📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর আংটির বিবরণ

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর আংটির বিবরণ


রাসূলুল্লাহ এর আংটিতে আবিসিনীয় পাথর বসানো ছিল:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : كَانَ خَاتَمُ النَّبِيِّ ﷺ مِنْ وَرِقٍ ، وَكَانَ فَقُهُ حَبَشِيًّا
৬৯. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী রূপার আংটি ব্যবহার করতেন। আর তাঁর আংটিতে আবিসিনীয় পাথর বসানো ছিল। ৭১
রাসূলুল্লাহ সীল মারার জন্য আংটিটি তৈরি করেছিলেন:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ هُ قَالَ : لَمَّا أَرَادَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَنْ يَكْتُبَ إِلَى الْعَجَمِ قِيلَ لَهُ : إِنَّ الْعَجَمَ لَا يَقْبَلُونَ إِلَّا كِتَابًا عَلَيْهِ خَاتَمْ ، فَاصْطَنَعَ خَاتَمًا فَكَانِي أَنْظُرُ إِلَى بَيَاضِهِ فِي كَفِهِ
৭১. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ যখন অনারব রাজা-বাদশাহদের কাছে দাওয়াতপত্র প্রেরণের সংকল্প (ইচ্ছা) করেন তখন তাঁকে জানিয়ে দেয়া হয় যে, তারা সীল ছাড়া চিঠি গ্রহণ করে না। তাই তিনি একটি আংটি তৈরি করান। তাঁর হাতের নিচে রাখা আংটিটির ঔজ্জ্বল্য যেন আজও আমার চোখের সামনে ভাসছে।৭৩
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ প্রথমত কোন আংটি তৈরি করেননি। কিন্তু যখন অবগত হলেন বিভিন্ন রাজা-বাদশাহগণ সীল-মোহর ছাড়া চিঠিপত্রের মূল্যায়ন করেন না, তাই রাসূলুল্লাহ দীনের দাওয়াত দিয়ে চিঠি প্রেরণের জন্য আংটি তৈরি করেন।
হাদীস থেকে প্রতিয়মান হয় যে, চিঠিপত্রের মাধ্যমে দীনের দাওয়াত দেয়াও সুন্নত। সুলায়মান (আঃ) সর্বপ্রথম চিঠির মাধ্যমে সাবার রাণী বিলকীসকে দাওয়াত দিয়েছিলেন।
আংটিটিতে 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' অংকিত ছিল:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : كَانَ نَقْشُ خَاتَمِ رَسُولِ اللهِ ﷺ : مُحَمَّدٌ سَطْرٌ ، وَرَسُولٌ سَطْرٌ ، وَاللَّهُ سَطْرٌ
৭২. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর আংটিতে 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' অংকিত ছিল। 'মুহাম্মাদ' এক লাইনে, 'রাসূল' এক লাইনে এবং 'আল্লাহ' এক লাইনে। ৭৪
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ه . أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَتَبَ إِلَى كِسْرَى وَقَيْصَرَ وَالنَّجَاشِيِّ ، فَقِيلَ لَهُ : إِنَّهُمْ لَا يَقْبَلُونَ كِتَابًا إِلَّا بِخَاتَمٍ فَصَاغَ رَسُولُ اللهِ ﷺ خَاتَمًا حَلْقَتُهُ فِضَّةٌ ، وَنُقِشَ فِيْهِ : مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ
৭৩. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী পারস্য সম্রাট কিসরা, রোম সম্রাট কায়সার এবং আবিসিনীয় বাদশাহ নাজ্জাশীর নিকট (ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দিয়ে) চিঠি লেখার ইচ্ছে পোষণ করেন। তখন তাঁকে জানানো হলো যে, তারা সীল-মোহর ছাড়া চিঠি গ্রহণ করেন না। এরপর রাসূলুল্লাহ একটি আংটি তৈরি করান, যার বৃত্তটি ছিল রৌপ্যের। আর তিনি ঐ আংটিতে 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' অংকিত করান। ৭৫
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ যেসব বাদশাহর নামে চিঠি পাঠিয়েছেন: রাসূলুল্লাহ যেসব রাজা-বাদশাহ ও শাসকদের নামে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে চিঠি প্রেরণ করেন তাদের কয়েকজনের তালিকা নিম্নে দেয়া হলো:
১. রোমের সম্রাট হিরাক্লিয়াস : সাহাবী দিহইয়া কালবী (রাঃ) তার কাছে চিঠি নিয়ে যান। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নবুওয়াতের প্রতি তার বিশ্বাস থাকার পরও তিনি ঈমান আনেননি। তবে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর চিঠির কোন অবমাননাও করেননি।
২. পারস্যের সম্রাট পারভেজ : আবদুল্লাহ ইবনে হুযাফা আস-সাহমী (রাঃ) তার কাছে চিঠি নিয়ে যান। পাপী পারভেজ রাসূলুল্লাহ ﷺ এর চিঠি ছিঁড়ে টুকরা টুকরা করে ফেলে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বদ দু'আর ফলে তার রাজ্যও ভেঙ্গে টুকরা টুকরা হয়ে যায়।
৩. আবিসিনিয়ার অধিপতি নাজ্জাশী : এ চিঠির বাহক সাহাবী আমর ইবনে উমাইয়া (রাঃ)। যে নাজ্জাশী হাবশায় মুসলমানদেরকে স্থান দিয়েছিলেন তাঁর নাম আমবাসা। ষষ্ঠ হিজরী সনে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নবম হিজরী সনে মারা যান। মদিনায় রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর গায়েবানা জানাযা আদায় করেন।
৪. মিশরের রাজা মুকাওকিস : তার কাছে চিঠি নিয়ে যান হাতিব ইবনে আবী বালতা'আ। তিনি ইসলাম কবুল করেননি। তবে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট হাদিয়া প্রেরণ করেন।
৫. বাহরাইনের রাজা মুনযির ইবনে সাদী: আলা ইবনে হাযরাম (রাঃ) তার কাছে চিঠি নিয়ে যান। তিনি ইসলাম কবুল করেন এবং ইসলামী খিলাফাতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান।
৬. আম্মানের রাজা: সে সময় আম্মানে ছিল দু'জন বাদশাহ। রাসূলুল্লাহ ﷺ আমর ইবনে আস (রাঃ) এর মাধ্যমে তাদের কাছে চিঠি প্রেরণ করেন। চিঠি পেয়ে তাঁরা উভয়েই ইসলাম গ্রহণ করেন।
আংটিটি পর্যায়ক্রমে খলীফাগণ ব্যবহার করেন এবং উসমান (রাঃ) এর হাত থেকে তা একটি কূপে পড়ে যায়:
عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ : اتَّخَذَ رَسُولُ اللهِ ﷺ خَاتَمًا مِنْ وَرِقٍ ، فَكَانَ فِي يَدِهِ ثُمَّ كَانَ فِي يَدِ أَبِي بَكْرٍ ، وَيَدِ عُمَرَ ثُمَّ كَانَ فِي يَدِ عُثْمَانَ ، حَتَّى وَقَعَ فِي بِئْرِ آرِيسٍ نَقْشُهُ : مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ
৭৪. ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ একটি রূপার আংটি তৈরি করান। সর্বদা তা তাঁর হাতে থাকত। তারপর তা পালাক্রমে আবু বকর (রাঃ) উমর (রাঃ) এর হাতে আসে। এরপর উসমান (রাঃ) এর হাত থেকে (মু'আয়কিবের সাথে লেনদেনের সময়) তা আরীস নামক কূপে পড়ে যায়। তাতে 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' অংকিত ছিল। ৭৬
ব্যাখ্যা: এ কূপটি মসজিদে কুবার নিকটস্থ একটি খেজুর বাগানে অবস্থিত ছিল। সিরীয় ভাষাতে 'আরীস' অর্থ কৃষক। আরীস নামক একজন ইয়াহুদির নাম অনুপাতে ঐ কূপের নামকরণ করা হয়েছিল 'বি'রে আরীস' বা আরীসের কূপ।

টিকাঃ
৭১ আবু দাউদ, হা/৪২১৮
৭২ নাসাঈ, হা/৫২১৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/৫৩৬৬।
৭৩ সহীহ মুসলিম, হা/৫৬০২; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হা/৩০৭৫।
৭৪ সহীহ বুখারী, হা/৫৮৭৮; ইবনে হিব্বান, হা/১৪১৪।
৭৫ সহীহ মুসলিম, হা/৫৬০৩।
৭৬ সহীহ বুখারী, হা/৫৮৭৩; সহীহ মুসলিম, হা/৫৫৯৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/৪৭৩৪; সুনানে কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৭৮১৪।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 নবী ﷺ ডান হাতে আংটি পরিধান করতেন

📄 নবী ﷺ ডান হাতে আংটি পরিধান করতেন


রাসূলুল্লাহ ﷺ আংটি ডান ও বাম হাতে পরিধান করতেন- এ সম্পর্কে উভয় ধরনের হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম বুখারী (রহঃ) ও ইমাম তিরযিমী (রহঃ) এর মতে ডান হাতে আংটি পরিধান করার হাদীস প্রাধান্যযোগ্য। তবে এ অধ্যায়ে ইমাম তিরমিযীর শিরোণাম থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায়, তিনি ডান হাতে পরিধান করার হাদীসসমূহকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
নবী ﷺ ডান হাতে আংটি পরিধান করতেন:
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ لَهُ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ يَلْبَسُ خَاتَمَهُ فِي يَمِينِهِ
৭৫. আলী ইবনে আবু তালেব (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী ﷺ ডান হাতে আংটি পরিধান করতেন। ৭৭
সাহাবীগণও তাঁর অনুসরণে ডান হাতে আংটি পরিধান করতেন:
عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ ، قَالَ : رَأَيْتُ ابْنَ أَبِي رَافِعٍ ، يَتَخَتَّمُ فِي يَمِينِهِ فَسَأَلْتُهُ عَنْ ذُلِكَ فَقَالَ : رَأَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جَعْفَرٍ يَتَخَتَّمُ فِي يَمِينِهِ ، وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَتَخَتَمُ فِي يَمِينِهِ
৭৬. হাম্মাদ ইবনে সালামা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু রাফি'কে ডান হাতে আংটি পরিধান করতে দেখে কারণ জিজ্ঞেস করলাম। জবাবে তিনি বললেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে জাফরকে ডান হাতে আংটি পরিধান করতে দেখেছি। আর আবদুল্লাহ ইবনে জাফর (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে ডান হাতে আংটি পরিধান করতে দেখেছেন। ৭৮
عَنِ الصَّلَتِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ : كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ ، يَتَخَتَمُ فِي يَمِينِهِ وَلَا إِخَالُهُ إِلَّا قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَتَخَتَمُ فِي يَمِينِهِ
৭৭. সালত ইবনে আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস (রাঃ) তাঁর ডান হাতে আংটি পরিধান করতেন। আমার যতদূর মনে পড়ে তিনি শুধু বলেছিলেন, রাসূলুল্লাহ ডান হাতে আংটি পরিধান করতেন।
রাসূলুল্লাহ এর আংটির পাথরটি হাতের তালুর দিকে সন্নিহিত করে রাখতেন :
عَنِ ابْنِ عُمَرَ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ اِتَّخَذَ خَاتَمًا مِنْ فِضَّةٍ ، وَجَعَلَ فَضَةً مِمَّا يَلِي كَفَّهُ ، وَنَقَشَ فِيْهِ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللهِ ، وَنَهَى أَنْ يَنْقُشَ أَحَدٌ عَلَيْهِ وَهُوَ الَّذِي سَقَطَ مِنْ مُعَيُقِيبٍ فِي بِثْرِ أَرِيسٍ
৭৮. ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ একটি রৌপ্যের আংটি তৈরি করান, যার পাথর স্থাপিত দিকটি তাঁর হাতের তালুর দিকে সন্নিহিত করে রাখেন। এ আংটিতে তিনি 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' অংকিত করান। তবে অন্য কাউকে তা অংকিত করার ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ঐ আংটিটি মু'আয়কীবের হাত থেকে আরীস কূপে পড়ে যায়। ১৭৯
হাসান ও হুসাইন (রাঃ) বাম হাতে আংটি পরিধান করতেন :
عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ ، عَنْ أَبِيْهِ قَالَ : كَانَ الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ يَتَخَتَمَانِ فِي يَسَارِهِمَا
৭৯. জাফর ইবনে মুহাম্মাদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তাঁর পিতার হতে বর্ণনা করেন যে, হাসান ও হুসাইন (রাঃ) বাম হাতে আংটি পরিধান করতেন।৮০
স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করা যাবে না :
عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ : اتَّخَذَ رَسُولُ اللهِ ﷺ خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ ، فَكَانَ يَلْبَسُهُ فِي يَمِينِهِ . فَاتَّخَذَ النَّاسُ خَوَا تِيمَ مِنْ ذَهَبٍ فَطَرَحَهُ وَقَالَ : لَا الْبَسُةَ أَبَدًا فَطَرَحَ النَّاسُ خَوَاتِيْمَهُمْ
৮০. ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ একটি স্বর্ণের আংটি তৈরি করান। তিনি তা ডান হাতে পরিধান করতেন। সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)ও তাঁর দেখাদেখি স্বর্ণের আংটি তৈরি করান। এক পর্যায়ে তিনি স্বর্ণের আংটিটি খুলে ফেলেন এবং বলেন, আমি কখনো তা পরিধান করব না। অতঃপর সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)ও তাঁদের আংটি খুলে ফেলেন।১
ব্যাখ্যা: ইসলামের প্রাথমিক যুগে স্বর্ণের ব্যবহার বৈধ ছিল। এজন্য রাসূলুল্লাহ প্রথমে স্বর্ণের আংটি তৈরি করান এবং পরিধান করেন। অতঃপর সাহাবীগণও তাঁর অনুসরণে স্বর্ণের আংটি তৈরি করান। যখন স্বর্ণের ব্যবহার পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ হয়, রাসূলুল্লাহ তখন সে আংটিটি খুলে ফেলেন এবং সাহাবীগণও খুলে ফেলেন।

টিকাঃ
৭৭ আবু দাউদ, হা/৪২২৮: সুনানে নাসাঈ, হা/৫২০৩; সুনানে কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৯৪৫৮; ইবনে হিব্বান, হা/৫৫০১।
৭৮ মুসনাদে আহমাদ, হা/১৭৪৬; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১৪২।
১৭৯ সহীহ মুসলিম, হা/৫৫৯৮; মুস্তাখরাজে আবু 'আওয়ানা, হা/৬৯৮৬; শারহুস সুন্নাহ, হা/১৩৩৩; মুসনাদে হুমায়দী, হা/৭০৯।
৮০ মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/২৫৬৭৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১৪৭।
৮১ শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১২৯।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর তরবারির বিবরণ

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর তরবারির বিবরণ


রাসূলুল্লাহ সবসময় যে তরবারি ব্যবহার করতেন, তার নাম ছিল যুলফিকার বা যুলফাকার। এ ছাড়াও রাসূলুল্লাহ এর আরো কয়েকটি তরবারি ছিল। সেগুলো হলো, ১. আল মাসূর (উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত)।৮২ ২. আল কাযীব (মারাত্মক ধারাল)। ৩. আল বাত্তার (সর্বাধিক কর্তনকারী)। ৪. আল লাহীফ (বেষ্টনকারী)।
عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ : كَانَتْ قَبِيعَةُ سَيْفِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مِنْ فِضَّةٍ
৮১. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর তরবারির বাটের অগ্রভাগ ছিল রৌপ্যের দ্বারা তৈরিকৃত।৮৩
ব্যাখ্যা: উল্লেখিত তরবারিটি ছিল যুলফিকার। মক্কা বিজয়ের দিন এটা রাসূলুল্লাহ এর সাথে ছিল।

টিকাঃ
৮২ এটি তিনি পিতার উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেন। এ তরবারিটি তাঁর প্রথম তরবারি ছিল।
৮৩ আবু দাউদ, হা/২৫৮৫: সুনানে কুবরা লিল বায়হাকী, হা/৭৮২০।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর যুদ্ধের পোশাকের বিবরণ

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর যুদ্ধের পোশাকের বিবরণ


بَابُ مَا جَاءَ فِي صِفَةِ دِرْعِ رَسُولِ اللهِ ﷺ
অধ্যায়- ১৫: রাসূলুল্লাহ এর যুদ্ধের পোশাকের বিবরণ

রাসূলুল্লাহ এর যুগে যুদ্ধের পোশাক বলতে লৌহবর্মকেই বুঝানো হতো। লৌহবর্ম হচ্ছে, এক ধরনের লোহার জামা, যা তরবারির ও তীরের আঘাত থেকে বাঁচার জন্য যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে এগুলো অনেক যাদুঘরেই সচরাচর দেখতে পাওয়া যায়।

عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ ﷺ قَالَ : كَانَ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ يَوْمَ أُحُدٍ دِرْعَانِ ، فَنَهَضَ إِلَى الصَّخْرَةِ فَلَمْ يَسْتَطِعْ ، فَأَقْعَدَ طَلْحَةَ تَحْتَهُ ، وَصَعِدَ النَّبِيُّ ﷺ حَتَّى اسْتَوَى عَلَى الصَّخْرَةِ قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُولُ : أَوْجَبَ طَلْحَةُ

৮২. যুবায়ের ইবনে আওয়াম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন নবী ﷺ দুটি লৌহবর্ম পরিহিত ছিলেন। তিনি পর্বত শৃঙ্গে উঠতে চাইলেন কিন্তু (মারাত্মক জখম হওয়ায়) তা পারলেন না। তাই তিনি তালহা (রাঃ) এর উপর ভর করে পর্বত শৃঙ্গে উঠলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় আমি নবী ﷺ-কে বলতে শুনেছি, তালহা (আমার শাফায়াত অথবা জান্নাত) ওয়াজিব করে নিল।

ব্যাখ্যা: তালহা (রাঃ) এর উহুদ যুদ্ধে অসাধারণ আত্মত্যাগে সন্তুষ্ট হয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, তালহা এমন কাজ করল, যার দ্বারা তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেল। সে কাজটি ছিল এই যে, তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে পাথরে উঠতে সহায়তা করে ছত্রভঙ্গ মুসলমানদেরকে একত্র করার সুযোগ করে দিলেন। তাছাড়া তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে শত্রুদের আঘাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে শত্রুর তীরের আঘাতে জর্জরিত হন। তাঁর শরীরে আশিটিরও বেশি আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর একটি হাতও অবশ হয়ে যায়।

عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ ﷺ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ عَلَيْهِ يَوْمَ أُحُدٍ دِرْعَانِ ، قَدْ ظَاهَرَ بَيْنَهُمَا

৮৩. সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর দেহে দুটি লৌহবর্ম ছিল। তিনি ঐ দুটির একটিকে অপরটির উপর পরিধান করেছিলেন।

টিকাঃ
⁸⁴ সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৯৭৯; মুসনাদুল বাযযার, হা/৩৭২; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৫৬০২; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৯৪৫; মিশকাত, হা/৬১১২।
⁸⁵ ইবনে মাজাহ, হা/২৮০৬; শারহুস সুন্নাহ, হা/২৬৫৮; মিশকাত, হা/৩৮৮৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00