📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর হাসি
রাসূলুল্লাহ মুচকি হাসি হাসতেন:
১৬৮. আবদুল্লাহ ইবনে হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ এর চেয়ে অধিক মুচকি হাস্যকারী ব্যক্তি কাউকে দেখিনি। ১৬৭
ব্যাখ্যা: পূর্বের অধ্যায়ের এক হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে- রাসূলুল্লাহ সর্বদা চিন্তিত থাকতেন। আর এ হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি বেশি বেশি মুচকি হাসতেন। এ দু'হাদীসের সমন্বয় হলো রাসূলুল্লাহ এর অন্তর সর্বদা চিন্তিত থাকত। কিন্তু লোকদের তিনি বুঝতে দিতেন না তাই তাদের সাথে হাসি মুখে কথা বলতেন। এটা ছিল তাঁর উন্নত চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْحَارِثِ ﷺ، قَالَ : مَا كَانَ ضَحِكُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِلَّا تَبَسُمًا
১৬৯. আবদুল্লাহ ইবনে হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সবসময় মুচকী হাসতেন।
রাসূলুল্লাহ হাসার সময় দাঁত দেখা যেত:
عَنْ أَبِي ذَرٍ ﷺ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : إِنِّي لَأَعْلَمُ أَوَّلَ رَجُلٍ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ وَآخَرَ رَجُلٍ يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ ، يُؤْتَى بِالرَّجُلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُقَالُ : أَعْرِضُوا عَلَيْهِ صِغَارَ ذُنُوبِهِ وَيُخْيَأُ عَنْهُ كِبَارُهَا ، فَيُقَالُ لَهُ : عَمِلْتَ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا كَذَا ، وَهُوَ مُقِرٌّ لَا يُنْكِرُ ، وَهُوَ مُشْفِقٌ مِنْ كِبَارِهَا فَيُقَالُ : أَعْطُوهُ مَكَانَ كُلِّ سَيِّئَةٍ عَمِلَهَا حَسَنَةٌ ، فَيَقُوْلُ : إِنَّ لِيْ ذُنُوبًا مَا أَرَاهَا هَهُنَا. قَالَ أَبُو ذَرٍ : فَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ ضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ
১৭০. আবু যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, নিশ্চয় আমি সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী ব্যক্তিকে ভালোভাবে জানি। আর যে ব্যক্তি সর্বশেষ জাহান্নাম হতে নাজাত পাবে, তাকেও জানি। কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে (আল্লাহর নিকট উপস্থিত করে) বলা হবে, এর সগীরা গুনাহগুলো উপস্থাপন করো এবং কবীরা গুনাহগুলো গোপন করে রাখো।
এরপর তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি অমুক অমুক দিনে এই এই গুনাহ করেছ। তখন সে ব্যক্তি সবগুলো স্বীকার করবে এবং একটিও অস্বীকার করবে না। এরপর সে তার কবীরা গুনাহসমূহ সম্পর্কে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে। তখন ঘোষণা দেয়া হবে যে, তার প্রতিটি মন্দ কাজের বিনিময়ে একটি করে নেকী লিপিবদ্ধ করো। এরপর সে বলবে, নিশ্চয় এখনও আমার অনেক গুনাহ বাকী আছে, যা দেখতে পাচ্ছি না। আবু যর (রাঃ) বলেন, তখন আমি দেখলাম, রাসূলুল্লাহ মুচকি হাসছেন; এমনকি তাঁর সাদা দাঁতগুলো দেখা যাচ্ছিল। ১৬৮
عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ﷺ قَالَ : مَا حَجَبَنِي رَسُولُ اللهِ ﷺ مُنْذُ أَسْلَمْتُ وَلَا رَانِي إِلَّا ضَحِكَ
১৭১. জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার ইসলাম গ্রহণের পর হতে রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে (তাঁর কাছে আসতে) বাধা দেননি। আর আমাকে দেখা মাত্রই তিনি হাসতেন। ১৬৯
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ ﷺ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : إِنِّي لَأَعْرِفُ أُخِرَ أَهْلِ النَّارِ خُرُوجًا . رَجُلٌ يَخْرُجُ مِنْهَا زَحْفًا ، فَيُقَالُ لَهُ : انْطَلِقُ فَادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ : فَيَذْهَبُ لِيَدْخُلَ الْجَنَّةَ . فَيَجِدُ النَّاسَ قَدْ أَخَذُوا الْمَنَازِلَ ، فَيَرْجِعُ فَيَقُولُ : يَا رَبِّ ، قَدْ أَخَذَ النَّاسُ الْمَنَازِلَ ، فَيُقَالُ لَهُ : أَتَذْكُرُ الزَّمَانَ الَّذِي كُنْتَ فِيْهِ ، فَيَقُولُ : نَعَمْ قَالَ : فَيُقَالُ لَهُ : تَمَنَّ قَالَ : فَيَتَمَنَّى ، فَيُقَالُ لَهُ : فَإِنَّ لَكَ الَّذِي تَمَنَّيْتَ وَعَشَرَةَ أَضْعَافِ الدُّنْيَا " قَالَ : فَيَقُولُ : تَسْخَرُ بِي وَأَنْتَ الْمَلِكُ قَالَ : فَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ ضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ
১৭২. আবদুল্লাহ ইবনে মাস'উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি সর্বশেষে জাহান্নাম হতে নাজাত পেয়ে বের হয়ে আসবে, আমি তাঁকে চিনি। সে হামাগুড়ি দিয়ে জাহান্নাম হতে বের হয়ে আসবে। এরপর তাকে বলা হবে, এসো। জান্নাতে প্রবেশ করো। ঘোষণা মুতাবিক সে (জান্নাতের দিকে) যাবে এবং সেখানে প্রবেশ করে দেখতে পাবে কোথাও ঠাঁই নাই। লোকেরা সকল স্থান অধিকার করে আছে। অতঃপর.সে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসবে এবং বলবে, হে আমার প্রতিপালক! লোকেরা তো সব স্থানই দখল করে আছে। তখন তাকে বলা হবে, তোমার সে কালের (দুনিয়ার) কথা স্মরণ আছে কি, যেখানে তুমি অবস্থান করেছিলে? সে বলবে, জি-হ্যাঁ। সবই আমার মনে পড়ে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তাকে বলা হবে, তোমার মনে যা চায়, তা আকাঙ্ক্ষা করো। তিনি বলেন, তখন সে আকাঙ্ক্ষা করবে। এরপর তাকে বলা হবে, তুমি যে ইচ্ছা পোষণ করলে তাই তোমার জন্য মঞ্জুর করা হলো এবং তোমাকে দশ দুনিয়ার সমান দেয়া হবে। তিনি বলেন, তখন সে বলবে, আপনি কি আমার সঙ্গে ঠাট্টা করছেন অথচ আপনি আমার মালিক সারা জাহানের সম্রাট! তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, এমতাবস্থায় আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে মুচকি হাসি দিতে দেখলাম, এমনকি তাঁর দাঁত দেখা যাচ্ছিল। ১৭০
عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ ، قَالَ : شَهِدْتُ عَلِيًّا ، أُتِيَ بِدَابَّةٍ لِيَرْكَبَهَا فَلَمَّا وَضَعَ رِجْلَهُ فِي الرِّكَابِ قَالَ : بِسْمِ اللَّهِ . فَلَمَّا اسْتَوَى عَلَى ظَهْرِهَا قَالَ : الْحَمْدُ لِلهِ ، ثُمَّ قَالَ : ﴿سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ ، وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ ﴾ ثُمَّ قَالَ : الْحَمْدُ لِلَّهِ ثَلَاثًا ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ ثَلَاثًا . سُبْحَانَكَ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ، فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ ، ثُمَّ ضَحِكَ ، فَقُلْتُ لَهُ : مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ ؟ قَالَ : رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ صَنَعَ كَمَا صَنَعْتُ ثُمَّ ضَحِكَ فَقُلْتُ : مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ يَا رَسُوْلَ اللهِ ؟ قَالَ : إِنَّ رَبَّكَ لَيَعْجَبُ مِنْ عَبْدِهِ إِذَا قَالَ : رَبِّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ غَيْرُكَ
১৭৩. আলী ইবনে রবী'আ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আলী (রাঃ) এর সামনে উপস্থিত হলাম। তখন তাঁর কাছে একটি জানোয়ারকে আরোহণের জন্য আনা হলো। যখন তিনি সে পশুটির পাদানীতে পা রাখলেন এবং বললেন, "বিসমিল্লা-হ”। অতঃপর জানোয়ারের পিঠে যখন সোজা হয়ে বসলেন তখন বললেন, "আলহাম্দু লিল্লা-হ” (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর) অতঃপর বললেন:
﴿سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ ، وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ﴾ "সুবহা-নাল্লাযী সাখারা লানা- হা-যা- ওয়ামা- কুন্না- লাহ্ মুকুরিনীন, ওয়া ইন্না- ইলা- রব্বিনা- লামুনকুলিবৃন" অর্থাৎ হে আল্লাহ! মহান সত্তার পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি, যিনি আমাদের জন্য একে বশীভূত করেছেন। আমরা একে বশীভূত করতে সক্ষম নই। বস্তুত আমরা তার দিকে প্রত্যাবর্তন করছি। ১৭১
এরপর তিনি ৩ বার "আলহাম্দু লিল্লা-হ” এবং ৩ বার "বিসমিল্লা-হ” পাঠ করলেন। এরপর এ দু'আ পড়লেন:
سُبْحَانَكَ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ، فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ "সুবহা-নাকা ইন্নী যলামতু নাক্সী ফাগফিরলী ফাইন্নahু লা- ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আন্তা।" অর্থাৎ আল্লাহ পবিত্র! নিশ্চয় আমি আমার নিজের উপর সীমালঙ্ঘন করেছি। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। কারণ, আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমাকারী আর কেউ নেই।
এরপর তিনি হাসলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম, আমীরুল মু'মিনীন! আপনার হাসি পেল? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ কে এমনভাবে দেখেছি যেভাবে আমি এইমাত্র কথা ও কাজ সম্পন্ন করলাম। এরপর তিনি মুচকি হাসি দিলেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোন জিনিস আপনাকে হাসাল? তিনি বললেন, তোমার প্রতিপালক তাঁর বান্দার এ কথা খুবই পছন্দ করেন যখন সে বলে, হে আমার প্রতিপালক! আমার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দাও, এ বিশ্বাস রেখে যে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না। ১৭২
টিকাঃ
১৬৭ মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৭৫০; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৩৫০; শু'আবুল ঈমান, হা/৭৬৮৭।
১৬৮ মুসনাদে আহমাদ, হা/২১৪৩০; মুসনাদুল বাযযার, হা/৩৯৮৭; শারহুস সুন্নাহ, হা/৪৩৬০; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৩০৫২।
১৬৯ সহীহ বুখারী, হা/৩০৩৫; সহীহ মুসলিম, হা/৬৫১৮; ইবনে মাজাহ, হা/১৫৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৯১৯৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৭২০০; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৩৪৯।
১৭০ সহীহ মুসলিম, হা/৪৮০; ইবনে হিব্বান, হা/৭৪৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৫৯৫; শারহুস সুন্নাহ, হা/৪৩৫৬।
১৭১ সূরা যুখরুফ- ১৪।
১৭২ মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৫৩; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/১৩৪; সুনানুল কাবীর লিন নাসাঈ, হা/৮৭৪৮: শারহুস সুন্নাহ, হা/১৩৪৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৬৯৮।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর কৌতুক
রাসূলুল্লাহ আনাস (রাঃ) এর সাথে কৌতুক করতেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ لَهُ : يَا ذَا الْأُذُنَيْنِ. قَالَ مَحْمُودٌ : قَالَ أَبُو أُسَامَةً : يَعْنِي يُمَازِحُهُ
১৭৪. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার নবী তাকে সম্বোধন করে (কৌতুকচ্ছলে) বলেছিলেন, 'হে দু'কানবিশিষ্ট!'। মাহমূদ (রহঃ) বলেন, আবু উসামা (রহঃ) এর অর্থ করেছেন- "তিনি তার সাথে কৌতুক করেছেন"।১৭৩
আনাস (রাঃ) এর ছোট ভাইয়ের সাথে কৌতুক করতেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : إِنْ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَيُخَالِطُنَا حَتَّى يَقُوْلَ لِأَخِي صَغِيرٍ : يَا أَبَا عُمَيْرٍ ، مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ ؟ قَالَ أَبُو عِيسَى : وَفِقْهُ هُذَا الْحَدِيْثِ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يُمَانِحُ وَفِيهِ أَنَّهُ كَنَّى غُلَامًا صَغِيرًا فَقَالَ لَهُ: يَا أَبَا عُمَيْرٍ ، وَفِيْهِ أَنَّهُ لَا بَأْسَ أَنْ يُعْطَى الصَّبِيُّ الطَّيْرَ لِيَلْعَبَ بِهِ، وَإِنَّمَا قَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ : يَا أَبَا عُمَيْرٍ ، مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ ؟ لِأَنَّهُ كَانَ لَهُ نُغَيْرٌ يَلْعَبُ بِهِ فَمَاتَ ، فَحَزِنَ الْغُلَامُ عَلَيْهِ فَمَازَحَهُ النَّبِيُّ ﷺ : يَا أَبَا عُمَيْرٍ ، مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ ؟
১৭৫. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী আমাদের সাথে কৌতুক করতেন। এমনকি একবার তিনি আমার ছোট ভাইকে (কৌতুক করে) বললেন, হে আবু উমায়ের! কী হলো নুগায়ের? ১৭৪ ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এ হাদীসে অনুধাবনযোগ্য বিষয় হলো, আনাস (রাঃ) এর ছোট ভাইয়ের নুগায়ের নামে একটি পাখি ছিল, যা নিয়ে সে খেলা করত। পাখিটি মরে গেল। এতে সে দুঃখিত হলো। তখন নবী তার সাথে কৌতুক করলেন এবং বললেন, ওহে আবু উমায়ের! কী হলো তোমার নুগায়ের? এতে বুঝা গেল যে, ছোট বাচ্চাদের পাখি নিয়ে খেলতে বাধা নেই।
রাসূলুল্লাহ বাস্তবসম্মত কৌতুক করতেন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ تُدَاعِبُنَا قَالَ : إِنِّي لَا أَقُولُ إِلَّا حَقًّا
১৭৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁরা (সাহাবায়ে কেরাম) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের সাথে কৌতুক করছেন? তিনি বললেন, আমি কৌতুকচ্ছলে কখনো সত্য ছাড়া কিছু বলি না। ১৭৫
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، أَنَّ رَجُلًا اسْتَحْمَلَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَقَالَ : إِنِّي حَامِلُكَ عَلَى وَلَدِ نَاقَةٍ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ ، مَا أَصْنَعُ بِوَلَدِ النَّاقَةِ؟ فَقَالَ : وَهَلْ تَلِدُ الْإِبِلَ إِلَّا النُّوقُ
১৭৭. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ এর নিকট একটি বাহন চেয়েছিল, তিনি বললেন, আমি তোমাকে একটি উটনীর বাচ্চা দিচ্ছি। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি উটনীর বাচ্চা দিয়ে কী করব? রাসূলুল্লাহ বললেন, উটমাত্রই তো কোন না কোন উটনীর বাচ্চা। ১৭৬
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ كَانَ اسْمُهُ زَاهِرًا وَكَانَ يُهْدِي إِلَى النَّبِيِّ ﷺ هَدِيَّةً مِنَ الْبَادِيَةِ ، فَيُجَهِزُهُ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : إِنَّ زَاهِرًا بَادِيَتُنَا وَنَحْنُ حَاضِرُوهُ وَكَانَ يُحِبُّهُ وَكَانَ رَجُلًا دَمِيمًا فَأَتَاهُ النَّبِيُّ ﷺ يَوْمًا وَهُوَ يَبِيعُ مَتَاعَةَ فَاحْتَضَنَهُ مِنْ خَلْفِهِ وَهُوَ لَا يُبْصِرُهُ ، فَقَالَ : مَنْ هُذَا ؟ أَرْسِلْنِي ، فَالْتَفَتَ فَعَرَفَ النَّبِيُّ ﷺ فَجَعَلَ لَا يَأْلُوْ مَا الْصَقَ ظَهْرَهُ
بِصَدْرِ النَّبِيِّ ﷺ حِينَ عَرَفَهُ ، فَجَعَلَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ : مَنْ يَشْتَرِي هَذَا الْعَبْدَ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِذًا وَاللَّهِ تَجِدُ نِي كَاسِدًا ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : لَكِنْ عِنْدَ اللهِ لَسْتَ بِكَاسِدٍ أَوْ قَالَ : أَنتَ عِنْدَ اللَّهِ غَالٍ
১৭৮. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। যাহির (ইবনে হিযাম আশজায়ী বদরী) নামে এক বেদুঈন প্রায়ই নবী কে হাদিয়া দিত। যখন সে চলে যেতে উদ্যত হতো তখন নবী বলতেন, যাহির আমাদের পল্লিবন্ধু, আমরা তার শহুরে বন্ধু। সে কদাকার হলেও নবী তাকে ভালোবাসতেন। একবার সে বেচাকেনা করছিল আর নবী তার অলক্ষ্যে পেছন দিক থেকে ধরে ফেললেন। তারপর সে বলল, কে? আমাকে ছেড়ে দাও! দৃষ্টিপাত করতেই সে নবীকে দেখে তার পিঠ আরো নবী এর বুকের সাথে মিলালো। এরপর নবী বললেন, এ গোলামটিকে কে ক্রয় করবে? যাহির বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে বিক্রি করে কেবল অচল মুদ্রাই পাবেন। এরপর তিনি বললেন, কিন্তু তুমি আল্লাহর নিকট অচল নও। অথবা তিনি বলেছেন, আল্লাহর নিকট তোমার উচ্চমর্যাদা রয়েছে। ১৭৭
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ পেছন থেকে এসে যাহের (রাঃ) কে জড়িয়ে ধরা ছিল রসিকতা। যাহের (রাঃ) কে গোলাম আখ্যায়িত করাও ছিল এক ধরনের কৌতুক। কারণ তিনি গোলাম ছিলেন না। রাসূলুল্লাহ মজা করার জন্য গোলাম বলেছেন।
عَنِ الْحَسَنِ قَالَ : أَتَتْ عَجُوْزُ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ ، فَقَالَتْ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، ادْعُ اللَّهَ أَنْ يُدْخِلَنِي الْجَنَّةَ ، فَقَالَ : يَا أُمَّ فُلَانٍ ، إِنَّ الْجَنَّةَ لَا تَدْخُلُهَا عَجُوْرٌ قَالَ : فَوَلَّتْ تَبْكِي فَقَالَ : أَخْبِرُوهَا أَنَّهَا لَا تَدْخُلُهَا وَهِيَ عَجُوزُ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُوْلُ : ﴿إِنَّا أَنْشَأْنَاهُنَّ إِنْشَاءُ فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا عُرُبًا أَتْرَابًا
১৭৯. হাসান (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার এক বৃদ্ধা মহিলা নবী এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে দু'আ করুন যেন আমি. জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। তিনি বললেন, ওহে! কোন বৃদ্ধা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। বর্ণনাকারী বলেন, (তা শুনে) সে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল। নবী বললেন, তাকে এ মর্মে খবর দাও যে, তুমি বৃদ্ধাবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে না। কারণ, আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, "আমি তাদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি। আর তাদেরকে করেছি কুমারী- (সূরা ওয়াক্বিয়া- ৩৬)। ১৭৮
টিকাঃ
১৭৩ আবু দাউদ, হা/৫০০৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২১৮৫; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৬৬১; জমেউস সগীর, হা/১৩৮৬৮; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬০৬।
১৭৪ সহীহ বুখারী, হা/৬১২৯; সহীহ মুসলিম, হা/৫৭৪৭; আবু দাউদ, হা/৪৯৭১; ইবনে মাজাহ, হা/৩৭২০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২১৫৮; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/১০৯; আদাবুল মুফরাদ, হা/৮৪৭; জামেউস সগীর, হা/১৩৭৮৮।
১৭৫ মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৭০৮; মুসানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/২১৭০৫; আদাবুল মুফরাদ, হা/২৬৫; শারহুস সুন্নah, হা/৩৬০২; মু'জামুল আওসাত, হা/৮৭০৬; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৭২৬।
১৭৬ আবু দাউদ, হা/৫০০০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩৮৪৪; আদাবুল মুফরাদ, হা/২৬৮; বায়হাকী, হা/২০৯৫৭; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬০৫।
১৭৭ মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৬৬৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৭৯০; বায়হাকী, হা/২০৯৬১; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬০৪; মুসনাদুল বাযযার, হা/৬৯২২।
১৭৮ সিলসিলা সহীহাহ, হা/২৯৮৭; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬০৬।
📄 কাব্যিক ছন্দে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর কথা
বিভিন্ন হাদীসের আলোকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ কোন কোন কবির কবিতার অংশ বিশেষ আবৃত্তি করেছেন। কিন্তু তিনি কখনো নিজে কোন কবিতা রচনা করেননি। তবে মাঝে মধ্যে তাঁর কোন কোন কথা ছন্দযুক্ত হয়েছে। বিষয়বস্তুর আলোকে কখনো কবিদের নিন্দা করা হয়েছে আবার কখনো প্রশংসা করা হয়েছে। এটা নির্ভর করে সৃজনতার উপর। যে মন্দভাবে রচনা করবে সেটা অবশ্যই নিন্দাযোগ্য। তবে লক্ষণীয় হলো অধিকাংশ কবি আল্লাহর যিক্র থেকে গাফিল থাকে।
নবী ইবনে রাওয়াহার কবিতা আবৃত্তি করতেন:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : قِيلَ لَهَا : هَلْ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَتَمَثَلُ بِشَيْءٍ مِنَ الشَّعْرِ ؟ قَالَتْ : كَانَ يَتَمَثَلُ بِشِعْرِ ابْنِ رَوَاحَةَ ، وَيَتَمَثَلُ بِقَوْلِهِ : وَيَأْتِيكَ بِالْأَخْبَارِ مَنْ لَمْ تُزَوَّدِ
১৮০. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কাব্যের ছন্দে কথাবার্তা বলেন কিনা সে ব্যাপারে তাঁকে একবার জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন, নবী ইবনে রাওয়াহার কবিতা আবৃত্তি করতেন। আবার কখনো বলতেন-
وَيَأْتِيكَ بِالْأَخْبَارِ مَنْ لَمْ تُزَوَّدِ অর্থাৎ তোমার কাছে এমন ব্যক্তি সুসংবাদ নিয়ে আসেন, যাকে তুমি মজুরী দাও না। ১৭৯
একবার আঙ্গুল রক্তাক্ত হয়ে গেলে এ কবিতা পাঠ করেছিলেন:
عَنْ جُنْدُبِ بْنِ سُفْيَانَ الْبَجَلِي ، قَالَ : أَصَابَ حَجَرٌ أُصْبُعَ رَسُوْلِ اللَّهِ ﷺ فَدَمِيَتْ ، فَقَالَ : هَلْ أَنْتِ إِلَّا أُصْبُعْ دَمِيْتِ ، وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ مَا لَقِيْتِ .
১৮১. জুনদুব ইবনে সুফিয়ান আল বাজালী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) প্রস্তারাঘাতে রাসূলুল্লাহ এর একটি আঙ্গুল রক্তাক্ত হয়ে যায়। তখন তিনি বলেন,
هَلْ أَنْتِ إِلَّا أُصْبُعْ دَمِيْتِ ، وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ مَا لَقِيْتِ অর্থাৎ তুমি একটি আঙ্গুল যার রক্ত প্রবাহিত হয়েছে, তাও আল্লাহর রাস্তায়, যার প্রতিদান পাবে। ১৮০
রাসূলুল্লাহর হাওয়াযিন গোত্রের সাথে যুদ্ধের সময় কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন :
عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ : قَالَ لَهُ رَجُلٌ : أَفَرَرْتُمْ عَنْ رَسُوْلِ اللَّهِ ﷺ يَا أَبَا عُمَارَةَ ؟ فَقَالَ : لَا وَاللَّهِ مَا وَلَّى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ . وَلَكِنْ وَلَّى سَرَعَانُ النَّاسِ تَلَقَّتُهُمْ هَوَازِنُ بِالنَّبْلِ وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَى بَغْلَتِهِ ، وَأَبُو سُفْيَانَ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ آخِذُ بِلِجَامِهَا وَرَسُولُ اللَّهِ يَقُوْلُ : أَنَا النَّبِيُّ لَا كَذِبْ أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبُ
১৮২. বারা ইবনে আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করল, আপনারা কি নবী কে রণক্ষেত্রে রেখে পালিয়ে গিয়েছিলেন? উত্তরে তিনি বললেন, না- নবী কখনো পালিয়ে যাননি। বরং দলের কিছুসংখ্যক তাড়াহুড়াপ্রবণ লোক হাওয়াযিনের তীরের আঘাতে টিকতে না পেরে পিছু হটে এসেছিল। (বেশিরভাগ ছিল বনু সুলায়ম-এর লোক এবং মক্কার নও মুসলিম) তখন নবী স্বীয় খচ্চরের উপর আরোহী ছিলেন। আর লাগাম ছিল আবু সুফইয়ানের হাতে। তখন নবী আবৃত্তি করছিলেন- انَا النَّبِيُّ لَا كَذِبُ ، أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبُ অর্থাৎ আমি মিথ্যা নবী নই, আমি আব্দুল মুত্ত্বালিবের (বীর) সন্তান।১৮১
ইবনে রাওয়াহা (রাঃ) নবী এর সামনে কবিতা আবৃত্তি করতেন:
عَنْ أَنَسٍ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ دَخَلَ مَكَةً فِي عُمْرَةِ الْقَضَاءِ ، وَابْنُ رَوَاحَةً يَمْشِي بَيْنَ يَدَيْهِ ، وَهُوَ يَقُولُ : خَلُّوا بَنِي الْكُفَّارِ عَنْ سَبِيلِهِ الْيَوْمَ نَضْرِبُكُمْ عَلَى تَنْزِيلِهِ ضَرْبًا يُزِيلُ الْهَامَ عَنْ مَقِيلِهِ وَيُذْهِلُ الْخَلِيلَ عَنْ خَلِيلِهِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ : يَا ابْنَ رَوَاحَةَ ، بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَفِي حَرَمِ اللَّهِ تَقُوْلُ الشَّعْرَ ، فَقَالَ : خَلِّ عَنْهُ يَا عُمَرُ . فَلَهِيَ أَسْرَعُ فِيهِمْ مِنْ نَضْحِ النَّبْلِ
১৮৩. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী যখন উমরাতুল কাযা পালনের উদ্দেশে মক্কায় প্রবেশ করেন তখন ইবনে রাওয়াহা (রাঃ) তাঁর সামনে চলছেন এবং বলছেন: خَلُّوا بَنِي الْكُفَّارِ عَنْ سَبِيلِهِ الْيَوْمَ نَضْرِبُكُمْ عَلَى تَنْزِيلِهِ ضَرْبًا يُزِيلُ الْهَامَ عَنْ مَقِيلِهِ وَيُذْهِلُ الْخَلِيلَ عَنْ خَلِيلِهِ অর্থাৎ হে কাফির সন্তানরা! তাঁর চলার পথ ছেড়ে দাও। আজ তাঁকে বাধা দিলে তোমাদেরকে এমন শায়েস্তা করব যে, কাঁধ থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং বন্ধুর কথা ভুলে যাবে।
উমর (রাঃ) তাকে বললেন, ইবনে রওয়াহা! আল্লাহর হারামে এবং রাসূলুল্লাহ এর সম্মুখে কবিতা আবৃত্তি করছ? নবী বললেন, উমর! তাকে বলতে দাও। কারণ, তার কবিতা ওদের জন্য তীরের আঘাতের চেয়েও অধিক কার্যকর। ১৮২
সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ এর সামনে কবিতা আবৃত্তি করতেন :
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ ، قَالَ : جَالَسْتُ النَّبِيَّ ﷺ اَكْثَرَ مِنْ مِائَةِ مَرَّةٍ وَكَانَ أَصْحَابُهُ يَتَنَاشَدُونَ الشَّعْرَ وَيَتَذَا كَرُونَ أَشْيَاءَ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ وَهُوَ سَاكِتْ وَرُبَّمَا تَبَسَّمَ مَعَهُمْ
১৮৪. জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ এর মজলিসে শতাধিক বার বসেছি। আর তাতে তাঁর সাহাবীগণ কবিতা আবৃত্তি করতেন এবং জাহেলি যুগের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করতেন। আর তিনি কখনো চুপ থাকতেন। আবার কখনো তাদের সাথে মুচকি হাসতেন।১৮০
রাসূলুল্লাহর এর কাছে শ্রেষ্ঠতম উদ্ধৃতি :
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ لهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ : أَشْعَرُ كَلِمَةٍ تَكَلَّمَتْ بِهَا الْعَرَبُ كَلِمَةُ لَبِيْدٍ : أَلَا كُلُّ شَيْءٍ مَا خَلَا اللَّهِ بَاطِلٌ
১৮৫. আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আরব কবিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বাণী হচ্ছে লাবীদের এই চরণ :
آلَا كُلُّ شَيْءٍ مَا خَلَا اللَّهَ بَاطِلٌ
অর্থাৎ সাবধান! আল্লাহ ছাড়া সব কিছুই ধ্বংসশীল। ১৮৪
ব্যাখ্যা: আরবের একজন সুবিখ্যাত কবি ছিলেন লাবীদ ইবনে রাবিয়া আল-আমিরী। তিনি তার গোত্রের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে রাসূলুল্লাহ এর নিকট এসে ইসলাম কবুল করেন। ইসলাম কবুলের পর তিনি আর কবিতা রচনা করেননি। তিনি বলতেন, আমার জন্য কুরআনই যথেষ্ট। লাবীদের এ উক্তিকে রাসূলুল্লাহ সবচেয়ে সত্য বলেছেন এজন্য যে, এটি কুরআনের নিচের আয়াতটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ
অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া সবকিছুই ধ্বংসশীল। ১৮৫
নবী অমুসলিম কবির কবিতাও শ্রবণ করতেন:
عَنْ عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ ، عَنْ أَبِيْهِ قَالَ : كُنْتُ رِدْفَ النَّبِيِّ ﷺ فَأَنْشَدْتُهُ مِائَةَ قَافِيَةٍ مِنْ قَوْلِ أُمَيَّةَ بْنِ أَبِي الصَّلْتِ الثَّقَفِي ، كُلَّمَا انْشَدْتُهُ بَيْتًا قَالَ لِيَ النَّبِيُّ ﷺ : هِيْهِ حَتَّى انْشَدْتُهُ مِائَةٌ يَعْنِي بَيْتًا فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : إِنْ كَادَ لَيُسْلِمُ
১৮৬. আমর ইবনে শারীদ (রাঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একবার আমি বাহনে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর পেছনে বসা ছিলাম। তারপর আমি তাঁকে উমাইয়্যা ইবনে আবূ-সালত বিরচিত একশ' চরণ বিশিষ্ট একটি কবিতা আবৃত্তি করে শোনালাম। কবিতা শেষ হলে তিনি আমাকে বললেন, আরো শোনাও। এরপর তিনি বললেন, সে ইসলাম গ্রহণের কাছাকাছি এসে গেছে। ১৮৬
ব্যাখ্যা: উমাইয়া ইবনে আবু সালত জাহিলী যুগের একজন স্বনামধন্য বিখ্যাত কবি ছিলেন। তাঁর কবিতাতে হক্ব ও সত্য কথা ফুটে উঠত। তিনি জাহেলী যুগেও ইবাদাত-বন্দেগী করতেন এবং পুনরুত্থানে বিশ্বাস রাখতেন। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তিনি ইসলাম গ্রহণের দার প্রান্তে এসেছিলেন। তিনি ইসলামের যুগ পেয়েছিলেন; কিন্তু ইসলাম গ্রহণের তাওফীক হয়নি।
নবী কবিতা আবৃত্তি করার উদ্দেশ্যে হাসান (রাঃ)১৮৭ এর জন্য মসজিদে একটি মিম্বার তৈরি করেছিলেন:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَضَعُ لِحَسَّانَ بْنِ ثَابِتٍ مِنْبَرًا فِي الْمَسْجِدِ يَقُوْمُ عَلَيْهِ قَائِمًا يُفَاخِرُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَوْ قَالَ : يُنَافِحُ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَيَقُولُ : إِنَّ اللَّهَ يُؤَيِّدُ حَسَّانَ بِرُوحِ الْقُدُسِ مَا يُنَافِحُ أَوْ يُفَاخِرُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ
১৮৭. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ হাসান ইবেন সাবিত (রাঃ)-এর জন্য মসজিদে একটি মিম্বার স্থাপন করেছিলেন যেন তিনি রাসূলুল্লাহ এর প্রশংসার কবিতা পাঠ করেন অথবা তিনি বলেছেন, যেন তিনি রাসূলুল্লাহ এর পক্ষ হতে কাফিরদের নিন্দাবাদের উত্তর দেন। রাসূলুল্লাহ বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ! রূহুল কুদ্স্স [জিবরীল (আঃ)] দ্বারা হাসানকে সাহায্য করেন যতক্ষণ সে রাসূলুল্লাহ এর প্রশংসা করবে কিংবা কাফিরদের নিন্দার উত্তর দেবে। ১৮৮
টিকাঃ
১৭৯ সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/১০৭৬৯; আদাবুল মুফরাদ, হা/৮৬৭; বায়হাকী, হা/২০৯০৩।
১৮০ সহীহ বুখারী, হা/৬১৪৬; সহীহ মুসলিম, হা/৪৭৫০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৮১৯; জমেউস সগীর, হা/১২৯৭৯।
১৮১ সহীহ বুখারী, হা/২৮৭৪; সহীহ মুসলিম, হা/৪৭১৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৪৭৭০; জামেউস সগীর, হা/২৩৩১।
১৮২ সুনানে নাসাঈ, হা/২৮৭৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৪০৪।
১৮৩ ইবনে হিব্বান, হা/৫৭৮১।
১৮৪ সহীহ মুসলিম, হা/৬০২৫; ইবনে হিব্বান, হা/৫৭৮৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/১০২৩৫; জামেউস সগীর, হা/১০০৬।
১৮৫ সূরা ফুরকান- ৮৮।
১৮৬ সুনানে কুবরা লিল বায়হাকী, হা/২১৫৬০; সহীহ মুসলিম, হা/৬০২২।
১৮৭ হাসান ইবনে সাবিত (রাঃ) ছিলেন বিখ্যাত একজন সাহাবী কবি। তার উপাধি ছিল شَاعِرُ النَّبِيّ তথা নবী এর কবি।
১৮৮ আবু দাউদ, হা/৫০১৭; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৬০৫৮; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৩৫০১; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৪০৮; সিলসিলাহ সহীহাহ, হা/১৬৫৭।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর রাত্রে গল্প বলা
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : جَلَسَتْ إِحْدَى عَشْرَةَ امْرَأَةٌ فَتَعَاهَدْنَ وَتَعَاقَدْنَ أَنْ لَا يَكْتُمْنَ مِنْ أَخْبَارِ أَزْوَاجِهِنَّ شَيْئًا : فَقَالَتِ الْأُولَى : زَوْجِي لَحْمُ جَمَلٍ غَةٍ عَلَى رَأْسِ جَبَلٍ وَعْرٍ ، لَا سَهْلٌ فَيُرْتَقُى ، وَلَا سَمِينٌ فَيُنْتَقَلُ . قَالَتِ الثَّانِيَةُ : زَوْجِي لَا أَبُثُ خَبَرَهُ ، إِنِّي أَخَافُ أَنْ لَا آذَرَهُ ، إِنْ أَذْكُرْهُ اذْكُرْ عُجَرَةً وَبُجَرَةً . قَالَتِ الثَّالِثَةُ : زَوْجِي العَشَنَقُ ، إِنْ اَنْطِقُ أَطَلَّقْ . وَإِنْ أَسْكُتُ أُعَلَّق . قَالَتِ الرَّابِعَةُ : زَوْجِي كَلَيْلِ تِهَامَةَ ، لَا حَلٌّ وَلَا قُرٌّ ، وَلَا مَخَافَةَ وَلَا سَامَةَ ، قَالَتِ الْخَامِسَةُ : زَوْجِيْ إِنْ دَخَلَ فَهِدَ ، وَإِنْ خَرَجَ أَسِدَ ، وَلَا يَسْأَلُ عَمَّا عَهِدَ . قَالَتِ السَّادِسَةُ : زَوْجِيْ إِنْ أَكَلَ لَفَ ، وَإِنْ شَرِبَ اشْتَفَّ ، وَإِنِ اضْطَجَعَ التَّفَ ، وَلَا يُولِجُ الْكَفَّ لِيَعْلَمَ الْبَثَ . قَالَتِ السَّابِعَةُ : زَوْجِي عَيَايَاءُ أَوْ غَيَايَاءُ طَبَاقَاءُ كُلُّ دَاءٍ لَهُ دَاءٌ ، شَجَكِ أَوْ فَلَكِ أَوْ جَمَعَ كُلَّا لَكِ . قَالَتِ الثَّامِنَةُ : زَوْجِيِّ الْمَسُّ مَسُّ أَرْنَبِ وَالرِّيحُ رِيحُ زَرْنَبٍ . قَالَتِ التَّاسِعَةُ : زَوْجِي رَفِيعُ الْعِمَادِ طَوِيلُ النِّجَادِ عَظِيمُ الرَّمَادِ قَرِيبُ الْبَيْتِ مِنَ النَّادِ . قَالَتِ الْعَاشِرَةُ : زَوْجِي مَالِكٌ وَمَا مَالِكَ مَالِكٌ خَيْرٌ مِنْ ذَلِكِ ، لَهُ إِبِلَّ كَثِيرَاتُ الْمَبَارِكِ ، قَلِيْلَاتُ الْمَسَارِحِ . إِذَا سَمِعْنَ صَوْتَ الْمِزْهَرِ أَيْقَنَّ أَنَّهُنَّ هَوَالِكَ . قَالَتِ الْحَادِيَةَ عَشْرَةَ : زَوْجِيْ أَبُو زَرْعٍ وَمَا أَبُو زَرْعٍ ؟ أَنَاسَ مِنْ حُلِي أُذُنَ . وَمَلَا مِنْ شَحْمٍ عَضُدَيَّ ، وَبَجَّحَنِي فَبَجَحَتْ إِلَيَّ نَفْسِي ، وَجَدَنِيزُ فِي أَهْلِ غُنَيْمَةٍ بِشِقٍ فَجَعَلَنِي فِي أَهْلِ صَهِيْلٍ وَأَطِيطٍ وَدَائِسٍ وَمُنَةٍ ، فَعِنْدَهُ أَقُولُ فَلَا أُقَبَّحُ ، وَأَرْقُدُ فَأَتَصَبَحُ وَأَشْرَبُ فَأَتَقَبَّحُ . أُم أَبِي زَرْعٍ فَمَا أُم أَبِي زَرْعٍ ، عُلُوْمُهَا رَدَاحٌ ، وَبَيْتُهَا فَسَاحٌ . ابْنُ أَبِي زَرْعٍ ، فَمَا ابْنُ أَبِي زَرْعٍ . مَضْجَعُهُ كَمَسَلِ شَطْبَةٍ ، وَتُشْبِعُهُ ذِرَاعُ الْجَفْرَةِ ، بِنْتُ أَبِي زَرْعٍ ، فَمَا بِئْتُ أَبِي زَرْعٍ ، طَوْعُ أَبِيْهَا وَطَوْعُ أُمِّهَا ، مِلْءُ كِسَائِهَا ، وَغَيْظُ جَارَتِهَا ، جَارِيَةُ أَبِي زَرْعٍ ، فَمَا جَارِيَةً أَبِي زَرْعٍ ، لَا تَبْثُ حَدِيثَنَا تَبْثِيْنَا ، وَلَا تُنَقِّتُ مِيْرَتَنَا تَنْقِيْنَا ، وَلَا تَمْلَأُ بَيْتَنَا تَعْشِيشًا ، قَالَتْ : خَرَجَ أَبُو زَرْعٍ وَالْأَوْطَابُ تُمْخَضُ ، فَلَقِيَ امْرَأَةٌ مَعَهَا وَلَدَانِ لَهَا كَالْفَهْدَيْنِ ، يَلْعَبَانِ مِنْ تَحْتِ خَصْرِهَا بِرُمَّانَتَيْنِ . فَطَلَّقَنِي وَنَكَحَهَا ، فَنَكَحْتُ بَعْدَهُ رَجُلًا سَرِيًّا ، رَكِبَ شَرِيًّا ، وَأَخَذَ خَطِيًّا ، وَأَرَاحَ عَلَيَّ نَعَمَّا ثَرِيًّا .
وَأَعْطَانِي مِنْ كُلِّ رَائِحَةٍ زَوْجًا ، وَقَالَ : كُلِي أُمَّ زَيْعٍ ، وَمِيْرِي أَهْلَكِ ، فَلَوْ جَمَعْتُ كُلَّ شَيْءٍ أَعْطَانِيهِ . مَا بَلَغَ أَصْغَرَ انِيَةِ أَبِي زَرْعٍ ، قَالَتْ عَائِشَةُ : فَقَالَ لِي رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ : كُنْتُ لَكِ كَابِي زَرْعٍ لِأُمِّ زَرْعٍ
১৮৮. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার ১১ জন মহিলা এ মর্মে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলো যে, তারা তাদের নিজ নিজ স্বামী সম্পর্কে সব খুলে বলবে এবং কোন কিছুই গোপন করবে না।
প্রথম মহিলা বলল, আমার স্বামী অলস, অকর্মণ্য, দুর্বল উটের গোশততুল্য, তা আবার পর্বত চূড়ায় সংরক্ষিত; যা ধরাছোঁয়া দুঃসাধ্য। তার আচরণ রুক্ষ। ফলে তার কাছে যাওয়া যায় না। সে স্বাস্থ্যবানও নয়, আর তাকে ত্যাগও করতে পারছি না।
দ্বিতীয় মহিলা বলল, আমার স্বামী এমন যে, আমি আশংকা করছি, তার দোষত্রুটি বর্ণনা করে শেষ করতে পারব না। আর আমি যদি বর্ণনা করে দেই, তাহলে কেবল দোষত্রুটিই বর্ণনা করব।
তৃতীয় মহিলা বলল, আমার স্বামী দীর্ঘদেহ বিশিষ্ট, দেখতে কদাকার। আমি কথা বললে (উত্তরে আসে) তালাক। আর নীরব থাকলে সে তো ঝুলন্ত রশি (অর্থাৎ কিছু চাইলে বদ মেজাজের সম্মুখীন হতে হয় এবং নীরব থাকলে হতে হয় বঞ্চিত)।
চতুর্থ মহিলা বলল, আমার স্বামী তিহামার রাত্রির ন্যায়- না (প্রচণ্ড) গরম, আর না (প্রচণ্ড) ঠাণ্ডা। তার থেকে কোন ভয়-ভীতি কিংবা অস্বস্তির কারণ নেই।
পঞ্চম মহিলা বলল, আমার স্বামী ঘরে এলে মনে হয় চিতাবাঘ আর বাইরে বের হলে সে হয় সাহসী সিংহ। বাড়িতে কি ঘটল সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে না।
ষষ্ঠ মহিলা বলল, আমার স্বামী যখন খায়, তৃপ্তি ভরে খায়। আর পান করলে সব সাবাড় করে দেয় এবং কোন কিছু অবশিষ্ট রাখে না। আর যখন ঘুমাতে চায়, চাদর দেহে জড়িয়ে দেয়। আমার কোন বিপদাপদ আছে কি না তা হাত বাড়িয়েও দেখে না।
সপ্তম মহিলা বলল, আমার স্বামী অক্ষম, কথা বলতে পারে না, সব ধরনের রোগে আক্রান্ত। সে আমার মস্তক চূর্ণ করতে পারে অথবা মারধোর করে হাড়গোড় সব ভেঙ্গে দিতে পারে বা উভয়টিও করতে পারে।
অষ্টম মহিলা বলল, আমার স্বামীর পরশ খরগোশের ন্যায় কোমল। (তার ব্যবহৃত সুগন্ধি) জাফরানের সুগন্ধির ন্যায়।
নবম মহিলা বলল, আমার স্বামী উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ, দীর্ঘ দেহবিশিষ্ট, তার বৈঠকখানা ঘরের নিকটবর্তী।
দশম মহিলা বলল, আমার স্বামী হলো আমার মালিক। মালিকের প্রশংসা কী আর করব (উপরে বর্ণিত সকলের প্রশংসা একত্র করলেও তার গুণ গেয়ে
শেষ করা যাবে না)। তার রয়েছে অসংখ্য উট, অধিকাংশ সময় সেগুলো বাধাই থাকে। খুব কমই মাঠে চরানো হয়। এসব উট যখন বাদ্যের ঝংকার শোনে, তখন তারা নিশ্চিত হয়ে যায় যে, তাদেরকে যবেহ করা হবে।
একাদশ মাহিলা উম্মে যার'আ বলল, আমার স্বামী আবু যার'আ। আবু যার'আর কী আর প্রশংসা করব, সে তো অলংকার দিয়ে আমার দু'কান ভর্তি করে দিয়েছে, উপাদেয় খাবার খাইয়ে দু'বাহু চর্বিযুক্ত করে দিয়েছে। আমাকে খুবই স্বাচ্ছন্দ্যে রেখেছে। ফলে আমি আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছি। আমি ছিলাম বকরী রাখালের কন্যা, খুব দুঃখ-কষ্টের মধ্যে দিন অতিবাহিত করতে হতো। আমি এখন অসংখ্য ঘোড়া, উট ও বকরী পালের মধ্যে তথা পর্যাপ্ত ধন-সম্পদের মধ্যে আছি। আমি তাকে কিছু বললেও আমাকে মন্দ বলত না। সারাক্ষণ নিদ্রায় কাটালেও কিছুই বলত না। পর্যাপ্ত খাওয়ার পরও খাবার অবশিষ্ট থাকত।
উম্মে আবু যার'আর (একাদশ মহিলার শাশুড়ির) প্রশংসাই বা কি করব! তার বড় বড় পাত্রগুলো সর্বদা খানায় পরিপূর্ণ থাকতো। আর তার বাড়ির সীমানা সুবিশাল। ইবনে আবু যার'আ তরবারির ন্যায় সূক্ষ্ম, বকরীর একটি উরুর গোশত তার জন্য যথেষ্ট। আবু যার'আর কন্যা সম্পর্কেই কী বলব! পিতামাতার অনুগত, সুস্বাস্থ্যের অধিকারিণী, স্বাস্থ্যবান সতীনদের অন্তর্জালার কারণ। আবু যার'আর পরিচারিকার কথাই বা কি বলব! সে ঘরের গোপন তথ্য ফাঁস করে না। আমাদের খাবার বিনা অনুমতিতে হাত দেয় না। বাড়িতে কখনো আবর্জনা জমা করে রাখে না। সে (একাদশ মহিলা) বলল, আমি এমনই সুখ শান্তি, আদর সোহাগ সমৃদ্ধির মধ্যে দিনকাল কাটাচ্ছিলাম। এমন সময় একবার আবু যার'আ বাইরে যান এবং দেখতে পান যে, স্বাস্থ্যবান দুটি শিশু তাদের মায়ের স্তন নিয়ে খেলা করছে। এরপর আবু যার'আ আমাকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করে ফেলেন।
এরপর আমি একজন বিত্তশালী উষ্ট্রারোহী ব্যক্তিকে বিয়ে করি। সেও আমাকে পর্যাপ্ত সামগ্রী জোড়ায় জোড়ায় দিয়েছিল। সে স্বামী বলল, উম্মে যার'আ! তৃপ্তি সহকারে খাও এবং ইচ্ছেমতো তোমার বাপের বাড়িতে পাঠাও। সে মহিলা বলল, তার দান-দক্ষিণার যাবতীয় বস্তু একত্র করলে আবু যার'আর সামান্যও হবে না। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বললেন, আবু যার'আ যেমন উম্মে যার'আর জন্য, আমিও ঠিক তদ্রুপ তোমার জন্য। (কিন্তু কখনো আবু যার'আর মতো তোমাকে তালাক দেব না।) ১৮৯
ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে বুঝা যায়- এশার পর প্রয়োজনীয় জাগতিক কথা বলা জায়েয। বিশেষত পরিবারের মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে তাদের সাথে বিশ্বাসগত সমস্যা মুক্ত গল্প ও কিচ্ছা কাহিনী বলা জায়েয। এটা পরিবারের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপনের অংশ।
হাদীসের শিক্ষা এ হাদীস থেকে অনেক শিক্ষা লাভ হয়। ১. স্ত্রী-পরিবারের সাথে সদ্ভাবে জীবন-যাপন করা। ২. আয়েশা (রাঃ) এর বিশেষ ফযীলত ও মর্যাদা স্পষ্ট হয়ে উঠে। ৩. রাতে এশার পর প্রয়োজনীয় আলোচনা করা ও পরিবারের মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে ত্রুটিমুক্ত গল্প করা বৈধ। ৪. অতীত জাতীসমূহের ত্রুটিমুক্ত কিচ্ছাকাহিনী বর্ণনা করা জায়েয। ৫. কোন অনির্দিষ্ট ব্যক্তি; শ্রোতা যাকে চিনে না, তার দোষ বলা গীবতের অন্তর্ভুক্ত নয়।
টিকাঃ
১৮৯ সহীহ বুখারী, হা/৫১৮৯; সহীহ মুসলিম, হা/৬৪৫৮; ইবনে হিব্বান, হা/৭১০৪; জামেউস সগীর, হা/১৪১।