📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর পানাহারের নিয়ম-পদ্ধতি

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর পানাহারের নিয়ম-পদ্ধতি


রাসূলুল্লাহ আহার শেষে তিন আঙ্গুলি চুষে নিতেন:
عَنْ أَنَسٍ هِ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أَكَلَ طَعَامًا لَعِقَ أَصَابِعَهُ الثَّلَاثَ
১০৩. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী যখন আহার করতেন তখন তিনি তাঁর তিনটি আঙ্গুলি চুষে নিতেন। ১০৪
عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ ، قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ ﷺ : أَمَّا أَنَا فَلَا أَكُلُ مُتَّكِنًا
১০৪. আবু জুহায়ফা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ইরশাদ করেছেন, আমি ঠেসরত অবস্থায় আহার করি না। ১০৫
তিনি তিন আঙ্গুলি দিয়ে আহার করতেন:
عَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَأْكُلُ بِأَصَابِعِهِ الثَّلَاثِ وَيَلْعَقُهُنَّ
১০৫. কা'ব ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ তিন অঙ্গুলি দিয়ে আহার করতেন এবং তা চুষে নিতেন। ১০৬
ব্যাখ্যা: সাধারণত আহারের সময় রাসূলুল্লাহ তিনটি আঙ্গুল ব্যবহার করতেন এবং খাওয়ার পর সেগুলো চেটে খেতেন। আঙ্গুল তিনটি হলো বৃদ্ধা, তর্জনী ও মধ্যমা। কা'ব ইবনে উজরা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ কে বৃদ্ধা, তর্জনী ও মধ্যমা এ আঙ্গুলত্রয় দ্বারা পানাহার করতে দেখেছি। আরো দেখেছি যে, তিনি হাত ধৌত করার আগে তিন আঙ্গুল চেটে খেয়েছেন। প্রথমে মধ্যমা অতঃপর তর্জনী অতঃপর বৃদ্ধাঙ্গুল চেটেছেন।
উল্লেখ্য যে, নবী এর সময় খেজুর, রুটি, গোশত অথবা তরকারীই ছিল প্রধান খাদ্য। এসব খাদ্য গ্রহণের সময় সব আঙ্গুল ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না। বিধায় নবী তিন আঙ্গুল দ্বারা খেতেন। কিন্তু ভাত খাওয়ার সময় পাঁচ আঙ্গুলই ব্যবহার করতে হয়। বিধায় সব আঙ্গুলই চেটে খাওয়া উচিত। রাসূলুল্লাহ বলেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ আহার কর, তখন যেন আহার শেষে আঙ্গুলগুলো চেটে খায়। কারণ সে জানে না খাবারের কোন অংশে বরকত রয়েছে। ১০৭
অতি ক্ষুধার কারণে তিনি একবার বাঁকা হয়ে ঠেস দিয়ে খেয়েছিলেন :
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ يَقُوْلُ : أَي رَسُولُ اللهِ ﷺ بِتَمْرٍ فَرَأَيْتُهُ يَأْكُلُ وَهُوَ مُقْعٍ مِنَ الْجُوعِ
১০৬. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ এর কাছে খurma আনা হলো। তখন আমি তাঁকে তীব্র ক্ষুধার কারণে বাঁকা হয়ে ঠেস দিয়ে খেতে দেখেছি। ১০৮
ব্যাখ্যা: সাধারণত রাসূলুল্লাহ কোন জিনিসের সাথে ঠেস দিয়ে বসে আহার করতেন না। এখানে সমস্যার কারণে হেলান দিয়েছিলেন।

টিকাঃ
১০৪ সহীহ মুসলিম, হা/৫৪১৬; আবু দাউদ, হা/৩৮৪৭; ইবনে হিব্বান, হা/৫২৫২; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৭১২১; বায়হাকী, হা/১৪৩৯৫; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/২৪৯৩৭; জামেউস সগীর, হা/৮৮১১।
১০৫ মুসনাদুল বাযযার, হা/৪২১৪; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৬৭০৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/১৩৭০৬; মুজামুল কাবীর, হা/১৭৮০২; ইবনে হিব্বান, হা/৫২৪০।
১০৬ মুসান্নাফে ইবনে আবু শায়বা, হা/২৪৯৫৫; মুসনাদুল বাযযার, হা/৩৮২০।
১০৭ সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫২৫৩; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৪০৪; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২১৬১।
১০৮ শারহুস সুন্নাহ, হা/২৮৪২।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর রুটির বিবরণ

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর রুটির বিবরণ


রাসূলুল্লাহ এর পরিবারবর্গ কখনো একাধারে ২দিন পেট ভরে যবের রুটি আহার করেননি :
عَنْ عَائِشَةَ ، أَنَّهَا قَالَتْ : مَا شَبِعَ الْ مُحَمَّدٍ مِنْ خُبْزِ الشَّعِيرِ يَوْمَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ حَتَّى قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ
১০৭. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর ওফাত পর্যন্ত মুহাম্মাদ এর পরিবারবর্গ একাধারে ২দিন পেট ভরে যবের রুটি আহার করেননি।১০৯
ব্যাখ্যা: বদান্যতা ও দানশীলতায় রাসূলুল্লাহ ছিলেন অতুলনীয়। স্বেচ্ছায় এ অবস্থাকে গ্রহণ করে নেয়ার কারণেই তাঁকে এরূপ সাদাসিধা জীবন-যাপন করতে হয়েছে।
তিনি চাইলে সীমাহীন স্বাচ্ছন্দের সাথে জীবন কাটাতে পারতেন। কিন্তু তা তাঁর পছন্দনীয় ছিল না।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে কখনো যবের রুটি উদ্ধৃত থাকত না:
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِي ﷺ يَقُولُ : مَا كَانَ يَفْضُلُ عَنْ أَهْلِ بَيْتِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ خُبْزُ الشَّعِيرِ
১০৮. আবু উমামা বাহিলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর গৃহে কখনো যবের রুটি উদ্ধৃত থাকত না।১১০
ব্যাখ্যা: অন্যদের দান করার দরুণ রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ঘরে অতিরিক্ত পাকানোর মতো খাদ্য থাকত না। তাছাড়া আহলুস সুফফা এবং অন্যান্য মেহমান তো থাকতই।
মাঝে মাঝে তিনি আহারের জন্য কিছুই পেতেন না:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ﷺ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَبِيْتُ اللَّيَالِيَ الْمُتَتَابِعَةَ طَاوِيًّا هُوَ وَأَهْلُهُ لَا يَجِدُونَ عِشَاءُ وَكَانَ أَكْثَرُ خُبْزِهِمْ خُبْزَ الشَّعِيرِ
১০৯. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং তাঁর পরিবারবর্গ একাধারে কয়েক রাত অনাহারে এমনভাবে কাটাতেন যে, তাঁরা আহার্য বস্তুর কোন কিছুই পেতেন না। আর অধিকাংশ সময় তাঁদের খাবার হতো যবের রুটি (অর্থাৎ ধারাবাহিক যবের রুটিও পেতেন না)।১১১
তিনি কখনো ময়দা দেখেননি এবং খাবারের জন্য কোন চালনিও ব্যবহার করেননি:
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ ﷺ، أَنَّهُ قِيلَ لَهُ : أَكَلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ النَّقِيَّ ؟ يَعْنِي الْحُوَّارَى فَقَالَ سَهْل : مَا رَأَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ النَّقِيَّ حَتَّى لَقِيَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ تَعَالَى ، فَقِيلَ لَهُ : هَلْ كَانَتْ لَكُمْ مَنَاخِلُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ؟ قَالَ : مَا كَانَتْ لَنَا مَنَاخِلُ قِيلَ : كَيْفَ كُنْتُمْ تَصْنَعُوْنَ بِالشَّعِيرِ ؟ قَالَ : كُنَّا نَنْفُخُهُ فَيَطِيرُ مِنْهُ مَا طَارَ ثُمَّ نَعْجِنُهُ
১১০. সাহল ইবনে সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো রাসূলুল্লাহ ﷺ কি ময়দার রুটি আহার করতেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর ওফাত পর্যন্ত ময়দা দেখেননি। তারপর তাঁকে বলা হলো, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সময় আপনাদের কি চালনি ছিল? তিনি বললেন, আমাদের কোন চালনি ছিল না। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, তবে আপনারা যবের রুটি কীভাবে ব্যবহার করতেন? তিনি বললেন, আমরা তাতে ফুঁ দিতাম, যাতে অখাদ্য কিছু থাকলে তা উড়ে যায়। এরপর আমরা খামির করে নিতাম। ১১২
ব্যাখ্যা: সাহল (রাঃ) বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ ময়দা দেখেননি এবং চালনি ব্যবহার করেননি। এ কথা তিনি তার জানা অনুসারে বলেছেন। কেননা তখন মক্কা ও মদিনায় চালনির প্রচলন ছিল না। অন্যথায় রাসূলুল্লাহ নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে সিরিয়া সফরের সময় ময়দা দেখে থাকতে পারেন। কেননা সিরিয়ায় চালনি দিয়ে ময়দা চালার রেওয়াজ আগে থেকেই ছিল।
তিনি আহারের জন্য টেবিল এবং ছোট প্লেট ব্যবহার করতেন না :
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ﷺ قَالَ : مَا أَكَلَ نَبِيُّ اللهِ ﷺ عَلَى خِوَانٍ وَلَا فِي سُكْرُجَةٍ ، وَلَا خُبِزَ لَهُ مُرَقَّقُ قَالَ : فَقُلْتُ لِقَتَادَةَ : فَعَلَامَ كَانُوا يَأْكُلُونَ ؟ قَالَ : عَلَى هُذِهِ السُّفَرِ
১১১. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী টেবিলে আহার করতেন না, ছোট প্লেটে খাবার নিতেন না এবং তাঁর জন্য চাপাতিও তৈরি করা হতো না। (বর্ণনাকারী) ইউনুস বলেন, আমি কাতাদা (রহঃ) কে জিজ্ঞেস করে বললাম, তাহলে কোন ধরণের প্লেটে তাঁরা আহার করতেন? তিনি বলেন, দস্তরখানের উপর রেখে আহার করতেন। ১১৩
ব্যাখ্যা: 'সুকুররুজাহ' শব্দটি ফারসী শব্দ। ক্ষুধা এবং হজমকারক রুচিবর্ধক বিভিন্ন উপকরণ রাখার ছোট ছোট পাত্র। রাসূলুল্লাহ যেহেতু নিজে পেটভরে আহার করতেন না, কাজেই পরিতৃপ্ত ভোজনের উপকরণও ব্যবহার করতেন না। তাছাড়া এভাবে আহার করা যেহেতু বিলাসী, তাই রাসূলুল্লাহ এসব পদ্ধতি পরিহার করতেন। এটা অতিভোজনকারী লোভী লোকদের অভ্যাস।
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : مَا شَبِعَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مِنْ خُبْنِ الشَّعِيْرِ يَوْمَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ حَتَّى قُبِضَ
১১২. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর জীবদ্দশায় একাধারে ২দিন যবের রুটি আহার করেননি। ১১৪

টিকাঃ
১০৯ ইবনে মাজাহ, হা/৩৩৪৬; তাহযীবুল আসার, হা/৬০৯; শারহুস সুন্নাহ, হা/৪০৭৩।
১১০ মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৩৫০; মুজামুল কাবীর, হা/৭৫৭৮; শারহুস সুন্নাহ, হা/৪০৭৫।
১১১ ইবনে মাজাহ, হা/৩৩৪৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩০৩; মুসনাদুল বাযযার, হা/৪৮০৫; মুজামুল কাবীর, হা/১১৭৩৩।
১১২ মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৮৬৫; তাহযীবুল আছার, হা/২৫১৭।
১১০ সহীহ বুখারী, হা/৫৬১৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৩৪৭।
১১৪ তাহযীবুল আছার, হা/৬০৯; শারহুস সুন্নাহ, হা/৪০৭৩।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর তরকারীর বর্ণনা

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর তরকারীর বর্ণনা


عَنْ عَائِشَةَ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ : نِعْمَ الْإِدَامُ الْخَلُ. قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، فِي حَدِيثِهِ : نِعْمَ الْإِدَامُ أَوِ الْأُدُمُ الْخَلُ
১১৩. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, সিরকা কতই না চমৎকার তরকারী।
আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান (রহঃ) তাঁর বর্ণিত হাদীসে বলেন, সিরকা কতই না চমৎকার উদুম অথবা ইদাম তথা তরকারী।১১৫
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে সিরকার প্রশংসা করা উদ্দেশ্য। সিরকা উত্তম তরকারী হওয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে। যেমন সহজে তৈরি করা যায়, এর সাহায্যার্থে অনায়াসে রুটি ভক্ষণ করা যায় এবং সবসময় পাওয়া যায়। এছাড়া সিরকার মাঝে কিছু উপকারিতাও রয়েছে। যেমন কফ ও পিত্ত দূর করে। হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।
عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ للهِ يَقُولُ : أَلَسْتُمْ فِي طَعَامٍ وَشَرَابٍ مَا شِئْتُمْ ؟ لَقَدْ رَأَيْتُ نَبِيَّكُمْ ﷺ وَمَا يَجِدُ مِنَ الدَّقَلِ مَا يَمْلَأُ بَطْنَهُ
১১৪. সিমাক ইবনে হাব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নু'মান ইবনে বাশীর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, তোমরা কি পানাহারের ব্যাপারে যা ইচ্ছা তা গ্রহণ কর না? (অর্থাৎ নিশ্চয় গ্রহণ করছ)। অথচ আমি দেখেছি তোমাদের নবী তৃপ্তি সহকারে পেট ভরে সাধারণ খেজুরও খেতে পাননি। ১১৬
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ এর ওফাতের পর সাহাবী ও তাবিয়ীগণ যখন প্রচুর খাদ্যের অধিকারী হন, তখন তাদেরকে সম্বোধন করে নু'মান ইবনে বাশীর (রাঃ) একথা বলেন। রাসূলুল্লাহ এর অনুসরণের প্রতি এবং দুনিয়ার উপকরণ সংক্ষিপ্ত রাখার প্রতি উৎসাহিত করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল।
عَنْ زَهْدَمٍ الْجَرْمِي قَالَ : كُنَّا عِنْدَ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِي ، فَأُتِي بِلَحْمِ دَجَاجٍ فَتَنَى رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ فَقَالَ : مَا لَكَ ؟ فَقَالَ : إِنِّي رَأَيْتُهَا تَأْكُلُ شَيْئًا فَحَلَفْتُ أَنْ لَا أَكُلَهَا قَالَ : أَدْنُ فَإِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَأْكُلُ لَحْمَ دَجَاجَ
১১৫. যাহদাম জারমী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একবার আবু মূসা আশ'আরী (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তখন তাঁর কাছে ভূনা মুরগীর গোশত আনা হলো। ফলে উপস্থিত লোকদের একজন চলে যেতে উদ্যত হলো। তিনি [আবূ মূসা আশ'আরী (রাঃ) তাঁকে যাওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলেন। সে বলল, আমি এক (মুরগীকে) নাপাক খেতে দেখে এ মর্মে কসম করেছি যে, আমি আর কখনো মুরগীর গোশত খাব না। তিনি বললেন, কাছে এসো (এবং নির্দ্বিধায় খাও)। কারণ আমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে, রাসূলুল্লাহ কে আমি মুরগী খেতে দেখেছি।১১৭
ব্যাখ্যা: উক্ত কথার দ্বারা আবু মূসা আশ'আরী (রাঃ) এটা বুঝাতে চেয়েছেন যে, কোন হালাল বস্তুকে হারাম করা অনুচিত।
عَنْ زَهْدَمٍ الْجَرْمِي قَالَ : كُنَّا عِنْدَ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِي قَالَ : فَقَدَّمَ طَعَامَةً وَقَدَّمَ فِي طَعَامِهِ لَحْمَ دَجَاجٍ وَفِي الْقَوْمِ رَجُلٌ مِنْ بَنِي تَيْمِ اللَّهِ أَحْمَرُ كَأَنَّهُ مَوْلًى قَالَ : فَلَمْ يَدْنُ فَقَالَ لَهُ أَبُو مُوسَى : اُدْنُ . فَإِنِّي قَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَكَلَ مِنْهُ ، فَقَالَ : إِنِّي رَأَيْتُهُ يَأْكُلُ شَيْئًا فَقَذِرْتُهُ فَحَلَفْتُ أَنْ لَا أَطْعَمَهُ أَبَدًا
১১৬. যাহদাম জারমী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবু মূসা (রাঃ) এর নিকট ছিলাম। তিনি বলেন, তাঁর নিকট খাবার পরিবেশন করা হলো এবং সে খাবারে মুরগীর গোশত ছিল। সেখানে তায়মুল্লাহ গোত্রের লাল বর্ণের এক ব্যক্তি ছিল। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল, সে যেন একজন গোলাম। বর্ণনাকারী বলেন, সে লোকটি খেতে আসল না। তখন আবু মূসা (রাঃ) তাঁকে বললেন, খেতে এসো- কারণ আমি রাসূলুল্লাহ-কে মুরগীর গোশত খেতে দেখেছি। সে বলল, একে ময়লা কিছু খেতে দেখেছি। সে কারণে আমার ঘৃণা জন্মেছে। তাই আমি কসম করেছি যে, আমি এটা কখনো খাব না।
عَنْ أَبِي أُسَيْدٍ له قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : كُلُوا الزَّيْتَ وَادَّهِنُوا بِهِ ، فَإِنَّهُ مِنْ شَجَرَةٍ مُبَارَكَةٍ
১১৭. আবু আসীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, তোমরা যায়তুন তৈল খাও এবং তা মালিশ করো। কারণ, তা বরকতময় বৃক্ষ হতে উৎপন্ন। ১১৯
রাসূলুল্লাহ লাউ পছন্দ করতেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ للهِ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُعْجِبُهُ الدُّبَّاءُ فَأُتِي بِطَعَامٍ ، أَوْ دُعِيَ لَهُ فَجَعَلْتُ اتَتَبَّعُهُ فَأَضَعُهُ بَيْنَ يَدَيْهِ لِمَا أَعْلَمُ أَنَّهُ يُحِبُّهُ
১১৮. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী লাউ খুবই পছন্দ করতেন। একবার তাঁর সম্মুখে খানা পরিবেশন করা হলো অথবা তিনি কোন দাওয়াতে গিয়েছিলেন (রাবীর সন্দেহ)। আমার যেহেতু জানা ছিল যে, তিনি লাউ খুব পছন্দ করেন, তাই (তরকারীর মধ্য হতে) বেছে বেছে তাঁর সামনে লাউ পেশ করলাম। ১২০
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ লাউয়ের তরকারী পছন্দ করার কারণ বহুবিধ। এটা শরীর ঠাণ্ডা রাখে, বুদ্ধি বৃদ্ধি করে। গরম আবহাওয়াতে উপকারী এবং ঠাণ্ডা আবহাওয়ার পক্ষে অনুকূল হয়। এ ছাড়াও পিপাসা নিবারণ করে, মাথা ব্যথা দূর করে। আবার এটি স্বচ্ছন্দে গিলা যায়।
এ হাদীস থেকে বুঝা যায়, যদি কোন পাত্রে বিভিন্ন খাবার থাকে, তাহলে নিজের সামনে ছাড়া অন্যের দিক থেকেও কোন প্রিয় জিনিস নেয়া যায়। শর্ত হচ্ছে, অন্য কারো যেন অপছন্দ না হয়। লাউয়ের টুকরা তালাশ করার কারণ হলো, সে সময় তরকারীতে ঝোল বেশি দেয়ার নিয়ম ছিল। কারণ, রাসূলুল্লাহ তরকারিতে ঝোল বেশি দিতে উৎসাহ দিতেন- যাতে প্রতিবেশীর ঘরে হাদিয়া পাঠানো যায়।
عَنْ جَابِرٍ ﷺ قَالَ : دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ فَرَأَيْتُ عِنْدَهُ دُبَّاءٌ يُقَطَّعُ فَقُلْتُ : مَا هُذَا ؟ قَالَ : نُكَشِّرُ بِهِ طَعَامَنَا
১১৯. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি নবী এর কাছে গিয়ে দেখলাম যে, লাউ কেটে টুকরো টুকরো করা হচ্ছে। আমি বললাম, এর দ্বারা কী হবে? তিনি বললেন, এর দ্বারা আমরা আমাদের খানা বৃদ্ধি করব। ১২১
ব্যাখ্যা: এ হাদীসের শিক্ষা হলো, রান্না করার বিষয়ে দৃষ্টি রাখা, তদারকি করা তাওয়াক্কুল এবং যুহদের বিপরীত নয়; বরং পরিমিত ব্যয় ও অল্পেতুষ্টি লাভে সহায়ক।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ل يَقُولُ : إِنَّ خَيَّاطًا دَعَا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ لِطَعَامٍ صَنَعَهُ ، قَالَ أَنَسٌ : فَذَهَبْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ إِلَى ذَلِكَ الطَّعَامِ فَقَرَّبَ إِلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ خُبْزًا مِنْ شَعِيرٍ ، وَمَرَقًا فِيهِ دُبَّاءُ وَقَدِيدٌ . قَالَ أَنَسُ : فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَتَتَبَّعُ الدُّبَّاءَ حَوَالَي الْقَصْعَةِ فَلَمْ أَزَلْ أُحِبُّ الدُّبَّاءَ مِنْ يَوْمِئِذٍ
১২০. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার এক দর্জি খানা তৈরি করে রাসূলুল্লাহ -কে দাওয়াত দেয়। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ এর সাথে আমিও ঐ দাওয়াতে গিয়েছিলাম। দর্জি লোকটি রাসূলুল্লাহ এর সামনে যবের রুটি ও ঝোল পরিবেশন করল। সে ঝোলের মধ্যে লাউ ও শুকনা গোশত ছিল। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ কে তরকারীর বাটির বিভিন্ন দিক থেকে লাউয়ের টুকরো খোঁজ করতে দেখেছি। আর সে দিন হতে আমি লাউ খুব পছন্দ করে আসছি।১২২
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ এর সাথে আনাস (রাঃ) এরও দাওয়াত ছিল। অথবা তিনি রাসূলুল্লাহ এর খাদিম হিসেবে গিয়েছিলেন। এতে দোষের কিছু নেই যদি দাওয়াতদাতা অসন্তুষ্ট না হয়।
রাসূলুল্লাহ মিষ্টি দ্রব্য ও মধু অধিক পছন্দ করতেন:
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُحِبُّ الْحَلْوَاءَ وَالْعَسَلَ
১২১. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ মিষ্টি দ্রব্য ও মধু অধিক পছন্দ করতেন। ১২৩
ব্যাখ্যা: হালওয়া মিষ্ট বস্তু, মিষ্টি জাতীয় জিনিস, মিষ্টান্ন। সাধারণ মানুষ যেসব মিষ্টি খাবার তৈরি করে তাকেই মূলত হালওয়া বলে। আর মূল অর্থের দিকে লক্ষ্য করলে এর আওতায় মিষ্টি ফলমূলও পড়ে, তথাপিও প্রচলিত পরিভাষা হিসাবে এটা হালওয়ার অন্তর্ভুক্ত নয়। 'হালওয়া' বলতে গুড়, চিনি, মধুকেও বুঝায় এবং এর দ্বারা প্রস্তুত মিষ্ট খাদ্যসমূহকেও বুঝিয়ে থাকে।
রাসূলুল্লাহর বকরীর পাঁজরের ভুনা গোশত পছন্দ করতেন:
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّهَا قَرَبَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ جَنْبًا مَشْوِيًّا فَأَكَلَ مِنْهُ ، ثُمَّ قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ وَمَا تَوَضَّاً
১২২. উম্মে সালামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি বকরীর পাঁজরের ভুনা গোশত রাসূলুল্লাহ এর সামনে পরিবেশন করেন। তিনি তা হতে খেলেন এবং ওযূ না করেই সালাতে দাঁড়িয়ে যান। ১২৪
ব্যাখ্যা: অত্র হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, আগুনে তৈরি খাবার খেলেও ওযু ভঙ্গ হয় না। তবে অন্য হাদীস দ্বারা আগুনে পাক করা খাদ্য খেলে ওযু নষ্ট হয়ে যায় বলেও প্রমাণিত রয়েছে। কিছু সংখ্যক সাহাবী ও তাবিয়ীর মতামতও এটাই। তবে চার খলীফা এবং অধিকাংশ মুহাদ্দিসগণের মতে আগুনে তৈরি খাবার খেলেও ওযু ভঙ্গ হয় না। তাঁরা বলেন, যে সকল হাদীস থেকে ওযু ওয়াজিব হওয়ার কথা উল্লেখও হয়েছে, সেগুলো রহিত হয়ে গেছে।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ ، قَالَ : أَكَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ شِوَاءٌ فِي الْمَسْجِدِ
১২৩. আবদুল্লাহ ইবনে হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ এর সাথে মসজিদে ভুনা গোস্ত খেয়েছি।
ব্যাখ্যা: এ হাদীসের আলোকে বুঝা যায়, একা বা জামা'আতবদ্ধভাবে মসজিদে পানাহার করা বৈধ, তবে মসজিদের পবিত্রতা-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করতে হবে।
عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ ، قَالَ : ضِفْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَأُتِي بِجَنْبٍ مَشْوِي ، ثُمَّ أَخَذَ الشَّفْرَةَ فَجَعَلَ يَحُزُ ، فَحَزَ لِي بِهَا مِنْهُ قَالَ : فَجَاءَ بِلَالٌ يُؤْذِنُهُ بِالصَّلَاةِ فَأَلْقَى الشَّفْرَةَ فَقَالَ : مَا لَهُ تَرِبَتْ يَدَاهُ ؟ قَالَ : وَكَانَ شَارِبُهُ قَدْ وَلَى ، فَقَالَ لَهُ : أَقُصُّهُ لَكَ عَلَى سِوَاكَ أَوْ قُصُّهُ عَلَى سِوَاكٍ
১২৪. মুগীরা ইবনে শু'বা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার রাতে রাসূলুল্লাহ এর সাথে মেহমান হলাম। তখন (আমার সামনে) ছাগলের পাঁজরের ভূনা গোশত পরিবেশন করা হলো। তারপর তিনি ছুরি দ্বারা তা কাটলেন এবং আমাকে দিলেন। এমন সময় বিলাল (রাঃ) তাঁকে সালাতের আহ্বান জানালেন। তিনি ছুরিটি ছুঁড়ে ফেললেন এবং বললেন, তার কী হলো তার উভয় হাত ধূলোয় ধূসরিত হোক। বর্ণনাকারী বলেন, তাঁর গোঁফ লম্বা হয়ে গিয়েছিল। তাই তিনি তাঁকে বললেন, তোমার গোঁফ আমি মিসওয়াকের উপরে রেখে কেটে দেব।১২৫
ব্যাখ্যা: তার দু'হাত ধূলিময় হোক। শাব্দিক বিবেচনার হিসেবে এটা বদ্দু'আ। অর্থাৎ- সে দরিদ্র ও নিঃস্ব হয়ে যাক। তবে এখানে বদ্‌দু'আ উদ্দেশ্য নয়। আরবি ভাষায় ধমক, তিরস্কার ও আক্ষেপমূলক বাক্য হিসেবে এ শব্দগুলো ব্যবহৃত হয়; এখানে এটাই উদ্দেশ্য।
রাসূলুল্লাহ উরুর গোশত পছন্দ করতেন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : أُتِيَ النَّبِيُّ ﷺ بِلَحْمٍ فَرُفِعَ إِلَيْهِ الذِّرَاعُ وَكَانَتْ تُعْجِبُهُ فَنَهَسَ مِنْهَا
১২৫. আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর সামনে বকরীর সামনের উরু পরিবেশন করা হলো। তিনি তা খুবই পছন্দ করতেন। অতঃপর তিনি তা থেকে দাঁত দিয়ে কেটে খেলেন।১২৬
ব্যাখ্যা: মানুষের ক্ষেত্রে কুনুই থেকে আঙ্গুলের আগা পর্যন্তকে যিরা বলে। গরু ও বকরীর ক্ষেত্রে বাহু বলতে রানকে বুঝায়। এখানে বাহু বলতে রান উদ্দেশ্য।
عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ ، قَالَ : طَبَخْتُ لِلنَّبِيِّ ﷺ قِدْرًا وَقَدْ كَانَ يُعْجِبُهُ الذِّرَاعُ فَنَاوَلْتُهُ الذِّرَاعَ ثُمَّ قَالَ : نَاوِلْنِي الذَّرَاعَ ، فَنَاوَلْتُهُ ثُمَّ قَالَ : نَاوِلُنِي الذَّرَاعَ فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَكَمْ لِلشَّاةِ مِنْ ذِرَاعٍ فَقَالَ : وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ سَكَتَ لَنَا وَلْتَنِي الذِّرَاعَ مَا دَعَوْتُ
১২৬. আবু উবায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার নবী এর জন্য এক ডেগ গোশত রান্না করলাম। তিনি বকরীর সামনের উরুর গোশত অধিক পছন্দ করতেন। তাই আমি তাঁকে সামনের একটি পা দিলাম। তারপর তিনি বললেন, আমাকে সামনের আরেকটি পা দাও। তখন আমি তাঁকে সামনের আরেকটি পা দিলাম। তারপর তিনি পুনরায় বললেন, আমাকে সামনের আরেকটি পা দাও। তখন আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসূল! বকরীর সামনের পা কয়টি থাকে? তিনি বললেন, সে মহান সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন! যদি তুমি চুপ থাকতে তাহলে আমি যতক্ষণ সামনের পা চাইতাম, ততক্ষণ তুমি দিতে পারতে।১২৭
রাসূলুল্লাহ শুকনো রুটি এবং সিরকা পছন্দ করতেন:
عَنْ أَمْ هَانِيٍ ، قَالَتْ : دَخَلَ عَلَيَّ النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ : أَعِندَكِ شَيْءٌ فَقُلْتُ : لَا إِلَّا خُبْرٌ يَابِسٌ وَخَلَّ ، فَقَالَ : هَاتِي مَا أَقْفَرَ بَيْتٌ مِنْ أَدْمٍ فِيْهِ خَلَّ
১২৭. উম্মু হানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী আমার ঘরে এসে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নিকট খাবার কিছু আছে কি? আমি বললাম, না। আমার নিকট শুকনো রুটি এবং সিরকা ছাড়া কোন কিছুই নেই। তিনি বললেন, নিয়ে এসো। তখন তিনি বলেন, যে ঘরে সিরকা আছে সে ঘর তরকারীশূন্য নয়।১২৮
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে বর্ণিত ঘটনাটি মক্কা বিজয়ের দিন ঘটেছিল। উম্মু হানী (রাঃ) ছিলেন আবু তালেবের মেয়ে এবং রাসূলুল্লাহ এর চাচাতো বোন। এ ঘটনা থেকে বুঝা যায়, রাসূলুল্লাহ কত সাধারণ জীবন অতিবাহিত করতেন। আরো জানা যায় যে, যাদের সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক থাকে, প্রয়োজনে তাদের কাছে কিছু চেয়ে নেয়া দোষের কিছু নয়।
عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: فَضْلُ عَائِشَةَ عَلَى النِّسَاءِ كَفَضْلِ الشَّرِيدِ عَلَى سَائِرِ الطَّعَامِ
১২৮. আবু মূসা (রাঃ) নবী হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রমণীদের মধ্যে আয়েশা (রাঃ) মর্যাদা সেরূপ, যেরূপ মর্যাদা যাবতীয় খাদ্যের মধ্যে সারীদের। ১২৯
ব্যাখ্যা: ঝুলের মধ্যে ভিজানো টুকরা টুকরা রুটিকে সারীদ বলা হয়। এ হাদীসে সারীদকে শ্রেষ্ঠ খাদ্য বলা হয়েছে। কারণ, এটা সহজে তৈরি করা যায় এবং তাড়াতাড়ি ভক্ষণ করা যায়। তাছাড়া এটা মজাদারও বটে এবং শক্তিবর্ধক। এসব কারণে গোশত ও রুটি জাতীয় যাবতীয় খাদ্যের মধ্যে সারীদ সর্বশ্রেষ্ঠ।
সর্বশ্রেষ্ঠ মহিলা কে? এখানে 'রমণীদের' বলে আয়েশা (রাঃ) এর সমসাময়িক স্ত্রীলোকদেরকে বুঝানো হয়েছে। বস্তুত শ্রেষ্ঠতম মহিলা হলেন, মারইয়াম বিনতে ইমরান, তারপর ফাতিমা (রাঃ), তারপর খাদীজা (রাঃ) এরপর আয়েশা (রাঃ)। আয়েশা (রাঃ) এর শ্রেষ্ঠত্ব ছিল বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা এবং প্রিয়তমা হওয়ার দিক থেকে। তাছাড়া তাঁর সাথে একই বিছানায় থাকা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ এর উপর ওহী নাযিল হতো। খাদীজা (রাঃ) এর শ্রেষ্ঠত্ব ছিল এ হিসেবে যে, তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ প্রথম স্ত্রী এবং প্রথম মহিলা মুমিন। আর ফাতিমা (রাঃ) শ্রেষ্ঠত্ব এ দিক থেকে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ এর কন্যা এবং জান্নাতের রমণীকূলের সর্দার।
عن أنس ، يَقُولُ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَضْلُ عَائِشَةَ عَلَى النِّسَاءِ كَفَضْلِ الشَّرِيدِ عَلَى سَائِرِ الطَّعَامِ
১২৯. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, রমণীকুলের মধ্যে আয়েশা (রাঃ) মধ্যমণী ও মর্যাদার অধিকারিণী, যেমন সারীদ যাবতীয় খাদ্যের মধ্যমণী।১৩০
রাসূলুল্লাহ বকরীর কাঁধের গোশতও খেতেন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ ﷺ تَوَضَّأَ مِنْ أَهْلِ ثَوْرٍ أَقِطٍ ثُمَّ رَاهُ أَكَلَ مِنْ كَيْفِ شَاةٍ . ثُمَّ صَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأُ
১৩৯. আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি একবার রাসূলুল্লাহ -কে পানি খাওয়ার শেষে ওযু করতে দেখেছেন। তিনি এও দেখেছেন যে, তিনি একবার বকরীর কাঁধের গোশত আহার করলেন। অথচ ওযু না করেই সালাত আদায় করলেন ১৩১
ব্যাখ্যা: আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর বর্ণনার আলোকে বুঝা যায়, রাসূলুল্লাহ ইসলামের প্রথম দিকে আগুনে রান্না করে জিনিস খেলে ওযু করতেন। তাই তিনি পনীর খেয়ে ওযূ করেছেন। পরে এ হুকুম পরিবর্তন হয়ে যায়। তাই রাসূলুল্লাহ বকরীর গোশত খেয়েও পুনরায় ওযু করেননি।
রাসূলুল্লাহ খেজুর ও ছাতু দ্বারা ওলীমা করেছিলেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : أَوْ لَمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَى صَفِيَّةً بِتَمْرٍ وَسَوِيقٍ
১৩১. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাফিয়্যা (রাঃ) এর বিয়েতে খেজুর ও ছাতু দ্বারা ওলীমা সম্পন্ন করেন।১৩২
ব্যাখ্যা: যে ভোজের আয়োজন বিবাহের পর করা হয়, নবদম্পতির প্রথম মিলনের পর যে খুশির খানা তৈরি করা হয়, সেটিকে ওলীমা বলে। খাইবারের যুদ্ধে সপ্তম হিজরীর মুহাররম মাসে সাফিয়্যা মুসলমানদের হাতে বন্দী হন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ তাঁকে আযাদ করে দিয়ে বিয়ে করে নেন। এ সফরে খাইবার থেকে ফেরার পথে ওলীমা অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। ওলীমা করা হয়েছিল হায়স, খেজুর ও ছাতু দ্বারা। হায়স হলো খেজুর, ঘি ও পনীর দ্বারা তৈরি এক প্রকার হালুয়া।
রাসূলুল্লাহর গোশত পছন্দ করতেন:
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ ﷺ قَالَ : أَتَانَا النَّبِيُّ ﷺ فِي مَنْزِلِنَا فَذَبَحْنَا لَهُ شَاةً ، فَقَالَ : كَأَنَّهُمْ عَلِمُوا أَنَّا نُحِبُّ اللَّحْمَ وَفِي الْحَدِيثِ قِصَّةٌ
১৩২. জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী ﷺ আমাদের বাড়িতে আসলেন। আমরা তাঁকে (আপ্যায়নের জন্য) একটি বকরী যবেহ করি। তারপর তিনি বললেন, মনে হচ্ছে তারা যেন জানে যে, আমি গোশত পছন্দ করি। এ হাদীসের সাথে দীর্ঘ ঘটনা সম্পৃক্ত রয়েছে।
عَنْ جَابِرٍ ، قَالَ : خَرَجَ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَأَنَا مَعَهُ فَدَخَلَ عَلَى امْرَأَةٍ مِنَ الْأَنْصَارِ ، فَذَبَحَتْ لَهُ شَاةٌ فَأَكَلَ مِنْهَا ، وَأَتَتْهُ بِقِنَاعٍ مِنْ رُطَبٍ ، فَأَكَلَ مِنْهُ ، ثُمَّ تَوَضَّأَ لِلظُّهْرِ وَصَلَّى ﷺ ، ثُمَّ انْصَرَفَ ، فَأَتَتْهُ بِعُلَالَةٍ مِنْ عُلَالَةِ الشَّاةِ ، فَأَكَلَ ثُمَّ صَلَّى الْعَصْرَ وَلَمْ يَتَوَضَّأُ
১৩৩. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ এক আনসারী মহিলার ঘরে আসলেন। আমি তখন তাঁর সাথে ছিলাম। তখন ঐ মহিলাটি তাঁর জন্য একটি বকরী যবাই করলেন। তিনি তা হতে কিছু গোশত আহার করলেন। এরপর ঐ মহিলাটি তাঁর সামনে এক থোকা তাজা খেজুর পেশ করলেন। তিনি তা হতেও কিছু খেয়ে নিলেন। এরপর তিনি ওযু করে যোহরের সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি ঐ মহিলাটির নিকটে ফিরে আসলেন। মহিলাটি অবশিষ্ট গোশতের কিছু অংশ তাঁর সামনে পরিবেশন করলেন এবং তিনি তা খেলেন। এরপর ওযূ না করেই আসরের সালাত আদায় করলেন। ১৩৩
রাসূলুল্লাহর চর্বিযুক্ত খাবারও আহার করতেন:
عَنْ أُمِّ الْمُنْذِرِ ، قَالَتْ : دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَمَعَهُ عَلِيٌّ ، وَلَنَا دَوَالٍ مُعَلَّقَةٌ ، قَالَتْ : فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَأْكُلُ وَعَلِيٌّ مَعَهُ يَأْكُلُ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِعَلِيٌّ : مَهُ يَا عَلِيُّ ، فَإِنَّكَ نَاقِهُ . قَالَتْ : فَجَلَسَ عَلِيٌّ وَالنَّبِيُّ ﷺ يَأْكُلُ ، قَالَتْ : فَجَعَلْتُ لَهُمْ سِلْقًا وَشَعِيْرًا ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ لِعَلِي : مِنْ هُذَا فَأَصِبْ فَإِنَّ هَذَا أَوْ فَقُ لَكَ
১৩৪. উম্মুল মুনযির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের বাড়িতে আসলেন। তাঁর সঙ্গে আলী (রাঃ)ও ছিলেন। আমাদের ঘরে কয়েক ছড়া (কাঁদি) খেজুর ঝুলন্ত ছিল। তিনি বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ ঐ কাঁদিগুলো হতে খেজুর খেতে থাকলেন এবং তাঁর সঙ্গে আলী (রাঃ)ও খেতে থাকলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, হে আলী! থাম- তুমি খেজুর খেয়ো না। কারণ, তুমি সবে মাত্র রোগ মুক্ত হয়েছ। তিনি বললেন, এতে আলী (রাঃ) খাওয়া
বন্ধ করলেন। আর রাসূলুল্লাহ ﷺ খেতে থাকলেন। বর্ণনাকারী আরো বলেন, আমি তাঁদের জন্য চর্বি দিয়ে যব রান্না করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, আলী! তুমি এ থেকে খাও। কারণ, তা তোমার স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপযোগী। ১৩৪
রাসূলুল্লাহ ﷺ ‘হায়স’ নামক খাবারও খেতেন:
عَنْ عَائِشَةَ ، أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ قَالَتْ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَأْتِينِي فَيَقُولُ : أَعِنْدَكِ غَدَاءٌ ؟ فَأَقُولُ : لَا . قَالَتْ : فَيَقُولُ : إِنِّي صَائِمٌ ، قَالَتْ : فَأَتَانِي يَوْمًا ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنَّهُ أَهْدِيَتْ لَنَا هَدِيَّةٌ قَالَ : وَمَا هِيَ ؟ قُلْتُ : حَيْسٌ قَالَ : أَمَا إِنِّي أَصْبَحْتُ صَائِمًا قَالَتْ : ثُمَّ أَكَلَ
১৩৫. উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ ভোরে আমার কাছে এসে বলতেন, তোমার নিকট নাশতা করার কিছু আছে কি? আমি কখনো কখনো বলতাম, না- কোন খাবার নেই। তখন তিনি বলতেন, আমি রোযার নিয়ত করলাম। একবার তিনি আমাদের নিকট আসলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য কিছু হাদিয়া এসেছে। তিনি বললেন, তা কোন ধরণের খাবার? আমি বললাম, হাইস (খেজুরের তৈরি মিষ্টান্ন বিশেষ)। তিনি বললেন, আমি তো রোযাদার অবস্থায় সকাল কাটিয়েছি। আয়েশা (রাঃ) বললেন, এরপর তিনি খেয়ে নিলেন। ১৩৫
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীস থেকে প্রতিয়মান হয় যে, নফল সওমের নিয়ত সুবহে সাদিকের সময় করা জরুরি নয়; সুবহে সাদিকের পর নিয়ত করলেও সওম সিদ্ধ হবে। প্রয়োজন হলে নফল সওম ভাঙ্গার অবকাশ আছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ ‘সুফল’ পছন্দ করতেন:
عَنْ أَنَسٍ : أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ كَانَ يُعْجِبُهُ الثَّفْلُ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ : يَعْنِي مَا بَقِيَ مِنَ الطَّعَامِ
১৩৬. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ ‘সুফল’ পছন্দ করতেন। আবদুল্লাহ [ইমাম তিরমিযী (রহঃ) এর উস্তাদ] বলেন, ‘সুফল' হচ্ছে সে জিনিস, যা লোকেরা খাদ্য গ্রহণের পর হাঁড়ি-পাতিলের তলায় লেগে থাকে। ১৩৬

টিকাঃ
১১৫ ইবনে মাজাহ, হা/৩৩১৬।
১১৬ সহীহ মুসলিম, হা/৭৬৫০; ইবনে হিব্বান, হা/৬৩৪০।
১১৭ সহীহ মুসলিম, হা/৪৩৫৪; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৫৮৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/২৮০৭।
১১৮ যাইতুন জলপাই জাতীয় ফল, যা আরব দেশগুলোতে জন্মে।
১১৯ ইবনে মাজাহ, হা/৩৩২০; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৩৫০৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬০৯৮; দারেমী, হা/২০৫২; শারহুস সুন্নাহ, হা/২৫৭০; শু'আবুল ঈমান, হা/৫৫৩৮; জামেউস সগীর, ২/৮৬২৭; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৩৭৯।
১২০ শারহুস সুন্নাহ, হা/২৮৬১।
১২১ শারহুস সুন্নাহ, হা/২৮৬২।
১২২ সহীহ বুখারী, হা/২০৯২; সহীহ মুসলিম, হা/৪৫৫৬; আবু দাউদ, হা/৩৭৮৪।
১২৩ সহীহ বুখারী, হা/৫৪৩১; ইবনে মাজাহ, হা/৩৩২৩; ইবনে হিব্বান, হা/৫২৫৪।
১২৪ নাসাঈ, হা/১৮৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৬৬৩।
১২৫ শারহুস সুন্নাহ, হা/২৮৪৮; মিশকাত, হা/৪২৩৬।
১২৬ সহীহ বুখারী, হা/৪৭১২; সহীহ মুসলিম, হা/৫০১; ইবনে মাজাহ, হা/৩৩০৭।
১২৭ মুজামুল কাবীর, হা/১৮২৮৬; মুসনাদে বাযযার, হা/৮৩৪৫।
১২৮ শারহে সুন্নাহ, হা/২৮৬৯: সিলসিলা সহীহাহ, হা/২২২০: মিশকাত, হা/৪২২২।
১২৯ সহীহ বুখারী, হা/৩৪১১; সহীহ মুসলিম, হা/৬৪২৫। সুনানে নাসাঈ, হা/৩৯৪৭; ইবনে মাজাহ, হা/৩২৮০: মুসনাদে আহমাদ, হা/১৯৫৪১: সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৭১১৪: সিলসিলা সহীহাহ, হা/৩৫৩৫।
১৩০ সহীহ বুখারী, হা/৩৪৩৩; সহীহ মুসলিম, হা/৬৪৫২; ইবনে মাজাহ, হা/৩২৮১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩৮১১: দারেমী, হা/২১১৩: জামেউস সগীর, হা/৩৮৮০: সিলসিলা সহীহাহ, হা/৩৫৩৫।।
১৩১ সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/৪২: সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/১১৫১, বায়হাকী, হা/৭০১: জামেউস সগীর, হা/১৩১১১: সুনানে কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৭৫২।
১৩২ মুসনাদের আহমাদ, হা/১২০৯৯: মুসনাদে বাযযার, হা/৬২৯৪; মুসনাদে আবু ই'আলা, হা/৩৫৫৯।
১৩৩ শারহুস সুন্নাহ, হা/২৮৫০; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/১৭৭৫।
১৩৪ ইবনে মাজাহ, হা/৩৪৪২; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৮২৪৪; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/২০২১১; শারহুস সুন্নাহ, হা/২৮৬৩; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/২৪১৩৩; মিশকাত, হা/৪২১৬।
১৩৫ সহীহ মুসলিম, হা/২৭৭০; আবু দাউদ, হা/২৪৫৭; নাসাঈ, হা/২৩২২; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৪২৬৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৬২৮; দার কুতনী, হা/২২৩৬; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৭৪৫; মিশকাত, হা/২০৭৬।
১৩৬ মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩৩২৩; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৭১১৬; জামেউস সগীর, হা/৯১১০; মিশকাত, হা/৪২১৭।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 আহার গ্রহণকালে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর ওযু

📄 আহার গ্রহণকালে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর ওযু


عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ هِ ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ خَرَجَ مِنَ الْخَلَاءِ فَقُرِبَ إِلَيْهِ الطَّعَامُ فَقَالُوا : أَلَا نَأْتِيْكَ بِوَضُوءٍ ؟ قَالَ : إِنَّمَا أُمِرْتُ بِالْوُضُوْءِ إِذَا قُمْتُ إِلَى الصَّلَاةِ
১৩৭. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ বাইতুল খালা অর্থাৎ শৌচাগার থেকে বাইরে আসলেন। এরপর তাঁর সামনে খানা পরিবেশন করা হলো। সাহাবাগণ বললেন, আমরা আপনাকে ওযূর পানি দেব কি? তিনি বললেন, আমি তো কেবল সালাত আদায় করার সময় ওযু করার জন্য নির্দেশ পেয়েছি। ১৩৭
ব্যাখ্যা: উক্ত হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ খাবার গ্রহণের আগে ওযু করতে অস্বীকৃতি করেন এবং ওযু না থাকা অবস্থায় খাদ্য গ্রহণ করেন। কাজেই বুঝা গেল যে, ইসলামে আহারের উদ্দেশ্যে ওযূর কোন বিধান নেই। আরো বুঝা গেল যে, মল-মূত্র ত্যাগ করার পর সঙ্গে সঙ্গে ওযু করার অপরিহার্যতাও নেই।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : خَرَجَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مِنَ الْغَائِطِ فَأُنِيَ بِطَعَامٍ ، فَقِيلَ لَهُ : أَلَا تَتَوَضَّأُ ؟ فَقَالَ : أُصَلِّي فَأَتَوَضَّأُ
১৩৮. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ ইস্তিঞ্জা তথা শৌচকার্য সেরে বাইরে আসলেন। এরপর খাবার পরিবেশন করা হলো। তখন তাঁকে বলা হলো, আপনি কি ওযু করবেন না? তিনি বললেন, আমি কি সালাত আদায় করব যে, ওযু করব?১৩৮

টিকাঃ
১৩৭ আবু দাউদ, হা/৩৭৬২; সুনানে নাসাঈ, হা/১৩২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৩৮১।
১৩৮ সহীহ মুসলিম, হা/৮৫৪; ইবনে মাজাহ, হা/৩২৬১; দারেমী, হা/৭৬৭; বায়হাকী, হা/১৮৯; শারহুস সুন্নাহ, হা/২৭২; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/২৪৯৪৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00