَا خَلَا اللَّهِ بَاطِلٌ
১৮৫. আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আরব কবিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বাণী হচ্ছে লাবীদের এই চরণ :
آلَا كُلُّ شَيْءٍ مَا خَلَا اللَّهَ بَاطِلٌ
অর্থাৎ সাবধান! আল্লাহ ছাড়া সব কিছুই ধ্বংসশীল। ১৮৪
ব্যাখ্যা: আরবের একজন সুবিখ্যাত কবি ছিলেন লাবীদ ইবনে রাবিয়া আল-আমিরী। তিনি তার গোত্রের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে রাসূলুল্লাহ এর নিকট এসে ইসলাম কবুল করেন। ইসলাম কবুলের পর তিনি আর কবিতা রচনা করেননি। তিনি বলতেন, আমার জন্য কুরআনই যথেষ্ট। লাবীদের এ উক্তিকে রাসূলুল্লাহ সবচেয়ে সত্য বলেছেন এজন্য যে, এটি কুরআনের নিচের আয়াতটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ
অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া সবকিছুই ধ্বংসশীল। ১৮৫
নবী অমুসলিম কবির কবিতাও শ্রবণ করতেন:
عَنْ عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ ، عَنْ أَبِيْهِ قَالَ : كُنْتُ رِدْفَ النَّبِيِّ ﷺ فَأَنْشَدْتُهُ مِائَةَ قَافِيَةٍ مِنْ قَوْلِ أُمَيَّةَ بْنِ أَبِي الصَّلْتِ الثَّقَفِي ، كُلَّمَا انْشَدْتُهُ بَيْتًا قَالَ لِيَ النَّبِيُّ ﷺ : هِيْهِ حَتَّى انْشَدْتُهُ مِائَةٌ يَعْنِي بَيْتًا فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : إِنْ كَادَ لَيُسْلِمُ
১৮৬. আমর ইবনে শারীদ (রাঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একবার আমি বাহনে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর পেছনে বসা ছিলাম। তারপর আমি তাঁকে উমাইয়্যা ইবনে আবূ-সালত বিরচিত একশ' চরণ বিশিষ্ট একটি কবিতা আবৃত্তি করে শোনালাম। কবিতা শেষ হলে তিনি আমাকে বললেন, আরো শোনাও। এরপর তিনি বললেন, সে ইসলাম গ্রহণের কাছাকাছি এসে গেছে। ১৮৬
ব্যাখ্যা: উমাইয়া ইবনে আবু সালত জাহিলী যুগের একজন স্বনামধন্য বিখ্যাত কবি ছিলেন। তাঁর কবিতাতে হক্ব ও সত্য কথা ফুটে উঠত। তিনি জাহেলী যুগেও ইবাদাত-বন্দেগী করতেন এবং পুনরুত্থানে বিশ্বাস রাখতেন। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তিনি ইসলাম গ্রহণের দার প্রান্তে এসেছিলেন। তিনি ইসলামের যুগ পেয়েছিলেন; কিন্তু ইসলাম গ্রহণের তাওফীক হয়নি।
নবী কবিতা আবৃত্তি করার উদ্দেশ্যে হাসান (রাঃ)১৮৭ এর জন্য মসজিদে একটি মিম্বার তৈরি করেছিলেন:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَضَعُ لِحَسَّانَ بْنِ ثَابِتٍ مِنْبَرًا فِي الْمَسْجِدِ يَقُوْمُ عَلَيْهِ قَائِمًا يُفَاخِرُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَوْ قَالَ : يُنَافِحُ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَيَقُولُ : إِنَّ اللَّهَ يُؤَيِّدُ حَسَّانَ بِرُوحِ الْقُدُسِ مَا يُنَافِحُ أَوْ يُفَاخِرُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ
১৮৭. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ হাসান ইবেন সাবিত (রাঃ)-এর জন্য মসজিদে একটি মিম্বার স্থাপন করেছিলেন যেন তিনি রাসূলুল্লাহ এর প্রশংসার কবিতা পাঠ করেন অথবা তিনি বলেছেন, যেন তিনি রাসূলুল্লাহ এর পক্ষ হতে কাফিরদের নিন্দাবাদের উত্তর দেন। রাসূলুল্লাহ বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ! রূহুল কুদ্স্স [জিবরীল (আঃ)] দ্বারা হাসানকে সাহায্য করেন যতক্ষণ সে রাসূলুল্লাহ এর প্রশংসা করবে কিংবা কাফিরদের নিন্দার উত্তর দেবে। ১৮৮
টিকাঃ
১৭৯ সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/১০৭৬৯; আদাবুল মুফরাদ, হা/৮৬৭; বায়হাকী, হা/২০৯০৩।
১৮০ সহীহ বুখারী, হা/৬১৪৬; সহীহ মুসলিম, হা/৪৭৫০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৮১৯; জমেউস সগীর, হা/১২৯৭৯।
১৮১ সহীহ বুখারী, হা/২৮৭৪; সহীহ মুসলিম, হা/৪৭১৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৪৭৭০; জামেউস সগীর, হা/২৩৩১।
১৮২ সুনানে নাসাঈ, হা/২৮৭৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৪০৪।
১৮৩ ইবনে হিব্বান, হা/৫৭৮১।
১৮৪ সহীহ মুসলিম, হা/৬০২৫; ইবনে হিব্বান, হা/৫৭৮৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/১০২৩৫; জামেউস সগীর, হা/১০০৬।
১৮৫ সূরা ফুরকান- ৮৮।
১৮৬ সুনানে কুবরা লিল বায়হাকী, হা/২১৫৬০; সহীহ মুসলিম, হা/৬০২২।
১৮৭ হাসান ইবনে সাবিত (রাঃ) ছিলেন বিখ্যাত একজন সাহাবী কবি। তার উপাধি ছিল شَاعِرُ النَّبِيّ তথা নবী এর কবি।
১৮৮ আবু দাউদ, হা/৫০১৭; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৬০৫৮; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৩৫০১; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৪০৮; সিলসিলাহ সহীহাহ, হা/১৬৫৭।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর রাত্রে গল্প বলা
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : جَلَسَتْ إِحْدَى عَشْرَةَ امْرَأَةٌ فَتَعَاهَدْنَ وَتَعَاقَدْنَ أَنْ لَا يَكْتُمْنَ مِنْ أَخْبَارِ أَزْوَاجِهِنَّ شَيْئًا : فَقَالَتِ الْأُولَى : زَوْجِي لَحْمُ جَمَلٍ غَةٍ عَلَى رَأْسِ جَبَلٍ وَعْرٍ ، لَا سَهْلٌ فَيُرْتَقُى ، وَلَا سَمِينٌ فَيُنْتَقَلُ . قَالَتِ الثَّانِيَةُ : زَوْجِي لَا أَبُثُ خَبَرَهُ ، إِنِّي أَخَافُ أَنْ لَا آذَرَهُ ، إِنْ أَذْكُرْهُ اذْكُرْ عُجَرَةً وَبُجَرَةً . قَالَتِ الثَّالِثَةُ : زَوْجِي العَشَنَقُ ، إِنْ اَنْطِقُ أَطَلَّقْ . وَإِنْ أَسْكُتُ أُعَلَّق . قَالَتِ الرَّابِعَةُ : زَوْجِي كَلَيْلِ تِهَامَةَ ، لَا حَلٌّ وَلَا قُرٌّ ، وَلَا مَخَافَةَ وَلَا سَامَةَ ، قَالَتِ الْخَامِسَةُ : زَوْجِيْ إِنْ دَخَلَ فَهِدَ ، وَإِنْ خَرَجَ أَسِدَ ، وَلَا يَسْأَلُ عَمَّا عَهِدَ . قَالَتِ السَّادِسَةُ : زَوْجِيْ إِنْ أَكَلَ لَفَ ، وَإِنْ شَرِبَ اشْتَفَّ ، وَإِنِ اضْطَجَعَ التَّفَ ، وَلَا يُولِجُ الْكَفَّ لِيَعْلَمَ الْبَثَ . قَالَتِ السَّابِعَةُ : زَوْجِي عَيَايَاءُ أَوْ غَيَايَاءُ طَبَاقَاءُ كُلُّ دَاءٍ لَهُ دَاءٌ ، شَجَكِ أَوْ فَلَكِ أَوْ جَمَعَ كُلَّا لَكِ . قَالَتِ الثَّامِنَةُ : زَوْجِيِّ الْمَسُّ مَسُّ أَرْنَبِ وَالرِّيحُ رِيحُ زَرْنَبٍ . قَالَتِ التَّاسِعَةُ : زَوْجِي رَفِيعُ الْعِمَادِ طَوِيلُ النِّجَادِ عَظِيمُ الرَّمَادِ قَرِيبُ الْبَيْتِ مِنَ النَّادِ . قَالَتِ الْعَاشِرَةُ : زَوْجِي مَالِكٌ وَمَا مَالِكَ مَالِكٌ خَيْرٌ مِنْ ذَلِكِ ، لَهُ إِبِلَّ كَثِيرَاتُ الْمَبَارِكِ ، قَلِيْلَاتُ الْمَسَارِحِ . إِذَا سَمِعْنَ صَوْتَ الْمِزْهَرِ أَيْقَنَّ أَنَّهُنَّ هَوَالِكَ . قَالَتِ الْحَادِيَةَ عَشْرَةَ : زَوْجِيْ أَبُو زَرْعٍ وَمَا أَبُو زَرْعٍ ؟ أَنَاسَ مِنْ حُلِي أُذُنَ . وَمَلَا مِنْ شَحْمٍ عَضُدَيَّ ، وَبَجَّحَنِي فَبَجَحَتْ إِلَيَّ نَفْسِي ، وَجَدَنِيزُ فِي أَهْلِ غُنَيْمَةٍ بِشِقٍ فَجَعَلَنِي فِي أَهْلِ صَهِيْلٍ وَأَطِيطٍ وَدَائِسٍ وَمُنَةٍ ، فَعِنْدَهُ أَقُولُ فَلَا أُقَبَّحُ ، وَأَرْقُدُ فَأَتَصَبَحُ وَأَشْرَبُ فَأَتَقَبَّحُ . أُم أَبِي زَرْعٍ فَمَا أُم أَبِي زَرْعٍ ، عُلُوْمُهَا رَدَاحٌ ، وَبَيْتُهَا فَسَاحٌ . ابْنُ أَبِي زَرْعٍ ، فَمَا ابْنُ أَبِي زَرْعٍ . مَضْجَعُهُ كَمَسَلِ شَطْبَةٍ ، وَتُشْبِعُهُ ذِرَاعُ الْجَفْرَةِ ، بِنْتُ أَبِي زَرْعٍ ، فَمَا بِئْتُ أَبِي زَرْعٍ ، طَوْعُ أَبِيْهَا وَطَوْعُ أُمِّهَا ، مِلْءُ كِسَائِهَا ، وَغَيْظُ جَارَتِهَا ، جَارِيَةُ أَبِي زَرْعٍ ، فَمَا جَارِيَةً أَبِي زَرْعٍ ، لَا تَبْثُ حَدِيثَنَا تَبْثِيْنَا ، وَلَا تُنَقِّتُ مِيْرَتَنَا تَنْقِيْنَا ، وَلَا تَمْلَأُ بَيْتَنَا تَعْشِيشًا ، قَالَتْ : خَرَجَ أَبُو زَرْعٍ وَالْأَوْطَابُ تُمْخَضُ ، فَلَقِيَ امْرَأَةٌ مَعَهَا وَلَدَانِ لَهَا كَالْفَهْدَيْنِ ، يَلْعَبَانِ مِنْ تَحْتِ خَصْرِهَا بِرُمَّانَتَيْنِ . فَطَلَّقَنِي وَنَكَحَهَا ، فَنَكَحْتُ بَعْدَهُ رَجُلًا سَرِيًّا ، رَكِبَ شَرِيًّا ، وَأَخَذَ خَطِيًّا ، وَأَرَاحَ عَلَيَّ نَعَمَّا ثَرِيًّا .
وَأَعْطَانِي مِنْ كُلِّ رَائِحَةٍ زَوْجًا ، وَقَالَ : كُلِي أُمَّ زَيْعٍ ، وَمِيْرِي أَهْلَكِ ، فَلَوْ جَمَعْتُ كُلَّ شَيْءٍ أَعْطَانِيهِ . مَا بَلَغَ أَصْغَرَ انِيَةِ أَبِي زَرْعٍ ، قَالَتْ عَائِشَةُ : فَقَالَ لِي رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ : كُنْتُ لَكِ كَابِي زَرْعٍ لِأُمِّ زَرْعٍ
১৮৮. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার ১১ জন মহিলা এ মর্মে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলো যে, তারা তাদের নিজ নিজ স্বামী সম্পর্কে সব খুলে বলবে এবং কোন কিছুই গোপন করবে না।
প্রথম মহিলা বলল, আমার স্বামী অলস, অকর্মণ্য, দুর্বল উটের গোশততুল্য, তা আবার পর্বত চূড়ায় সংরক্ষিত; যা ধরাছোঁয়া দুঃসাধ্য। তার আচরণ রুক্ষ। ফলে তার কাছে যাওয়া যায় না। সে স্বাস্থ্যবানও নয়, আর তাকে ত্যাগও করতে পারছি না।
দ্বিতীয় মহিলা বলল, আমার স্বামী এমন যে, আমি আশংকা করছি, তার দোষত্রুটি বর্ণনা করে শেষ করতে পারব না। আর আমি যদি বর্ণনা করে দেই, তাহলে কেবল দোষত্রুটিই বর্ণনা করব।
তৃতীয় মহিলা বলল, আমার স্বামী দীর্ঘদেহ বিশিষ্ট, দেখতে কদাকার। আমি কথা বললে (উত্তরে আসে) তালাক। আর নীরব থাকলে সে তো ঝুলন্ত রশি (অর্থাৎ কিছু চাইলে বদ মেজাজের সম্মুখীন হতে হয় এবং নীরব থাকলে হতে হয় বঞ্চিত)।
চতুর্থ মহিলা বলল, আমার স্বামী তিহামার রাত্রির ন্যায়- না (প্রচণ্ড) গরম, আর না (প্রচণ্ড) ঠাণ্ডা। তার থেকে কোন ভয়-ভীতি কিংবা অস্বস্তির কারণ নেই।
পঞ্চম মহিলা বলল, আমার স্বামী ঘরে এলে মনে হয় চিতাবাঘ আর বাইরে বের হলে সে হয় সাহসী সিংহ। বাড়িতে কি ঘটল সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে না।
ষষ্ঠ মহিলা বলল, আমার স্বামী যখন খায়, তৃপ্তি ভরে খায়। আর পান করলে সব সাবাড় করে দেয় এবং কোন কিছু অবশিষ্ট রাখে না। আর যখন ঘুমাতে চায়, চাদর দেহে জড়িয়ে দেয়। আমার কোন বিপদাপদ আছে কি না তা হাত বাড়িয়েও দেখে না।
সপ্তম মহিলা বলল, আমার স্বামী অক্ষম, কথা বলতে পারে না, সব ধরনের রোগে আক্রান্ত। সে আমার মস্তক চূর্ণ করতে পারে অথবা মারধোর করে হাড়গোড় সব ভেঙ্গে দিতে পারে বা উভয়টিও করতে পারে।
অষ্টম মহিলা বলল, আমার স্বামীর পরশ খরগোশের ন্যায় কোমল। (তার ব্যবহৃত সুগন্ধি) জাফরানের সুগন্ধির ন্যায়।
নবম মহিলা বলল, আমার স্বামী উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ, দীর্ঘ দেহবিশিষ্ট, তার বৈঠকখানা ঘরের নিকটবর্তী।
দশম মহিলা বলল, আমার স্বামী হলো আমার মালিক। মালিকের প্রশংসা কী আর করব (উপরে বর্ণিত সকলের প্রশংসা একত্র করলেও তার গুণ গেয়ে
শেষ করা যাবে না)। তার রয়েছে অসংখ্য উট, অধিকাংশ সময় সেগুলো বাধাই থাকে। খুব কমই মাঠে চরানো হয়। এসব উট যখন বাদ্যের ঝংকার শোনে, তখন তারা নিশ্চিত হয়ে যায় যে, তাদেরকে যবেহ করা হবে।
একাদশ মাহিলা উম্মে যার'আ বলল, আমার স্বামী আবু যার'আ। আবু যার'আর কী আর প্রশংসা করব, সে তো অলংকার দিয়ে আমার দু'কান ভর্তি করে দিয়েছে, উপাদেয় খাবার খাইয়ে দু'বাহু চর্বিযুক্ত করে দিয়েছে। আমাকে খুবই স্বাচ্ছন্দ্যে রেখেছে। ফলে আমি আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছি। আমি ছিলাম বকরী রাখালের কন্যা, খুব দুঃখ-কষ্টের মধ্যে দিন অতিবাহিত করতে হতো। আমি এখন অসংখ্য ঘোড়া, উট ও বকরী পালের মধ্যে তথা পর্যাপ্ত ধন-সম্পদের মধ্যে আছি। আমি তাকে কিছু বললেও আমাকে মন্দ বলত না। সারাক্ষণ নিদ্রায় কাটালেও কিছুই বলত না। পর্যাপ্ত খাওয়ার পরও খাবার অবশিষ্ট থাকত।
উম্মে আবু যার'আর (একাদশ মহিলার শাশুড়ির) প্রশংসাই বা কি করব! তার বড় বড় পাত্রগুলো সর্বদা খানায় পরিপূর্ণ থাকতো। আর তার বাড়ির সীমানা সুবিশাল। ইবনে আবু যার'আ তরবারির ন্যায় সূক্ষ্ম, বকরীর একটি উরুর গোশত তার জন্য যথেষ্ট। আবু যার'আর কন্যা সম্পর্কেই কী বলব! পিতামাতার অনুগত, সুস্বাস্থ্যের অধিকারিণী, স্বাস্থ্যবান সতীনদের অন্তর্জালার কারণ। আবু যার'আর পরিচারিকার কথাই বা কি বলব! সে ঘরের গোপন তথ্য ফাঁস করে না। আমাদের খাবার বিনা অনুমতিতে হাত দেয় না। বাড়িতে কখনো আবর্জনা জমা করে রাখে না। সে (একাদশ মহিলা) বলল, আমি এমনই সুখ শান্তি, আদর সোহাগ সমৃদ্ধির মধ্যে দিনকাল কাটাচ্ছিলাম। এমন সময় একবার আবু যার'আ বাইরে যান এবং দেখতে পান যে, স্বাস্থ্যবান দুটি শিশু তাদের মায়ের স্তন নিয়ে খেলা করছে। এরপর আবু যার'আ আমাকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করে ফেলেন।
এরপর আমি একজন বিত্তশালী উষ্ট্রারোহী ব্যক্তিকে বিয়ে করি। সেও আমাকে পর্যাপ্ত সামগ্রী জোড়ায় জোড়ায় দিয়েছিল। সে স্বামী বলল, উম্মে যার'আ! তৃপ্তি সহকারে খাও এবং ইচ্ছেমতো তোমার বাপের বাড়িতে পাঠাও। সে মহিলা বলল, তার দান-দক্ষিণার যাবতীয় বস্তু একত্র করলে আবু যার'আর সামান্যও হবে না। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বললেন, আবু যার'আ যেমন উম্মে যার'আর জন্য, আমিও ঠিক তদ্রুপ তোমার জন্য। (কিন্তু কখনো আবু যার'আর মতো তোমাকে তালাক দেব না।) ১৮৯
ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে বুঝা যায়- এশার পর প্রয়োজনীয় জাগতিক কথা বলা জায়েয। বিশেষত পরিবারের মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে তাদের সাথে বিশ্বাসগত সমস্যা মুক্ত গল্প ও কিচ্ছা কাহিনী বলা জায়েয। এটা পরিবারের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপনের অংশ।
হাদীসের শিক্ষা এ হাদীস থেকে অনেক শিক্ষা লাভ হয়। ১. স্ত্রী-পরিবারের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন করা। ২. আয়েশা (রাঃ) এর বিশেষ ফযীলত ও মর্যাদা স্পষ্ট হয়ে উঠে। ৩. রাতে এশার পর প্রয়োজনীয় আলোচনা করা ও পরিবারের মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে ত্রুটিমুক্ত গল্প করা বৈধ। ৪. অতীত জাতীসমূহের ত্রুটিমুক্ত কিচ্ছাকাহিনী বর্ণনা করা জায়েয। ৫. কোন অনির্দিষ্ট ব্যক্তি; শ্রোতা যাকে চিনে না, তার দোষ বলা গীবতের অন্তর্ভুক্ত নয়।
টিকাঃ
১৮৯ সহীহ বুখারী, হা/৫১৮৯; সহীহ মুসলিম, হা/৬৪৫৮; ইবনে হিব্বান, হা/৭১০৪; জামেউস সগীর, হা/১৪১।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর নিদ্রা
রাসূলুল্লাহ ডান হাত গালের নিচে রেখে শয্যা যেতেন এবং এ দু'আ পাঠ করতেন:
عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ له . أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ إِذَا أَخَذَ مَضْجَعَهُ وَضَعَ كَفَّهُ الْيُمْنَى تَحْتَ خَدِهِ الْأَيْمَنِ ، وَقَالَ : رَبِّ قِنِي عَذَا بَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ
১৮৯. বারা ইবনে আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ যখন শয্যা গ্রহণ করতেন তখন ডান হাত ডান গালের নিচে রাখতেন এবং বলতেন: رَبِّ قِنِي عَذَا بَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ عِبَادَكَ "রাব্বি ক্বিনী 'আযাবাকা ইয়াওমা তাব্'আসু 'ইবা-দাক" অর্থাৎ হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে বাঁচিয়ে দিন সে দিনের আযাব থেকে যেদিন আপনার বান্দাদের পুনরুত্থিত করা হবে।১৯০
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ আল্লাহ কর্তৃক নিষ্পাপ হওয়া অবগত সত্ত্বেও আল্লাহ তা'আলার দাসত্ব ও বিনয় প্রকাশ এবং উম্মতকে শিক্ষা দান করার নিমিত্তে এসব দু'আ করতেন।
নিদ্রায় যাওয়া এবং নিদ্রা থেকে উঠার সময় এ দু'আ পাঠ করতেন:
عَنْ حُذَيْفَةَ ، قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أَوَى إِلى فِرَاشِهِ قَالَ : اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوْتُ وَأَحْيَا ، وَإِذَا اسْتَيْقَظَ قَالَ : الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَمَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ
১৯০. হুযায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী যখন শোয়ার জন্য বিছানায় আসতেন তখন বলতেন: اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوْتُ وَأَحْيَا "আল্ল-হুম্মা বিস্মিকা আমৃতু ওয়া আহ্ইয়া" অর্থাৎ হে আল্লাহ! তোমার নামেই মৃত্যুলাভ (নিদ্রা) করছি এবং তোমার নামেই জীবিত (জাগ্রত) হব।) অতঃপর আবার যখন নিদ্রা ভঙ্গ করতেন তখন বলতেন, الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ "আলহাম্দু লিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়ানা- বা'দা মা- আমা-তানা- ওয়া ইলায়হিন্ নুশূর” অর্থাৎ সকল প্রশংসা আল্লাহর! যিনি মৃত্যুর পর জীবন দিয়েছেন আর তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। ১৯১
নিদ্রা যাওয়ার পূর্বে সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস পাঠ করতেন:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا أَوَى إِلى فِرَاشِهِ كُلَّ لَيْلَةٍ جَمَعَ كَفَّيْهِ فَنَفَثَ فِيهِمَا . وَقَرَا فِيهِمَا قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ وَقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ وَقُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ثُمَّ مَسَحَ بِهِمَا مَا اسْتَطَاعَ مِنْ جَسَدِهِ . يَبْدَأُ بِهِمَا رَأْسَهُ وَوَجْهَهُ وَمَا أَقْبَلَ مِنْ جَسَدِهِ يَصْنَعُ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ
১৯১. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী যখন শোয়ার জন্য বিছানায় যেতেন তখন দু'হাত মিলিয়ে সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস পাঠ করতেন। তারপর ফুঁ দিয়ে যথাসম্ভব মাথা থেকে পা পর্যন্ত সারা শরীরে তিনবার হাত বুলিয়ে দিতেন। তারপর মুখমণ্ডল ও শরীরের সামনের অংশেও অনুরূপ বুলাতেন।১৯২
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ نَامَ حَتَّى نَفَخَ ، وَكَانَ إِذَا نَامَ نَفَخَ فَأَتَاهُ بِلَالٌ فَأْذَنَهُ بِالصَّلَاةِ ، فَقَامَ وَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأُ وَفِي الْحَدِيثِ قِضَةٌ
১৯২. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার রাসূলুল্লাহ নিদ্রায় গেলেন এমনকি তাঁর নাক ডাকতে আরম্ভ করে। আর যখন তিনি নিদ্রা যেতেন তখন নাক ডাকতেন। অতঃপর বিলাল (রাঃ) এসে তাঁকে সালাতের প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ জানান। তারপর তিনি দাঁড়ালেন এবং সালাত আদায় করলেন; কিন্তু ওযু করলেন না। হাদীসে আরো ঘটনা রয়েছে।১৯৩
ব্যাখ্যা: এতে বুঝা গেল যে, যখন রাসূলুল্লাহ গভীর ঘুমে যেতেন তখন গলা থেকে আওয়াজ বের হতো। আর নবীগণের বৈশিষ্ট্য হলো, ঘুমের কারণেও তাঁদের ওযু নষ্ট হয় না। তাই রাসূলুল্লাহ ঘুম থেকে উঠে ওযু না করেই নামায আদায় করেছেন। এর কারণ হিসেবে রাসূলুল্লাহ বলেছেন, নবীদের চোখ ঘুমায়, অন্তর ঘুমায় না।১৯৪
রাসূলুল্লাহ শয্যা গ্রহণকালে এ দু'আটিও পাঠ করতেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ قَالَ : الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَأَوَانَا ، فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مُؤْوِي
১৯৩. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ যখন শয্যা গ্রহণ করতেন তখন (নিম্নোক্ত দু'আ) পাঠ করতেন:
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَكَفَانَا وَأَوَانَا ، فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مُؤْوِي "আলহাম্দু লিল্লা-হিল্লাযী আত্ম'আমানা- ওয়াসাক্বা-না- ওয়াকাফা-না- ওয়া আ-ওয়া-না- ফাকাম্ মিম্মান্ লা- কা-ফিয়া লাহু ওয়ালা- মু'বী" অর্থাৎ সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের আহার করান ও পান করান। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনিই নিদ্রা যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এমন অনেক লোক রয়েছে যাদের কোন যথেষ্টকারী নেই এবং কোন আশ্রয়দাতাও নেই। ১৯৫
তিনি ডান কাতে বিশ্রাম নিতেন:
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ إِذَا عَرَّسَ بِلَيْلٍ اضْطَجَعَ عَلَى شِقِّهِ الْأَيْمَنِ . وَإِذَا عَرَّسَ قُبَيْلَ الصُّبْحِ نَصَبَ ذِرَاعَةً ، وَوَضَعَ رَأْسَهُ عَلَى كَقِهِ
২৯৪. আবু কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (সফরে) যখন রাতে বিশ্রাম নিতেন তখন ডান কাতে বিশ্রাম নিতেন। আর যদি ভোর হওয়ার উপক্রম হতো তাহলে ডান হাত দাঁড় করে হাতের তালুর উপর মাথা রাখতেন। ১৯৬
ব্যাখ্যা: রাত্রিকালীন সফরে কোথাও যাত্রা বিরতি করলে, সময় বেশি থাকলে শুয়ে ঘুমাতেন। আর রাসূলুল্লাহ এর অভ্যাস ছিল, তিনি ডান কাতে শুতেন। সময় কম থাকলে কনুই খাড়া করে হাতের তালুতে মাথা রেখে অল্প কিছুক্ষণ আরাম করে নিতেন।
টিকাঃ
১৯০ আবু দাউদ, হা/৫০৪৭; ইবনে মাজাহ, হা/৩৮৭৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৬৫৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৩১০; শু'আবুল ঈমান, হা/৪৩৮৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৫২২; সিলসিলা সহীহah, হা/২৭৫৪।
১৯১ সহীহ বুখারী, হা/৬৩১২; আবু দাউদ, হা/৫০৫১; আদাবুল মুফরাদ, হা/১২০৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩৩১৯; শু'আবুল ঈমান, হা/৪৩৮৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৫৩৯।
১৯২ সহীহ বুখারী, হা/৫০১৭; আবু দাউদ, হা/৫০৫৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪৮৯৭।
১৯৩ সহীহ মুসলিম, হা/১৮২৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩১৯৪; আদাবুল মুফরাদ, হা/৬৯৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৬৩৬; বায়হাকী, হা/১৩১৬৩।
১৯৪ মুয়াত্তা মালেক, হা/২৬৩; সহীহ বুখারী, হা/১১৪৭; সহীহ মুসলিম, হা/১৭৫৭।
১৯৫ সহীহ মুসলিম, হা/৭০৬৯; আবু দাউদ, হা/৫০৫৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৫৭৪; আদাবুল মুফরাদ, হা/১২০৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৫৪০।
১৯৬ সহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৬৮৫; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৬৩১; বায়হাকী, হা/১০১২৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৩৫৯; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/২৫৫৮।