📄 ইসলাম পূর্বের সব কিছু মিটিয়ে দেয়
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ نَاسًا، مِنْ أَهْلِ الشَّرْكِ كَانُوا قَدْ قَتَلُوا وَأَكْثَرُوا، وَزَنَوا وَأَكْثَرُوا، فَأَتَوْا مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ ص: 126] فَقَالُوا: إِنَّ الَّذِي تَقُولُ وَتَدْعُو إِلَيْهِ لَحَسَنُ، لَوْ تُخْبِرُنَا أَنَّ لِمَا عَمِلْنَا كَفَّارَةً فَنَزَلَ: ﴿وَالَّذِينَ لَا يَدْعُونَ مَعَ اللَّهِ إِلَيْهَا ءَاخَرَ وَلَا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ وَلَا يَزْنُونَ ﴾ [الفرقان: ٦٨] وَنَزَلَتْ: ﴿قُلْ يَعِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ﴾ [الزمر: ٥٢].
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুশরিকদের কতিপয় লোক যারা ব্যাপকভাবে হত্যা ও ব্যভিচারে লিপ্ত ছিল। তারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে জিজ্ঞেস করল, আপনি যে দীনের প্রতি মানুষদের আহ্বান জানাচ্ছেন, এ তো অনেক উত্তম বিষয়। তবে আমাদের পূর্বকৃত গুনাহসমূহের কাফফারা সম্পর্কে আপনি যদি আমাদের নিশ্চিতভাবে কিছু অবহিত করতেন। তখন এ আয়াত নাযিল হয়: "আর যারা আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহকে ডাকে না এবং যারা আল্লাহ যে নফসকে হত্যা করা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না। আর যারা ব্যভিচার করে না”। [সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৬৮]
আরো নাযিল হয়, "বলুন 'হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না”। [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৫২]
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৮১০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২২।
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ رَجُلٌ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، أَنْؤَاخَذُ بِمَا عَمِلْنَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ؟ قَالَ: «مَنْ أَحْسَنَ فِي الإِسْلامِ لَمْ يُؤَاخَذْ بِمَا عَمِلَ فِي الجَاهِلِيَّةِ، وَمَنْ أَسَاءَ فِي الإِسْلَامِ أُخِذَ بِالأَوَّلِ وَالآخِرِ».
আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একলোক আরয করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা জাহেলী যুগে যা করেছি, এর জন্যও কি আমাদের পাকড়াও করা হবে? তিনি বললেন, "যে ব্যক্তি ইসলাম অবস্থায় ভালো করবে, জাহেলী যুগে সে কী করেছে, তার জন্য পাকড়াও করা হবে না। আর ইসলাম গ্রহণের পর যে মন্দ করবে, তাকে প্রথম ও শেষ সব আমলের জন্য পাকড়াও করা হবে”।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৯২১; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২০। হাদীসে উল্লিখিত الْإِسَاءَةِ শব্দের অর্থ কুফুরী ও শির্কী। যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পরে আল্লাহর সাথে শির্ক ও কুফুরী করবে তাকে জাহেলী ও ইসলাম যুগের সব আমলের জন্য পাকড়াও করা হবে। আর যে ব্যক্তি শির্ক ও কুফুরী করবে না, তাকে জাহেলী যুগের আমলের জন্য পাকড়াও করা হবে না। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, قُل لِلَّذِينَ كَفَرُوا إِن يَنتَهُوا يُغْفَرْ لَهُم مَّا قَدْ سَلَفَ [الانفال: ٣٨]
"যারা কুফুরী করেছে আপনি তাদেরকে বলুন, যদি তারা বিরত হয় তাহলে অতীতে যা হয়েছে তাদেরকে তা ক্ষমা করা হবে”। [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ৩৮] আমর ইবন 'আস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বর্ণিত পূর্বের হাদীসে এসেছে, «إِنَّ الْإِسْلَامَ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ»
"ইসলাম পূর্বের সব মন্দ আমল ধ্বংস করে দেয়”। সহীহ, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২১।
عَنِ ابْنِ شِمَاسَةَ الْمَهْرِيَّ، قَالَ: حَضَرْنَا عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ، وَهُوَ فِي سِيَاقَةِ الْمَوْتِ، يَبْكِي طَوِيلًا، وَحَوَّلَ وَجْهَهُ إِلَى الْإِدَارِ، فَجَعَلَ ابْنُهُ يَقُولُ : يَا أَبَنَاهُ، أَمَا بَشَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِكَذَا؟ أَمَا بَشَرَكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِكَذَا؟ قَالَ: فَأَقْبَلَ بِوَجْهِهِ، فَقَالَ: إِنَّ أَفْضَلَ مَا نُعِدُّ شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ، إِنِّي قَدْ كُنْتُ عَلَى أَطْبَاقٍ ثَلَاثٍ، لَقَدْ رَأَيْتُنِي وَمَا أَحَدٌ أَشَدَّ بُغْضًا لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنِّي، وَلَا أَحَبَّ إِلَيَّ أَنْ أَكُونَ قَدِ اسْتَمْكَنْتُ مِنْهُ، فَقَتَلْتُهُ، فَلَوْ مُتْ عَلَى تِلْكَ الْحَالِ لَكُنْتُ مِنْ أَهْلِ النَّارِ، فَلَمَّا جَعَلَ اللهُ الْإِسْلَامَ فِي قَلْبِي أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقُلْتُ: ابْسُطُ يَمِينَكَ فَلْأُبَايِعْكَ، فَبَسَطَ يَمِينَهُ، قَالَ: فَقَبَضْتُ يَدِي، قَالَ: «مَا لَكَ يَا عَمْرُو؟ قَالَ: قُلْتُ: أَرَدْتُ أَنْ أَشْتَرِطَ ، قَالَ: «تَشْتَرِطُ بِمَاذَا؟ قُلْتُ: أَنْ يُغْفَرَ لِي، قَالَ: «أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ الْإِسْلَامَ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ؟ وَأَنَّ الْهِجْرَةَ تَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهَا؟ وَأَنَّ الْحَجَّ يَهْدِمُ مَا كَانَ قَبْلَهُ؟ وَمَا كَانَ أَحَدٌ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْ rَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَا أَجَلَّ فِي عَيْنِي مِنْهُ، وَمَا كُنْتُ أُطِيقُ أَنْ أَمْلَا عَيْنِي مِنْهُ إِجْلَالًا لَهُ، وَلَوْ سُئِلْتُ أَنْ أَصِفَهُ مَا أَطَقْتُ؛ لِأَنِّي لَمْ أَكُنْ أَمْلَأُ عَيْنِي مِنْهُ، وَلَوْ مُتْ عَلَى تِلْكَ الْحَالِ لَرَجَوْتُ أَنْ أَكُونَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، ثُمَّ وَلِينَا أَشْيَاءَ مَا أَدْرِي مَا حَالِي فِيهَا، فَإِذَا أَنَا مُتُّ فَلَا تَصْحَبْنِي نَائِحَةُ، وَلَا نَارُ، فَإِذَا دَفَنْتُمُونِي فَشُنُّوا عَلَيَّ التَّرَابَ شَنًّا، ثُمَّ أَقِيمُوا حَوْلَ قَبْرِي قَدْرَ مَا تُنْحَرُ جَزُورٌ وَيُقْسَمُ لَحْمُهَا، حَتَّى أَسْتَأْنِسَ بِكُمْ، وَأَنْظُرَ مَاذَا أَرَاجِعُ بِهِ رُسُلَ ربي.
ইবন শিমাসা আল-মাহরী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা 'আমর ইবন 'আস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে দেখতে উপস্থিত হলাম। তখন তিনি দেয়ালের দিকে মুখ করে অনেকক্ষণ কাঁদছিলেন। তার পুত্র তাকে তার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত বিভিন্ন সুসংবাদের উল্লেখ পূর্বক প্রবোধ দিচ্ছেন যে, আব্বা! রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আপনাকে অমুক সুসংবাদ দেন নি? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আপনাকে অমুক সুসংবাদ দেন নি? বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি পুত্রের দিকে মুখ ফিরালেন এবং বললেন, আমার সর্বোৎকৃষ্ট পাথেয় হচ্ছে 'লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ'- এ কালেমার সাক্ষ্য দেওয়া। আর আমি অতিক্রম করেছি আমার জীবনের তিনটি পর্যায়। এক সময় তো আমি এমন ছিলাম যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধাচরণে আমার চেয়ে কঠোরতর আর কেউই ছিল না। আমি যদি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কজায় পেতাম আর হত্যা করতে পারতাম, এ ছিল আমার সবচেয়ে প্রিয় ভাবনা। যদি সে অবস্থায় আমার মৃত্যু হতো, তবে নিশ্চিত আমাকে জাহান্নামে যেতে হতো। এরপর আল্লাহ যখন আমার অন্তরে ইসলামের অনুরাগ সৃষ্টি করে দিলেন, তখন আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপস্থিত হয়ে অনুরোধ জানালাম যে, আপনার ডান হাত বাড়িয়ে দিন, আমি বায়'আত করতে চাই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান হাত বাড়িয়ে দিলেন, তখন আমি আমার হাত টেনে নিলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'আমর, কী ব্যাপার? আমি বললাম, পূর্বে আমি শর্ত করে নিতে চাই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, কী শর্ত করবে? আমি উত্তরে বললাম, আল্লাহ যেন আমার সব গুনাহ মাফ করে দেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'আমর! তুমি কী জানো না যে, ইসলাম পূর্ববর্তী সকল অন্যায় মিটিয়ে দেয়। হিজরত পূর্বেকৃত গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেয় এবং হজও পূর্বের সকল গুনাহ মিটিয়ে দেয়। 'আমর রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বললেন, এ পর্যায়ে আমার অন্তরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপেক্ষা বেশি প্রিয় আর কেউ ছিল না। আমার চোখে তিনি অপেক্ষা মহান আর কেউ ছিল না। অপরিসীম শ্রদ্ধার কারণে আমি তার প্রতি চোখ ভরে তাকাতেও পারতাম না। আজ যদি আমাকে তাঁর দেহ আকৃতির বর্ণনা করতে বলা হয়, তবে আমার পক্ষে তা সম্ভব হয়ে উঠবে না। কারণ চোখভরে আমি কখনোই তাঁর প্রতি তাকাতে পারি নি। ঐ অবস্থায় যদি আমার মৃত্যু হতো তবে অবশ্যই আমি জান্নাতী হওয়ার আশাবাদী থাকতাম। পরবর্তীকালে আমরা নানা বিষয়ের সাথে জড়িয়ে পড়েছি। তাই জানি না, এতে আমার অবস্থান কোথায়? সুতরাং আমি যখন মারা যাবো, তখন যেনো কোনো বিলাপকারী অথবা আগুন যেন আমার জানাযার সাথে না থাকে। আমাকে যখন দাফন করবে তখন আমার উপর আস্তে আস্তে মাটি ফেলবে এবং দাফন সেরে একটি উট যবাই করে তার গোশত বণ্টন করতে যে সময় লাগে, ততক্ষণ আমার কবরের পাশে অবস্থান করবে, যেনো তোমাদের উপস্থিতির কারণে আমি আতংক-মুক্ত অবস্থায় চিন্তা করতে পারি যে, আমার রবের দূতের (ফিরিশতার) কী জবাব দেবো”। সহীহ, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২১।
হাদীসে উল্লিখিত 'আমর ইবন 'আস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর বাণী, »كُنْتُ عَلَى أَطْبَاقٍ ثَلَاثٍ« অর্থ তিন অবস্থায় বা তিনকালে। যেমন আল্লাহ তা'আলার বাণী, لَتَرْكَبُنَّ طَبَقًا عَنْ طَبَقٍ ﴿الإنشقاق: ١٩﴾
"অবশ্যই তোমরা এক স্তর থেকে অন্য স্তরে আরোহণ করবে”। [সূরা আল-ইনশিকাক, আয়াত: ১৯] অর্থাৎ এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থা, এক স্তর থেকে অন্য স্তর।
কাযী 'ইয়াদ্ব রহ. 'আমর ইবন 'আস রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর বাণী, »قُسْنُّوا عَلَى الثَّرَابَ شَناً« সীন বর্ণে নকতাযোগে বা নকতা ছাড়া, কেউ কেউ বলেছেন, উভয়টির অর্থ একই। এর অর্থ হলো ঢেলে দেওয়া। কেউ কেউ বলেছেন, সীন বর্ণে নকতা ছাড়া অর্থ আস্তে ঢেলে দেওয়া। আর নকতা যোগে অর্থ হলো আলাদা আলাদা করে মাটি ঢালা। এটি মাইয়্যেতের কবরে মাটি দেওয়ার সুন্নাত। আল-মুফহিম, লিলকুরতবী, ১/৩৩০।
📄 কুফরী অবস্থায় ভালো আমল করার পর ইসলাম গ্রহণ করলে
عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ : قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ أَشْيَاءَ كُنْتُ أَتَحَنَّتُ بِهَا فِي الجَاهِلِيَّةِ مِنْ صَدَقَةٍ أَوْ عَتَاقَةٍ، وَصِلَةِ رَحِمٍ، فَهَلْ فِيهَا مِنْ أَجْرٍ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَسْلَمْتَ عَلَى مَا سَلَفَ مِنْ خَيْرٍ».
হাকীম ইবন হিযাম রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঈমান আনয়নের পূর্বে (সাওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে) আমি সদকা প্রদান, দাসমুক্ত করা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার ন্যায় যতো ভালো কাজ করেছি সে গুলোতে সাওয়াব হবে কি? তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যে সব ভালো কাজ করেছ তা নিয়ে ইসলাম গ্রহন করেছ (তুমি সেসব কাজের সাওয়াব পাবে)"।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪৩৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২৩।
وفي رواية: أَنَّ حَكِيمَ بْنَ حِزَامِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَعْتَقَ فِي الجَاهِلِيَّةِ مِائَةَ رَقَبَةٍ، وَحَمَلَ عَلَى مِائَةِ بَعِيرٍ، فَلَمَّا أَسْلَمَ حَمَلَ عَلَى مِائَةِ بَعِيرٍ، وَأَعْتَقَ مِائَةَ رَقَبَةٍ، ثم أتى النبي صلى الله عليه وسلم، فذكر نحو حديثه.
অন্য বর্ণনায় এসেছে, “হাকীম ইবন হিযাম রাদিয়াল্লাহু 'আনহু জাহিলী যুগে একশ গোলাম আযাদ করেছিলেন এবং আরোহণের জন্য একশ উট দিয়েছিলেন। যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখনও একশ উট বাহন হিসাবে দান করেন এবং একশ গোলাম আযাদ করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে আসলেন। অতঃপর পূর্বের হাদীসের ন্যায় ঘটনা বর্ণনা করেন”।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৪৩৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২৩। অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেছেন, فَوَاللهِ، لَا أَدَعُ شَيْئًا صَنَعْتُهُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ إِلَّا فَعَلْتُ فِي الْإِسْلَامِ مِثْلَهُ».
"আল্লাহর কসম! আমি জাহেলী যুগে যেসব ভালো কাজ করেছি, ইসলাম গ্রহণের পরেও সেসব ভালো কাজ করবো”।
সহীহ, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২৩।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, «أَسْلَمْتَ عَلَى مَا سَلَفَ مِنْ خَيْرٍ এর ব্যাখ্যা অধিকাংশ আলেম ব্যাখা করেছেন। ইমাম হারবী রহ. বলেছেন, ইসলাম পূর্বে যেসব ভালো কাজ করেছে ইসলাম গ্রহণের পরে সেসব ভালো আমল তার থেকে যাবে। যেমন কেউ বলে, আমি একশ দিরহামের বিনিময়ে ইসলাম গ্রহণ করেছি। এর অর্থ হলো আমি একশ দিরহাম নিজের জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছি। ইমাম কুরতবী রহ. বলেন, ইমাম হারবী রহ. যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা সবচেয়ে উত্তম ও সুন্দর।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُdْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا أَسْلَمَ الْعَبْدُ فَحَسُنَ إِسْلَامُهُ، كَتَبَ اللَّهُ لَهُ كُلَّ حَسَنَةٍ كَانَ أَزْلَفَهَا، وَمُحِيَتْ عَنْهُ كُلُّ سَيِّئَةٍ كَانَ أَزْلَفَهَا، ثُمَّ كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ الْقِصَاصُ الْحَسَنَةُ بِعَشْرَةِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ، وَالسَّيِّئَةُ بِمِثْلِهَا إِلَّا أَنْ يَتَجَاوَزَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَنْهَا».
আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যখন কোনো ব্যক্তি উত্তমরূপে ইসলাম গ্রহণ করে, তখন আল্লাহ তা'আলা তার ঐ সকল সৎকর্ম লিখে নেন, যা সে পূর্বে করেছিল, আর সেই সকল পাপ মুছে ফেলেন যাতে অতীতে লিপ্ত হয়েছিল। এরপর তার হিসাব এভাবে লিখিত হয় যে, তার প্রত্যেক সাওয়াবের পরিবর্তে দশ হতে সাতশত গুণ পর্যন্ত সাওয়াব লেখা হয়। আর প্রত্যেক পাপ শুধু অতটুকুই লেখা হয়, যা সে করে; যদি আল্লাহ ক্ষমা না করেন”।
সহীহ, নাসায়ী, হাদীস নং ৪৯৯৮; শুআবুল ঈমান, লিলবাইহাকী, হাদীস নং ২৪।
ইমাম বুখারী এ হাদীসটিকে কিতাবুল ঈমানে (৪১) মালিক রহ. থেকে মু'আল্লাক সূত্রে বর্ণনা করেছেন। অন্য কোথাও তিনি হাদীসটিকে মুত্তাসিল করেন নি। তবে তিনি » كَتَبَ اللَّهُ لَهُ كُلِّ حَسَنَةٍ كَانَ أَزْلَفَهَا বাদ দিয়েছেন। কেননা একথাটি কায়েদার সাথে বৈপরীত। কেননা কুফুরী ও শির্কী অবস্থায় একজন কাফের যেসব ভালো কাজ করে তাতে সাওয়াব হয় না। কেননা নৈকট্যের শর্ত হচ্ছে যার নৈকট্য প্রত্যাশী তার সম্পর্কে জানা। আর কাফির ব্যক্তির অবস্থা এরূপ নয়। ইমাম মাযেরী রহ. ও অন্যরা একথা বলেছেন। কাযী 'ইয়াদ্ব রহ. এ বিপরীতমুখী কথার জবাবে ইমাম মাযেরী রহ. এর অনুসরণ করেছেন। কিন্তু ইমাম নাওয়াওয়ী রহ. এ মতকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, অধিকাংশ মুহাক্কিকের মত হলো বরং এ মতের ওপর ইজমা বর্ণিত আছে- "কোনো কাফির ভালো কাজ যেমন, সদকা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় ইত্যাদি করলে, অতঃপর ইসলাম গ্রহণ করলে এবং ইসলামের উপর মারা গেলে তার সেসব সাওয়াব লিপিবদ্ধ করা হবে”।
হাফেয ইবন হাজার আসকালানী রহ. বলেছেন, এ কথার অনেকগুলো ব্যাখ্যা হতে পারে। সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাখ্যা হলো: "প্রকৃতপক্ষে মুসলিমের ইসলাম অবস্থায় ভালো আমল আল্লাহর মেহেরবানী ও ইহসানে লিখিত হওয়া মানে কাফির অবস্থায় তার কৃত ভালো আমল কবুল হওয়াকে অত্যাবশ্যকীয় করে না। কেননা হাদীসে সাওয়াব লেখার কথা বলা হয়েছে, কবুল হওয়ার কথা নয়। হতে পারে কাফির ব্যক্তির ভালো আমল ইসলাম গ্রহণের সাথে সম্পৃক্ত। সে ইসলাম গ্রহণ করলে তার ভালো আমল কবুল করা হবে। আর ইসলাম গ্রহণ না করলে কবুল করা হবে না। ফাতহুল বারী, ১/৯৯।
আমি মনে করি- সংকলক- ইতোপূর্বে উল্লিখিত হাকিম ইবন হিযাম রাদিয়াল্লাহু 'আনহুর হাদীস এ মতকে সমর্থন করে।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, »أَزْلَهَا« এর অর্থ বিগত, পূর্বের কৃত