📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর মস্তকাবরণ ব্যবহার

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর মস্তকাবরণ ব্যবহার


عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُكْثِرُ الْقِنَاعَ كَانَ ثَوْبَهُ ثَوْبُ زَيَّاتٍ
৯৫. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ প্রায় সবসময় মাথা ঢেকে রাখতেন। তাঁর ঢেকে রাখার বস্ত্রটি (তৈলাক্ত হয়ে) এমন হয়েছিল যে, মনে হতো তা যেন কোন তৈল বিক্রেতার (তৈল মোছার) একখণ্ড বস্তু।
ব্যাখ্যা: অধিক তেল ব্যবহারে কাপড় ময়লা হয়, তাই রাসূলুল্লাহ মাথায় অতিরিক্ত কাপড় ব্যবহার করতেন, যাতে টুপি বা পাগড়ি নষ্ট না হয়। এখানে কাপড় দ্বারা উদ্দেশ্য পাগড়ির নিচে ব্যবহারের কাপড়।

টিকাঃ
৯৬ শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১৬৪।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর উঠা-বসা

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর উঠা-বসা


عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ ، عَنْ عَمِّهِ ، أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ ﷺ مُسْتَلْقِيَّا فِي الْمَسْجِدِ وَاضِعًا إِحْدَى رِجْلَيْهِ عَلَى الْأُخْرَى
৯৬. আব্বাদ ইবনে তামীম (রহঃ) তার চাচা হতে বর্ণনা করেন, তিনি নবী কে মসজিদে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে এক পায়ের উপর অপর পা রেখে (শোয়া অবস্থায়) আরাম করতে দেখেছেন।
ব্যাখ্যা: এ হাদীসের আলোকে বুঝা যায় যে, পায়ের উপর পা রেখে চিত হয়ে শুয়ে থাকাতে কোন দোষ নেই।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ، قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا جَلَسَ فِي الْمَسْجِدِ احْتَى بِيَدَيْهِ
৪৯. আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইহতিবা অর্থাৎ নিতম্বের উপর ভর করে উরুর উপর হাত রেখে মসজিদে বসতেন। ১৮
ব্যাখ্যা: উরুদ্বয়কে পেটের সাথে লাগিয়ে নিতম্বের উপর ভর দিয়ে বসে দু'হাত দিয়ে উভয় পায়ের নলা পেঁচিয়ে ধরে বসাকে ইহতিবা বলে। এ ধরনের বসা বিনয়ের পরিচায়ক।

টিকাঃ
৯৭ মুয়াত্তা মালেক, হা/৪১৬; সহীহ বুখারী, হা/৪৭৫; সহীহ মুসলিম, হা/৫৬২৬; নাসাঈ, হা/৭২১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৪৯১
১৮ আবু দাউদ, হা/৪৮৪৮; সুনanul কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৬১২৭; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬৫৮; জামেউস সগীর, হা/৮৮৩১; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৮২৭; মিশকাত, হা/৪৮১৩।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর বালিশে হেলান দেয়ার বিবরণ

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর বালিশে হেলান দেয়ার বিবরণ


রাসূলুল্লাহ বাম কাঁধে বালিশের উপর হেলান দিতেন:
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ ، قَالَ : رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ عَلَى يَسَارِهِ
৯৮. জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বাম কাঁধে (হেলান দেয়া অবস্থায়) দেখেছি।
হাদীস বর্ণনার সময়ও বালিশে হেলান দিতেন:
عَنْ أَبِي بَكْرَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : أَلَا أُحَدِّثُكُمْ بِأَكْبَرِ الْكَبَائِرِ ؟ قَالُوا : بَلَى يَا رَسُوْلَ اللهِ . قَالَ : الْإِشْرَاكُ بِاللهِ ، وَعُقُوْقُ الْوَالِدَيْنِ . قَالَ : وَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَكَانَ مُتَّكِنَّا قَالَ : وَشَهَادَةُ الزُّورِ ، أَوْ قَوْلُ الزُّوْرِ قَالَ : فَمَا زَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَقُوْلُهَا حَتَّى قُلْنَا : لَيْتَهُ سَكَتَ
৯৯. আবু বাকরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে কবীরা গুনাহ সম্পর্কে বলব না? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হ্যাঁ- হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করা ও পিতামাতার অবাধ্য হওয়া। বর্ণনাকারী বলেন, হাদীস বর্ণনার সময় তিনি বালিশে হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন। এরপর তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, আর মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা অথবা মিথ্যা বলা (-ও কবীরা গুনাহ)। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এ কথা বারবার বলতে থাকেন। এমনকি আমরা মনে মনে বলতে লাগলাম যে, আহ! যদি তিনি চুপ করতেন!'১০০
ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহ তিনটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর তালিকা এ তিনটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিভিন্ন হাদীসে আরো কতিপয় কাজকে 'কবীরা গুনাহ' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- খাবারে শরীক হওয়ার ভয়ে বা ভরণ পোষণের ভয়ে নিজ সন্তানকে হত্যা করা, প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে যিনা করা প্রভৃতি।
কবীরা গুনাহের সংজ্ঞা: গুনাহ দু'প্রকার। ১. কবীরা, ২. সগীরা। শরীয়তে যে পাপ কাজের জন্য কোন শাস্তির বিধান রয়েছে, তা করা কবীরা বা বড় গুনাহ। কেউ কেউ বলেন, কুরআন হাদীসে যে গুনাহ সম্পর্কে কঠোর ধমকি দেয়া হয়েছে- যদিও শাস্তির কথা বলা হয়নি, সেটি কবীরা।
তিনি কখনো ঠেস দেয়া অবস্থায় খেতেন না:
عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : أَمَّا أَنَا فَلَا أَكُلُ مُتَّكِنًا
১০০. আবু জুহায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, আমি হেলান দিয়ে আহার করি না। ১০১
ব্যাখ্যা: 'আমি হেলান দিয়ে আহার করি না' এ উক্তিটি রাসূলুল্লাহ এ জন্য বলেছেন, মানুষ যেন তাঁর অনুসরণ করে।
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ ، قَالَ : رَأَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ مُتَّكِنَّا عَلَى وِسَادَةٍ
১০১. জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী -কে বালিশের উপর হেলান দেয়া অবস্থায় দেখেছি। ১০২
ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে বুঝা যায়, আহার ছাড়া অন্য সময় রাসূলুল্লাহ হেলান দিয়ে বসতেন।

টিকাঃ
৯৯ আবু দাউদ, হা/৪১৪৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১০১৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৮৯; মুসনাদে বাযযার, হা/৪২৭২; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১২৬; মিশকাত, হা/৪৭১২।
১০০ সহীহ বুখারী, হা/২৬৫৪; সহীহ মুসলিম, হা/২৬৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৪১০; আদাবুল মুফরাদ, হা/১৫; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২২৯৯।
১০১ মুসনাদুল বাযযার, হা/৪২১৪; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৬৭০৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/১৩৭০৬; মুজামুল কাবীর, হা/১৭৮০২; ইবনে হিব্বান, হা/৫২৪০।
১০২ আবু দাউদ, হা/৪১৪৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১০১৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১২৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৮৯।

রাসূলুল্লাহ বাম কাঁধে বালিশের উপর হেলান দিতেন:
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ ، قَالَ : رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ عَلَى يَسَارِهِ
৯৮. জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বাম কাঁধে (হেলান দেয়া অবস্থায়) দেখেছি।
হাদীস বর্ণনার সময়ও বালিশে হেলান দিতেন:
عَنْ أَبِي بَكْرَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : أَلَا أُحَدِّثُكُمْ بِأَكْبَرِ الْكَبَائِرِ ؟ قَالُوا : بَلَى يَا رَسُوْلَ اللهِ . قَالَ : الْإِشْرَاكُ بِاللهِ ، وَعُقُوْقُ الْوَالِدَيْنِ . قَالَ : وَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَكَانَ مُتَّكِنَّا قَالَ : وَشَهَادَةُ الزُّورِ ، أَوْ قَوْلُ الزُّوْرِ قَالَ : فَمَا زَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَقُوْلُهَا حَتَّى قُلْنَا : لَيْتَهُ سَكَتَ
৯৯. আবু বাকরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে কবীরা গুনাহ সম্পর্কে বলব না? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হ্যাঁ- হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করা ও পিতামাতার অবাধ্য হওয়া। বর্ণনাকারী বলেন, হাদীস বর্ণনার সময় তিনি বালিশে হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন। এরপর তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, আর মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা অথবা মিথ্যা বলা (-ও কবীরা গুনাহ)। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এ কথা বারবার বলতে থাকেন। এমনকি আমরা মনে মনে বলতে লাগলাম যে, আহ! যদি তিনি চুপ করতেন!'১০০
ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে সবচেয়ে বড় কবীরা গুনাহ তিনটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর তালিকা এ তিনটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বিভিন্ন হাদীসে আরো কতিপয় কাজকে 'কবীরা গুনাহ' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- খাবারে শরীক হওয়ার ভয়ে বা ভরণ পোষণের ভয়ে নিজ সন্তানকে হত্যা করা, প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে যিনা করা প্রভৃতি।
কবীরা গুনাহের সংজ্ঞা: গুনাহ দু'প্রকার। ১. কবীরা, ২. সগীরা। শরীয়তে যে পাপ কাজের জন্য কোন শাস্তির বিধান রয়েছে, তা করা কবীরা বা বড় গুনাহ। কেউ কেউ বলেন, কুরআন হাদীসে যে গুনাহ সম্পর্কে কঠোর ধমকি দেয়া হয়েছে- যদিও শাস্তির কথা বলা হয়নি, সেটি কবীরা।
তিনি কখনো ঠেস দেয়া অবস্থায় খেতেন না:
عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : أَمَّا أَنَا فَلَا أَكُلُ مُتَّكِنًا
১০০. আবু জুহায়ফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, আমি হেলান দিয়ে আহার করি না। ১০১
ব্যাখ্যা: 'আমি হেলান দিয়ে আহার করি না' এ উক্তিটি রাসূলুল্লাহ এ জন্য বলেছেন, মানুষ যেন তাঁর অনুসরণ করে।
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ ، قَالَ : رَأَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ مُتَّكِنَّا عَلَى وِسَادَةٍ
১০১. জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী -কে বালিশের উপর হেলান দেয়া অবস্থায় দেখেছি। ১০২
ব্যাখ্যা: এ হাদীস থেকে বুঝা যায়, আহার ছাড়া অন্য সময় রাসূলুল্লাহ হেলান দিয়ে বসতেন।

টিকাঃ
৯৯ আবু দাউদ, হা/৪১৪৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১০১৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৮৯; মুসনাদে বাযযার, হা/৪২৭২; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১২৬; মিশকাত, হা/৪৭১২।
১০০ সহীহ বুখারী, হা/২৬৫৪; সহীহ মুসলিম, হা/২৬৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২০৪১০; আদাবুল মুফরাদ, হা/১৫; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/২২৯৯।
১০১ মুসনাদুল বাযযার, হা/৪২১৪; সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৬৭০৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/১৩৭০৬; মুজামুল কাবীর, হা/১৭৮০২; ইবনে হিব্বান, হা/৫২৪০।
১০২ আবু দাউদ, হা/৪১৪৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১০১৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১২৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৮৯।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর (বালিশ ছাড়া অন্য কিছুতে) ঠেস দেয়া

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর (বালিশ ছাড়া অন্য কিছুতে) ঠেস দেয়া


عَنْ أَنَسٍ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ شَاكِيًا فَخَرَجَ يَتَوَكَّأُ عَلَى أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ وَعَلَيْهِ ثَوْبٌ قِطْرِيٌّ قَدْ تَوَفَّحَ بِهِ فَصَلَّى بِهِمْ
১০২. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী একবার রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। তখন তিনি উসামা (রাঃ) এর কাঁধে ভর করে বাইরে আসেন। সে সময় তাঁর দেহে একটা ইয়ামানী কাপড় জড়ানো ছিল। তারপর তিনি লোকদের ইমামতি করেন।১০০

টিকাঃ
১০০ মুসনাদে আহমাদ, হা/১৩৭৮৭; মুসনাদুত তায়ালুসী, হা/২২৫৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩০৯২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00