📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর মাথার চুল বিন্যাস করা
بَابُ مَا جَاءَ فِي تَرَجُلِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ
অধ্যায়-৪: রাসূলুল্লাহ এর মাথার চুল বিন্যাস করা
রাসূলুল্লাহ মাথার কেশ পরিপাটি করতেন:
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كُنْتُ أُرَجِلُ رَأْسَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَأَنَا حَائِضٌ
২৭. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হায়েয (ঋতুবতী) অবস্থায় রাসূলুল্লাহ এর মাথার কেশ পরিপাটি করতাম।
তিনি ডান দিক থেকে কেশ বিন্যাস করতেন:
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : إِنْ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَيُحِبُّ التَّيَمَنَ فِي ظُهُورِهِ إِذَا تَطَهَّرَ ، وَفِي تَرَجُلِهِ إِذَا تَرَجَّلَ ، وَفِي انْتِعَالِهِ إِذَا انْتَعَلَ
২৮. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ যখন ওযু করতেন তখন ডান দিক থেকে শুরু করতেন, কেশ বিন্যাস ও জুতা পরিধানের কাজও ডান দিক থেকে আরম্ভ করতেন।
ব্যাখ্যা: হাদীসে উল্লেখিত বিষয়গুলোই নয়; বরং যেসব কাজে সৌন্দর্য ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, সেসব কাজ ডান দিকে হতে আরম্ভ করা মুস্তাহাব। যেমন- জামা বা মোজা পরিধান করার সময় ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দনীয়। কারণ এর দ্বারা সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। এমনিভাবে মসজিদে প্রবেশ করার সময় ডান পা প্রথমে দেবে। কারণ মসজিদে প্রবেশ করা মর্যাদার বিষয়। আর যেসব কাজে সৌন্দর্য ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায় না, সেসব কাজ বাম দিক থেকে আরম্ভ করা মুস্তাহাব। যেমন- পায়খানায় প্রবেশের সময় বাম পা আগে দেয়া, কাপড় ও জুতা খোলার সময় বাম পার্শ্ব হতে খুলা আরম্ভ করা এবং মসজিদ হতে বের হওয়ার সময় বাম পা আগে বের করা। আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মূলনীতি হিসেবে গণ্য হবে।
তিনি প্রত্যহ কেশ বিন্যাস করতে নিষেধ করেছেন:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُغَفَّلٍ له . قَالَ : نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنِ التَّرَجُلِ إِلَّا غِيًّا
২৯. আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ প্রত্যহ (বারবার) কেশ বিন্যাস করতে নিষেধ করেছেন।
টিকাঃ
²⁷ মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/১৩৩; সহীহ বুখারী, হা/২৯৫; নাসাঈ, হা/২৭৭; মু'জামুল আওসাত, হা/২০৬৬; দারেমী, হা/১০৫৮; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/১৩৫৯; মিশকাত, হা/৪৪১৯।
²⁸ সহীহ মুসলিম, হা/৬৩৯; ইবনে মাজাহ, হা/৪০১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৭০৫; মুসনাদে আবু ই'আলা, হা/৪৮৫১।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর বার্ধক্য (চুল সাদা হওয়া)
ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ প্রতিদিন চুল আঁচড়াতে নিষেধ করেছেন। তিনি কখনো প্রয়োজনে বারবার চুল আঁচড়াতেন। আবার কখনো প্রয়োজন মনে না করলে আঁচড়াতেন না। মোটকথা মাথা আঁচড়ানোর ক্ষেত্রে করণীয় হলো মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা।
بَابُ مَا جَاءَ فِي شَيْبٍ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ
অধ্যায়- ৫: রাসূলুল্লাহ এর বার্ধক্য (চুল সাদা হওয়া)
রাসূলুল্লাহ এর চোখ ও দু'কানের মধ্যবর্তী অংশের কিছু চুল সাদা হয়েছিল:
عَنْ قَتَادَةَ قَالَ : قُلْتُ لِأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ له : هَلْ خَضَبَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ؟ قَالَ : لَمْ يَبْلُغُ ذَلِكَ . إِنَّمَا كَانَ شَيْبًا فِي صُدْ غَيْهِ وَلَكِنْ أَبُو بَكْرٍ ، خَضَبَ بِالْحِنَّاءِ وَالْكَتَمِ
৩০. কাতাদা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ কি খিযাব ব্যবহার করতেন? তিনি বললেন, তিনি ঐ পর্যন্ত পৌঁছেন নি। (তাঁর দাঁড়ি ও চুল এতদূর সাদা হয়নি, যাতে খেযাবের প্রয়োজন হয়)। কেবলমাত্র তাঁর চোখ ও দু'কানের মধ্যবর্তী অংশের কিছু চুল সাদা হয়েছিল। তবে আবু বকর (রাঃ) মেহেদী পাতা ও কাতাম দ্বারা খিযাব লাগাতেন।
তাঁর মাথা ও দাড়িতে মাত্র ১৪টি সাদা চুল ছিল:
عَنْ أَنَسٍ قَالَ : مَا عَدَدْتُ فِي رَأْسِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَلِحْيَتِهِ إِلَّا أَرْبَعَ عَشْرَةً شَعْرَةٌ بَيْضَاءَ
৩১. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ এর মাথা ও দাড়িতে মাত্র ১৪টি সাদা চুল গণনা করেছি।
ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ এর অতি স্বল্প পরিমাণ সাদা চুল ছিল। তবে এর পরিমাণ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এ হাদীসে ১৪টির কথা বলা হয়েছে। আর কোন বর্ণনায় ১৭টি, কোন বর্ণনায় ১৮টি, আবার কোন বর্ণনায় ২০টির কথা উল্লেখ রয়েছে। আসলে এসব বর্ণনাতে কোন বৈপরিত্য নেই। কারণ
টিকাঃ
²⁹ আবু দাউদ, হা/৪১৬১; নাসাঈ, হা/৫০৫৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৮৩৯; মু'জামুল কাবীর, হা/১৬৬৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৪৮৪; জামেউস সগীর, হা/১২৮২৬; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৫০১; মিশকাত, হা/৪৪৪৮।
** কাতাম এক ধরণের সবুজ রঙের উদ্ভিদ। এটা দ্বারা খিযাব তৈরি করা হয়।
³¹ সহীহ মুসলিম, হা/৬২১৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৮৫১; মুসনাদুল বাযযার, হা/৬৭৮৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১৭৬; মুসনাদে আবু ই'আলা, হা/২৮৯৩।
³² মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৭১৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬৫৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬২৯৩; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা/২০১৮৫।
প্রত্যেকটি বর্ণনা আলাদা সময়ের সাথে অথবা বিভিন্ন জনের গণনার পার্থক্যের কারণে এ বৈপরিত্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রত্যেক রিওয়ায়াতের উদ্দেশ্য হলো রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাদা চুল স্বল্প ছিল, এটাই বুঝানো।
মাথায় তৈল ব্যবহার করলে সাদা চুল দেখা যেত না :
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ ، وَقَدْ سُئِلَ عَنْ شَيْبِ رَسُولِ اللهِ ﷺ ، فَقَالَ : كَانَ إِذَا دَهَنَ رَأْسَهُ لَمْ يُرَ مِنْهُ شَيْبٌ ، وَإِذَا لَمْ يَدْهِنُ رُبِّي مِنْهُ
৩২. জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা তাকে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাদা চুল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তখন তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন তাঁর মাথায় তৈল ব্যবহার করতেন তখন সাদা চুল দেখা যেত না। পক্ষান্তরে তৈল ব্যবহার না করলে কয়েক গাছি চুল সাদা হয়েছে বলে মনে হতো।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ : إِنَّمَا كَانَ شَيْبٌ رَسُولِ اللهِ ﷺ نَحْوًا مِنْ عِشْرِينَ شَعْرَةً بَيْضَاءَ
৩৩. আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাদা চুলের সংখ্যা ছিল ২০ এর কাছাকাছি।
কায়েকটি সূরার প্রভাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর চুল সাদা হয়ে গিয়েছিল :
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : قَالَ أَبُو بَكْرٍ : يَا رَسُولَ اللهِ ، قَدْ شِبْتَ . قَالَ : شَيَّبَتْنِي هُودٌ . وَالْوَاقِعَةُ وَالْمُرْسَلَاتُ ، وَعَمَّ يَتَسَاءَلُونَ ، وَإِذَا الشَّمْسُ كُورَتُ
৩৪. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু বকর (রাঃ) আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার চুল তো সাদা হয়ে গিয়েছে। আপনি বার্ধক্যে পৌঁছে গেছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, সূরা হূদ, ওয়াক্বিয়া, মুরসালাত, আম্মা ইয়াতাসা-আলুন, ইযাশ-শামসু কুভভিরাত আমাকে বৃদ্ধ বানিয়ে দিয়েছে।
عَنْ أَبِي جُحَيْفَةً ، قَالَ : قَالُوا : يَا رَسُوْلَ اللهِ . نَرَاكَ قَدْ شِبْتَ ، قَالَ : قَدْ شَيْبَتْنِي هُودٌ وَأَخَوَاتُهَا
৩৫. আবু জুহাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার বয়োবৃদ্ধ হওয়ার স্পষ্ট নিদর্শন লক্ষ্য করছি। তিনি বললেন, হুদ এবং তদানুরূপ সূরাগুলো আমাকে বার্ধক্যে উপণীত করেছে।
টিকাঃ
³⁰ সহীহ মুসলিম, হা/৬২২৯: সুনানুল কাবীর লিন নাসাঈ, হা/৯৩৪৫।
³⁴ ইবনে মাজাহ, হা/৩৬৩০; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬২৬৪।
³⁵ মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৩৩১৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/৪১৭৫; জামেউস সগীর, হা/৬০৩৬; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৯৫৫।
³⁶ মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৭৭৭৪: মুসনাদে আবু ই'আলা, হা/৮৮০; মিশকাত, হা/৫৩৫৩।
ব্যাখ্যা: اتُهَا-এর দ্বারা ঐসব সূরা উদ্দেশ্য, যাতে কিয়ামত, জাহান্নাম প্রভৃতি ভীতিপ্রদর্শন বিষয়ক আলোচনা করা হয়েছে।
তাঁর চুল সাদা হলেও লাল মনে হতো:
عَنْ أَبِي رِمْئَةَ التَّيْمِيِّ ، قَالَ : أَتَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ وَمَعِي ابْن لِي ، قَالَ : فَأَرَيْتُهُ ، فَقُلْتُ لَمَّا رَأَيْتُهُ : هُذَا نَبِيُّ اللَّهِ ﷺ وَعَلَيْهِ ثَوْبَانِ أَخْضَرَانِ ، وَلَهُ شَعْرٌ قَدْ عَلَاهُ الشَّيْبُ ، وَشَيْبُهُ أَحْمَرُ
৩৬. তায়মুর রাবাব গোত্রের আবু রিমছা আত-তায়মী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি আমার ছেলেকে নিয়ে নবী এর কাছে এলাম। তিনি বললেন, আমার ছেলেকে তাঁকে দেখালাম। তারপর যখন তাঁকে দেখলাম তখন বললাম, ইনি আল্লাহর নবী। সে সময় তাঁর পরনে ২টি সবুজ রঙের কাপড় ছিল। তাঁর চুল সাদা দেখা যাচ্ছিল কিন্তু মনে হচ্ছিল লাল।
রাসূলুল্লাহ এর সিঁথি কাটার স্থানে কয়েকটি চুল সাদা ছিল:
عَنْ سِمَاءِ بْنِ حَرْبٍ قَالَ : قِيلَ لِجَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ : أَكَانَ فِي رَأْسِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ شَيْبٌ ؟ قَالَ : لَمْ يَكُنْ فِي رَأْسِ رَسُولِ اللهِ ﷺ شَيْبٌ إِلَّا شَعَرَاتٌ فِي مَفْرِقِ رَأْسِهِ ، إِذَا إِذَهَنَ وَارَاهُنَّ الدُّهْنُ
৩৭. সিমাক ইবনে হারব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, রাসূলুল্লাহ এর মাথায় সাদা (পাকা) চুল ছিল কি? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর সিঁথি কাটার স্থানে কেবল কয়েকটি সাদা চুল শোভা পাচ্ছিল। এ চুলগুলোতে তৈল ব্যবহার করা হলে সাদা ঢেকে যেত।
টিকাঃ
³⁷ মুসনাদে আহমাদ, হা/৭১১১; মু'জামুল কাবীর, হা/১৮১৭৬; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৪২০৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩০৯১; মিশকাত, হা/৪৩৫৯।
* মুসনাদে আহমাদ, হা/২১০৩০; মু'জামুল কাবীর, হা/১৯৩০।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর খিযাব লাগানো
بَابُ مَا جَاءَ فِي خِضَابِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ
অধ্যায়- ৬: রাসূলুল্লাহ এর খিযাব লাগানো
খিযাব (خِضَابِ) পরিচিতি: এটা আরবী শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ, রন্ধন বা রং করার পদার্থ, যার দ্বারা রং করা হয়। আর শব্দটির ক্রিয়ামূল হিসেবে অর্থ করলে অর্থ হবে রং করা। পরিভাষায় মেহেদী কিংবা কোন প্রকার উদ্ভিদ, যা দ্বারা দাড়ি-চুল রঙ্গিন করাকে বুঝায়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ খিযাব ব্যবহার করতেন:
عَنْ أَبِي رِمْثَةَ ﷺ قَالَ : أَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ مَعَ ابْنِ لِي ، فَقَالَ : ابْنُكَ هَذَا ؟ فَقُلْتُ : نَعَمْ أَشْهَدُ بِهِ ، قَالَ : لَا يَجْنِي عَلَيْكَ ، وَلَا تَجْنِي عَلَيْهِ قَالَ : وَرَأَيْتُ الشَّيْبَ أَحْمَرَ
৩৮. আবু রিমসা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার আমার ছেলেকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে এলাম। তিনি তখন জিজ্ঞেস করলেন, এ ছেলেটি কি তোমার? আমি বললাম, জি- হ্যাঁ। আপনি যদি এর সাক্ষী থাকতেন! তিনি বললেন, সে অপরাধ করলে তা তোমার উপর বর্তাবে না এবং তুমি অপরাধ করলে তার উপর বর্তাবে না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি তাঁর কেশ লাল দেখলাম।
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ مَوْهَبٍ قَالَ : سُئِلَ أَبُو هُرَيْرَةَ : هَلْ خَضَبَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ؟ قَالَ : نَعَمْ
৩৯. উসমান ইবনে মাওহাব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আবু হুরায়রা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ কি খিযাব ব্যবহার করতেন? তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ।
عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ : رَأَيْتُ شَعْرَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مَخْضُوبًا
৪০. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মাথার চুল খিযাবকৃত দেখেছি।
ব্যাখ্যা: কালো খিযাব ব্যবহার করা জায়েয নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, শেষ যামানায় এমন লোক পাওয়া যাবে, যারা কালো খিযাব বা কলপ ব্যবহার করবে। তারা জান্নাতের সুঘ্রানও পাবে না।
টিকাঃ
³⁹ মুসনাদে আহমাদ, হা/৭১১৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬৫৭।
⁴⁰ তাহযীবুল আছার, হা/৯১৩।
⁴¹ আবু দাউদ, হা/৪২১৪; নাসাঈ, হা/৫০৭৫।
📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর সুরমা ব্যবহার
بَابُ مَا جَاءَ فِي كُحْلِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ
অধ্যায়- ৭: রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সুরমা ব্যবহার
রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রত্যেক রাতে উভয় চোখে তিনবার করে সুরমা লাগাতেন:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ : اكْتَحِلُوا بِالْإِثْمِدِ فَإِنَّهُ يَجْلُو الْبَصَرَ ، وَيُنْبِتُ الشَّعْرَ. وَزَعَمَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَتْ لَهُ مُكْحُلَةٌ يَكْتَحِلُ مِنْهَا كُلَّ لَيْلَةٍ ثَلَاثَةٌ فِي هَذِهِ ، وَثَلَاثَةٌ فِي هَذِهِ
৪১. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী বলেছেন, তোমরা 'ইছমিদ' সুরমা ব্যবহার করো। কারণ, তা চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করে ও পরিষ্কার রাখে এবং অধিক ভ্রু উৎপন্ন করে (ভ্রু উদগত হয়)। ইবনে আব্বাস (রাঃ) আরো বলেন, নবী এর একটি সুরমাদানী ছিল। প্রত্যেক রাত্রে (ঘুমানোর পূর্বে) ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে তিনবার সুরমা লাগাতেন।
ব্যাখ্যা: সুরমা ব্যবহারের হুকুম ও পদ্ধতি:
নারী-পুরুষ সকলের জন্য চোখে সুরমা লাগানো ভালো। তবে সওয়াবের নিয়তে সুরমা লাগানো উচিত, যাতে চোখের উপকারের সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ এর সুন্নতের অনুসরণের সওয়াবও লাভ হয়। অত্র হাদীসে সুরমা ব্যবহারের তিনটি উপকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা বর্তমান বিজ্ঞানে হুবহু প্রমাণিত। এছাড়াও গবেষণায় আরো উপকারিতা পাওয়া গেছে সেগুলো হলো:
১. সর্বধরনের ছোঁয়াচে রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে।
২. চোখের প্রবেশকৃত ধূলাবালী নিঃসরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে প্রভৃতি।
৩. অত্যন্ত কার্যকরী জীবাণুনাশক।
৪ চোখে জ্বালাপোড়া খুব কম হয়।
তিনি সাহাবীদেরকে ইছমিদ সুরমা ব্যবহারের জন্য উপদেশ দিয়েছেন:
عَنْ جَابِرٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : عَلَيْكُمْ بِالْإِثْمِدِ عِنْدَ النَّوْمِ ، فَإِنَّهُ يَجْلُو الْبَصَرَ . وَيُنْبِتُ الشَّعْرَ
৪২. জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, তোমরা শোয়ার সময় অবশ্যই 'ইছমিদ' সুরমা ব্যবহার করবে। কারণ, তা চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করে এবং এর ফলে অধিক ভ্রূ জন্মায়।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : إِنَّ خَيْرَ الْحَالِكُمُ الْإِثْمِدُ ، يَجْلُو الْبَصَرَ ، وَيُنْبِتُ الشَّعْرَ
৪৩. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, তোমাদের জন্য 'ইছমিদ' সুরমা সর্বোৎকৃষ্ট। কারণ, তা দৃষ্টি বাড়ায় এবং এর ফলে অধিক ভ্রূ জন্মায় (উদগত হয়)।
টিকাঃ
⁴² সুনানুল কুবরা লিল ইমাম বাইহাকী, হা/৮৫১৬।
⁴⁰ ইবনে মাজাহ, হা/৩৪৯৬; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হা/২০৫৮।