📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর বালিশে হেলান দেয়ার বিবরণ

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর বালিশে হেলান দেয়ার বিবরণ


রাসূলুল্লাহ বাম কাঁধে বালিশের উপর হেলান দিতেন:
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ ، قَالَ : رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ عَلَى يَسَارِهِ
৯৮. জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বাম কাঁধে (হেলান দেয়া অবস্থায়) দেখেছি।
হাদীস বর্ণনার সময়ও বালিশে হেলান দিতেন:
عَنْ أَبِي بَكْرَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : أَلَا أُحَدِّثُكُمْ بِأَكْبَرِ الْكَبَائِرِ ؟ قَالُوا : بَلَى يَا رَسُوْلَ اللهِ . قَالَ : الْإِشْرَاكُ بِاللهِ ، وَعُقُوْقُ الْوَالِدَيْنِ . قَالَ : وَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَكَانَ مُتَّكِنَّا قَالَ : وَشَهَادَةُ الزُّورِ ، أَوْ قَوْلُ الزُّوْرِ قَالَ : فَمَا زَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَقُوْلُهَا حَتَّى قُلْنَا : لَيْتَهُ سَكَتَ
৯৯. আবু বাকরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে কবীরা গুনাহ সম্পর্কে বলব না? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হ্যাঁ- হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করা ও পিতামাতার অবাধ্য হওয়া। বর্ণনাকারী বলেন, হাদীস বর্ণনার সময় তিনি বালিশে হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন। এরপর তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, আর মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা অথবা মিথ্যা বলা (-ও কবীরা গুনাহ)। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এ কথা বারবার বলতে থাকেন। এমনকি আমরা মনে মনে বলতে লাগলাম যে, আহ! যদি তিনি চুপ করতেন!'১০০
ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহ তিনটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর তালিকা এ তিনটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিভিন্ন হাদীসে আরো কতিপয় কাজকে 'কবীরা গুনাহ' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- খাবারে শরীক হওয়ার ভয়ে বা ভরণ পোষণের ভয়ে নিজ সন্তানকে হত্যা করা, প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে যিনা করা প্রভৃতি।
কবীরা গুনাহের সংজ্ঞা: গুনাহ দু'প্রকার। ১. কবীরা, ২. সগীরা। শরীয়তে যে পাপ কাজের জন্য কোন শাস্তির বিধান রয়েছে, তা করা কবীরা বা বড় গুনাহ। কেউ কেউ বলেন, কুরআন হাদীসে যে গুনাহ সম্পর্কে কঠোর ধমকি দেয়া হয়েছে- যদিও শাস্তির কথা বলা হয়নি, সেটি কবীরা।
তিনি কখনো ঠেস দেয়া অবস্থায় খেতেন না:
عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : أَمَّا أَنَا فَلَا أَكُلُ مُتَّكِنًا
১০০. আবু জুহায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, আমি হেলান দিয়ে আহার করি না। ১০১
ব্যাখ্যা: 'আমি হেলান দিয়ে আহার করি না' এ উক্তিটি রাসূলুল্লাহ এ জন্য বলেছেন, মানুষ যেন তাঁর অনুসরণ করে।
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ ، قَالَ : رَأَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ مُتَّكِنَّا عَلَى وِسَادَةٍ
১০১. জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী -কে বালিশের উপর হেলান দেয়া অবস্থায় দেখেছি। ১০২
ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে বুঝা যায়, আহার ছাড়া অন্য সময় রাসূলুল্লাহ হেলান দিয়ে বসতেন।

টিকাঃ
৯৯ আবু দাউদ, হা/৪১৪৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১০১৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৮৯; মুসনাদে বাযযার, হা/৪২৭২; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১২৬; মিশকাত, হা/৪৭১২।
১০০ সহীহ বুখারী, হা/২৬৫৪; সহীহ মুসলিম, হা/২৬৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৪১০; আদাবুল মুফরাদ, হা/১৫; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২২৯৯।
১০১ মুসনাদুল বাযযার, হা/৪২১৪; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৬৭০৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/১৩৭০৬; মুজামুল কাবীর, হা/১৭৮০২; ইবনে হিব্বান, হা/৫২৪০।
১০২ আবু দাউদ, হা/৪১৪৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১০১৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১২৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৮৯।

রাসূলুল্লাহ বাম কাঁধে বালিশের উপর হেলান দিতেন:
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ ، قَالَ : رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ عَلَى يَسَارِهِ
৯৮. জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বাম কাঁধে (হেলান দেয়া অবস্থায়) দেখেছি।
হাদীস বর্ণনার সময়ও বালিশে হেলান দিতেন:
عَنْ أَبِي بَكْرَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : أَلَا أُحَدِّثُكُمْ بِأَكْبَرِ الْكَبَائِرِ ؟ قَالُوا : بَلَى يَا رَسُوْلَ اللهِ . قَالَ : الْإِشْرَاكُ بِاللهِ ، وَعُقُوْقُ الْوَالِدَيْنِ . قَالَ : وَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَكَانَ مُتَّكِنَّا قَالَ : وَشَهَادَةُ الزُّورِ ، أَوْ قَوْلُ الزُّوْرِ قَالَ : فَمَا زَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَقُوْلُهَا حَتَّى قُلْنَا : لَيْتَهُ سَكَتَ
৯৯. আবু বাকরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে কবীরা গুনাহ সম্পর্কে বলব না? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হ্যাঁ- হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করা ও পিতামাতার অবাধ্য হওয়া। বর্ণনাকারী বলেন, হাদীস বর্ণনার সময় তিনি বালিশে হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন। এরপর তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, আর মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা অথবা মিথ্যা বলা (-ও কবীরা গুনাহ)। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এ কথা বারবার বলতে থাকেন। এমনকি আমরা মনে মনে বলতে লাগলাম যে, আহ! যদি তিনি চুপ করতেন!'১০০
ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহ তিনটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর তালিকা এ তিনটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিভিন্ন হাদীসে আরো কতিপয় কাজকে 'কবীরা গুনাহ' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- খাবারে শরীক হওয়ার ভয়ে বা ভরণ পোষণের ভয়ে নিজ সন্তানকে হত্যা করা, প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে যিনা করা প্রভৃতি।
কবীরা গুনাহের সংজ্ঞা: গুনাহ দু'প্রকার। ১. কবীরা, ২. সগীরা। শরীয়তে যে পাপ কাজের জন্য কোন শাস্তির বিধান রয়েছে, তা করা কবীরা বা বড় গুনাহ। কেউ কেউ বলেন, কুরআন হাদীসে যে গুনাহ সম্পর্কে কঠোর ধমকি দেয়া হয়েছে- যদিও শাস্তির কথা বলা হয়নি, সেটি কবীরা।
তিনি কখনো ঠেস দেয়া অবস্থায় খেতেন না:
عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : أَمَّا أَنَا فَلَا أَكُلُ مُتَّكِنًا
১০০. আবু জুহায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, আমি হেলান দিয়ে আহার করি না। ১০১
ব্যাখ্যা: 'আমি হেলান দিয়ে আহার করি না' এ উক্তিটি রাসূলুল্লাহ এ জন্য বলেছেন, মানুষ যেন তাঁর অনুসরণ করে।
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ ، قَالَ : رَأَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ مُتَّكِنَّا عَلَى وِسَادَةٍ
১০১. জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী -কে বালিশের উপর হেলান দেয়া অবস্থায় দেখেছি। ১০২
ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে বুঝা যায়, আহার ছাড়া অন্য সময় রাসূলুল্লাহ হেলান দিয়ে বসতেন।

টিকাঃ
৯৯ আবু দাউদ, হা/৪১৪৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১০১৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৮৯; মুসনাদে বাযযার, হা/৪২৭২; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১২৬; মিশকাত, হা/৪৭১২।
১০০ সহীহ বুখারী, হা/২৬৫৪; সহীহ মুসলিম, হা/২৬৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৪১০; আদাবুল মুফরাদ, হা/১৫; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২২৯৯।
১০১ মুসনাদুল বাযযার, হা/৪২১৪; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৬৭০৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/১৩৭০৬; মুজামুল কাবীর, হা/১৭৮০২; ইবনে হিব্বান, হা/৫২৪০।
১০২ আবু দাউদ, হা/৪১৪৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১০১৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১২৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৮৯।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর (বালিশ ছাড়া অন্য কিছুতে) ঠেস দেয়া

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর (বালিশ ছাড়া অন্য কিছুতে) ঠেস দেয়া


عَنْ أَنَسٍ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ شَاكِيًا فَخَرَجَ يَتَوَكَّأُ عَلَى أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ وَعَلَيْهِ ثَوْبٌ قِطْرِيٌّ قَدْ تَوَفَّحَ بِهِ فَصَلَّى بِهِمْ
১০২. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী একবার রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। তখন তিনি উসামা (রাঃ) এর কাঁধে ভর করে বাইরে আসেন। সে সময় তাঁর দেহে একটা ইয়ামানী কাপড় জড়ানো ছিল। তারপর তিনি লোকদের ইমামতি করেন।১০০

টিকাঃ
১০০ মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩৭৮৭; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/২২৫৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩০৯২।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর পানাহারের নিয়ম-পদ্ধতি

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর পানাহারের নিয়ম-পদ্ধতি


রাসূলুল্লাহ আহার শেষে তিন আঙ্গুলি চুষে নিতেন:
عَنْ أَنَسٍ هِ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أَكَلَ طَعَامًا لَعِقَ أَصَابِعَهُ الثَّلَاثَ
১০৩. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী যখন আহার করতেন তখন তিনি তাঁর তিনটি আঙ্গুলি চুষে নিতেন। ১০৪
عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ ، قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ ﷺ : أَمَّا أَنَا فَلَا أَكُلُ مُتَّكِنًا
১০৪. আবু জুহায়ফা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ইরশাদ করেছেন, আমি ঠেসরত অবস্থায় আহার করি না। ১০৫
তিনি তিন আঙ্গুলি দিয়ে আহার করতেন:
عَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَأْكُلُ بِأَصَابِعِهِ الثَّلَاثِ وَيَلْعَقُهُنَّ
১০৫. কা'ব ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ তিন অঙ্গুলি দিয়ে আহার করতেন এবং তা চুষে নিতেন। ১০৬
ব্যাখ্যা: সাধারণত আহারের সময় রাসূলুল্লাহ তিনটি আঙ্গুল ব্যবহার করতেন এবং খাওয়ার পর সেগুলো চেটে খেতেন। আঙ্গুল তিনটি হলো বৃদ্ধা, তর্জনী ও মধ্যমা। কা'ব ইবনে উজরা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ কে বৃদ্ধা, তর্জনী ও মধ্যমা এ আঙ্গুলত্রয় দ্বারা পানাহার করতে দেখেছি। আরো দেখেছি যে, তিনি হাত ধৌত করার আগে তিন আঙ্গুল চেটে খেয়েছেন। প্রথমে মধ্যমা অতঃপর তর্জনী অতঃপর বৃদ্ধাঙ্গুল চেটেছেন।
উল্লেখ্য যে, নবী এর সময় খেজুর, রুটি, গোশত অথবা তরকারীই ছিল প্রধান খাদ্য। এসব খাদ্য গ্রহণের সময় সব আঙ্গুল ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না। বিধায় নবী তিন আঙ্গুল দ্বারা খেতেন। কিন্তু ভাত খাওয়ার সময় পাঁচ আঙ্গুলই ব্যবহার করতে হয়। বিধায় সব আঙ্গুলই চেটে খাওয়া উচিত। রাসূলুল্লাহ বলেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ আহার কর, তখন যেন আহার শেষে আঙ্গুলগুলো চেটে খায়। কারণ সে জানে না খাবারের কোন অংশে বরকত রয়েছে। ১০৭
অতি ক্ষুধার কারণে তিনি একবার বাঁকা হয়ে ঠেস দিয়ে খেয়েছিলেন :
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ يَقُوْلُ : أَي رَسُولُ اللهِ ﷺ بِتَمْرٍ فَرَأَيْتُهُ يَأْكُلُ وَهُوَ مُقْعٍ مِنَ الْجُوعِ
১০৬. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ এর কাছে খurma আনা হলো। তখন আমি তাঁকে তীব্র ক্ষুধার কারণে বাঁকা হয়ে ঠেস দিয়ে খেতে দেখেছি। ১০৮
ব্যাখ্যা: সাধারণত রাসূলুল্লাহ কোন জিনিসের সাথে ঠেস দিয়ে বসে আহার করতেন না। এখানে সমস্যার কারণে হেলান দিয়েছিলেন।

টিকাঃ
১০৪ সহীহ মুসলিম, হা/৫৪১৬; আবু দাউদ, হা/৩৮৪৭; ইবনে হিব্বান, হা/৫২৫২; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৭১২১; বায়হাকী, হা/১৪৩৯৫; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/২৪৯৩৭; জামেউস সগীর, হা/৮৮১১।
১০৫ মুসনাদুল বাযযার, হা/৪২১৪; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৬৭০৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/১৩৭০৬; মুজামুল কাবীর, হা/১৭৮০২; ইবনে হিব্বান, হা/৫২৪০।
১০৬ মুসান্নাফে ইবনে আবু শায়বা, হা/২৪৯৫৫; মুসনাদুল বাযযার, হা/৩৮২০।
১০৭ সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫২৫৩; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৪০৪; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২১৬১।
১০৮ শারহুস সুন্নাহ, হা/২৮৪২।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর রুটির বিবরণ

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর রুটির বিবরণ


রাসূলুল্লাহ এর পরিবারবর্গ কখনো একাধারে ২দিন পেট ভরে যবের রুটি আহার করেননি :
عَنْ عَائِشَةَ ، أَنَّهَا قَالَتْ : مَا شَبِعَ الْ مُحَمَّدٍ مِنْ خُبْزِ الشَّعِيرِ يَوْمَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ حَتَّى قُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ
১০৭. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর ওফাত পর্যন্ত মুহাম্মাদ এর পরিবারবর্গ একাধারে ২দিন পেট ভরে যবের রুটি আহার করেননি।১০৯
ব্যাখ্যা: বদান্যতা ও দানশীলতায় রাসূলুল্লাহ ছিলেন অতুলনীয়। স্বেচ্ছায় এ অবস্থাকে গ্রহণ করে নেয়ার কারণেই তাঁকে এরূপ সাদাসিধা জীবন-যাপন করতে হয়েছে।
তিনি চাইলে সীমাহীন স্বাচ্ছন্দের সাথে জীবন কাটাতে পারতেন। কিন্তু তা তাঁর পছন্দনীয় ছিল না।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে কখনো যবের রুটি উদ্ধৃত থাকত না:
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِي ﷺ يَقُولُ : مَا كَانَ يَفْضُلُ عَنْ أَهْلِ بَيْتِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ خُبْزُ الشَّعِيرِ
১০৮. আবু উমামা বাহিলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর গৃহে কখনো যবের রুটি উদ্ধৃত থাকত না।১১০
ব্যাখ্যা: অন্যদের দান করার দরুণ রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ঘরে অতিরিক্ত পাকানোর মতো খাদ্য থাকত না। তাছাড়া আহলুস সুফফা এবং অন্যান্য মেহমান তো থাকতই।
মাঝে মাঝে তিনি আহারের জন্য কিছুই পেতেন না:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ﷺ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَبِيْتُ اللَّيَالِيَ الْمُتَتَابِعَةَ طَاوِيًّا هُوَ وَأَهْلُهُ لَا يَجِدُونَ عِشَاءُ وَكَانَ أَكْثَرُ خُبْزِهِمْ خُبْزَ الشَّعِيرِ
১০৯. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং তাঁর পরিবারবর্গ একাধারে কয়েক রাত অনাহারে এমনভাবে কাটাতেন যে, তাঁরা আহার্য বস্তুর কোন কিছুই পেতেন না। আর অধিকাংশ সময় তাঁদের খাবার হতো যবের রুটি (অর্থাৎ ধারাবাহিক যবের রুটিও পেতেন না)।১১১
তিনি কখনো ময়দা দেখেননি এবং খাবারের জন্য কোন চালনিও ব্যবহার করেননি:
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ ﷺ، أَنَّهُ قِيلَ لَهُ : أَكَلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ النَّقِيَّ ؟ يَعْنِي الْحُوَّارَى فَقَالَ سَهْل : مَا رَأَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ النَّقِيَّ حَتَّى لَقِيَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ تَعَالَى ، فَقِيلَ لَهُ : هَلْ كَانَتْ لَكُمْ مَنَاخِلُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ؟ قَالَ : مَا كَانَتْ لَنَا مَنَاخِلُ قِيلَ : كَيْفَ كُنْتُمْ تَصْنَعُوْنَ بِالشَّعِيرِ ؟ قَالَ : كُنَّا نَنْفُخُهُ فَيَطِيرُ مِنْهُ مَا طَارَ ثُمَّ نَعْجِنُهُ
১১০. সাহল ইবনে সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো রাসূলুল্লাহ ﷺ কি ময়দার রুটি আহার করতেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর ওফাত পর্যন্ত ময়দা দেখেননি। তারপর তাঁকে বলা হলো, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সময় আপনাদের কি চালনি ছিল? তিনি বললেন, আমাদের কোন চালনি ছিল না। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, তবে আপনারা যবের রুটি কীভাবে ব্যবহার করতেন? তিনি বললেন, আমরা তাতে ফুঁ দিতাম, যাতে অখাদ্য কিছু থাকলে তা উড়ে যায়। এরপর আমরা খামির করে নিতাম। ১১২
ব্যাখ্যা: সাহল (রাঃ) বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ ময়দা দেখেননি এবং চালনি ব্যবহার করেননি। এ কথা তিনি তার জানা অনুসারে বলেছেন। কেননা তখন মক্কা ও মদিনায় চালনির প্রচলন ছিল না। অন্যথায় রাসূলুল্লাহ নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে সিরিয়া সফরের সময় ময়দা দেখে থাকতে পারেন। কেননা সিরিয়ায় চালনি দিয়ে ময়দা চালার রেওয়াজ আগে থেকেই ছিল।
তিনি আহারের জন্য টেবিল এবং ছোট প্লেট ব্যবহার করতেন না :
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ﷺ قَالَ : مَا أَكَلَ نَبِيُّ اللهِ ﷺ عَلَى خِوَانٍ وَلَا فِي سُكْرُجَةٍ ، وَلَا خُبِزَ لَهُ مُرَقَّقُ قَالَ : فَقُلْتُ لِقَتَادَةَ : فَعَلَامَ كَانُوا يَأْكُلُونَ ؟ قَالَ : عَلَى هُذِهِ السُّفَرِ
১১১. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী টেবিলে আহার করতেন না, ছোট প্লেটে খাবার নিতেন না এবং তাঁর জন্য চাপাতিও তৈরি করা হতো না। (বর্ণনাকারী) ইউনুস বলেন, আমি কাতাদা (রহঃ) কে জিজ্ঞেস করে বললাম, তাহলে কোন ধরণের প্লেটে তাঁরা আহার করতেন? তিনি বলেন, দস্তরখানের উপর রেখে আহার করতেন। ১১৩
ব্যাখ্যা: 'সুকুররুজাহ' শব্দটি ফারসী শব্দ। ক্ষুধা এবং হজমকারক রুচিবর্ধক বিভিন্ন উপকরণ রাখার ছোট ছোট পাত্র। রাসূলুল্লাহ যেহেতু নিজে পেটভরে আহার করতেন না, কাজেই পরিতৃপ্ত ভোজনের উপকরণও ব্যবহার করতেন না। তাছাড়া এভাবে আহার করা যেহেতু বিলাসী, তাই রাসূলুল্লাহ এসব পদ্ধতি পরিহার করতেন। এটা অতিভোজনকারী লোভী লোকদের অভ্যাস।
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : مَا شَبِعَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مِنْ خُبْنِ الشَّعِيْرِ يَوْمَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ حَتَّى قُبِضَ
১১২. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর জীবদ্দশায় একাধারে ২দিন যবের রুটি আহার করেননি। ১১৪

টিকাঃ
১০৯ ইবনে মাজাহ, হা/৩৩৪৬; তাহযীবুল আসার, হা/৬০৯; শারহুস সুন্নাহ, হা/৪০৭৩।
১১০ মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৩৫০; মুজামুল কাবীর, হা/৭৫৭৮; শারহুস সুন্নাহ, হা/৪০৭৫।
১১১ ইবনে মাজাহ, হা/৩৩৪৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩০৩; মুসনাদুল বাযযার, হা/৪৮০৫; মুজামুল কাবীর, হা/১১৭৩৩।
১১২ মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৮৬৫; তাহযীবুল আছার, হা/২৫১৭।
১১০ সহীহ বুখারী, হা/৫৬১৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৩৪৭।
১১৪ তাহযীবুল আছার, হা/৬০৯; শারহুস সুন্নাহ, হা/৪০৭৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00