📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর মোহরে নবুওয়াত

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর মোহরে নবুওয়াত


بَابُ مَا جَاءَ فِي خَاتَمِ النُّبُوَّةِ
অধ্যায়-২: নবী এর মোহরে নবুওয়াত

এত অর্থ- আংটি, মোহর, সীল। মোহরে নবুওয়াত হলো রাসূলুল্লাহ এর দু'কাঁধের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত একটি গোশতের টুকরা। এটি ছিল রাসূলুল্লাহ এর নবুওয়াতের নিদর্শন; আর এ নিদর্শনের কথা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহেও বর্ণিত ছিল।

নবী এর দু'কাঁধের মধ্যভাগে মোহরে নবুওয়াত ছিল:
عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ يَقُولُ : ذَهَبَتْ بِي خَالَتِي إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَتْ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنَّ ابْنَ أُخْتِي وَجِعٌ ، فَمَسَحَ رَأْسِي وَدَعَا لِي بِالْبَرَكَةِ ، وَتَوَضَّاً ، فَشَرِبْتُ مِنْ وَضُوْلِهِ ، وَقُمْتُ خَلْفَ ظَهْرِهِ ، فَنَظَرْتُ إِلَى الْخَاتَمِ بَيْنَ كَتِفَيْهِ ، فَإِذَا هُوَ مِثْلُ زِرِّ الْحَجَلَةِ

১২. সায়িব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমার খালা আমাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ এর কাছে গেলেন। এরপর তিনি আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার ভাগ্নে অসুস্থ। তখন রাসূলুল্লাহ আমার মাথায় হাত বুলালেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দু'আ করলেন। তারপর তিনি ওযু করলেন। আমি তাঁর ওযূর অবশিষ্ট পানি পান করলাম এবং তাঁর পেছনে গিয়ে দাঁড়ালাম। সহসা তাঁর দু'কাঁধের মধ্যস্থ মোহরে নবুওয়াতের প্রতি আমার দৃষ্টি পড়ে, যা দেখতে পাখির (কবুতরের) ডিমের মতো।

তা ছিল ডিমের ন্যায় লাল গোশতপিণ্ড:
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ ، قَالَ : رَأَيْتُ الْخَاتَمَ بَيْنَ كَتِفَيْ رَسُولِ اللهِ ﷺ غُدَّةً حَمْرَاءَ مِثْلَ بَيْضَةِ الْحَمَامَةِ

১৩. জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ এর দু'কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে মোহরে নবুওয়াত দেখেছি। আর তা যেন ছিল ডিমের ন্যায় লাল গোশতপিণ্ড।

টিকাঃ
¹² সহীহ বুখারী, হা/১৯০; সহীহ মুসলিম, হা/৬২৩৩; মু'জামুল কাবীর, হা/৬৫৪০; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬২২; মিশকাত, হা/৪৭৬।
¹⁰ সহীহ মুসলিম, হা/৬২৩০; মুসনাদে আহমাদ, হা/২১০৩৬; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৪১৯৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৩০১; জামেউস সগীর, হা/৮৯৩৯; মিশকাত, হা/৫৭৭৯।

সাহাবীগণ ইচ্ছে করলে মোহরে নবুওয়াতকে চুম্বন করতে পারতেন:

عَنْ رُمَيْثَةً قَالَتْ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ وَلَوْ أَشَاءُ أَنْ أُقَبِلَ الْخَاتَمَ الَّذِي بَيْنَ كَتِفَيْهِ مِنْ قُرْبِهِ لَفَعَلْتُ ، يَقُولُ لِسَعْدِ بْنِ مُعَادٍ يَوْمَ مَاتَ : اهْتَزَّ لَهُ عَرْشُ الرَّحْمَنِ

১৪. রুমায়সা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, সা'দ ইবনে মুয়ায (রাঃ) এর ওফাতের দিন আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি যে, তাঁর মৃত্যুতে রহমান (আল্লাহ তা'আলা) এর আরশ কেঁপে উঠেছিল। রুমায়ছা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন এ উক্তি করেন তখন আমি তাঁর এত নিকটে ছিলাম যে, ইচ্ছে করলে তাঁর মোহরে নবুওয়াত চুম্বন করতে পারতাম।

সেটি ছিল এক গুচ্ছ কেশের মতো:
عَنْ أَبِي زَيْدٍ عَمْرُو بْنُ أَخْطَبَ الْأَنْصَارِيُّ ، قَالَ : قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ ﷺ : يَا أَبَا زَيْدٍ ، أَدْنُ مِنِّي فَامْسَحُ ظَهْرِي ، فَمَسَحْتُ ظَهْرَهُ فَوَقَعَتْ أَصَابِعِي عَلَى الْخَاتَمِ قُلْتُ : وَمَا الْخَاتَمُ ؟ قَالَ : شَعَرَاتٌ مُجْتَمِعَاتٌ

১৫. আবু যায়েদ আমর বিন আখতাব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বললেন, হে আবু যায়েদ! আমার কাছে এসো এবং আমার পৃষ্ঠদেশে হাত বুলাও। তখন আমি তাঁর পিঠে হাত বুলাতে থাকলাম। এক পর্যায়ে আমার আঙ্গুলগুলো মোহরে নবুওয়াতের উপর লেগে গেল। বর্ণনাকারী আমর বিন আখতাব (রাঃ) কে বললেন, 'খাতাম' (মোহরে নবুওয়াত) কী জিনিস? তিনি বললেন, এক গুচ্ছ কেশ।

সালমান ফারসি (রাঃ) মোহরে নবুওয়াত দেখে ঈমান এনেছিলেন:

عَنْ أَبِي بُرَيْدَةَ اللهِ، يَقُوْلُ : جَاءَ سَلْمَانُ الْفَارِسِيُّ إِلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ حِينَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ بِمَائِدَةٍ عَلَيْهَا رُطَبٌ فَوَضَعَهَا بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللهِ ﷺ ، فَقَالَ : يَا سَلْمَانُ مَا هُذَا ؟ فَقَالَ : صَدَقَةٌ عَلَيْكَ وَعَلَى أَصْحَابِكَ ، فَقَالَ : إِرْفَعُهَا ، فَإِنَّا لَا تَأْكُلُ الصَّدَقَةَ قَالَ : فَرَفَعَهَا ، فَجَاءَ الْغَدَ بِمِثْلِهِ ، فَوَضَعَهُ بَيْنَ يَدَيْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ، فَقَالَ : مَا هَذَا يَا سَلْمَانُ ؟ فَقَالَ : هَدِيَّةٌ لَكَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِأَصْحَابِهِ : أَبْسُطُوا. ثُمَّ نَظَرَ إِلَى الْخَاتَمِ عَلَى ظَهْرِ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَأَمَنَ بِهِ وَكَانَ لِلْيَهُودِ فَاشْتَرَاهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِكَذَا وَكَذَا دِرْهَمَا عَلَى أَنْ يَغْرِسَ لَهُمْ نَخْلًا فَيَعْمَلَ سَلْمَانُ فِيْهِ حَتَّى تُطْعِمَ فَغَرَسَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ النَّحْلَ إِلَّا نَخْلَةٌ وَاحِدَةً غَرَسَهَا عُمَرُ فَحَمَلَتِ النَّخْلُ مِنْ عَامِهَا وَلَمْ تَحْمِلْ نَخْلَةٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَا شَأْنُ هَذِهِ النَّخْلَةِ فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللهِ أَنَا غَرَسْتُهَا فَنَزَعَهَا رَسُولُ اللهِ ﷺ فَغَرَسَهَا فَحَمَلَتْ مِنْ عَامِهَا

টিকাঃ
¹⁴ মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৮৩৬; মু'জামুল কাবীর, হা/২০১৬৫; মা'রেফাতুস সাহাবা, হা/৭০০৫।
* মুসনাদে আহমাদ, হা/২২৯৪০; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৪১৯৮।

১৬. আবু বুরায়দা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর মদিনায় হিজরতের পর একবার সালমান ফারসী (রাঃ) একটি পাত্রে কিছু কাঁচা খেজুর নিয়ে এলেন এবং তিনি তা রাসূলুল্লাহ এর সামনে রাখলেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, হে সালমান! এগুলো কিসের খেজুর? (অর্থাৎ হাদিয়া না সাদাকা?) তিনি বললেন, এগুলো আপনার ও আপনার সাথীদের জন্য সাদাকা। রাসূলুল্লাহ বললেন, এগুলো তুলে নাও। আমরা সাদাকা খাই না। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি তা তুলে নিলেন। পরের দিন তিনি অনুরূপ খেজুর নিয়ে আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ এর সামনে পেশ করেন। তখন তিনি বললেন, সালমান! এসব কিসের খেজুর? সালমান (রাঃ) বললেন, আপনার জন্য হাদিয়া। তখন রাসূলুল্লাহ তাঁর সাহাবীগণকে বললেন, তোমরা হস্ত প্রসারিত করো (হাদিয়া গ্রহণ করো)। এরপর সালমান (রাঃ) রাসূলুল্লাহ এর পৃষ্ঠদেশে মোহরে নবুওয়াত দেখতে পেলেন; অতঃপর ঈমান আনলেন।

(বর্ণনাকারী বলেন) সালমান (রাঃ) জনৈক ইয়াহুদির গোলাম ছিলেন। রাসূলুল্লাহ তাকে এত এত দিরহামের বিনিময়ে এবং এ শর্তে খরিদ করেন যে, সালমান তাঁর ইয়াহুদি মনিবের জন্য একটি খেজুর বাগান করে দেবে এবং তাতে ফল আসা পর্যন্ত তত্ত্বাবধান করতে থাকবে। রাসূলুল্লাহ তাঁর নিজ হাতে একটি চারা ছাড়া সবগুলো রোপণ করলেন এবং একটি চারা গাছ ওমর (রাঃ) রোপণ করেছিলেন। সে বছরই সকল গাছেই খেজুর আসল কিন্তু একটি গাছে খেজুর আসল না। তখন রাসূলুল্লাহ বললেন, এ গাছটির এ অবস্থা কেন? উমর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এটি রোপণ করেছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ ঐ চারাটি উপড়িয়ে আবার রোপণ করলেন। ফলে সে বছরই তাতে খেজুর আসল।

ব্যাখ্যা : إِنَّا لَا تَأْكُلُ الصَّدَقَةَ আমরা সাদাকা ভক্ষণ করি না' এ বাক্যের মধ্যে আমরা দ্বারা রাসূলুল্লাহ এবং তাঁর ঐ সমস্ত আত্মীয়-স্বজনকে বুঝানো হয়েছে, যাদের জন্য সাদাকা খাওয়া হারাম।

এটি ছিল এক টুকরো বাড়তি গোশত:
عَنْ أَبِي نَضْرَةَ الْعَوَقِي قَالَ : سَأَلْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ الله عَنْ خَاتَمِ رَسُوْلِ اللَّهِ ﷺ يَعْنِي خَاتَمَ النُّبُوَّةِ فَقَالَ : كَانَ فِي ظَهْرِهِ بَضْعَةٌ نَاشِرَةٌ

টিকাঃ
¹⁶ মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩০৪৭; শারহুল মা'আনী, হা/২৯৮৬; মুসনাদুল বাযযার, হা/৪৪০৭।

১৭. আবু নজর আওয়াকী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু সা'ঈদ খুদরী (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ এর মোহরে নবুওয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি বললেন, তা ছিল তাঁর পৃষ্ঠদেশের উপর এক টুকরো বাড়তি গোশত।

এটি ছিল মুষ্টিবদ্ধ আঙ্গুলীর ন্যায়, আর এর চারপার্শ্বে আচিলের মতো কতগুলো তিলক ছিল:
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ سَرْجِسَ ةِ قَالَ : أَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ وَهُوَ فِي نَاسٍ مِنْ أَصْحَابِهِ ، فَدُرْتُ هُكَذَا مِنْ خَلْفِهِ ، فَعَرَفَ الَّذِي أُرِيدُ ، فَأَلْقَى الرِّدَاءَ عَنْ ظَهْرِهِ ، فَرَأَيْتُ مَوْضِعَ الْخَاتَمِ عَلَى كَتِفَيْهِ مِثْلَ الْجُمْعِ حَوْلَهَا خِيْلَانٌ كَأَنَّهَا ثَأْلِيلُ . فَرَجَعْتُ حَتَّى اسْتَقْبَلْتُهُ ، فَقُلْتُ : غَفَرَ اللَّهُ لَكَ يَا رَسُولَ اللهِ ، فَقَالَ : وَلَكَ فَقَالَ الْقَوْمُ : اَسْتَغْفَرَ لَكَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ؟ فَقَالَ : نَعَمْ ، وَلَكُمْ . ثُمَّ تَلَا هُذِهِ الْآيَةَ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ

১৮. আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ এর কাছে আসলাম। তখন তিনি তাঁর সাহাবীগণের মাঝে ঘুরতেছিলেন। এক পর্যায়ে আমি তাঁর পিছু ধরলাম। তিনি আমার মনোবাঞ্ছনা বুঝতে পেরে পিঠ থেকে চাদর সরিয়ে ফেলেন। তখন আমি তাঁর দু'কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে মোহরে নবুওয়াত দেখতে পাই। আর তা ছিল মুষ্টিবদ্ধ আঙ্গুলীর ন্যায় এবং এর চারপার্শ্বে আচিলের মতো কতগুলো তিলক শোভা পাচ্ছিল। এরপর আমি তাঁর সামনে এসে দাঁড়ালাম এবং বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন। তখন তিনি বললেন, তোমাকেও ক্ষমা করুন। তারপর লোকে আমাকে বলতে লাগল, তুমি বড়ই সৌভাগ্যবান। রাসূলুল্লাহ তোমার মাগফিরাত কামনা করেছেন। তখন তিনি বললেন, হ্যাঁ- তিনি তোমাদের জন্যও দু'আ করেছেন। এরপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করেন-

وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ (হে রাসূল!) আপনি আপনার জন্য এবং মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্য মাগফিরাত কামনা করুন। (সূরা মুহাম্মাদ- ১৯)

টিকাঃ
¹⁷ জামেউস সগীর, হা/৮৯৩৯; সিলসিলা সহীহাহ, হা/২০৯৩।
* সুনানুল কুবra লিন নাসাঈ, হা/১১৪৩২; মা'রেফাতুস সাহাবা, হা/৩৭৩১।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর চুল

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর চুল


بَابُ مَا جَاءَ فِي شَعْرِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ
অধ্যায়-৩: রাসূলুল্লাহ এর চুল

রাসূলুল্লাহ এর মাথার চুল দু'কানের মধ্যভাগ পর্যন্ত লম্বা ছিল:
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : كَانَ شَعْرُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ إِلَى نِصْفِ أُذُنَيْهِ

১৯. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর মাথার চুল দু'কানের মধ্যভাগ পর্যন্ত লম্বা ছিল।

عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كُنْتُ اغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللهِ ﷺ مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ ، وَكَانَ لَهُ شَعْرٌ فَوْقَ الْجُمَّةِ وَدُونَ الْوَفْرَةِ

২০. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এবং রাসূলুল্লাহ একত্রে একই পাত্রের পানি দ্বারা গোসল করতাম। আর তাঁর চুল কানের লতি এবং মধ্যবর্তী স্থান বরাবর লম্বা ছিল।

عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ ، قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَرْبُوعًا ، بَعِيدَ مَا بَيْنَ الْمِنْكَبَيْنِ . وَكَانَتْ جُمَّتُهُ تَضْرِبُ شَحْمَةَ أَذُنَيْهِ

২১. বারা ইবনে আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ মধ্যমাকৃতির দেহবিশিষ্ট ছিলেন। তাঁর দু'কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান প্রশস্ত ছিল। তাঁর মাথার চুল কানের লতি পর্যন্ত লম্বা ছিল।

তাঁর চুল সামান্য কোঁকড়ানো ছিল:

عَنْ قَتَادَةَ قَالَ : قُلْتُ لِأَنَسٍ : كَيْفَ كَانَ شَعْرُ رَسُولِ اللهِ ﷺ ؟ قَالَ : لَمْ يَكُنْ بِالْجَعْدِ وَلَا بِالسَّبْطِ ، كَانَ يَبْلُغُ شَعْرُهُ شَحْمَةَ أُذُنَيْهِ

২২. কাতাদা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর কেশ কেমন ছিল সে সম্পর্কে আমি আনাস (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনি বললেন, তিনি অত্যাধিক কোঁকড়ানো কিংবা একেবারে সোজা কেশবিশিষ্ট ছিলেন না। তাঁর কেশ উভয় কানের লতি পর্যন্ত শোভা পেত।

টিকাঃ
¹⁹ নাসাঈ, হা/৫২৩৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬৩৮।
²⁰ শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১৩৭; মিশকাত, হা/৪৪৬০।
²¹ সহীহ বুখারী, হা/৩৫৫১; সহীহ মুসলিম, হা/৬২১০; আবু দাউদ, হা/৪০৭৪; নাসাঈ, হা/৫২৩২; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮৪৯৬; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬২৮৪; মিশকাত, হা/৫৭৮৩।
²² সহীহ মুসলিম, হা/৬২১৩; নাসাঈ, হা/৫০৫৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৪০৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬২৯১।

তিনি চুলের মধ্যে বেণী বাঁধতেন:
عَنْ أُمِّ هَانِي بِنْتِ أَبِي طَالِبٍ ، قَالَتْ : قَدِمَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ مَكَّةَ قَدْمَةٌ وَلَهُ أَرْبَعُ غَدَائِرَ

২৩. উম্মে হানী বিনতে আবু তালিব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ চারটি চুলের বেণী নিয়ে মক্কায় আগমন করেছিলেন।

ব্যাখ্যা: উল্লেখিত হাদীসে বেণী বা ঝুটি বলতে মহিলাদের মতো বেণী বা ঝুটি উদ্দেশ্য নয়। বরং এর দ্বারা বিশেষ ধরনের চুলের পরিপাটির উদ্দেশ্য। কেননা রাসূলুল্লাহ পুরুষদেরকে মহিলাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।

عَنْ أَنَسٍ : أَنَّ شَعْرَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ كَانَ إِلَى أَنْصَافِ أُذْنَيْهِ

২৪. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর মাথার চুল তাঁর দু'কানের মাঝামাঝি পর্যন্ত লম্বা ছিল।

রাসূলুল্লাহ চুলের মধ্যে সিঁথি করতেন:
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يُسْدِلُ شَعْرَهُ ، وَكَانَ الْمُشْرِكُوْنَ يَفْرِقُونَ رُءُوسَهُمْ ، وَكَانَ أَهْلُ الْكِتَابِ يُسْدِلُونَ رُءُوسَهُمْ . وَكَانَ يُحِبُّ مُوَافَقَةً أَهْلِ الْكِتَابِ فِيْمَا لَمْ يُؤْمَرُ فِيْهِ بِشَيْءٍ ، ثُمَّ فَرَقَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ رَأْسَهُ

২৫. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ তাঁর কেশ নিম্নদেশে ঝুলিয়ে রাখতেন (অর্থাৎ প্রথমদিকে তিনি সিঁথি করতেন না)। আর মুশরিকরা তাদের মাথায় সিঁথি করত। পক্ষান্তরে আহলে কিতাব তাদের মাথার চুল ঝুলিয়ে রাখত। প্রথমদিকে রাসূলুল্লাহ যে ব্যাপারে প্রত্যাদেশ না পেতেন, সেসব ব্যাপারে আহলে কিতাবদের অনুসরণ পছন্দ করতেন। এরপর রাসূলুল্লাহ তাঁর কেশকে সিঁথি করতেন।

عَنْ أُمِّ هَانِي ، قَالَتْ : رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ ذَا ضَفَائِرَ أَرْبِعِ

২৬. উম্মে হানী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ-কে আমি চুলের চারটি বেণী বাঁধা অবস্থায় দেখেছি।

টিকাঃ
²⁰ আবু দাউদ, হা/৪১৯৩; ইবনে মাজাহ, হা/৩৬৩১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৯৩৪; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/২৫৫৭৩; মিশকাত, হা/৪৪৪৬।
²⁴ সহীহ মুসলিম, হা/৬২১৫; আবু দাউদ, হা/৪১৮৮; নাসাঈ, হা/৫০৬১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২১৩৯।
²⁵ সহীহ বুখারী, হা/৩৫৫৮; নাসাঈ, হা/৫২৩৮; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬০৫।
²⁶ মুসনাদে আহমাদ, হা/২৭৪৩০; মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/২০৪৮৩।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর মাথার চুল বিন্যাস করা

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর মাথার চুল বিন্যাস করা


بَابُ مَا جَاءَ فِي تَرَجُلِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ
অধ্যায়-৪: রাসূলুল্লাহ এর মাথার চুল বিন্যাস করা

রাসূলুল্লাহ মাথার কেশ পরিপাটি করতেন:

عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : كُنْتُ أُرَجِلُ رَأْسَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَأَنَا حَائِضٌ

২৭. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হায়েয (ঋতুবতী) অবস্থায় রাসূলুল্লাহ এর মাথার কেশ পরিপাটি করতাম।

তিনি ডান দিক থেকে কেশ বিন্যাস করতেন:

عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : إِنْ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَيُحِبُّ التَّيَمَنَ فِي ظُهُورِهِ إِذَا تَطَهَّرَ ، وَفِي تَرَجُلِهِ إِذَا تَرَجَّلَ ، وَفِي انْتِعَالِهِ إِذَا انْتَعَلَ

২৮. আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ যখন ওযু করতেন তখন ডান দিক থেকে শুরু করতেন, কেশ বিন্যাস ও জুতা পরিধানের কাজও ডান দিক থেকে আরম্ভ করতেন।

ব্যাখ্যা: হাদীসে উল্লেখিত বিষয়গুলোই নয়; বরং যেসব কাজে সৌন্দর্য ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, সেসব কাজ ডান দিকে হতে আরম্ভ করা মুস্তাহাব। যেমন- জামা বা মোজা পরিধান করার সময় ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দনীয়। কারণ এর দ্বারা সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। এমনিভাবে মসজিদে প্রবেশ করার সময় ডান পা প্রথমে দেবে। কারণ মসজিদে প্রবেশ করা মর্যাদার বিষয়। আর যেসব কাজে সৌন্দর্য ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায় না, সেসব কাজ বাম দিক থেকে আরম্ভ করা মুস্তাহাব। যেমন- পায়খানায় প্রবেশের সময় বাম পা আগে দেয়া, কাপড় ও জুতা খোলার সময় বাম পার্শ্ব হতে খুলা আরম্ভ করা এবং মসজিদ হতে বের হওয়ার সময় বাম পা আগে বের করা। আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মূলনীতি হিসেবে গণ্য হবে।

তিনি প্রত্যহ কেশ বিন্যাস করতে নিষেধ করেছেন:

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مُغَفَّلٍ له . قَالَ : نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنِ التَّرَجُلِ إِلَّا غِيًّا

২৯. আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ প্রত্যহ (বারবার) কেশ বিন্যাস করতে নিষেধ করেছেন।

টিকাঃ
²⁷ মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/১৩৩; সহীহ বুখারী, হা/২৯৫; নাসাঈ, হা/২৭৭; মু'জামুল আওসাত, হা/২০৬৬; দারেমী, হা/১০৫৮; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/১৩৫৯; মিশকাত, হা/৪৪১৯।
²⁸ সহীহ মুসলিম, হা/৬৩৯; ইবনে মাজাহ, হা/৪০১; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৭০৫; মুসনাদে আবু ই'আলা, হা/৪৮৫১।

📘 সহীহ শামায়েলে তিরমিযী > 📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর বার্ধক্য (চুল সাদা হওয়া)

📄 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এর বার্ধক্য (চুল সাদা হওয়া)


ব্যাখ্যা: আলোচ্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ প্রতিদিন চুল আঁচড়াতে নিষেধ করেছেন। তিনি কখনো প্রয়োজনে বারবার চুল আঁচড়াতেন। আবার কখনো প্রয়োজন মনে না করলে আঁচড়াতেন না। মোটকথা মাথা আঁচড়ানোর ক্ষেত্রে করণীয় হলো মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা।

بَابُ مَا جَاءَ فِي شَيْبٍ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ
অধ্যায়- ৫: রাসূলুল্লাহ এর বার্ধক্য (চুল সাদা হওয়া)

রাসূলুল্লাহ এর চোখ ও দু'কানের মধ্যবর্তী অংশের কিছু চুল সাদা হয়েছিল:
عَنْ قَتَادَةَ قَالَ : قُلْتُ لِأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ له : هَلْ خَضَبَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ؟ قَالَ : لَمْ يَبْلُغُ ذَلِكَ . إِنَّمَا كَانَ شَيْبًا فِي صُدْ غَيْهِ وَلَكِنْ أَبُو بَكْرٍ ، خَضَبَ بِالْحِنَّاءِ وَالْكَتَمِ

৩০. কাতাদা (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ কি খিযাব ব্যবহার করতেন? তিনি বললেন, তিনি ঐ পর্যন্ত পৌঁছেন নি। (তাঁর দাঁড়ি ও চুল এতদূর সাদা হয়নি, যাতে খেযাবের প্রয়োজন হয়)। কেবলমাত্র তাঁর চোখ ও দু'কানের মধ্যবর্তী অংশের কিছু চুল সাদা হয়েছিল। তবে আবু বকর (রাঃ) মেহেদী পাতা ও কাতাম দ্বারা খিযাব লাগাতেন।

তাঁর মাথা ও দাড়িতে মাত্র ১৪টি সাদা চুল ছিল:
عَنْ أَنَسٍ قَالَ : مَا عَدَدْتُ فِي رَأْسِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَلِحْيَتِهِ إِلَّا أَرْبَعَ عَشْرَةً شَعْرَةٌ بَيْضَاءَ

৩১. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ এর মাথা ও দাড়িতে মাত্র ১৪টি সাদা চুল গণনা করেছি।

ব্যাখ্যা: রাসূলুল্লাহ এর অতি স্বল্প পরিমাণ সাদা চুল ছিল। তবে এর পরিমাণ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এ হাদীসে ১৪টির কথা বলা হয়েছে। আর কোন বর্ণনায় ১৭টি, কোন বর্ণনায় ১৮টি, আবার কোন বর্ণনায় ২০টির কথা উল্লেখ রয়েছে। আসলে এসব বর্ণনাতে কোন বৈপরিত্য নেই। কারণ

টিকাঃ
²⁹ আবু দাউদ, হা/৪১৬১; নাসাঈ, হা/৫০৫৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৮৩৯; মু'জামুল কাবীর, হা/১৬৬৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৪৮৪; জামেউস সগীর, হা/১২৮২৬; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৫০১; মিশকাত, হা/৪৪৪৮।
** কাতাম এক ধরণের সবুজ রঙের উদ্ভিদ। এটা দ্বারা খিযাব তৈরি করা হয়।
³¹ সহীহ মুসলিম, হা/৬২১৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৮৫১; মুসনাদুল বাযযার, হা/৬৭৮৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩১৭৬; মুসনাদে আবু ই'আলা, হা/২৮৯৩।
³² মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৭১৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩৬৫৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬২৯৩; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হা/২০১৮৫।

প্রত্যেকটি বর্ণনা আলাদা সময়ের সাথে অথবা বিভিন্ন জনের গণনার পার্থক্যের কারণে এ বৈপরিত্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রত্যেক রিওয়ায়াতের উদ্দেশ্য হলো রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাদা চুল স্বল্প ছিল, এটাই বুঝানো।

মাথায় তৈল ব্যবহার করলে সাদা চুল দেখা যেত না :

عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ ، وَقَدْ سُئِلَ عَنْ شَيْبِ رَسُولِ اللهِ ﷺ ، فَقَالَ : كَانَ إِذَا دَهَنَ رَأْسَهُ لَمْ يُرَ مِنْهُ شَيْبٌ ، وَإِذَا لَمْ يَدْهِنُ رُبِّي مِنْهُ

৩২. জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা তাকে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাদা চুল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তখন তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন তাঁর মাথায় তৈল ব্যবহার করতেন তখন সাদা চুল দেখা যেত না। পক্ষান্তরে তৈল ব্যবহার না করলে কয়েক গাছি চুল সাদা হয়েছে বলে মনে হতো।

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ : إِنَّمَا كَانَ شَيْبٌ رَسُولِ اللهِ ﷺ نَحْوًا مِنْ عِشْرِينَ شَعْرَةً بَيْضَاءَ

৩৩. আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাদা চুলের সংখ্যা ছিল ২০ এর কাছাকাছি।

কায়েকটি সূরার প্রভাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর চুল সাদা হয়ে গিয়েছিল :

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : قَالَ أَبُو بَكْرٍ : يَا رَسُولَ اللهِ ، قَدْ شِبْتَ . قَالَ : شَيَّبَتْنِي هُودٌ . وَالْوَاقِعَةُ وَالْمُرْسَلَاتُ ، وَعَمَّ يَتَسَاءَلُونَ ، وَإِذَا الشَّمْسُ كُورَتُ

৩৪. ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু বকর (রাঃ) আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার চুল তো সাদা হয়ে গিয়েছে। আপনি বার্ধক্যে পৌঁছে গেছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, সূরা হূদ, ওয়াক্বিয়া, মুরসালাত, আম্মা ইয়াতাসা-আলুন, ইযাশ-শামসু কুভভিরাত আমাকে বৃদ্ধ বানিয়ে দিয়েছে।

عَنْ أَبِي جُحَيْفَةً ، قَالَ : قَالُوا : يَا رَسُوْلَ اللهِ . نَرَاكَ قَدْ شِبْتَ ، قَالَ : قَدْ شَيْبَتْنِي هُودٌ وَأَخَوَاتُهَا

৩৫. আবু জুহাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার বয়োবৃদ্ধ হওয়ার স্পষ্ট নিদর্শন লক্ষ্য করছি। তিনি বললেন, হুদ এবং তদানুরূপ সূরাগুলো আমাকে বার্ধক্যে উপণীত করেছে।

টিকাঃ
³⁰ সহীহ মুসলিম, হা/৬২২৯: সুনানুল কাবীর লিন নাসাঈ, হা/৯৩৪৫।
³⁴ ইবনে মাজাহ, হা/৩৬৩০; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬২৬৪।
³⁵ মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৩৩১৪; শারহুস সুন্নাহ, হা/৪১৭৫; জামেউস সগীর, হা/৬০৩৬; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৯৫৫।
³⁶ মু'জামুল কাবীর লিত তাবারানী, হা/১৭৭৭৪: মুসনাদে আবু ই'আলা, হা/৮৮০; মিশকাত, হা/৫৩৫৩।

ব্যাখ্যা: اتُهَا-এর দ্বারা ঐসব সূরা উদ্দেশ্য, যাতে কিয়ামত, জাহান্নাম প্রভৃতি ভীতিপ্রদর্শন বিষয়ক আলোচনা করা হয়েছে।

তাঁর চুল সাদা হলেও লাল মনে হতো:
عَنْ أَبِي رِمْئَةَ التَّيْمِيِّ ، قَالَ : أَتَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ وَمَعِي ابْن لِي ، قَالَ : فَأَرَيْتُهُ ، فَقُلْتُ لَمَّا رَأَيْتُهُ : هُذَا نَبِيُّ اللَّهِ ﷺ وَعَلَيْهِ ثَوْبَانِ أَخْضَرَانِ ، وَلَهُ شَعْرٌ قَدْ عَلَاهُ الشَّيْبُ ، وَشَيْبُهُ أَحْمَرُ

৩৬. তায়মুর রাবাব গোত্রের আবু রিমছা আত-তায়মী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি আমার ছেলেকে নিয়ে নবী এর কাছে এলাম। তিনি বললেন, আমার ছেলেকে তাঁকে দেখালাম। তারপর যখন তাঁকে দেখলাম তখন বললাম, ইনি আল্লাহর নবী। সে সময় তাঁর পরনে ২টি সবুজ রঙের কাপড় ছিল। তাঁর চুল সাদা দেখা যাচ্ছিল কিন্তু মনে হচ্ছিল লাল।

রাসূলুল্লাহ এর সিঁথি কাটার স্থানে কয়েকটি চুল সাদা ছিল:
عَنْ سِمَاءِ بْنِ حَرْبٍ قَالَ : قِيلَ لِجَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ : أَكَانَ فِي رَأْسِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ شَيْبٌ ؟ قَالَ : لَمْ يَكُنْ فِي رَأْسِ رَسُولِ اللهِ ﷺ شَيْبٌ إِلَّا شَعَرَاتٌ فِي مَفْرِقِ رَأْسِهِ ، إِذَا إِذَهَنَ وَارَاهُنَّ الدُّهْنُ

৩৭. সিমাক ইবনে হারব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাবির ইবনে সামুরা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, রাসূলুল্লাহ এর মাথায় সাদা (পাকা) চুল ছিল কি? তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ এর সিঁথি কাটার স্থানে কেবল কয়েকটি সাদা চুল শোভা পাচ্ছিল। এ চুলগুলোতে তৈল ব্যবহার করা হলে সাদা ঢেকে যেত।

টিকাঃ
³⁷ মুসনাদে আহমাদ, হা/৭১১১; মু'জামুল কাবীর, হা/১৮১৭৬; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৪২০৩; শারহুস সুন্নাহ, হা/৩০৯১; মিশকাত, হা/৪৩৫৯।
* মুসনাদে আহমাদ, হা/২১০৩০; মু'জামুল কাবীর, হা/১৯৩০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00