📄 আহার গ্রহণকালে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর ওযু
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ هِ ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ خَرَجَ مِنَ الْخَلَاءِ فَقُرِبَ إِلَيْهِ الطَّعَامُ فَقَالُوا : أَلَا نَأْتِيْكَ بِوَضُوءٍ ؟ قَالَ : إِنَّمَا أُمِرْتُ بِالْوُضُوْءِ إِذَا قُمْتُ إِلَى الصَّلَاةِ
১৩৭. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ বাইতুল খালা অর্থাৎ শৌচাগার থেকে বাইরে আসলেন। এরপর তাঁর সামনে খানা পরিবেশন করা হলো। সাহাবাগণ বললেন, আমরা আপনাকে ওযূর পানি দেব কি? তিনি বললেন, আমি তো কেবল সালাত আদায় করার সময় ওযু করার জন্য নির্দেশ পেয়েছি। ১৩৭
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ খাবার গ্রহণের আগে ওযু করতে অস্বীকৃতি করেন এবং ওযু না থাকা অবস্থায় খাদ্য গ্রহণ করেন। কাজেই বুঝা গেল যে, ইসলামে আহারের উদ্দেশ্যে ওযূর কোন বিধান নেই। আরো বুঝা গেল যে, মল-মূত্র ত্যাগ করার পর সঙ্গে সঙ্গে ওযু করার অপরিহার্যতাও নেই।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : خَرَجَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مِنَ الْغَائِطِ فَأُنِيَ بِطَعَامٍ ، فَقِيلَ لَهُ : أَلَا تَتَوَضَّأُ ؟ فَقَالَ : أُصَلِّي فَأَتَوَضَّأُ
১৩৮. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ ইস্তিঞ্জা তথা শৌচকার্য সেরে বাইরে আসলেন। এরপর খাবার পরিবেশন করা হলো। তখন তাঁকে বলা হলো, আপনি কি ওযু করবেন না? তিনি বললেন, আমি কি সালাত আদায় করব যে, ওযু করব?১৩৮
টিকাঃ
১৩৭ আবু দাউদ, হা/৩৭৬২; সুনানে নাসাঈ, হা/১৩২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৩৮১।
১৩৮ সহীহ মুসলিম, হা/৮৫৪; ইবনে মাজাহ, হা/৩২৬১; দারেমী, হা/৭৬৭; বায়হাকী, হা/১৮৯; শারহুস সুন্নাহ, হা/২৭২; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/২৪৯৪৯।
📄 খাওয়ার পূর্বে ও পরে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর দু’আ
রাসূলুল্লাহ ﷺ খাবারের শুরুতে আল্লাহর নাম নিতেন:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَنَسِيَ أَنْ يَذْكُرَ اللَّهَ تَعَالَى عَلَى طَعَامِهِ فَلْيَقُلْ : بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَةً
১৩৯. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, তোমাদের কেউ যদি খাবারের সময় আল্লাহর নাম (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম) উচ্চারণ করতে ভুলে যায়, তাহলে সে যেন (স্মরণ হলে) বলেন,
بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَأُخِرَةً "বিসমিল্লা-হি আওয়ালাহু ওয়া আ-খিরাহু” অর্থাৎ খাওয়ার শুরুতে ও শেষে আল্লাহর নাম স্মরণ করছি। ১৩৯
ব্যাখ্যা: এ হাদীস হতে বুঝা যায় যে, 'বিস্মিল্লাহ' বলে আহার শুরু করা সুন্নত। শুধু 'বিস্মিল্লাহ' বলাতেই এ সুন্নত আদায় হবে। এ ক্ষেত্রে এই শব্দের সাথে অন্য কোন শব্দ যোগ করা যাবে না।
তিনি ডান দিকে হতে খাবার খেতে শুরু করার জন্য আদেশ দিয়েছেন:
عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ ، أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ وَعِنْدَةً طَعَامٌ فَقَالَ : ادْنُ يَا بُنَيَّ فَسَمِ اللَّهَ تَعَالَى وَكُلْ بِيَمِينِكَ وَكُلْ مِمَّا يَلِيكَ
১৪০. উমর ইবনে আবু সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ এর নিকট প্রবেশ করেন। তখন তাঁর সামনে খাবার পরিবেশিত ছিল। তিনি বললেন, বৎস! কাছে এসো, আল্লাহর নাম উচ্চারণ করো এবং তোমার সামনের দিক থেকে ডান হাত দিয়ে খাবার খেতে শুরু করো। ১৪০
এ হাদীসের শিক্ষা: (ক) পানাহার আরম্ভ করার সময় বিস্মিল্লাহ বলে আরম্ভ করা। এটা সর্বসম্মতিক্রমে সুন্নত। (খ) ডান হাত দিয়ে পানাহার করা। কারণ রাসূলুল্লাহ বাম হাতে খেতে নিষেধ করেছেন। (গ) পাত্রে নিজ দিক থেকে আহার করা সুন্নত, যদি এক পাত্রে একাধিক জন আহার করে।
খাওয়া শেষ হয়ে গেলে তিনি যে দু'আ পাঠ করতেন:
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ ، قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا رُفِعَتِ الْمَائِدَةُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ يَقُوْلُ : الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيْهِ غَيْرَ مُوْدَعٍ وَلَا مُسْتَغْنِّى عَنْهُ رَبَّنَا
১৪১. আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর কাছ থেকে দস্তরখানা তুলে নেয়ার সময় এ দু'আ পাঠ করতেন-
الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيْهِ غَيْرَ مُوَدَّعٍ وَلَا مُسْتَغْنِّى عَنْهُ رَبَّنَا "আলহাম্দু লিল্লা-হি হামদান্ কাসীরান্ ত্বইয়্যিবাম্ মুবা-রাকান্ ফীহি গায়রা মুওয়াদ্দা'ইন ওয়ালা- মুসতাগনান্ 'আন্হু রব্বানা-" অর্থাৎ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা অফুরান্ত, পবিত্র ও কল্যাণময়; এমন প্রশংসা যা বর্জন করা যায় না কিংবা তা হতে মুখাপেক্ষীহীন থাকা যায় না। হে আমাদের রব! (আমাদের দু'আ কবুল করে নাও)। ১৪১
'বিসমিল্লাহ' বলে খাবার খেলে বরকত হয়:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَأْكُلُ الطَّعَامَ فِي سِتَّةٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فَجَاءَ أَعْرَابِي فَأَكَلَهُ بِلُقْمَتَيْنِ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : لَوْ سَمًّى لَكَفَاكُمْ
১৪২. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী তাঁর ৬ জন সাহাবী নিয়ে খাবার খেতে বসলেন। এমন সময় একজন বেদুঈন এসে দু'গ্রাসে সব খাবার খেয়ে ফেলল। রাসূলুল্লাহ বললেন, সে যদি 'বিসমিল্লাহ' বলে খাবার শুরু করত তাহলে তোমাদের সবার জন্য তা যথেষ্ট হতো। ১৪২
খাবার খেয়ে আল্লাহর প্রশংসা করলে আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : إِنَّ اللَّهَ لَيَرْضَى عَنِ الْعَبْدِ أَنْ يَأْكُلَ الْأَكْلَةَ . أَوْ يَشْرَبَ الشَّرْبَةَ فَيَحْمَدَهُ عَلَيْهَا
১৪৩. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ ঐ বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান, যে এক লোকমা খানা খেয়ে অথবা এক ঢোক পানি পান করে তাঁর বিনিময়ে আল্লাহর প্রশংসা করে। ১৪৩
ব্যাখ্যা: পানাহার শেষে আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করা কর্তব্য। আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা করেছেন, তোমরা যদি আমার শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি তোমাদের নিয়ামত আরো বৃদ্ধি করে দেব।
টিকাঃ
১৩৯ আবু দাউদ, হা/৩৭৬৯; ইবনে মাজাহ, হা/৩২৬৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৭৭৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫২১৪; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৭০৮৭; দারেমী, হা/২০২০; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২১০৭।
১৪০ সহীহ বুখারী, হা/৫৩৭৮; সহীহ মুসলিম, হা/৫৩৮৮; আবু দাউদ, হা/৩৭৭৯; ইবনে মাজাহ, হা/৩২৬৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৩৭৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫২১১; সুনানে কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৬৭২২।
১৪১ আবু দাউদ, হা/৩৮৫১; মুসনাদে আহমad, হা/২২২৫৪; ইবনে হিব্বান, হা/৫২১৮; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১৯৩৫।
১৪২ ইবনে মাজাহ, হা/৩২৬৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫১৪৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/২৫১৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/২৮২৫; শু'আবুল ঈমান, হা/৫৪৪৬।
১৪৩ সহীহ মুসলিম, হা/৭১০৮; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৬৮৭২; শারহুস সুন্নাহ, হা/২৮৩১; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৬৫১; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২১৬৫।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর পানপাত্র
বَابُ مَا جَاءَ فِي قَدَحِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ
অধ্যায়- ২৯: রাসূলুল্লাহ এর পানপাত্র
عَنْ ثَابِتٍ قَالَ : أَخَرَجَ إِلَيْنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ ، قَدَحَ خَشَبٍ غَلِيظًا مُضَبَّبًا بِحَدِيدٍ فَقَالَ : يَا ثَابِتُ ، هُذَا قَدَحُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ
১৪৪. সাবিত (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আনাস ইবসে মালিক (রাঃ) লোহার পাত লাগানো কাঠের মোটা একটি পেয়ালা আমাদের নিকট বের করলেন। তারপর বললেন, সাবিত! এ হচ্ছে রাসূলুল্লাহ এর পেয়ালা।
ব্যাখ্যা: পেয়ালাটি 'নুযার' নামক কাঠের তৈরি ছিল। সেটা উত্তম পেয়ালা ছিল এবং সেটির পরিধির তুলনায় গভীরতা বেশি ছিল। পেয়ালাটি যেন ফেটে আলাদা না হয়ে যায়, সেজন্য লোহার তার দিয়ে ফাটলের স্থানটি শক্ত করে বাঁধানো হয়েছিল।
عَنْ أَنَسٍ هِ قَالَ : لَقَدْ سَقَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ بِهَذَا الْقَدَحِ الشَّرَابَ كُلَّهُ الْمَاءَ وَالنَّبِينَ وَالْعَسَلَ وَاللَّبَنَ
১৪৫. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ-কে এ পেয়ালা দ্বারা যাবতীয় পানীয় তথা নাবীয, কিসমিস, মধু ও দুধ ইত্যাদি পান করিয়েছি।
ব্যাখ্যা: নাবীয হলো, কোন পাত্রে কয়েকটি খেজুর বা কিছু পরিমাণ কিসমিস সন্ধ্যায় ভিজালে সকালে এবং সকালে ভিজালে সন্ধ্যায় যে শরবত তৈরি হয়। আনাস (রাঃ) এর উক্তির মর্ম হলো, তিনি ঐ পাত্রটিতে খুরমা অথবা কিসমিস ভিজিয়ে রাখতেন এবং ঐ পেয়ালাতে প্রস্তুত নাবীয রাসূলুল্লাহ কে পান করাতেন। সাধারণত তিনি সন্ধ্যায় ভিজানো নাবীয সকালে এবং সকালে ভিজানো নাবীয সন্ধ্যায় পান করতেন। উল্লেখ্য যে, নেশা তৈরি হলে নাবীয ব্যবহার করা যাবে না।
টিকাঃ
¹⁴⁴ শারহুস সুন্নাহ, হা/৩০৩৩।
¹⁴⁵ সহীহ বুখারী, হা/৫৬৩৮; সহীহ মুসলিম, হা/৫৩৫৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩৬০৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৩৯৪; বায়হাকী, হা/১৭১৯২; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩০২০।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর ফলমূলের বিবরণ
بَابُ مَا جَاءَ فِي فَاكِهَةِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ
অধ্যায়- ৩০ : রাসূলুল্লাহ এর ফলমূলের বিবরণ
নবী কাঁচা খেজুরের সাথে শসা খেতেন:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ﷺ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَأْكُلُ الْقِثَاءَ بِالرُّطَبِ
১৪৬. আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কাঁচা খেজুরের সাথে শসা খেতেন।
তিনি তাজা খেজুরের সাথে তরমুজ খেতেন:
عَنْ عَائِشَةَ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَأْكُلُ الْبِطِيخَ بِالرُّطَبِ
১৪৭. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী তাজা খেজুরের সাথে তরমুজ খেতেন।
ব্যাখ্যা: শসা জাতীয় ফলকে তরমুজ বলা হয়। এটা ঠাণ্ডা প্রকৃতির আর খেজুর গরম প্রকৃতির। দুটিকে এক সাথে মিলিয়ে খেলে উভয়ের ক্রিয়ায় ভারসাম্য আসে। তাছাড়া তরমুজ হলো পানসে জাতীয় আর খেজুর মিষ্টি জাতীয়। উভয়টি একত্রিত করলে কিছুটা মিষ্টি আসে। তাই রাসূলুল্লাহ দুটি এক সাথে খেতেন।
তিনি তাজা তরমুজ ও তাজা খেজুর একত্রে মিলিয়ে খেতেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ؓ قَالَ : رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَجْمَعُ بَيْنَ الْخِرْبِزِ وَالرُّطَبِ
১৪৮. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী কে খিরবিয ও তাজা খেজুর একত্রে মিলিয়ে খেতে দেখেছি।
ব্যাখ্যা: 'খিরবিয' শব্দটি ফার্সী শব্দ। খারবাযাহ হলো আরবি রূপ। এটি বাঙ্গি জাতীয় এক প্রকার ফল। এর উপরের আবরণ হলদে, ভিতরটা শক্ত সাদা, খেতে কিছুটা পানসে হয়। আরবে বর্তমানে এটি শামীম নামে পরিচিত।
টিকাঃ
¹⁴⁶ সহীহ মুসলিম, হা/৫৪৫১; আবু দাউদ, হা/৩৮৩৭; ইবনে মাজাহ, হা/৩৩২৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৪১; দারেমী, হা/২০৫৮; শারহুস সুন্নাহ, হা/২৮৯৩; জামেউস সগীর, হা/৯০১১; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৫৬।
¹⁴⁷ আবু দাউদ, হা/৩৮৩৮; ইবনে হিব্বান, হা/২৫৪৬; বায়হাকী, হা/১৪৪১৫; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/২৫০৪৪; জামেউস সগীর, হা/৯০০৯; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৫৭।
¹⁴⁸ সুনানে কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৬৬৯২; জামেউস সগীর, হা/৯০৪৭।
নতুন ফল উদ্বোধনকালে তিনি যে দু'আ পাঠ করতেন :
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : كَانَ النَّاسُ إِذَا رَأَوْا أَوَّلَ الثَّمَرِ جَاءُوا بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ، فَإِذَا أَخَذَهُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قَالَ : اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي ثِمَارِنَا ، وَبَارِكْ لَنَا فِي مَدِينَتِنَا ، وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِنَا وَفِي مُدْنَا. اللَّهُمَّ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ عَبْدُكَ وَخَلِيلُكَ وَنَبِيُّكَ ، وَإِنِّي عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ ، وَإِنَّهُ دَعَاكَ لِمَكَّةَ وَإِنِّي أَدْعُوكَ لِلْمَدِينَةِ بِمِثْلِ مَا دَعَاكَ بِهِ لِمَكَّةَ وَمِثْلِهِ مَعَهُ قَالَ : ثُمَّ يَدْعُو أَصْغَرَ وَلِيَدٍ يَرَاهُ فَيُعْطِيْهِ ذَلِكَ الثَّمَرَ
১৪৯. আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাহাবায়ে কেরাম যখন কোন নতুন ফল দেখতেন তখন তাঁরা তা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর খেদমতে পেশ করতেন। আর তিনি তা গ্রহণ করে এ মর্মে দু'আ করতেন :
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي ثِمَارِنَا ، وَبَارِكْ لَنَا فِي مَدِينَتِنَا ، وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِنَا وَفِي مُدْنَا اللَّهُمَّ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ عَبْدُكَ وَخَلِيلُكَ وَنَبِيُّكَ ، وَإِنِّي عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ ، وَإِنَّهُ دَعَاكَ لِمَكَّةَ، وَإِنِّي أَدْعُوكَ لِلْمَدِينَةِ بِمِثْلِ مَا دَعَاكَ بِهِ لِمَكَّةَ وَمِثْلِهِ مَعَهُ
"আল্ল-হুম্মা বা-রিক লানা- ফী সিমা-রিনা-, ওয়াবা-রিক লানা- ফী মাদীনাতিনা-, ওয়াবা-রিক লানা- ফী স-'ইনা- ওয়াফী মুদ্দিনা-, আলু-হুম্মা ইন্না ইব্র-হীমা 'আব্দুকা ওয়া খালীলুকা ওয়া নাবীয়্যুকা, ওয়া ইন্নী 'আব্দুকা ওয়া নবীয্যকা, ওয়া ইন্নাহু দা'আ-কা লিমাক্কাহ, ওয়া ইন্নী আ'ঊকা লিলমাদিনাতি বিমিছলি মা- দা'আ-কা বিহী লিমাক্কাতা ওয়া মিছলিহী মা'আহ্”।
অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদের ফলসমূহে আমাদের জন্য বরকত দাও, আমাদের শহরে আমাদের জন্য বরকত দাও, আমাদের জন্য আমাদের 'সা' এবং আমাদের 'মুদ্দে' (পরিমাপ যন্ত্রে) বরকত দাও। হে আল্লাহ! নিশ্চয় ইবরাহীম (আঃ) তোমার বান্দা, তোমার বন্ধু এবং তোমার নবী। আর আমিও তোমার বান্দা ও তোমার নবী। তিনি (ইবরাহীম তো) তোমার কাছে মক্কার জন্য দু'আ করেছিলেন আর আমি তাঁর ন্যায় মদিনার জন্য তোমার কাছে দু'আ করছি এবং এর সঙ্গে আরো সমপরিমাণ দু'আ করছি। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি যাকে সর্বকনিষ্ঠ দেখতেন এরূপ ছোট কাউকে ডেকে তাকে সে ফল দিয়ে দিতেন।
টিকাঃ
¹⁴⁹ সহীহ মুসলিম, হা/৩৪০০; মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/১৫৬৮; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/১০০৬১; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১১৯৯।