📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর পানীয় বস্তুর বিবরণ
রাসূলুল্লাহ ঠাণ্ডা মিষ্টি পানীয় অধিকতর পছন্দ করতেন:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كَانَ أَحَبَّ الشَّرَابِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ الْحُلُمُ الْبَارِدُ
১৫০. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ঠাণ্ডা মিষ্টি পানীয় অধিকতর পছন্দ করতেন। ১৫০
তিনি নিজে পান করে প্রথমে ডান পার্শ্বের ব্যক্তিকে দিতেন।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : دَخَلْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَنَا وَخَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ عَلَى مَيْمُونَةً فَجَاءَتْنَا بِإِنَاءٍ مِنْ لَبَنٍ ، فَشَرِبَ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَأَنَا عَلَى يَمِينِهِ وَخَالِدٌ عَلَى شِمَالِهِ ، فَقَالَ لِي : الشَّرْبَةُ لَكَ ، فَإِنْ شِيْتَ أَثَرْتَ بِهَا خَالِدًا فَقُلْتُ : مَا كُنْتُ لِأُوثِرَ عَلَى سُؤْرِكَ أَحَدًا ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : مَنْ أَطْعَمَهُ اللهُ طَعَامًا ، فَلْيَقُلِ : اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهِ وَأَطْعِمْنَا خَيْرًا مِنْهُ ، وَمَنْ سَقَاهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَبَنًا ، فَلْيَقُلِ : اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهِ وَزِدْنَا مِنْهُ، ثُمَّ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ : لَيْسَ شَيْءٌ يُجْزِئُ مَكَانَ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ غَيْرُ اللَّبَنِ
১৫১. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর সাথে আমি এবং খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাঃ) একবার মায়মূনা (রাঃ) এর নিকট গেলাম। তিনি আমাদের জন্য একটি পাত্রে দুধ আনলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ তা হতে কিছু পান করলেন। সে সময় আমি ছিলাম তাঁর ডানে এবং খালিদ তাঁর বামে। তারপর তিনি আমাকে বললেন, এখন পান করার হক তোমার। তবে ইচ্ছে করলে তুমি খালিদকে তোমার উপর অগ্রাধিকার দিতে পার। এরপর ইবনে আব্বাস (রাঃ) বললেন, আমি আপনার উচ্ছিষ্টের ব্যাপারে কাউকে অগ্রাধিকার দিতে সম্মত নই। এরপর রাসূলুল্লাহ বললেন, আল্লাহ যদি কাউকে কোন খাবার খাওয়ান তাহলে তার বলা উচিত-
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهِ وَأَطْعِمْنَا خَيْرًا مِنْهُ "আল্ল-হুম্মা বা-রিক লানা- ফীহি ওয়া আত্ব'ইম্মা- খয়রাম্ মিন্টু।" অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি এতে বরকত দাও এবং আমাদেরকে এর চেয়েও বেশি সুস্বাদু খাবার দান করো।
আর যদি আল্লাহ কাউকে দুধ পান করান, তাহলে তার বলা উচিত- اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهِ وَزِدْنَا مِنْهُ "আল্ল-হুম্মা বা-রিক লানা- ফীহি ওয়াযিদনা- মিন্হু।" অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি এতে আমাদের জন্য বরকত দাও এবং আমাদেরকে এর চেয়েও বেশি দাও।
এরপর বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, দুধ ছাড়া এমন কোন বস্তু নেই, যা খাদ্য ও পানীয় উভয়ের কাজ দেয়।
ব্যাখ্যা: 'এখন পান করার অধিকার তোমার' রাসূলুল্লাহ ﷺ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর কাছে অনুমতি এজন্য চেয়েছিলেন যে, তখন তিনি ডানে বসা ছিলেন। আর খালেদ (রাঃ) ছিলেন বামে। আর বিভিন্ন হাদীসের বর্ণিত আছে- খাবার ডান দিক থেকে পরিবেশন করবে। এজন্য বড়কে সম্মান প্রদর্শনের জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছিলেন, তুমি ইচ্ছা করলে খালেদকে আগে খেতে দিতে পার।
টিকাঃ
১৫০ মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪১৪৬; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৭২০০; সুনানুল কুবরা হা/৬৮১৫: শারহুস সুন্নাহ, হা/৩০২৬; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/২৪৬৭৬; জামেউস সগীর, হা/৮৭৫৬; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৩০০৬।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর পান করার পদ্ধতি
রাসূলুল্লাহ ﷺ দাঁড়ানো অবস্থায় যমযমের পানি পান করতেন:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ هُ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ شَرِبَ مِنْ زَمْزَمَ وَهُوَ قَائِمٌ
১৫২. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় নবী ﷺ দাঁড়ানো অবস্থায় যমযমের পানি পান করতেন। ১৫১
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ ، عَنْ أَبِيْهِ ، عَنْ جَدِهِ قَالَ : رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَشْرَبُ قَائِمًا وَقَاعِدًا
১৫৩. আমর ইবনে শু'আইব (রহ.) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। তিনি তার পিতামহ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে দাঁড়িয়ে ও বসে (উভয় অবস্থায়) পান করতে দেখেছি। ১৫২
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ له قَالَ : سَقَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ مِنْ زَمْزَمَ فَشَرِبَ وَهُوَ قَائِمٌ
১৫৪. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী ﷺ কে যমযমের পানি পান করিয়েছি। আর তিনি তা দাঁড়িয়ে পান করেছেন। ১৫৩
রাসূলুল্লাহ ওযুর অবশিষ্ট পানি দাঁড়িয়ে পান করতেন :
عَنِ النَّزَّالِ بْنِ سَبْرَةَ قَالَ : أَتَى عَلِيٌّ بِكُورٍ مِنْ مَاءٍ وَهُوَ فِي الرَّحْبَةِ فَأَخَذَ مِنْهُ كَفًّا فَغَسَلَ يَدَيْهِ وَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَمَسَحَ وَجْهَهُ وَذِرَاعَيْهِ وَرَأْسَهُ ، ثُمَّ شَرِبَ وَهُوَ قَائِمٌ ، ثُمَّ قَالَ : هُذَا وُضُوءُ مَنْ لَمْ يُحْدِثُ ، هُكَذَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَعَلَ
১৫৫. নায্যাল ইবনে সাবরা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আলী (রাঃ) রাহবা তথা কুফার মসজিদের বারান্দায় অবস্থানকালে তাঁর জন্য এক মগ পানি আনা হলো। তিনি তা হতে এক অঞ্জলি পানি নিয়ে উভয় হাত ধৌত করলেন। তারপর কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিলেন। এরপর মুখমণ্ডল মাসাহ করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে অবশিষ্ট পানি পান করলেন। এরপর বললেন, যার ওযু ভঙ্গ হয়নি, তার ওযূ হচ্ছে এই। (তিনি বলেন) রাসূলুল্লাহ -কে আমি এরূপ করতে দেখেছি। ১৫৪
ব্যাখ্যা: এখানে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। তার একটি হলো হাত-মুখ প্রকৃত অর্থেই মাসেহ করেছেন। এ হিসেবে একে ওযূ বলা হয়েছে রূপক অর্থে। যাকে আভিধানিক অর্থেও ওযূ বলা যায়। পা ধৌত করার কথা উল্লেখ না থাকাতেও এটা বুঝা যায়। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, অল্প ধৌত করাকে মাসেহ বলা হয়েছে। কোন কোন বর্ণনায় মাসেহ এর পরিবর্তে হাত মুখ ধৌত করার কথা উল্লেখ রয়েছে। পা ধোয়ার কথাও কোন কোন বর্ণনাতে এসেছে। কাজেই হাদীসে ওযূ করাই উদ্দেশ্য।
রাসূলুল্লাহ পান করার সময় তিনবার শ্বাস নিতেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ : كَانَ يَتَنَفَسُ فِي الْإِنَاءِ ثَلَاثًا إِذَا شَرِبَ ، وَيَقُوْلُ : هُوَ أَمْرَأَ وَأَرْوَى
১৫৬. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নিশ্চয় নবী যখন পান করতেন তখন তিনবার শ্বাস নিতেন এবং বলতেন, তা অধিক স্বাস্থ্যকর ও তৃপ্তিদানে অধিকতর সহায়ক। ১৫৫
একদা তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় মশক হতে পানি পান করেন:
عَنْ كَبْشَةَ . قَالَتْ : دَخَلَ عَلَيَّ النَّبِيُّ ﷺ فَشَرِبَ مِنْ قِرْبَةٍ مُعَلَقَةٍ قَائِمًا ، فَقُمْتُ إِلَى فِيهَا فَقَطَعْتُهُ
১৫৭. কাব্শা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ আমার নিকট আসলেন। তখন তিনি লটকানো মশক হতে দাঁড়ানো অবস্থায় পানি পান করলেন। এরপর আমি দাঁড়ালাম এবং মশকের মুখটি কেটে নিলাম। ১৫৬
আনাস (রাঃ)ও তিন শ্বাসে পানি পান করতেন:
عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ : كَانَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ ، يَتَنَفَسُ فِي الْإِنَاءِ ثَلَاثًا ، وَزَعَمَ أَنَسُ ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَتَنَفَسُ فِي الْإِنَاءِ ثَلَاثًا
১৫৮. সুমামা ইবনে আবদুল্লাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) তিন শ্বাসে পানি পান করতেন এবং বলতেন, নবী তিন শ্বাসে পানি পান করতেন। ১৫৭
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ دَخَلَ عَلَى أُمِّ سُلَيْمٍ وَقِرْبَةٌ مُعَلَّقَةٌ فَشَرِبَ مِنْ فَمِ الْقِرْبَةِ وَهُوَ قَائِمٌ ، فَقَامَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ إِلَى رَأْسِ الْقِرْبَةِ فَقَطَعَتُهَا
১৫৯. আনাস ইবনে মলিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার নবী আনাস (রাঃ) এর মাতা উম্মে সুলায়ম (রাঃ) এর বাড়ি যান। সেখানে একটি মশক ঝুলন্ত ছিল। এরপর তিনি দাঁড়ানো অবস্থায় মশকটির মুখ হতে পানি পান করলেন। এরপর উম্মে সুলায়ম (রাঃ) মশকের নিকট পৌঁছান এবং তার মুখ কেটে নেন।১৫৮
عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَاصٍ . أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَشْرَبُ قَائِمًا
১৬০. সা'দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী দাঁড়ানো অবস্থায় পানি পান করতেন। ১৫৯
টিকাঃ
১৫১ সহীহ মুসলিম, হা/৫৪০০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৩৮; শু'আবুল ঈমান, হা/৫৫৮২।
১৫২ সুনানে নাসাঈ, হা/১৩৬১; মুসনাদে আহমাদ, হা/৬৯২৮; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩০৪৮।
১৫৩ সহীহ বুখারী, হা/১৬৩৭; সহীহ মুসলিম, হা/৫৩৯৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬০৮; ইবনে মাজাহ, হা/৩৪২২; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৩২০; মু'জামুস সাগীর, হা/৩৮৯; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩০৪৬।
১৫৪ মুসনাদে আহমাদ, হা/৫৮৩।
১৫৫ সহীহ মুসলিম, হা/৫৪০৫; সহীহ বুখারী, হা/২৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৯৪৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৩২৯; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৭২০৫; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২১১৯।
১৫৬ শারহুস সুন্নাহ, হা/৩০৪২; শু'আবুল ঈমান, হা/৫৬২৪।
১৫৭ ইবনে মাজাহ, হা/৩৪১৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৯৪৭; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩০৩৭।
১৫৮ মুসনাদে আহমাদ, হা/২৭৪৬৮; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/২০৮১৫।
১৫৯ মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/১৬৫৪; মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/৩৩৭; শারহুল মা'আনী, হা/৬৮৪৮।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর সুগন্ধি ব্যবহার
রাসূলুল্লাহ এর একটি আতরদানি ছিল:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ هُ قَالَ : كَانَ لِرَسُولِ اللهِ ﷺ سُكَّةٌ يَتَطَيَّبُ مِنْهَا
১৬১. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর আতরদানি ছিল। তিনি তা হতে আতর লাগাতেন। ১৬০
তিনি কখনো সুগন্ধি ফেরত দিতেন না:
عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ : كَانَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ ، لَا يَرُدُّ الطِيبَ ، وَقَالَ أَنَسٌ : إِنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ لَا يَرُدُّ الطِيبَ
১৬২. সুমামা ইবনে আবদুল্লাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাঃ) সুগদ্ধি ফেরত দিতেন না। আর আনাস (রাঃ) বলতেন, নবী কখনো সুগন্ধি ফেরত দিতেন না। ১৬১
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : ثَلَاثُ لَا تُرَةُ : الْوَسَائِدُ ، وَالدُّهْنُ ، وَاللَّبَنُ
১৬৩. ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, তিনটি বস্তু কখনো ফেরত দেবে না- বালিশ, তৈল এবং দুধ। ১৬২
তিনি পুরুষ ও মহিলাদের সুগন্ধি ব্যবহারের পার্থক্য বলে দিয়েছেন :
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : طِيبُ الرِّجَالِ مَا ظَهَرَ رِيحُةً وَخَفِيَ لَوْنُهُ ، وَطِيبُ النِّسَاءِ مَا ظَهَرَ لَوْنُهُ وَخَفِيَ رِيحُةً
১৬৪. আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, পুরুষের সুগদ্ধি ছড়ায় কিন্তু রং থাকে অদৃশ্য। আর মহিলাদের সুগন্ধির রং দৃশ্যমান কিন্তু তাতে গন্ধ নেই।১৬৩
ব্যাখ্যা: পুরুষের সুগন্ধি এমন হতে হবে যাতে বেশি সুঘ্রাণ যুক্ত হয়। কিন্তু রং থাকে না। আর মহিলাদের সুগন্ধি হলো রং। যেমন- জাফরান, মেহেদি ইত্যাদি। অতএব, সুবাস ছড়ানো সুগন্ধি ব্যবহার করে ঘরের বাহিরে যাওয়া নিষেধ। তবে স্বামীর কাছে থাকা অবস্থায় যে কোন ধরনের সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারবে।
টিকাঃ
১৮০ আবু দাউদ, হা/৪১৪৬; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১৬৭; জামেউস সগীর, হা/৮৯৬২।
১৬১ সহীহ বুখারী, হা/২৫৮২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৩৭৯; শারহুস সুন্নah, হা/৩১৭০; জামেউস সগীর, হা/৮৯৮৩; শু'আবুল ঈমান, হা/৬০০৫।
১৬২ মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৩১০০; জামেউস সগীর, হা/৫৩৫৭; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১৭৩; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৬১৯।
১৬৩ আবু দাউদ, হা/২১৭৬; সুনানে নাসাঈ, হা/৫১১৭; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৬৩৯; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১৬২; জামেউস সগীর, হা/৩৮২৮।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর বাচনভঙ্গি
রাসূলুল্লাহ এর কথা ছিল সুস্পষ্ট:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : مَا كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَسْرُدُ سَرْدَكُمْ هُذَا ، وَلَكِنَّهُ كَانَ بَيْنِ فَصْلٍ . يَحْفَظُهُ مَنْ جَلَسَ إِلَيْهِ
১৬৫. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ তোমাদের ন্যায় চটপটে তথা অস্পষ্টভাবে তাড়াতাড়ি কথা বলতেন না, বরং তাঁর প্রতিটি কথা ছিল সুস্পষ্ট। আর শ্রোতারা খুব সহজেই তা হৃদয়ঙ্গম করতে পারত। ১৬৪
রাসূলুল্লাহ কোন কোন কথা তিনবার বলতেন :
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ لَهُ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُعِيدُ الْكَلِمَةَ ثَلاَثًا لِيُعْقَلَ عَنْهُ
১৬৬. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ কোন কথা তিনবার বলতেন, যাতে (শ্রোতারা) ভালোভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে পারে। ১৬৫
ব্যাখ্যা: সহজে বোধগম্য নয় এমন বিষয় হলে বা শ্রোতা অধিক থাকলে তিন দিকে ফিরে তিনবার বলতেন। যাতে উপস্থিত সকলে ভালোভাবে বুঝে নিতে পারে। তাছাড়া কোন বিষয়ে অধিক গুরুত্ব প্রদানের জন্যও কোন কোন কথা তিনবার বলতেন।
রাসূলুল্লাহ এর বাচনভঙ্গি সম্পর্কে হিন্দ ইবনে আবু হালা (রাঃ) এর বর্ণনা :
عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِي ، قَالَ : سَأَلْتُ خَالِي هِنْدُ بْنُ أَبِي هَالَةَ ، وَكَانَ وَضَافًا ، فَقُلْتُ : صِفْ لِي مَنْطِقَ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مُتَوَاصِلَ الْأَحْزَانِ دَائِمَ الْفِكْرَةِ لَيْسَتْ لَهُ رَاحَةٌ ، طَوِيلُ السَّكْتِ ، لَا يَتَكَلَّمُ فِي غَيْرِ حَاجَةٍ ، يَفْتَتِحُ الْكَلَامَ وَيَخْتِمُهُ بِاسْمِ اللَّهِ تَعَالَى . وَيَتَكَلَّمُ بِجَوَامِعِ الْكَلِمِ ، كَلَامُهُ فَصْلٌ ، لَا فُضُولَ وَلَا تَقْصِيرَ . لَيْسَ بِالْجَافِي وَلَا الْمُهِيْنِ . يُعَظِمُ النِّعْمَةَ ، وَإِنْ دَقَّتْ لَا يَذُمُّ مِنْهَا شَيْئًا غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ يَكُن يَذُمُّ ذَوَاقًا وَلَا يَمْدَحُهُ ، وَلَا تُغْضِبُهُ الدُّنْيَا ، وَلَا مَا كَانَ لَهَا . فَإِذَا تُعْدِيَ الْحَقُّ لَمْ يَقُمْ لِغَضَبِهِ شَيْءٌ حَتَّى يَنْتَصِرَ لَهُ ، وَلَا يَغْضَبُ لِنَفْسِهِ ، وَلَا يَنْتَصِرُ لَهَا . إِذَا أَشَارَ أَشَارَ بِكَفِّهِ كُلِّهَا ، وَإِذَا تَعَجَّبَ قَلَبَهَا ، وَإِذَا تَحَدَّثَ اتَّصَلَ بِهَا ، وَضَرَبَ بِرَاحَتِهِ الْيُمْنَى بَطْنَ إِبْهَامِهِ الْيُسْرَى ، وَإِذَا غَضِبَ أَعْرَضَ وَأَشَاحَ ، وَإِذَا فَرِحَ غَضَّ طَرْفَهُ . جُلُّ ضَحِكِهِ التَّبَسُّمُ ، يَفْتَرُ عَنْ مِثْلِ حَبِّ الْغَمَامِ
১৬৭. হাসান ইবনে আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (আমার) মামা হিন্দ ইবনে আবু হালা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি রাসূলুল্লাহ এর অবয়ব ও আখলাক সম্পর্কে সুন্দররূপে বর্ণনা করতেন। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ এর বাচনভঙ্গি সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সর্বদা আখিরাতে উম্মতের মুক্তির চিন্তায় বিভোর থাকতেন। এ
কারণে তাঁর কোন স্বস্তি ছিল না। তিনি অধিকাংশ সময় নীরব থাকতেন। বিনা প্রয়োজনে কথা বলতেন না। তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলতেন। তিনি ব্যাপক অর্থবোধক বাক্যালাপ করতেন। তাঁর কথা ছিল একটি থেকে অপরটি পৃথক। তাঁর কথাবার্তা অধিক বিস্তারিত ছিল না কিংবা অতি সংক্ষিপ্তও ছিল না। অর্থাৎ তাঁর কথার মর্মার্থ অনুধাবনে কোন প্রকার অসুবিধা হতো না। তাঁর কথায় কঠোরতার ছাপ ছিল না, থাকত না তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের ভাব। আল্লাহর নিয়ামত যত সামান্যই হতো তাকে তিনি অনেক বড় মনে করতেন। এতে তিনি কোন দোষত্রুটি খুঁজতেন না। তিনি অপরিহার্য খাদ্য সামগ্রীর ত্রুটি খতিয়ে দেখতেন না এবং উচ্ছ্বাসিত প্রশংসাও করতেন না। পার্থিব কোন বিষয় বা কাজের উপর ক্রোধ প্রকাশ করতেন না এবং তার জন্য আক্ষেপও করতেন না। অবশ্য যখন কেউ দীনি কোন বিষয়ে সীমলঙ্ঘন করত তখন তাঁর রাগের সীমা থাকত না। এমনকি তখন কেউ তাঁকে বশে রাখতে পারত না। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত কারণে ক্রোধান্বিত হতেন না এবং এজন্য কারো সাহায্য গ্রহণ করতেন না। কোন বিষয়ের প্রতি ইশারা করলে সম্পূর্ণ হাত দ্বারা ইশারা করতেন। তিনি কোন বিস্ময় প্রকাশ করলে হাত উল্টাতেন। যখন কথাবার্তা বলতেন তখন ডান হাতের তালুতে বাম হাতের আঙ্গুলের আভ্যন্তরীণ ভাগ দ্বারা আঘাত করতেন। কারো প্রতি অসন্তুষ্ট হলে তার দিক হতে মুখ ফিরিয়ে নিতেন এবং অমনোযোগী হতেন। যখন তিনি আনন্দ-উৎফুল্ল হতেন তখন তাঁর চোখের কিনারা নিম্নমুখী করতেন। অধিকাংশ সময় তিনি মুচকি হাসতেন। তখন তাঁর দাঁতগুলো বরফের ন্যায় উজ্জ্বল সাদারূপে শোভা পেত।১৬৬
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ কোন খাদ্যের ত্রুটি ধরতেন না। কারণ, এটা আল্লাহর নিয়ামত। আবার অতিরিক্ত প্রশংসাও করতেন না। তবে কখনো আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করা বা কারো সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোন খাদ্যের সাধারণ প্রশংসাও করেছেন। দুনিয়ার সাথে সম্পর্কিত কোন কিছুই তাঁকে রাগান্বিত করত না।
টিকাঃ
১৬৪ মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬২৫২; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬৯৬।
১৬৫০ মুজামুল ইসমাঈলী, হা/১০৫; মু'জামুস সগীর, হা/৯১২১।
১৬৬ শু'আবুল ঈমান, হা/১৩৬২।