📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর পান করার পদ্ধতি
রাসূলুল্লাহ ﷺ দাঁড়ানো অবস্থায় যমযমের পানি পান করতেন:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ هُ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ شَرِبَ مِنْ زَمْزَمَ وَهُوَ قَائِمٌ
১৫২. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় নবী ﷺ দাঁড়ানো অবস্থায় যমযমের পানি পান করতেন। ১৫১
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ ، عَنْ أَبِيْهِ ، عَنْ جَدِهِ قَالَ : رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَشْرَبُ قَائِمًا وَقَاعِدًا
১৫৩. আমর ইবনে শু'আইব (রহ.) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি তার পিতামহ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে দাঁড়িয়ে ও বসে (উভয় অবস্থায়) পান করতে দেখেছি। ১৫২
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ له قَالَ : سَقَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ مِنْ زَمْزَمَ فَشَرِبَ وَهُوَ قَائِمٌ
১৫৪. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী ﷺ কে যমযমের পানি পান করিয়েছি। আর তিনি তা দাঁড়িয়ে পান করেছেন। ১৫৩
রাসূলুল্লাহ ওযুর অবশিষ্ট পানি দাঁড়িয়ে পান করতেন :
عَنِ النَّزَّالِ بْنِ سَبْرَةَ قَالَ : أَتَى عَلِيٌّ بِكُورٍ مِنْ مَاءٍ وَهُوَ فِي الرَّحْبَةِ فَأَخَذَ مِنْهُ كَفًّا فَغَسَلَ يَدَيْهِ وَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَمَسَحَ وَجْهَهُ وَذِرَاعَيْهِ وَرَأْسَهُ ، ثُمَّ شَرِبَ وَهُوَ قَائِمٌ ، ثُمَّ قَالَ : هُذَا وُضُوءُ مَنْ لَمْ يُحْدِثُ ، هُكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَعَلَ
১৫৫. নায্যাল ইবনে সাবরা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রাঃ) রাহবা তথা কুফার মসজিদের বারান্দায় অবস্থানকালে তাঁর জন্য এক মগ পানি আনা হলো। তিনি তা হতে এক অঞ্জলি পানি নিয়ে উভয় হাত ধৌত করলেন। তারপর কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিলেন। এরপর মুখমণ্ডল মাসাহ করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে অবশিষ্ট পানি পান করলেন। এরপর বললেন, যার ওযু ভঙ্গ হয়নি, তার ওযূ হচ্ছে এই। (তিনি বলেন) রাসূলুল্লাহ -কে আমি এরূপ করতে দেখেছি। ১৫৪
ব্যাখ্যা: এখানে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। তার একটি হলো হাত-মুখ প্রকৃত অর্থেই মাসেহ করেছেন। এ হিসেবে একে ওযূ বলা হয়েছে রূপক অর্থে। যাকে আভিধানিক অর্থেও ওযূ বলা যায়। পা ধৌত করার কথা উল্লেখ না থাকাতেও এটা বুঝা যায়। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, অল্প ধৌত করাকে মাসেহ বলা হয়েছে। কোন কোন বর্ণনায় মাসেহ এর পরিবর্তে হাত মুখ ধৌত করার কথা উল্লেখ রয়েছে। পা ধোয়ার কথাও কোন কোন বর্ণনাতে এসেছে। কাজেই হাদীসে ওযূ করাই উদ্দেশ্য।
রাসূলুল্লাহ পান করার সময় তিনবার শ্বাস নিতেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ : كَانَ يَتَنَفَسُ فِي الْإِنَاءِ ثَلَاثًا إِذَا شَرِبَ ، وَيَقُوْلُ : هُوَ أَمْرَأَ وَأَرْوَى
১৫৬. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় নবী যখন পান করতেন তখন তিনবার শ্বাস নিতেন এবং বলতেন, তা অধিক স্বাস্থ্যকর ও তৃপ্তিদানে অধিকতর সহায়ক। ১৫৫
একদা তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় মশক হতে পানি পান করেন:
عَنْ كَبْشَةَ . قَالَتْ : دَخَلَ عَلَيَّ النَّبِيُّ ﷺ فَشَرِبَ مِنْ قِرْبَةٍ مُعَلَقَةٍ قَائِمًا ، فَقُمْتُ إِلَى فِيهَا فَقَطَعْتُهُ
১৫৭. কাব্শা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ আমার নিকট আসলেন। তখন তিনি লটকানো মশক হতে দাঁড়ানো অবস্থায় পানি পান করলেন। এরপর আমি দাঁড়ালাম এবং মশকের মুখটি কেটে নিলাম। ১৫৬
আনাস (রাঃ)ও তিন শ্বাসে পানি পান করতেন:
عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ : كَانَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ ، يَتَنَفَسُ فِي الْإِنَاءِ ثَلَاثًا ، وَزَعَمَ أَنَسُ ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَتَنَفَسُ فِي الْإِنَاءِ ثَلَاثًا
১৫৮. সুমামা ইবনে আবদুল্লাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) তিন শ্বাসে পানি পান করতেন এবং বলতেন, নবী তিন শ্বাসে পানি পান করতেন। ১৫৭
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ دَخَلَ عَلَى أُمِّ سُلَيْمٍ وَقِرْبَةٌ مُعَلَّقَةٌ فَشَرِبَ مِنْ فَمِ الْقِرْبَةِ وَهُوَ قَائِمٌ ، فَقَامَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ إِلَى رَأْسِ الْقِرْبَةِ فَقَطَعَتُهَا
১৫৯. আনাস ইবনে মলিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার নবী আনাস (রাঃ) এর মাতা উম্মে সুলায়ম (রাঃ) এর বাড়ি যান। সেখানে একটি মশক ঝুলন্ত ছিল। এরপর তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় মশকটির মুখ হতে পানি পান করলেন। এরপর উম্মে সুলায়ম (রাঃ) মশকের নিকট পৌঁছান এবং তার মুখ কেটে নেন।১৫৮
عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصٍ . أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَشْرَبُ قَائِمًا
১৬০. সা'দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী দাঁড়ানো অবস্থায় পানি পান করতেন। ১৫৯
টিকাঃ
১৫১ সহীহ মুসলিম, হা/৫৪০০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৩৮; শু'আবুল ঈমান, হা/৫৫৮২।
১৫২ সুনানে নাসাঈ, হা/১৩৬১; মুসনাদে আহমাদ, হা/৬৯২৮; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩০৪৮।
১৫৩ সহীহ বুখারী, হা/১৬৩৭; সহীহ মুসলিম, হা/৫৩৯৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬০৮; ইবনে মাজাহ, হা/৩৪২২; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৩২০; মু'জামুস সাগীর, হা/৩৮৯; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩০৪৬।
১৫৪ মুসনাদে আহমাদ, হা/৫৮৩।
১৫৫ সহীহ মুসলিম, হা/৫৪০৫; সহীহ বুখারী, হা/২৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৯৪৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৩২৯; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৭২০৫; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২১১৯।
১৫৬ শারহুস সুন্নাহ, হা/৩০৪২; শু'আবুল ঈমান, হা/৫৬২৪।
১৫৭ ইবনে মাজাহ, হা/৩৪১৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৯৪৭; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩০৩৭।
১৫৮ মুসনাদে আহমাদ, হা/২৭৪৬৮; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/২০৮১৫।
১৫৯ মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/১৬৫৪; মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৩৩৭; শারহুল মা'আনী, হা/৬৮৪৮।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর সুগন্ধি ব্যবহার
রাসূলুল্লাহ এর একটি আতরদানি ছিল:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ هُ قَالَ : كَانَ لِرَسُولِ اللهِ ﷺ سُكَّةٌ يَتَطَيَّبُ مِنْهَا
১৬১. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর আতরদানি ছিল। তিনি তা হতে আতর লাগাতেন। ১৬০
তিনি কখনো সুগন্ধি ফেরত দিতেন না:
عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ : كَانَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ ، لَا يَرُدُّ الطِيبَ ، وَقَالَ أَنَسٌ : إِنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ لَا يَرُدُّ الطِيبَ
১৬২. সুমামা ইবনে আবদুল্লাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাঃ) সুগদ্ধি ফেরত দিতেন না। আর আনাস (রাঃ) বলতেন, নবী কখনো সুগন্ধি ফেরত দিতেন না। ১৬১
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : ثَلَاثُ لَا تُرَةُ : الْوَسَائِدُ ، وَالدُّهْنُ ، وَاللَّبَنُ
১৬৩. ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, তিনটি বস্তু কখনো ফেরত দেবে না- বালিশ, তৈল এবং দুধ। ১৬২
তিনি পুরুষ ও মহিলাদের সুগন্ধি ব্যবহারের পার্থক্য বলে দিয়েছেন :
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : طِيبُ الرِّجَالِ مَا ظَهَرَ رِيحُةً وَخَفِيَ لَوْنُهُ ، وَطِيبُ النِّسَاءِ مَا ظَهَرَ لَوْنُهُ وَخَفِيَ رِيحُةً
১৬৪. আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, পুরুষের সুগদ্ধি ছড়ায় কিন্তু রং থাকে অদৃশ্য। আর মহিলাদের সুগন্ধির রং দৃশ্যমান কিন্তু তাতে গন্ধ নেই।১৬৩
ব্যাখ্যা: পুরুষের সুগন্ধি এমন হতে হবে যাতে বেশি সুঘ্রাণ যুক্ত হয়। কিন্তু রং থাকে না। আর মহিলাদের সুগন্ধি হলো রং। যেমন- জাফরান, মেহেদি ইত্যাদি। অতএব, সুবাস ছড়ানো সুগন্ধি ব্যবহার করে ঘরের বাহিরে যাওয়া নিষেধ। তবে স্বামীর কাছে থাকা অবস্থায় যে কোন ধরনের সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারবে।
টিকাঃ
১৮০ আবু দাউদ, হা/৪১৪৬; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১৬৭; জামেউস সগীর, হা/৮৯৬২।
১৬১ সহীহ বুখারী, হা/২৫৮২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৩৭৯; শারহুস সুন্নah, হা/৩১৭০; জামেউস সগীর, হা/৮৯৮৩; শু'আবুল ঈমান, হা/৬০০৫।
১৬২ মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৩১০০; জামেউস সগীর, হা/৫৩৫৭; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১৭৩; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৬১৯।
১৬৩ আবু দাউদ, হা/২১৭৬; সুনানে নাসাঈ, হা/৫১১৭; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৬৩৯; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১৬২; জামেউস সগীর, হা/৩৮২৮।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর বাচনভঙ্গি
রাসূলুল্লাহ এর কথা ছিল সুস্পষ্ট:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : مَا كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَسْرُدُ سَرْدَكُمْ هُذَا ، وَلَكِنَّهُ كَانَ بَيْنِ فَصْلٍ . يَحْفَظُهُ مَنْ جَلَسَ إِلَيْهِ
১৬৫. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ তোমাদের ন্যায় চটপটে তথা অস্পষ্টভাবে তাড়াতাড়ি কথা বলতেন না, বরং তাঁর প্রতিটি কথা ছিল সুস্পষ্ট। আর শ্রোতারা খুব সহজেই তা হৃদয়ঙ্গম করতে পারত। ১৬৪
রাসূলুল্লাহ কোন কোন কথা তিনবার বলতেন :
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ لَهُ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُعِيدُ الْكَلِمَةَ ثَلاَثًا لِيُعْقَلَ عَنْهُ
১৬৬. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ কোন কথা তিনবার বলতেন, যাতে (শ্রোতারা) ভালোভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে পারে। ১৬৫
ব্যাখ্যা: সহজে বোধগম্য নয় এমন বিষয় হলে বা শ্রোতা অধিক থাকলে তিন দিকে ফিরে তিনবার বলতেন। যাতে উপস্থিত সকলে ভালোভাবে বুঝে নিতে পারে। তাছাড়া কোন বিষয়ে অধিক গুরুত্ব প্রদানের জন্যও কোন কোন কথা তিনবার বলতেন।
রাসূলুল্লাহ এর বাচনভঙ্গি সম্পর্কে হিন্দ ইবনে আবু হালা (রাঃ) এর বর্ণনা :
عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِي ، قَالَ : سَأَلْتُ خَالِي هِنْدُ بْنُ أَبِي هَالَةَ ، وَكَانَ وَضَافًا ، فَقُلْتُ : صِفْ لِي مَنْطِقَ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مُتَوَاصِلَ الْأَحْزَانِ دَائِمَ الْفِكْرَةِ لَيْسَتْ لَهُ رَاحَةٌ ، طَوِيلُ السَّكْتِ ، لَا يَتَكَلَّمُ فِي غَيْرِ حَاجَةٍ ، يَفْتَتِحُ الْكَلَامَ وَيَخْتِمُهُ بِاسْمِ اللَّهِ تَعَالَى . وَيَتَكَلَّمُ بِجَوَامِعِ الْكَلِمِ ، كَلَامُهُ فَصْلٌ ، لَا فُضُولَ وَلَا تَقْصِيرَ . لَيْسَ بِالْجَافِي وَلَا الْمُهِيْنِ . يُعَظِمُ النِّعْمَةَ ، وَإِنْ دَقَّتْ لَا يَذُمُّ مِنْهَا شَيْئًا غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ يَكُن يَذُمُّ ذَوَاقًا وَلَا يَمْدَحُهُ ، وَلَا تُغْضِبُهُ الدُّنْيَا ، وَلَا مَا كَانَ لَهَا . فَإِذَا تُعْدِيَ الْحَقُّ لَمْ يَقُمْ لِغَضَبِهِ شَيْءٌ حَتَّى يَنْتَصِرَ لَهُ ، وَلَا يَغْضَبُ لِنَفْسِهِ ، وَلَا يَنْتَصِرُ لَهَا . إِذَا أَشَارَ أَشَارَ بِكَفِّهِ كُلِّهَا ، وَإِذَا تَعَجَّبَ قَلَبَهَا ، وَإِذَا تَحَدَّثَ اتَّصَلَ بِهَا ، وَضَرَبَ بِرَاحَتِهِ الْيُمْنَى بَطْنَ إِبْهَامِهِ الْيُسْرَى ، وَإِذَا غَضِبَ أَعْرَضَ وَأَشَاحَ ، وَإِذَا فَرِحَ غَضَّ طَرْفَهُ . جُلُّ ضَحِكِهِ التَّبَسُّمُ ، يَفْتَرُ عَنْ مِثْلِ حَبِّ الْغَمَامِ
১৬৭. হাসান ইবনে আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (আমার) মামা হিন্দ ইবনে আবু হালা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি রাসূলুল্লাহ এর অবয়ব ও আখলাক সম্পর্কে সুন্দররূপে বর্ণনা করতেন। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ এর বাচনভঙ্গি সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সর্বদা আখিরাতে উম্মতের মুক্তির চিন্তায় বিভোর থাকতেন। এ
কারণে তাঁর কোন স্বস্তি ছিল না। তিনি অধিকাংশ সময় নীরব থাকতেন। বিনা প্রয়োজনে কথা বলতেন না। তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলতেন। তিনি ব্যাপক অর্থবোধক বাক্যালাপ করতেন। তাঁর কথা ছিল একটি থেকে অপরটি পৃথক। তাঁর কথাবার্তা অধিক বিস্তারিত ছিল না কিংবা অতি সংক্ষিপ্তও ছিল না। অর্থাৎ তাঁর কথার মর্মার্থ অনুধাবনে কোন প্রকার অসুবিধা হতো না। তাঁর কথায় কঠোরতার ছাপ ছিল না, থাকত না তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের ভাব। আল্লাহর নিয়ামত যত সামান্যই হতো তাকে তিনি অনেক বড় মনে করতেন। এতে তিনি কোন দোষত্রুটি খুঁজতেন না। তিনি অপরিহার্য খাদ্য সামগ্রীর ত্রুটি খতিয়ে দেখতেন না এবং উচ্ছ্বাসিত প্রশংসাও করতেন না। পার্থিব কোন বিষয় বা কাজের উপর ক্রোধ প্রকাশ করতেন না এবং তার জন্য আক্ষেপও করতেন না। অবশ্য যখন কেউ দীনি কোন বিষয়ে সীমলঙ্ঘন করত তখন তাঁর রাগের সীমা থাকত না। এমনকি তখন কেউ তাঁকে বশে রাখতে পারত না। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত কারণে ক্রোধান্বিত হতেন না এবং এজন্য কারো সাহায্য গ্রহণ করতেন না। কোন বিষয়ের প্রতি ইশারা করলে সম্পূর্ণ হাত দ্বারা ইশারা করতেন। তিনি কোন বিস্ময় প্রকাশ করলে হাত উল্টাতেন। যখন কথাবার্তা বলতেন তখন ডান হাতের তালুতে বাম হাতের আঙ্গুলের আভ্যন্তরীণ ভাগ দ্বারা আঘাত করতেন। কারো প্রতি অসন্তুষ্ট হলে তার দিক হতে মুখ ফিরিয়ে নিতেন এবং অমনোযোগী হতেন। যখন তিনি আনন্দ-উৎফুল্ল হতেন তখন তাঁর চোখের কিনারা নিম্নমুখী করতেন। অধিকাংশ সময় তিনি মুচকি হাসতেন। তখন তাঁর দাঁতগুলো বরফের ন্যায় উজ্জ্বল সাদারূপে শোভা পেত।১৬৬
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ কোন খাদ্যের ত্রুটি ধরতেন না। কারণ, এটা আল্লাহর নিয়ামত। আবার অতিরিক্ত প্রশংসাও করতেন না। তবে কখনো আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করা বা কারো সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোন খাদ্যের সাধারণ প্রশংসাও করেছেন। দুনিয়ার সাথে সম্পর্কিত কোন কিছুই তাঁকে রাগান্বিত করত না।
টিকাঃ
১৬৪ মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬২৫২; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬৯৬।
১৬৫০ মুজামুল ইসমাঈলী, হা/১০৫; মু'জামুস সগীর, হা/৯১২১।
১৬৬ শু'আবুল ঈমান, হা/১৩৬২।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর হাসি
রাসূলুল্লাহ মুচকি হাসি হাসতেন:
১৬৮. আবদুল্লাহ ইবনে হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ এর চেয়ে অধিক মুচকি হাস্যকারী ব্যক্তি কাউকে দেখিনি। ১৬৭
ব্যাখ্যা: পূর্বের অধ্যায়ের এক হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে- রাসূলুল্লাহ সর্বদা চিন্তিত থাকতেন। আর এ হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি বেশি বেশি মুচকি হাসতেন। এ দু'হাদীসের সমন্বয় হলো রাসূলুল্লাহ এর অন্তর সর্বদা চিন্তিত থাকত। কিন্তু লোকদের তিনি বুঝতে দিতেন না তাই তাদের সাথে হাসি মুখে কথা বলতেন। এটা ছিল তাঁর উন্নত চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْحَارِثِ ﷺ، قَالَ : مَا كَانَ ضَحِكُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِلَّا تَبَسُمًا
১৬৯. আবদুল্লাহ ইবনে হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সবসময় মুচকী হাসতেন।
রাসূলুল্লাহ হাসার সময় দাঁত দেখা যেত:
عَنْ أَبِي ذَرٍ ﷺ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : إِنِّي لَأَعْلَمُ أَوَّلَ رَجُلٍ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ وَآخَرَ رَجُلٍ يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ ، يُؤْتَى بِالرَّجُلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُقَالُ : أَعْرِضُوا عَلَيْهِ صِغَارَ ذُنُوبِهِ وَيُخْيَأُ عَنْهُ كِبَارُهَا ، فَيُقَالُ لَهُ : عَمِلْتَ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا كَذَا ، وَهُوَ مُقِرٌّ لَا يُنْكِرُ ، وَهُوَ مُشْفِقٌ مِنْ كِبَارِهَا فَيُقَالُ : أَعْطُوهُ مَكَانَ كُلِّ سَيِّئَةٍ عَمِلَهَا حَسَنَةٌ ، فَيَقُوْلُ : إِنَّ لِيْ ذُنُوبًا مَا أَرَاهَا هَهُنَا. قَالَ أَبُو ذَرٍ : فَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ ضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ
১৭০. আবু যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, নিশ্চয় আমি সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী ব্যক্তিকে ভালোভাবে জানি। আর যে ব্যক্তি সর্বশেষ জাহান্নাম হতে নাজাত পাবে, তাকেও জানি। কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে (আল্লাহর নিকট উপস্থিত করে) বলা হবে, এর সগীরা গুনাহগুলো উপস্থাপন করো এবং কবীরা গুনাহগুলো গোপন করে রাখো।
এরপর তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি অমুক অমুক দিনে এই এই গুনাহ করেছ। তখন সে ব্যক্তি সবগুলো স্বীকার করবে এবং একটিও অস্বীকার করবে না। এরপর সে তার কবীরা গুনাহসমূহ সম্পর্কে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে। তখন ঘোষণা দেয়া হবে যে, তার প্রতিটি মন্দ কাজের বিনিময়ে একটি করে নেকী লিপিবদ্ধ করো। এরপর সে বলবে, নিশ্চয় এখনও আমার অনেক গুনাহ বাকী আছে, যা দেখতে পাচ্ছি না। আবু যর (রাঃ) বলেন, তখন আমি দেখলাম, রাসূলুল্লাহ মুচকি হাসছেন; এমনকি তাঁর সাদা দাঁতগুলো দেখা যাচ্ছিল। ১৬৮
عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ﷺ قَالَ : مَا حَجَبَنِي رَسُولُ اللهِ ﷺ مُنْذُ أَسْلَمْتُ وَلَا رَانِي إِلَّا ضَحِكَ
১৭১. জারীর ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার ইসলাম গ্রহণের পর হতে রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে (তাঁর কাছে আসতে) বাধা দেননি। আর আমাকে দেখা মাত্রই তিনি হাসতেন। ১৬৯
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ ﷺ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : إِنِّي لَأَعْرِفُ أُخِرَ أَهْلِ النَّارِ خُرُوجًا . رَجُلٌ يَخْرُجُ مِنْهَا زَحْفًا ، فَيُقَالُ لَهُ : انْطَلِقُ فَادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ : فَيَذْهَبُ لِيَدْخُلَ الْجَنَّةَ . فَيَجِدُ النَّاسَ قَدْ أَخَذُوا الْمَنَازِلَ ، فَيَرْجِعُ فَيَقُولُ : يَا رَبِّ ، قَدْ أَخَذَ النَّاسُ الْمَنَازِلَ ، فَيُقَالُ لَهُ : أَتَذْكُرُ الزَّمَانَ الَّذِي كُنْتَ فِيْهِ ، فَيَقُولُ : نَعَمْ قَالَ : فَيُقَالُ لَهُ : تَمَنَّ قَالَ : فَيَتَمَنَّى ، فَيُقَالُ لَهُ : فَإِنَّ لَكَ الَّذِي تَمَنَّيْتَ وَعَشَرَةَ أَضْعَافِ الدُّنْيَا " قَالَ : فَيَقُولُ : تَسْخَرُ بِي وَأَنْتَ الْمَلِكُ قَالَ : فَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ ضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ
১৭২. আবদুল্লাহ ইবনে মাস'উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি সর্বশেষে জাহান্নাম হতে নাজাত পেয়ে বের হয়ে আসবে, আমি তাঁকে চিনি। সে হামাগুড়ি দিয়ে জাহান্নাম হতে বের হয়ে আসবে। এরপর তাকে বলা হবে, এসো। জান্নাতে প্রবেশ করো। ঘোষণা মুতাবিক সে (জান্নাতের দিকে) যাবে এবং সেখানে প্রবেশ করে দেখতে পাবে কোথাও ঠাঁই নাই। লোকেরা সকল স্থান অধিকার করে আছে। অতঃপর.সে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসবে এবং বলবে, হে আমার প্রতিপালক! লোকেরা তো সব স্থানই দখল করে আছে। তখন তাকে বলা হবে, তোমার সে কালের (দুনিয়ার) কথা স্মরণ আছে কি, যেখানে তুমি অবস্থান করেছিলে? সে বলবে, জি-হ্যাঁ। সবই আমার মনে পড়ে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তাকে বলা হবে, তোমার মনে যা চায়, তা আকাঙ্ক্ষা করো। তিনি বলেন, তখন সে আকাঙ্ক্ষা করবে। এরপর তাকে বলা হবে, তুমি যে ইচ্ছা পোষণ করলে তাই তোমার জন্য মঞ্জুর করা হলো এবং তোমাকে দশ দুনিয়ার সমান দেয়া হবে। তিনি বলেন, তখন সে বলবে, আপনি কি আমার সঙ্গে ঠাট্টা করছেন অথচ আপনি আমার মালিক সারা জাহানের সম্রাট! তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, এমতাবস্থায় আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে মুচকি হাসি দিতে দেখলাম, এমনকি তাঁর দাঁত দেখা যাচ্ছিল। ১৭০
عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ ، قَالَ : شَهِدْتُ عَلِيًّا ، أُتِيَ بِدَابَّةٍ لِيَرْكَبَهَا فَلَمَّا وَضَعَ رِجْلَهُ فِي الرِّكَابِ قَالَ : بِسْمِ اللَّهِ . فَلَمَّا اسْتَوَى عَلَى ظَهْرِهَا قَالَ : الْحَمْدُ لِلهِ ، ثُمَّ قَالَ : ﴿سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ ، وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ ﴾ ثُمَّ قَالَ : الْحَمْدُ لِلَّهِ ثَلَاثًا ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ ثَلَاثًا . سُبْحَانَكَ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ، فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ ، ثُمَّ ضَحِكَ ، فَقُلْتُ لَهُ : مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ ؟ قَالَ : رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ صَنَعَ كَمَا صَنَعْتُ ثُمَّ ضَحِكَ فَقُلْتُ : مِنْ أَيِّ شَيْءٍ ضَحِكْتَ يَا رَسُوْلَ اللهِ ؟ قَالَ : إِنَّ رَبَّكَ لَيَعْجَبُ مِنْ عَبْدِهِ إِذَا قَالَ : رَبِّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي إِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ غَيْرُكَ
১৭৩. আলী ইবনে রবী'আ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আলী (রাঃ) এর সামনে উপস্থিত হলাম। তখন তাঁর কাছে একটি জানোয়ারকে আরোহণের জন্য আনা হলো। যখন তিনি সে পশুটির পাদানীতে পা রাখলেন এবং বললেন, "বিসমিল্লা-হ”। অতঃপর জানোয়ারের পিঠে যখন সোজা হয়ে বসলেন তখন বললেন, "আলহাম্দু লিল্লা-হ” (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর) অতঃপর বললেন:
﴿سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ ، وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ﴾ "সুবহা-নাল্লাযী সাখারা লানা- হা-যা- ওয়ামা- কুন্না- লাহ্ মুকুরিনীন, ওয়া ইন্না- ইলা- রব্বিনা- লামুনকুলিবৃন" অর্থাৎ হে আল্লাহ! মহান সত্তার পবিত্রতা জ্ঞাপন করছি, যিনি আমাদের জন্য একে বশীভূত করেছেন। আমরা একে বশীভূত করতে সক্ষম নই। বস্তুত আমরা তার দিকে প্রত্যাবর্তন করছি। ১৭১
এরপর তিনি ৩ বার "আলহাম্দু লিল্লা-হ” এবং ৩ বার "বিসমিল্লা-হ” পাঠ করলেন। এরপর এ দু'আ পড়লেন:
سُبْحَانَكَ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ، فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ "সুবহা-নাকা ইন্নী যলামতু নাক্সী ফাগফিরলী ফাইন্নahু লা- ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আন্তা।" অর্থাৎ আল্লাহ পবিত্র! নিশ্চয় আমি আমার নিজের উপর সীমালঙ্ঘন করেছি। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। কারণ, আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমাকারী আর কেউ নেই।
এরপর তিনি হাসলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম, আমীরুল মু'মিনীন! আপনার হাসি পেল? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ কে এমনভাবে দেখেছি যেভাবে আমি এইমাত্র কথা ও কাজ সম্পন্ন করলাম। এরপর তিনি মুচকি হাসি দিলেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কোন জিনিস আপনাকে হাসাল? তিনি বললেন, তোমার প্রতিপালক তাঁর বান্দার এ কথা খুবই পছন্দ করেন যখন সে বলে, হে আমার প্রতিপালক! আমার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দাও, এ বিশ্বাস রেখে যে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না। ১৭২
টিকাঃ
১৬৭ মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৭৫০; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৩৫০; শু'আবুল ঈমান, হা/৭৬৮৭।
১৬৮ মুসনাদে আহমাদ, হা/২১৪৩০; মুসনাদুল বাযযার, হা/৩৯৮৭; শারহুস সুন্নাহ, হা/৪৩৬০; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৩০৫২।
১৬৯ সহীহ বুখারী, হা/৩০৩৫; সহীহ মুসলিম, হা/৬৫১৮; ইবনে মাজাহ, হা/১৫৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৯১৯৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৭২০০; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৩৪৯।
১৭০ সহীহ মুসলিম, হা/৪৮০; ইবনে হিব্বান, হা/৭৪৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৫৯৫; শারহুস সুন্নাহ, হা/৪৩৫৬।
১৭১ সূরা যুখরুফ- ১৪।
১৭২ মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৫৩; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/১৩৪; সুনানুল কাবীর লিন নাসাঈ, হা/৮৭৪৮: শারহুস সুন্নাহ, হা/১৩৪৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৬৯৮।