📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর বাচনভঙ্গি

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর বাচনভঙ্গি


রাসূলুল্লাহ এর কথা ছিল সুস্পষ্ট:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : مَا كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَسْرُدُ سَرْدَكُمْ هُذَا ، وَلَكِنَّهُ كَانَ بَيْنِ فَصْلٍ . يَحْفَظُهُ مَنْ جَلَسَ إِلَيْهِ
১৬৫. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ তোমাদের ন্যায় চটপটে তথা অস্পষ্টভাবে তাড়াতাড়ি কথা বলতেন না, বরং তাঁর প্রতিটি কথা ছিল সুস্পষ্ট। আর শ্রোতারা খুব সহজেই তা হৃদয়ঙ্গম করতে পারত। ১৬৪
রাসূলুল্লাহ কোন কোন কথা তিনবার বলতেন :
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ لَهُ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُعِيدُ الْكَلِمَةَ ثَلاَثًا لِيُعْقَلَ عَنْهُ
১৬৬. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ কোন কথা তিনবার বলতেন, যাতে (শ্রোতারা) ভালোভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে পারে। ১৬৫
ব্যাখ্যা: সহজে বোধগম্য নয় এমন বিষয় হলে বা শ্রোতা অধিক থাকলে তিন দিকে ফিরে তিনবার বলতেন। যাতে উপস্থিত সকলে ভালোভাবে বুঝে নিতে পারে। তাছাড়া কোন বিষয়ে অধিক গুরুত্ব প্রদানের জন্যও কোন কোন কথা তিনবার বলতেন।
রাসূলুল্লাহ এর বাচনভঙ্গি সম্পর্কে হিন্দ ইবনে আবু হালা (রাঃ) এর বর্ণনা :
عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِي ، قَالَ : سَأَلْتُ خَالِي هِنْدُ بْنُ أَبِي هَالَةَ ، وَكَانَ وَضَافًا ، فَقُلْتُ : صِفْ لِي مَنْطِقَ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مُتَوَاصِلَ الْأَحْزَانِ دَائِمَ الْفِكْرَةِ لَيْسَتْ لَهُ رَاحَةٌ ، طَوِيلُ السَّكْتِ ، لَا يَتَكَلَّمُ فِي غَيْرِ حَاجَةٍ ، يَفْتَتِحُ الْكَلَامَ وَيَخْتِمُهُ بِاسْمِ اللَّهِ تَعَالَى . وَيَتَكَلَّمُ بِجَوَامِعِ الْكَلِمِ ، كَلَامُهُ فَصْلٌ ، لَا فُضُولَ وَلَا تَقْصِيرَ . لَيْسَ بِالْجَافِي وَلَا الْمُهِيْنِ . يُعَظِمُ النِّعْمَةَ ، وَإِنْ دَقَّتْ لَا يَذُمُّ مِنْهَا شَيْئًا غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ يَكُن يَذُمُّ ذَوَاقًا وَلَا يَمْدَحُهُ ، وَلَا تُغْضِبُهُ الدُّنْيَا ، وَلَا مَا كَانَ لَهَا . فَإِذَا تُعْدِيَ الْحَقُّ لَمْ يَقُمْ لِغَضَبِهِ شَيْءٌ حَتَّى يَنْتَصِرَ لَهُ ، وَلَا يَغْضَبُ لِنَفْسِهِ ، وَلَا يَنْتَصِرُ لَهَا . إِذَا أَشَارَ أَشَارَ بِكَفِّهِ كُلِّهَا ، وَإِذَا تَعَجَّبَ قَلَبَهَا ، وَإِذَا تَحَدَّثَ اتَّصَلَ بِهَا ، وَضَرَبَ بِرَاحَتِهِ الْيُمْنَى بَطْنَ إِبْهَامِهِ الْيُسْرَى ، وَإِذَا غَضِبَ أَعْرَضَ وَأَشَاحَ ، وَإِذَا فَرِحَ غَضَّ طَرْفَهُ . جُلُّ ضَحِكِهِ التَّبَسُّمُ ، يَفْتَرُ عَنْ مِثْلِ حَبِّ الْغَمَامِ
১৬৭. হাসান ইবনে আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (আমার) মামা হিন্দ ইবনে আবু হালা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি রাসূলুল্লাহ এর অবয়ব ও আখলাক সম্পর্কে সুন্দররূপে বর্ণনা করতেন। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ এর বাচনভঙ্গি সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সর্বদা আখিরাতে উম্মতের মুক্তির চিন্তায় বিভোর থাকতেন। এ
কারণে তাঁর কোন স্বস্তি ছিল না। তিনি অধিকাংশ সময় নীরব থাকতেন। বিনা প্রয়োজনে কথা বলতেন না। তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলতেন। তিনি ব্যাপক অর্থবোধক বাক্যালাপ করতেন। তাঁর কথা ছিল একটি থেকে অপরটি পৃথক। তাঁর কথাবার্তা অধিক বিস্তারিত ছিল না কিংবা অতি সংক্ষিপ্তও ছিল না। অর্থাৎ তাঁর কথার মর্মার্থ অনুধাবনে কোন প্রকার অসুবিধা হতো না। তাঁর কথায় কঠোরতার ছাপ ছিল না, থাকত না তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের ভাব। আল্লাহর নিয়ামত যত সামান্যই হতো তাকে তিনি অনেক বড় মনে করতেন। এতে তিনি কোন দোষত্রুটি খুঁজতেন না। তিনি অপরিহার্য খাদ্য সামগ্রীর ত্রুটি খতিয়ে দেখতেন না এবং উচ্ছ্বাসিত প্রশংসাও করতেন না। পার্থিব কোন বিষয় বা কাজের উপর ক্রোধ প্রকাশ করতেন না এবং তার জন্য আক্ষেপও করতেন না। অবশ্য যখন কেউ দীনি কোন বিষয়ে সীমলঙ্ঘন করত তখন তাঁর রাগের সীমা থাকত না। এমনকি তখন কেউ তাঁকে বশে রাখতে পারত না। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত কারণে ক্রোধান্বিত হতেন না এবং এজন্য কারো সাহায্য গ্রহণ করতেন না। কোন বিষয়ের প্রতি ইশারা করলে সম্পূর্ণ হাত দ্বারা ইশারা করতেন। তিনি কোন বিস্ময় প্রকাশ করলে হাত উল্টাতেন। যখন কথাবার্তা বলতেন তখন ডান হাতের তালুতে বাম হাতের আঙ্গুলের আভ্যন্তরীণ ভাগ দ্বারা আঘাত করতেন। কারো প্রতি অসন্তুষ্ট হলে তার দিক হতে মুখ ফিরিয়ে নিতেন এবং অমনোযোগী হতেন। যখন তিনি আনন্দ-উৎফুল্ল হতেন তখন তাঁর চোখের কিনারা নিম্নমুখী করতেন। অধিকাংশ সময় তিনি মুচকি হাসতেন। তখন তাঁর দাঁতগুলো বরফের ন্যায় উজ্জ্বল সাদারূপে শোভা পেত।১৬৬
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ কোন খাদ্যের ত্রুটি ধরতেন না। কারণ, এটা আল্লাহর নিয়ামত। আবার অতিরিক্ত প্রশংসাও করতেন না। তবে কখনো আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করা বা কারো সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোন খাদ্যের সাধারণ প্রশংসাও করেছেন। দুনিয়ার সাথে সম্পর্কিত কোন কিছুই তাঁকে রাগান্বিত করত না।

টিকাঃ
১৬৪ মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬২৫২; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬৯৬।
১৬৫০ মুজামুল ইসমাঈলী, হা/১০৫; মু'জামুস সগীর, হা/৯১২১।
১৬৬ শু'আবুল ঈমান, হা/১৩৬২।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর হাসি

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর হাসি


রাসূলুল্লাহ মুচকি হাসি হাসতেন:
১৬৮. আবদুল্লাহ ইবনে হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ এর চেয়ে অধিক মুচকি হাস্যকারী ব্যক্তি কাউকে দেখিনি। ১৬৭
ব্যাখ্যা: পূর্বের অধ্যায়ের এক হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে- রাসূলুল্লাহ সর্বদা চিন্তিত থাকতেন। আর এ হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি বেশি বেশি মুচকি হাসতেন। এ দু'হাদীসের সমন্বয় হলো রাসূলুল্লাহ এর অন্তর সর্বদা চিন্তিত থাকত। কিন্তু লোকদের তিনি বুঝতে দিতেন না তাই তাদের সাথে হাসি মুখে কথা বলতেন। এটা ছিল তাঁর উন্নত চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْحَارِثِ ﷺ، قَالَ : مَا كَانَ ضَحِكُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِلَّا تَبَسُمًا
১৬৯. আবদুল্লাহ ইবনে হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সবসময় মুচকী হাসতেন।
রাসূলুল্লাহ হাসার সময় দাঁত দেখা যেত:
عَنْ أَبِي ذَرٍ ﷺ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : إِنِّي لَأَعْلَمُ أَوَّلَ رَجُلٍ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ وَآخَرَ رَجُلٍ يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ ، يُؤْتَى بِالرَّجُلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُقَالُ : أَعْرِضُوا عَلَيْهِ صِغَارَ ذُنُوبِهِ وَيُخْيَأُ عَنْهُ كِبَارُهَا ، فَيُقَالُ لَهُ : عَمِلْتَ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا كَذَا ، وَهُوَ مُقِرٌّ لَا يُنْكِرُ ، وَهُوَ مُشْفِقٌ مِنْ كِبَارِهَا فَيُقَالُ : أَعْطُوهُ مَكَانَ كُلِّ سَيِّئَةٍ عَمِلَهَا حَسَنَةٌ ، فَيَقُوْلُ : إِنَّ لِيْ ذُنُوبًا مَا أَرَاهَا هَهُنَا. قَالَ أَبُو ذَرٍ : فَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ ضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ
১৭০. আবু যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, নিশ্চয় আমি সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী ব্যক্তিকে ভালোভাবে জানি। আর যে ব্যক্তি সর্বশেষ জাহান্নাম হতে নাজাত পাবে, তাকেও জানি। কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে (আল্লাহর নিকট উপস্থিত করে) বলা হবে, এর সগীরা গুনাহগুলো উপস্থাপন করো এবং কবীরা গুনাহগুলো গোপন করে রাখো।
এরপর তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি অমুক অমুক দিনে এই এই গুনাহ করেছ। তখন সে ব্যক্তি সবগুলো স্বীকার করবে এবং একটিও অস্বীকার করবে না। এরপর সে তার কবীরা গুনাহসমূহ সম্পর্কে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে। তখন ঘোষণা দেয়া হবে যে, তার প্রতিটি মন্দ কাজের বিনিময়ে একটি করে নেকী লিপিবদ্ধ করো। এরপর সে বলবে, নিশ্চয় এখনও আমার অনেক গুনাহ বাকী আছে, যা দেখতে পাচ্ছি না। আবু যর (রাঃ) বলেন, তখন আমি দেখলাম, রাসূলুল্লাহ মুচকি হাসছেন; এমনকি তাঁর সাদা দাঁতগুলো দেখা যাচ্ছিল। ১৬৮
عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ﷺ قَالَ : مَا حَجَبَنِي رَسُولُ اللهِ ﷺ مُنْذُ أَسْلَمْتُ وَلَا رَانِي إِلَّا ضَحِكَ
১৭১. জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার ইসলাম গ্রহণের পর হতে রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে (তাঁর কাছে আসতে) বাধা দেননি। আর আমাকে দেখা মাত্রই তিনি হাসতেন। ১৬৯
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ ﷺ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : إِنِّي لَأَعْرِفُ أُخِرَ أَهْلِ النَّارِ خُرُوجًا . رَجُلٌ يَخْرُجُ مِنْهَا زَحْفًا ، فَيُقَالُ لَهُ : انْطَلِقُ فَادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ : فَيَذْهَبُ لِيَدْخُلَ الْجَنَّةَ . فَيَجِدُ النَّاسَ قَدْ أَخَذُوا الْمَنَازِلَ ، فَيَرْجِعُ فَيَقُولُ : يَا رَبِّ ، قَدْ أَخَذَ النَّاسُ الْمَنَازِلَ ، فَيُقَالُ لَهُ : أَتَذْكُرُ الزَّمَانَ الَّذِي كُنْتَ فِيْهِ ، فَيَقُولُ : نَعَمْ قَالَ : فَيُقَالُ لَهُ : تَمَنَّ قَالَ : فَيَتَمَنَّى ، فَيُقَالُ لَهُ : فَإِنَّ لَكَ الَّذِي تَمَنَّيْتَ وَعَشَرَةَ أَضْعَافِ الدُّنْيَا " قَالَ : فَيَقُولُ : تَسْخَرُ بِي وَأَنْتَ الْمَلِكُ قَالَ : فَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ ضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ
১৭২. আবদুল্লাহ ইবনে মাস'উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি সর্বশেষে জাহান্নাম হতে নাজাত পেয়ে বের হয়ে আসবে, আমি তাঁকে চিনি। সে হামাগুড়ি দিয়ে জাহান্নাম হতে বের হয়ে আসবে। এরপর তাকে বলা হবে, এসো। জান্নাতে প্রবেশ করো। ঘোষণা মুতাবিক সে (জান্নাতের দিকে) যাবে এবং সেখানে প্রবেশ করে দেখতে পাবে কোথাও ঠাঁই নাই। লোকেরা সকল স্থান অধিকার করে আছে। অতঃপর.সে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসবে এবং বলবে, হে আমার প্রতিপালক! লোকেরা তো সব স্থানই দখল করে আছে। তখন তাকে বলা হবে, তোমার সে কালের (দুনিয়ার) কথা স্মরণ আছে কি, যেখানে তুমি অবস্থান করেছিলে? সে বলবে, জি-হ্যাঁ। সবই আমার মনে পড়ে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তাকে বলা হবে, তোমার মনে যা চায়, তা আকাঙ্ক্ষা করো। তিনি বলেন, তখন সে আকাঙ্ক্ষা করবে। এরপর তাকে বলা হবে, তুমি যে ইচ্ছা পোষণ করলে তাই তোমার জন্য মঞ্জুর করা হলো এবং তোমাকে দশ দুনিয়ার সমান দেয়া হবে। তিনি বলেন, তখন সে বলবে, আপনি কি আমার সঙ্গে ঠাট্টা করছেন অথচ আপনি আমার মালিক সারা জাহানের সম্রাট! তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, এমতাবস্থায় আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে মুচকি হাসি দিতে দেখলাম, এমনকি তাঁর দাঁত দেখা যাচ্ছিল। ১৭০
عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ ، قَالَ : شَهِدْتُ عَلِيًّا ، أُتِيَ بِدَابَّةٍ لِيَرْكَبَهَا فَلَمَّا وَضَعَ رِجْلَهُ فِي الرِّكَابِ قَالَ : بِسْمِ اللَّهِ . فَلَمَّا اسْتَوَى عَلَى ظَهْرِهَا قَالَ : الْحَمْدُ لِلهِ ، ثُمَّ قَالَ : ﴿سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ ، وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ ﴾ ثُمَّ قَالَ : الْحَمْدُ لِلَّهِ ثَلَاثًا ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ ثَلَاثًا . سُبْحَانَكَ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ، فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ ، ثُمَّ ضَحِكَ ، فَقُلْتُ لَهُ : مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ ؟ قَالَ : رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ صَنَعَ كَمَا صَنَعْتُ ثُمَّ ضَحِكَ فَقُلْتُ : مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ يَا رَسُوْلَ اللهِ ؟ قَالَ : إِنَّ رَبَّكَ لَيَعْجَبُ مِنْ عَبْدِهِ إِذَا قَالَ : رَبِّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ غَيْرُكَ
১৭৩. আলী ইবনে রবী'আ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আলী (রাঃ) এর সামনে উপস্থিত হলাম। তখন তাঁর কাছে একটি জানোয়ারকে আরোহণের জন্য আনা হলো। যখন তিনি সে পশুটির পাদানীতে পা রাখলেন এবং বললেন, "বিসমিল্লা-হ”। অতঃপর জানোয়ারের পিঠে যখন সোজা হয়ে বসলেন তখন বললেন, "আলহাম্দু লিল্লা-হ” (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর) অতঃপর বললেন:
﴿سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ ، وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ﴾ "সুবহা-নাল্লাযী সাখারা লানা- হা-যা- ওয়ামা- কুন্না- লাহ্ মুকুরিনীন, ওয়া ইন্না- ইলা- রব্বিনা- লামুনকুলিবৃন" অর্থাৎ হে আল্লাহ! মহান সত্তার পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি, যিনি আমাদের জন্য একে বশীভূত করেছেন। আমরা একে বশীভূত করতে সক্ষম নই। বস্তুত আমরা তার দিকে প্রত্যাবর্তন করছি। ১৭১
এরপর তিনি ৩ বার "আলহাম্দু লিল্লা-হ” এবং ৩ বার "বিসমিল্লা-হ” পাঠ করলেন। এরপর এ দু'আ পড়লেন:
سُبْحَانَكَ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ، فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ "সুবহা-নাকা ইন্নী যলামতু নাক্সী ফাগফিরলী ফাইন্নahু লা- ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আন্তা।" অর্থাৎ আল্লাহ পবিত্র! নিশ্চয় আমি আমার নিজের উপর সীমালঙ্ঘন করেছি। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। কারণ, আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমাকারী আর কেউ নেই।
এরপর তিনি হাসলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম, আমীরুল মু'মিনীন! আপনার হাসি পেল? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ কে এমনভাবে দেখেছি যেভাবে আমি এইমাত্র কথা ও কাজ সম্পন্ন করলাম। এরপর তিনি মুচকি হাসি দিলেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোন জিনিস আপনাকে হাসাল? তিনি বললেন, তোমার প্রতিপালক তাঁর বান্দার এ কথা খুবই পছন্দ করেন যখন সে বলে, হে আমার প্রতিপালক! আমার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দাও, এ বিশ্বাস রেখে যে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না। ১৭২

টিকাঃ
১৬৭ মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৭৫০; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৩৫০; শু'আবুল ঈমান, হা/৭৬৮৭।
১৬৮ মুসনাদে আহমাদ, হা/২১৪৩০; মুসনাদুল বাযযার, হা/৩৯৮৭; শারহুস সুন্নাহ, হা/৪৩৬০; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৩০৫২।
১৬৯ সহীহ বুখারী, হা/৩০৩৫; সহীহ মুসলিম, হা/৬৫১৮; ইবনে মাজাহ, হা/১৫৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৯১৯৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৭২০০; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৩৪৯।
১৭০ সহীহ মুসলিম, হা/৪৮০; ইবনে হিব্বান, হা/৭৪৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৫৯৫; শারহুস সুন্নাহ, হা/৪৩৫৬।
১৭১ সূরা যুখরুফ- ১৪।
১৭২ মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৫৩; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/১৩৪; সুনানুল কাবীর লিন নাসাঈ, হা/৮৭৪৮: শারহুস সুন্নাহ, হা/১৩৪৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৬৯৮।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর কৌতুক

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর কৌতুক


রাসূলুল্লাহ আনাস (রাঃ) এর সাথে কৌতুক করতেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ لَهُ : يَا ذَا الْأُذُنَيْنِ. قَالَ مَحْمُودٌ : قَالَ أَبُو أُسَامَةً : يَعْنِي يُمَازِحُهُ
১৭৪. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার নবী তাকে সম্বোধন করে (কৌতুকচ্ছলে) বলেছিলেন, 'হে দু'কানবিশিষ্ট!'। মাহমূদ (রহঃ) বলেন, আবু উসামা (রহঃ) এর অর্থ করেছেন- "তিনি তার সাথে কৌতুক করেছেন"।১৭৩
আনাস (রাঃ) এর ছোট ভাইয়ের সাথে কৌতুক করতেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : إِنْ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَيُخَالِطُنَا حَتَّى يَقُوْلَ لِأَخِي صَغِيرٍ : يَا أَبَا عُمَيْرٍ ، مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ ؟ قَالَ أَبُو عِيسَى : وَفِقْهُ هُذَا الْحَدِيْثِ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يُمَانِحُ وَفِيهِ أَنَّهُ كَنَّى غُلَامًا صَغِيرًا فَقَالَ لَهُ: يَا أَبَا عُمَيْرٍ ، وَفِيْهِ أَنَّهُ لَا بَأْسَ أَنْ يُعْطَى الصَّبِيُّ الطَّيْرَ لِيَلْعَبَ بِهِ، وَإِنَّمَا قَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ : يَا أَبَا عُمَيْرٍ ، مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ ؟ لِأَنَّهُ كَانَ لَهُ نُغَيْرٌ يَلْعَبُ بِهِ فَمَاتَ ، فَحَزِنَ الْغُلَامُ عَلَيْهِ فَمَازَحَهُ النَّبِيُّ ﷺ : يَا أَبَا عُمَيْرٍ ، مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ ؟
১৭৫. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী আমাদের সাথে কৌতুক করতেন। এমনকি একবার তিনি আমার ছোট ভাইকে (কৌতুক করে) বললেন, হে আবু উমায়ের! কী হলো নুগায়ের? ১৭৪ ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেন, এ হাদীসে অনুধাবনযোগ্য বিষয় হলো, আনাস (রাঃ) এর ছোট ভাইয়ের নুগায়ের নামে একটি পাখি ছিল, যা নিয়ে সে খেলা করত। পাখিটি মরে গেল। এতে সে দুঃখিত হলো। তখন নবী তার সাথে কৌতুক করলেন এবং বললেন, ওহে আবু উমায়ের! কী হলো তোমার নুগায়ের? এতে বুঝা গেল যে, ছোট বাচ্চাদের পাখি নিয়ে খেলতে বাধা নেই।
রাসূলুল্লাহ বাস্তবসম্মত কৌতুক করতেন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ تُدَاعِبُنَا قَالَ : إِنِّي لَا أَقُولُ إِلَّا حَقًّا
১৭৬. আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তাঁরা (সাহাবায়ে কেরাম) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের সাথে কৌতুক করছেন? তিনি বললেন, আমি কৌতুকচ্ছলে কখনো সত্য ছাড়া কিছু বলি না। ১৭৫
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، أَنَّ رَجُلًا اسْتَحْمَلَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَقَالَ : إِنِّي حَامِلُكَ عَلَى وَلَدِ نَاقَةٍ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ ، مَا أَصْنَعُ بِوَلَدِ النَّاقَةِ؟ فَقَالَ : وَهَلْ تَلِدُ الْإِبِلَ إِلَّا النُّوقُ
১৭৭. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ এর নিকট একটি বাহন চেয়েছিল, তিনি বললেন, আমি তোমাকে একটি উটনীর বাচ্চা দিচ্ছি। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি উটনীর বাচ্চা দিয়ে কী করব? রাসূলুল্লাহ বললেন, উটমাত্রই তো কোন না কোন উটনীর বাচ্চা। ১৭৬
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ كَانَ اسْمُهُ زَاهِرًا وَكَانَ يُهْدِي إِلَى النَّبِيِّ ﷺ هَدِيَّةً مِنَ الْبَادِيَةِ ، فَيُجَهِزُهُ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : إِنَّ زَاهِرًا بَادِيَتُنَا وَنَحْنُ حَاضِرُوهُ وَكَانَ يُحِبُّهُ وَكَانَ رَجُلًا دَمِيمًا فَأَتَاهُ النَّبِيُّ ﷺ يَوْمًا وَهُوَ يَبِيعُ مَتَاعَةَ فَاحْتَضَنَهُ مِنْ خَلْفِهِ وَهُوَ لَا يُبْصِرُهُ ، فَقَالَ : مَنْ هُذَا ؟ أَرْسِلْنِي ، فَالْتَفَتَ فَعَرَفَ النَّبِيُّ ﷺ فَجَعَلَ لَا يَأْلُوْ مَا الْصَقَ ظَهْرَهُ
بِصَدْرِ النَّبِيِّ ﷺ حِينَ عَرَفَهُ ، فَجَعَلَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُولُ : مَنْ يَشْتَرِي هَذَا الْعَبْدَ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِذًا وَاللَّهِ تَجِدُ نِي كَاسِدًا ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : لَكِنْ عِنْدَ اللهِ لَسْتَ بِكَاسِدٍ أَوْ قَالَ : أَنتَ عِنْدَ اللَّهِ غَالٍ
১৭৮. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। যাহির (ইবনে হিযাম আশজায়ী বদরী) নামে এক বেদুঈন প্রায়ই নবী কে হাদিয়া দিত। যখন সে চলে যেতে উদ্যত হতো তখন নবী বলতেন, যাহির আমাদের পল্লিবন্ধু, আমরা তার শহুরে বন্ধু। সে কদাকার হলেও নবী তাকে ভালোবাসতেন। একবার সে বেচাকেনা করছিল আর নবী তার অলক্ষ্যে পেছন দিক থেকে ধরে ফেললেন। তারপর সে বলল, কে? আমাকে ছেড়ে দাও! দৃষ্টিপাত করতেই সে নবীকে দেখে তার পিঠ আরো নবী এর বুকের সাথে মিলালো। এরপর নবী বললেন, এ গোলামটিকে কে ক্রয় করবে? যাহির বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে বিক্রি করে কেবল অচল মুদ্রাই পাবেন। এরপর তিনি বললেন, কিন্তু তুমি আল্লাহর নিকট অচল নও। অথবা তিনি বলেছেন, আল্লাহর নিকট তোমার উচ্চমর্যাদা রয়েছে। ১৭৭
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ পেছন থেকে এসে যাহের (রাঃ) কে জড়িয়ে ধরা ছিল রসিকতা। যাহের (রাঃ) কে গোলাম আখ্যায়িত করাও ছিল এক ধরনের কৌতুক। কারণ তিনি গোলাম ছিলেন না। রাসূলুল্লাহ মজা করার জন্য গোলাম বলেছেন।
عَنِ الْحَسَنِ قَالَ : أَتَتْ عَجُوْزُ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ ، فَقَالَتْ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، ادْعُ اللَّهَ أَنْ يُدْخِلَنِي الْجَنَّةَ ، فَقَالَ : يَا أُمَّ فُلَانٍ ، إِنَّ الْجَنَّةَ لَا تَدْخُلُهَا عَجُوْرٌ قَالَ : فَوَلَّتْ تَبْكِي فَقَالَ : أَخْبِرُوهَا أَنَّهَا لَا تَدْخُلُهَا وَهِيَ عَجُوزُ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُوْلُ : ﴿إِنَّا أَنْشَأْنَاهُنَّ إِنْشَاءُ فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا عُرُبًا أَتْرَابًا
১৭৯. হাসান (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার এক বৃদ্ধা মহিলা নবী এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে দু'আ করুন যেন আমি. জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। তিনি বললেন, ওহে! কোন বৃদ্ধা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। বর্ণনাকারী বলেন, (তা শুনে) সে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল। নবী বললেন, তাকে এ মর্মে খবর দাও যে, তুমি বৃদ্ধাবস্থায় জান্নাতে প্রবেশ করবে না। কারণ, আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, "আমি তাদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি। আর তাদেরকে করেছি কুমারী- (সূরা ওয়াক্বিয়া- ৩৬)। ১৭৮

টিকাঃ
১৭৩ আবু দাউদ, হা/৫০০৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২১৮৫; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৬৬১; জমেউস সগীর, হা/১৩৮৬৮; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬০৬।
১৭৪ সহীহ বুখারী, হা/৬১২৯; সহীহ মুসলিম, হা/৫৭৪৭; আবু দাউদ, হা/৪৯৭১; ইবনে মাজাহ, হা/৩৭২০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২১৫৮; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/১০৯; আদাবুল মুফরাদ, হা/৮৪৭; জামেউস সগীর, হা/১৩৭৮৮।
১৭৫ মুসনাদে আহমাদ, হা/৮৭০৮; মুসানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/২১৭০৫; আদাবুল মুফরাদ, হা/২৬৫; শারহুস সুন্নah, হা/৩৬০২; মু'জামুল আওসাত, হা/৮৭০৬; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৭২৬।
১৭৬ আবু দাউদ, হা/৫০০০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩৮৪৪; আদাবুল মুফরাদ, হা/২৬৮; বায়হাকী, হা/২০৯৫৭; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬০৫।
১৭৭ মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৬৬৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৭৯০; বায়হাকী, হা/২০৯৬১; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬০৪; মুসনাদুল বাযযার, হা/৬৯২২।
১৭৮ সিলসিলা সহীহাহ, হা/২৯৮৭; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬০৬।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 কাব্যিক ছন্দে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর কথা

📄 কাব্যিক ছন্দে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর কথা


বিভিন্ন হাদীসের আলোকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ কোন কোন কবির কবিতার অংশ বিশেষ আবৃত্তি করেছেন। কিন্তু তিনি কখনো নিজে কোন কবিতা রচনা করেননি। তবে মাঝে মধ্যে তাঁর কোন কোন কথা ছন্দযুক্ত হয়েছে। বিষয়বস্তুর আলোকে কখনো কবিদের নিন্দা করা হয়েছে আবার কখনো প্রশংসা করা হয়েছে। এটা নির্ভর করে সৃজনতার উপর। যে মন্দভাবে রচনা করবে সেটা অবশ্যই নিন্দাযোগ্য। তবে লক্ষণীয় হলো অধিকাংশ কবি আল্লাহর যিক্র থেকে গাফিল থাকে।
নবী ইবনে রাওয়াহার কবিতা আবৃত্তি করতেন:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : قِيلَ لَهَا : هَلْ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَتَمَثَلُ بِشَيْءٍ مِنَ الشَّعْرِ ؟ قَالَتْ : كَانَ يَتَمَثَلُ بِشِعْرِ ابْنِ رَوَاحَةَ ، وَيَتَمَثَلُ بِقَوْلِهِ : وَيَأْتِيكَ بِالْأَخْبَارِ مَنْ لَمْ تُزَوَّدِ
১৮০. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কাব্যের ছন্দে কথাবার্তা বলেন কিনা সে ব্যাপারে তাঁকে একবার জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন, নবী ইবনে রাওয়াহার কবিতা আবৃত্তি করতেন। আবার কখনো বলতেন-
وَيَأْتِيكَ بِالْأَخْبَارِ مَنْ لَمْ تُزَوَّدِ অর্থাৎ তোমার কাছে এমন ব্যক্তি সুসংবাদ নিয়ে আসেন, যাকে তুমি মজুরী দাও না। ১৭৯
একবার আঙ্গুল রক্তাক্ত হয়ে গেলে এ কবিতা পাঠ করেছিলেন:
عَنْ جُنْدُبِ بْنِ سُفْيَانَ الْبَجَلِي ، قَالَ : أَصَابَ حَجَرٌ أُصْبُعَ رَسُوْلِ اللَّهِ ﷺ فَدَمِيَتْ ، فَقَالَ : هَلْ أَنْتِ إِلَّا أُصْبُعْ دَمِيْتِ ، وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ مَا لَقِيْتِ .
১৮১. জুনদুব ইবনে সুফিয়ান আল বাজালী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একদা) প্রস্তারাঘাতে রাসূলুল্লাহ এর একটি আঙ্গুল রক্তাক্ত হয়ে যায়। তখন তিনি বলেন,
هَلْ أَنْتِ إِلَّا أُصْبُعْ دَمِيْتِ ، وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ مَا لَقِيْتِ অর্থাৎ তুমি একটি আঙ্গুল যার রক্ত প্রবাহিত হয়েছে, তাও আল্লাহর রাস্তায়, যার প্রতিদান পাবে। ১৮০
রাসূলুল্লাহর হাওয়াযিন গোত্রের সাথে যুদ্ধের সময় কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন :
عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ : قَالَ لَهُ رَجُلٌ : أَفَرَرْتُمْ عَنْ رَسُوْلِ اللَّهِ ﷺ يَا أَبَا عُمَارَةَ ؟ فَقَالَ : لَا وَاللَّهِ مَا وَلَّى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ . وَلَكِنْ وَلَّى سَرَعَانُ النَّاسِ تَلَقَّتُهُمْ هَوَازِنُ بِالنَّبْلِ وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَى بَغْلَتِهِ ، وَأَبُو سُفْيَانَ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ آخِذُ بِلِجَامِهَا وَرَسُولُ اللَّهِ يَقُوْلُ : أَنَا النَّبِيُّ لَا كَذِبْ أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبُ
১৮২. বারা ইবনে আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করল, আপনারা কি নবী কে রণক্ষেত্রে রেখে পালিয়ে গিয়েছিলেন? উত্তরে তিনি বললেন, না- নবী কখনো পালিয়ে যাননি। বরং দলের কিছুসংখ্যক তাড়াহুড়াপ্রবণ লোক হাওয়াযিনের তীরের আঘাতে টিকতে না পেরে পিছু হটে এসেছিল। (বেশিরভাগ ছিল বনু সুলায়ম-এর লোক এবং মক্কার নও মুসলিম) তখন নবী স্বীয় খচ্চরের উপর আরোহী ছিলেন। আর লাগাম ছিল আবু সুফইয়ানের হাতে। তখন নবী আবৃত্তি করছিলেন- انَا النَّبِيُّ لَا كَذِبُ ، أَنَا ابْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبُ অর্থাৎ আমি মিথ্যা নবী নই, আমি আব্দুল মুত্ত্বালিবের (বীর) সন্তান।১৮১
ইবনে রাওয়াহা (রাঃ) নবী এর সামনে কবিতা আবৃত্তি করতেন:
عَنْ أَنَسٍ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ دَخَلَ مَكَةً فِي عُمْرَةِ الْقَضَاءِ ، وَابْنُ رَوَاحَةً يَمْشِي بَيْنَ يَدَيْهِ ، وَهُوَ يَقُولُ : خَلُّوا بَنِي الْكُفَّارِ عَنْ سَبِيلِهِ الْيَوْمَ نَضْرِبُكُمْ عَلَى تَنْزِيلِهِ ضَرْبًا يُزِيلُ الْهَامَ عَنْ مَقِيلِهِ وَيُذْهِلُ الْخَلِيلَ عَنْ خَلِيلِهِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ : يَا ابْنَ رَوَاحَةَ ، بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَفِي حَرَمِ اللَّهِ تَقُوْلُ الشَّعْرَ ، فَقَالَ : خَلِّ عَنْهُ يَا عُمَرُ . فَلَهِيَ أَسْرَعُ فِيهِمْ مِنْ نَضْحِ النَّبْلِ
১৮৩. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী যখন উমরাতুল কাযা পালনের উদ্দেশে মক্কায় প্রবেশ করেন তখন ইবনে রাওয়াহা (রাঃ) তাঁর সামনে চলছেন এবং বলছেন: خَلُّوا بَنِي الْكُفَّارِ عَنْ سَبِيلِهِ الْيَوْمَ نَضْرِبُكُمْ عَلَى تَنْزِيلِهِ ضَرْبًا يُزِيلُ الْهَامَ عَنْ مَقِيلِهِ وَيُذْهِلُ الْخَلِيلَ عَنْ خَلِيلِهِ অর্থাৎ হে কাফির সন্তানরা! তাঁর চলার পথ ছেড়ে দাও। আজ তাঁকে বাধা দিলে তোমাদেরকে এমন শায়েস্তা করব যে, কাঁধ থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং বন্ধুর কথা ভুলে যাবে।
উমর (রাঃ) তাকে বললেন, ইবনে রওয়াহা! আল্লাহর হারামে এবং রাসূলুল্লাহ এর সম্মুখে কবিতা আবৃত্তি করছ? নবী বললেন, উমর! তাকে বলতে দাও। কারণ, তার কবিতা ওদের জন্য তীরের আঘাতের চেয়েও অধিক কার্যকর। ১৮২
সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ এর সামনে কবিতা আবৃত্তি করতেন :
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ ، قَالَ : جَالَسْتُ النَّبِيَّ ﷺ اَكْثَرَ مِنْ مِائَةِ مَرَّةٍ وَكَانَ أَصْحَابُهُ يَتَنَاشَدُونَ الشَّعْرَ وَيَتَذَا كَرُونَ أَشْيَاءَ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ وَهُوَ سَاكِتْ وَرُبَّمَا تَبَسَّمَ مَعَهُمْ
১৮৪. জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ এর মজলিসে শতাধিক বার বসেছি। আর তাতে তাঁর সাহাবীগণ কবিতা আবৃত্তি করতেন এবং জাহেলি যুগের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করতেন। আর তিনি কখনো চুপ থাকতেন। আবার কখনো তাদের সাথে মুচকি হাসতেন।১৮০
রাসূলুল্লাহর এর কাছে শ্রেষ্ঠতম উদ্ধৃতি :
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ لهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ : أَشْعَرُ كَلِمَةٍ تَكَلَّمَتْ بِهَا الْعَرَبُ كَلِمَةُ لَبِيْدٍ : أَلَا كُلُّ شَيْءٍ مَا خَلَا اللَّهِ بَاطِلٌ
১৮৫. আবু হুরায়রা (রাঃ) নবী হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আরব কবিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম বাণী হচ্ছে লাবীদের এই চরণ :
آلَا كُلُّ شَيْءٍ مَا خَلَا اللَّهَ بَاطِلٌ
অর্থাৎ সাবধান! আল্লাহ ছাড়া সব কিছুই ধ্বংসশীল। ১৮৪
ব্যাখ্যা: আরবের একজন সুবিখ্যাত কবি ছিলেন লাবীদ ইবনে রাবিয়া আল-আমিরী। তিনি তার গোত্রের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে রাসূলুল্লাহ এর নিকট এসে ইসলাম কবুল করেন। ইসলাম কবুলের পর তিনি আর কবিতা রচনা করেননি। তিনি বলতেন, আমার জন্য কুরআনই যথেষ্ট। লাবীদের এ উক্তিকে রাসূলুল্লাহ সবচেয়ে সত্য বলেছেন এজন্য যে, এটি কুরআনের নিচের আয়াতটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ
অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া সবকিছুই ধ্বংসশীল। ১৮৫
নবী অমুসলিম কবির কবিতাও শ্রবণ করতেন:
عَنْ عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ ، عَنْ أَبِيْهِ قَالَ : كُنْتُ رِدْفَ النَّبِيِّ ﷺ فَأَنْشَدْتُهُ مِائَةَ قَافِيَةٍ مِنْ قَوْلِ أُمَيَّةَ بْنِ أَبِي الصَّلْتِ الثَّقَفِي ، كُلَّمَا انْشَدْتُهُ بَيْتًا قَالَ لِيَ النَّبِيُّ ﷺ : هِيْهِ حَتَّى انْشَدْتُهُ مِائَةٌ يَعْنِي بَيْتًا فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ : إِنْ كَادَ لَيُسْلِمُ
১৮৬. আমর ইবনে শারীদ (রাঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একবার আমি বাহনে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর পেছনে বসা ছিলাম। তারপর আমি তাঁকে উমাইয়্যা ইবনে আবূ-সালত বিরচিত একশ' চরণ বিশিষ্ট একটি কবিতা আবৃত্তি করে শোনালাম। কবিতা শেষ হলে তিনি আমাকে বললেন, আরো শোনাও। এরপর তিনি বললেন, সে ইসলাম গ্রহণের কাছাকাছি এসে গেছে। ১৮৬
ব্যাখ্যা: উমাইয়া ইবনে আবু সালত জাহিলী যুগের একজন স্বনামধন্য বিখ্যাত কবি ছিলেন। তাঁর কবিতাতে হক্ব ও সত্য কথা ফুটে উঠত। তিনি জাহেলী যুগেও ইবাদাত-বন্দেগী করতেন এবং পুনরুত্থানে বিশ্বাস রাখতেন। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তিনি ইসলাম গ্রহণের দার প্রান্তে এসেছিলেন। তিনি ইসলামের যুগ পেয়েছিলেন; কিন্তু ইসলাম গ্রহণের তাওফীক হয়নি।
নবী কবিতা আবৃত্তি করার উদ্দেশ্যে হাসান (রাঃ)১৮৭ এর জন্য মসজিদে একটি মিম্বার তৈরি করেছিলেন:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَضَعُ لِحَسَّانَ بْنِ ثَابِتٍ مِنْبَرًا فِي الْمَسْجِدِ يَقُوْمُ عَلَيْهِ قَائِمًا يُفَاخِرُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَوْ قَالَ : يُنَافِحُ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَيَقُولُ : إِنَّ اللَّهَ يُؤَيِّدُ حَسَّانَ بِرُوحِ الْقُدُسِ مَا يُنَافِحُ أَوْ يُفَاخِرُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ
১৮৭. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ হাসান ইবেন সাবিত (রাঃ)-এর জন্য মসজিদে একটি মিম্বার স্থাপন করেছিলেন যেন তিনি রাসূলুল্লাহ এর প্রশংসার কবিতা পাঠ করেন অথবা তিনি বলেছেন, যেন তিনি রাসূলুল্লাহ এর পক্ষ হতে কাফিরদের নিন্দাবাদের উত্তর দেন। রাসূলুল্লাহ বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ! রূহুল কুদ্‌স্স [জিবরীল (আঃ)] দ্বারা হাসানকে সাহায্য করেন যতক্ষণ সে রাসূলুল্লাহ এর প্রশংসা করবে কিংবা কাফিরদের নিন্দার উত্তর দেবে। ১৮৮

টিকাঃ
১৭৯ সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/১০৭৬৯; আদাবুল মুফরাদ, হা/৮৬৭; বায়হাকী, হা/২০৯০৩।
১৮০ সহীহ বুখারী, হা/৬১৪৬; সহীহ মুসলিম, হা/৪৭৫০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৮১৯; জমেউস সগীর, হা/১২৯৭৯।
১৮১ সহীহ বুখারী, হা/২৮৭৪; সহীহ মুসলিম, হা/৪৭১৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৪৭৭০; জামেউস সগীর, হা/২৩৩১।
১৮২ সুনানে নাসাঈ, হা/২৮৭৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৪০৪।
১৮৩ ইবনে হিব্বান, হা/৫৭৮১।
১৮৪ সহীহ মুসলিম, হা/৬০২৫; ইবনে হিব্বান, হা/৫৭৮৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/১০২৩৫; জামেউস সগীর, হা/১০০৬।
১৮৫ সূরা ফুরকান- ৮৮।
১৮৬ সুনানে কুবরা লিল বায়হাকী, হা/২১৫৬০; সহীহ মুসলিম, হা/৬০২২।
১৮৭ হাসান ইবনে সাবিত (রাঃ) ছিলেন বিখ্যাত একজন সাহাবী কবি। তার উপাধি ছিল شَاعِرُ النَّبِيّ তথা নবী এর কবি।
১৮৮ আবু দাউদ, হা/৫০১৭; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৬০৫৮; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৩৫০১; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৪০৮; সিলসিলাহ সহীহাহ, হা/১৬৫৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00